06/11/2022
বিশ্বের তৃতীয় ধনী আদানি ছাড়ালেন জেফ বেজসকে
২০২২ সালের শুরুতে ফোর্বস ম্যাগাজিন ধনকুবেরের যে তালিকা প্রকাশ করে তাতে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন যথাক্রমে ইলন মাস্ক ও জেফ বেজস। আর দশম ও ১১তম ছিলেন ভারতের দুই ধনকুবের মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানি। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে একেবারে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন আদানি আর মুকেশ আম্বানি অষ্টমে। বড় অঙ্কের লোকসান গুনে চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছেন বেজস।
তবে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে মেটার সিইও জাকারবার্গের। তিনি ৬০ শতাংশ সম্পদ হারিয়ে তালিকায় ২৯তম স্থানে ছিটকে পড়েছেন। বছরের শুরুতে ছিলেন ১৫তম স্থানে। যদিও প্রথম স্থান ধরে রেখেছেন ইলন মাস্ক। তাঁর সম্পদ আরো বেড়েছে।
ফোর্বস ম্যাগাজিন রিয়াল টাইম বিলিয়নেয়ার র্যাংকিং প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, যুদ্ধ, মহামারি ও মন্দার প্রভাবে এ বছর বিলিয়নেয়ার ও তাঁদের সম্পদ কমেছে। গত এপ্রিলে ৩৬তম যে তালিকা প্রকাশ করা হয় তাতে বিলিয়নেয়ার ছিলেন দুই হাজার ৬৬৮ জন। কিন্তু এখন তা থেকে ৮৭ জন কমে গেছে। বিলিয়নেয়ারদের মোট সম্পদও কমে হয়েছে ১২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ২০২১ সালের চেয়ে ৪০০ বিলিয়ন ডলার কম।
বিলিয়নেয়ার সবচেয়ে বেশি কমেছে রাশিয়ায়। ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন হামলার জেরে দেশটিতে আগের বছরের চেয়ে বিলিয়নেয়ার কমেছে ৩৪ জন। ধনকুবের কমেছে চীনেও। দেশটিতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের অভিযানের জেরে বিলিয়নেয়ার কমেছে ৮৭ জন।
রিয়াল টাইম বিলিয়নেয়ার তালিকায় দেখা যায়, বিশ্বের শীর্ষ বিলিয়নেয়ার হিসেবে প্রথম স্থান ধরে রেখেছেন ইলন মাস্ক। বৈদ্যুতিক গাড়ি কম্পানি টেসলার সিইও ইলন মাস্কের নিট সম্পদ বেড়ে হয়েছে ২২৩.৮ বিলিয়ন ডলার। বছরের শুরুতে তাঁর সম্পদ ছিল ২১৯ বিলিয়ন ডলার। সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার কিনে নিয়েছেন।
ধনীর তালিকায় জেফ বেজসকে সরিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছেন ফরাসি ধনকুবের বার্নার্ড আরনল্ট ও তাঁর পরিবার। তাঁদের সম্পদ বেড়ে হয়েছে ১৫৪.৮ বিলিয়ন ডলার। বার্নার্ড আরনল্ট এলভিএমএইচের চেয়ারম্যান ও সিইও।
তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছেন ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি। আদানি গ্রুপের এই চেয়ারম্যান এখন এশিয়ারও শীর্ষ ধনী। তাঁর নিট সম্পদ বেড়ে হয়েছে ১৩৩.৩ বিলিয়ন ডলার। চতুর্থ অবস্থানে নেমে এসেছেন জেফ বেজস। তাঁর সম্পদ কমে হয়েছে ১২৬.৯ বিলিয়ন ডলার। তিনি আমাজনের সিইও। বছরের শুরুতে বেজসের সম্পদ ছিল ১৭১ বিলিয়ন ডলার। পঞ্চম স্থানে আছেন বার্কশেয়ার হেথাওয়ের সিইও ওয়ারেন বাফেট। তাঁর সম্পদ ১০৪.৫ বিলিয়ন ডলার। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর সম্পদ ১০২.৯ বিলিয়ন ডলার। সপ্তম স্থানে ওরাকলের চেয়ারম্যান ল্যারি এলিসন। তাঁর সম্পদ কমে হয়েছে ১০২.৫ বিলিয়ন ডলার। অষ্টম স্থানে রয়েছেন ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানি। তাঁর সম্পদ বেড়ে হয়েছে ৯০ বিলিয়ন ডলার। তিনি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান। নবম স্থানে গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ। তাঁর সম্পদ ৮৩.৫ বিলিয়ন ডলার। দশম স্থানে রয়েছেন কার্লোস স্লিম হেলু ও তাঁর পরিবার। তাঁদের সম্পদ ৮১.৬ বিলিয়ন ডলার। কার্লোস স্লিম হেলু আমেরিকা মোবিলের অনারারি চেয়ারম্যান। সর্বশেষ এই তালিকায় ২৯তম স্থানে ছিটকে পড়েছেন ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তাঁর নিট সম্পদ কমে হয়েছে ৩৬.৪ বিলিয়ন ডলার। বছরের শুরুতে তাঁর সম্পদ ছিল ৬৭.৩ বিলিয়ন ডলার।
05/05/2021
নতুন মা পিয়া
রাফিয়া আলম
নতুন মা পিয়া
‘প্রত্যেক নারীর জন্যই মাতৃত্ব এক অনন্য অনুভূতি। আমার বেলায়ও তা ব্যতিক্রম নয়।’ এভাবেই বললেন মডেল ও অভিনেত্রী জান্নাতুল পিয়া, যখন জানতে চাওয়া হলো তাঁর প্রথম মাতৃত্ব প্রসঙ্গে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর প্রথম সন্তানের জন্ম হয়েছে। আরও জানালেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনে যেমন কিছু মৌলিক চাওয়া থাকে, তাঁর জীবনেও তা–ই। আর তেমন চাওয়ার মধ্যে শুধু মাতৃত্বই বাকি ছিল। মা হওয়ার পর তাঁর কেমন লাগছে? এক কথায় জানালেন অ্যারেস হাসানের মা জান্নাতুল পিয়া, তিনি সুখী। ২ ও ৩ মে দুই দফায় মুঠোফোনে নিজের অনুভূতির কথা অধুনাকে বললেন পিয়া।
বদলে যাওয়া জীবন
