VAT-Tax Support & Solution BD

VAT-Tax Support & Solution BD Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from VAT-Tax Support & Solution BD, Educational consultant, Dhaka.

সময়মতো আয়কর রিটার্ন জমা দিলে এবার করদাতাদের জন্য বিশেষ করছাড়ের সুযোগ রেখেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে এই সুবিধা প...
27/09/2026

সময়মতো আয়কর রিটার্ন জমা দিলে এবার করদাতাদের জন্য বিশেষ করছাড়ের সুযোগ রেখেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে এই সুবিধা পেতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বা বুধবারের মধ্যে) রিটার্ন জমা দিতে হবে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে যুক্ত হওয়া নতুন এই বিধানটি সম্পর্কে প্রতিটি করদাতার পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। চলুন জেনে নিই এই করছাড়ের বিস্তারিত:

🥇করছাড়ের পরিমাণ কত?
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে, রিটার্নের সঙ্গে যে কর পরিশোধযোগ্য হবে তার ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা (যেটি কম) করছাড় হিসেবে পাওয়া যাবে।

🥋উদাহরণস্বরূপ: আপনার করযোগ্য আয় যদি ৭ লাখ টাকা হয়, তবে প্রথম ৪ লাখ টাকা করমুক্ত। বাকি ৩ লাখ টাকার ওপর ১০% হারে কর আসবে ৩০ হাজার টাকা। আপনি যদি সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন ও কর জমা দেন, তবে ৫% (১,৫০০ টাকা) ছাড় পাবেন। অর্থাৎ, আপনাকে কর দিতে হবে ২৮,৫০০ টাকা।

যেসবে ছাড় মিলবে না (যেখানে বৈষম্যের অভিযোগ)
নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই ছাড় কেবল রিটার্ন জমার সময় পরিশোধযোগ্য করের ওপর প্রযোজ্য।
সারা বছর বিভিন্ন খাতে আগে থেকে পরিশোধ করা করের ওপর এই সুবিধা মিলবে না। যেমন:

১. সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কাটা অগ্রিম কর

২. ব্যাংকের এফডিআর (FDR) থেকে কাটা উৎসে কর

৩. বেতন-ভাতা থেকে প্রতি মাসে কাটা অগ্রিম কর

অর্থাৎ, মোট কর থেকে সারা বছর পরিশোধ করা অগ্রিম কর বাদ দেয়ার পর যে টাকা বাকি থাকবে, ছাড়ের হিসাব হবে শুধু সেই টাকার ওপর। ফলে যারা নিয়মিত অগ্রিম কর দেন, তারা এই সুবিধার পুরোটা পাচ্ছেন না।

রিটার্ন জমার সময়কাল অনুযায়ী করছাড় ও জরিমানার নিয়ম:

🥈জুলাই-সেপ্টেম্বর: পরিশোধযোগ্য করের ৫% বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা (যেটি কম) করছাড়।

🥈অক্টোবর-ডিসেম্বর: কোনো করছাড় বা প্রণোদনা নেই (স্বাভাবিক কর)।

🥈জানুয়ারি-মার্চ: পরিশোধযোগ্য করের ২% বা ৩ হাজার টাকা (যেটি বেশি) অতিরিক্ত বা জরিমানা হিসেবে দিতে হবে।

🥈এপ্রিল-জুন: পরিশোধযোগ্য করের ৫% বা ৫ হাজার টাকা (যেটি বেশি) অতিরিক্ত বা জরিমানা হিসেবে দিতে হবে।

🙏মনে রাখবেন: পাঁচ শ্রেণির করদাতা ছাড়া এবারও সব করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টিআইএন (TIN) ধারী রয়েছেন, যার মধ্যে জুলাই-আগস্টে প্রায় সাড়ে চার লাখ রিটার্ন জমা পড়েছে।

জরিমানা এড়াতে এবং করছাড়ের সুবিধা নিতে শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত আপনার আয়কর রিটার্ন দাখিল করুন।

প্রশ্নঃ গ্র্যাচুইটি (Gratuity) কী?উত্তরঃ গ্র্যাচুইটি হলো চাকরি শেষে মালিকের পক্ষ থেকে কর্মীকে প্রদত্ত একটি এককালীন আর্থি...
26/09/2026

প্রশ্নঃ গ্র্যাচুইটি (Gratuity) কী?

