CNCr - Center for Neutral & Comparative research.

CNCr - Center for Neutral & Comparative research.

Share

Free Research Based On Intelligence Can Lead To The Coup Of True & beauty.It Is Possible Not To Disp

26/11/2021

বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষে বইসই আয়োজন করতে যাচ্ছে নজরুল সেমিনার৷ দেশের বরেণ্য নজরুল গবেষকগণ এ সেমিনারে বক্তব্য রাখবেন৷ জানা যাবে কবি সম্পর্কে অজানা সব কথা। অডিয়েন্স সংখ্যা সীমিত। তাই চমৎকার প্রোগ্রামটি মিস না করতে চায়লে দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করে ফেলুন৷ রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় ৩ ডিসেম্বর।

সেমিনার ১১ ডিসেম্বর, শনিবার।
ভেন্যু : বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র অডিটোরিয়াম, বাংলা মোটর, ঢাকা।

নজরুল সেমিনার অডিয়েন্স রেজিস্ট্রেশন ফর্ম-
https://forms.gle/bjhJgTnk5b8Gaydz8

30/05/2021

**বিদআত ও কুরআনিক বিশ্লেষণ।
--মুহাম্মদ আব্দুল আলিম

মানুষ যত জ্ঞানীই হোক না কেন, স্তরের তারতম্য অনুযায়ী প্রত্যেকেরই মন-মগজে কিছু জটলা থাকে। সেখানের মধ্যে কিছু আমাদের নিত্য কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। তৈরি করে দৈনন্দিন জীবনে অসামঞ্জস্যতা ও দ্বন্দ্ব। তার মধ্যে বিদআত একটি। আমাদের মধ্যে এই জটলার প্রস্তুতকারক হলো কিছু মোল্লা ইনশাআল্লাহ, এই সংক্ষিপ্ত আলোচনাটি বিদআতের জটলা থেকে আপনাকে মুক্ত করবে।

আল্লাহ বলেন, "আমি কিতাবে কোনো কিছুই (লিপিবদ্ব করতে) বাদ দেয়নি।” (৬ঃ৩৮)

কুরআনে বিদআত শব্দটি চারবার এসেছে(২ঃ১১৭, ৬ঃ১০১, ৪৬ঃ৯, ৫৭ঃ২৭)।
*২ঃ১১৭ এবং ৬ঃ১০১= "বাদীউুছ ছামাওয়াতে ওয়াল আরদী" অর্থাৎ তিনিই আকাশমণ্ডলী এবং পৃথিবীকে অস্তিত্বে আনয়নকারী।..।
*৪৬ঃ৯= " কুল মা কুনতু বিদআম মিনার-রাসূলী.." অর্থাৎ আপনি বলে দিন, "(মানুষের প্রতি) আমিই প্রথম কোনো রাসূল নই (যে, আমার পূর্বে রেসালতের কোনো দৃষ্টান্তই নেই).."
*৫৭ঃ২৭= অতঃপর আমরা এ রাসূলগনের পদচিহ্ন অনুসরণে প্রেরণ করেছি (অন্যান্য) রাসূলগণকে, তাদের অনুগামী করেছি মারইয়াম তনয় ঈসা (আ.)কে, এবং তাঁকে প্রদান করেছি ইঞ্জিল। আর আমরা তার (সত্যিকারের) অনুসারীদের অন্তরে স্থাপন করেছি মমতা ও অনুগ্রহ। আর (রাহবানিয়্যাত) বৈরাগ্য (অর্থাৎ ইবাদতের জন্য দুনিয়া পরিহার করা) এ বিদআত তো তারা নিজেরা উদ্ভাবন করেছে, এটি আমরা তাদের উপর আবশ্যক করেনি(কুরআনের শব্দ ব্যবহার- ইবতাদাউু-হা মা কাতাবনা-হা আলাইহিম)। কিন্তু (তারা বৈরাগ্যবাদ-এর বিদআত) কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য (শুরু করেছিল)। অতঃপর কার্যত এর রক্ষণাবেক্ষণ যেটুকু প্রয়োজন ছিলো, তারা এর সেটুকুও সংরক্ষণ করেনি(অর্থাৎ একে তার চেতনা ও নিয়মানুবর্তিতার সাথে বহাল রাখেনি)। সুতরাং আমরা তাদেরকে তাদের প্রতিদান ও পুরস্কার প্রদান করেছি, তাদের মধ্যে যারা ঈমানদার। তাদের অধিকাংশই (যারা তা পরিহার করেছে এবং বদলে গিয়েছে তারা) নাফরমান(অবাধ্য)।

আমরা উপরোক্ত আয়াতসমূহ থেকে বিদআত শব্দের শাব্দিক এবং পারিভাষিক অর্থ পাই যে,-পূর্বে নমুনা ব্যতীত সৃষ্ট জিনিস বা নতুন সৃষ্টি। অর্থাৎ পূর্বে ছিলো না এমন বিষয়ের অস্তিত্বে আনয়ন। যেমন পেয়েছি;- আসমান-যমিন সৃষ্টি,মুহাম্মদ দ. এর পূর্বেও রাসূল আগমন করেছেন;- তিনি নতুন নন বুঝাতে,কিতাবে উল্লেখবিহীন ঈসার অনুসারীদের নতুন আমল সৃষ্টি বুঝাতে। অর্থাৎ সামষ্টিক বিদাআতের অর্থ দাড়াই;- ক্রিয়েশন, ইনোভেশন, ইনোভেলট, নিউ এক্ট ইত্যাদি।

