30/05/2021
**বিদআত ও কুরআনিক বিশ্লেষণ।
--মুহাম্মদ আব্দুল আলিম
মানুষ যত জ্ঞানীই হোক না কেন, স্তরের তারতম্য অনুযায়ী প্রত্যেকেরই মন-মগজে কিছু জটলা থাকে। সেখানের মধ্যে কিছু আমাদের নিত্য কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। তৈরি করে দৈনন্দিন জীবনে অসামঞ্জস্যতা ও দ্বন্দ্ব। তার মধ্যে বিদআত একটি। আমাদের মধ্যে এই জটলার প্রস্তুতকারক হলো কিছু মোল্লা ইনশাআল্লাহ, এই সংক্ষিপ্ত আলোচনাটি বিদআতের জটলা থেকে আপনাকে মুক্ত করবে।
আল্লাহ বলেন, "আমি কিতাবে কোনো কিছুই (লিপিবদ্ব করতে) বাদ দেয়নি।” (৬ঃ৩৮)
কুরআনে বিদআত শব্দটি চারবার এসেছে(২ঃ১১৭, ৬ঃ১০১, ৪৬ঃ৯, ৫৭ঃ২৭)।
*২ঃ১১৭ এবং ৬ঃ১০১= "বাদীউুছ ছামাওয়াতে ওয়াল আরদী" অর্থাৎ তিনিই আকাশমণ্ডলী এবং পৃথিবীকে অস্তিত্বে আনয়নকারী।..।
*৪৬ঃ৯= " কুল মা কুনতু বিদআম মিনার-রাসূলী.." অর্থাৎ আপনি বলে দিন, "(মানুষের প্রতি) আমিই প্রথম কোনো রাসূল নই (যে, আমার পূর্বে রেসালতের কোনো দৃষ্টান্তই নেই).."
*৫৭ঃ২৭= অতঃপর আমরা এ রাসূলগনের পদচিহ্ন অনুসরণে প্রেরণ করেছি (অন্যান্য) রাসূলগণকে, তাদের অনুগামী করেছি মারইয়াম তনয় ঈসা (আ.)কে, এবং তাঁকে প্রদান করেছি ইঞ্জিল। আর আমরা তার (সত্যিকারের) অনুসারীদের অন্তরে স্থাপন করেছি মমতা ও অনুগ্রহ। আর (রাহবানিয়্যাত) বৈরাগ্য (অর্থাৎ ইবাদতের জন্য দুনিয়া পরিহার করা) এ বিদআত তো তারা নিজেরা উদ্ভাবন করেছে, এটি আমরা তাদের উপর আবশ্যক করেনি(কুরআনের শব্দ ব্যবহার- ইবতাদাউু-হা মা কাতাবনা-হা আলাইহিম)। কিন্তু (তারা বৈরাগ্যবাদ-এর বিদআত) কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য (শুরু করেছিল)। অতঃপর কার্যত এর রক্ষণাবেক্ষণ যেটুকু প্রয়োজন ছিলো, তারা এর সেটুকুও সংরক্ষণ করেনি(অর্থাৎ একে তার চেতনা ও নিয়মানুবর্তিতার সাথে বহাল রাখেনি)। সুতরাং আমরা তাদেরকে তাদের প্রতিদান ও পুরস্কার প্রদান করেছি, তাদের মধ্যে যারা ঈমানদার। তাদের অধিকাংশই (যারা তা পরিহার করেছে এবং বদলে গিয়েছে তারা) নাফরমান(অবাধ্য)।
আমরা উপরোক্ত আয়াতসমূহ থেকে বিদআত শব্দের শাব্দিক এবং পারিভাষিক অর্থ পাই যে,-পূর্বে নমুনা ব্যতীত সৃষ্ট জিনিস বা নতুন সৃষ্টি। অর্থাৎ পূর্বে ছিলো না এমন বিষয়ের অস্তিত্বে আনয়ন। যেমন পেয়েছি;- আসমান-যমিন সৃষ্টি,মুহাম্মদ দ. এর পূর্বেও রাসূল আগমন করেছেন;- তিনি নতুন নন বুঝাতে,কিতাবে উল্লেখবিহীন ঈসার অনুসারীদের নতুন আমল সৃষ্টি বুঝাতে। অর্থাৎ সামষ্টিক বিদাআতের অর্থ দাড়াই;- ক্রিয়েশন, ইনোভেশন, ইনোভেলট, নিউ এক্ট ইত্যাদি।