উত্তরঃ গ্র্যাচুইটি হলো চাকরি শেষে মালিকের পক্ষ থেকে কর্মীকে প্রদত্ত একটি এককালীন আর্থিক সুবিধা। দীর্ঘমেয়াদী এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠান এই অর্থ প্রদান করে থাকে।

অবসর গ্রহণ, পদত্যাগ, মৃত্যু, অবসান বা ছাঁটাইয়ের কারণে চাকরি শেষ হলে কর্মীরা আইনি অধিকার হিসেবে এই সুবিধা পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধনীসহ) অনুযায়ী গ্র্যাচুইটির নিয়মাবলি।

🍿ন্যূনতম যোগ্যতা: গ্র্যাচুইটি পাওয়ার জন্য একজন কর্মীকে একই প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্নভাবে অন্তত ১ বছর চাকরি সম্পন্ন করতে হবে।

🍿হিসাবের ভিত্তি: গ্র্যাচুইটির হিসাব সবসময় কর্মীর সর্বশেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের (Last Basic Salary) ওপর ভিত্তি করে করা হয়। এখানে বাড়িভাড়া, যাতায়াত বা অন্যান্য ভাতা অন্তর্ভুক্ত হয় না।

🍿সময়কাল নির্ধারণ: চাকরির মেয়াদ হিসাব করার সময় ৬ মাসের বেশি যেকোনো ভগ্নাংশকে পূর্ণ ১ বছর হিসেবে গণ্য করা হয়।

🍿তহবিল ও আয়কর: আয়কর আইন ২০২৩ এবং শ্রম আইনের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী থাকলে প্রতিষ্ঠানকে একটি আলাদা গ্র্যাচুইটি ফান্ড বা ট্রাস্ট গঠন করতে হয়। অনুমোদিত ফান্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত গ্র্যাচুইটির একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আয়করমুক্ত থাকে।

🥋গাণিতিক হিসাবের সূত্র (Mathematical Formula) শ্রম আইন অনুযায়ী চাকরির সর্বমোট মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে গ্র্যাচুইটি ২ ভাবে হিসাব করা হয়:

🥇১০ বছর বা তার কম চাকরি করলে: প্রতি ১ বছর চাকরির জন্য ৩০ দিনের (১ মাসের) মূল বেতন প্রদান করা হয়।

সূত্র: সর্বশেষ মূল বেতন (Basic) × চাকরির মোট বছর

🥈১০ বছরের বেশি সময় চাকরি করলে: প্রতি ১ বছর চাকরির জন্য ৪৫ দিনের (১.৫ মাসের) মূল বেতন প্রদান করা হয়।

সূত্র: সর্বশেষ মূল বেতন (Basic) × ১.৫ × চাকরির মোট বছর

গাণিতিক উদাহরণ (Mathematical Examples)ধরা যাক, একজন কর্মীর সর্বশেষ মূল বেতন (Basic Salary) প্রতি মাসে ২০,০০০ টাকা।

উদাহরণ ১: চাকরির মেয়াদ ৬ বছর (১০ বছরের কম)
নিয়ম: প্রতি বছরের জন্য ১ মাসের মূল বেতন
হিসাব: ২০,০০০ টাকা × ৬ বছরমোট গ্র্যাচুইটি পরিমাণ: ১,২০,০০০ টাকা।

উদাহরণ ২: চাকরির মেয়াদ ১২ বছর (১০ বছরের বেশি)
নিয়ম: প্রতি বছরের জন্য ১.৫ মাসের (৪৫ দিনের) মূল বেতন
হিসাব: ২০,০০০ টাকা × ১.৫ × ১২ বছরমোট গ্র্যাচুইটি পরিমাণ: ৩,৬০,০০০ টাকা

