জ্ঞান মানুষের মৌলিক অধিকারের একটি। কিন্তু আধুনিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পুঁজি ছাড়া জ্ঞানার্জন অনেকটাই দুঃসাধ্য। তাছাড়া জ্ঞান এখন প্রতিষ্ঠান নির্ভর। সুসজ্জিত দালানকোঠা ছাড়া যেন জ্ঞানচর্চা কল্পনাই করা যায় না। তাই মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের জ্ঞানটুকুও যেন দালানকোঠার চার দেয়ালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।অথচ এককালে বিদ্যাচর্চা ছিল উন্মুক্ত প্রান্তরে সবার জন্য উন্মুক্ত। দরিদ্র হলেও বিদ্যায় আগ্রহী হলে বিদ্যার্জনের ব্যবস্থা হয়ে যেত।
বিশেষভাবে মুসলিম ভূখন্ডে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই বিদ্যাচর্চার সরঞ্জামাদি ও খরচাদি বহন করা হতো।
এখন সময় পাল্টেছে। বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের বিস্তারের ফলে বিদ্যাও পুঁজিবাদীদের কবলে আবদ্ধ হয়ে গেছে।
অথচ সুস্থ সুন্দর একটি সমাজ গঠনের জন্য মানুষের জন্য সুশিক্ষার ব্যবস্থা করা অতীব জরুরী। বিশেষভাবে ইসলামের নৈতিক ও আচরণগত শিক্ষার প্রসার এক্ষেত্রে একেবারে অপরিহার্য। অথচ সেটিও আজ দালানকোঠায় আবদ্ধ।
তাই আমরা যারা একটি সুস্থ সুন্দর ইসলামী সমাজের স্বপ্ন দেখি, আমাদেরই এর জন্য পরিশ্রম করতে হবে। সামর্থ্য অনুযায়ী এর জন্য সবদিক থেকে চেষ্টা করতে হবে।
সমাজের একজন সদস্যও যেন এই শিক্ষা কার্যক্রমের আওতার বাইরে না থেকে সেজন্য সুন্দর একটি পরিকল্পনা সাজাতে হবে। আমাদের মাদরাসা পড়ুয়া যোগ্য ভাইদেরকেই সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। কারন তারা সমাজের সকল শ্রেণীর আস্থার জায়গা মসজিদের কর্ণধার। সমাজের সকল স্তরের মানুষ তাদের কথা শোনে। তাই মসজিদকে কেন্দ্র করেই এই শিক্ষা কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রথমেই আমরা মসজিদকে কেন্দ্র করে যে শিক্ষা-কার্যক্রমটি পরিচালনা করতে পারি তার একটি ছক আঁকতে চাই।
সমাজের সদস্যদের আমরা মোটাদাগে পাঁচভাগে ভাগ করতে পারি। ১/ এক থেকে বারো বছর বয়সের শিশু কিশোর, ২/ ছাত্র ও যুব সমাজ ৩/ চাকরি ও কর্মজীবী সমাজ, ৪/ ব্যবসায়ি ও শ্রমজীবী মানুষজন,৫/নারীসমাজ।
যেভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে
১/শিশুদের জন্য মসজিদে প্রতিদিন কুরআন এবং জরুরী মাসআলা মাসায়েল ও অক্ষরজ্ঞান শিক্ষাদান কার্যক্রম।
২/ছাত্র, যুব সমাজ এবং শিক্ষিত শ্রেণীর জন্য সপ্তাহে তিন দিন ইসলাম শিক্ষা কার্যক্রম। যেখানে জরুরী মাসআলা মাসায়েল,আকিদা এবং কুরআনের তাফসীর আলোচনা হতে পারে।
৩/চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী সমাজকে টার্গেট করে সপ্তাহে একদিন ইসলাম শিক্ষার বিশেষ মজলিস হতে পারে। এমনিভাবে প্রত্যেক এলাকার শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে বসে তাদের মুনাসেব সময় বের করে সপ্তাহে একটি শিক্ষা কার্যক্রম চলতে পারে।
৪/নারীদের জন্য সপ্তাহের কোন একটি দিন নির্ধারণ করে কোন একজন নারী শিক্ষিকার মাধ্যমে এই শিক্ষা কার্যক্রমটি পরিচালনা করা যেতে পারে।
এছাড়াও এলাকাভেদে ব্যক্তিভেদে অথবা পরিকল্পনা করে এর চেয়েও সুন্দর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে।
ব্যাপকভাবে এমন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পর সমাজের মানুষের মাঝে ইনশাআল্লাহ অবশ্যই ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। ব্যক্তির মাঝে উন্নত নৈতিক চরিত্রের বিকাশ ঘটবে। এবং সমাজ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।
#পনের_ছয়_বাইশ
Durus Academy
An Islamic e-learning platform.