মা হওয়ার আগে আর মা হওয়ার পরে, দুটি ধাপে জীবন ধরা দেয় ভিন্ন ধারায়, ভিন্ন রূপে। কেমন সে ভিন্নতা? পিয়া মনে করেন, সন্তানের প্রতি দায়িত্ববোধই সব ভিন্নতার মূলে। আগে হয়তো হুটহাট একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারতেন, হয়তো বাইরে যেতে ইচ্ছা করল, সেইমতো সাজিয়ে ফেলতেন একটা পরিকল্পনা। কিন্তু এখন হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাবনায় আসে প্রাণপ্রিয় সন্তানের কথা। সন্তানের দেখভালের একটা না একটা ব্যবস্থা তো হতেই পারে, কিন্তু মায়ের নাড়িছেঁড়া ধনকে মায়ের মতো করে কেই–বা আগলে রাখতে পারে? তাই কাজের প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলেও পিয়া আগে থেকে নিশ্চিত হয়ে নেন, যাতে তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর স্বামী ফারুক হাসান কিংবা শাশুড়ি অ্যারেসের কাছে থাকে। কাজের সময়টা এমনভাবে ঠিক করে নেন, যাতে কাজটাও হয়, সন্তানের যত্নেরও ত্রুটি না হয়।
মা ও শিশুর সুস্থতায়
মা ও শিশু, দুজনের জন্যই প্রয়োজন পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস। তেমন অভ্যাস রপ্ত করেছেন পিয়া, গর্ভাবস্থায় তা মেনে চলেছেন। ব্যায়ামও করেছেন চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে। গর্ভাবস্থায় কাজও করেছেন, বিশ্রামও নিয়েছেন পর্যাপ্ত। সন্তানের জন্মের পর তিনি নিজে সুস্থ আছেন, সুস্থ আছে তাঁর আদরের সন্তানটিও। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই পুরোটা সময়ে পিয়ার উপলব্ধি, অকারণে মোটেই কাঁদে না তাঁর সন্তান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরামর্শ মেনেই সন্তান পালন করছেন তিনি। এখন পর্যন্ত মায়ের দুধ ছাড়া অন্য কিছু দেওয়া হয়নি অ্যারেসকে। আর এই সময়েও পিয়া সুষম খাদ্যাভ্যাস আর ব্যায়ামের অভ্যাস বজায় রেখেছেন।
মন থাক প্রফুল্ল
মনের প্রফুল্লতা সুস্থতারই অংশ। গর্ভধারণ এবং সন্তান পালনের সময়টাতে একা একজন নারীর পক্ষে সব দিক থেকে সব সময় ‘পজিটিভিটি’ ধরে রাখা সম্ভব না-ও হতে পারে। বিজ্ঞান বলে, হরমোনের প্রভাব পড়ে মনেও, তাই মন হয় এলোমেলো। এ সময় নারীর চাই মানসিক সমর্থন। জীবনসঙ্গী আর পরিবারের অন্য সবাই ছিলেন পিয়ার পাশে। মায়ের মনের আনন্দ, মনের শান্তি শিশুর জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থায় ভালো লাগার কাজগুলোই করেছেন পিয়া। ভালো লাগলে রান্না করেছেন, কখনো বই পড়েছেন, টেলিভিশনও দেখেছেন; কখনো আবার আঙুল রেখেছেন পিয়ানোয়, ডুবে থেকেছেন সুরের সাগরে।
ভাবনায় মাতৃত্ব
বিয়ের বেশ ক বছর পর প্রথমবারের মতো মা হয়েছেন পিয়া। তিনি মনে করেন, একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনার ইচ্ছা করতে হলে তার ভবিষ্যতের কথা ভাবা উচিত সবার আগে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ নানান সামাজিক সমস্যার জন্য দায়ী করা হয় সন্তান পালনে অভিভাবকদের পর্যাপ্ত সময় না দেওয়াটাকে। তাই জীবনের যে পর্যায়ে গিয়ে সন্তানকে সব দিক থেকে সুন্দরভাবে প্রতিপালন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেছেন, সেই সময়েই পিয়া ভেবেছেন মা হওয়ার কথা; তাঁর স্বামী ও পরিবারের অন্যরাও তাঁর মতো করেই ভাবেন। পিয়া বড় হয়েছেন যৌথ পরিবারে, সন্তানকে সেই দারুণ পরিবেশটা দিতে না পারলেও অন্তত আপনজনদের সঙ্গ যাতে পায় অ্যারেস, সেটি নিশ্চিত করতে চেষ্টা করেন পিয়া। অ্যারেস এখন থেকেই ভিডিও কলে যুক্ত হয় তার নানির সঙ্গে। কথা বলতে না পারলে কী হবে, নিজের ভাষায় ঠিকই কিন্তু নানির সঙ্গে ভাব জমায় তিন মাস ছুঁই ছুঁই এই শিশু।
বিজ্ঞাপন
হাসিখুশি মা ও ছেলে
হাসিখুশি মা ও ছেলেছবি: সুমন ইউসুফ
করোনাকালে হলেন মা
করোনাকালে মা হলেন পিয়া। মা ও সন্তানের সুস্থতার জন্য বাড়তি সতর্কতামূলক কোনো পদক্ষেপ নিতে হয়েছে কি? পিয়া জানালেন, সংক্রমণ প্রতিরোধের সতর্কতা তাঁর তেমনটাই অবলম্বন করতে হয়েছে, যেমনটা করতেন তিনি এ সময় গর্ভধারণ না করলেও। কাজ, মহামারি, জীবনের ভালোমন্দ নানান দিক, সবই তো থাকবে। সুস্থ সন্তান জন্মদানের সুখটা থাকবে অম্লান।
ঈদ আসছে
করোনাকালে আপনজনদের নিয়ে সুস্থভাবে বেঁচে থাকাটাই যেন বিরাট পাওয়া। ঈদটা হয়তো স্বাভাবিক সময়ের মতো কাটবে না অনেকেরই। সন্তানকে নিয়ে প্রথম ঈদ হতে যাচ্ছে পিয়ার। করোনাকালের ঈদ নিয়ে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। ঈদে বাসাতেই সময় কাটাবেন, হয়তো স্বামী-সন্তানসহ খানিকটা ঘুরে আসতে পারেন গাড়িতে করে, তবে গাড়ি থেকে হয়তো নামাই হবে না। শ্বশুরবাড়ি বেশ কাছে, সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। সম্ভব হলে ঈদের পর খুলনায় মা-বাবার কাছে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। ঈদভাবনা পিয়ার এটুকুই।
সবার সুস্থতা আর নিরাপত্তাই তাঁর কাম্য। ঈদ উপলক্ষে অ্যারেসের জন্য কেনাকাটাও করেননি তিনি। অ্যারেসের জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত অনেক কাছের মানুষেরা পাঠাচ্ছেন পোশাকসহ নানান উপহার। বাড়তি কেনাকাটা তাই নিষ্প্রয়োজন। বৈশ্বিক মহামারির এই সময়ে বাহুল্যকে সযত্নে এড়িয়ে যাচ্ছেন জান্নাতুল পিয়া।
মা দিবসে নতুন মা
আসছে রোববার (৯ মে) মা দিবস। পিয়ার জীবনে আরও অনেক মা দিবস এসেছে। কিন্তু এই প্রথমবার মা দিবসে পিয়া নিজেও এক মা। ‘মায়ের মমতাকে যেমন নিক্তিতে মাপা যায় না, তেমনি দিবস নির্ধারণ করে মাকে ভালোবাসা ফিরিয়েও দেওয়া যায় না। তবু মায়েদের জন্য তো একটি দিন।’ সব মাকে বললেন পিয়া।
10/04/2021
কেন শিশুদের লেখা দরকার ?
