প্রয়োজনের সময় বহুত উপকারে আসবে টাইম লাইনে রেখে দিন,খতমে খাজেগান পড়ার নিয়ম:
১। ইস্তেগ্ফার- ১১বার
২। সূরা ফাতিহা- ১০০ বার
৩। দরূদ শরীফ- ১০০ বার
৪। সূরা আলাম নাশরাহ- ৭৯ বার
৫। সূরা ইখলাছ- ১০০০ বার
৬। পুনরায় সূরা ফাতিহা- ৭বার
৭। পুনরায় দরূদ শরীফ- ১০০বার
৮। তারপর এই দোয়া (একশত বার): فَسَهِّلْ يَا اِلٰهِىْ كُلَّ صَعْبٍ بِحُرْ مَتِ سَيِّدِ الْاَ بْرَارِ سَهِّلْ سَهِّلْ بِفَضْلِكَ يَاعَزِيْزُ
উচ্চারণ: ফাসাহ্হিল ইয়া ইলাহি কুল্লা ছা’বিন বিহুরমাতি সায়্যেদিল আবররি সাহ্হিল- সাহ্হিল বিফাদ্বলিকা ইয়া আজীজ। অত:পর
৯। يَا قَاضِىَ الْحَاجَاتْ ইয়া ক্বদ্বিয়াল হাযাত- ১০০বার
১০। يَا كَفِىَ الْمُهِمَّاتْ ইয়া কাফিয়াল মুহিম্মাত- ১০০বার
১১। يَا دَافِعَ الْبَلِيَّاتْ ইয়া দাফিয়াল বালিয়্যাত- ১০০বার
১২। يَا مُجِيْبَ الدَّعْوَاتْ ইয়া মুযিবাদ দা’ওয়াত- ১০০বার
১৩। يَا رَافِعَ الدَّرَجَاتْ ইয়া রাফিয়াদ্ দারযাত- ১০০বার
১৪। يَا حَلَّالَ الْمُشْكِلَاتْ ইয়া হাল্লালাল্ মুশ্কিলাত্- ১০০বার
১৫। يَا مُسَبِّبَ الْاَسْبَابْ ইয়া মুসাব্বিবাল আসবাব- ১০০বার
১৬। يَا شَافِي الْاَمْرَاضْ ইয়া শাফিয়াল আমরাজ- ১০০বার
১৭। يَا مُفَتِّحَ الْاَبْوَابْ ইয়া মুফাত্তিহাল্ আব্ওয়াব- ১০০বার
১৮। رَبِّ اِنِّىْ مَغْلُوْبٌ فَانْتَصِرْ রব্বি ইন্নি মাগ্লুবুন ফানতাছির- ১০০বার
১৯। يَا غَوْثُ اَغِثْنِىْ وَاَمْدُدْنِىْ ইয়া গউছু আগিছ্নী ওয়া আম্দুদ্নীয়া- ১০০বার
২০। اِنَّالِلّٰهِ وَاِنَّااِلَيْهِ رَاجِعُوْنْ ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন- ১০০বার
২১। لَااِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ سُبْحَانَكَ اِنِّىْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِيْنْ লা-ইলাহা ইল্লা আ আংতা সুব্হানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জোয়ালিমীন- ১০০বার
২২। فَاسْتَجَبْنَا لَهٗ وَنَجَّيْنٰهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذٰ لِكَ نُنْجِى الْمُؤْمِنِيْنْ ফাসতাজাবনা লাহু ওয়ানাজ্জাইনাহু মিনাল গম্মি ওয়া কাজালিকা নুনজিল মু’মিনীন- ১০০বার
২৩। يَا اَرْ حَمَ الرَّحِمِيْنْ ইয়া আরহামার রহিমিন- ১০০বার
২৪। অতঃপর ১০০বার দরূদ শরীফ পাঠ করে খতম শেষ করে খালেছ দিলে মুনাজাত করবে, ইনশাআল্লাহ্, আল্লাহপাক কবুল করবেন এবং এর ফলাফল প্রত্যক্ষ হতে থাকবে।
Jamiyatul As'ad Al Islamiya Institute
এটি শরীয়তে ইসলামিয়ার একটি উচ্চতর গ?
✍️✍️সম্মানিত দ্বীনদার মুসলিম ভাই ও বোন!!