২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ৪৫ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধির (৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা) বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স...
25/09/2026

২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ৪৫ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধির (৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা) বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। আর এই লক্ষ্য পূরণে সরকারের অন্যতম প্রধান কৌশল হলো—আদালতে বিচারাধীন দীর্ঘদিনের রাজস্ব বিরোধগুলো 'বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি' বা এডিআরের (ADR) মাধ্যমে দ্রুত মীমাংসা করা।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনসহ (বিপিসি) কয়েকটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন। উদ্দেশ্য একটাই—আইনি জটিলতায় আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দ্রুত উদ্ধার করা।

পরিসংখ্যান কী বলছে?

বর্তমানে এনবিআরের বিভিন্ন আপিল ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে বিচারাধীন ৩০ হাজারের বেশি মামলায় আটকে আছে প্রায় ৯০ হাজার ৮০০ কোটি টাকার রাজস্ব।

এর মধ্যে আয়কর বাবদ ২৫ হাজার কোটি, কাস্টমস বা শুল্ক বাবদ ২২ হাজার কোটি এবং ভ্যাট-সংক্রান্ত মামলায় ৪৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে।

খাতভিত্তিক বিরোধের দিকে তাকালে দেখা যায়: সোনালী ব্যাংকের প্রায় ৭ হাজার কোটি, বিপিসির ৭ হাজার কোটি, জনতা ব্যাংকের ২ হাজার ৫০০ কোটি, এবং রবি ও গ্রামীণফোনের উভয়েরই প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট ও কর বিরোধ আদালতে আটকে আছে।

এডিআর কেন পুরোপুরি সফল হচ্ছে না?
২০১১-১২ অর্থবছরে রাজস্ব বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এডিআর ব্যবস্থা চালু হলেও প্রত্যাশিত ফল আসেনি। এর পেছনে কিছু কাঠামোগত ও মনস্তাত্ত্বিক বাধা রয়েছে:

ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতার শঙ্কা: ২০২৩ সালে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের সঙ্গে এডিআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায়কালে প্রায় ১৫২ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করা হয়েছিল। এ সিদ্ধান্তের পর তৎকালীন বৃহৎ করদাতা ইউনিটের কমিশনার দুদকের মামলার মুখে পড়েন এবং তাঁর অবসরকালীন সুবিধাদি আটকে দেওয়া হয়। এই ঘটনা এনবিআর কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম সতর্কতার জন্ম দিয়েছে, ফলে তারা মওকুফ বা সমঝোতার ঝুঁকি নিতে চান না।

স্বাধীন প্যানেলের অভাব: যে কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে করের দাবি উত্থাপন করেন, অনেক সময় তাকেই এডিআর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়। ফলে নিজ অবস্থান থেকে সরে এসে ছাড় দেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

আইনি সীমাবদ্ধতা: আমদানি করা পণ্যের এইচএস কোড নির্ধারণের মতো আইনি প্রশ্ন জড়িত থাকলে এডিআরের পরিধি সীমিত হয়ে পড়ে।

গত ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ১.০৬ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রয়োজন হবে, যা এনবিআরের ওপর রাজস্ব বাড়ানোর চাপ আরও তীব্র করেছে। এই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি অপরিহার্য।

এডিআরকে কার্যকর করতে হলে আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং এনবিআরের জন্য একটি নিবেদিত ও স্বতন্ত্র এডিআর প্যানেল গঠন করা জরুরি। কর্মকর্তাদের আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত গতি আসবে না।

একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য এডিআর প্রক্রিয়াই পারে সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—উভয় পক্ষের জন্য একটি লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে।

প্রশ্নঃ আয়কর রিটার্নে ৫% করছাড়: সুবিধা নাকি নতুন জটিলতা?চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর রিটার্ন দাখিলে করদাতাদের উৎসা...
23/09/2026

প্রশ্নঃ আয়কর রিটার্নে ৫% করছাড়: সুবিধা নাকি নতুন জটিলতা?