07/06/2022
বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের বেড়াজালে তাবলীগ জামাত
পরিচয়
তাবলীগ জামাত একটি ইসলামী দাওয়াতি সংগঠন ও ইসলাম প্রচার আন্দোলন। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা, এবং মুসলিমদেরকে ও নিজ সদস্যদেরকে সেভাবে ইসলাম চর্চায় ফিরিয়ে আনা, যেভাবে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় তা চর্চা করা হতো। এবং তা হলো বিশেষত মুসলমানদের জীবনাচার,আনুষ্ঠানিকতা এবং সামাজিক ও ব্যক্তিগত আচরণের বিষয়গুলোতে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করা।
বিশ্বজুড়ে এই সংগঠনটির আনুমানিক ১.২ কোটি থেকে ৮ কোটি অনুগামী রয়েছে ,যাদের অধিকাংশই দক্ষিণ এশিয়ায় বাস করে। এবং প্রায় ১৮০ থেকে থেকে ২০০ টি দেশে এর উপস্থিতি রয়েছে।
তাবলীগ জামাত ২০-শতকের ইসলামের সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্মীয় আন্দোলনগুলোর মধ্যে অন্যতম।
১৯২৬ সালে মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভি কর্তৃক ভারতের মেওয়াতে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি দেওবন্দি আন্দোলনের একটি শাখা হিসেবে এবং ইসলামের বিভিন্ন বিষয়কে অবজ্ঞা ও নৈতিক মুল্যবোধের সমসাময়িক অবক্ষয়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তাদের যাত্রা শুরু করে। আন্দোলনটি তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার মাধ্যমে ইসলামের আধ্যাত্নিক পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে।
তাবলিগ জামাত-এর মূল ভিত্তি হিসেবে ৬টি উসুল বা মূলনীতিকে ধারণ করা হয়। এগুলো হলো: কালিমা, নামায, ইলম ও যিকির, একরামুল মুসলিমিন (মুসলমানদের সহায়তা করা), সহিহ নিয়ত বা এখলাসে নিয়ত এবং দাওয়াত-ও-তাবলিগ (ইসলাম প্রচার কার্যক্রম)।
তাবলিগ জামাত রাজনীতি ও ফিকহে (আইনশাস্ত্র) সকলপ্রকার সম্পৃক্ততাকে এড়িয়ে চলে। এর পরিবর্তে কোরআন ও হাদিসে দৃষ্টি দেয়। সংগঠনটির সাথে সন্ত্রাসবাদের কোন সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।
তাবলীগ জামায়াত কঠোরভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিতর্ক এড়িয়ে চলে এবং এর পরিবর্তে কেবল দ্বীনের প্রতি মনোনিবেশ করে। তাবলিগ জামায়াত স্বীকার করে যে, এটি সামাজিক বা রাজনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল ধরণের ব্যক্তিকে আকৃষ্ট করে এবং এর সদস্যপদ নিয়ন্ত্রণ করে না।
বিশ্বাস ও উদ্দেশ্য
তাবলিগ জামাতের সদস্যদের তাদের নিজস্ব ফিকহ অনুসরণে কোন বাধা দেওয়া হয় না, যতক্ষণ না তা সুন্নি ইসলাম হতে বিচ্যুত হয়।
তাবলীগ জামাত দাওয়াতের উদ্ধৃতির মাধ্যমে এর উদ্দেশ্যকে সংজ্ঞায়িত করে, যা হল ইসলামের দিকে আহ্বান।
যেহেতু ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা এবং সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছে দেয়ার জন্য আল্লাহ পৃথিবীতে অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছিলেন; কিন্তু যেহেতু মুহাম্মদ আল্লাহর শেষ বাণীবাহক, তার পরে আর কোনো নবী বা রাসূল আসবেন না, তাই নবী মুহাম্মদ বিদায় হজের ভাষণে মুসলমানদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার দায়িত্বটি দিয়ে গিয়েছেন।
