গনিত চক্র - Math Circle

গনিত চক্র - Math Circle

Share

The page is mathematical fun and iq test.

27/06/2020

BODMAS – যে নিয়মটা প্রায়ই ভুলভাবে শেখানো হয় আমাদের
-------------------------------------------------------

পাটীগণিত বা বীজগণিতের সরল অঙ্কে যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ এমন অপারেশনগুলো কোনটার পরে কোনটা করতে হবে (Order of Operation), সেটা প্রায়ই আমাদেরকে শেখানো হয় একটা ছোট্ট স্মরণসূত্র (mnemonic) দিয়ে: BODMAS। সাধারণত এটা শেখানো হয় এভাবে: B=Bracket, O=Of, D=Division, M=Multiply, A=Addition, S=Subtraction। এবং শেখানো হয় আগে ব্রাকেটের কাজ , তারপর ‘Of’, তারপর Division, তারপর Multiplication, এরপর Addition এরপর Subtraction। এখানে বেশকিছু সমস্যা আছে। এক এক করে সমসাগুলো বলি।

-------------------------------------------------------------------
কথা ১: জেনে রাখুন আগে 'ভাগ', পরে 'গুণ' এমন কোনো নিয়ম আসলে নাই
-------------------------------------------------------------------

এটা অনেকেরই বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে আমি জানি। সারা জীবনের শিক্ষা কি তবে ভুল হয়ে গেল? হ্যাঁ। BODMAS এর ভেতরে আগে D আছে, তাই Division বা ভাগের কাজ আগে হবে, এটাই সবাইকে শেখানো হয়, যেটা অপ্রয়োজনীয়। আসলে গুণ ও ভাগের অগ্রাধিকার একই। যোগ-বিয়োগের অগ্রাধিকারও একই। তবে গুণ-ভাগের অগ্রাধিকার যোগ-বিয়োগের থেকে বেশি।

অগ্রাধিকারের ক্রমটা এই রকম:
1) বন্ধনী বা Bracket(B)
2) সূচক বা Order (O) [এটাকে Of শেখানো হয়, সেটা নিয়ে শেষে লিখেছি]
৩) গুণ-ভাগ, Division/Multiplication (D/M)
৪) যোগ-বিয়োগ, (Addition/Subtraction)

দেখুন, ৩ আর ৪ এ কায়দা করে আমি দুটো দুটো করে একসাথে লিখেছি। এই ব্যাপারটা আমিও জানতাম না অনেকদিন। এটা নিয়ে খটকা লাগল যখন দেখলাম আমেরিকাতে BODMAS এর মতো আরও একটা মনে রাখার কৌশল আছে: PEMDAS [Parenthesis, Exponent, Multiplication, Division, Addition, Subtraction ]। PEMDAS এর ভিতরে গুণ (M) আছে ভাগের (D) আগে। তাহলে তো দুই রকম নিয়ম হয়ে গেল। পরে যখন জানলাম গুণ আর ভাগের অগ্রাধিকার একই, তখন বুঝলাম দুটো নিয়ম আসলে একই কথা বলে।

তাহলে যদি এমন একটা অঙ্ক থাকে 2×8÷2÷2 কীভাবে করব? যারা জানেন যে ভাগ আগে করতে হয়, তারা এবারে একটু দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যাবেন কেননা এখানে দুইটা ভাগের অপারেশন আছে। আগে 8÷2 হিসেব করতে হবে, নাকি আগে 2÷2? করে দেখুন, দুইবার দুইরকম ফল পাবেন। তবে মূল নিয়মটা জানলে চিন্তার কিছু নেই। মূল নিয়মটা দুটো-

-------------------------------------------------------------------
১. যে অপারেশনের অগ্রাধিকার বেশি, তাকে আগে হিসেব করতে হবে।
২. যদি একই অগ্রাধিকারের অনেকগুলো অপারেশন থাকে তাহলে ‘বাম থেকে ডানে’ হিসেব করতে হবে
-------------------------------------------------------------------

যেমন এখানে আছে শুধু গুণ আর ভাগ, যাদের অগ্রাধিকার একই। ২ নম্বর নিয়মটা এখানে খাটবে। তাহলে বাম থেকে ডানে হিসেব করে যেতে হবে।
2×8÷2÷2
= 16÷2÷2
= 8÷2
= 4

এটা জানলে কোন ভাগটা আগে করব, তা নিয়ে সন্দেহ থাকবে না। এমনকি এখানে ভাগের আগে গুণ করা হয়েছে সেটাও খেয়াল রাখতে পারেন। আর উত্তর বিশ্বাস না হলে পৃথিবীর যেকোনো ক্যালকুলেটরে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

