08/08/2021
জাহান্নাম!😭
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন জিবরাঈল (আ.)-কে বললেন,
আপনি যতোবার আমার নিকট এসেছেন,
ততোবার-ই আপনার কপালে শোক ও
দুশ্চিন্তার ছাপ ছিলো......এর কারণ কী ?
জিবরাঈল (আ.) নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম - এর প্রশ্নের জবাবে বললেন,
‘ জাহান্নাম সৃষ্টির পর থেকে
আমার ঠোঁটে কখনো হাসি ফুটেনি।
জাহান্নাম কেমন হবে?
১।জাহান্নামের গভীরতা এমন যে,
এর মুখ থেকে একটি পাথর ফেলে দিলে
জাহান্নামের তলদেশে পৌছাতে ৭০ বছর সময় লাগে।
বিচারের দিন জাহান্নাম কে ৭০ হাজার শিকল দ্বারা টেনে আনা হবে যার প্রত্যেক শিকল
৭০ হাজার ফেরেশতা বহন করবেন।
২।জাহান্নামে চাঁদ এবং সূর্যকে নিক্ষেপ করা হবে আর জাহান্নামে তা অবলীলায় হারিয়ে যাবে।
৩।জাহান্নামবাসীদের শরীরের চামড়া
১২৬ ফুট পুরো করে দেওয়া হবে
যাতে করে আযাব অত্যন্ত ভয়াবহ হয়,
তাদের শরীরে আরও থাকবে তিল
যার এক একটি উহুদ পাহাড়ের সমান।
৪।প্রতিদিন জাহান্নামের আযাব পূর্বের দিন থেকে আরও তীব্র আর ভয়াবহ করা হবে।
৫।জাহান্নামের খাদ্য হবে কাঁটা যুক্ত গাছ আর পানীয় হবে ফুটন্ত পানি,পুঁজ ও রক্তের মিশ্রণ এবং উত্তপ্ত তেল।এরপরও জাহান্নাম বাসীর পিপাসা এতো বেশী হবে যে তারা এই পানীয় পান করতে থাকবে।
৬।জাহান্নামের এই ভয়াবহ কল্পনাতীত আযাব অনন্তকাল ধরে চলতে থাকবে,
জাহান্নাম বাসীরা এক পর্যায়ে জাহান্নামের দেয়াল টপকিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাদেরকে লোহার হাতুড়ি দ্বারা আঘাত করে ফেলে দেওয়া হবে।
হে আল্লাহ, 😢🙏
আমাদেরকে আপনি জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন।
আমিন।।🤲
23/03/2021
আল্লাহ পাক আদম সৃষ্টি করার পূর্বে ফেরেশতাদের ডেকে বললেনঃ হে ফেরেশতাগন আমি দুনিয়ার জমিনে আমার খলিফা অর্থাৎ প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে চাই। অতপর আল্লাহ পাক আদম সৃষ্টি করলেন। আদম সৃষ্টির পর আল্লাহ পাক জানিয়ে দিলেনঃ "আমি জ্বীন এবং ইনসান সৃষ্টি করেছি আমার ইবাদত বা উপাসনা করার জন্য " সুরাঃ যারিয়াত। তাহলে এই ইবাদত বা উপাসনার মূল উদ্দেশ্য কি? উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব অর্জন করা অর্থাৎ আল্লাহর সাথে সংযোগ স্থাপন করা।
কিন্তু বর্তমান মুসলিম সমাজ আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব অর্জনের প্রচেষ্টায় পিঠ ঘুরিয়ে বসে, শুধু জান্নাত আর জাহান্নামের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রকৃত ভ্রষ্টতার এখানেই সূচনা হয়েছে। তাইতো বান্দাগন আল্লাহকে নিরাকার বানিয়ে , আল্লাহর সাথে সংযোগ স্থাপনের পথে উদাসীন হয়ে,, তুচ্ছ সৃষ্টি জান্নাতের লোভে আর জাহান্নামের ভয়ে ইবাদত কার্য সম্পাদন করতেছে। বস্তুত তারা কি ইবাদত দ্বারায় সৃষ্টির মূল হাকিকতে আধৌও পৌছাতে পেরেছে?? না। এখানে আল্লাহর নিয়ত আর বান্দার নিয়তের মাঝে বিস্তর ফারাক রয়ে গেছে। হাদিস শরীফে এরশাদ হয়েছেঃ "ইন্নামাল আমালু বিন নিয়াত " অর্থাৎ "আমলের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল " সহীহ বুখারী। নিয়ত বা ইচ্ছা যদি আল্লাহর নিয়তের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হয় তবে সে কর্ম ও কর্মফল দুটুই বিফল। কেননা, স্রষ্টা ভিন্ন, সৃষ্টি কে মনের মাঝে লালন করে ইবাদত করলে তা শিরিক পর্যায়ভুক্ত ইবাদত বলেই গন্য হবে। আর এজাতীয় ইবাদত কখনোই কবুলিয়াত যোগ্য ইবাদত নয়। অকবুলিয়াত যোগ্য ইবাদতকারী হওয়ার কারনেই আমাদের চারিত্রিকতা ও মানোসিকতা উন্নততর হচ্ছে না, হচ্ছে না আমাদের দ্বারায় ইসলামের কোন কল্যাণ। বরং আমাদেরই দ্বারায় ইসলাম ক্রমেই ধলিত হচ্ছে।
01/02/2021
১৭৮৩ সাল। আমিরিকান নেভির জাহাজ এই প্রথম আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করল। উচ্ছ্বাস বেশিদিন টিকলনা। আলজেরিয়ার কাছাকাছি, তৎকালীন SuperPower উসমানীয় খিলাফতের নেভির হাতে দুই বছরের মাথায় আমিরিকান জাহাজ অবৈধ প্রবেশের দায়ে ধরা পড়ে।