তাবলিগ জামাত দাওয়াতের এই উদ্দেশ্যকে দুটি নির্দিষ্ট আয়াতের আওতায় সংজ্ঞায়িত করে, যাতে উক্ত লক্ষ্যের উল্লেখ রয়েছে। এই দুইটি আয়াত হল:
“ তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানুষের(কল্যাণের) জন্য তোমাদেরকে বের করা হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে।" (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-১১০)
“ তার চেয়ে ভাল কথা আর কি হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, নিজে নেক আমল করে আর বলে যে, আমি সাধারণ মুসলমানদের মধ্য হতে একজন। (সূরা হা মীম সিজদা আয়াত-৩৩)[৪৩] ”
ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলামী নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর পর সাহাবী, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগণের মাধ্যমে ইসলামী জীবন বিধান প্রচার ও প্রসারের কার্যক্রম আরো বিস্তৃতি লাভ করে,[৩৮] কিন্তু মুসলিম শাসকদের ক্ষমতা বিলুপ্তির পর ইসলামী প্রচার কার্যক্রমে ভাটা পড়তে থাকে, যা থেকে পরিত্রাণের জন্য মুসলিম মনীষীদের প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল; আর অনুরূপ চিন্তাধারা থেকে মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভি ভারতের দিল্লিতে তাবলিগ জামাতের সূচনা করেন।যার প্রচেষ্টার ফলে তাবলিগ জামাত একটি বহুল প্রচারিত আন্দোলনে রূপ নেয়। তাবলিগ জামাত সারা বিশ্বে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়াকে তাদের প্রধানতম উদ্দেশ্য মনে করে।
তাবলিগ জামাত সকলকে দাওয়াতের ইসলামী চাহিদা পুরণ করতে উৎসাহিত করে।
মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলবি রহ. যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন তা হল কমপক্ষে দশ জন ব্যক্তির একটি দল বা জামাতকে নিজেদের দ্বীনি উন্নয়ন ও দাওয়াতি কাজের জন্য বিভিন্ন গ্রামে বা আশেপাশে প্রেরণ করা।
এই সময় সাথিদের মাঝে তালিমের ব্যাপারে (ইসলামের মৌলিক জ্ঞান) গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাধারণত "তাবলীগী নিসাব" (তাবলিগী পাঠ্যক্রম) নামে পরিচিত কিছু কিতাবের একটি সংগ্রহকে সাধারণ পাঠের জন্য তাবলীগ জামাতের প্রবীণরা সুপারিশ করেন। এই বইগুলো হল ( হায়াতুস সাহাবা , ফাযায়েলে আমল, রিয়াদুস সালিহীন, ফাযায়েলে সাদাকাত , ও মুন্তাখাব হাদীস)।
আন্দোলনটি মুসলিমদেরকে তাদের দৈনিক রুটিনের বাইরে কিছু সময় তাবলিগী কাজকর্মে ব্যায় করতে উৎসাহিত করে যেন বাকি রুটিনও তাবলীগী জীবনশৈলীর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয়। এছাড়াও অনুসারীদেরকে তাদের বিশ্বাসকে আরও গভীর করতে (বিশ্বব্যাপী প্রাপ্ত) দেওবন্দি মাদারিস বা মাদ্রাসাসমূহে ভর্তি হতে উৎসাহিত করা হয়।