এটি একটি সামগ্রিক পোস্ট হওয়ার কারণে পোস্টটি দীর্ঘায়িত হয়েছে,,, তবে জ্ঞানপিপাসুদের জন্য পোস্টটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্ঞাতব্য বিষয় রাখা হয়েছে। আপনি চাইলে পোস্টটি আদ্যোপান্ত পড়ে আপনার জ্ঞানের পরিধি সমৃদ্ধশালী করতে পারেন। আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুক।।
আজ জিলকদ্ব মাসের শেষ দিন। ধনী-গরিব প্রত্যেক মুসলমানের কোরবানির প্রস্তুতি আজ থেকেই শুরু। আমরা জানি, কোরবানি একটি আর্থিক ইবাদত। ১০ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কারো কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব; যার বিনিময়ে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের অগণিত সওয়াব প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। তাই কারো কারো মনে হতে পারে, এটি শুধু ধনীদের ঈদ। আর্থিকভাবে অসচ্ছলরা তো কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না। তারা এই সওয়াব কিভাবে অর্জন করবে? মহান আল্লাহ এতটাই দয়ালু যে তিনি ধনী-গরিব সবার জন্যই কোরবানির সওয়াব লাভের সুব্যবস্থা রেখেছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার আগ থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। যদি কেউ সে অনুযায়ী আমল করে, তবে সেও কোরবানির পূর্ণ বরকত অর্জন করতে পারবে। তা হলো, জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানির আগ পর্যন্ত নিজের নখ, চুল, গোঁফ, নাভির নিচের পশম ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকা। এটি মুস্তাহাব আমল।
হজরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যদি জিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে পাও আর তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন স্বীয় চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯৭৭)
যারা কোরবানি করতে সক্ষম নয় তারাও এই আমল পালন করতে পারে। অর্থাৎ নিজের চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকবে। কেননা কোনো অসচ্ছল লোক যদি এ দিনগুলোতে চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি না কেটে ঈদের দিন কাটে, তবে তাদের পূর্ণ কোরবানির সওয়াব দেওয়া হবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আমি কোরবানির দিন সম্পর্কে আদিষ্ট হয়েছি (অর্থাৎ এই দিনে কোরবানি করার আদেশ করা হয়েছে।) আল্লাহ তাআলা তা এ উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি আরজ করল, হে আল্লাহর রাসুল, যদি আমার কাছে শুধু একটি মানিহা থাকে অর্থাৎ যা শুধু দুধপানের জন্য দেওয়া হয়েছে? আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন, না; বরং সেদিন তুমি তোমার চুল কাটবে, নখ কাটবে, গোঁফ ও নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটিই আল্লাহর কাছে তোমার পূর্ণ কোরবানি বলে গণ্য হবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৫৭৫)
উক্ত হাদিসে রাসুল (সা.) কোরবানি করতে অসক্ষম ব্যক্তিরাও যেন সচ্ছল মুসলমানদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ও খুশি উদ্যাপনে অংশীদার হতে পারে, সেই রাস্তা বাতলে দিয়েছেন। তারা এই ছোট্ট আমলটির মাধ্যমেও পরিপূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হবে। অনুরূপভাবে হাজিদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী হবে। মহান আল্লাহ এতটাই মহান যে তিনি তাঁর কোনো বান্দাকেই নৈরাশ করেননি। সব প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। করে পোস্ট টি পড়ার চেষ্টা করবো যদি আমল করতে পারি ইনশাআল্লাহ আমারা কোরবানি করার ছাওয়াব
পাবো■জিলহজ্ব মাসের গুরুত্ব■
চাঁদের উপর ভিত্তি করে আরবি মাসের গণনা শুরু হয়। মোট ১২টি মাসের মাঝে চারটি মাসকে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু তায়ালা সম্মানিত মাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে জিলহজ্ব মাস অন্যতম।