বিদাআত নিয়ে মুসলমানদের মাঝে যেই জটলাটা লাগে তার বেশিরভাগই হলো বিদআতের প্রকারভেদকে ঘিরে। যে যার মতো প্রকারভেদ করে জগাখিচুরি করেছে, স্বয়ং আল্লাহ ও রাসূলকে দ. উপেক্ষা করে। রাসূল স্বয়ং যে প্রকারভেদ করেছেন, তা হলো- ১. হাসানাহ(উত্তম/ভালো সৃষ্টি), ২.সাইয়্যিয়াহ(মন্দ/খারাপ)। আর কুরআনও (তথা আল্লাহ) এই প্রকারভেদকেই সমর্থন করেছে। যা আমরা আজ দেখবো। ঢালাওভাবে সব বিদাআতকে(বা কর্মগত বিদআতকে) ভ্রষ্টতা দেখাতে গিয়ে কিছু মোল্লা যেই ক্লাসিফিকেশনটা করে, সেটা স্বয়ং বিদআত। আর এই প্রকারভেদ সম্পর্কিত তাত্ত্বিক আলোচনা পরের পর্বে আসবে।

• ৫৭ঃ২৭ (সিরিয়ালে ৪র্থ);-আয়াতের অনুবাদে সূক্ষ্মদৃষ্টি দিয়েছেন কিনা জানিনা। এই আয়াতেই আমাদেরকে 'বিদআতে হাসানাহ বা ভালো বিদআত' বলে কিছু আছে তার নজির দেয় এবং তার বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত করে। যেমন, আল্লাহর (ও রাসূলের) সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে ইসলামে কোনো উত্তম বিদায়াত সৃষ্টি করলে তা ভ্রষ্টতার সামিল হবেনা। বরং আল্লাহ এর জন্য প্রতিদান দিবেন।

অত্র আয়াতের গভীর পর্যালোচনাঃ
১. ঈসা আ. এর যুগের হক্বপন্থিদের নতুন কিছু সৃষ্টির ক্ষেত্রে বেদায়াত শব্দের ব্যবহার।
২. তারা এমন কিছু আমল সৃষ্টি করেছে যেটা তাদের তাওরাত(ইঞ্জিলে) ছিলো না, না ছিলো ঈসার নির্দেশে। আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার জন্যই তারা সৃষ্টি করেছে। এবং আল্লাহ এটাকে পছন্দ করে প্রতিদানে রুপ দিয়েছেন।
৩. এমনকি বলেছেন, যারা এই বিদআতের পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করবে,আমি তাদের এর জন্য সাওয়াব দিবো। এবং যারা কমই অনুসরণ করে তারা নাফরমান।
অত্র আয়াতে স্বয়ং আল্লাহ 'বিদাআতে হাসানাহ' কে বৈধতা দিয়েছে। সুতরাং দ্বিনের মধ্যে সৃষ্টি প্রত্যেক বিদআত'কেই ভ্রষ্টতা বলে আউলানো স্বয়ং নিজে ঘোর পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত হওয়ার সামিল। এবং আল্লাহর থেকে বেশি বুঝতে যাওয়ার সামিল। আর "কুল্লু বিদআতীন দলালাহ বা প্রত্যেক নব-সৃষ্টি ভ্রষ্টতা" এই হাদিসের বা এই ক্যাটাগরির হাদিসগুলোর রহস্যভেদ এবং ব্যাখ্যা নিম্নে তুলে ধরবো। তবে যদি নতুন আবিষ্কৃত কাজটি খারাপ বা শরীয়ত বিরোধী বা বহির্ভূত কাজ হয় তথা কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা কোথাও কাজটি নিষেধ করা হয়, তখন তা প্রত্যাখ্যাত।

এই আয়াতের তাফসীরে ইমাম কুরতুবি রা.(দলমত নির্বিশেষে গ্রহণীয়) বলেন, ঈসা আ. এর যুগে যারা উত্তম বিদাআত(বৈরাগ্যবাদ) তৈরি করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে শব্দ ইউজ করেছেন সা'লেহুন অর্থাৎ সৎকর্মশীল। তিনি এই আয়াতের যে ফলাফলটি বের করেন, তা প্রণিধানযোগ্য- "যদি কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে উত্তম নিয়তে কোনো ভালো জিনিস নতুন সৃষ্টি করে, এবং তা পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করবে, তাহলে তার জন্য সাওয়াব পাওয়া যাবে।" এমনকি বলেছেন, "এটা সালেহীনদের কাজ, অতঃপর যারা এটাকে পরিপূর্ণভাবে মানবেনা তারা অবাধ্যদের মাঝে গণ্য হবে।"[ইমাম কুরতুবি- আল'জামেউল আহকাম আল'কুরআন(তাফসিরে তাবারী নামে প্রসিদ্ধ)- খ. ১৭, পৃ. ২৬৪]

[বি দ্রঃ তাদের জন্য রহবানিয়্যাহ (বৈরাগ্যবাদ) হালাল ছিলো। তবে উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য জায়েজ নেই।]

রাসূল দ. বলেন,-"কুল্লু মুহাদাচাতিন বিদাআহ, ওয়া কুল্লু বেদায়াতীন ধলালাহ " অর্থাৎ - প্রত্যেক নতুন সৃষ্টি বিদাআত, আর প্রত্যেক বিদায়াত ভ্রষ্টতা "(আবু দাউদ- আস'সুনান - খ.৪ -পৃ. ২০০ - হা. ৪৬০৭)[নোটঃবিদআত'কে ভ্রষ্টতা হিসেবে ঘোষণা করার যেসব হাদিস বর্ণিত আছে, সবই এই ধাঁচের এবং মূল শব্দ বর্ণনার ভাবার্থ সেম]।
এখানে যে 'মুহাদাচ' শব্দের ব্যবহার এসেছে এবং এটাকে ভ্রষ্টতা বলেছে। ইহদাচ'/'মুহাদাচাহ'/' হাদাসাহ' শব্দদ্বয় এর অর্থ বেশির ভাগই 'আল-বিদাআহ' এর সাথে মিল আছে। এবং এর অর্থও, প্রত্যেক নব সৃষ্টি; যা আগে ছিলো না।

