03/05/2026
সমাজে এখনো এমন মানুষ রয়েছেন যারা কোরআনের আয়াত বা আরবি শব্দ থেকে নাম রাখেন, কিন্তু সেই শব্দগুলোর প্রকৃত অর্থ কী, তা জানেন না বা জানার চেষ্টা করেন না।
যেমন “রাজীম” (رَجِيم) অর্থ: অভিশপ্ত/বিতাড়িত “তুকাজ্জিবান” (تُكَذِّبَانِ) অর্থ: তোমরা উভয়ে অস্বীকার করছ “খিনজীর” (خِنْزِير) অর্থ: শূকর
এছাড়াও এমন অনেক শব্দ আছে, যেগুলো কোরআনে এসেছে কিন্তু নাম হিসেবে উপযুক্ত নয়।
“লাহাব” (لَهَب) জ্বলন্ত আগুনের শিখা
“হুতামা” (حُطَمَة) চূর্ণ-বিচূর্ণকারী আগুন
“সাকার” (سَقَر) জাহান্নামের একটি স্তর
একটু চিন্তা করুন অর্থ না জেনে এমন শব্দ দিয়ে নাম রাখা কতটা বেমানান!
28/01/2026
সিজদায় ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) পাঠ করার ফজিলত অত্যন্ত বেশি। সিজদা হলো নামাজের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ অংশ, কারণ এ সময় বান্দা তার প্রভুর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। হাদিসে এসেছে:
বান্দা যখন সিজদায় থাকে, তখন সে তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী অবস্থায় থাকে। সুতরাং তোমরা সিজদায় দোয়া বেশি করো। (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮২-৪৮৩)।
সিজদায় ইস্তিগফার পড়া সুন্নাহ এবং এর মাধ্যমে গুনাহ মাফের জন্য বিশেষ দরখাস্ত করা যায়। নিচে কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. সিজদায় ইস্তিগফারের সুন্নাহ দোয়া
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় বিভিন্ন দোয়া পড়তেন, যার মধ্যে ইস্তিগফার অন্যতম।
✅ সবচেয়ে সহজ ও প্রসিদ্ধ দোয়া:
رَبِّ اغْفِرْ لِيْ
(উচ্চারণ: রাব্বিগফিরলী)
অর্থ: হে আমার প্রভু! আমাকে ক্ষমা করে দিন।
হুযায়ফা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই সিজদার মাঝখানে বসে বলতেন:
رَبِّ اغْفِرْ لِيْ رَبِّ اغْفِرْ لِيْ
(রাব্বিগফিরলী, রাব্বিগফিরলী)
(সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৭৭২; মিশকাত, হাদিস: ৯৮৯)
এটি সিজদার মধ্যে বা দুই সিজদার মাঝে পড়ার জন্য সুন্নাহ।
✅ আরেকটি বিস্তারিত দোয়া সিজদায়:
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় বলতেন:
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ
(উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলী যানবী কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু ওয়া আলানিয়্যাতাহু ওয়া সিররাহু।)
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিন— ছোট-বড়, প্রথম-শেষ, প্রকাশ্য-গোপন সব।
(সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮৩)
২. সিজদায় ইস্তিগফার পড়ার ফজিলত
✅ সিজদা দোয়া কবুলের সবচেয়ে উত্তম সময়। সিজদায় ইস্তিগফার পড়লে গুনাহ মাফের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
✅ নামাজের প্রতি রাকাতে দু'বার সিজদা করা হয়, ফলে প্রতি নামাজে কমপক্ষে দু'বার (বা আরও বেশি) ইস্তিগফারের সুযোগ পাওয়া যায়।
✅ এটি নিয়মিত করলে গুনাহ থেকে পবিত্রতা অর্জন হয় এবং আল্লাহর রহমত নাযিল হয়।
✅ ইস্তিগফার সাধারণভাবে (সিজদার বাইরেও) অসংখ্য ফজিলতের অধিকারী। যেমন: দুশ্চিন্তা দূর করা, রিযিক বৃদ্ধি, সংকট থেকে মুক্তি ইত্যাদি (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ২২৩৪— সহীহ)। সিজদায় পড়লে এ ফজিলত আরও বেড়ে যায়।
৩. কুরআনের আলোকে ইস্তিগফারের গুরুত্ব
কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বারবার ইস্তিগফারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর ফজিলত বর্ণনা করেছেন:
✅ وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