১৭৯৩ সালে আরও ১২ টি জাহাজ ধরা পড়ে।
উসমানীয় নেভিকে মোকাবিলার জন্য স্টীল নির্মিত জাহাজ তৈরি করার জন্য UScongress, প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনকে ৭০০,০০০ স্বর্ণমুদ্রা ব্যায় করার অনুমতি প্রদান করে। কিন্তু বাস্তবতা হল, উসমানীয় খিলাফতের নেভিকে মোকাবিলার মত সামর্থ্যের ধারেকাছেও ছিলনা আমিরিকান নেভি।
ফলে এক বছরের মাথায়, খিলাফতের সাথে এক চুক্তি করতে বাধ্য হয় আমিরিকা, যার নাম ছিল “বারবারি চুক্তি”। এই ধরনের নামকরণের কারণ হচ্ছে, উসমানীয় খিলাফতের উত্তর আফ্রিকান উলাইয়্যার নাম ছিল বারবারি, যার মধ্যে আলজিয়ার্স, তিউনিস এবং ত্রিপোলি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চুক্তির শর্তগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১. আমিরিকাকে এককালীন ৯৯২,৪৬৩ ডলার পরিশোধ করতে হবে।
২. ধৃত জাহাজসমূহ ফেরত দেয়া হবে এবং আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরে আমিরিকাকে প্রবেশাধিকার দেয়া হবে।
৩. এর বিনিময়ে আমিরিকান সরকার, খিলাফতকে ৬,৪২,০০০ ডলার সমমূল্যের স্বর্ণমুদ্রা প্রদান করবে।
৪. আমিরিকাকে বার্ষিক ১২,০০০ ডলার মূল্যের স্বর্ণমুদ্রা কর হিসেবে দিতে হবে। এবং এই বর্ষপঞ্জি ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গণণা করা হবে।
৫. আমিরিকার ধৃত নাবিকদেরকে ফেরত নেয়ার জন্য ৫,৮৫,০০০ ডলার পরিশোধ করতে হবে।
উপরন্তু খিলাফতকে কিছু স্টীল নির্মিত জাহাজও উপহার দিতে রাজি হয় আমিরিকা।
এই চুক্তি হয়েছিল তুর্কী ভাষায় এবং প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটন নিজে এতে সই করেছিল। আমিরিকার ইতিহাসে এটাই একমাত্র চুক্তি যেখানে আমিরিকা অন্য ভাষায় লিখিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং কোন জাতিকে বার্ষিক কর প্রদানে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তি খিলাফত ধ্বংসের আগ পর্যন্ত বলবৎ ছিল।
Those Were The Days…. না???
আমিরিকা খিলাফতের উত্থানে ভীত হবে, এটাই তো স্বাভাবিক।
-জাওয়াদ বিন আব্দুর রাজ্জাক
মুসলিমদের স্বর্ণালি ইতিহাস
13/10/2020
আজ থেকে ১০০ বছর পর। 👉 #2120
ক্যালেন্ডারের পাতায় যখন ২১২০ সাল। আমাদের প্রায় প্রত্যেকের দেহ তখন মাটির নিচে। অস্তিত্ব তখন রূহের জগতে।
ইতিমধ্যে ফেলে যাওয়া আমাদের সুন্দর বাড়িটা হয়ত নেক্সট প্রজন্ম ভোগ করছে, পছন্দের কাপড়গুলো ব্যকডেটেড হয়েগেছে, শখের গাড়িটি হয়ত অন্য কেউ চালাচ্ছে।
আর আমায়? খুব কম জনই স্মরণে রেখেছে। কেউবা ভাবেও না। হাতে সময় নেই! যাদের জন্য সব করতে নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছিলাম!
★
আচ্ছা, ব্যস্ততার এই জীবনে আপনি,
আপনার➤
দাদার দাদাকে কত বার স্মরণ করেন?
আপনার➤
দাদীর দাদীর কথা কখনো কি আপনার মনে পড়ে?
পৃথিবীর বুকে আজকের এই বেঁচে থাকা, এতো হৈ চৈ, এতো মায়া কান্না-- এভাবেই চলছে। গত হওয়া অসংখ্য প্রজন্মকে টপকে আমরা এই জীবন লাভ করেছি। তেমনিভাবে আগামীতে অসংখ্য প্রজন্মের ভিড়ে হারিয়ে যাবে এই জীবন।
যত প্রজন্ম আসছে আর যাচ্ছে,
দুনিয়াকে বিদায় জানাবার,
দায়িত্ব-ক্ষমতা অন্যের হাতে অর্পণ করবার,
কিংবা কারো ইচ্ছা অপূর্ণ রেখে যাবার পূর্বে—খুব কম জনই সময় পায় ফেলে যাওয়া জীবনটা একটু ফিরে দেখবার। বাস্তবতা হচ্ছে, এই জীবনটা আমাদের কল্পনার চেয়েও ছোট।
২১২০ সালে কবরে শুয়ে আমরা প্রায় সবাই এই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারবো, সত্যিই দুনিয়াটা কতই না তুচ্ছ ছিল! একে ঘিরে দেখা স্বপ্নগুলো কতই না নগণ্য ছিল!
২১২০ সালে আমরা অনেকেই চাইবো, 'ইশ যদি জীবনটা মহৎ কিছুতে উৎসর্গ করতে পারতাম! ইসলামের জন্যে! নেক আমল সংগ্রহের জন্য আরও কিছু করতে পারতাম! মৃত্যুর পরেও যে কাজগুলো আমাদের উপকার করে যেত, সেগুলোর পেছনে যদি আরও সময় উৎসর্গ করতে পারতাম!' ইস! শুধু ইস আর ইস!!