বিদাআত নিয়ে মুসলমানদের মাঝে যেই জটলাটা লাগে তার বেশিরভাগই হলো বিদআতের প্রকারভেদকে ঘিরে। যে যার মতো প্রকারভেদ করে জগাখিচুরি করেছে, স্বয়ং আল্লাহ ও রাসূলকে দ. উপেক্ষা করে। রাসূল স্বয়ং যে প্রকারভেদ করেছেন, তা হলো- ১. হাসানাহ(উত্তম/ভালো সৃষ্টি), ২.সাইয়্যিয়াহ(মন্দ/খারাপ)। আর কুরআনও (তথা আল্লাহ) এই প্রকারভেদকেই সমর্থন করেছে। যা আমরা আজ দেখবো। ঢালাওভাবে সব বিদাআতকে(বা কর্মগত বিদআতকে) ভ্রষ্টতা দেখাতে গিয়ে কিছু মোল্লা যেই ক্লাসিফিকেশনটা করে, সেটা স্বয়ং বিদআত। আর এই প্রকারভেদ সম্পর্কিত তাত্ত্বিক আলোচনা পরের পর্বে আসবে।
• ৫৭ঃ২৭ (সিরিয়ালে ৪র্থ);-আয়াতের অনুবাদে সূক্ষ্মদৃষ্টি দিয়েছেন কিনা জানিনা। এই আয়াতেই আমাদেরকে 'বিদআতে হাসানাহ বা ভালো বিদআত' বলে কিছু আছে তার নজির দেয় এবং তার বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত করে। যেমন, আল্লাহর (ও রাসূলের) সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে ইসলামে কোনো উত্তম বিদায়াত সৃষ্টি করলে তা ভ্রষ্টতার সামিল হবেনা। বরং আল্লাহ এর জন্য প্রতিদান দিবেন।
অত্র আয়াতের গভীর পর্যালোচনাঃ
১. ঈসা আ. এর যুগের হক্বপন্থিদের নতুন কিছু সৃষ্টির ক্ষেত্রে বেদায়াত শব্দের ব্যবহার।
২. তারা এমন কিছু আমল সৃষ্টি করেছে যেটা তাদের তাওরাত(ইঞ্জিলে) ছিলো না, না ছিলো ঈসার নির্দেশে। আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার জন্যই তারা সৃষ্টি করেছে। এবং আল্লাহ এটাকে পছন্দ করে প্রতিদানে রুপ দিয়েছেন।
৩. এমনকি বলেছেন, যারা এই বিদআতের পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করবে,আমি তাদের এর জন্য সাওয়াব দিবো। এবং যারা কমই অনুসরণ করে তারা নাফরমান।
অত্র আয়াতে স্বয়ং আল্লাহ 'বিদাআতে হাসানাহ' কে বৈধতা দিয়েছে। সুতরাং দ্বিনের মধ্যে সৃষ্টি প্রত্যেক বিদআত'কেই ভ্রষ্টতা বলে আউলানো স্বয়ং নিজে ঘোর পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত হওয়ার সামিল। এবং আল্লাহর থেকে বেশি বুঝতে যাওয়ার সামিল। আর "কুল্লু বিদআতীন দলালাহ বা প্রত্যেক নব-সৃষ্টি ভ্রষ্টতা" এই হাদিসের বা এই ক্যাটাগরির হাদিসগুলোর রহস্যভেদ এবং ব্যাখ্যা নিম্নে তুলে ধরবো। তবে যদি নতুন আবিষ্কৃত কাজটি খারাপ বা শরীয়ত বিরোধী বা বহির্ভূত কাজ হয় তথা কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা কোথাও কাজটি নিষেধ করা হয়, তখন তা প্রত্যাখ্যাত।
