Smart Sohay Job

Smart Sohay Job স্মার্ট সহায় - যেখানেই প্রশ্ন, সেখানেই স্মার্ট সহায় !

একটি অ্যাপ - সাজেশন, প্রশ্নব্যাংক, ডাউট সল্ভ, ফ্ল্যাশকার্ড (পার্সোনাল প্রস্তুতি ও ট্র্যাক), পার্সোনালাইজড এক্সাম, মডেল টেস্ট, লাইভ এক্সাম।
AI ভিত্তিক বাংলাদেশে আমরাই প্রথম! BCS, Bank, প্রাইমারি, NTRCA, ৯-২০ তম গ্রেড সহ ইঞ্জিনিয়ারিং, স্বাস্থ্য কিংবা ডিপ্লোমা সকল ক্যাটাগরি এর জন্য!!
একাডেমিক, এডমিশন ও জব পরীক্ষার্থীদের জন্য !!!


একটি অ্যাপ - সাজেশন, প্রশ্নব্যাংক, ডাউট সল্ভ, ফ্ল্যাশকার্ড (পার্সোনাল প্রস্তুতি ও ট্র্যাক), পার্সোনালাইজড এক্সাম, মডেল টেস্ট, লাইভ এক্সাম।
AI ভিত্তিক বাংলাদেশে আমরাই প্রথম

University of London থেকে আইন পড়েছেন সাবা ইমা।বাংলাদেশি আইনের কোনো একটি ধারাও পড়ার সুযোগ হয়নি তাঁর স্নাতক পর্যায়ে। কিন্ত...
23/09/2026

University of London থেকে আইন পড়েছেন সাবা ইমা।

বাংলাদেশি আইনের কোনো একটি ধারাও পড়ার সুযোগ হয়নি তাঁর স্নাতক পর্যায়ে। কিন্তু সম্মানজনক জীবিকার প্রত্যাশায় ২০২৪ সালে শূন্য থেকে বাংলাদেশের আইন পড়া শুরু করেন তিনি। এরপর একই সময়ে বিসিএস ও বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী এক সাফল্যের গল্প।

সাবা ইমা রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ২০১৯ সালের শিক্ষার্থী। এর আগে পড়েছেন The Millennium School এবং The Millennium Stars School and College-এ। পরে University of London থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়লেও বাংলাদেশি আইনের পাঠ নেওয়ার সুযোগ না থাকায় দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁকে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে একেবারে নতুন করে।
২০২৪ সাল থেকে নিজের উদ্যোগে বাংলাদেশের ৩০টির বেশি আইন পড়া শুরু করেন সাবা। তাঁর সামনে তখন শুধু বিজেএস নয়, বিসিএসের পরীক্ষাও ছিল। একই সময়ে একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে পেরোতে হয়েছে দীর্ঘ পরীক্ষার একটি ব্যস্ত সময়সূচি।

২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। এরপর ১ নভেম্বর দেন ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। ২৭ নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা। এরপর ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি, ৮ থেকে ২৩ এপ্রিল ৫০তম বিসিএসের লিখিত এবং ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ১৮তম বিজেএসের টানা দশ দিনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি।
এই দীর্ঘ পরীক্ষার যাত্রার ফলও আসে একের পর এক। ৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে মেধাক্রম ১৭ নিয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হন সাবা ইমা। এটি ছিল তাঁর প্রথম বিসিএস এবং জীবনের প্রথম চাকরির পরীক্ষা। এরপর ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে অর্জন করেন দ্বিতীয় স্থান।

বিজেএসের সাফল্যের পেছনের গল্পটিও তাঁর জন্য ছিল অন্যরকম। বাংলাদেশি আইনের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রচলিত ধারার প্রস্তুতি তাঁর ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে বাংলাদেশের আইন পড়ার সুযোগ না থাকলেও পরে নিজের চেষ্টায় একে একে দেশের আইনগুলো আয়ত্ত করেন। নিজের ভাষায়, শূন্য থেকে শুরু করে বাংলাদেশি আইনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার এই যাত্রা তাঁর জীবনের একটি স্মরণীয় অর্জন হয়ে থাকবে।

