21/07/2023
যেভাবে ইউসুফ (আ.) নারী ফিতনা থেকে বেঁচেছিলেন
ইউসুফ (আ.) যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা সহজ কোনো ব্যাপার ছিল না। তিনি একজন পূর্ণবয়স্ক যুবক। আর সুন্দরী, রূপবতী ও সম্ভ্রান্ত নারী জুলাইখা স্বেচ্ছায় তাঁর কাছে নিজের যৌবন উপস্থাপন করছে; জানাচ্ছে অবৈধ প্রেমের প্রস্তাব। এই কঠিন মুহূর্তে ইউসুফ (আ.) কেবল আল্লাহর ভয়ে তার এই কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইউসুফ (আ.) কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। এ সময় জিবরাইল (আ.) এসে বললেন—'আপনি দরজার দিকে দৌড়ান।' ইউসুফ (আ.) বললেন- 'দরজাগুলো তো সবই তালাবদ্ধ।' জিবরাইল (আ.) বললেন, 'আপনি দৌড়ান।' ইউসুফ (আ.) জুলাইখার নাগপাশ ছিন্ন করে ঊর্ধ্বশ্বাসে দরজার দিকে ছুটতে লাগলেন। জুলাইখাও পেছন থেকে ইউসুফ (আ.)-কে ধরার জন্য দৌড়াতে শুরু করল।
দরজাগুলোতে বড়ো বড়ো তালা ঝুলছে জেনেও ইউসুফ (আ.) শেষ চেষ্টা হিসেবে ঈমান বাঁচাতে প্রাণপণে দরজার দিকে ছুটেছিলেন। তিনি জানতেন দরজাগুলো লক করা। তারপরও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রতি তাওয়াক্কুল করে তিনি সামনের দিকে ছুটেছিলেন। আর আল্লাহ তায়ালাও তাঁর বান্দার প্রতি সদয় হয়ে দরজার তালা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। ঠিক এভাবেই আল্লাহ তায়ালার সাহায্য আসার আগপর্যন্ত আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে।
সাহায্য আসে পরে, আগে চেষ্টা করতে হয়। আমরা অনেক সময় হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্তির আশায়। আমরা ভুলে যাই—আমাদের রোলটুকু আগে প্লে করতে হবে, তারপর সাহায্য আসবে।
এখান থেকে আমরা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস শিখতে পারি, তা হলো—ইউসুফ (আ.) যেমনি ওই জায়গা থেকে ছুটে চলে এসেছিলেন, তেমনি এমন পরিস্থিতির শিকার হলে বর্তমানেও প্রত্যেক যুবককে আল্লাহর সাহায্য চেয়ে ছুটতে হবে ঈমান বাঁচানোর তাগিদে। এটাই ঈমান বাঁচানোর ঢাল বা রক্ষাকবচ। ইউসুফ (আ.) যদি সেই 'বুরহান' তথা আসমানি জ্যোতির বিশেষনিদর্শন না দেখতেন, তাহলে তিনিও জুলাইখার প্রস্তাবে ঝুঁকে পড়ার উপক্রম হতেন। মানবীয় অন্তরে এই অনিচ্ছাকৃত সামান্য ঝোঁক সৃষ্টি হতেই পারে। আর আসমানি সেই জ্যোতির ব্লুপ্রিন্ট প্রতিটি বিশ্বাসীর অন্তরে আছে। সেটাকে ওই মুহূর্তে জাগ্রত করতে হবে এবং দৌড়ে পালাতে হবে।
এটা বর্তমান সময়ের যুবক-যুবতিদের জন্যও বেশ কার্যকর। যুবক -যুবতিরা আজকাল অনলাইনে বিভিন্ন সাইট ব্রাউজ করে অথবা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহার করে থাকে। হঠাৎ যদি অশ্লীল কন্টেন্ট চোখের সামনে পড়ে যায় কিংবা অশ্লীল কোনো ওয়েবসাইটের লিংক সামনে আসে, মন চায় ক্লিক করতে। কিন্তু না, ভুলেও তা করা যাবে না। ক্লিক করলেই সর্বনাশ। সুতরাং দ্রুতই সরে আসতে হবে সেখান থেকে।
আবার গাইরে মাহরাম কোনো নারী যখন ইনবক্সে খারাপ ম্যাসেজ পাঠায়, তখন ওই অ্যাপস সাথে সাথে বন্ধ করতে হবে এবং ওই জায়গা | ত্যাগ করতে হবে, 'আউজু বিল্লাহি মিনাস শাইতনির রাজিম' পড়তে পড়তে ওই জায়গা ত্যাগ করতে হবে। ইউসুফ (আ. ) যেমনি দৌড় দিয়েছেন, তেমনি দৌড়ে সরে যেতে হবে ওই স্থান থেকে। শয়তান যে জায়গায় কুমন্ত্রণা দেয়, রাসূল (সা.) ওই জায়গা তৎক্ষণাৎ ত্যাগ করতে বলেছেন। নিভৃতকক্ষে শয়তানের প্ররোচনা রুখতে এবং নৈতিক পদস্খলন থেকে বাঁচার এটাই কুরআনিক ফর্মুলা।
- ড. মিজানুর রহমান আজহারি
শাইখের নতুন বই 'রিফ্লেকশন ফ্রম সূরা ইউসুফ' থেকে চয়িত।
25/02/2023
30/11/2022
30/11/2022