যারা ইসলামের আলোকে জীবন পরিচালিত করেনি তারা চিৎকার করে কথাগুলো বলবে, কিন্তু কোনো ফল বয়ে আনবে না, এই হাহাকার:
"হায়! আমরা যদি আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল এর আনুগত্য করতাম।"
(সূরা আহযাব, আয়াত : ৬৬)
●
"হায়! আমিও যদি তাদের সঙ্গে থাকতাম, তা হলে বিরাট সফলতা লাভ করতে পারতাম।"
(সূরা আন-নিসা, আয়াত : ৭৩)
●
"হায়! আমি যদি ওকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম।" (সূরাহ ফুরকান, আয়াত : ২৮)
●
"হায়! এমন যদি কোনো সুরত হতো― আমাদেরকে আবার দুনিয়াতে পাঠানো হতো, আমরা আমাদের প্রভুকে মিথ্যা প্রতিপন্ন না করতাম আর আমরা হতাম ঈমানদারদের শামিল।"
(সূরা আনআম, আয়াত : ২৭)
●
"..হে আমার রব! আমাকে আবার ফেরত পাঠান। যাতে আমি সৎকাজ করতে পারি যা আমি আগে করিনি।
(বরং জবাব মিলবে) "না, এটা হবার নয়। এটা তো তার একটি বাক্য মাত্র যা সে বলবেই । তাদের সামনে বার্যাখ থাকবে উত্থান দিন পর্যন্ত।"
[আল-মু'মিনুন, ৯৯-১০০]
মৃত্যুর পর অনেকেই আফসোসে নিজেদের হাত কামড়াতে থাকবে এই বলে,
"হায়! আমি যদি রাসূল এর পথ অবলম্বন করতাম।"
(সূরাহ ফুরকান, আয়াত : ২৭)
●
"হায়! আমার এ জীবনের জন্য আমি যদি কিছু অগ্রিম পাঠাতাম?”
[সূরা আল-ফাজর, ২৪]
⚫
মৃত্যুর ফেরেশতা আমাদেরকে নেককার হবার সময় দেবে না।
🔵
সে অপেক্ষা করবে না আমাদের জন্য..
তাই আসুন না, মৃত্যুর ফেরেশতা আসার আগেই আমরা সংশোধন হয়ে যাই! পাপে ভরা জীবনটা পাল্টে ফেলি!
হে আল্লাহ আমাদেরকে হেদায়াত দান করুন।আমাদের ভুল ত্রুটি ক্ষমা করুন। আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন,আমিন।
05/07/2020
মুসলিম ইতিহাসের সময়রেখা
৯ম শতাব্দি (প্রথম অর্ধাংশ)
৮০৩
- বারমাকীদের পতন। জাফর ইবনে ইয়াহিয়ার মৃত্যুদণ্ড।
৮০৫
- খোরাসানের রাফি ইবনে আল লাইসের বিদ্রোহ
৮০৬
- হারুনুর রশিদ বাইজেন্টাইনদের বিরুদ্ধে বৃহৎ অভিযান পরিচালনা করেন।
৮০৯
- হারুনুর রশিদ মারা যান। আল আমিন খলিফা হন।
৮১০
- ৯ম শিয়া ইমাম মুহাম্মদ আল তাকী জন্মগ্রহণ করেন।
৮১১
- আব্বাসী গৃহযুদ্ধ, পারস্যে রায়ের যুদ্ধ
৮১২
- আগস্ট আব্বাসী গৃহযুদ্ধ, বাগদাদ অবরোধ শুরু
৮১৩
- সেপ্টেম্বর আব্বাসী গৃহযুদ্ধ, বাগদাদ অবরোধের সমাপ্তি। আল মামুন শহর দখল করেন এবং আল আমিন মৃত্যুবরণ করেন।
৮১৫
- আবুল সারায়া আল সিররির নেতৃত্বে ইরাকে শিয়া বিদ্রোহ, হারসামা ইবনে আয়ান কর্তৃক বিদ্রোহ দমন
৮১৬
- মক্কায় শিয়া বিদ্রোহ
- উমাইয়ারা স্পেনের করসিকা দ্বীপ দখল করে
- হারসামা ইবনে আয়ানের মৃত্যুদণ্ড
৮১৮
- মাশহাদে আলী আল রিদা মারা যান। মুহাম্মদ আল তাকি ইমাম হন।
- স্পেনের উমাইয়ারা ইবিজা, ম্যাজরকা এবং সারদিনিয়া দ্বীপ দখল করে
৮২০
- তাহির ইবনে হুসাইন খোরাসানে তাহিরী শাসন প্রতিষ্ঠা করে
৮২২
- স্পেনের প্রথম আল হাকামের মৃত্যু। দ্বিতীয় আব্দুর রহমান সিংহাসনে বসে।
৮২৩
- খোরাসানে তাহির মারা যান। তালহা সিংহাসন লাভ এবং পদচ্যুত হন। আব্দুল্লাহ ইবনে তাহির আল খোরাসানী সিংহাসনে বসেন।
৮২৫
- ক্রিট আমিরাত প্রতিষ্ঠা
৮২৭
- ১০ম শিয়া ইমাম আলী আল হাদী জন্মগ্রহণ করেন।
- খলিফা আল মামুন মুতাজিলাদের রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য প্রদান করেন।
- মুসলিমরা সিসিলি জয় করে।
৮৩৩
- ৯ আগস্ট, খলিফা মামুনের মৃত্যু। আল মুতাসিম খলিফা হন।
৮৩৫
- মুহাম্মদ আল তাকী বিষক্রিয়ায় মারা যান। আল আল হাদী ইমাম হন।
৮৩৬
- আল মুতাসিম রাজধানী সামারায় স্থানান্তর করেন
৮৩৭
- জাট বিদ্রোহ
৮৩৮
- আজারবাইজানে বাবাক খুররামদিনের বিদ্রোহ দমন।
- আল মুতাসিম আমুরিয়াম ধ্বংস করেন
৮৩৯
- তাবারিস্তানের মায়জার বিদ্রোহ।
- মুসলিমরা দক্ষিণ ইতালি দখল করে। সিসিলির ম্যাসিনা দখল করা হয়।
৮৪২
- ৫ জানুয়ারি, আল মুতাসিমের মৃত্যু, আল ওয়াসিক খলিফা হন।
৮৪৩
- আরব বিদ্রোহ।
- বাইজেন্টাইনদের ক্রিট আমিরাত দখলের ব্যর্থ অভিযান
৮৪৬
- এশিয়া মাইনরে বাইজেন্টাইনদের সাথে আব্বাসীদের মাওরোপটামোসের যুদ্ধ