পুরো জিলহজ্ব মাস গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ মাসের প্রথম ১০ দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। পবিত্র কোরআনের সূরায়ে ফজরের শুরুতে আল্লাহ্ তায়ালা এই বলেন- “কসম প্রভাতের এবং ১০ রাতের।” (সুরা : ফজর, আয়াত : ১-২)
এখানে যে ১০ রাতের কথা বলা হয়েছে, তা কোন কোন তাফসিরকারক এ আয়াতের মাধ্যমে জিলহজের প্রথম ১০ রাতকে বুঝিয়েছেন বলে মনে করেন (তাফসিরে ইবনে কাসির, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৩৫)।
জিলহজ্ব মাসের প্রথম ১০ দিন সম্পর্কে হাদিস শরিফে এসেছে- রাসূল ই পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার নিকট জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের ইবাদত অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয় আর কোন ইবাদত নেই। [সহিহ্ বুখারী খণ্ড ২, ৪৫৭]
এই ১০ দিনের মধ্যে শেষের দু'দিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যাকে হাদিসের পরিভাষায় 'ইয়াওমে আরাফা' ও 'ইয়াওমে নাহর' বলা হয়। এ ছাড়াও দুটি ইবাদত এ মাসের প্রথম দশককে বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত করে তোলে। যে দুটি ইবাদত জিলহজ্ব মাস ছাড়া অন্য কোনো মাসে আদায় করা সম্ভব নয়-
১. একটি হলো- হজ্ব
২. অপরটি হলো কোরবানি
■আরাফার দিন■
এছাড়াও এ মাসে আছে -‘আরাফাহ্ ‘এর দিন। যেদিন ইসলাম হয়েছে পরিপূর্ণ। আল্ কুরআনে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আল আমিন বলেছেন- “আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। “[সূরা মায়িদা ৩]
■আরাফার দিন রোজা■
আরাফার দিন রোজা রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আমি আল্লাহ্ সুবাহনহুতালার কাছে আশাবাদী, আরাফার দিনের রোজা আগের ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ (মুসলিম)। তবে আরাফায় অবস্থানকারী হাজিদের জন্য রোজা রাখা মুস্তাহাব নয়। কেননা রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফায় অবস্থান করেছিলেন রোজাবিহীন অবস্থায়।
■হজ্ব ও ওমরাহ সম্পাদন করা■
হজ্ব ও ওমরাহ এ দুটি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-“এক ওমরাহ থেকে আরেক ওমরাহ মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারাস্বরূপ আর কবুল হজের প্রতিদান কেবলই জান্নাত।’ (বুখারি, হাদিস : ১৭৭৩; মুসলিম, হাদিস : ৩৩৫৫)
■তাকবির ও তাসবিহ পড়া■
রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘এ ১০ দিনে নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহ্ সুবাহহুনতালার কাছে বেশি প্রিয় ও মহান কোনো আমল নেই। তাই এই দিন গুলোতে তাকবির (আল্লাহু আকবার),
তাহমিদ (আলহামদু লিল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাসবিহ (সুবহানল্লাহ) পড়া সুন্নত। (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান, হাদিস : ৩৪৭৪)
তাকবীরে তাশরীক বলা- যিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখের ফজর থেকে ১৩ তারিখের আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর একবার তাকবীর বলা ওয়াজিব। পুরুষের জন্য আওয়াজ করে, আর মহিলাদের জন্য নীরবে। তাকবীর হল- আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ”।
{ফাতওয়া শামী-তৃতীয় খন্ড, ৬১ পৃষ্ঠা, সালাত অধ্যায়, ঈদ পরিচ্ছেদ, ইলাউস সুনান, সালাত অধ্যায়, তাকবীরাতুত তাশরীক পরিচ্ছেদ, ৮ম খন্ড, ১৪৮ পৃষ্ঠা}
■জিলহজ্বের চাঁদ ওঠার পর করণীয়■
জিলহজ্ব মাসের চাঁদ উঠার পর থেকে কোরবানি করার পূর্ব পর্যন্ত, চুল, গোঁফ, নখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানের লোম বা পশম না কাটা মুস্তাহাব।
এ সম্পর্কে উম্মে সালমা রাদওয়ানুতালা আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে- নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি জিলহজ্বের চাঁদ দেখে এবং কোরবানির ইচ্ছা করে, সে যতক্ষণ কোরবানি না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত যেন চুল বা নখ না কাটে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৬৫৬)। তবে এ আমল মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়।