(সূরা বাকারা: ১৯৯) — আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।
✅ فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ
(সূরা হুদ: ৩) — তাঁর কাছে ক্ষমা চাও এবং তাঁর দিকে ফিরে আসো।
✅ নবী-রাসূলগণও (যেমন নূহ, ইবরাহীম, মূসা আ.) ইস্তিগফার করতেন এবং উম্মতকে শেখাতেন।
৪. সারসংক্ষেপ (প্র্যাকটিক্যাল পরামর্শ)
প্রতি সিজদায় অন্তত রাব্বিগফিরলী বলুন (১-৩ বার)।
সময় থাকলে উপরের বিস্তারিত দোয়া পড়ুন।
নামাজে সিজদা দীর্ঘ করুন এবং ইস্তিগফার বেশি করুন— এটি নবীজীর সুন্নাহ।
এভাবে নিয়মিত করলে গুনাহ মাফ, দোয়া কবুল ও আল্লাহর নৈকট্য লাভ হবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সিজদায় ইস্তিগফার করার তাওফিক দান করুন এবং গুনাহ থেকে ক্ষমা করুন। আমীন।
22/01/2026
১.📿সুবাহানআল্লাহ
২.📿আলহামদুলিল্লাহ
৩.📿লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ
৪.📿আল্লাহু আকবর
৫.📿আল্লাহুমা সল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ
৬.📿আস্তাগফিরুল্লাহ
৭. 📿সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম
৮. 📿লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
৯. 📿আল্লাহুমাগফিরলি
১০.📿আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার
১১.📿ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম বিরাহমাতিকা আসতাগিস
১২. 📿ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম
১৩.📿জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা হুয়া আহলুহু
১৪. 📿আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়া
১৫. 📿আস্তাগফিরুল্লাহ ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম
১৬.📿লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন
১৭.📿 ইয়া হালালাল মুশকিলাত
১৮.📿আলহামদুলিল্লাহ আলা কুল্লি হাল
১৯.📿ইয়া আরহামার রাহিমীন
২০.📿ইয়্যা কানাহ'বুদু ওয়া ইয়্যা কানাসতাঈন
২১.📿 আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুসনাল খ তিমাহ
২২.📿 আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুব্বাক
২৩.📿আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ'উযু বিকা মিনান্নার
২৪.📿আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা ওয়াস সাদাত আস সাবুর
২৫.📿লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু আহাদান ছমাদান লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ
২৬.📿লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির
২৭.📿ওয়াল্লাজিনা ইয়াকুলুনা রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আই নিউ ওয়াজ আলনা লিল মুত্তাকীনা ইমামা
২৮.📿ইয়া ওয়াদুদু
২৯.📿 রাব্বি হাবলি মিনাস সলিহিন
৩০.📿ইন্নামা আশকু বাছহি অ হুজনি ইলাল্লাহ
৩১.📿ইন্নাল্লাহা মাআ সবেরীন
৩২.📿হাসবুনাল্লাহু ওয়ানি'মাল ওয়াকিল
৩৩. 📿ইয়া রাব্বিগ ফিরলি
৩৪. 📿সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
৩৫.📿আস্তাগফিরুল্লাহ হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আজিম
পড়া শেষে সবাই আলহামদুলিল্লাহ!😊❤️
উপ-সংহার” এর সকল পোস্টের সাদকায়ে জারিয়ার সওয়াবের একাংশ আপনাদের সকলের ওসিলা হয়ে যাক🤲
— পোস্টটি সদকার নিয়তে শেয়ার করে দিন।
02/01/2026
বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত হাসান বসরি (রহ.)-এর হাতে 'আব্বাস' নামের এক যুবক তওবা করেছিল। কিন্তু সে ছিল দুর্বলচিত্তের। সে তওবা করত, আবার গুনাহে লিপ্ত হতো। এভাবে সে সত্তর বারের অধিক তওবা করেছে এবং প্রতিবারই তা ভঙ্গ করেছে।
জীবনের শেষ মুহূর্তে যখন তার মৃত্যু ঘনিয়ে এল, সে তার মাকে বলল,