- একাদশ শিয়া ইমাম হাসান আল আসকারির জন্ম
৮৪৭
- আল ওয়াসিকের মৃত্যু, আল মুতাওয়াক্কিল খলিফা হন।
৮৫০
- আল মুতাওয়াক্কিল অর্থোডক্সদের পুনস্থাপন করেন।
(বিঃ দ্রঃ ঐতিহাসিকভাবে সালগুলো নিয়ে মতানৈক্য আছে।)
05/07/2020
ফ্রান্স ১৮৩০ সালে কিছু ভুয়া ঔপনিবেশিক কারণ দেখিয়ে আলজেরিয়া আক্রমণ করে আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে বড় দেশটি দখল করে নেয়। এভাবে আলজেরিয়াতে ফ্রান্সের প্রায় শতাব্দীকাল ব্যাপী শোষণ শুরু হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আলজেরিয়াতে স্বাধীনতা আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে এবং প্রায় 10 বছর ব্যাপী গেরিলাযুদ্ধ ও 10 লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে 1962 সালে আলজেরিয়া স্বাধীন হয়।
এই স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী অনেক গেরিলা যোদ্ধার মরদেহ পরে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনেকের মরদেহ ফ্রান্স চালাকি করে আলজিরিয়া থেকে নিজেদের দেশে নিয়ে যায়।
এইরকম নিখোঁজ হওয়া প্রায় চব্বিশটি মরদেহের খুলি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট শেষ পর্যন্ত আলজেরিয়ায় ফেরত পাঠাচ্ছেন।
এই উদাহরণ থেকে অনুমান করা যায় আলজেরিয়ার স্বাধীনতাকামীদের প্রতি ফ্রান্সের আচরণ কেমন ছিল।
এখানে উল্লেখ্য যে ফরাসিরা নিজেদেরকে ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে সভ্য ও সাংস্কৃতিক ভাবে উন্নত বলে সগর্বে দাবি করে থাকে।
05/07/2020
আমেরিকান ভূখন্ড বা মধ্যযুগে বহুল আলোচিত নতুন দুনিয়ায় প্রথম পদার্পণ করেছিলেন কে ?
===================================================
“কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন” এটা বলার চেয়ে কলম্বাস আমেরিকাকে পশ্চিম ইউরোপের সাথে পরিচিত করিয়ে দিয়েছিলেন” বলাটাই আরও বেশি যুক্তিযুক্ত।
কারণ ১৪৯২ থেকে ১৫০২ সাল পর্যন্ত তার বিখ্যাত চারটি অভিযানের পথ ধরেই কানাডার উত্তর প্রান্ত থেকে চিলির দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত সব জায়গাতেই নিজেদের উপনিবেশ স্থাপন করেছে স্প্যানিশ-পর্তুগিজ-ডাচ-ব্রিটিশ-ফ্রেঞ্চরা।
জেনোয়ার এই অনুসন্ধানকারীর অনেক আগেই যে মানুষ আমেরিকায় পা রেখেছিল তা এখন সর্বজনবিদিত। কিন্তু মূল প্রশ্নটি থেকেই যায়, “আমেরিকার প্রথম আবিষ্কারক কে বা কারা” ? এব্যপারে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক দাবী রয়েছে।
পলিনেশিয়ান --পলিনেশিয়ানরা আমেরিকায় সত্যিই পা দিয়েছিল কিনা তার একেবারে নিখুঁত প্রমাণ না মিললেও আমেরিকায় যে তাদের নিয়ে আসা অনেক কিছুর প্রমাণ মিলেছে তা বলাই বাহুল্য।যেমন মিষ্টি আলুর কথাই ধরা যাক। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগেও মনে করা হতো মিষ্টি আলু দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছেছে ইউরোপিয়ান ঔপনিবেশিকদের হাত ধরে ।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণালদ্ধ প্রমাণ থেকে নিশ্চিন্তভাবে বলা যায় , মিষ্টি আলু দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছেছে আরও অনেক আগে একইভাবে মুরগির হাড় পরীক্ষা করেও প্রমাণ মিলেছে পলিনেশিয়ানদের সাগর পাড়ি দেওয়ার সত্যতা।
দক্ষিণ আমেরিকান আদিবাসী চুমাশ ইন্ডিয়ানদের সাথে পলিনেশিয়ানদের নৌকা তৈরি করার সাদৃশ্য, বিভিন্ন উপজাতিদের সাথে তাদের ভাষাগত মিলের কারণেও ধারণা করা হয় পলিনেশিয়ানরা আমেরিকা আবিষ্কার করেছিল ইউরোপিয়ানদের অনেক আগেই।
আবু রায়হান আল বিরুনী -- ৩০ বছর বয়সে বের করে ফেললেন পৃথিবীর পরিধি ! আর অবাক হলেও সত্যি , বর্তমান আধুনিক বিশ্বের অতি আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে যে পরিধি বের করা হয়েছে , এক হাজার বছর আগে আল বিরুনীর বের করা পরিধি থেকে তার পার্থক্য মাত্র ১০.৪৪ মাইল !