তামান্না তিশা
শিশু তাঁর সৃজনশীলতা বিকাশে লেখালেখি অনবদ্য একটি উপহার।প্রশ্ন জাগে শিশু কেনো লিখবে? আচ্ছা তার আগে বলুন তো শিশু কেনো লিখবে না? তাঁর মাথায় ঘুরপাক খায় কতো কল্প কাহিণী,কখনো কবিতা পড়ে ছন্দবদ্ধ ভাবে সে নিজে ও চেষ্টা করে দু এক লাইন লেখার। যদি সে লেখাটা অপ্রকাশিত রয়েই যায় তবে সে কি আর আগ্রহী হবে?
শিশুরা কল্পনাপ্রবণ। মুভি দেখে,বাস্তব জগতের সাথে মেলানোর চেষ্টা করে। কখনো বা কমিক বই কিংবা শিশুতোষ কোন ম্যাগাজিনে ছোট্ট একটি গল্প ও শিশুকে নাড়া দিয়ে যায়৷ কখনো সুযোগ ঘটে সেগুলো নিয়ে বন্ধুদের সাথে দু এক লাইন বলার,আবার কখনো তা একা একা নিজের সাথে কথোপকথনের মধ্যে দিয়েই সমাপ্তি ঘটে। একটু ভেবে দেখুন তো! শিশুদের ভাবনা গুলো আমাদের খুব ভাবায়,সে ভাবনাগুলো যদি লেখার মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করা যায়,কেমন হবে ব্যাপারটা?
শিশুকে একজন লেখক,প্রতিভাবান, সৃজনশীলতার বিকাশ,কবি,সাহিত্যিক হিসেবে গড়ে তোলতে লেখালেখির বিকল্প নেই। শিশু লিখবে তাঁর ভাবনাজগতকে প্রসারিত করার জন্যে, শিশু লিখবে তাঁর সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করার জন্য। শিশু লিখবে তাঁর লেখাকে ভালোবেসে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক শিশুকে লেখালেখিতে উৎসাহিত করার দারুণ কিছু ট্রিকসঃ-
চিঠি লেখাতে উৎসাহিত করা : শিশুকে চিঠি লিখতে উৎসাহিত করুন। বন্ধুদের জন্মদিনের ছোট্ট উইশ টা ও নিজের ভাষায় লিখতে বলুন। অভিযোগ, অভিমান গুলো দাদার কাছে, মামার কাছে চিঠির মাধ্যমে তুলে ধরতে বলুন। এতে করে শিশু তাঁর ভাবনা জগতকে প্রসারিত করতে পারবে।
গল্প পড়তে,বলতে ও লিখতে উৎসাহ দিন : প্রযুক্তি দিয়েছে বেগ,কেড়ে নিয়েছে আবেগ। তাই শিশুকে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মধ্যে বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস পড়া ও শোনাতে উৎসাহিত করুন। বিভিন্ন স্পেশাল ডে তে তাকে বই উপহার দিন।বই এর রিভিউ টা গুরুজনদের শোনাতে বলুন। বইটা পড়া শেষ করে, তা নিয়ে বেশ কিছু লাইন লিখতে বলুন। এতে করে শিশু লেখালেখির প্রতি আগ্রহী হবে।
ডায়েরি লিখতে দিন : বলা হয়ে থাকে ডায়েরি বিষয়টা সবসময়ই ব্যক্তিগতো।যেখানে নিজের একান্তই ভালো লাগা, খারাপ লাগার কথা থাকে, নিজস্ব চিন্তা চেতনার বিকাশ ঘটবে,আত্মবিশ্বাস বাড়বে। দৈনন্দিন আলাপন ডায়েরিতে লেখার মধ্যে দিয়ে শিশু তাঁর লেখালেখির জগতে পদচারণা করার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
কবিতা লেখা : শিশুর মনে অনেক সময়ই ছন্দের তালে তালে শব্দ অনায়াসে চলে আসে। তখন সে কবিতার প্রতি ঝুঁকে। বিভিন্ন আশা,প্রত্যাশা কবিতার মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে। আর কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে শিশুতোষ কবি মনের উন্মেষ ঘটে। তাই শিশুর ছোট্ট কোমলময় জগতটা গড়ে উঠুক কবিতাময়।
ভ্রমণকাহিনী লেখা,গল্পের পট সৃষ্টি : মামার সাথে বই মেলায় একদিন কিংবা জাদুঘরে একদিন এমন টাইপস এর বহু গল্প শিশুদের মনে দারুণ প্রভাব ফেলে এবং নিজেরা ও চায় ঘুরে আসতে, কাহিণী গুলো গল্পের ছলে জানাতে বন্ধুদের। সেজন্য লেখালেখি শুরু করার একটা অংশ জুড়ে থাকুক শিশুর ভ্রমণকাহিনী। মামা বাড়িতে যাওয়া কিংবা বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার নানা কাহিণী বর্ণিত হোক শিশুর সহজ সরল বাক্যে,প্রাণবন্ত এক লেখা শিশুকে লেখক হতে সাহায্য করবে।
লেখালেখিতে উৎসাহ : সৃজনশীলতা বিকাশে শিশুকে তার মনোজাগতিক বিকাশ সাধনে, শিশুর কল্পনার লেখাটি সুন্দর করে গুছিয়ে তুলতে শিশুকে লেখালেখিতে উৎসাহ করা অতি প্রয়োজন।
তাই শিশুকে সুন্দরচিত্তে,ক্রিয়েটিভ মাইন্ড ও জিনিয়াস হিসেবে গড়ে তোলতে শিশু লেখালেখি করবে। প্রতিভা এবং আগ্রহকে কাজে লাগানোর জন্য শিশু লেখালেখি করবে। তাঁর এই অনবদ্য সৃষ্টি প্রকাশিত হবে বিভিন্ন শিশুতোষ ম্যাগাজিনে, যা দেখে শিশু আরো আগ্রহী হয়ে উঠবে। নিজেকে জানান দিতে শিশু লেখালেখি করবে।