"মা! দয়া করে হযরত হাসান বসরি রহ. এর কাছে যাও। তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো, যাতে আমি শেষবারের মতো তার হাতে তওবা করতে পারি। হয়তো আল্লাহ আমাকে মাফ করবেন।"
বৃদ্ধা মা হাসান বসরি রহ. এর কাছে গেলেন এবং সালাম দিয়ে বললেন, "আমি আব্বাসের মা। আমার ছেলে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। সে আপনার হাতে তওবা নবায়ন করতে চায়।"
হযরত হাসান বসরি (রহ.) ভাবলেন, বারবার তওবা ভাঙলে মানুষের মনে পাপের প্রতি ভয় কমে যায়। তাই তিনি তাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এবং তার মনে সত্যিকার অনুশোচনা জাগানোর জন্য কঠোরতা দেখালেন। তিনি বললেন: "যাও, এমন লোকের আমার কোনো প্রয়োজন নেই, যে বারবার তওবা করে আর তা ভাঙে।"
মা কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এসে ছেলেকে জানালেন: "বাবা! তোমার খারাপ কাজের কারণে শায়খ আসতে রাজি হননি।"
এ কথা শুনে আব্বাস আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করল,
"হে আমার ইলাহ! হে আমার মাওলা! শায়খ ( হযরত হাসান বসরি রহ.) আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু তুমি আমাকে তাড়িয়ে দিও না। তুমি আমার আশা ভেঙো না।"
সে মাকে বলল: "মা! আমি মারা গেলে তুমি আমার কপালে পা রেখো এবং আমার গলায় রশি বেঁধে আমাকে বাজারের রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেও। আর বলবে, 'যে আল্লাহর অবাধ্য হয়, তার শাস্তি এটাই।' হয়তো আল্লাহ আমার এই অপমান দেখে দয়া করবেন।" এ কথা বলেই আব্বাস ইন্তেকাল করল।
মা যখন তার কপালে পা রাখতে উদ্যত হলেন, তখন তিনি যেন একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন,
"থামো! সিজদার জায়গায় (কপালে) পা রেখো না। জেনে রেখো, আল্লাহ তা’আলা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন।" মা খুশি হয়ে তাকে গোসল দিয়ে দাফন করলেন।
সেদিন রাতে হযরত হাসান বসরি (রহ.) এক আশ্চর্য স্বপ্ন দেখলেন। কেউ তাঁকে বলছেন,
"হে হাসান! তোমাকে কিসে বাধ্য করল আমার বান্দাকে আমার রহমত থেকে নিরাশ করতে? আমিই তো তাকে সৃষ্টি করেছি এবং আমার রহমত সব কিছুকে ঘিরে আছে। আমার ইজ্জতের কসম! ভবিষ্যতে আর কখনো এমন করলে তোমাকেও ছাড় দেয়া হবে না ।"
আল্লাহর রহমত মানুষের ধারণার চেয়েও বিশাল। কোনো পাপী বারবার তওবা ভাঙলেও তাকে নিরাশ করা উচিত নয়।
20/12/2025
এক দেশে এক রাজা ছিলেন। তিনি নিয়ত করলেন, সুন্দর একটি মসজিদ বানাবেন। কিন্তু তিনি এক কঠিন শর্ত জুড়ে দিলেন, "এই মসজিদ নির্মাণের কাজে কেউ কোনো সাহায্য করে শরিক হতে পারবে না। পুরো খরচ আমি একা দেব।"
মসজিদ নির্মাণ শেষ হলো। রাজা খুব গর্বের সাথে মসজিদের প্রধান ফটকে নিজের নাম বড় করে লিখে দিলেন।
এক রাতে রাজা স্বপ্নে দেখলেন, আকাশ থেকে একজন ফেরেশতা নেমে এলেন। ফেরেশতা মসজিদের দরজা থেকে রাজার নাম মুছে ফেললেন এবং তার জায়গায় এক নারীর নাম লিখে দিলেন।
রাজা ভয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। তিনি সৈন্যদের পাঠালেন দেখতে যে নাম ঠিক আছে কি না। সৈন্যরা ফিরে এসে জানাল, "মহারাজ! আপনার নামই লেখা আছে।" রাজা ভাবলেন, এটা হয়তো মনের ভুল।
কিন্তু দ্বিতীয় রাতেও তিনি একই স্বপ্ন দেখলেন। তৃতীয় রাতেও একই ঘটনা ঘটল। এবার রাজা সেই নারীর নামটি মুখস্থ করে ফেললেন, যা স্বপ্নে বারবার লেখা হচ্ছিল।
সকালবেলা রাজা সৈন্যদের ওই নারীকে খুঁজে বের করতে হুকুম দিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর সৈন্যরা এক গরিব ও বয়স্ক বৃদ্ধা নারীকে খুঁজে পেল। বৃদ্ধা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে রাজার সামনে উপস্থিত হলেন।
রাজা জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি আমার এই মসজিদ নির্মাণে কোনো সাহায্য করেছ?"