বিসিএসের ভাইভাতেও নিজের আইনভিত্তিক শিক্ষাকে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ৭ জুন ২০২৬ অনুষ্ঠিত ভাইভায় বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন শাহনাজ সরকার। প্রায় ২৫ মিনিটের সেই ভাইবায় তাঁর কাছে আইন, নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার উন্নয়ন, অর্থনীতি, শ্রম অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।
ভাইবার শুরুতেই নিজের ক্যাডার পছন্দের তালিকা জানান সাবা। সেখানে পররাষ্ট্র ক্যাডারকে প্রথম পছন্দ হিসেবে রাখার বিষয়টি উঠে আসে। আইন বিষয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি তাঁকে প্যারোল, হোয়াইট কলার ও ব্লু কলার অপরাধ, নারীবাদ, সমতা ও ন্যায্যতার পার্থক্য এবং নারীর ক্ষমতায়নের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।

এক পর্যায়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, equality না equity—কোনটি বেশি প্রয়োজন। সাবা তাঁর উত্তরে equity-কে গুরুত্ব দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, সমাজে সবার প্রারম্ভিক অবস্থান ও সুযোগ সমান নয়। তাই শুধু সবার সঙ্গে একই আচরণ করলেই প্রকৃত সমতা নিশ্চিত হয় না।
নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্র হিসেবে তিনি রাজনীতি, শিক্ষা ও শ্রম অভিবাসনের কথা বলেন। বিশেষ করে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের বড় একটি অংশ অদক্ষ বা আধা-দক্ষ কর্মী হওয়ায় তাঁদের দক্ষতা, আইনি সুরক্ষা ও কর্মপরিবেশের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

ভাইবার শেষ পর্বে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মতো বিষয় নিয়ে তাঁকে নিজের মতামত দিতে হয়। পাশাপাশি আইন বিষয়ে mens rea এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারার প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।

নিজের ভাইবা অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সাবা ভবিষ্যৎ পরীক্ষার্থীদের নার্ভ শক্ত রাখার, নিজের ভালো দিকগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরার এবং ইংরেজিতে কথা বলার জড়তা কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
একদিকে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পড়াশোনা, অন্যদিকে বাংলাদেশি আইনের প্রস্তুতিতে শূন্য থেকে পথচলা। এর মধ্যেই প্রথম বিসিএসেই পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১৭তম এবং একই বছরে ১৮তম বিজেএসে দ্বিতীয় স্থান—সাবা ইমার এই সাফল্য তৈরি হয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি, একাধিক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং নতুন একটি বিষয়কে শুরু থেকে আয়ত্ত করার অধ্যবসায়ে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে "সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫" এর নিয়োগ ও পদায়ন আদেশ জারির নির্...
23/09/2026

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে "সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫" এর নিয়োগ ও পদায়ন আদেশ জারির নির্দেশাবলীর প্রশাসনিক অনুমোদন।

22/09/2026

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (BCS) আসতে চাইলে কোন কোন Skill অর্জন করা জরুরি?

মো. আরিফ হোসেন ,
বিসিএস (এডমিন ক্যাডার)।

22/09/2026

রিটেনে পাস করলে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে আসবা , ফোন করে দেব : ফজলুর রহমান

22/09/2026

আজ কী দিবস?

22/09/2026

আমি জীবনে প্রায় দশ হাজার খাতা দেখেছি। বাংলা পরীক্ষার খাতা। লাল কালির কলম দিয়ে নম্বর দিয়েছি। কোথাও আট। কোথাও বারো। কোথাও পঁচিশ। কোথাও শূন্য। মানুষের লেখা দেখে মানুষকে বিচার করা আমার পেশা ছিল। কখনো ভাবিনি, একদিন একটা খাতা আমার নিজের জীবনটাকেই বিচার করবে।

ঘটনাটা আজ থেকে প্রায় বাইশ বছর আগের।

তখন আমি মোহনগঞ্জ হাই স্কুলের শিক্ষক। নবম শ্রেণির খাতা দেখতাম। সেবার একটা রচনা ছিল, “আমার দেখা একটি বর্ষার দিন।”