■কোরবানি আদায় করা■
যাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব তারা অবশ্যই কোরবানি আদায় করবেন। ১০, ১১ অথবা ১২ ই যিলহজ্বের যে কোন একদিন, কোন ব্যক্তির মালিকানায় যদি নিত্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ, অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা এর সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। পুরুষ-মহিলা সকলের উপরই এ বিধান প্রযোজ্য। {ফাতওয়া শামী-৯/৪৫৩, ৪৫৭ ফাতওয়া আলমগীরী-৫/২৯২, সুনানে ইবনে মাজাহ-২২৬}
আর যাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তাদেরও কোরবানি করার চেষ্টা করা উচিত। আগ্রহ ও ইচ্ছা থাকলে নিঃস্ব ব্যক্তিকেও আল্লাহ্ সুবাহহুনতালা সামর্থ্যবান করে দিতে পারেন। বাহ্যিক সামর্থ্য ও আর্থিক সচ্ছলতা তো আল্লাহ্ সুবাহহুনতালার হাতে। সে কারণেই কোরবানি ওয়াজিব না হলেও কোরবানি করার চেষ্টা করা উচিত।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সক্ষমতা থাকা সত্বেও কুরবানী করলো না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে। {সুনানে ইবনে মাজাহ-২২৬}
■সংক্ষেপে ৫টি আমল■
জিলহজ্ব মাসের ৫টি বিশেষ আমল-
১. প্রথম ১০ দিনে নফল রোযা ও রাতে ইবাদত করা
২. চুল-নখ না কাটা (চাঁদ উঠা থেকে শুরু করে কোরবানী করা পর্যন্ত)
৩. আরাফার দিন রোজা রাখা ও ইবাদতের মাধ্যমে সময় ব্যায় করা।
৪. তাকবীরে তাশরীক বলা (৯ জিলহজ্ব থেকে-১৩ জিলহজ্ব পর্যন্ত) পর্যন্ত।
৫. স্বচ্ছল ব্যক্তির জন্য কুরবানী করা।
# #সর্বশেষ আপনাদের সহজতার জন্য কোরবানির গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসায়েল পেশ করছি: আশা করি আপনি আমাদের দেওয়া মাসায়েলগুলো জেনে উপকৃত হবেন এবং আমাদের জন্য দো'আ করবেন ।
কুরবানীর জরুরি ৬৬ টি মাসয়ালা!
________________________________________________
১.কার উপর কুরবানী ওয়াজিব?
উঃ জিলহজ্জ মাসের ১০ সুবহে সাদিক থেকে১২ তারিখ
সূর্যাস্ত পর্যন্ত কারো কাছে যদি নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে ৭ঃ৫ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা থাকে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।
২.নিছাবের মেয়াদ কত দিন?
উঃ ৩ দিন, জিলহজ্জ মাসের ১০,১১ এবং ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
৩. তিন দিনের মধ্যে কোন দিন কুরবানী করা উত্তম?
উঃ ১০ তারিখে প্রথম দিন।
৪.যদি নাবালক এর নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ?
উঃ না।
৫.বালেক সুস্থ মস্তিষ্ক না নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ?
উঃ- না
৬.যদি নাবালেক এর নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে এর পক্ষে থেকে কুরবানী দেওয়া কি?
উঃ মুস্তাহাব, ওয়াজিব না।
৭.দরিদ্র লোকের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব?
উঃ- না, তবে যদি কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে
তখন সে পশু কুরবানী করা ওয়াজিব।
৮.কেউ যদি কুরবানির দিন গুলোতে কুরবানির দিতে না পারে তাহলে কি করবে, যদি সে নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে, কোন সমস্যায় দিতে পারে নি তাহলে কি করবে?
উঃ-একটা ছাগল যে কুরবানী উপযুক্ত সে ছাগলের সমপরিমাণ টাকা সদকা করে দিবে ন এটা হলো যারা পশু ক্রয় করতে পারেনি তাদের জন্য।
কিন্তু যারা পশু কিনেছেন কিন্তু তিন দিনের মাঝে কুরবানী দিতে পারেন নি তাহলে তার জন্য করণীয় হলো সে পশু সদকা করে দেওয়া।
আবার যদি কেউ তিন দিন পর জবাই করে ফেলে তাহলে সে ঐ পশুর গোশত ওজন করবে তারপর যদি ঐ পশুর ক্রয়ের টাকা থেকে কম হয় তাহলে গোশত সহ
যতো টাকার গোশত কম হয়েছে পুরো টাই সদকা করতে হবে। ধরনে আপনি ২০ হাজার দিয়ে কিনেছেন ওজন দিয়ে দেখলেন ১৮ হাজার টাকার গোশত হয়েছে
গোশতের আরও ২ হাজার টাকা সদকা করতে হবে।
৯.প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে?