উপরোক্ত হাদিসের রহস্যভেদ করার পূর্বে একটা কথা বলে রাখি, পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত যারাই গোমরাহ হয়েছে, প্রত্যেকেই বাতেন'কে(অপ্রকাশ্য/অভ্যন্তরীণ) টোটালি বাদ দিয়ে জাহের'কে(প্রকাশ্য) গ্রহণ করার কারণে হয়েছে। কারণ প্রত্যেকটি জিনিসের একটা জাহের থাকে, আরেকটা বাতেন। দু'টোর সমন্বয়েই কুরআন,হাদিস। এই হাদিসগুলোর ক্ষেত্রেও অপ্রকাশ্য (উহ্য) কিছু তথ্য আছে। যা বের করার জন্য ব্যাখ্যামূলক পর্যালোচনা প্রয়োজন।

হাদিসে যে 'মুহাদাচাহ' শব্দের ব্যবহার এসেছে,তা মূলত কুরআন নিজের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেছে, নতুন আয়াত অবতীর্ণ প্রসঙ্গে এসেছে;- ২১ঃ২, ২৬ঃ৫। এখন, হাদিসে যে বললো- "প্রেত্যেক মুহাদাচাহ(নব সৃষ্টি) বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা", তদনুযায়ী এগোলে কুরআনের আয়াতসমূহ'কেও ভ্রষ্টতা বলা লাগবে। কারণ এখানেও 'মুহদাচাহ' শব্দ ইউজ করেছে। এখন নিশ্চয় বুঝা এসেছে যে, হাদিসগুলোর বাতেন জানা লাগবে!
এমনকি আমরা যে হাদিস বলি, এর মূলেও কিন্তু 'হাদাসাহ' থেকে। আর হাদিস অর্থ বর্ণনা করা। ধরেন, আমি আপনাদের যা বলছি তা আগে কখনো এইভাবে শুনেননি তাহলে সেটাও হাদিস হবে। তদনুযায়ী এগোলে সকল হাদিসই ভ্রষ্টতা।
আরেকটা জিনিস পাইলাম, 'মুহাদাচাহ'(নব সৃষ্টি) শব্দটিতে অরিজিনেলি কোনো প্রবলেম নেই, এতে কোনো ভুল অর্থও নেই,বরং এটিকে নেগেটিভভাবে নেওয়াই গোমরাহি।

• ক্লাসিফিকেশন প্রসঙ্গঃ
দ্বীনের মধ্যে বিদআত দু’প্রকার। বিশ্বাসের ক্ষেত্রে বিদআত এবং আমলের ক্ষেত্রে বিদআত। আগের পর্বেও বলেছিলাম, বিদআত নিয়ে যতো জটলা বাঁধে; তার অধিকাংশই কর্মগত বিদআতের প্রকারভেদ'কে কেন্দ্র করে। এ ব্যাপারে দুটি মতঃ একদল বলে, দু'প্রকারঃ হাসানাহ(ভালো), সাইয়্যিয়াহ(মন্দ)। আরেকদল বলে, দু'প্রকারঃ লুগবিয়্যাহ(দুনিয়াবী),শরয়ীয়্যাহ(দ্বীনি)।

হাসানাহ এবং সাইয়্যিয়াহ প্রকারদ্বয় স্বয়ং রাসূলেই করে দিয়েছেন। এমনকি তার আগের পর্বে স্বয়ং আল্লাহই বিদআতে হাসানাহ'র বৈধতা দিয়েছেন, তার প্রমাণ দেখিয়ে দিয়েছি। এইবার আসি, লুগবিয়্যাহ এবং শরয়ীয়্যাহ এর কথা। এই ক্লাসিফিকেশনটা করেছেন ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ রা.। আশ্চর্যের বিষয় হলো! আজকের সমাজে যেসব মোল্লা এই ক্লাসিফিকেশনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইসলামের মধ্যে যেকোনো নতুন সৃষ্টি'কে বেদাত ট্যাগ লাগিয়ে ভ্রষ্টতা প্রমাণ করে। তা স্বয়ং বিদআত। কারণ এই ক্লাসিফিকেশন'টা! নাহ আল্লাহ করেছেন, না রাসূল(,না তার পূর্বের কোনো ঈমাম)। এটা সম্পূর্ণ তিনি নিজের চিন্তার মাধ্যমেই করেছেন, কুরআন-হাদিসে এর নজির নেই।

হাসানাহ এবং সাইয়্যিয়াহ এর প্রকারভেদ করণে স্পষ্ট রাসূলের দ. হাদিস,

ﻣَﻦْ ﺳَﻦَّ ﻓِﻲ ﺍﻹِﺳْﻼﻡِ ﺳُﻨَّﺔً ﺣَﺴَﻨَﺔً ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﺟْﺮُﻫَﺎ ﻭَﺃَﺟْﺮُ ﻣَﻦْ ﻋَﻤِﻞَ ﺑِﻬَﺎ ﺑَﻌْﺪَﻩُ ﻣِﻦْ ﻏَﻴْﺮِ ﺃَﻥْ ﻳَﻨْﻘُﺺَ ﻣِﻦْ ﺃُﺟُﻮﺭِﻫِﻢْ ﺷَﻲْﺀ. ٌ ﻭَﻣَﻦْ ﺳَﻦَّ ﻓِﻲ ﺍﻹِﺳْﻼﻡِ ﺳُﻨَّﺔً ﺳَﻴِّﺌَﺔً ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭِﺯْﺭُﻫَﺎ ﻭَﻭِﺯْﺭُ ﻣَﻦْ ﻋَﻤِﻞَ ﺑِﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻩِ ﻣِﻦْ ﻏَﻴْﺮِ ﺃَﻥْﻳَﻨْﻘُﺺَ ﻣِﻦْ ﺃَﻭْﺯَﺍﺭِﻫِﻢْ ﺷَﻲْﺀ