07/04/2021
শিশুরা আছে বলেই বোধহয় এই পৃথিবীটা এখনো অনেক বেশি সুন্দর। তেমনি একটা ঘটনা শুনুন। করোনাকালে বিভিন্ন দেশের মানুষের দুর্দশা সম্পর্কে জানতে গিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের কথা জানতে পারে জাপানি চার শিশু সুজুকি, আন, তাইকি ও ইয়ুকি। এদের সবার বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। সবাই প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থী।
এই চার শিশু রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে থাকা শিশুদের জন্য ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ নামে তহবিল খোলে। শুরুতে তাদের উদ্দেশ্য ছিল ১ লাখ ইয়েন বা আনুমানিক ৯০০ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করে সেই টাকায় লেখাপড়ার সামগ্রী কিনে বাংলাদেশে পাঠানো। কিন্তু ক্রাউড ফান্ডিংয়ে যে এত সাড়া পাওয়া যাবে, তা ওরা ভাবতে পারেনি।
গত বছর আগস্ট মাস থেকে শুরু করে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে প্রায় ২৭ হাজার মার্কিন ডলারের (৩০ লাখ ইয়েন) বেশি অর্থ জমা পড়ে তহবিলে। জাপানের দৈনিক পত্রিকা মায়নিচি শিম্বুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য এ বছর জানুয়ারিতে ওই চার শিশুকে ‘সিটিজেন অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার দেওয়া হয়।
তহবিলে জমা হওয়া অর্থ কীভাবে খরচ করলে ভালো হবে, সেই উপদেশ নিতে দলের সবচেয়ে বড় সদস্য—১২ বছর বয়সী সুজুকি টেলিফোনে বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতোর সঙ্গে কথা বলে। রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে সোমা। রাষ্ট্রদূতের পরামর্শে মোট জমা হওয়া অর্থ কয়েকটি অংশে ভাগ করে প্রতি তিন মাস অন্তর বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় শিশুরা। এরপর ৪ লাখ ইয়েন বা ৩ হাজার ৬০০ ডলারের প্রথম চালান জানুয়ারি মাসে তারা শরণার্থীশিবিরের একটি কার্যালয়ে পাঠায়, যা দিয়ে রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য খাতা, স্কুলব্যাগ এবং বইপত্র কেনা হয়।
গতকালই আরেকটা খবরে অভিভূত হলাম। ১১ বছর বয়সী একটি শুিশু জানতে পারে তার ক্যানসার এবং সে আর বাঁচবে না। ওই শিশুটি মারা যাওয়ার একটি বাচ্চাকে তার কিডনি এবং আরেকটি বাচ্চাকে তার চোখ দান করে যায়। শিশুটির মৃত্যুর পর ডাক্তার এবং নার্সরা মাথা নিচু করে শিশুটিকে সম্মান জানায়।
আমি মহৎ মানুষদের জীবনী পড়ে দেখেছি, এই পৃথিবীর যারা বড় মানুষ দেখবেন বেশিরভাগই শৈশব কৈশোর থেকে পৃথিবী আর মানুষ নিয়ে ভাবতেন। তারা সেই মূল্যবোধ শিখতেন পরিবার ও সমাজ থেকে। আসলেই মূল্যবোধ শেখার সবচেয়ে বড় জায়গা পরিবার। কিন্তু বাবা-মারা সন্তানদের বললেই কী তারা শিখে যাবে?
মনে রাখবেন, সন্তানকে যতোই ভালো উপদেশ দেই না কেন, ওরা কিন্তু আমাদের জীবনকে অনুসরণ করবে, উপদেশকে নয়। উদাহরণ দিয়ে বোঝাই। আপনি অসৎ পথে আয় করবেন, হারাম খাবেন আর সন্তানকে সততার কথা বলবেন তাতে কাজ হবে না। আপনার সন্তান যখন দেখবে আপনি একটা চাকুরি করেন কিন্তু বেতনের চেয়ে আপনার খরচ বেশি, ঘুষের আয়, আপনার সন্তান কিন্তু আপনাকে শ্রদ্ধা করবে না। তার মধ্যে মূল্যবোধ তৈরি হবে না।
পাশাপাশি শিশুরা দেখে আপনারা কী নিয়ে কথা বলছেন। দেখেন, ১৫ বছর বয়সী সুইডিশ কিশোরি গ্রেটা থুনবার্গের কথা জানি যে সারা বিশ্বের পরিবেশ নিয়ে ভাবছে। পৃথিবীকে বাঁচাবার জন্য লড়ছে। এটা কিন্তু এক দিনে হয়নি। সে তার চারপাশ থেকে শিখেছে কেন পরিবেশের যত্ন নেয়া জরুরী। কিন্তু আমাদের এখানে আমরা কী করি? কী নিয়ে আলোচনা করি? কী দেখে আমাদের সন্তানরা চারপাশে? কয়জন আমরা আরেকজনের বিপদে দাঁড়াই আমরা? কয়জন নারীদের সম্মান করি। আমাদের সমাজ আমাদের কী শেখাচ্ছে? এলাকায় কাদের দাপট? আচ্ছা বলেন তো আমাদের শিশু-কিশোররা কাদের দেখে শিখবে? তাদের সামনে আইকন কে?