বৃদ্ধা বললেন, "মহারাজ! আমি গরিব মানুষ। তাছাড়া আমি শুনেছি আপনি নিষেধ করেছেন কেউ যেন সাহায্য না করে। তাই আমি কিছুই করিনি।"
রাজা বললেন, "তোমাকে বলতেই হবে তুমি কী করেছ।"
বৃদ্ধা তখন আমতা আমতা করে বললেন, "আমি তো তেমন কিছুই করিনি। তবে..."
রাজা বললেন, "বলো, তবে কী?"
বৃদ্ধা বললেন, "একদিন আমি মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখলাম, মসজিদের নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী একটি পশু (ঘোড়া বা গাধা) খুঁটিতে বাঁধা আছে। পশুটি খুব পিপাসার্ত ছিল এবং কাছেই রাখা পানির বালতি থেকে পানি খাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু রশি ছোট হওয়ায় সে পানি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছিল না। তার কষ্ট দেখে আমার দয়া হলো। আমি শুধু ওই বালতিটা টেনে তার মুখের কাছে এগিয়ে দিলাম। সে তৃপ্তি সহকারে পানি পান করল। ব্যাস, এটুকুই আমি করেছি।"
রাজা অবাক হয়ে বললেন, "সুবহানাল্লাহ! তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সামান্য একটু পানি পান করিয়েছ, আর আল্লাহ সেটা কবুল করে নিয়েছেন। আর আমি এত টাকা খরচ করে মসজিদ বানালাম শুধু 'রাজার মসজিদ' নাম কামানোর জন্য, তাই আল্লাহ আমার কাজ কবুল করেননি।"
রাজা তখন তওবা করলেন এবং নির্দেশ দিলেন মসজিদের দরজা থেকে নিজের নাম মুছে ওই বৃদ্ধার নাম লিখে দিতে। তিনি ওই বৃদ্ধাকে সম্মানিত করলেন এবং তার বাকি জীবনের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে দিলেন।
রাসূল (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" লোকদেখানো বড় কাজের চেয়ে ইখলাসের সাথে করা ছোট কাজ আল্লাহর কাছে অনেক বেশি দামী।
© Nur Islam
সূত্র: আল কিসাসুল ইরফানিয়্যাহ, আল-মাওয়ায়িজুল উসফুরিয়াহ
29/11/2025
এক বুড়ি মা মসজিদের সামনে বসে ভিক্ষা করতো। এক ব্যাক্তি বুড়িকে জিজ্ঞেস করল, আপনার কি উপার্জন করার মত কোনো ছেলে নেই?
বুড়ি: এক ছেলে আছে।
ব্যাক্তি: তাহলে আপনি ভিক্ষা করছেন কী জন্যে?
বুড়ি: আমার স্বামী ইন্তেকাল করেছেন। ছেলে চাকরির জন্য বিদেশে গেছে। যাওয়ার সময় আমাকে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে গেছিল, তা এখন শেষ হয়ে গেছে। এজন্য আমি ভিক্ষা করছি।
ব্যাক্তি: আপনার ছেলে আপনার জন্য বিদেশ থেকে কিছু পাঠায় না?
বুড়ি: পাঠায় তো। প্রতিমাসে রঙ্গিন রঙ্গিন কাগজ পাঠায়। তা আমি যত্নে ঘরের দেয়ালে আটকিয়ে রাখি।
ওই ব্যাক্তি বুড়ির সাথে তার বাড়ি গেল। দেখল দেয়ালে ৬০টি ব্যাংক ড্রাফ্ট আটকানো। প্রতিটি ৫০হাজার টাকার ড্রাফ্ট। পড়তে না জানার কারণে বুড়ি জানতো না, তার কাছে কী পরিমাণ টাকা জমা হয়ে আছে। ওই ব্যাক্তি বুড়িকে ড্রাফ্ট সম্পর্কে জানালো, আরো জানালো এখন কী পরিমাণ টাকা তার জমা আছে।
বুড়ি অত্যন্ত খুশি হলো এবং সাথে সাথে আশ্চর্য হলো যে, এ পরিমাণ টাকা থাকার পরও সে মানুষের কাছে ভিক্ষা করে বেড়াচ্ছিল!