তাবলিগ জামাত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অমুসলিমদের কাছে ধর্মপ্রচার করার পরিবর্তে মুসলমানদের আরও ভাল ও বিশুদ্ধ এবং আদর্শিক ও "ধর্মীয়ভাবে নিখুঁত" করার দিকে মনোনিবেশ করেছে। এর কারণ হল (এটি বিশ্বাস করে) অমুসলিমদের কাছে দাওয়াত কেবল তখন কার্যকর হবে (বা আরও কার্যকর হবে) যখন কোন মুসলমান নিজে "পরিপূর্ণতায় পৌঁছাবে।
অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি
তাবলীগ জামাত একটি নিরেট দাওয়াতি সংগঠন হলেও এই নিরীহ সংগঠনটিও ব্যাপক অপপ্রচারের শিকার।এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, তাবলীগ জামাত দেওবন্দ আন্দোলনেরই একটি শাখা বা ছায়া আন্দোলন।তাই দেওবন্দি আন্দোলন মে সব বিষয়ে এবং যেসব গোষ্ঠী থেকে অপপ্রচারের শিকার, তাবলীগ জামাতও সেসব ব্যাপারে এবং সেসব গোষ্ঠী থেকে অপপ্রচারের শিকার হয়েছে।যেমন:
১)সালাফি বা আহলে হাদিস গোষ্ঠী কর্তৃক অপপ্রচার।তারা আকিদার একেবারে দূরবর্তী শাখাগত বিষয়কে কেন্দ্র করে যেমনিভাবে শাখাগত বিষয়ে কোনো একটি নির্দিষ্ট ফিকহ অনুসরণকারীদের মূর্খতাবশত সমালোচনা করে; ঠিক তেমনি তারা তাবলীগ জামাতেরও সমালোচনা করে। তবে উলামায়ে কিরামের ব্যাপক তৎপরতার ফলে এই প্রোপাগান্ডা অনেক কমে এসেছে, আলহামদুলিল্লাহ।
২)বিদআতি গোষ্ঠী কর্তৃক অপপ্রচার। তাবলীগের উসুল যেহেতু নির্দিষ্ট ফিকহের সাথে সাথে নিরেট কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণ করা; তাই তাবলীগি ভাইদের মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত বিদআতগুলো ব্যাপক উচ্ছেদ হয়ে থাকে।ফলে স্বাভাবিকভাবেই তারা বিদআতি গোষ্ঠী কর্তৃক অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ও প্রোপাগান্ডার শিকার হয়ে থাকে। নিজেদের স্বার্থে আঘাত আসার কারণেই তারা এই অপপ্রচার চালায়।
৩) রাজনৈতিক কারণেও তাবলীগ জামাতের সমালোচনা শিকার হয়ে থাকে।যে সমস্ত ইসলামপন্থীরা বিভিন্ন ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত, তারা তাবলীগ জামাতের সদস্যদের কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার কারণে সমালোচনা ও অপপ্রচার চালায়। অথচ এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয় যে একটি দলের উপর দায় দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়। বরং এক্ষেত্রে সর্বযুগেই কর্মবন্টন নীতি অবলম্বন করা হয়েছে।
এছাড়াও কিছু রাজনৈতিক ভুল মতবাদের বিরুদ্ধে দেওবন্দি ওলামায়ে কেরাম শুরু থেকেই কঠোর।যেকারণে সে সমস্ত মতবাদে প্রভাবিত ইসলামপন্থীরা দেওবন্দী ওলামায়ে কেরামের সাথে সাথে তাবলীগী জামাতেরও বিরোধিতা ও অপপ্রচার করে থাকে।
অথচ বিশ্বের বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামদের নিরীক্ষণ অনুযায়ী জামাতে তাবলীগ একটি সম্পূর্ণ সহিহ দ্বীনি সংগঠন। মূলত এসবই হচ্ছে মুসলমানদের কেন্দ্রীয় চেইন অফ কমান্ড ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে মুসলমানদের মাঝে ব্যাপক অস্থিরতার ফল।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সহিহ দ্বীন মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।
সংকলন: Asif Ahmad
বিশ্বের সকল মুসলিমরা যেন নিরাপত্তার চাদরে আবৃত থাকে এই কামনা!