আমাদের সবার মনে রাখা উচিত, আমরা নিজেরা ভালো না হলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ভালো করা কঠিন। কাজেই চলুন আমাদের সন্তানদের আমরা ভালো মানুষ বানাই। মূল্যবোধ শেখাই। আর সবার আগে সেটা পরিবার থেকেই করতে হবে। আর সেটা শেখাতে হলে নিজেদের মুল্যবোধের চর্চা জরুরী। কাজেই চলুন আগে নিজেদের বিবেক জাগ্রত করি। জাপানি চার শিশুর জন্য ভালোবাসা। ভালোবাসা পৃথিবীর সব শিশুদের জন্য। shariful hasan
22/03/2021
প্রেম, যৌনতা ও শরীর নিয়ে ছেলের প্রতি মায়ের চিঠি
এ লেখাটি ইংরেজী থেকে বাংলায় ভাষান্তরিত। গুড ম্যান প্রজেক্ট ম্যাগাজিনে এ লেখাটি প্রকাশিত হয়। লিখেছেন জোয়ানা শ্রোডার। শিরোনাম- 7 Things I’m not afraid to tell my sons about love, s*x, and their bodies. ফেমিনিস্ট ফ্যাক্টরের পাঠকদের জন্য লেখাটি বাংলা করেছেন শাহান আহমেদ
আমি জানি মা হিসেবে আমি হয়ত বিরক্তিকর। কেননা আমি প্রতিবার তোমার গোসলের সময় বাইরে থেকে জানতে চাই, ঠিকঠাকভাবে শরীর পরিষ্কার করেছো কি না। এমনকি তোমার নিজের গোসল তুমি নিজে করা শিখে ওঠার পরেও হয়ত আমি এমন ছোট্ট ব্যাপার তোমাকে মনে করিয়ে দেই যা তোমাকে বিরক্ত করে।
কিন্তু এর বাইরে আজ আমি তোমাকে এমন কিছু বিষয়ে বলব যা আমার বলা কর্তব্য। শুধু তোমার মা হিসেবে নয়, ছেলে সন্তান হিসেবে যৌনতা, শরীর ও লজ্জার যে কিছু বিশেষ অনুভূতি এ সমাজ তোমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে সে ব্যাপারে সচেতন করতে তোমার সঙ্গে কথা বলব।
আমি তোমার প্রতি আমার বক্তব্য এখানে লিখছি কেননা অন্য বাবা-মারাও যেন তাদের ছেলে সন্তানের এসব ব্যাপারে সচেতন হয়ে ওঠেন।
পুরুষালি হওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই তোমার
পুরুষের বয়স হওয়ার আগেই ছেলেদের ওপর পুরুষালি আচরণ করার জন্য বহু চাপ থাকে। একটি ছেলে বাচ্চার বয়স দুই বছর পেরোতে না পেরোতেই অনেকেই বলতে শুরু করে ‘বাপের বেটা’, ‘ছেলে হতে হলে এমনই’, ইত্যাদি। উপযুক্ত বয়স হওয়ার আগেই তোমাদের প্রতি এমন মন্তব্য পুরুষালি ভাবভঙ্গির স্বীকৃতি হিসেবে বলা হয়ে থাকে। আমি মনে করি একটি বাচ্চা ছেলের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় বাধা।
শুধু জেনে রাখ, বেশিরভাগ ছেলেরা যা পছন্দ করে তুমিও যদি তা পছন্দ কর; তবুও পুরুষ হতে হলে তোমাকে যা যা করতে বলা হয়েছে তার সবটাই করার প্রয়োজন নেই তোমার। অন্যরা যেসব আচরণকে মেয়েসুলভ বলে থাকে এমন কিছু যদি তুমি করতে পছন্দ কর, তবে শুনে রাখো আমাদের তাতে কিছু আসে যায় না। তুমি গোলাপি রঙের জামা পরো বা না পরো, এটা আসলে শুধুমাত্র অন্যসব রঙের মত একটি রঙ। তুমি ফুটবল খেলা পছন্দ করো বা না করো, তুমি নেইল পলিশ ব্যবহার করতে পছন্দ করো বা না করো এর কোনটাই তোমাকে মেয়েলি বা পুরুষালি হতে সাহায্য করবে না। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, এসব ব্যাপারে তোমার সিদ্ধান্ত একান্তই তোমার। তোমার পছন্দ অপছন্দ আমরা ঠিক করে দেওয়ার কেউ নই। জেনে রেখো তোমাকে পুরুষ হয়ে উঠতে চাপ দিচ্ছে এই সমাজ। তোমাকে কঠোর হওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। কিন্তু তাতে সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন নেই তোমার। তুমি চাইলে কাঁদতে পারো। বিশ্রাম নাও, আমরা সবসময় তোমার পাশে আছি।
তোমার শরীর স্বাধীন, একচ্ছত্র অধিকার শুধু তোমার
শরীরের স্বাধীনতা? এর মানে কী ? এর মানে হলো তোমার শরীরের অধিকার তোমার। তোমাকে যদি কেউ জড়িয়ে ধরে আর তোমার তা ভাল না লাগে তুমি আমাদের জানাতে পারো।
সবচেয়ে ভাল হল তুমি এমন মানুষের সঙ্গে চলবে যারা কারো শরীরে স্পর্শ করার আগে অনুমতি নেওয়ার মত যথেষ্ট সভ্য। আমরা বিশ্বাস করি তোমার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ তোমার। তোমার লিঙ্গ ও যৌনতা, এমনকি তোমার যৌন আকাঙ্ক্ষার প্রকাশের বিষয়টিও তোমার নিজস্ব ব্যাপার।
কারো সম্মতি ছাড়া কখনই কারো শরীরে স্পর্শ করবে না
তুমিও কাউকে তার সম্মতি ছাড়া কখনই স্পর্শ করবে না। তোমার হাত নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এর অর্থ হলো তোমার হাত যেন অন্যের অসুবিধার কারণ না হয়। তুমি যদি কাউকে স্পর্শ করতে চাও তবে আগে জিজ্ঞেস করে নাও। এমনকি তুমি যখন ডেটিং শুরু করবে তখন কাউকে স্পর্শ করতে চাইলে বা চুমু খেতে চাইলে তাকে আগে জিজ্ঞেস করে নাও তুমি কি তাকে চুমু খেতে পারবে কি না? এমন ভাবে জিজ্ঞেস করো যেনো আবেদন থাকে সেই জিজ্ঞাসায়। আবার তাকে স্পর্শ বা চুমু খেতে গিয়ে তার ‘না’ বলা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। কারো ‘না’ বলা পর্যন্ত এগিয়ে যেও না। যদি সে ‘না’ বলে তাহলে বুঝো যে তুমি এমন কিছু করছো যার জন্য তোমার অনেক দেরি হয়ে গেছে।
এমন মানুষের কাছে সম্মতি চাইতে যেও না, যে সম্মতি দেওয়ার মত অবস্থায় নেই। এটা যদিও খুব সহজ কথা তবুও মনে রাখার জন্য বলে রাখলাম।
