15/01/2026
আজ ১৫/০১/২০২৬ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫.৪৫টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আনিস স্যারের মা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন। সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী।
Advanced Academy - " solution of curiosity." Education is the process of facilitating learning, or
15/01/2026
আজ ১৫/০১/২০২৬ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫.৪৫টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আনিস স্যারের মা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন। সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী।
30/12/2025
MBBS-Admission/2025-2026
এ বছর লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্নে (এইচএসসি বা সমমানের সিলেবাস অনুযায়ী) পরীক্ষা হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্ন ১ নম্বর করে মোট ১০০ (একশত) নম্বরের বিষয়ভিত্তিক বিভাজন হলো যথাক্রমে জীববিজ্ঞান-৩০, রসায়ন-২৫, পদার্থ বিজ্ঞান-১৫, ইংরেজি-১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান, প্রবণতা ও মানবিক গুণাবলি মূল্যায়ন-১৫। পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ নম্বর। পরীক্ষার সময় গত বছরের তুলনায় ১৫ মিনিট বাড়িয়ে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট করা হয়েছে। লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তর প্রদানের জন্য ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হবে। পাস মার্ক নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ নম্বর।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে আসনসংখ্যা ৫ হাজার ৬৪৫টি যার মধ্যে এমবিবিএস ৫ হাজার ১০০ এবং বিডিএস ৫৪৫টি। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে আসনসংখ্যা ৭ হাজার ৪০৬টি। যার মধ্যে এমবিবিএস ৬ হাজার ১ এবং বিডিএস এক হাজার ৪০৫টি।
সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে মোট আসন ১৩ হাজার ৫১টি। যার মধ্যে এমবিবিএস কোর্সে ১১ হাজার ১০১ এবং বিডিএস কোর্স এক ৯৫০টি আসন। ১৩ হাজার ৫১ টি আসনের জন্য এমবিবিএস এবং বিডিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে এ বছর মোট আবেদনকারী ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩২ জন।
30/01/2025
গণিতের ভয় দূর করতে - আনিস স্যারের বেসিক গণিত
পরীক্ষা ভয় দূর করতে রেগুলার পরীক্ষা
সেরাদের কোচিং
13/01/2025
ভালো ছাত্র, জিনিয়াস—এই মনগড়া ভ্রান্ত ধারণাগুলো এখনো কেন প্রচলিত আছে, তা আমি জানি না। আমি ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে ক্লাসের দ্বিতীয় শেষ ছাত্র ছিলাম। ক্লাস এইট থেকে নাইন ওঠার সময় অঙ্কে ১০০-তে ১২, বিজ্ঞানে ১৭, আর ইংরেজিতে ২৩ পেয়েছিলাম। আমার পরে যে ছেলে ছিল, সে পরীক্ষাই দিতে পারেনি অসুস্থতার কারণে। নইলে আমিই শেষ হতাম।
ক্যাডেট কলেজে খারাপ রেজাল্টের যে কী পরিমাণ অপমান, তা ভুক্তভোগীই জানে। আমার কারণে পুরো হাউসের সামগ্রিক ফল খারাপ হলো। সিনিয়ররা মারধর করল, বন্ধুরা তিরস্কার করল, আর কলেজ কর্তৃপক্ষ অপমানের চূড়ান্ত করল—বাইরে না বের করলেও আমাকে সায়েন্স গ্রুপ থেকে বাদ দিয়ে আর্টস গ্রুপে জোর করে দিয়ে দিল।