যে ব্যক্তি ইসলামে একটি ভাল(হাসানাহ) প্রথার উদ্ভাবন করবে তার জন্য উত্তম প্রতিদান রয়েছে, এবং যারা এর উপর আমল করবে তাদের জন্যও উত্তম প্রতিদান রয়েছে। এতে লোকেরা যত আমল করেছে,তাকে সব আমলকারীর সমান সওয়াব দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ইসলামে একটি খারাপ(সাইয়্যিয়াহ) প্রথার উদ্ভাবন করবে ও লোকেরা সে অনুযায়ী আমল করবে ,তাকে সব আমলকারীর সমান পাপ দেওয়া হবে। এবং তাদের পাপে কম করা হবে না।( সহীহ মুসলিম-২/৭০৫- হা. ১০১৭., ইবনু মাজাহ-খ.১-হা. ১৭৩,)

হাদিসের মূল সার হল, নব আবিষ্কৃত কাজটি যদি ভালো হয় এবং শরীয়ত বিরোধী না হয়, তাহলে তা গ্রহণীয়। এবং এর জন্য প্রতিদানও আছে। আর কাজটি যদি খারাপ বা শরীয়ত বিরোধী কাজ হয় তথা কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা'এর কোথাও নিষেধ করে, তখন তা হবে বিদআতে সায়্যিয়াহ অর্থাৎ ভ্রষ্টতা। যা আমল করা হারাম। এ খারাপ আমলটি যে আবিষ্কার করবে এবং যারা পালন করবে তাদের সবার জন্য খারাপ প্রতিদান রয়েছে।

তাইমিয়া রা. বলেছেন, প্রত্যেক শরয়ী(দ্বীনি) বিদআত দালালাহ। এই অনুযায়ী এগোলে মোল্লারা নিজের ফাঁদে নিজে আটকাবে। কিছু উদাহরণ দেয়;- বাইন্ডিংকৃত সম্পূর্ণ কুরআন বিদআত, ইটের তৈরি মসজিদ বিদআত, সিহাহ সিত্তার সব হাদিস সংকলন বিদআত, ঐসব মোল্লাদের প্রচলিত ধর্মপ্রচারণাও বিদআত ইত্যাদি। এভাবে গুণতে গুণতে গলা শুকিয়ে যাবে, শেষ হবেনা। কারণ দ্বীনের সৌন্দর্য এবং অবস্থার উপর ভিত্তি করে অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে হয়, যা বিদআত। কিন্তু শরীয়ত বিরোধী না হওয়ায়, মন্দ হওয়া থেকে বেছে যায়।

•আবু বক্কর রা. এর খলিফা থাকাকালীন সময়ে কুরআন সংকলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে। উমর রা. আবু বক্কর রা.'কে বললেন," আমি ভয় পাচ্ছি যে হাফেজদের থেকে কুরআন বিলুপ্ত হয়ে যাবে, আমাদের সমন্বিত করে কিতাব তৈরি করা প্রয়োজন।আবু বক্কর বল্লেন, এটা তো বেদায়াত, কারণ রাসূল স্বয়ং করেন নি। আমরা কিভাবে এই কাজ করতে সাহস করবো।(তখন) উমর বলেন, আমি জানি- রাসূল এটা করেননি কিন্তু আল্লাহর কসম! এটা ভালো/উত্তম কাজ। এতে সমস্যা নেই। আর আল্লাহ এই বিষয়ে আমার অন্তর প্রশস্ত করে দিয়েছেন।[সহীহ বুখারীঃ ৪৪০২]
বুঝা গেল, প্রয়োজন অনুসারে অথবা ভালো উদ্দেশ্যে কোনো কাজ নতুন সৃষ্টি করলে এবং তার যদি কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকে, তাহলে তা পরিত্যক্ত নয়, বরং গ্রহণীয়। আরেকটা জিনিস খেয়াল করেছেন কিনা জানিনা। উমর রা. বলেছেন, এই ভালো বিদআত'টি সৃষ্টি করার মাধ্যমে আল্লাহ আমার অন্তর প্রশস্ত করেছেন। আর আমরা কুরআনে দেখেছি, মূসা আ.'কে নিজ অন্তর প্রশস্তের জন্য দোয়া করতে। তাই আমরাও করি, "রাব্বীশ রাহলী সাদরী"। এখান থেকে যা বুঝতে পারি, ভালো বিদআত'টি হলো একটি উহ্য বিষয়, যা 'প্রত্যেক নব সৃষ্টি ভ্রষ্টতা' হাদিসে লুকানো ছিলো। আর উহ্য বা বাতেনি বিষয়টি অন্তর প্রশস্তের মাধ্যমে আসে, আর যাকে নড়চড় করে বললে হেদায়েত বলে।

আল্লাহ উত্তম বুঝ দান করুক, আমিন।

17/04/2021

অটোফ্যাজি ও রোজা : তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
- রাশেদুল বারী।

ইন্টারমিটেন্ট ফ্যাস্টিং বা সবিরাম উপবাসের সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। টানা কিংবা আমরণ অনশন নয় বরং বিরতিযুক্ত অনশন। প্রচলিত প্রায় ধর্মে এরকম সবিরাম উপবাসের রেওয়াজ আছে। এ উপবাসের দরুন দেহের বিশাল এক উপকার সাধন হয়। নির্দিষ্ট যে প্রক্রিয়ায় মানব শরীর উপকৃত হয় তা হলো - অটোফ্যাজি। চব্বিশ ঘণ্টায় এটলিস্ট ১০/১২ ঘণ্টা উপবাস করে থাকলে অটেফ্যাজি প্রক্রিয়া সচল হয়ে যায়। তবে এরচে অধিক সময় রাখতে পারলে এ প্রক্রিয়া আরও কার্যকরী রূপ নেয়। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার- খাদ্যগ্রহণ থেকে বিরত থাকা মুসলমানের জন্য আবশ্যকীয় করা হয়েছে। এ দীর্ঘ সময় উপোসের কারণে অটোফ্যাজি প্রক্রিয়া সচল হতে সক্ষম।