★★
আমাদের অবস্থাও ঠিক বুড়ির মত! আমার কাছে কুরআনের মত সম্পদ আছে, আমরা সেটা চুমু খাই, মাথায় রাখি, বাড়িতে শোকেসে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখি। কিন্তু কুরআন থেকে আমরা উপকৃত হতে পারি না।
আমরা কুরআন থেকে তখনই উপকৃত হতে পারব যদি কুরআনের গুরুত্ব অনুধাবন করে আমরা কুরআন তিলাওয়াত করি, তার অর্থ শিখার চেষ্টা করি এবং তার উপর আমল করি।
বরং যদি কুরআনকে জীবনের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে ইহকাল ও পরকালে সফলকাম হতে পারব।
©
06/10/2025
তুমি কি নবীজি ﷺ-কে স্বপ্নে দেখতে চাও?
তাহলে একটা উপদেশ বলছি, যা তোমার জীবনের ধারা পাল্টে দিতে পারে ইনশাআল্লাহ।
একজন ভালো মানুষ আমাকে একবার এই কথাগুলো বলেছিলেন। আমি তাঁকে জীবনে মাত্র একবারই দেখেছিলাম, কিন্তু তাঁর এই কথাগুলো আমার জীবনে অনেক বড় প্রভাব ফেলেছিল।
আমি একদিন বিদেশের এক মাসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। মাসজিদটি প্রায় খালি ছিলো, শুধু আমি আর এক তাজিক (তাজিকিস্তানের) লোক ছিলাম। লোকটির চেহারা ছিল সাধারণ, কিন্তু তাঁর মুখে এক ধরনের অদ্ভুত নূর (আলোকোজ্জ্বলতা) ছিলো।
আমি ইমাম হয়ে নামাজ পড়ালাম। নামাজ শেষে লোকটি ভাঙ্গা আরবিতে বললেন:
"তোমাকে একটা উপদেশ দিবো, এটি পালন করো।"
আমি বললাম, "বলুন।"
তিনি বললেন:
"তুমি প্রতিদিন ১০০০ বার নাবী ﷺ-র প্রতি দুরূদ পাঠ করো। এটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ভাগ করে নিতে পারো। তুমি অবাক হবে যে কীভাবে তোমার জীবনে পরিবর্তন আসবে।"
তিনি আরও বললেন: "দেখো, তখন আর কোনো চিন্তা তোমাকে দমন করতে পারবে না, কোনো ঋণ তোমাকে কষ্ট দেবে না, আর প্রতিটি কষ্ট থেকে তুমি মুক্তি পাবে।
নবীজি ﷺ তোমাকে কিয়ামাতের দিনে চিনে ফেলবেন। কারণ, তোমার দুরূদ তাঁর কাছে পৌঁছাবে।"
চলে যাওয়ার আগে তিনি হেসে বললেন:
"তুমি তাঁকে স্বপ্নে দেখবে, 'কখনো তোমাকে শান্তনা দিতে, আবার কখনো সতর্ক করতে'।"
আমি সত্যিই সেই উপদেশ মানতে শুরু করলাম। প্রথম তিন বছর কিছুই দেখিনি। তবে আমার জীবন বদলে গেলো, সব কাজ সহজ হয়ে গেলো, আল্লাহর রহমাত ও নিরাপত্তা পেয়ে গেলাম।
এরপর ধীরে ধীরে নবীজি ﷺ-কে স্বপ্নে দেখতে শুরু করলাম। প্রতিটি স্বপ্নে ছিলো বিশেষ বার্তা, 'হয়তো কোনো গুনাহ থেকে সাবধান করা অথবা কোনো ভালো খবর দেয়া'।
আল্লাহর কসম:
আমি যাকে-ই এই উপদেশ দিয়েছি, সবাই-ই নবীজি ﷺ-কে স্বপ্নে দেখেছেন। কখনো সুসংবাদ নিয়ে, কখনো সতর্কবার্তা নিয়ে।
আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি:
যেকেউ প্রতিদিন ১০০০ বার দুরূদ শরীফ পড়বে, সে নিশ্চয়ই নবীজি ﷺ-কে স্বপ্নে দেখবে ইনশাআল্লাহ।
কার্টেসী : শাইখ আহমাদ যায়দান (হাফিজাহুল্লাহ), মিশর।
ভাষান্তর : ইয়াছিন আরাফাত, আল-আযহার ইউনিভার্সিটি, কায়রো।
#দুরূদে জুউমা
Way To Allah
12/05/2025
এক আন্টির বাড়িতে গিয়েছিলাম তো নামাজ পড়ার জন্য জায়নামাজ চেয়েছিলাম। দাঁড়ানোর পরই কেমন একটা অস্বস্তি লাগতেছিলো।
একবার চোখে লেখে ছবিটা আবার ডিজাইনের কারণে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিলো। এইটা কি আসলেই অন্যরকম নাকি আমার চোখের ভুল?💔
18/11/2024
আপনার মতামত জানান।
Ten Unknown Facts About
1. Founding and History: BMW, Bayerische Motoren Werke AG, was founded in 1916 in Munich, Germany, initially producing aircraft engines. The company transitioned to motorcycle production in the 1920s and eventually to automobiles in the 1930s.