বেশিরভাগ ছাত্র একই কথা লিখেছিল। বৃষ্টি। কাদামাটি। ছাতা। ভেজা রাস্তা। খিচুড়ি। নদী। কারও কারও লেখায় রবীন্দ্রনাথও এসেছিলেন। কারও লেখায় নজরুল। কেউ লিখেছিল, “বর্ষা আমার প্রিয় ঋতু।” কেউ লিখেছিল, “বর্ষার সৌন্দর্য অপরূপ।” সবই পরিচিত কথা।

তারপর একটা খাতা পেলাম। খাতাটা অন্যগুলোর মতো ছিল না। ছেলেটা লিখেছিল,
“আমাদের বাড়িতে বৃষ্টি হলে মা হাঁড়ির নিচে আরেকটা হাঁড়ি বসায়। কারণ ছাদ দিয়ে পানি পড়ে।”
আমি পড়তে থাকলাম।
“আমার মা বলে, বৃষ্টি ভালো। কারণ বৃষ্টি হলে ধুলো কমে।”
তারপর,
“আমি বৃষ্টি পছন্দ করি না।”
পরের লাইনে কারণ লিখেছে,
“বৃষ্টির দিনে বাবার মেজাজ খারাপ থাকে।”
আমি একটু থেমে গেলাম।
ছেলেটা লিখেছে,
“বাবা রিকশা চালায়। বৃষ্টি হলে মানুষ রিকশায় কম ওঠে। তাই সেদিন আমাদের ভাত কম হয়।”
তারপর শেষ দিকে একটা লাইন,
“আমি বড় হয়ে এমন একটা কাজ করতে চাই, যেদিন বৃষ্টি হলে কারও ভাত কমবে না।”

আমি অবাক হয়ে দেখলাম, ছেলেটা সবগুলো প্রশ্নের উত্তর লেখেনি। মাত্র তিনটা প্রশ্নের উত্তর লিখেছে। বাকী দুইটাতে তেরো পেয়েছে। অর্থাৎ রচনায় বিশের মধ্যে বিশ না পেলে ছেলেটা ফেইল করবে।

জানি না কেন, আমি আমার শিক্ষাগত জীবনে প্রথমবারের মতো নিয়ম ভাঙলাম। আমি খাতাটা বন্ধ করলাম। উপরে নম্বর দিলাম, ৩৩।
৩৩ খুব বেশি নম্বর না। ছেলেটা ভালো লিখেছিল।
আমি খাতার উপর ছোট করে লিখে দিলাম,
“ভাষা ভালো। নিজের অভিজ্ঞতা ধরে রাখবে।”

সেদিন প্রায় একশো বিশটা খাতা দেখেছিলাম। রাতে বাসায় ফিরে খাতাটার কথা ভুলে গেলাম।

বারোদিন পর স্কুল থেকে একটা চিঠি এলো। কয়েকটা খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয়েছে। একটা খাতায় অভিযোগ, নম্বর বেশি দেওয়া হয়েছে। খাতাটা আমার হাতে এলো। আমি নাম দেখে চিনতে পারলাম। সেই ছেলেটা। নাম,
সাইফুল ইসলাম। তার নম্বর ৩৩ থেকে ২০ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
কারণ হিসেবে হেডস্যার লিখেছেন,
“অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ। প্রশ্নের বিষয়বস্তু যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি।”

আমি আবার খাতাটা পড়লাম। একই লেখা। একই বৃষ্টি। একই ভাঙা ছাদ। একই রিকশাওয়ালা বাবা। আমি ৩৩ ই রাখলাম।

হেডস্যার আমার উপর প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হলেন। এই কারণেই কি-না, মাসখানেক পর আমাকে রাঙামাটি সরকারি হাইস্কুলে বদলি করা হলো।

তারপর অনেক বছর কেটে গেল।

আমি অবসর নিলাম। আমার ছাত্ররা দেশের নানা জায়গায় ছড়িয়ে গেল। কেউ ডাক্তার। কেউ ব্যাংকার। কেউ শিক্ষক। কেউ বিদেশে। কেউ আর কোনোদিন যোগাযোগ করেনি। এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষকের জীবনে ছাত্ররা আসে। থাকে।তারপর চলে যায়। শুধু কিছু খাতা থেকে যায়। কিছু বাক্য থেকে যায়।