অটোফ্যাজি কী?
১. লাইসোজোম কোষাঙ্গে প্রতিনিয়ত জমা হতে থাকে আমাদের শরীরের মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়াগুলো। কোষে খাদ্যাভাব দেখা দিলে লাইসোসোমের এনজাইমগুলো কোষের অঙ্গাণুগুলো ধ্বংস করে দেয়। একে স্বগ্রাস বা অটোফ্যাজি বলে। এভাবে সমগ্র কোষ পরিপাক হয়ে গেলে তাকে অটোলাইসিস বলে।
Autophagy শব্দের অর্থ আত্মভক্ষণ। এটি গ্রিক শব্দ হতে উৎপত্তি।
২. একটি বিশেষ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোষ তার নিজের মধ্যকার অপ্রয়োজনীয় বা অকার্যকর উপাদানগুলি অপসারিত করে (জীববিদ্যা); দেহের বিশেষ প্রক্রিয়া যা নতুন ও সুস্থ কোষ তৈরি করার জন্য নষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্থ কোষ অপসারণ করে।

৩. Autophagy is the body’s way of cleaning out damaged cells, in order to regenerate newer, healthier cells, according to Priya Khorana, PhD, in nutrition education from Columbia University.

৪. This is because autophagy is an evolutionary self-preservation mechanism through which the body can remove the dysfunctional cells and recycle parts of them toward cellular repair and cleaning, according to board-certified cardiologist, Dr. Luiza Petre.
“It is recycling and cleaning at the same time, just like hitting a reset button to your body. Plus, it promotes survival and adaptation as a response to various stressors and toxins accumulated in our cells,” she adds. (Reference- HealthLINE)

অটোফ্যাজির উদ্ভাবন :
১. রকেফেলার ইন্সটিটিউটে বিজ্ঞানী কেথ আর. পোর্টার ও তার ছাত্র থমাস অ্যাশফোর্ড এর মাধ্যমে অটোফেজি বা আত্মভক্ষণ কৌশলের ধারণাটি সর্বপ্রথম সামনে আসে। ১৯৬২ সালের জানুয়ারিতে ইঁদুরের যকৃত কোষে গ্লুকোজেন যোগ করার পর লাইসোজোমের সংখ্যা বৃদ্ধির উপর তারা একটি নিবন্ধ তৈরি করে।(উইকিপিডিয়া)
২. জাপানি বিজ্ঞানী ওশিওমি ওহসুমি (Yushiomi Ohsumi) অটোফেজি (Autophasy) -এর প্রক্রিয়া আবিষ্কার করে বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তার এই আবিষ্কার চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ও মানুষের অনেক রোগব্যাধির প্রতিষেধক হিসেবে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই মৌলিক আবিষ্কারের জন্য ২০১৬ সালে ওশিওমি ওহসুমি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।(ড.খন্দকার মোশাররফ,বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৪/৫/২০, উইকিপিডিয়া।)

অটোফেজির উপকার :
১. প্রদাহ (ব্যথা, লাল হওয়া, ফুলে যাওয়া এবং সংক্রমণ) কমে যাওয়া: রোগের একটা বড় কারণই প্রদাহ। ক্যান্সার, হৃদরোগ বা অন্যান্য ক্রনিক রোগের মূল কারণের দিকে যদি আমরা তাকাই তাহলে দেখব- দেহে যখন স্থায়ীভাবে দীর্ঘসময় ধরে এ জাতীয় প্রদাহ বিরাজ করে, তখনই তা এসব রোগের রূপ নেয়। কাজেই প্রদাহ যদি কমে যায়, তাহলে রোগবালাইও হবে না!
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: এ নিয়ে একটা গবেষণা করেছিলেন ডা. লোঙ্গো। সে গবেষণায় তিনি দেখান যে, কেউ যদি একটানা চারদিন উপবাস করে (পানি ছাড়া অন্য আর কিছু না খাওয়া), তাহলে তার রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাটাই পুরো নতুনভাবে বিন্যস্ত হয়। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা আবিষ্কার, কারণ বহু মানুষ আছে যারা শুধু রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই ভুগছে।
৩. বার্ধক্য প্রতিরোধ : অটোফেজির কারণে ত্বক বার্ধক্যের প্রভাবমুক্ত হয় এবং ত্বককে দেখায় স্বাস্থ্যজ্জ্বল। ত্বকের ভাঁজ নিয়ে আমরা অনেক সময় দুঃশ্চিন্তা করি। বিশেষ করে ওজন কমানোর একটা সমস্যা হলো ত্বকে ভাঁজ পড়ে যায়। কিন্তু অটোফেজিকে সক্রিয় হতে দিলে এই ভাঁজের সমস্যা দূর করা সম্ভব।
৪. ক্ষুরধার মস্তিষ্ক: সক্রিয় অটোফেজি ব্যবস্থা আপনার মস্তিষ্ককে ক্ষুরধার হতেও সাহায্য করে। এমনকি জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির কিছু গবেষণা থেকে দেখা যায়- আলঝেইমার বা পার্কিনসন্স জাতীয় বয়সজনিত রোগগুলো যে কারণে হয়, তার প্রতিরোধও করে অটোফেজি।
৫. জীবাণু ধ্বংস: প্যাথোজেন, ব্যাক্টেরিয়া ইত্যাদি জীবাণুকে ধ্বংস করে দেহকে সুস্থ রাখে অটোফেজি।
৬. দীর্ঘ জীবন: আর এসবকিছুর মিলিত ফল হলো আপনার দীর্ঘজীবন। মানে আপনার যদি প্রদাহ কমে যায়, ক্যান্সার, হৃদরোগ না হয় তাহলে আপনার সুস্থ দীর্ঘজীবন হবে সেটাই স্বাভাবিক না?
৭. অটোফেজি ও ক্যান্সার: ক্যান্সার নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করেছেন এমন একজন বিজ্ঞানী টমাস সেফ্রেইড। প্রাকৃতিকভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধ নিয়েই তার গবেষণা। তিনি দেখেন, বছরে কেউ যদি অন্তত একবারও সাত দিন একটানা উপবাসে থাকতে পারে (পানি ছাড়া অন্যকিছু না খেয়ে), দেহ পরিচ্ছন্ন হবার জন্যে তার আর কিছুই লাগে না। ভবিষ্যতে ক্যান্সার ঘটাতে পারে এমন সেলগুলো এ প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। এমনকি এটা সাত দিন না হয়ে চারদিনও হতে পারে। সেক্ষেত্রে বছরে কয়েকবার উপবাস করতে হবে।
এ সম্পর্কে Dr. Luiza Petre এর বক্তব্য তুলে ধরা হলো-
1. removing toxic proteins from the cells that are attributed to neurodegenerative diseases, such as Parkinson’s and Alzheimer’s disease.
2. recycling residual proteins.
3. providing energy and building blocks for cells that could still benefit from repair.
4. on a larger scale, it prompts regeneration and healthy cells.
রেজিস্টার ডায়েটিয়ান Scott Keatley ব্যাখ্যা করেন- "Autophagy declines as we age, so this means cells that no longer work or may do harm are allowed to multiply, which is the MO of cancer cells,”
সোজা কথায় অসুস্থ কোষ ধ্বংস ও সুস্থ কোষ প্রজননে অটোফেজির ভূমিকা অনন্য।