উঃ যে এলাকায় জুমার নামাজ,এবং ঈদের নামাজ ওয়াজিব সে এলাকায় ঈদের নামাজের আগে কুরবানী করা জায়েজ নেই। তবে কোন প্রকার দুর্ঘটনা ঘটে গেলে
যদি ঈদের নামাজ না পড়া যায় তাহলে করনীয় হলো সূর্য মধ্যে আকাশ অতিক্রম করার পর কুরবানী করা জায়েজ হবে।
১০.রাতে কুরবানী দিলে কি হবে?
উঃ ১০,১১ তারিখে রাতে দিলে হবে ১২ তারিখ রাতে দিলে হবে না।
১১.কোন কোন পশু দিয়ে কুরবানী দেওয়া জায়েজ?
উঃ- গরু,উট,মহিষ,দুম্বা, ছাগল এবং ভেড়া।
১২.পশু দের লিঙ্গ ভেদ করতে হবে কি?
উঃ- না, পুরুষও মহিলা উভয় দিয়ে হবে।
১৩.পশুর বয়স সীমা কত?
উঃ উট কম পক্ষে ৫ বছর,গরু মহিষ ২ বছর
ভেড়া, দুম্বা ছাগল ১ বছর।
ভেড়া এবং দুম্বা ১ বছর হয়নি তবে বলিষ্ঠ মনে হয়
যে এক বছর হয়েছে তাহলে এটা দিয়ে কুরবানী হবে।
তবে ছাগল ১ বছরের নিচে কোন ভাবে হবে না।
১৪.শরীক সর্বোচ্চ কত জন হওয়া যাবে?
উঃ উট,গরু,মহিষে সর্বোচ্চ ৭ জন কমে হলে সমস্যা নেই তবে একা দেওয়া উত্তম । ছাগল, দুম্বা, ভেড়া তে একজন।
১৫.গোশত ভাগে কম বেশি হলে?
উঃ- কারো কুরবানী সহীহ হবে না।
১৬. শরীকের মাঝে কেউ যদি গোশত খাওয়ার নিয়তে দেয় তাহলে?
উঃ- কারো কুরবানী হবে না।
১৭.কুরবানীর পশুতে আকিকা দেওয়া যাবে?
উঃ- হ্যাঁ, তবে উট, গরু,এবং মহিষে।
১৮. শরীক দার দের মাঝে যদি কারো অধিকাংশ বা পুরা টাকা হারাম হয় তাহলে কি কুরবানী হবে?
উঃ- না না না! কারো কুরবানী হবে না।
১৯. গরু, মহিষ উট একা কুরবানী নিয়তে কিনার অন্য কাউকে কি শরীক করা যাবে?
উঃ- ধনী হলে পারবে অর্থাৎ যার উপর ওয়াজিব , তবে গরিব ওয়াজিব না কুরবানী তার উপর। পশু কিনে ফেলছে কুরবানীর নিয়তে তাহলে শরীক করা যাবে না একাই দিতে হবে।
২০.কোন ধরনের পশু নির্বাচন করা উত্তম?
উঃ- রিষ্ট পুষ্ট, তাজা পশু নির্বাচন করা সুন্নত।
২১.যে পশু তিন পায়ে ভর করে চলে এমন পশু ধারা কি কুরবানী হবে?
উঃ- না
২২.রোগ্ন পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?
উঃ- না
২৩.দাঁত ছাড়া পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?
উঃ একটা দাত নেই এটা কোন ভাবেই হবে না ,অথবা কিছু আছে তবে ঘাস খেতে পারে না এমন পশু ধারা কুরবানী হবে না।
২৪. শিং ছাড়া পশু দিয়ে কুরবানী হবে কি ?
উঃ জন্মগত যে পশুর শিং নেই সেটা ধারা হবে।
তবে পরবর্তীতে যেটা ভেঙ্গে যায় আর তার ফলে মস্তিষ্কে ক্ষতি হয় এমন পশু ধারা হবে না। তবে অর্ধে হলেও হবে।
২৫.লেজ কাটা, কান কাটা পশু দিয়ে কুরবানি হবে কি?