ঈদ মোবারক।
01/05/2022
আপনার সামর্থ্য অনুপাতে সদকাতুল ফিতর আদায় করুন।
উদয়স্থলের বিভিন্নতাঃ
অভিজ্ঞদের ঐক্যমতে চাঁদের উদয়স্থল ভিন্ন ভিন্ন এবং উদয়কালও অনুরূপ। আর এই ভিন্ন উদয়কালের ফলেই কোথাও চাঁদ দেখা যায়, কোথাও যায় না। সুতরাং উদয়-স্থল ভিন্ন হলে প্রত্যেক এলাকার জন্য পৃথক দর্শন জরুরী। পক্ষান্তরে উদয়স্থল বা উদয়কাল একই হলে একই এলাকাভুক্ত লোকেদের জন্য ২/১ জনের দর্শন অনুযায়ী আমল করা ওয়াজেব হবে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেন, ‘‘অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে রোযা রাখে।’’ (কুরআনুল কারীম ২/১৮৫)
আর যাদের উদয়স্থল ওদের মত নয়, তাদের জন্য বলা যাবে না যে, ওরা চাঁদ দেখেছে; না প্রকৃতপক্ষে, আর না-ই আপাতদৃষ্টে। অথচ মহান আল্লাহ তাদের জন্য রোযা ফরয করেছেন, যারা চাঁদ দেখেছে। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখে ঈদ কর।’’ এই আজ্ঞায় রোযা রাখার আদেশকে চাঁদ দেখার শর্ত-সাপেক্ষ করা হয়েছে। বলা বাহুল্য, যে ব্যক্তি এমন জায়গায় বাস করে, যে জায়গার উদয়স্থল যে চাঁদ দেখেছে তার উদয়স্থলের অনুরূপ নয়, সে ব্যক্তি (যেহেতু তার নিজের এলাকায় কেউ চাঁদ দেখেনি সেহেতু) আসলে চাঁদ দেখেনি; না প্রকৃতপক্ষে, আর না-ই আপাতদৃষ্টে।
পরন্তু মাসিক সময়কাল প্রাত্যহিক সময়কালের মতই। সুতরাং যেমন প্রত্যেক দেশ প্রাত্যহিক সেহরীর ও ইফতারের ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন সময় ব্যবহার করে থাকে, ঠিক তেমনিই মাসিক রোযা শুরু ও শেষ হওয়ার সময় ভিন্ন ভিন্ন হওয়া জরুরী। আর এ কথা বিদিত যে, মুসলিমদের ঐক্যমতে দৈনিক সময়ের স্বতন্ত্র প্রভাব আছে। তাই যারা প্রাচ্যে বাস করে তারা তাদের আগে সেহরী খাওয়া বন্ধ করবে; যারা প্রতীচ্যে বাস করে। অনুরূপ প্রাচ্যের লোক প্রতীচ্যের লোকদের পূর্বে ইফতার করবে।
সুতরাং যখন দৈনিক সময়ে সূর্যের উদয়াস্ত কালের ভিন্নতা মেনে নিতে বাধ্য, তখন তারই সম্পূর্ণ অনুরূপ মাসের ব্যাপারেও চন্দ্রের উদয়কালের ভিন্নতাকে মেনে নিতে আমরা বাধ্য।
কুরাইব বলেন, একদা উম্মুল ফায্ল বিন্তুল হারেষ আমাকে শাম দেশে মুআবিয়ার নিকট পাঠালেন। আমি শাম (সিরিয়া) পৌঁছে তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ করলাম। অতঃপর আমার শামে থাকা কালেই রমাযান শুরু হল। (বৃহস্পতিবার দিবাগত) জুমআর রাত্রে চাঁদ দেখলাম। অতঃপর মাসের শেষ দিকে মদ্বীনায় এলাম। আব্দুল্লাহ বিন আববাস (রাঃ) আমাকে চাঁদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কবে চাঁদ দেখেছ?’ আমি বললাম, ‘আমরা জুমআর রাত্রে দেখেছি।’ তিনি বললেন, ‘তুমি নিজে দেখেছ?’ আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ। আর লোকেরাও দেখে রোযা রেখেছে এবং মুআবিয়াও রোযা রেখেছেন।’ ইবনে আববাস (রাঃ) বললেন, ‘কিন্তু আমরা তো (শুক্রবার দিবাগত) শনিবার রাত্রে চাঁদ দেখেছি। অতএব আমরা ৩০ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোযা রাখতে থাকব।’ আমি বললাম, ‘মুআবিয়ার দর্শন ও তাঁর রোযার খবর কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়?’ তিনি বললেন, ‘না। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে এ রকমই আদেশ দিয়েছেন।’(মুসলিম,১০৭৮)