পৃথিবীর পরিধি মাপার সময়েই তিনি খেয়াল করেন এশিয়ার পূর্ব প্রান্ত থেকে ইউরোপের পশ্চিম প্রান্তের মধ্যে বিশাল ব্যবধান এবং এর মধ্যে আরেকটি মহাদেশ লুকিয়ে থাকাও বিচিত্র কিছু নয়। Codex Masudicus বইয়েও নতুন মহাদেশের উল্লেখ করেন আল বিরুনী।
ভাইকি -- কিছু ইতিহাসবিদের মতে লেইফ এরিকসনের আগেও ৯৮৫-৮৬ সালের দিকে বিয়ার্নি হেরলুফসন ভিনল্যান্ডে পা রাখেন, কিন্তু নিখুঁত কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তা নিয়ে আর উচ্চবাচ্য করা হয়নি। ভাইকিংরা আমেরিকায় বসতি স্থাপন করলেও আমেরিকান আদিবাসীদের তাড়া খেয়ে ভিনল্যান্ড থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়াতেই ফিরে যায়।
সাইবেরিয়ান --দক্ষিণ সাইবেরিয়ার আলতাই পর্বতমালার লোকজনদের সাথে নেটিভ আমেরিকানদের ডিএনএ পরীক্ষা করে অবশেষে বিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন যে সাইবেরিয়ানরাই সর্বপ্রথম আমেরিকা আবিষ্কার করেছিল। গবেষণার জন্য আমেরিকা মহাদেশের প্রতিটি দেশ এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অন্যান্য দেশসহ প্রায় ৯০টি দেশের লোকজনের প্রায় ২৫ হাজার স্যাম্পল পরীক্ষা করা হয়।
প্রায় তের হাজার বছর আগে আমেরিকায় আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন উপজাতির উদ্ভব ঘটে যাদের পূর্বপুরুষরা এসেছিল সুদূর সাইবেরিয়া থেকে।
সম্প্রতি কিছু মুসলিম ইতিহাসবেত্তা দাবি করেছেন কলম্বাসের আগেই স্প্যানিশ মুরেরা আমেরিকায় যাতায়াত করত। তাদের ব্যবহৃত মানচিত্র ও চার্ট ব্যবহার করেই কলম্বাস আমেরিকা গিয়েছিলেন।
10/06/2020
روح کا داغ :
حضرت سلطان محمود غزنوی رحمتہ اللہ علیہ اپنے کچھ سپہ سالاروں کیساتھ جنگل کے راستہ سے بھٹک گۓ عصر سے وقت تیزی سے سورج ڈھلنے کیطرف گزر رھا تھا سلطان جنگل میں راستہ تلاش کرنے میں سرگرداں تھا کہ ایک ھندو دھرم کی شہزادی پر نگاہ پڑی جو اپنی کنیز کیساتھ شاید شکار پر نکل آئی تھی اکیلی شہزادی اور اسکی کنیز اس چیز سے بے خبر دریا کے کنارے پاؤں ڈبوۓ بیٹھیں تھیں کہ انکے پیچھے ایک جنگلی ریچھ پہنچ چکا ھے
اس وقت تک کے سلطان کا تیر اس کے حلق سے آر پار ھوتا وہ ریچھ شہزادی کی کنیز کو ایک ھاتھ کے پنجے سے ضرب دے چکا تھا اس سے پہلے شہزادی اپنا ترکش سنبھالتی اور تیر کمان میں لگاتی شاید بہت دیر ھو جاتی
سلطان محمود غزنوی رحمتہ اللہ علیہ نے پےدر پے تین تیر اس جنگلی درندے پر دے مارے جس سے وہ ڈھیر ھو گیا
شہزادی کو یہ جاننے میں مشکل نا ھوئی کہ اس مہارت اور بہادری کا مظاھرہ کوئی جنگ جو سپہ سالار ھی کر سکتا ھے
شھزادی سلطان کیطرف متوجہ ھوئی اظہار تشکر کے لۓ اپنا تعارف کرواتے ھوئی بولی میرا نام سمرتی ھے میں جے پور ریاست کے مہاراج کی اکلوتی بیٹی ھوں میری جان بچانے کا شکریہ میں تمھیں اپنے پتا سے کہہ کر فوج میں کوئی اعلیٰ عہدہ دلا دوں گی ویسے تم ھماری فوج کے سپاھی لگتے نہیں ھو بتاؤ کہاں سے تعلق ھے تمھارا
سمرتی شاید یہ نہیں جانتی تھی کہ اسکے سامنے کوئی معمولی سپاھی نہیں اس وقت کی سب سے طاقت ور اسلامی لشکر کا سربراہ سلطان محمود غزنوی ھے جسکے نام سے ھی ھندو مہاراجوں کے حلق خشک ھو جاتے ھیں
سلطان نے مختصراً اپنی شناخت ظاھر نا کرتے ھوئے کہا جی کسی اور فوج کا سپاھی ھوں
چلۓ محترمہ میں اپکو کسی محفوظ مقام پر پہنچا دوں گا آپ میرے پیچھے چلتی جائیں اندھیرا بڑھتا جا رھا ھے راستہ نا ملا تو شاید اسی جنگل میں رات بسر کرنی پڑے شھزادی سمرتی جان چکی تھی یہ شخص لالچ اور خوف سے پاک ھے وہ سلطان کی نظروں میں حیاء دیکھ کر خود کو محفوظ محسوس کر رھی تھی