আমি জানি তুমি যেদিকেই তাকাও, শক্ত পেশি ও সরু কোমরের পুরুষ দেখে থাক। তুমি হয়ত স্পাইডারম্যান বা সুপারম্যানের এখন সরু কোমর আর পেশিবহুল সিক্সপ্যাক শরীর দেখছো। তবে তোমার জেনে রাখা ভাল, একসময় এই চরিত্রগুলোর অভিনেতারা সাধারণ দেখতে পুরুষের মতই শরীর ছিলেন। আজকাল উইলভারিনের হিউ জ্যাকমেন পুরুষালি মডেল হিসেবে নাম করেছেন। কিন্তু তোমার এটাও জেনে রাখা ভাল, সিনেমাতেও তিনি একজন সাধারণ মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেননি। তিনি একজন মিউট্যান্ট হিসেবে অভিনয় করেছেন। জ্যাকম্যানের এই পেশিবহুল শরীর তৈরিতে তাকে দিনের পর দিন দক্ষ প্রশিক্ষক ও পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়েছে। এরকম শরীর বানানো তার পেশাদারিত্বের অংশ। তার মত দেখতে তোমাকেও হতে হবে এমন কোন কথা নেই। কেননা এটা তোমার পেশা নয়। জ্যাকের মত তোমার শরীর হওয়ার প্রয়োজন নেই। এরকম শরীর ছাড়াও মানুষ তোমাকে পছন্দ করবে, তোমার বন্ধু হবে, তোমার সঙ্গে ডেট করবে। তুমি তোমার শরীরের প্রতি এমনভাবে যত্ন নেবে যাতে দীর্ঘদিন তুমি সুস্থ থাক। প্রয়োজনীয় শরীরচর্চা করবে ও তোমার শরীরের জন্য উপযুক্ত পুষ্টির যোগান দেবে।
মনে রেখ, একজন মডেলের মত পুরুষালি শরীর হওয়ার প্রয়োজন নেই তোমার, শুধু তুমি তোমার নিজের মত হও, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হও। তোমার শরীরের আকার বা গঠন নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
মাদক নেবে না
তুমি হয়ত ভাবছো আমি আর তোমার বাবা যৌন ও যৌনতার ব্যাপারে যত উদার উপদেশ দিচ্ছি মাদকের বেলায়ও তাই হব? না। তা হতে যাচ্ছে না।
তোমার আশেপাশের বন্ধুবান্ধবদের হয়ত মাদক নিতে দেখবে তুমি। তুমি হয়ত মাদক কেমন তা একবার পরীক্ষা করতে চাইবে। কিন্তু জেনে রেখো, এই পরীক্ষা পর্ব থেকে তুমি কতদূর গড়াবে তার কোনো নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। এর পরিণতি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
মাদক গ্রহণ ছাড়া পৃথিবীতে আরও হাজার ধরণের কাজ আছে যা তোমাকে উত্তেজিত করবে। তুমি বাইক রাইডিং করতে পারো, নতুন ভিডিও গেম খেলো, থিয়েটারের হাজার মানুষের সামনে অভিনয় করো এরকম হাজার কাজ আছে যা তোমাকে উত্তেজনার চরমে পৌঁছাবে।
মাঝে মাঝে একা থাকা ভাল
মাঝেমাঝে একা থাকলে ভাল লাগে, এটা সবাই জানে। তবুও আমি তোমাকে এটা বিশেষভাবে আবার বলব। মনে রাখবে, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে সবারই ভালো লাগে। কিন্তু সবসময় তোমার আশেপাশে বন্ধুবান্ধবের হইহুল্লোড় থাকবে না। তাই সবচেয়ে ভাল হলো নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করা যাতে প্রতিদিন কোন একটি সময় একেবারে একা কাটাও তুমি। সব ধরণের প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যম থেকে একটা সময়ের জন্য দূরে থাকো। এ সময় অবশ্য তুমি পড়তে পারো, ভাবতে পারো, লিখতে পারো, মেডিটেশন করতে পারো। তুমি যা করতে পছন্দ করো তা একা এই সময়ে যদি করো তবে তা তোমাকে শান্ত ও মনযোগী হতে সাহায্য করবে। তুমি নিজেকে সম্মান করতে শিখবে তাতে। তোমার যদি কোনো প্রেমিক বা প্রেমিকা হয়ে ওঠে, তবে আমরা জানি একা থাকা কঠিন। কিন্তু মনে রাখবে তুমি একাই তোমার নিজের জন্য যথেষ্ট। তাই নিজেকে সময় দাও।
তোমার আকাঙ্ক্ষার জন্য লজ্জিত বা ভীত হবে না, এটা স্বাভাবিক, কিন্তু…
তুমি যখন বড় হতে থাকবে তখন খুব স্বাভাবিকভাবে তোমার মধ্যে যৌনতার প্রতি আগ্রহ জন্ম নেবে। তোমার শরীরে কাম উত্তেজনা জাগবে। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। যৌনতার দিক থেকে তুমি হয়ত সমকামী বা উভকামি অথবা একজন হিজড়াও হতে পারো। এই স্বাভাবিক বিষয়কে অনেকেই অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করবে তোমার কাছে। যা মোটেও ঠিক নয়। মানুষ তার নিজের অদ্ভুত লজ্জার অনুভূতি তোমার উপর চাপাতে চাইবে। তাদেরকে পাত্তা দিও না।
তোমার যৌন চাহিদা যেরকমই হোক, তুমি খুবই ঠিক আছো। তুমি যখন প্রবল যৌন আকাঙ্ক্ষা অনুভব করবে তখনও তুমি ঠিক আছো। এটা স্বাভাবিক। অনুভূতি শুধুই অনুভূতি। আমরা কী অনুভব করবো তা নিয়ন্ত্রণ করার সাধ্য আমাদের নেই। তবে আমরা কী আচরণ করব তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আমাদের কাছে।
তুমি কত গভীরভাবে কাউকে চাও বা কত দৃঢ়ভাবে কারো মনোযোগ আকর্ষণ করার ইচ্ছা জাগে তোমার মনে, তা দিয়েও তুমি অন্য কারো মনোযোগ বা যৌন সাড়া পাওয়ার অধিকার রাখো না। তাই তোমার আচরণ হতে হবে সভ্য। কারো জন্য তোমার যতই প্রবল কামনা বাসনা জন্ম নিক, তবুও তাকে বিরক্ত করার কোনো অধিকার তোমার নেই।
তোমাকে হয়ত অনেকে বলবে, প্রেম ও যৌনতায় দুজনের অতো বেশি বোঝাপড়া না থাকলেও চলে। হয়ত অনেকেই খুব একটা বোঝাপড়া তৈরি না করেও যৌন সঙ্গম উপভোগ করে। তবে একটি সুস্থ ও উপভোগ্য যৌন জীবনের জন্য তোমাকে সঙ্গীর প্রতি সৎ হতে হবে। উদারতা থাকতে হবে। এবং তোমার সঙ্গী ও নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সচেতন থাকবে।
আকাঙ্ক্ষা ও কামনা দারুণ ব্যাপার। এ নিয়ে আলোচনা করা মোটেও দোষের বা লজ্জার কিছু নয়।
11/02/2021
11 Things You Need to Know About COPPA and Kid's Content on YouTube TODAY
Carla Marshall in
COPPA & FTC
March 10th 2020
Huge changes were made on YouTube today regarding kid's content that EVERY creator needs to act on. Find out how COPPA will affect your YouTube channel and content settings from now on.
Today, YouTube announced official changes to the way it treats kid’s content on the platform, and how those changes affect every single creator. Whether they publish child-focused content or not.