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর রিটার্ন দাখিলে করদাতাদের উৎসাহিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দারুণ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড় পাবেন করদাতারা। তবে, এই প্রণোদনা নিয়ে এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রায়োগিক জটিলতা সামনে এসেছে।

🙏কোথায় তৈরি হয়েছে জটিলতা?
আইনের বর্তমান বিধান অনুযায়ী, রিটার্ন দাখিলের মুহূর্তে ঠিক যতটুকু কর পরিশোধ করা হবে, কেবল তার ওপরই এই ৫ শতাংশ ছাড় প্রযোজ্য হবে। এর অর্থ হলো, যেসব করদাতা জুনের আগেই পে-রোল ট্যাক্স (Payroll Tax) বা অন্য কোনো মাধ্যমে অগ্রিম কর (Advance Tax) পরিশোধ করেছেন, তারা তাদের আগে দেওয়া টাকার ওপর এই করছাড় সুবিধাটি পাচ্ছেন না।

🤨বিশেষজ্ঞদের মত ও এনবিআরের পদক্ষেপ:
আয়কর আইনজীবীদের মতে, এই নিয়মটি নিয়মিত ও আগাম কর পরিশোধকারী নাগরিকদের সঙ্গে এক ধরণের বৈষম্য তৈরি করছে। তাদের পরামর্শ— কেবল রিটার্ন জমার সময় প্রদেয় করের ওপর ভিত্তি না করে, সারা বছরের মোট করের ওপর এই ছাড় হিসাব করা হলে সমস্যার যৌক্তিক সমাধান সম্ভব।

আশার কথা হলো, এনবিআর এই জটিলতার বিষয়টি আমলে নিয়েছে এবং শিগগিরই একটি সংশোধিত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে শীর্ষ পর্যায় থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

🍿ডিজিটাল রূপান্তরে এনবিআর:
খবরটির একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক হলো এনবিআরের ডিজিটাল উদ্যোগ। প্রতিটি করদাতার জন্য এখন তৈরি করা হচ্ছে একটি 'ডিজিটাল প্রোফাইল'। এই অনলাইন প্রোফাইলে করদাতার পরিশোধিত কর এবং বকেয়ার পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যতে করছাড় প্রদান ও কর ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করে তুলবে।

দেশে বর্তমানে কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। গত অর্থবছরে মোট ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার রিটার্ন জমা হয়েছিল, আর চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই জমা পড়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার। যুগোপযোগী নীতিমালা এবং ডিজিটাল সুবিধার মাধ্যমে এই সংখ্যা সামনে আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই প্রত্যাশা।

সাম্প্রতিক সময়ে ন্যূনতম করের হার বৃদ্ধি দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের মাঝে গভীর উদ্বেগের জন্ম দি...
22/09/2026

সাম্প্রতিক সময়ে ন্যূনতম করের হার বৃদ্ধি দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের মাঝে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন মুনাফা, ক্ষুদ্র মার্জিন, আমদানি-নির্ভর ব্যবসা, এবং খুচরা বাণিজ্য খাতে এই বর্ধিত কর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় ন্যূনতম করের হার ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে আগের মতো ০.২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই (FBCCI) সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (NBR) চিঠি দিয়েছে।

নতুন আয়কর আইনের প্রভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করের বোঝা কতটা বেড়েছে, তা রীতিমতো চমকে ওঠার মতো।

বর্তমান কর কাঠামোর মূল চ্যালেঞ্জগুলো কোথায়?

করের বোঝা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি: আগে ১ কোটি টাকা টার্নওভার ও ৫ লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে কর ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। নতুন নিয়মে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ টাকায়—যা প্রায় ৯০০ শতাংশ বৃদ্ধি! ব্যবসার আকার যত ছোট, করের বোঝা বৃদ্ধির হার সেখানে তত বেশি।

গ্রস প্রাপ্তি বনাম প্রকৃত মুনাফা: ব্যবসায়ের টার্নওভার কখনোই প্রকৃত আয়ের সমতুল্য নয়। ধরুন, একটি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক মোট প্রাপ্তি ১০০ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা ৫০ লাখ টাকা। ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর আরোপ করলে করের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি টাকা, যা প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মুনাফার দ্বিগুণ!