جنگل کی خاردار جھاڑیوں کی وجہ سے شھزادی کا پیراہن مختلف جگہ سے چھلنی ھو چکا تھا شھزادی تھکاوٹ سے چور ھو چکی تھی سلطان نے شھزادی کو ایک سخت پتھروں اور درختوں کی اوٹ کیطرف اشارہ کرتے ھوۓ کہا شھزادی صاحبہ آپ ادھر آرام کر لیں رات کی تاریکی بڑھ رھی ھے اور موسم میں بھی تغیر کے آثار ھیں اندھیرے میں مزید سفر گھنے جنگل میں کرنا دشوار ھے علی الصبح نکلیں تو شاید میں اپکو کسی محفوظ مقام پر پہنچا سکوں سمرتی کے پاس سلطان پر اعتماد کرنے کے علاؤہ کوئی دوسرا راستہ نا تھا سلطان نے محسوس کیا شھزادی اپنے بیش قیمت مگر قدرے باریک لباس میں جنگل کی ٹھنڈی رات شاید نا گزار سکے سلطان نے اپنی موٹی چادر شھزادی کیطرف اچھال دی اور معنیٰ خیز نظروں سے شھزادی کو دیکھا جیسے کہہ رھا ھو یہ اوڑھ لیں شھزادی نے بلا جھجک چادر اوڑھی اور ٹیک لگا کر درختوں کی اوٹ میں پاؤں پسار لۓ اسکی نظریں سلطان کے چہرے کی طرف جمی ھوئی تھیں جو نظریں جھکاۓ ایک قریب پڑے بڑے پتھر پر بیٹھ کر آگ جلانے کی کوشش کر رھا تھا بالآخر آگ جل گئ اسکی روشنی میں سلطان کا نورانی اور بھرا ھوا وجاھت والا چہرہ چمک رھا تھا سلطان نے شھزادی سے قطعہ نظر مٹی سے تیمم کیا اور نماز پڑھنے لگا شھزادی کو جھٹکا لگا اوہ یہ تو مسلمان لگتا ھے
ایک دفعہ شھزادی کانپ گئ کہیں غزنی کے لشکر سے تو نہیں یہ تو لٹیرے ھیں گاۓ بھینس بکری سب کا مانس کھاتے ھیں یہ مجھے زندہ نہیں چھوڑے گا لیکن اگلے ھی لمحے شھزادی اب تک اسکے ساتھ گزرے وقت کو یاد کرنے لگی اگر یہ اتنا ھی سفاک اور ظالم ھوتا تو مجھے ریچھ سے نا بچاتا نا چاھتے ھوۓ بھی شھزادی کا دل پھر سے اطمینان و یقین سے بھر گیا
سلطان نماز کے بعد دعا کرتے وقت زارو قطار رونے لگا روتے روتے سلطان نے اپنے خنجر کی نوک اپنے پاؤں کے انگوٹھے پر رکھ کر اسکو دبا دیا شھزادی دیکھتی رھی کہ یہ جوان مرد مجھ سے گفتگو میں بے تکلف نہیں ھونا چاھتا
علی الصبح سلطان نے شھزادی سے کہا اب ھمیں نکلنا چاھۓ کچھ دور جا کر سلطان کو ایک سفید پتھر پڑا ملا جو سلطان کے سپاھی نشانی چھوڑ گۓ تھے کہ راستہ اسی طرف ھے یہ اس زمانے کا ایک طریقہ تھا کہ جنگل میں پتھر چھوڑتے جاتے تا کہ پیچھے آنے والا راستہ جان سکے کے گزرنے والا کہاں سے انکا ساتھی گزرا ھے
بالآخر شھزادی اور سلطان ایک ھموار راستہ پر آ پہنچے کچھ دور ایک چھوٹے سے گاؤں کے آثار نظر آ رھے تھے سلطان نے کہا یہ آپکی ریاست کی حدود کا ھی گاؤں معلوم پڑتا ھے شھزادی ھاں دیکھتے ھیں گاؤں پہنچنے پر شھزادی نے گاؤں کے مکھیاء کو بلاوا بھیج دیا مکھیاء اپنے کچھ ساتھیوں سمیت حاضر ھوا شھزادی نے کہا ھمیں دو برق رفتار گھوڑے دے جائیں اور کچھ خشک اناج اس سپاھی کو دیا جاۓ شھزادی نے سلطان سے کہا اجنبی ھمیں بہت حیرت ھوئی ھے تم پر تم کس مٹی کے بنے ھو ساری رات تم اپنے خنجر سے زخم کریدتے رھے اور میری طرف کوئی توجہ نا دی تم چاھو تو ھمارے ساتھ محل چلو ھم تمھیں انعام و اکرام سے بھر دیں گے اپنی جان بچانے کے بدلہ میں
سلطان نے گھوڑے پر سوار ھو کر شھزادی سے کہا شھزادی صاحبہ زخم اس لے کریدتا رھا کہ آپکا حسن میرے ایمان کو زد نا پہنچاۓ اور میری توجہ میرے درد کیطرف رھے آپکی طرف نا بڑھے شھزادی کیا تمھیں یہ موقعہ گنوانا چاھۓ تھا ھم سے خلوت میں ملاقات کے لۓ لوگ اپنی ریاستیں دستبردار کرنے کو تیار ھیں
سلطان شھزادی صاحبہ میں مسلمان ھوں اور محمد عربی کا غلام ھوں میری نظر آپکے جسم پر نہیں اپنی روح پر تھی شاید میرے جسم سے گناہ کا داغ دھل جاتا لیکن میری روح پر اس گناہ کا داغ لیکر میں اپنے نبی کے سامنے کے پیش ھوتا مجھے یہ گوارہ نہیں تھا
شھزادی یہ جواب سن کر اس سپاھی کی اپنے مذھب کیساتھ لگاؤ دیکھ کر اسکے کردار سے متاثر ھوے بنا نا رہ سکی جیسے اسکا دل اسی اجنبی کے مذھب اور زندگی میں شامل ھونے کو بیقرار ھو
یہ کہہ کر سلطان نے اجازت چاھی
شھزادی اپنا اپنی فوج کا نام تو بتاتے جاؤ ھم یاد رکھیں گے
سلطان نے چادر سے سے نقاب اوڑھا تیر ترکش کندھے پر ڈالے تلوار اپنے میان میں ڈالی اور گھوڑے کی رکابیں پکڑتے ھوے بولا
شھزادی میرا نام ھے سلطان محمود غزنوی اور میں ھی غزنوی کی عزیم الشان فوج کا سالار اعظم اور سلطان ھوں یہ کہہ کر سلطان نے گھوڑے کو ایڑ لگا دی اور سرپٹ بھاگتے ھوۓ آنکھوں سے اوجھل ھو گیا
10/06/2020
شدّاد کے دورِحکومت میں حضرت ہودؑ اللہ کے نبی تھے اور آپ ہمیشہ شدّاد کو ایمان کی دعوت دیتے تھے۔ ایک دن شدّاد نے پوچھا: اگر میں آپ کی باتوں پر ایمان لے آؤں تو اللہ مجھےکیا انعام دے گا؟ حضرت ہودؑ نے فرمایا: اللہ تعالیٰ تجھے جنّت دے گا جس میں تو ہمیشہ چین سے رہے گا۔ شدّاد نے حضرت ہودؑ سے جنّت کے اوصاف پوچھے تو انہوں نے جنّت کی خصوصیات تفصیل سے بیان فرمائیں۔ یہ سن کر شدّاد بولا:
مجھے اللہ کی جنّت کی کوئی ضرورت نہیں، ایسی جنّت میں خود ہی بنواؤں گا، اس دن سے شدّاد کی مسلسل یہ کوشش رہی کہ وہ ایک ایسا شہر تعمیر کرائے جو ہر لحاظ سے جنّت جیسا ہو، اس نے اپنے بھانجے ضحاک کو جو ایران کا حاکم تھا، کہلا بھیجا کہ جتنا سونا چاندی تمہارے پاس جمع ہے وہ فوراًمیرے پاس بھیج دو۔ ضحاک نے ایسا ہی کیا۔ شدّاد نے پورے ملک میں اپنے کارندے روانہ کئے جو بہت بڑی مقدار میں سونا چاندی جمع کر کے لائے۔ شدّاد نے جنّت بنانے کے لیے مُلکِ شام میں ایک صحت افزا مقام کا انتخاب کیا اور ماہر معماروں کے ذریعے وہاں ایک مضبوط اور مستحکم فصیل تعمیر کرائی، جس کے اندر سونے اور چاندی کا محل تعمیر کرایا اور اس کی دیواروں کو قیمتی جواہر سے سجایا، اس نے شہر کے وسط میں ایک ایسی نہر بنوائی جس کے پانی میں سنگریزوں کی بجائے ہیرے جواہرات بہتے تھے، سونے کےایسے درخت لگوائے جن کے خوشوں میں مشک و عنبر بھرا گیا تھا، جب ہوا چلتی تو مشک و عنبر کی خوشبو پورے شہر میں پھیل جاتی۔ بیان کیا جاتا ہے کہ شدّاد نے محل کے چاروں طرف سونے کی اینٹوں سے بارہ ہزار کمرے تعمیر کرائے اور ہر کمرے کو یاقوت اور ہیرے جواہرات سے مزیّن کیا گیا اور اطراف و جوانب سے خوبصورت اور جوان عورتوں کو وہاں لایا گیا، یہ عظیم الشّان جنّت نُما شہر پانچ سو سال میں مکمل ہوا اور شداد کو اس کی تکمیل کی اطلاع دی گئی، اطلاع ملتے ہی شدّاد بہت بڑا لشکر لے کر اپنی جنّت کی جانب روانہ ہوگیا، ابھی شہر سے ایک منزل کے فاصلے پر تھا کہ اس نے ایک ہرن دیکھا جس کے پاؤں چاندی اور سینگ سونے کے تھے،
ہرن کو دیکھ کر وہ لالچ میں آگیا اور اسے پکڑنے کے لیے اس کے پیچھے اپنا گھوڑا لگا دیا، بھاگتے بھاگتے وہ اپنے لشکر سے جدا ہو گیا، اس نے شدّاد کو پکار کر کہا: شدّاد! تو نے عالیشان محل تعمیر کر کے یہ سمجھ لیا ہے کہ اب تو موت کے پنجے سے بھی آزاد ہوچکا ہے۔ یہ سُن کر شدّاد کا رواں رواں کانپنے لگا اور اس نے پوچھا: تو کون ہے؟ اس نے جواب دیا: میں ملک الموت ہوں۔ شدّاد نے کہا:
اس وقت تمہیں مجھ سے کیا کام ہے اور میری راہ میں کیوں روڑے اٹکا رہے ہو؟ ملک الموت نے کہا: میں صحرا میں تیری روح قبض کرنے آیا ہوں۔ شدّاد نے کہا: مجھے کم از کم اتنی مہلت دے دو کہ میں اپنی بنائی ہوئی جنّت کو اپنی آنکھوں سے دیکھ لوں۔ ملک الموت نے اجازت نہ دی، چنانچہ شدّاد گھوڑے سے گرا اور مرگیا اور اس کے لشکر نے ایک آسمانی چنگھاڑ سنی تو پورے کا پورا لشکر آن واحد میں ختم ہوگیا اور جنّت جانے کے بجائے ملکِ عدم پہنچ گیا۔
ایک دفعہ اللہ تعالیٰ نے ملک الموت سے پوچھا: روح قبض کرتے ہوئے تمہیں کبھی کسی پر ترس بھی آیا؟ ملک الموت نے عرض کیا: جی ہاں! دو دفعہ مجھے بڑا ترس آیا، پہلی دفعہ اس وقت جب سمندر میں ایک ماں اپنے شیرخوار بچے کے ہمراہ سفر کر رہی تھی، سمندر میں طوفان آیا، کشتی ٹکڑے ٹکڑے ہوگئی، وہ ماں ایک تختے پر اپنے نوزائیدہ بچے کو سینے سے لگائے سمندر میں ہچکولے کھا رہی تھی، اس وقت مجھے آپ کا حکم ملا کہ اس عورت کی روح قبض کر لی جائے چنانچہ میں نے اس عورت کی روح قبض کر لی اور وہ بچہ اس تختے پر اکیلا رہ گیاپھر وہ تختہ ایک جزیرے پر جالگا اور دوسری مرتبہ مجھے شدّاد کی روح قبض کرتے ہوئے بڑا ترس آیا، وہ تیرا دشمن تھا مگر اس نے بڑی محنت سے جنّت تعمیر کرائی تھی اور تونے اسے دیکھنے کا موقع تک نہ دیا۔ اللہ تعالیٰ نے فرمایا: اے ملک الموت! تونے دونوں مرتبہ ایک ہی شخص پر ترس کھایا تھا، تختے پر جس بچے کو تونے دیکھا تھا ہم نے اس کی پرورش کی، اسے عزت دی، اسے اقتدار دیا اور وہ بدبخت ہمارا منکر بن بیٹھا اور ہماری جنّت کے مقابلے میں اپنی جنّت تیار کرنے لگا، در حقیقت شدّاد ہی وہ شیرخوار بچہ تھا جس کی ماں کی روح تو نے قبض کی تھی، خدا کے انکار کا یہ نتیجہ تو دنیا میں ہے اور آخرت کا عذاب اس سے کہیں زیادہ ہے۔..
یا اللہ ہمیں نیک انسان بنے کی توفیق عطا فرما ۔۔ آمین
10/06/2020
#নেকাবে_ঢাকা_মুখ
কাদেসিয়ার প্রান্তর!!
আরব আর ইরানীদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হচ্ছে!!