উঃ যদি পশুর লেজ বা কান অর্ধেক বা তার বেশি কাটা হয় তাহলে সে পশু ধারা কুরবানী হবে না।
তবে অর্ধেকের কম হলে হবে।
২৬.অন্ধ পশু ধারা কুরবানী করা যাবে কি?
উঃ- না তবে যে পশুর এক চোখ ও অন্ধ সেটা দিয়েও হবে না।
২৭.কুরবানীর নিয়তে পশু ক্রয় করার পর হারিয়ে গেলে দাতা কি করবে?
উঃ- ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন।
এবং গরিব ওয়াজিব নয় এমন ব্যক্তি ক্রয় করতে হবে না
তবে কিনার পরে যদি আবার প্রথম পশু ফিরে পাওয়া যায় তাহলে ধনী ব্যক্তি যেকোন একটা কুরবানী করলে হবে, তবে দুটা করা উত্তম একটা করলেও হবে।
** আর গরিব ব্যক্তি যদি হয় তাহলে দুটাই দিতে হবে।
দুটাই দেওয়া তখন ওয়াজিব।
২৮.গর্ভবতী পশু কুরবানী করা কি জায়েজ আছে?
উঃ- হ্যা জায়েজ।
২৯.পশু জবাইয়ের পরে যদি বাচ্চা কে জীবিত পাওয়া যায় তাহলে কি করবে?
উঃ- বাচ্চা ও জবাই দিতে হবে।
৩০.জবাইয়ের আগ মুহূর্তে যদি পশু প্রসব অবস্থায় উপনীত হয় তখন করনীয় কি?
উঃ- সে পশু জবাই করা জায়েজ আছে, তবে মাকরূহ!
৩১.পশু ক্রয় করার পর যদি এমন কোন দোষ দেখা যায় যে দোষ গুলো থাকিলে কুরবানী হয় না তখন করনীয় কি?
উঃ- এই পশু ধারা কুরবানী হবে না।
তবে এখানে গরিব ব্যক্তির জন্য জায়েজ আছে
ধনী ব্যক্তির জন্য জায়েজ নয়।
৩২.আপনি কোন পশু ক্রয় করার সময় জিজ্ঞেস করলেন বয়স কত সে বললো ২ বছর যদি সেটার আসলে বয়স ২ বছর না হয় তখন কি করনীয় বা কুরবানী কি হবে?
উঃ- হ্যা হবে তবে যে বিক্রেতা মিথ্যা বলেছে তার গুনা হবে।
৩৩.পশু কোথায় জবাই করা উত্তম?
উঃ- যেখানে পরিবেশ দূষিত হওয়ার আশংকা কম থাকে।
৩৪. পশু কে জবাই করা উত্তম?
উত্তমঃ- নিজের পশু নিজে কুরবানী করা উত্তম।
৩৫.বন্ধা পশু ধারা কুরবানী হবে কি?
উঃ- হ্যা হবে ।
৩৬.অনেক সময় হুজুর জবাই করার পর দেখা যায় সম্পূর্ণ হয় নি আবার অন্য জন তরবারি হাতে নিয়ে
রগ বা শিরা কাটতে যায় এটা কি জায়েজ হবে?
উত্তরঃ- হ্যা জায়েজ আছে তবে উভয় ব্যক্তি বিসমিল্লাহি আল্লাহ আকবার না বললে কুরবানী হবে না।
একজন যদি না বলে সেক্ষেত্রে ও কুরবানী বাতিল হয়ে যাবে।
৩৭. কুরবানীর পশু ধারা উপকৃত হওয়া যাবে কি?
উঃ না এটা কোন ভাবে জায়েজ নেই।
৩৮.কুরবানীর পশু ধারা যদি আপনি হাল চাষ করে ফেলেন সেক্ষেত্রে করনীয় কি?
উঃ অন্য পশু ধারা করলে যে পারিশ্রমিক আসত সে পরিমান টাকা সদকা করে দেওয়া।
৩৯.কুরবানির পশুর,দুধ পান করা যাবে কি?
