09/08/2024
আমরা সবাই ন্যায়বিচার চাই। কারো চাওয়া এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কিভাবে?
আমরা যদি কাউকে কোন বস্তু যেমন: চাল, ডাল, আলু ইত্যাদি সঠিকভাবে মেপে দিতে চাই তাহলে এখানে দুটি জিনিস জরুরী।
১. ওজন করার ক্ষেত্রে আমাদের সততা অর্থাৎ মাপে কমবেশি না করা
২. যে বাটখারা দিয়ে ওজন করা হবে সেটিও সঠিক হতে হবে। আমরা যতই সততার সাথে চেষ্টা করি না কেন বাটখারা যদি ভুল হয়, কস্মিনকালেও সঠিক ওজন সম্ভব নয়।
একই কথা ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্যও দুটি বিষয় অপরিহার্য।
১. আমাদের সদিচ্ছা। আইন সবার জন্য সমান - এই নীতি বাস্তবায়ন করা।
২. যে আইন দিয়ে বিচার করা হবে তা সঠিক হতে হবে। আইন যদি ত্রুটিপূর্ণ, পক্ষপাতমূলক এবং প্রজ্ঞা বিহীন হয়, তাহলে সে আইন দিয়ে যে বিচার-ফয়সালা করা হবে, তা কখনো ন্যায়সংগত হবে না।
প্রথমটির ক্ষেত্রে ধরে নিলাম ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমাদের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার কোন কমতি নেই। আমরা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে কমবেশি করব না। আইনের দৃষ্টিতে সবাইকে সমান বিবেচনা করব।
এবার আসি ২য় বিষয়টিতে। বিদ্যমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষ হচ্ছে মানুষ। মানুষই সংসদে গিয়ে আইন প্রণয়ন করছে। এক্ষেত্রে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানাটা জরুরী।
প্রথমত, মানুষ কি আইন প্রণয়নের অধিকার রাখে? মানুষ কি সার্বভৌমত্বের মালিক? উত্তর খুবই পরিষ্কার। সার্বভৌমত্বের মালিক একমাত্র আল্লাহ আর এতে আল্লাহর কোন শরীক নেই। সেহেতু আইন প্রণয়নের অধিকারও একমাত্র আল্লাহরই। যদি কেউ বিশ্বাস করে বা মনে করে সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ, আইন প্রণয়ন করা জনগণের অধিকার তাহলে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে সে সন্দেহাতীতভাবেই একজন মুশরিক। কোন মুসলিম এই বিশ্বাস পোষণ করতে পারে না।
দ্বিতীয়ত, মানুষকে কি ঐ পরিমাণ জ্ঞান দেয়া হয়েছে যা দ্বারা সে মানব প্রকৃতি ও বিশ্বজগতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন করতে পারে? নিশ্চিতভাবেই মানুষের সে জ্ঞান নেই। তা রয়েছে কেবলমাত্র আল্লাহ তা'আলার।
তৃতীয়ত, মানুষ কি ভুলের উর্ধ্বে? একমাত্র আল্লাহ তা'আলা ভুলের উর্ধ্বে। সুতরাং মানুষ আইন প্রণয়ন করলে তা ত্রুটিপূর্ণ হবে এটাই স্বাভাবিক।
চতুর্থত, মানুষ কি স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত? প্রশ্নই আসে না। একমাত্র আল্লাহ তা'আলা এসব মানবীয় ত্রুটি থেকে মুক্ত। তাই মানুষের বানানো আইন পক্ষপাতমূলক হবে এটাই স্বাভাবিক।
সারমর্ম এই, মানব রচিত আইন সর্বাবস্থায়ই ত্রুটিপূর্ণ। তাই আমরা যতই সৎ ও আন্তরিক থাকি না কেন, ত্রুটিপূর্ণ মানবরচিত আইন দিয়ে কখনোই ন্যায়বিচার সম্ভব নয়। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সততা ও আন্তরিকতার পাশাপাশি মানবরচিত আইন বাদ দিয়ে আল্লাহর নাযিলকৃত আইন (শরীয়াহ) অনুযায়ী বিচার ফয়সালা করতে হবে। তাহলেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সম্ভব।