29/04/2022
বোরকা পরিধান করা মানেই পর্দাশীন নয় । পর্দা তো হায়া- লজ্জার নাম । পর্দা আল্লাহর হুকুম পালনের নাম । যেখানে একজন নারী ওজর ব্যতীত পরপুরুষ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখবে (এমনকি গলার আওয়াজটুকুও) । চলাফেরা , কথাবার্তা , মেলামেশা সহ সর্ববিষয়ে । বরং কোন প্রয়োজনে যেতে হলেও সে লজ্জাবোধ করবে । নিজেকে গুঁটিয়ে রাখবে ।
আসলে পর্দা কি জিনিস তা অনুভব করতে পারি না আমরা অনেকেই । যার দরুন বোরকা পরিহিতা হয়েও অঘটন ঘটছে হরহামেশা । আর বদনাম হচ্ছে পর্দানশীন নারীর । অথচ পর্দা কি এটা সে যথাযথ অনুধাবন করা সহ কখনো জীবন-যাপন করেই নি ।
পর্দা শুধু এক টুকরো কাপড়ের নাম নয় । এটা আল্লাহর ফরজ বিধান যা মেনে চলতে হয় সঠিক পন্থায় । বোরকা পরিহিতা হয়েও পর পুরুষের সাথে আনন্দ উদযাপন করার নাম পর্দা নয় ।
একজন প্রকৃত পর্দানশীন নারী সে যা মন চায় করতে পারে না । ঠিক ততটুকুই করতে পারে যতটুকু আল্লাহ তাআলা তাকে অনুমতি দিয়েছেন ।
مَنْ كَانَ لَهُ ثَلاَثُ بَنَاتٍ أَوْ ثَلاَثُ أَخَوَاتٍ أَوْ ابْنَتَانِ أَوْ أُخْتَانِ فَأَحْسَنَ صُحْبَتَهُنّ وَاتّقَى اللّهَ فِيهِنّ فَلَهُ الجَنّةُ.
যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা সন্তান বা তিনজন বোন আছে অথবা দু’জন কন্যা সন্তান বা বোন আছে। সে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করেছে এবং তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করেছে। তার জন্য রয়েছে জান্নাত। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯১৬
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ ابْتُلِيَ بِشَيْءٍ مِنَ البَنَاتِ فَصَبَرَ عَلَيْهِنّ كُنّ لَهُ حِجَابًا مِنَ النّارِ.
যে ব্যক্তিকে কন্যা সন্তান লালনপালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সে ধৈর্যের সাথে তা সম্পাদন করেছে সেই কন্যা সন্তান তার জন্য জাহান্নাম থেকে আড় হবে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯১৩
27/04/2022
একজন লোকাল বাসের কন্টাকটার কখনো চিন্তা করে না গাড়িতে তার বসার মতো সিট নেই । যেখানে সকল যাত্রী খুব আরামে বসে যাতায়াত করছে তার জন্য কেউ সিট রাখে নি । এমনকি বাস ড্রাইভারের মাথার উপরে ফ্যান লাগানো অবস্থায় সেও যাতায়াত করছে । শুধুমাত্র কন্টাকটার বেচারা সকাল হতে রাত অবধি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত করছে । কারণ সে জানে , দিন শেষে এর বিনিময়ে সে নির্দিষ্ট পরিমাণে কিছু অর্থ উপার্জন করতে পারবে ।
ফলে সে রাতে আরামে ঘুমাতে পারবে ।