We wrote about the devastating impact the September 2019 FTC decision would have on YouTube creators who publish kid's content, and now in a new video (see below), the Head of Family Partnerships at YouTube confirmed how these changes will affect the upload process, your existing library of content, and “potentially” the way you monetize that content. The changes come into effect after YouTube settled with the FTC over the platform's COPPA Rule violations. The Children's Online Privacy Protection Act (COPPA) is a 1998 U.S. law created to protect the privacy of children under 13. Under the law, digital entities are restricted from collecting personal information from users aged under 13 without the express permission of their parents or guardians.
COPPA and YouTube: 11 Things Creators Need to Know Right Now
#1 How does the new COPPA law affect me as a YouTube Creator?
Ready to grow your YouTube channel?
It's FREE to get started
Sign Up for FREE
In order to help you comply with the law, YouTube now requires you to mark all of your videos as made for kids or not. The platform has rolled out a new audience setting that lets you tell it whether your videos are made for kids or not. YouTube is using machine learning systems to help them find content that is clearly made for kids. But, it advises creators NOT to rely on that method as it’s not perfect.
#2 As a creator, will I really face a fine of over $42K if I don't comply?
Potentially, yes. Under COPPA, the FTC is entitled to seek around $42,000 for each mislabeled video. If your entire channel is comprised of content aimed at kids that's going to a huge monetary penalty.
#3 What if I don't label my content as aimed at kids?
If you don't set your own audience or if YouTube detects any sign error or abuse, it has warned that it may set your audience for you.
#4 How do I comply with COPPA law on YouTube?
There are two ways to set your audience on YouTube to comply with COPPA law; at the individual video level or at the channel level:
#5 How do I update my Audience settings at video level?
To confirm whether previous uploads are content that was made for children, go to your ‘Videos’ tab in YouTube Studio, then select the videos you need to edit, then go to ‘Audience.’ On this page, you will now be prompted to answer this question every time you upload a new video. Of course, if you've already set your audience at the channel level, then this setting will be automatically selected for you.
#6 How do I update my Audience settings at channel level?
YouTube states that if you can confirm your entire channel features uploaded video that are either made for kids, or not made for kids, you can confirm this by going into ‘Settings’ in the YouTube Studio, then clicking on the ‘Channel’ tab, then on ‘Advanced Settings’, then go to the Audience’ section and choose an option that best describes your channel’s focus. By doing this, you will update the settings to all older videos and your new uploads too.
__ #7 What is considered as “Kid’s Content” anyway?: __
YouTube stated that when deciding whether your video content is aimed at kid’s or not, consider the following:
What is the subject matter of your video?
Whether children are your intended audience for the video
Whether the video includes child actors or models
Whether the video includes characters, celebrities or toys that appeal to children, including animated characters or cartoon figures.
Whether the language of the video is intended for children to understand
Whether the video includes activities that appeal to children
Whether the video includes songs, stories, or poems that appeal to children
__ #8 How old is a kid under the new rules? __
In the US, it’s anyone under 13.
__ #9 If I set my content as made for kids, what does this mean for my channel? __
YouTube clearly states that if your video content is aimed towards children, the platform now HAS to start limiting the data it collects on these viewers. It will also remove features including:
Comments
Personalized ads (so some creators may see a decrease in revenue).
Info cards
End screens
Stories
Community Tab
Notification Bell
The ability for viewers to save videos, watch them later, or save to a playlist.
#10 What happens if YouTube thinks my video was made for kids but I disagree. Can I appeal?
You have the option to send feedback to YouTube on this.
__ #11 What happens if creators mark their video's audience incorrectly? __
This will result in compliance issues under COPPA and may “result in consequences for your channel or videos.”
Stay tuned for more information on this topic from vidIQ.