নানা ধর্মে উপোস রীতি:
১. ইসলাম ধর্ম : ইসলামে রমজান মাসের ২৯ বা ৩০ দিন (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) রোজা রাখেন মুসলিমরা। এছাড়াও পবিত্র শবেবরাত, শবেমেরাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় দিবসে রোজা রাখেন। তাঁরা ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত খাবার, পানীয় ও যৌনকর্ম থেকে নিজেদের বিরত রাখেন।
২.খ্রিস্টান ধর্ম : অ্যাশ ওয়েনেসডে ও গুড ফ্রাইডে’তে রোজা রাখেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। এছাড়া ইস্টার সানডে’র আগের দিন প্রায় ৪০ দিন তাঁরা শুক্রবারগুলোতে মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকেন।
৩. হিন্দু ধর্ম : বেদে বলা হয়েছে যে, চন্দ্রমাসের একাদশীর দিন পুরোটাই উপবাস করতে হবে। শুধু পানি পান করা যাবে। সে হিসেবে মাসে দু’বার এই উপবাসের রেওয়াজ আছে।
৪.বৌদ্ধ ধর্ম : বৌদ্ধ ধর্মের সব সম্প্রদায়েই উপবাসের বিধান রয়েছে। মূলত পূর্ণিমার দিনগুলোতে ও অন্য ধর্মীয় দিনগুলোতে তাঁরা উপবাস করেন।
৫. ইহুদি ধর্ম : ইয়োম কিপ্পুর বা প্রায়শ্চিত্তের দিন হলো ইহুদি ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র দিন। এদিন ২৫ ঘণ্টা ধরে উপবাসে থাকেন ইহুদি ধর্মের অনুসারীরা। এছাড়া আরো ছয়দিন রোজা রাখার বিধান আছে ইহুদি ধর্মে। (ডিডাব্লিউ)

মুসলিমদের রোজা:
রোজা শব্দের অর্থ হচ্ছে 'বিরত থাকা'। আর আরবিতে এর নাম সাওম, বহুবচনে সিয়াম। যার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা।রমজান মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার,কামাচার, পাপাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থাকার নাম রোজা।
১.মুসলিম ২.বালেগ ৩.সক্ষম ৪.ঋতুস্রাব থেকে বিরত থাকা নারীর উপর রোজা রাখা ফরজ (আবশ্যকীয় পালনীয়)।
রোজা রাখার ফলে অটোফ্যাজি প্রক্রিয়া সচল হতে সক্ষম। এ রোজা পালনে যেমন শারীরিক উপকার লাভ করা সম্ভব তেমনি মানসিক পরিশুদ্ধি প্রাপ্তিতেও সম্ভাবনা আছে বলে মুসলিম স্কলারগণ দাবি করেন।
যে যার ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা সবিরাম উপবাস করে শারীরিক সুস্থতা অর্জন করতে পারেন। এটা নিয়ে বিতর্ক না করে যার যার ধর্মীয় নীতি তাকে নির্দ্বিধায় পালন করতে দিন। যেহেতু চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন উপবাসে মানবদেহের কোন ক্ষতির অস্তিত্ব পায়নি বরং উপকারের সম্ভবতা দেখিয়েছে।
ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন,রোজা পালন করুন, সুস্থ থাকুন।

তথ্যসূত্র :
১. Healthline.
২. The Science Behind Fasting Diets by Mark Barna.
৩. Aljazeera.
৪. Wikipedia.
৫. বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, প্রথম আলো, ইটিভি ও অন্যান্য পত্রিকা/সাইটে প্রকাশিত কলাম।


31/03/2021

আসুন তরুণ গবেষকদের উৎসাহিত করি। ইনফিনিট লুপ বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে আপনারা আমন্ত্রিত।

29/03/2021

অনুসন্ধায়ক দলের দুটি বই!