2. Iconic Logo: The BMW logo, often referred to as the "roundel," consists of a black ring intersecting with four quadrants of blue and white. It represents the company's origins in aviation, with the blue and white symbolizing a spinning propeller against a clear blue sky.
3. Innovation in Technology: BMW is renowned for its innovations in automotive technology. It introduced the world's first electric car, the BMW i3, in 2013, and has been a leader in developing advanced driving assistance systems (ADAS) and hybrid powertrains.
4. Performance and Motorsport Heritage: BMW has a strong heritage in motorsport, particularly in touring car and Formula 1 racing. The brand's M division produces high-performance variants of their regular models, known for their precision engineering and exhilarating driving dynamics.
5. Global Presence: BMW is a global automotive Company
6. Luxury and Design: BMW is synonymous with luxury and distinctive design, crafting vehicles that blend elegance with cutting-edge technology and comfort.
7. Sustainable Practices: BMW has committed to sustainability, incorporating eco-friendly materials and manufacturing processes into its vehicles, as well as advancing electric vehicle technology with models like the BMW i4 and iX.
8. Global Manufacturing: BMW operates numerous production facilities worldwide, including in Germany, the United States, China, and other countries, ensuring a global reach and localized production.
9. Brand Portfolio: In addition to its renowned BMW brand, the company also owns MINI and Rolls-Royce, catering to a diverse range of automotive tastes and luxury segments.
10. Cultural Impact: BMW's vehicles often become cultural i
08/11/2024
🤲📿 জুম্মা মোবারক 📿🤲
কদিন আগে আমার এক বন্ধুর মায়ের সঙ্গে কথা হচ্ছিলো,তিনি খুবই ভালো একজন মানুষ, আমাকে খুবই যত্ন করে। দুনিয়ার যাবতীয় ফ্রাস্ট্রেশন ঝেড়ে দিয়ে আন্টিকে বললাম "আন্টি, আমার জন্য দোয়া করেন আল্লাহ যেন আমাকে ধৈর্য দেন"
উনি বললেন "আল্লাহর কাছে কখনো ধৈর্য চাইবা না। আল্লাহর কাছে তুমি যেটাই চাবা আল্লাহ তোমাকে সেইটাই দিবে। ধৈর্য চাইলে ধৈর্য দিবে, ধৈর্যের পরীক্ষাও নিবে। অনেক কঠিন পরিস্থিতি দিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তোমার ধৈর্য বাড়াবেন। আল্লাহর কাছে দোয়া করবা আল্লাহ যেন সবকিছু তোমার জন্য সহজ করে দেন"।
আমি কথাটা শুনে খানিক্ষণ চুপ করে ছিলাম যে আসলেই তো। ধৈর্য কেন চাই আমরা আল্লাহর আছে। ধৈর্য মানেই তো কঠিন সময় এক্সেপ্ট করে নেওয়া, অথচ চাইলেই তো আল্লাহ সব সহজ করে দিতেন।
এইটা মনে হয় আমার জীবনে শোনা সুন্দরতম মোটিভেশন। আমি আর আল্লাহর কাছে ধৈর্য চাই না। আল্লাহ যেন আমাকে এমন পরিস্থিতি না দেন যেখানে ধৈর্য লাগে। আল্লাহ আমার জন্য, আমাদের জন্য যেন সবকিছু সহজ করে দেন।
©️bview24