17/08/2023
জুমু'আহর দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলঃ
১. সূরা কাহফ সম্পূর্ণ তিলাওয়াত
২. রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অধিক পরিমাণে দরুদ ও সালাম পাঠ করা
৩. অধিক পরিমাণে দুয়া করা। বিশেষ করে সলাতের আগে পরে, খুতবার সময় দুই খুতবার মাঝের সময় এবং বিশেষ করে আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে দুয়া করা।
তবে এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল গুনাহ থেকে বেচে থাকা, কারণ বড় স্থানে ছোট গুনাহ ও বড় হয়ে যায়। আর জুমু'আহর দিন বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন দিন।
রাসূল ﷺ বলেছেন,
যে ব্যক্তি জুমু'আহর দিনে সূরা কাহফ পাঠ করবে, তার ঈমানের নূর এক জুমু'আহ থেকে অন্য জুমু'আহ পর্যন্ত বিচ্ছুরিত হতে থাকবে।
[সহিহ আত-তারগীব, হাদিস ৭৩৬]
07/08/2023
হায়! আপনি যদি আমাদের সাথে থাকতেন,
তাহলে আমাদের সর্বোত্তম পথে পরিচালিত করতেন।
হায়! আপনি যদি আমাদের সাথে থাকতেন,
তাহলে আমরা বিপথগামী হতাম না অথবা হারিয়ে যেতাম না।
হায়! আপনি যদি আমাদের সাথে থাকতেন,
আমাদের জামানায়। ইয়া রাসূলুল্লাহ ﷺ
হায়! আপনি যদি আমাদের সাথে থাকতেন,
যখনই আপনাকে দেখতাম তখনই আমরা পরিতৃপ্তি অনুভব করতাম।
হায়! আপনি যদি আমাদের সাথে থাকতেন,
আমরা আপনার পেছনে সালাত আদায় করতাম, আপনার সাথে সাক্ষাত করতাম। আপনার হাতে চুমু খেতাম আর আনন্দ অনুভব করতাম।
হায়! আপনি যদি আমাদের সাথে থাকতেন,
আমরা আপনাকে আমাদের কষ্টগুলো খুলে বলতাম।
হায়! আপনি যদি আমাদের সাথে থাকতেন,
আমাদের ঝরে পড়া অশ্রু সবকিছু আপনার কাছে প্রকাশ করে দিত।
আপনার সাহচর্যে আমরা অর্জন করে নিতাম জান্নাহ আর সর্বশক্তিমান রবের নিয়ামাহ সমূহ।
হায়! আপনি যদি আমাদের সাথে থাকতেন,
ইয়া রাসূলুল্লাহ ﷺ
ফিদাকা আবি ওয়া উম্মি ইয়া রাসুলুল্লাহ ﷺ
!আমার বাবা-মা আপনার জন্য কুরবান হোক ইয়া রাসুলুল্লাহ ﷺ)
04/08/2023
মুখের দাগে বিচলিত তুমি
দেখ আয়না বারে বার
আত্মার কোন খবর রাখ কি
সে যে কুৎসিত কদাকার।
ইহ-জীবনেই বিভোর তুমি
নেই মরণের খবর
তুমি যে ভাই নামে মুসলিম
কাজে ইবলিসের দোসর।
মিনারে মিনারে তাকবীর ধ্বনি
যায় শোনা যায় আজো
হৃদয় আমার রাজ্যে কাঁপন ধরানো
নাই সে ধ্বনির খোঁজও।
~ হযরত আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রাহিঃ
23/07/2023
|| একদিন ঠিক বেচে দেব ||
দিনগুলো বড্ড বদলে গেছে
আসমানের রঙের মতো
মোবাইলের ইনকামিং কলগুলোও।
খেয়াল করে দেখলাম পেশাগত কারণ,
নয়তো নিজের প্রয়োজন
এছাড়া কেউ আর খবর নেয় না।
অথচ এই কয়দিন আগেও
আমাদের আলোচনাজুড়ে থাকত
জান্নাত, আখিরাত, দ্বীন
আল্লাহর পথে যাত্রা, কিংবা বিপ্লবের শিহরণ!