লোকসানি ব্যবসার ওপরও করের দায়: বর্তমান আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো লাভ-ক্ষতি নির্বিশেষে গ্রস প্রাপ্তির ওপর কর নির্ধারণ। ফলে বাজার সংকট বা অন্য কোনো কারণে ব্যবসা লোকসানে থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা কার্যকরী মূলধনকে সংকুচিত করছে।

এফবিসিসিআই-এর প্রধান প্রস্তাবনা

টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে এফবিসিসিআই এনবিআর-এর কাছে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেছে:
১. ব্যক্তি করদাতা ব্যতীত অন্যান্য করদাতার ক্ষেত্রে সাধারণ ন্যূনতম করহার ১% থেকে কমিয়ে ০.৬০% করা।
২. ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে ন্যূনতম কর শূন্য (০%) রাখা এবং টার্নওভারের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে তা নির্ধারণ করা।
৩. দীর্ঘমেয়াদে ন্যূনতম করের বিধান থেকে ধীরে ধীরে সরে আসা।
৪. ভবিষ্যতে করহার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অংশীজনদের সাথে যথাযথ আলোচনার ব্যবস্থা করা।

এনবিআর-এর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে এনবিআর ইতোমধ্যে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে টার্নওভ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন নির্দেশনা: ১১টি খাতে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক!দেশের কর ব্যবস্থায় ডিজিটালাইজে...
20/09/2026

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন নির্দেশনা: ১১টি খাতে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক!

দেশের কর ব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশন এবং স্বচ্ছতা আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নতুন জারি করা আদেশ অনুযায়ী, দেশের ১১টি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য এখন থেকে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যেসব খাতের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য:
১. সিগারেট
২. মোবাইল ফোন
৩. এমএস (MS) পণ্য
৪. ওষুধ
৫. পানীয়
৬. সিমেন্ট
৭. টাইলস
৮. রং ও বার্নিশ
৯. বীমা
১০. ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা
১১. মোবাইল ব্যাংকিং সেবা

📌 ব্যবসায়ী ও করদাতাদের যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন:

নির্ধারিত প্ল্যাটফর্ম: সকল ভ্যাট রিটার্ন বা দাখিলপত্র এনবিআর-এর নির্দিষ্ট eVAT পোর্টালের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

কাদের ওপর বর্তাবে: উল্লিখিত পণ্যগুলোর উৎপাদনকারী এবং সেবা খাতগুলোর সরবরাহকারীদের জন্য এই নিয়ম বাধ্যতামূলক।

মিশ্র ব্যবসার ক্ষেত্রে: কোনো নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান যদি এই ১১টি খাতের পাশাপাশি অন্য কোনো পণ্য বা সেবার ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত থাকে, তবে তাদের সম্পূর্ণ ব্যবসা কার্যক্রমের জন্যই এই অনলাইন রিটার্ন দাখিলের নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

কার্যকারিতা: এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে এবং অনলাইনে দাখিলপত্র পেশ সংক্রান্ত পূর্বের সকল আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে। এনবিআর চাইলে যেকোনো সময় এই তালিকায় নতুন খাত যুক্ত বা বাদ দিতে পারবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টস এবং ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স টিম এই নতুন নির্দেশনার জন্য প্রস্তুত তো?

সঠিক সময়ে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে আজই এনবিআর-এর ই-ভ্যাট পোর্টালে আপনাদের টিমের প্রস্তুতি সম্পন্ন করুন এবং যেকোনো আইনি জটিলতা থেকে প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষিত রাখুন।

মো: সাদ্দাম হোসাইন
কর আইনজীবী ও ভ্যাট পরামর্শক
০১৯১৩-৪৮৯৬৭৮(WhattsApp)

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতির এই সময়ে নবায়নযোগ্য শক্তির কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, সৌরবিদ...
17/09/2026

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতির এই সময়ে নবায়নযোগ্য শক্তির কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য সরকার সৌরবিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে এক যুগান্তকারী শুল্ক-কর সুবিধা ঘোষণা করেছে। গ্রিন এনার্জি নিয়ে কাজ করা উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ!