কোন দলই যেনো হার স্বীকার করতে নারাজ।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো,আজকের যুদ্ধের কোন ফলাফলই আসছে না
দুই পক্ষ প্রান পন লড়াই করেই চলেছে।
এই দৃশ্য অবলোকন করছেন ময়দানের পাশের একটা এক তলা বাড়ির ছাদ থেকে সেনাপতি সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস রাঃ
শারীরিক অসুস্থতার কারনে আজ তিনি ময়দানে নামতে পারেননি
ফোড়ার যন্ত্রনায় কখনও তিনি বালিশের উপর উবু হয়ে শুয়ে পড়ছেন কখনও ঠেস দিয়ে বসার চেষ্টা করছেন
যুদ্ধের পরিস্থিতি দেখে মাঝে মাঝে বিভিন্ন নির্দেশনা লিখে লিখে নিচে দাড়ানো নকীবের কাছে ছুড়ে দিচ্ছেন ।
নকীব সেগুলো পৌছে দিচ্ছে ময়দানের দায়িত্বরত সেনাদের কাছে।
সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাঃ এর পাশে বসে রয়েছেন তার স্ত্রী সালমা
সালমা ছিলেন মুসান্না বিন হারেসার স্ত্রী
যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন পর জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রী কে সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাঃ বিবাহ্ করেন।
যুদ্ধের ময়দানের এই দৃশ্য আরো একজন দেখছিলেন
তিনি নিচের একটা ঘরে বন্দী,পায়ে তার লোহার বেড়ি পরানো রয়েছে
মদ্য পানের অপরাধে সে অপরাধী
তার আজ যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার অনুমতি নেই
কিন্তুু তার ভিতর টা যন্ত্রনায় পুড়ে যাচ্ছে ।
সে ডানা কাটা পাখির মত ছটফট করছে
তার মন কেবল ই ছুটে যাচ্ছে যুদ্ধের ময়দানে ।
শেষ অব্দি ধৈর্য ধারন করতে না পেরে সে পায়ের শিকল টানতে টানতে উঠে গেলো বাড়ির ছাদে
সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাঃ কে বিনিত ভাবে অনুরোধ করলেন
-আমির,দয়া করে আমাকে যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার অনুমতি দিন, আমার ভাইয়েরা শহীদ হচ্ছে আর আমি ঘরের ভিতর বন্দী রয়েছি।
কিন্তুু আমির তাকে ফিরিয়ে দিলেন
ইসলামে মদ্য পানের শাস্তি অনেক কঠিন!!
তিনি চাইলেই পারেন না, তাকে ক্ষমা করতে
অনুমতি না পেয়ে দুঃখ ভরাক্রান্ত মনে তিনি আবারও ফিরে এলেন নিজের জায়গায়
তিনি আহত মনে কবিতা আবৃতি করতে লাগলেন
"আমার ভাইয়েরা ময়দানে তুলছে ধুলির ঝড়
আমি আজ বন্দী,,,,,, (স্যরি কবিতার লাইন গুলো আমি ভুলে গেছি)
ও,হ্যা আপনাদের তো বলাই হয়নি যে তিনি দুই হাতে তলোয়ার চালাতেন
তার এক হাতে কলম অন্য হাতে তলোয়ার!!
তিনি দুটা কে তিনি সমান, ভাবে ব্যবহার করতেন
জ্বি হা, ঠিকই ধরছেন তিনি একজন কবি ও ছিলেন!!
তিনি যখন কবিতা আবৃতি করছিলেন
তখন তার ঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন
সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাঃ এর স্ত্রী সালমা
তিনি কবিতার লাইন গুলো শুনে খুব দুঃখ পেলেন
খুলে দিলেন কবির পায়ের বেড়ি, মুক্ত করে দিলেন তাকে!!
মুক্তি পেয়ে তিনি এক লাফে চড়ে বসলেন সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাঃ এর ঘোড়ায়
নিজের মুখ কে নেকাবে আবৃত করে নিলেন।
যুদ্ধের ময়দানে তিনি ঝড় তুলে দিলেন,
কখন ডানের সারি গুলো তো কখনও বায়ের সারি গুলো
ইরানী দের যে সারিতেই তিনি ঢুকলেন,সারি গুলো তছনছ করে দিতে লাগলেন।
মুসলিম সেনারা ভাবলো হয়তো সিরিয়া থেকে নতুন কোন মুজাহিদ এসেছে।
এই দৃশ্য সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাঃ দেখে চিৎকার করে উঠে বললেন
-আল্লাহর কসম!! যদি সে বন্দী না থাকতো তাহলে আমি বলতাম, এই নেকাবে আবৃত ব্যক্তি সে, আর ওই ঘোড়া টি আমার।
সন্ধ্যা নেমে আসছে, নেকাবে আবৃত ব্যক্তি ময়দানে শত্রুর সারিতে গুলোতে ধ্বংসের ঝড় তুলে ফিরে এলেন নিজের বন্দী কক্ষে
দ্রুত পায়ে পরে নিতে লাগলেন লোহার বেড়ি
এমন সময় সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাঃ তার স্ত্রী সালমার সাহায্যে নেমে এলেন নিচে
এটা দেখে তার পায়ে বেড়ি পরা থেমে গেলো
আমিরের দিকে তার,
ভয়ার্ত চোখ দুটি তুলতে তিনি সাহস করলেন না
যে ব্যক্তি একটু আগে শত্রুর জন্য সাক্ষাত মৃত্যুর রূপ ধরে গেছিলেন
এখন তার চোখে কেবল ভয় খেলা করছে
আমিরের কাছে জবাব দিহিতার ভয়!!
সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাঃ বললেন
-আল্লাহর কসম,যত দিন তোমাদের মত মুজাহিদ বেচে থাকবে,মুসলিম জাতির বিজয় অনিবার্য!!
ক্ষমা করে দিলেন তাকে
ক্ষমা পেয়ে তিনি বললেন
--আল্লাহর কসম!! আমির, আমি জীবনে কখনও আর মদ স্পর্শ করবো না
এবার তিনি পায়ে অর্ধ পরিহিত বেড়ি এক দিকে ছুড়ে ফেলে,আবারও ছুটে গেলেন যুদ্ধের ময়দানে মিশে গেলেন মুজাহিদ দের ভিড়ে,বিজয় যাদের বার বার পদ চুম্বুন করছিল।
ও হ্যা আপনাদের তো বলা ই হলো না লোকটার পরিচয়
তিনি বনু হুযাইফা গোত্রের আবু মোহযেন।💝💝
লেখা:-Mehera kurtis