এই আয়াতের তাফসীরে ইমাম কুরতুবি রা.(দলমত নির্বিশেষে গ্রহণীয়) বলেন, ঈসা আ. এর যুগে যারা উত্তম বিদাআত(বৈরাগ্যবাদ) তৈরি করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে শব্দ ইউজ করেছেন সা'লেহুন অর্থাৎ সৎকর্মশীল। তিনি এই আয়াতের যে ফলাফলটি বের করেন, তা প্রণিধানযোগ্য- "যদি কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে উত্তম নিয়তে কোনো ভালো জিনিস নতুন সৃষ্টি করে, এবং তা পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করবে, তাহলে তার জন্য সাওয়াব পাওয়া যাবে।" এমনকি বলেছেন, "এটা সালেহীনদের কাজ, অতঃপর যারা এটাকে পরিপূর্ণভাবে মানবেনা তারা অবাধ্যদের মাঝে গণ্য হবে।"[ইমাম কুরতুবি- আল'জামেউল আহকাম আল'কুরআন(তাফসিরে তাবারী নামে প্রসিদ্ধ)- খ. ১৭, পৃ. ২৬৪]
[বি দ্রঃ তাদের জন্য রহবানিয়্যাহ (বৈরাগ্যবাদ) হালাল ছিলো। তবে উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য জায়েজ নেই।]
রাসূল দ. বলেন,-"কুল্লু মুহাদাচাতিন বিদাআহ, ওয়া কুল্লু বেদায়াতীন ধলালাহ " অর্থাৎ - প্রত্যেক নতুন সৃষ্টি বিদাআত, আর প্রত্যেক বিদায়াত ভ্রষ্টতা "(আবু দাউদ- আস'সুনান - খ.৪ -পৃ. ২০০ - হা. ৪৬০৭)[নোটঃবিদআত'কে ভ্রষ্টতা হিসেবে ঘোষণা করার যেসব হাদিস বর্ণিত আছে, সবই এই ধাঁচের এবং মূল শব্দ বর্ণনার ভাবার্থ সেম]।
এখানে যে 'মুহাদাচ' শব্দের ব্যবহার এসেছে এবং এটাকে ভ্রষ্টতা বলেছে। ইহদাচ'/'মুহাদাচাহ'/' হাদাসাহ' শব্দদ্বয় এর অর্থ বেশির ভাগই 'আল-বিদাআহ' এর সাথে মিল আছে। এবং এর অর্থও, প্রত্যেক নব সৃষ্টি; যা আগে ছিলো না।
উপরোক্ত হাদিসের রহস্যভেদ করার পূর্বে একটা কথা বলে রাখি, পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত যারাই গোমরাহ হয়েছে, প্রত্যেকেই বাতেন'কে(অপ্রকাশ্য/অভ্যন্তরীণ) টোটালি বাদ দিয়ে জাহের'কে(প্রকাশ্য) গ্রহণ করার কারণে হয়েছে। কারণ প্রত্যেকটি জিনিসের একটা জাহের থাকে, আরেকটা বাতেন। দু'টোর সমন্বয়েই কুরআন,হাদিস। এই হাদিসগুলোর ক্ষেত্রেও অপ্রকাশ্য (উহ্য) কিছু তথ্য আছে। যা বের করার জন্য ব্যাখ্যামূলক পর্যালোচনা প্রয়োজন।
হাদিসে যে 'মুহাদাচাহ' শব্দের ব্যবহার এসেছে,তা মূলত কুরআন নিজের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেছে, নতুন আয়াত অবতীর্ণ প্রসঙ্গে এসেছে;- ২১ঃ২, ২৬ঃ৫। এখন, হাদিসে যে বললো- "প্রেত্যেক মুহাদাচাহ(নব সৃষ্টি) বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা", তদনুযায়ী এগোলে কুরআনের আয়াতসমূহ'কেও ভ্রষ্টতা বলা লাগবে। কারণ এখানেও 'মুহদাচাহ' শব্দ ইউজ করেছে। এখন নিশ্চয় বুঝা এসেছে যে, হাদিসগুলোর বাতেন জানা লাগবে!