এক নজরে নতুন এই সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো:

বিশাল শুল্ক ছাড়: আগে এসব পণ্য আমদানিতে ১৫% মূসক (VAT) ও ২% অগ্রিম আয়করসহ মোট ১৭% করভার ছিল। কিন্তু নতুন সুবিধার আওতায় সম্পূর্ণ রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন মোট করভার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ শতাংশে!

বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের অন্তর্ভুক্তি: সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, আগে এই সুবিধা শুধু নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে বাণিজ্যিক আমদানিকারকরাও এই ১% শুল্ক-কর সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

সুবিধার মেয়াদ: এই বিশেষ শুল্ক-কর সুবিধা প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে আগামী ১৮০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এর ফলে আমাদের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে কী প্রভাব পড়বে?

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে।

দেশে নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আমাদের নির্ভরতা অনেকটাই হ্রাস পাবে।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে।

পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে বাংলাদেশের এই দারুণ পদক্ষেপটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। স্বল্প খরচে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল ও সরঞ্জাম দেশে আনার এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রসারে এখনই সঠিক সময়।

বাংলাদেশ আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১৮২ অনুযায়ী "Risk Based Audit Criterion" (ঝুঁকি-ভিত্তিক অডিট মানদণ্ড) হলো করদাতার দাখিলকৃ...
16/09/2026

বাংলাদেশ আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১৮২ অনুযায়ী "Risk Based Audit Criterion" (ঝুঁকি-ভিত্তিক অডিট মানদণ্ড) হলো করদাতার দাখিলকৃত রিটার্ন গুলো যাচাই বা অডিটের জন্য নির্বাচন করার একটি স্বয়ংক্রিয় বা সফটওয়্যার-চালিত পদ্ধতি।

সহজ কথায়, এটি এমন এক ধরনের অডিট প্রক্রিয়া যেখানে কোনো কর কর্মকর্তা ম্যানুয়ালি ফাইল নির্বাচন করেন না, বরং করদাতার রিটার্নে থাকা নির্দিষ্ট কিছু "ঝুঁকি" বা অসঙ্গতির ভিত্তিতে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফাইলটি অডিটের জন্য বেছে নেয়।

এই অডিটের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. স্বয়ংক্রিয় নির্বাচন (Automated Selection): কোনো কর কর্মকর্তা (DCT) ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে এই অডিটের জন্য ফাইল নির্বাচন করতে পারেন না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) পূর্বনির্ধারিত প্যারামিটারের ভিত্তিতে সফটওয়্যার ফাইলগুলো নির্বাচন করে।

২. ঝুঁকি বা অসঙ্গতি শনাক্তকরণ: রিটার্নে যদি কোনো গাণিতিক বা তথ্যগত অসঙ্গতি থাকে—যেমন প্রদর্শিত আয়ের সাথে দৃশ্যমান সম্পদ বা জীবনযাত্রার ব্যয়ের বড় ধরনের অমিল, ভুল খাতে আয় দেখানো, বা উৎসে কর (TDS) কর্তনের উপযুক্ত প্রমাণের অভাব—তবে সিস্টেম ফাইলটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত (Flag) করে।

৩. মানবিক হস্তক্ষেপ হ্রাস: এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো অডিট সিলেকশনে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা মানবিক হস্তক্ষেপ (human intervention) কমানো এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

সংক্ষেপে, এটি দৈবচয়ন (Random) কোনো অডিট নয়। রিটার্নের তথ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো ত্রুটি বা আড়াল করা তথ্যের সন্দেহ থাকলেই কেবল এই মানদণ্ডের অধীনে একটি ফাইল অডিটের আওতায় আসে।