একদিন দুপুরে আমার বাসায় একজন যুবক এল। বয়স পয়ত্রিশের কাছাকাছি। পরনে খুব সাধারণ শার্ট। হাতে একটা ফাইল।
সে বলল,
“স্যার, আমাকে চিনেছেন?”
আমি বললাম,
“চেহারা পরিচিত লাগছে।”
সে হাসল।
“চিনবেন না।”
তারপর ফাইল খুলে একটা পুরোনো কাগজ বের করল।
আমার লেখা।
লাল কালিতে।
“ভাষা ভালো। নিজের অভিজ্ঞতা ধরে রাখবে।”
আমি অনেকক্ষণ কাগজটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম।
তারপর বললাম,
“সাইফুল?”
সে মাথা নেড়ে হাসল।
“জি।”
আমি অবাক হয়ে বললাম,
“এত বছর পর?”
“আপনাকে একটা জিনিস দেখাতে আসছি।”

সে ফাইল থেকে একটা ছবি বের করল। ছবিতে একটা বড় ঘর। অনেকগুলো মেশিন।
দেয়ালে লেখা,
“বৃষ্টির দিনেও কাজ বন্ধ হবে না।”
আমি ছবিটার দিকে তাকিয়ে বললাম,
“এটা কী?”
সে বলল,
“আমার কারখানা।”
“তুমি কারখানা করেছ?”
“জি।”
“কী তৈরি করো?”
“রেইনকোট।”
আমি হেসে ফেললাম।

সে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
আমি তাকে চা দিলাম।
সে বলল,
“স্যার, আমি একটা কথা বলতে চাই।”
“বলো।”
“আপনি যদি ঐ খাতায় ৩৩ না দিতেন!”
সে থেমে গেল।
“তাহলে?”
“বাবা আমার লেখাপড়া বন্ধ করে দিতো।”
তারপর একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।
”হয়তো বাবার মতো আমাকেও রিকশা চালাতে হতো।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“তুমি সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দাওনি কেন?”
সে একটু নিচের দিকে তাকাল।
“আমার মা খুব অসুস্থ ছিল।”
আমি চুপ করে শুনছিলাম।
“নেত্রকোনা হাসপাতালে ভর্তি ছিল। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময়ও জানতাম না মা বাঁচবে কি না। হলের মধ্যে বসে বারবার মনে হচ্ছিল, আমি এখানে কী করছি?”
সে একটু থামল।
“সেদিন আমার মাথায় পরীক্ষা ছিল না, স্যার। শুধু মনে হচ্ছিল, মা একা শুয়ে আছে।”
“তোমার মা?”
“একমাস পর মারা গেছেন।”
আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম।
বললাম,
“কলেজে ভর্তি হয়েছিলে?”
“জি”
“বিশ্ববিদ্যালয়?”
“জি?”
“কী নিয়ে পড়েছো?
“টেক্সটাইল।”
আমি হেসে বললাম,
“তাহলে রেইনকোটের সঙ্গে সম্পর্ক আছে।”
সে বলল,
“আছে।”
তারপর কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
“কিন্তু আমার আসল কাজ অন্য।”
“কী?”
সে জানালার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমি এমন কাপড় বানানোর চেষ্টা করি যেটা খুব সস্তায় মানুষের শরীর শুকনো রাখতে পারে।”
আমি বললাম,
“কেন?”
সে আমার দিকে তাকাল।
“কারণ আমি বৃষ্টিতে ভাত কম খেয়েছি।”

আমি আর কথা বললাম না। তারপর সে আমাকে কারখানায় নিয়ে গেল। বিশাল কারখানা। হাজারের উপর কর্মী। বেশিরভাগই নারী।
একটা মেশিনের সামনে দাঁড়িয়ে সাইফুল বলল,
“বৃষ্টি হলে এখানে কারো ভাতের অভাব হয় না।”
আমি বললাম,
“তুমি কি সব কর্মীকে বৃষ্টির দিনে বাড়তি টাকা দাও?”
সে বলল,
“না।”
“তাহলে?”
“বৃষ্টি হলে কাজ বেশি দিই।”
আমি বুঝলাম না।
সে বলল,
“বাইরে যারা রাস্তায় কাজ করতে পারে না, তাদের জন্য এই কারখানাটা খোলা থাকে।”