#বিনি_সুতোর_রাজনীতি
সামাজিক জড় মানুষ কে জীব করে তোলে রাজনীতি। বর্তমান প্রতিযোগিতার এ বিশ্বে নিজ রাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখতে প্রতি জন নাগরিকের রাজনীতিক ও অর্থনীতিক সচেতনতা খুবি গুরুত্ববহ। শিক্ষা যদি হয় জাতির মেরুদণ্ড তবে রাজনীতি নিঃসন্দেহে জাতির হৃৎপিণ্ড । রাজনীতি, শিক্ষা ও অর্থনীতি এ তিন শৃঙ্খলকে অতীব সুনিপুণ ভাবে এক সুতোই বেধে তরুণ গবেষক আদনান তাহসিন আমাদের উপহার দিয়েছেন বিনি সুতোর রাজনীতি । তারুণ্যের রাজনীতি ভাবনায় আমূল পরিবর্তনের কারিগর হবে এ বই। সে সাথে আবাল,বৃদ্ধ, বনিতা সকল নাগরিকের রাষ্ট্রচিন্তায় মাইল-ফলক হিসেবে পরিবেশিত হবে বিনি সুতোর রাজনীতি সেটাই প্রত্যাশা।

প্রতিটা বিষয়ে বিতর্ক আছে। তর্কজাল মুক্ত এমন কোন বিষয় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বিবাদ নয় নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও যৌক্তিক পর্যালোচনাই পারে সত্য সুন্দরের অভ্যুত্থান ঘটাতে। বিবাদ নয় সত্যানুসন্ধান করুন।
_________________________

#ইনফিনিট_লুপ

জীবন যখন প্রত্যাশা-প্রাপ্তির নির্মম হিসাব কষাকষির পাথেয় হয়ে উঠে তখনই সূচনা হয় ডিপ্রেশনের। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাধি ডিপ্রেশন। বিশেষত তরুণ ও যুবাদের মাঝে এ ব্যাধিতে আক্রান্তের হার বাড়ছে দিনাদিন। সিএনসিআর সাইন্স ট্যাগের অনুসন্ধায়ক মুবিন লিখন ইনফিনিট লুপ বইয়ে খুব চমৎকারভাবে বাস্তবতার নিরিখে জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। তরুণ গবেষকের তারুণ্যময় অনুসন্ধান জীবনবেদ হতে ছিটকে পড়া তরুণ ও যুবাদের অনুপ্রেরিত করবে টিকে থাকার লড়াইয়ে সে প্রত্যাশায় করি।

জীবন এক বহতা নদী। ভাঙা গড়ার মধ্য দিয়ে এ নদী বয়ে চলে বিলীন হয় সমুদ্রে। এখানে টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন উদ্ভট যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার মানসিকতা। জীবন যুদ্ধে জয় পরাজয় থাকবে। জয় ও পরাজয়ের উভয় পরিস্থিতিতেই নিজেকে শান্ত রাখতে হবে,অবিচল থাকতে হবে। অতীত হতে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতমুখী ছক আঁকতে হবে। কিন্তু কোনভাবেই জীবন হতে হতাশ হওয়া যাবে না।

প্রতিটা বিষয়ে বিতর্ক আছে। তর্কজাল মুক্ত এমন কোন বিষয় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বিবাদ নয় নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও যৌক্তিক পর্যালোচনাই পারে সত্য সুন্দরের অভ্যুত্থান ঘটাতে। বিবাদ নয় সত্যানুসন্ধান করুন।

বই দুটি সংগ্রহ করতে ইনবক্স করুন।

বিনি সুতোর রাজনীতি - ১৫০৳
ইনফিনিট লুপ- ১৫৫৳

যোগাযোগ -
01864328541
01644184476

28/03/2021

ইনফিনিট লুপ।
একটি আত্মোন্নয়নমূলক বই। যেখানে আলোচিত হয়েছে বর্তমান প্রজন্মের জীবনের ছন্দপতন থেকে ফিরে আসার বাস্তবিক কিছু গল্প। যা সহযোগিতা করবে আপনার মনস্তাত্ত্বিক উন্নতিসাধনে।

CNCr Science ট্যাগের অনুসন্ধায়ক মুবিন লিখন অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিজ্ঞান ও বাস্তবতার নিরিখে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যা ডিপ্রেশন থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে আলোচনা এনেছেন অত্র বইয়ে।

প্রি অর্ডারে পাচ্ছেন ২৬% ছাড়!
বইটি পাওয়া যাবে বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার ১৪৭ নং শাহজী প্রকাশনীর স্টলে।
প্রকাশক - বইসই পাবলিকেশন্স।
পরিবেশক - শাহজী প্রকাশনী।

বই পুড়ুন বই কিনুন।

প্রি অর্ডার লিংক -
https://forms.gle/XenSrY9PJ93QHcPn8

01/03/2021

মুদ্রিত মূল্য : ২২০ টাকা।
ছাড় মূল্য : ১৫০ টাকা।

এটা প্রথম বই। লেখকেরও এবং রিসার্চ সেন্টারেরও।

বিনি সুতোর রাজনীতি। লিখেছেন আমাদের ইকোনমি ট্যাগের রিসার্চার আদনান তাহসিন আলমদার। এই তরুণ বয়সে অর্থনীতি এবং রাজনীতিকে এক সুতোই বেধে ভাবনার অতলে গিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটগুলোকে সুনিপুণভাবে প্রবন্ধ আকারে আলোকপাত করা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

"প্রতিটি বিষয়ে বিতর্ক আছে। তর্কজাল মুক্ত এমন কোনো বিষয় খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুষ্কর। বিবাদ নয়, নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং যৌক্তিক পর্যালোচনাই পারে সত্য এবং সুন্দর অভ্যুত্থান ঘটাতে। তাই বিবাদ নয় সত্যানুসন্ধান করুন। পড়ুন এবং জানুন।"

বই পেতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

15/02/2021

ইকোনমিকস ট্যাগের রিসার্চার আদনান তাহসিনের বই - বিনি সুতোর রাজনীতি প্রকাশিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বইয়ের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আপনারা আমন্ত্রিত। দেশ সমাজ রাজনীতি ও অর্থনীতিক বিষয়ে সম্যক ধারণা পেতে বইটি সংগ্রহ করুন। বইয়ের অর্ডার করুন পেজের ইনবক্সে।