সুতরাং বাসের কন্টাকটার থেকে আমাদের থেকে শিক্ষা নেয়া উচিৎ , দুনিয়াতে সবকিছু আমরা নিজেদের ইচ্ছেমত পাব না । আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে । আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্য রেখেছেন জান্নাত
। সেখানে মুমিন তার মনের সমস্ত চাহিদা পূরণ করতে পারবে ।
ইরশাদ হচ্ছে ,
إنما يوفي الصابرون اجرهم بغير حساب
"নিশ্চয় ধৈর্যশীলদেরকে অপরিমিত পুরস্কার দেয়া হবে।"
(সূরা যুমার-১০)
25/04/2022
শুধুমাত্র তালাকের মাসআলা না জানার কারণে বর্তমান সমাজে তিন তালাক দেবার পরও শুধুমাত্র তওবা (!) পড়ে দিব্যি হারাম জেনার সংসার করছে শত শত সুশীল পরিবার ।
এ জন্যই তো সহিহ মানের ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা সবার জন্য ফরজ ।
আর পাবলিক , সে তো দুনিয়ার সব বুঝে । হয়তো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়ে , রমজান এলে আবার যাকাতের শাড়ীও বিতরণ করে ।
কিন্তু ইলম শিক্ষার এই ফরজ বিষয়টা তাকে 'পানি দিয়ে গুলে' খাওয়ালেও কেন যেন বুঝতে চায় না ।
আসলে তার হাতে সময় নেই এমন অজুহাত নয় । বরং এটি ইলমে দ্বীনের প্রতি তার চরম অবজ্ঞা ও অবমূল্যায়নের সামান্য বহিঃপ্রকাশ মাত্র !
যখন কিয়ামতের ময়দানে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর আদালতে স্বয়ং আল্লাহর রাসূল মোকাদ্দমা দায়ের করবেন ,
وقال الرسول يارب إن قومي اتخذوا هذا القرآن مهجورا
"আর রাসূল (সা) বললেন , হে আমার পালনকর্তা ! আমার সম্প্রদায় কোরআনকে পরিত্যক্ত মনে করেছে (ইলমে দ্বীনকে চরম অবমূল্যায়ন করেছে)। "
তখন অবস্থাটা কী দাঁড়াবে এই হতভাগা মানুষগুলোর ?
24/04/2022
ইরশাদ হচ্ছে ,
"নগরীতে কাফেরদের চাল-চলন যেন তোমাদিগকে ধোঁকা না দেয় । এটা সামান্য ফায়দা -এরপর তাদের ঠিকানা হবে দোযখ । আর সেটি হলো অতি নিকৃষ্ট অবস্থান ।"
[সূরা আলে ইমরান : ১৯৬-১৯৭]
23/04/2022
[অজানা মাসায়েল-০২]
হিন্দু -খৃষ্টান বা যে কোন অমুসলিম মেয়েলোক হতেও পর্দানশীন নারীর পর্দা করা জরুরি । তাদের সামনে কেবলমাত্র মুখমণ্ডল, হাতের পাতা ও পায়ের পাতা ব্যতীত শরীরের কোনো অংশ খোলা রাখা যাবে না ।
لا یحل للمسلمۃ أن تنکشف بین یدي یہودیۃ أو نصرانیۃ أو مشرکۃ إلا أن تکون أمۃ لہا۔ (شامي ۹؍۵۳۴ زکریا)
"কোনো মুসলিমা মহিলার জন্য অমুসলিম মহিলার সামনে বেপর্দা হওয়া বৈধ নয়।"
হযরত উমর (রা.) বলেন, যে নারী আল্লাহ ও আখেরাতের উপর বিশ্বাস রাখে তার জন্য স্বজাতি ছাড়া অন্য কারো (বিধর্মী মহিলা) সম্মুখে শরীরের আবৃত অংশ প্রকাশ করা জায়েয নয়।
(তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৪৫৫; সুনানে সায়ীদ ইবনে মানসূর-এর বরাতে।)
-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৭১
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Dhaka
DHAKA
Opening Hours
| Monday | 09:00 - 21:00 |
| Tuesday | 09:00 - 21:00 |
| Wednesday | 09:00 - 21:00 |
| Thursday | 09:00 - 21:00 |
| Friday | 14:00 - 21:00 |
| Saturday | 09:00 - 21:00 |
| Sunday | 09:00 - 21:00 |