এমনকি আমরা যে হাদিস বলি, এর মূলেও কিন্তু 'হাদাসাহ' থেকে। আর হাদিস অর্থ বর্ণনা করা। ধরেন, আমি আপনাদের যা বলছি তা আগে কখনো এইভাবে শুনেননি তাহলে সেটাও হাদিস হবে। তদনুযায়ী এগোলে সকল হাদিসই ভ্রষ্টতা।
আরেকটা জিনিস পাইলাম, 'মুহাদাচাহ'(নব সৃষ্টি) শব্দটিতে অরিজিনেলি কোনো প্রবলেম নেই, এতে কোনো ভুল অর্থও নেই,বরং এটিকে নেগেটিভভাবে নেওয়াই গোমরাহি।
• ক্লাসিফিকেশন প্রসঙ্গঃ
দ্বীনের মধ্যে বিদআত দু’প্রকার। বিশ্বাসের ক্ষেত্রে বিদআত এবং আমলের ক্ষেত্রে বিদআত। আগের পর্বেও বলেছিলাম, বিদআত নিয়ে যতো জটলা বাঁধে; তার অধিকাংশই কর্মগত বিদআতের প্রকারভেদ'কে কেন্দ্র করে। এ ব্যাপারে দুটি মতঃ একদল বলে, দু'প্রকারঃ হাসানাহ(ভালো), সাইয়্যিয়াহ(মন্দ)। আরেকদল বলে, দু'প্রকারঃ লুগবিয়্যাহ(দুনিয়াবী),শরয়ীয়্যাহ(দ্বীনি)।
হাসানাহ এবং সাইয়্যিয়াহ প্রকারদ্বয় স্বয়ং রাসূলেই করে দিয়েছেন। এমনকি তার আগের পর্বে স্বয়ং আল্লাহই বিদআতে হাসানাহ'র বৈধতা দিয়েছেন, তার প্রমাণ দেখিয়ে দিয়েছি। এইবার আসি, লুগবিয়্যাহ এবং শরয়ীয়্যাহ এর কথা। এই ক্লাসিফিকেশনটা করেছেন ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ রা.। আশ্চর্যের বিষয় হলো! আজকের সমাজে যেসব মোল্লা এই ক্লাসিফিকেশনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইসলামের মধ্যে যেকোনো নতুন সৃষ্টি'কে বেদাত ট্যাগ লাগিয়ে ভ্রষ্টতা প্রমাণ করে। তা স্বয়ং বিদআত। কারণ এই ক্লাসিফিকেশন'টা! নাহ আল্লাহ করেছেন, না রাসূল(,না তার পূর্বের কোনো ঈমাম)। এটা সম্পূর্ণ তিনি নিজের চিন্তার মাধ্যমেই করেছেন, কুরআন-হাদিসে এর নজির নেই।
হাসানাহ এবং সাইয়্যিয়াহ এর প্রকারভেদ করণে স্পষ্ট রাসূলের দ. হাদিস,
ﻣَﻦْ ﺳَﻦَّ ﻓِﻲ ﺍﻹِﺳْﻼﻡِ ﺳُﻨَّﺔً ﺣَﺴَﻨَﺔً ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﺟْﺮُﻫَﺎ ﻭَﺃَﺟْﺮُ ﻣَﻦْ ﻋَﻤِﻞَ ﺑِﻬَﺎ ﺑَﻌْﺪَﻩُ ﻣِﻦْ ﻏَﻴْﺮِ ﺃَﻥْ ﻳَﻨْﻘُﺺَ ﻣِﻦْ ﺃُﺟُﻮﺭِﻫِﻢْ ﺷَﻲْﺀ. ٌ ﻭَﻣَﻦْ ﺳَﻦَّ ﻓِﻲ ﺍﻹِﺳْﻼﻡِ ﺳُﻨَّﺔً ﺳَﻴِّﺌَﺔً ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭِﺯْﺭُﻫَﺎ ﻭَﻭِﺯْﺭُ ﻣَﻦْ ﻋَﻤِﻞَ ﺑِﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻩِ ﻣِﻦْ ﻏَﻴْﺮِ ﺃَﻥْﻳَﻨْﻘُﺺَ ﻣِﻦْ ﺃَﻭْﺯَﺍﺭِﻫِﻢْ ﺷَﻲْﺀ
যে ব্যক্তি ইসলামে একটি ভাল(হাসানাহ) প্রথার উদ্ভাবন করবে তার জন্য উত্তম প্রতিদান রয়েছে, এবং যারা এর উপর আমল করবে তাদের জন্যও উত্তম প্রতিদান রয়েছে। এতে লোকেরা যত আমল করেছে,তাকে সব আমলকারীর সমান সওয়াব দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ইসলামে একটি খারাপ(সাইয়্যিয়াহ) প্রথার উদ্ভাবন করবে ও লোকেরা সে অনুযায়ী আমল করবে ,তাকে সব আমলকারীর সমান পাপ দেওয়া হবে। এবং তাদের পাপে কম করা হবে না।( সহীহ মুসলিম-২/৭০৫- হা. ১০১৭., ইবনু মাজাহ-খ.১-হা. ১৭৩,)