01/07/2020

শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- হাছিছা নওশীন।

১৯২১ সালের ১লা জুলাই অবারিত স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ভারত ভাগের মাত্র ২৬ বছর পূর্বে ৩টি অনুষদ, ১২ টি বিভাগ ও তিনটি আবাসিক হল নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই বিশ্ববিদ্যলয়। অবহেলা ও বঞ্ছনার সেই সময় থেকে অশেষ বাধা বিপত্তির বিপরীতে দাঁড়িয়ে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে যাচ্ছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নিরন্তর এই পথচলায় ৯৯ পেরিয়ে শতবর্ষে পা দিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ১লা জুলাই ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

৪৭ সালের দেশভাগের পর ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার জন্য প্রথম আন্দোলন শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেই ৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানসহ ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে শুধু অংশগ্রহণ করেই নয়; বরং নেতৃত্বে ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সকল গণ-আন্দোলনেও বিশেষ অবদান ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।

প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম শিক্ষাবর্ষে মোট ছাত্রছাত্রী ছিল ৮৭৭ জন ও শিক্ষক ছিলেন মোট ৬০ জন। আর বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে ১৩টি অনুষদ, ১৩টি ইন্সটিটিউট, ৮৪টি বিভাগ ও ১৯টি আবাসিক হল। অধ্যয়নরত প্রায় ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী আর শিক্ষাদান ও গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছে প্রায় ২ হাজার শিক্ষক। প্রায় এক শতাব্দী ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে উপহার দিয়েছে অনেক রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ বহু জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গ, যারা অবদান রাখছেন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও। স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, ‘১৯২১ সালে তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারতে অক্সব্রিজ শিক্ষা ব্যবস্থা অনুসরণে এটি স্থাপিত হয়। সূচনালগ্নে বিভিন্ন প্রথিতযশা বৃত্তিধারী ও বিজ্ঞানীদের দ্বারা কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রিত হবার প্রেক্ষাপটে এটি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে স্বীকৃতি পায়।‘ তবে কালের পরিক্রমায় সেই মান হারিয়েছে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী এই বিশ্ববিদ্যালয়। অবারিত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক র‍্যাংকিং তালিকায় পিছিয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ঘটেছে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মতো নাজুক ঘটনাও। গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই এখানে, গবেষণা খাতে প্রাপ্ত বরাদ্দও যথেষ্ঠ নয়। এছাড়া আবাসন সংকট, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সিট সংকট, হলেগুলোতে গণরুম ও গেস্টরুম প্রথা, শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া, পরিবহন সমস্যা, বহিরাগত প্রবেশ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্যাম্পাস এলাকায় বাইরের যান চলাচল ইত্যাদি সমস্যাও রয়েছে। আর বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে সেশনজট সৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের প্রত্যাশা, দ্রুত এই সংকটগুলো কাটিয়ে উঠে যেন যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। গবেষণায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ, আবাসন সংকট দূরীকরণ, লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত সিটসংখ্যা নিশ্চিতকরণ, গণরুম ও গেস্টরুম প্রথা উচ্ছেদ, পর্যাপ্ত পরিবহন, করোনাকালীন সেশনজট কাটিয়ে উঠতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সুষ্ঠুভাবে শিক্ষক নিয়োগ, দল-মত নির্বিশেষে সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে একটি পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্থান পায় সেই প্রত্যাশা রাখি। সেই সাথে মুক্তিবুদ্ধি চর্চা, সুষ্ঠু জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও মানসম্মত গবেষণার অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করতে পারি। সর্বোপরি আমাদের প্রত্যাশা, নতুন দিনের পথচলায় আরো সমৃদ্ধ হোক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
শুভ জন্মদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


01/07/2020

১ Gb = ১০২৪ Mb কেন?
- জামিলুর রেজা।

আমাদের মনে অনেক সময় প্রশ্ন আসে, ১ GB সমান ১০২৪ MB কেন?১০০০ বা ১০২৫ MB কেন নয়? চলুন উত্তর টা দেখি।
একটা কম্পিউটার কিন্তু মানুষের মত ভাষা বোঝে না। সে যে ভাষা বোঝে, সেটাকে Binary code বলা হয়ে। এই ভাষায় কেবল দুটি বর্ণ - 1 এবং 0। এই দুটো বর্ণ বিভিন্ন ভাবে সাজিয়ে কম্পিউটারের সব কাজ করা হয়। কিন্তু এমন উদ্ভট ভাষার কারণ?

কম্পিউটার বিদ্যুৎ দ্বারা চালিত। তাই এর চিপে কোন সার্কিটে যদি বিদ্যুৎ চলাচল করে, অর্থাৎ তা যদি On থাকে তবে সেটাকে 1 বলা যায়। আর যদি তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকে, অর্থাৎ সার্কিট যদি Off থাকে তবে তা 0 র দ্বারা বোঝানো যায়। এই 1 আর 0 বিভিন্ন Logic gate এর মাধ্যমে তৈরি করা হয়, এবং এই সব গেটের মিশ্রণে কম্পিউটারের কোড execute করা হয়।

তাহলে একটা বিট, যা একটা কম্পিউটারের মেমরির সব চেয়ে ছোট ইউনিট, তাতে হয় 1 অথবা 0 থাকবে। তাই এর সাইজ হবে ২। এর পর আমরা যতই মেমরির সংখ্যা বাড়াবো তা এই ২-এর অনুপাতে বাড়বে। যেমনঃ

2^2=4

2^3=8

2^4=16

2^5=32

2^6=64

2^7=128

2^8=256

2^9=512

2^10=1024

এই জন‍্য মোবাইলে আমরা 32 GB, 64 GB বা 128 GB স্টোরেজ দেখতে পাই। আর metric system এ 10 এর multiple-এ সব বাড়ে বলে 210210 MB = 1024 MB = 1 GB।

তাই সহজ ভাবে বলতে গেলে কম্পিউটারে বাইনারি কোডের প্রাধান্যের জন‍্য আমরা ১০২৪ MB দেখতে পাই, ১০০০ MB বা ১০৫০ MB নয়।

Reference: Quora


Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address


Dhaka