মোঃ সাদ্দাম হোসাইন
কর আইনজীবী ও মূসক পরামর্শক
০১৯১৩-৪৮৯৬৭৮ (WhattsApp)

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বাংলাদেশের বাণিজ্য খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি 'আমদানি নীতি আদ...
14/09/2026

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বাংলাদেশের বাণিজ্য খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি 'আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯' বাস্তবায়নের চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করেছে, যা আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের জন্য দারুণ কিছু সুবিধা ও নমনীয়তা নিয়ে এসেছে।

চলুন একনজরে দেখে নিই নতুন এই নির্দেশনার মূল আকর্ষণগুলো কী কী:

🔹 এলসি ছাড়াই আমদানি: এখন থেকে ঋণপত্র বা এলসি (Letter of Credit) খোলার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। ব্যবসায়ীরা শুধুমাত্র ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির ভিত্তিতে পণ্য আমদানি করতে পারবেন। শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে আমদানিযোগ্য সকল পণ্যের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মূল্যসীমাও থাকছে না।
🔹 ক্যাশ ফ্লো ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি: আমদানি মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে 'উন্মুক্ত হিসাব' বা 'ওপেন অ্যাকাউন্ট' (Open Account) পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এটি আমদানিকারকদের নগদ প্রবাহ (Cash Flow) ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত করবে।
🔹 রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিশেষ সুবিধা: নতুন নীতির ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে স্থানীয় উৎস থেকে দেশীয় মুদ্রায় এবং ‘ফ্রি-অব-কস্ট’ (Free of Cost) বা বিনা মূল্যে উৎপাদনের কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারবে।
🔹 উৎপাদন ব্যয় হ্রাস: বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানোর নতুন পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে, যা আমাদের রপ্তানি খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে:
এলসি ছাড়া আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও, সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। এই নতুন আমদানি নীতি আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

বাণিজ্যে এর প্রভাব:
এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পণ্য সংগ্রহ ও মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি নমনীয়তা তৈরি করবে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাথে যুক্ত, তাদের লেনদেন ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল ও সহজ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত দেশের আমদানি-রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলবে বলে আপনি মনে করেন?

দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস...
12/09/2026

দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের আওতায় আনা হচ্ছে।

এক দশক আগে আমাদের দেশে যে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল, ২০১৯ সালের পর তা বাতিল হয়ে যায়। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেকটা সেই মডেলেই নতুন করে নির্ধারিত হারে ভ্যাট আরোপের কথা ভাবছে এনবিআর।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলো:

নির্ধারিত ভ্যাট হার:
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের দোকানপাট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাসে ৫০০ টাকা,
উপজেলা পর্যায়ে ১ হাজার টাকা এবং
জেলা সদর ও পৌর শহর এলাকায় ২ হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হতে পারে।

সহজ পেমেন্ট সিস্টেম: প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ থাকছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি আলাদা অ্যাপ চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা: দেশজুড়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরির কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৩ থেকে ৫ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এই নির্ধারিত ভ্যাটের আওতায় আনা হবে।

কেন এই নতুন উদ্যোগ?
বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকার নিচে হলে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা (৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা) রয়েছে, যার মধ্যে ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট থেকেই সংগ্রহ করতে হবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিবন্ধনহীন এই বিশাল সংখ্যক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে ন্যূনতম ভ্যাটের আওতায় আনার জন্যই এই পদক্ষেপ।

বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও বিশেষজ্ঞ মত:
এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভীতি দূর করতে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। এছাড়া, একবার কম ভ্যাট দেওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে ভবিষ্যতে ব্যবসায়ীরা বেশি ভ্যাট দিতে অনাগ্রহী হতে পারেন—এমন একটি চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে।

দেশের রাজস্ব খাতকে সমৃদ্ধ করতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এই অন্তর্ভুক্তি একটি সাহসী পদক্ষেপ। তবে এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সঠিক নীতি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের সচেতনতার ওপর।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when VAT-Tax Support & Solution BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share