31/03/2026
জনসচেতনতা মূলক পোস্ট 🙏🙏🙏
বর্তমানে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের মধ্যে হামের (Measles) প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে।এই রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।
♦হাম কেন এবং কীভাবে হয়?
হাম মূলত একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা Measles Virus(Morbillivirus,Family:Paramyxoviridae) দ্বারা হয়।
♦ সংক্রমণ:
এটি মূলত হাঁচি, কাশি বা আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শের মাধ্যমে বাতাসের সাহায্যে ছড়ায়।
এমনকি আক্রান্ত শিশু একটি ঘর থেকে চলে যাওয়ার ২ ঘণ্টা পরও সেই বাতাসে ভাইরাসের অস্তিত্ব থাকতে পারে।
♦ ইনকিউবেশন পিরিয়ড (সুপ্তিকাল):
ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর লক্ষণ দেখা দিতে সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে। তবে গড়ে ৭ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত এটি হতে পারে। মনে রাখবেন, শরীরে র্যাশ বা দানা ওঠার ৪ দিন আগে থেকেই আক্রান্ত শিশু অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে।
♦ লক্ষণ ও সাইন-সিম্পটম (Signs & Symptoms):
১. তীব্র জ্বর (১০৩° - ১০৫° ফা.)।
২. কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হয়ে জল পড়া (Conjunctivitis)।
৩. মুখের ভেতর ছোট ছোট সাদাটে দাগ (Koplik's Spots)।
৪. জ্বরের ৩-৪ দিন পর কান ও মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ ছড়িয়ে পড়া।
♦ চিকিৎসা ও প্রতিকার (Management):
হামের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টি-ভাইরাল চিকিৎসা নেই, তবে সঠিক সাপোর্টিভ কেয়ার জরুরি:
*পর্যাপ্ত বিশ্রাম: শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা (Isolate) রাখুন।
*তরল খাবার: প্রচুর পরিমাণে পানি, ওরস্যালাইন ও তরল পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন। খাওয়া কোনভাবেই বন্ধ করা যাবে না নয়তো সে শুধু বল হয়ে যাবে ৷
*ভিটামিন এ (Vitamin A): বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ ক্যাপসুল সেবন করান। এটি জটিলতা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
*জ্বর নিয়ন্ত্রণ: প্যারাসিটামল দিয়ে জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা।
♦ কখন শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে?
যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করান:
*শিশু খাবার দেওয়া একেবারে বন্ধ করে দিলে ,দুর্বল হয়ে গেলে
*শিশু যদি শ্বাসকষ্টে ভোগে (নিউমোনিয়ার লক্ষণ)।
*ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা প্রচণ্ড মাথাব্যথা।
*খিঁচুনি হওয়া বা শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়লে।
*বারবার বমি বা প্রচণ্ড ডায়রিয়া হয়ে পানিশূন্যতা দেখা দিলে।
*চোখের মনিতে কোনো সাদা দাগ বা ঘা দেখা দিলে।
♦সতর্কতা: হাম প্রতিরোধে এমআর (MR) টিকা সবচেয়ে কার্যকর। আপনার শিশুর টিকার ডোজ সময়মতো সম্পন্ন হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন।
নিজে সচেতন হোন, অন্য মায়েদেরও সচেতন করুন। আপনার সামান্য সতর্কতা বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি শিশুর প্রাণ।