বাবা বলছেন, সায়েন্স নিয়ে পড়তে। আমিও চাই। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিল—সায়েন্স আমার যোগ্যতা নয়। অপমান, প্রত্যাখ্যান, এবং নিঃসঙ্গতার ভারে পিষ্ট হয়ে ১৪ বছরের এক কিশোর গিয়ে দাঁড়াল ভাইস প্রিন্সিপালের অফিসে। কাঁদলাম, হাত-পা ধরলাম। কিন্তু তাতে লাভ হলো না। অনেক অনুরোধের পর লিখিত মুচলেকা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিলাম—যদি সায়েন্স পড়তে দিত, তাহলে এসএসসি ও এইচএসসিতে অন্তত ফার্স্ট ডিভিশন নিশ্চিত করব।
এরপরও অপমান আর টিটকারি চলতেই থাকল। কত দিন যে বাথরুমে, ছাদে, অন্ধকারে কেঁদেছি! ১৪ বছরের ছেলের অপমান সহ্য করার ক্ষমতা কতটুকুই বা থাকে? একদিন ঠিক করলাম—আর না। এই অসম্মানের উত্তর দিতে হবে।
তখন থেকেই শুরু করলাম। সবকিছু ছেড়ে দিলাম—বন্ধুবান্ধব, টিভি, সিনেমা, আত্মীয়স্বজন। শুধু বই আর পড়াশোনা। কী আছে এর মধ্যে, সেটা জানার জন্য পাগল হয়ে উঠলাম। অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বাংলার প্রশ্ন তৈরি করলাম বিশ্বভারতীর বই ঘেঁটে। অঙ্কের পারমুটেশন-কম্বিনেশন-ইন্টিগ্রেশন কীভাবে বাস্তবে কাজ করে, তা বুঝতে লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটালাম। ইংরেজি কবিতার কবি আর তাদের রচনার সমালোচনা পড়লাম, শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর তৈরি করতে।
চার বছর ধরে প্রতিদিন ১৪-১৬ ঘণ্টা কেটেছে বই, রেফারেন্স আর খাতার সঙ্গে। এমনকি ঈদের দিনও নামাজ পড়ার পর ফিরে এসেছি পড়াশোনায়। বাবা-মা বলতেন, "এইবার থাম," আর বন্ধুরা বলত, "তুই কবরে চলে যাবি!" কিন্তু আমার লক্ষ্য পরিষ্কার ছিল—অপমানের জবাব দিতে হবে।
এই চার বছরে আমি শুধু এইচএসসি সিলেবাস শেষ করেছি সাতবার। বিশ্বাস না হলে অবিশ্বাস করতে পারেন।
১৯৮৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলো। ক্লাসের দ্বিতীয় শেষ ছাত্র, অঙ্কে ১২ পাওয়া, সায়েন্স গ্রুপের অযোগ্য বলা সেই ছেলেটি মেধা তালিকায় পুরো বোর্ডে প্রথম হলো! ১৫০,০০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম! প্রেসিডেন্ট ডাকলেন, টিভি ডাকল, পত্রিকায় ছবি ছাপা হলো।
এটা ছিল আমার মিষ্টি প্রতিশোধ। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাইনি।
এই অভিজ্ঞতায় আমি শিখেছি—"ভালো ছাত্র" বা "জিনিয়াস"—এসব কিছুই নয়। আসল কথা হলো কঠোর পরিশ্রম। আমি যদি সত্যিই কিছু পেতে চাই, তাহলে সেটি পাবই। না পাওয়া মানে আমি মন থেকে চাইনি।
আপনি বিসিএসে প্রথম হতে চাননি? চাননি বলেই হননি।
ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাননি? কারণ, আপনি সত্যিই চাননি।
মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা নেই? সেটাও আসলে চাননি।
আমরা সাফল্যের ফলটা দেখি, কিন্তু এর পেছনের শ্রম, ত্যাগ, কষ্ট—এসব দেখিনা। যদি কিছু পেতে চান, তবে সেটা পাওয়ার জন্য পাগলের মতো চেষ্টা করুন। দ্বিতীয় কোনো বিকল্প রাখবেন না। ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। সফল হোন, নতুবা চেষ্টা করতে করতে হারিয়ে যান।
সৃষ্টিকর্তা আমাদের শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কিছু নেই। আর শ্রেষ্ঠ জীব কখনো হারতে পারে না।
এই পোস্টের উদ্দেশ্য অহংকার করা নয়, বরং যারা নিজেদের নিয়ে সন্দেহ করেন, তাদের সেই ভুল ধারণা ভেঙে দেওয়া।
—শাব্বির আহসান
ছবি: পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ছাপা হওয়া সংবাদ।
সৌজন্যে: বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র