উঃ- না
৪০. যদি পশুর জবাইর আগে মন হয় দুধ দহন না করলে পশুর কষ্ট হবে তাহলে করনীয় কি?
উঃ- সে দুধ দহন করে সদকা করে দিতে হবে.
ভুলে খেয়ে ফেললেন তখন যে পরিমাণ পান করেছেন সে পরিমাণ অর্থ সদকা করতে হবে।
৪১.পশু ক্রয় করার পর শরীক মারা গেল তখন কি করবে?
উঃ- তার ওয়ারিশ রা যদি বলে কুরবানী করেন তাহলে
করতে পারবেন, আর যদি বলে না করতে পারবেন না তাহলে টাকা দিয়ে দিতে হবে।
তবে চাইলে পরবর্তী আরেক জন শরীক করতে পারবেন।
৪২.জবাইয়ের আগে পশু বাচ্চা দিলে কি করবেন?
উঃ- ঐ বাচ্চা জীবিত সদকা করে দিতে হবে।
সদকা না করলে পশুর সাথে জবাই করতে হবে।
এখানে জবাই করা বাচ্চার গোশত সদকা করে দিতে হবে, আপনে খেতে পারবেন না।
৪৩.মৃত্যু ব্যক্তির পক্ষ থেকে কি কুরবানী করা যাবে?
উঃ- হ্যা করা যাবে, তবে উসিয়ত করে গেলে গোশত সদকা করে দিতে হবে। উছিয়ত না করলে আপনে খেতে পারবেন।
৪৪.তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত রাখা যাবে?
উঃ- হ্যা রাখা যাবে যতো দিন ইচ্ছে!
৪৫.অনুমান করে বন্টন করা কি জায়েজ আছে?
উঃ- না, পূর্ণ ওজন করে ভাগ করতে হবে।
৪৬. তিনের এক অংশ গরীব কে দেওয়া, যদি সেটা না দেই তাহলে কি কুরবানী হবে? (আমরা যেটা কে সমাজের গোশত বলি)
উঃ- হ্যা হবে তবে সেটা বড় কৃপ্রনতার পরিচয়।
৪৭.গোশত চর্বি বিক্রি করা যাবে কি?
উঃ- না।
৪৮.জবাইকারী বা কসাই কে গোশত দিয়ে পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে কি?
উঃ না টাকা দিতে হবে, তবে পরে হাদিয়া হিসেবে গোশত দিতে পারবেন আগে পারিশ্রমিক দিতে হবে।
৪৯. জবাই করার অস্র কেমন হতে হবে?
উঃ দাড়ালো উত্তম।
৫০. জবাইয়ের কত সময় পর চামড়া আলাদা করা যাবে?
উঃ- নিসতেজ হওয়ার পর পশু।
৫১.এক পশু কে অন্য পশুর সামনে জবাই করা যাবে কি?
উঃ- যাবে তবে ঠিক না নবী কারীম সাঃ নিষেধ করেছেন?
৫২.কুরবানীর গোশত অন্য র্ধমের ব্যক্তি কে দেওয়া যাবে কি ?
উঃ- হ্যা তাতে কোন সমস্যা নেই।
৫৩.পশু মারা গেলে অথবা ছিনতাই হয়ে গেলে কি করনীয়?
উঃ- ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন।
গরিব হলে লাগবে না।
৫৪.মুসাফির এর উপর কুরবানী করা কি ওয়াজিব?
উঃ না।
৫৫.কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করলে কি করনীয়?
উঃ- ঐ ব্যক্তি থেকে অনুমতি নিতে হবে।
৫৬.কুরবানী গোশত খাওয়া কি?
উঃ- মুস্তাহব, না খেলেও গুনা হবে না। তবে খাওয়া উত্তম।
৫৭.কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তি যদি ঋণ নিয়ে কুরবানী করে কুরবানী হবে কি?
উঃ হবে তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে করলে হবে না।
৫৮.হাজীরা যদি মুসাফির থাকে তখন তাদের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব?
উঃ- না।
৫৯.পাগল পশু ধারা কুরবানী কি হবে?
উঃ- না।
৬০.নবী কারীম সাঃ এর পক্ষ থেকে কুরবানী করা কি?
উঃ- উত্তম সামার্থ্যবান দের জন্য।
এটার গোশত সবায় খেতে পারবে।
৬১.খাসি কৃত পশু ধারা কুরবানী করা যাবে কি?