তারপর আরেকটা মেশিনের পাশে গিয়ে দাঁড়াল।
একজন মহিলা সেলাই করছিল।
সাইফুল তাকে বলল,
“খালা, আজ কয়টা?”
মহিলা বললো,
“বত্রিশ।”
সাইফুল হেসে বলল,
“ঠিক আছে।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“তার নাম?”
“শাহিদা।”
“কতদিন ধরে কাজ করে?”
“দুই বছর।”
শাহিদা আমাদের দিকে তাকিয়ে একটু হাসলো।
তারপর আবার কাজ করতে লাগলো।

বাড়ি ফেরার আগে সে আমাকে একটা ছোট প্যাকেট দিল।
আমি বললাম,
“এটা কী?”
“পড়ে খুলে দেখবেন।”
“কেন?”
“আমার সামনে খুললে আমি লজ্জা পাব।”
আমি হেসে প্যাকেটটা নিলাম।

বাড়ি ফেরার পথে খুলে দেখি, একটা রেইনকোট। খুব সুন্দর। ভেতরে ছোট একটা কাগজ। তাতে লেখা- “স্যার, আপনি আমাকে নম্বর দিয়েছিলেন। আমি শুধু চেষ্টা করেছি, নম্বরটার মান রাখতে।”
আমি অনেকক্ষণ কাগজটা হাতে নিয়ে বসে থাকলাম। সময়টা উদযাপন করতেই কি-না, বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো। আমি রেইনকোটটা ব্যাগ থেকে বের করে গায়ে দিলাম। রাস্তা ভিজে যাচ্ছিল। রিকশাগুলো ধীরে চলছিল। দোকানের টিনের চাল থেকে পানি পড়ছিল। একটা বাচ্চা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিল। তার হাতে ছাতা নেই। কিন্তু সে ভয় পাচ্ছিল না। আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তাকে দেখলাম। তারপর হঠাৎ মনে হলো, মাঝে মাঝে পৃথিবীর এক প্রান্তে নিয়ম ভাঙতে হয়, যেন পৃথিবীর আরেক প্রান্তে দারুণ কিছু গড়ে ওঠে।

আমি হয়তো সারা জীবন খাতায় নম্বর দিয়েছি। কিন্তু সেদিন প্রথমবারের মতো বুঝতে পেরেছি, কখনো কখনো একজন শিক্ষক শুধুমাত্র ছাত্রের খাতা দেখেন না। তার সামনে পড়ে থাকে একজন মানুষের ভবিষ্যৎ। আর সেই ভবিষ্যৎকে পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য সামান্য কয়টা নম্বরই যথেষ্ট!

© Sohel R Rana

21/09/2026

সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা কত হওয়া উচিত? 🤔
৩২? ৩৫? ৩৮?
নাকি ৪০?
👉 আপনার মতে সঠিক বয়সসীমা কোনটি?

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় - এর নতুন  সার্কুলার প্রকাশিত,আবেদন শুরু :- ২৮ সেপ্টেম্বর ২৬ ইংএবং আবেদন শেষ :- ২৭ অক্টোবর ২৬ ইং।
21/09/2026

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় - এর নতুন সার্কুলার প্রকাশিত,

আবেদন শুরু :- ২৮ সেপ্টেম্বর ২৬ ইং
এবং আবেদন শেষ :- ২৭ অক্টোবর ২৬ ইং।

নতুন বেতন স্কেলে কত বেতন পাবেন? দেখুন❕
21/09/2026

নতুন বেতন স্কেলে কত বেতন পাবেন? দেখুন❕

20/09/2026

বিসিএসের প্রস্তুতি কখন শুরু করবেন?
নতুনদের জন্য প্রস্তুতির সঠিক সময়, কৌশল ও করণীয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।
— ফয়সাল মোস্তাফিজ
৪৯তম বিসিএস (শিক্ষা) | মেধাক্রম: ৪র্থ

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Smart Sohay Job posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Smart Sohay Job:

Shortcuts

Share