সেই অনেক দিন হয়ে গেল
কাউকে দেখে জান্নাতের কথা মনে পড়ে না।
কারো সাথে কিছু সময় কাটিয়ে
খুউউব ভালো হয়ে যাওয়ার ইচ্ছেটা হয়না অনেকদিন।
টাকা, ব্যবসা, সামাজিকতা, স্ট্যাটাস
আমাদের আত্মাগুলো চুষে খেয়ে নিয়েছে
মুখের সেই নিষ্পাপ অভিব্যক্তিগুলো পর্যন্ত
বিবর্ণ, ফ্যাঁকাসে খুব...
আমার তো ইচ্ছে হয়
ঝুম বৃষ্টিতে সবার সাথে ফুটবল খেলি
বাসার বেলকনিতে চায়ের আড্ডাটা আবারও হোক
খোলা মাঠে শুয়ে তারা গুণি
মোড়ের ঐ টং দোকানে
আসরের পর এক কাপ চা!
আমার আম্মা বলে, আমাকে ঢাকা নিয়ে যাবি কবে?
আমি মুচকি হেসে বলি, সেখানে মানুষ থাকে না মা!
আমি বরং তোমাকে নিয়ে একদিন সবুজ ঘাসে হাঁটব
মা আমার অবাক হয়ে তাকায়...
একদিন আমি ঠিক দেখিয়ে দেব
সুটেড বুটেড সাহেব বাবু না হয়েও দিব্যি বেঁচে থাকা যায়
একদিন আমি ঠিক দেখিয়ে দেব
বকরির দুধ আর খেজুরের ঐ জীবনটাতেই সুখ।
যে জীবন তোমাদের সুন্দর হৃদয়গুলো
বিবর্ণ করে ছেড়েছে
সেই জীবনটা...
পুকুর ঘাটে পা ভিজিয়ে বসে
নীল আকাশ দেখার সাধীনতার কাছে
একদিন ঠিক বেচে দেব.....
মূল লেখা: আদিল উমর
কবিতা: সাজিদ ইসলাম
17/07/2023
|| কোনো নারীর চাদরের দিকেও দৃষ্টিপাত কোরো না ||
ইসহাক ইবনু সুয়াইদ (রাহিঃ) থেকে বর্ণিত, আলা ইবনু জিয়াদ (রাহিঃ) বলেন,
“কোনো নারীর চাদরের দিকেও তোমার দৃষ্টিকে অনুগামী কোরো না। কারণ, দৃষ্টি অন্তরে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।”
বই: তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া; ২০৪
28/06/2023
|| ঈদুল আজহার সুন্নতসমূহ ||
১. গোসল করা;
২. সুগন্ধি ব্যবহার করা;
৩. উত্তম পোষাক পরা;
৪. এক রাস্তায় যাওয়া, অন্য রাস্তায় আসা;
৫. কুরবানীর গোশত দ্বারা দিনের খাবার শুরু করা;
৬. উচ্চস্বরে তাকবির বলতে বলতে ঈদগাহে যাওয়া;
৭. ঈদের সালাত আদায় করা ও খুতবা শোনা;
৮. ঈদুল আযহার সালাত শেষে কুরবানী করা;
৯. পরস্পরে সাক্ষাতে ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করা।
রেফারেন্স:- ১. ইবনু মাজাহ- ১৩১৫, ২. মুসলিম - ১১১৭, ৩. বুখারী- ১১০৬, ৪. বুখারী - ৯৪৩, ৫. ইবনু হিব্বান- ২৮১৪, ৬. মুসান্নাব ইবনু আবী সায়বা- ৫৬৬৭, ৭. বুখারী - ২০১৮, ৮. বুখারী - ২৫৬, ৯. বায়হাকি- ৩/৩১৯
সতর্কতাঃ ঈদের আনন্দের জন্য তাকবিরে তাশরিক যেন মিস না হয়। ৯ই জিলহজ ফজরের নামাজ হতে ১৩ ই জিলহজ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্তের ফরজ নামাজের পর পুরুষদের ওপর উচ্চৈঃস্বরে একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। আর নারীরা নিচু স্বরে পড়বে, যাতে নিজে শোনে।
ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ! অনিচ্ছাকৃতভাবে ছুটে গেলে ইস্তিগফার করবে। এর কোনো কাযা নেই।
25/06/2023
|| বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন আরাফার দিন ||
আরাফার দিনেই আমাদের দ্বিন তথা ইসলামকে পূর্ণতা দেওয়া হয়েছিলো:–
একবার ই/হু/দিরা উমার (রা.)-কে বললো– “তোমরা কুরআনের এমন একটি আয়াত তিলাওয়াত করো, যদি সে আয়াতটি আমাদের মাঝে অবতীর্ণ হতো, তবে, আমরা সেই দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে উদযাপন করতাম।”