উঃ- হ্যা
৬২.বিদেশে অবস্থানে ব্যক্তির করনীয় কি?
উঃ- উনার পক্ষ থেকে দেশে কুরবানী দিলেও হবে
৬৩.পশুর চামড়া কি নিজে ব্যবহার করা যাবে?
উঃ- হ্যা,তবে বিক্রি করলে টাকা সদকা করতে হবে।
৬৪.জবাই কারী কে পারিশ্রমিক দিতে হবে কি?
উঃ উত্তম হাদিয়া দেওয়া।
৬৫.কুরবানীর দিনে মুরগী হাঁস জবাই করা যাবে কি?
উঃ- যাবে, তবে কুরবানী নিয়তে করা যাবে না।
৬৬. জীবিত ব্যক্তির পক্ষ হতে কুরবানী করা যাবে কি?
উঃ- হ্যা যাবে।
আলহামদুলিল্লাহ এই হলো ৬৬ টি মাসায়ালা
আল্লাহ সকল কে সঠিক নিয়ম মেনে কুরবানী করার তৌফিক দান করুন আমিন।
#বিশেষ দ্রষ্টব্য: হজ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞাতব্য বিষয়ে আপনাদেরকে অচিরেই জানাবো ইনশাআল্লাহ!
27/06/2022
দুনিয়া খুবই সস্তা, ধনী-ফকির, বাদশাহ উজির সকলেই এর মালিক বনে। কিন্তু জান্নাত খুবই দামি আর উচ্চ মূল্যের, নেক আমলকারী ব্যক্তি ছাড়া কেউ এর মালিক হতে পারে না।
21/06/2022
মনে রাখিও ধর্মব্যবসায়ীদের!
20/06/2022
পশ্চিমাদের প্রতিটি পরিভাষাকে 'ইসলামের সম্পত্তি' কিংবা 'ইসলামের সাথে আত্মীয়করণ করে বা ইসলামের অতীত' বানিয়ে প্রচার করা মূলত ইসলামী শিক্ষাকে পশ্চিমা চশমায় দেখার ফল। এটা আদর্শিক পরাজয় ছাড়া কিছুই নয়। চিন্তা করুন, শিল্প বিপ্লবের সময় পশ্চিমারা খ্রিস্টধর্ম ও তার পুরহিততন্ত্রের পরাজয় নিশ্চিত করে। কিন্তু তারা এই বিজয় অর্জন করার পথে কৌশল হিসেবে কখনোই খ্রিষ্টীয় পরিভাষা ব্যবহার করেনি এবং নিজেদের আদর্শিক প্রচার-প্রসারেও স্থান দেয়নি। এমনিভাবে উপনিবেশিক শক্তিগুলো যখন মুসলমানদের অঞ্চলের খিলাফত ব্যবস্থা ধ্বংস করেছিল, তখন তারা মুসলমানদের মাঝে নিজেদের স্থান করে নেওয়ার জন্য'গণতান্ত্রিক খিলাফত' কিংবা 'পশ্চিমা খিলাফাত'-এর মতো কোনো পরিভাষা ব্যবহার করেনি। বরং সর্বত্র নিজেদের আদর্শিক ও ঐতিহ্যবাহী পরিভাষা 'গণতন্ত্র' 'সেকুলারিজম' - এর প্রচলন ঘটিয়েছে। তাহলে মুসলমানরা কেন পৃথিবীতে নিজেদের স্থান করে নিতে এসব পাশ্চাত্য শব্দের আশ্রয় নিবে? আমাদের এতোটুকু সাহস কি নাই যে, আমরা পশ্চিমা পরিভাষা প্রত্যাখ্যান করে তার স্থলে ইসলামী পরিভাষা ও চেতনাভিত্তিক মর্মের প্রসার ঘটাব? এটা না পারা আমাদের আদর্শিক পরাজয়ের দলিল। মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে আমরা পরাজিত। রাজনৈতিক বিজয়ের প্রথম শর্তই হচ্ছে চিন্তাযুদ্ধে বিজয়ী থাকা। এটা ছাড়া বিজয়ের কল্পনা করা যায় না।
বই: হিউম্যান বিয়িং, শতাব্দীর বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব।
17/06/2022
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka
1219