05/02/2021
এরকম হাজারো সিয়াম আজ খাচা বন্দি। তাদের জন্য কিছু করা দরকার... খুজলে আপনার বাড়ির আশেপাশেই হয়তো পেয়ে যাবেন এমন অনেক সিয়ামকে। সুযোগ পেলেই খাচা থেকে বের করে আনুন আর মুক্ত আকাশে উড়তে হেল্প করুন...
02/12/2020
নাসায় ৯ লাখ টাকা বেতনের এক চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেছিল ৪র্থ শ্রেণিতে পড়া একটি শিশু (Jack Davis).
NASA তার চিঠির উত্তরও দিয়েছিলো এভাবে-
"প্রিয় জ্যাক, এটা শুনে আমরা সবাই খুব খুশি হয়েছি যে তুমি নাসায় চাকরি করতে চাচ্ছো। আমরা আশা করি, তুমি খুব ভালোভাবে পড়াশোনা করবে এবং সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নাসায় তোমার কাঙ্খিত চাকরিটা করতে পারবে"
26/11/2020
বাংলাদেশ টেলিভিশনে মেঠো সুর অনুষ্ঠানে দলীয় গান পরিবেশন করবেন। মনোয়ার শিল্পী গোষ্ঠী। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন। শ্রদ্ধেয় স্যার মোঃ লুৎফর রহমান রবিন। সবাইকে দেখার জন্য আমন্ত্রণ রইলো।
24/11/2020
আমাদের মেয়ে রিমঝিম আজ এঁকেছে ছবিটা। বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে মামাতো বোন জিসাকেই এঁকেছে বোধহয়।
ছবি আঁকায় ভীষণ আনন্দ ওর। sazzad bokul
13/11/2020
অভিনন্দন চ্যাম্পিয়ন 💯💯💯
আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি কিশোর সাদাত রহমান। সাইবার অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে একটি অ্যাপ তৈরি করে এ সাফল্য পেয়েছেন তিনি। শিশুদের নোবেল’ বলা হয় এই পুরষ্কার কে।
07/11/2020
নিমাই ভট্টাচার্যের বই আমি আগে পড়ি নাই। তবে মেমসাহেব নামে তার একটা বিখ্যাত বই আছে এ কথা কে না জানে। সেদিন ঘটনাচক্রে বইটা হাতে এল। আমার একটা বদ অভ্যাস হল বই হাতে আসলে মূল গল্প শুরু হওয়ার আগে একেবারে কভার থেকে ভেতরে যা যা থাকে সব পড়ি। নাম, প্রকাশক, প্রকাশকাল, মূল্য, প্রচ্ছদ, ডিসট্রিবিউশন, সংস্করণ, মূদ্রণ পারলে আইএসবিএন নাম্বারটাও দেখি। মেমসাহেব পড়তে গিয়েও সেইরকম করলাম। এইসব পার করতেই গোটা পৃষ্টা জোড়া লেখকের অন্যান্য বইয়ের একটা তালিকা দেওয়া। নিমাই ভট্টাচার্যের বইয়ের সংখ্যা এত? ১০৯ টার তালিকা এখানে? অথচ এর একটাও পড়ি নাই? এক মেমসাহেব বিনে আর কিছুর নামই শুনি নাই? নিজেকে গাল দিলাম মনে মনে। পড়া শেষ করেও গাল দিলাম নিজেকে। তবে দুই গালির মধ্যে বিস্তর ফারাক। যে আগ্রহ নিয়ে শুরু করেছিলাম বইটা, কয়েক পাতা পড়েই ধীরে ধীরে হোচট খেতে শুরু করলাম।
গল্পের শুরুতেই লেখক যে দোলা বৌদিকে চিঠি লিখতে শুরু করলেন বাস্তবিক পক্ষে গোটা বইয়ে দোলা বৌদিকে জীবন্ত খুঁজে পাওয়া গেল না। নিমাই সাহেব শুধু তাকে চিঠি লিখলেন, সে কে, তার কি ভূমিকা কিছুই প্রকাশ করলেন না। এইটা পাঠকের সাথে প্রতারণার সামিল। দোলা বৌদিরে হাজির করতে পারতেন তিনি। যদি না-ই করলেন, তবে তাকে এত গুরুত্ব দিয়ে বারবার কাহিনীর বয়ান বিরক্তির উদ্রেক করেছে।
এইখানে আমি মেমসাহেবের কাহিনী টাহিনী কিচ্ছু বলব না। যার যার লাগে পড়ে নিবেন। এইটা পড়ে আমার কি কি মনে হয়েছে সেইটাই বলার চেষ্টা করব আছান ভাষায়। প্রথমত যেটা হয়েছে, মেমসাহেব শুরু করার আগে নিমাই ভট্টাচার্যের একশ নয়টা বইয়ের তালিকার সবগুলোই না পড়া দেখে যে আফসোস তৈরি হয়েছিল, সেইটা কিছুটা প্রশমন হয়েছে। আরেকটু শক্ত করে বলতে গেলে বাকিগুলো পড়ার আগ্রহে যেন খানিকটা ভাটার টান লক্ষ করলাম।
লেখকের নিজের বয়ানে বলা হয়েছে গল্প। প্রথম কয়েক পাতা বেশ আগ্রহের সাথেই পড়লাম। বেশ রোমান্টিক ব্যাপার স্যাপার। কিন্তু যতই পাতা উল্টাতে লাগলাম মনে হতে লাগল নিমাই সাহেব যেন কিছু শব্দের জালে আটকা পড়ে গেছেন। বারবার ঘুরে ফিরে আসছে শব্দগুলো। একই চিত্রের ভিন্ন বর্ণায়ন পুনঃপুনঃ উপস্থিত হতে লাগল। এবং গোটা বই এইভাবেই শেষ হয়ে গেল। কতবার যে নিমাই মেমসাহেবের হাত নিজের হাতে টেনে নিয়েছেন পুরো গল্পে, কতবার যে আদর করেছেন তার বর্ণনা একই ধাঁচের। “ইচ্ছে কর মেমসাহেবকে টেনে নিই বুকের মধ্যে। ইচ্ছে করল আদর ভালোবাসায় ওকে স্নান করিয়ে দিয়ে বলি, সেদিন তোমাকে হ