হাদিসের মূল সার হল, নব আবিষ্কৃত কাজটি যদি ভালো হয় এবং শরীয়ত বিরোধী না হয়, তাহলে তা গ্রহণীয়। এবং এর জন্য প্রতিদানও আছে। আর কাজটি যদি খারাপ বা শরীয়ত বিরোধী কাজ হয় তথা কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা'এর কোথাও নিষেধ করে, তখন তা হবে বিদআতে সায়্যিয়াহ অর্থাৎ ভ্রষ্টতা। যা আমল করা হারাম। এ খারাপ আমলটি যে আবিষ্কার করবে এবং যারা পালন করবে তাদের সবার জন্য খারাপ প্রতিদান রয়েছে।
তাইমিয়া রা. বলেছেন, প্রত্যেক শরয়ী(দ্বীনি) বিদআত দালালাহ। এই অনুযায়ী এগোলে মোল্লারা নিজের ফাঁদে নিজে আটকাবে। কিছু উদাহরণ দেয়;- বাইন্ডিংকৃত সম্পূর্ণ কুরআন বিদআত, ইটের তৈরি মসজিদ বিদআত, সিহাহ সিত্তার সব হাদিস সংকলন বিদআত, ঐসব মোল্লাদের প্রচলিত ধর্মপ্রচারণাও বিদআত ইত্যাদি। এভাবে গুণতে গুণতে গলা শুকিয়ে যাবে, শেষ হবেনা। কারণ দ্বীনের সৌন্দর্য এবং অবস্থার উপর ভিত্তি করে অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে হয়, যা বিদআত। কিন্তু শরীয়ত বিরোধী না হওয়ায়, মন্দ হওয়া থেকে বেছে যায়।
•আবু বক্কর রা. এর খলিফা থাকাকালীন সময়ে কুরআন সংকলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে। উমর রা. আবু বক্কর রা.'কে বললেন," আমি ভয় পাচ্ছি যে হাফেজদের থেকে কুরআন বিলুপ্ত হয়ে যাবে, আমাদের সমন্বিত করে কিতাব তৈরি করা প্রয়োজন।আবু বক্কর বল্লেন, এটা তো বেদায়াত, কারণ রাসূল স্বয়ং করেন নি। আমরা কিভাবে এই কাজ করতে সাহস করবো।(তখন) উমর বলেন, আমি জানি- রাসূল এটা করেননি কিন্তু আল্লাহর কসম! এটা ভালো/উত্তম কাজ। এতে সমস্যা নেই। আর আল্লাহ এই বিষয়ে আমার অন্তর প্রশস্ত করে দিয়েছেন।[সহীহ বুখারীঃ ৪৪০২]
বুঝা গেল, প্রয়োজন অনুসারে অথবা ভালো উদ্দেশ্যে কোনো কাজ নতুন সৃষ্টি করলে এবং তার যদি কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকে, তাহলে তা পরিত্যক্ত নয়, বরং গ্রহণীয়। আরেকটা জিনিস খেয়াল করেছেন কিনা জানিনা। উমর রা. বলেছেন, এই ভালো বিদআত'টি সৃষ্টি করার মাধ্যমে আল্লাহ আমার অন্তর প্রশস্ত করেছেন। আর আমরা কুরআনে দেখেছি, মূসা আ.'কে নিজ অন্তর প্রশস্তের জন্য দোয়া করতে। তাই আমরাও করি, "রাব্বীশ রাহলী সাদরী"। এখান থেকে যা বুঝতে পারি, ভালো বিদআত'টি হলো একটি উহ্য বিষয়, যা 'প্রত্যেক নব সৃষ্টি ভ্রষ্টতা' হাদিসে লুকানো ছিলো। আর উহ্য বা বাতেনি বিষয়টি অন্তর প্রশস্তের মাধ্যমে আসে, আর যাকে নড়চড় করে বললে হেদায়েত বলে।
আল্লাহ উত্তম বুঝ দান করুক, আমিন।