উমার (রা.) বলেন– ‘সেটি কোন আয়াত?’ সে বললো, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বিনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামত পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বিন (জীবনবিধান) হিসেবে মনোনীত করলাম।” [সুরা আল মায়িদাহ, আয়াত: ০৪]
উমার (রা.) বলেন– “আমরা জানি কোন দিন এবং কোথায় এটি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াম সাল্লামের উপর অবতীর্ণ হয়েছে। সেদিন তিনি আরাফার ময়াদানে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং সেই দিনটি ছিলো জুমু‘আর দিন।”
[বুখারি, আস-সহিহ: ৪৫]
24/06/2023
|| তাকবিরে তাশরিক ||
৯ই জিলহজ ফজরের নামাজ হতে ১৩ ই জিলহজ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্তের ফরজ নামাজের পর পুরুষদের ওপর উচ্চৈঃস্বরে একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। আর নারীরা নিচু স্বরে পড়বে, যাতে নিজে শোনে।
[ফতোয়ায়ে শামী ২/১৭৮ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৩৭০ পৃষ্ঠা]
ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়া হোক বা একাকী, ওয়াক্তের মধ্যে পড়া হোক বা কাজা, নামাজি ব্যক্তি মুকিম হোক বা মুসাফির, শহরের বাসিন্দা হোক বা গ্রামের— সবার ওপর ফরজ নামাজের পর একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব।
[দুররে মুখতার : ২/১৮০]
ফরজ নামাজের পর তাকবির বলতে ভুলে গেলে, স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকবির পড়ে নেবে। তবে হ্যাঁ, নামাজের বিপরীত কোনো কাজে লিপ্ত হয়ে গেলে, যেমন— কথা বলা, নামাজের স্থান থেকে উঠে পড়া ইত্যাদি হলে তাকবির বলতে হবে না, বরং ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার কারণে আল্লাহর কাছে তওবা করবে।
[শামি : ৬/১৭৯]
তাকবিরে তাশরিকের আমল যেভাবে চালু হয়েছে:-
প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ ও বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা বদরুদ্দিন আইনি (রহ.) বলেন—
যখন হজরত ইবরাহিম (আ.) স্বীয় পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে গলায় ছুরি রাখলেন, এদিকে আল্লাহর নির্দেশে হজরত জিবরাঈল (আ.) আসমান থেকে একটি দুম্বা নিয়ে দুনিয়ায় আগমন করছিলেন।কিন্তু জিবরাঈল (আ.)-এর আশঙ্কা ছিল, তিনি দুনিয়াতে পৌঁছার আগেই ইবরাহিম (আ.) জবাইপর্ব সমাপ্ত করে বসবেন। ফলে তিনি আসমান থেকে উঁচু আওয়াজে বলে উঠলেন : ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার।’
ইবরাহিম (আ.) আওয়াজ শুনে আসমানের দিকে নজর ফেরাতেই দেখতে পেলেন জিবরাঈল (আ.) একটি দুম্বা নিয়ে আগমন করছেন। ফলে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠলেন : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর।’ পিতার কণ্ঠে এই কালিমা শুনতেই ইসমাঈল (আ.) উচ্চারণ করলেন : ‘আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’
একজন ফেরেশতা আর দুজন প্রিয় নবীর এ বাক্যমালা আল্লাহর খুব পছন্দ হয়। তাই কিয়ামত পর্যন্ত এই বাক্যমালা আইয়ামে তাশরিকে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পড়াকে ওয়াজিব করে দিয়েছেন।
[ফাতাওয়ায়ে শামি : ২/১৭৮, ইনায়া শরহুল হিদায়া : ১/৪৬৪]