আরেকটু চিন্তাশীল মানুষদের জন্য বলতে পারি, গুণ-ভাগের অগ্রাধিকার আলাদা হবার যে কারণ নেই সেটা আপনারা অনুভব করতে পারবেন ভাগ কী সেটা বুঝলে। আদতে field theory তে ভাগ বলে কিছু নাই, ভাগকে ভাবা যায় বিপরীতকের গুণ হিসাবে। 8÷2=8×½ । যত জায়গায় ÷2 আছে, সব জায়গায় ×½ বসিয়ে ভাবতে পারেন। আর সব যদি গুণ হয়ে যায়, তখন তো আর আগে-পরের ব্যাপার থাকবে না।

-------------------------------------------------------------------
কথা ২: যোগ আগে, বিয়োগ পরে এমন কোনো কথা নাই
-------------------------------------------------------------------

গুণভাগের কথাটা যোগ আর বিয়োগের জন্যেও সত্যি। একটা অঙ্কের কথা ভাবুন।
13-5+3-2+2
এমন অঙ্ক দেখলে আমি ছোটবেলায় প্রায়ই দ্বিধান্বিত হয়ে যেতাম। যেহেতু আমি জানতাম যোগ আগে, তাই মাঝে 5 আর 3 কিংবা শেষের 2 আর 2 আগে যোগ করে ফেলতাম। পরে অবশ্য স্যারেরা শিখিয়েছিলেন আগে যোগগুলো একসাথে করে নিতে
13-5+3-2+2
= 13+3+2-5-2
= 18-7
= 11

এটাতে ঠিক উত্তর পাওয়া যায়, সন্দেহ নেই। কিন্তু কম্পিউটার যখন হিসেব করে সে কিন্তু এমন সাজিয়ে নেয় না। কারণ পদ্ধতিটা আরও সহজ। যেহেতু যোগ-বিয়োগের অগ্রাধিকার একই, আপনি স্রেফ বাম থেকে ডানে হিসেব করে যান।
13-5+3-2+2
= 8+3-2+2
= 11-2+2
= 9+2
= 11

লক্ষ করুন, এখানে শুরুতেই আমি বিয়োগ করে ফেলেছি, তাতে উত্তর ভুল কিছুই আসেনি।
এখানেও চিন্তাশীল মানুষদের জন্য বলতে পারি, যোগ-বিয়োগের অগ্রাধিকার আলাদা হবার কারণ নেই। বিয়োগকে ভাবা যায় ঋণাত্মকের যোগ হিসাবে 13-5=13+(-5) । যত জায়গায় -2 আছে, সব জায়গায় +(-2) বসিয়ে ভাবতে পারেন। 13-5+3-2+2=13+(-5)+3+(-2)+2। সবাই এখন যোগ।

-------------------------------------------------------------------
কথা ৩: যোগ-বিয়োগ আর গুণ-ভাগ দুটোই থাকলে?
-------------------------------------------------------------------

চিন্তা কী? উপরের ১ নম্বর নিয়মটা ভাবুন। যার অগ্রাধিকার বেশ সে আগে। গুণ-ভাগের অগ্রাধিকার বেশি তাই গুণ-ভাগ আগে করবেন। তারপর যোগ-বিয়োগ। বাম থেকে ডানে যাওয়ার নিয়মটা শুধুমাত্র তাদের জন্য সত্যি যেখানে অগ্রাধিকার একই। একটা উদাহরণ দেখা যাক।
12÷2÷3×4-6+5×7

এখানে গুণভাগ-ওয়ালা অংশগুলোকে যেমন (12÷2÷3×4) এবং (5×7) কে আগে আলাদা করে নিন। প্রয়োজনে ব্র্যাকেট দিয়ে নিতে পারেন। সেগুলোর ভিতরে যদি গুণভাগ দুই-ই থাকে তাহলে বাম থেকে ডানে যেতে পারেন।
12÷2÷3×4-6+5×7
= (12÷2÷3×4)-6+(5×7)
= (6÷3×4)-6+35
= (2×4)-6+35
= 8-6+35

খেয়াল করুন গুণ-ভাগের কাজ শেষ হলে, পড়ে থাকবে যোগ-বিয়োগ। যাদের অগ্রাধিকার একই। সুতরাং বাম থেকে ডানে যেতে পারেন।
8-6+35
= 2+35
= 37

এটা জানলে আর খুব একটা দ্বিধায় পড়তে হবে না কাউকে।

-------------------------------------------------------------------
কথা ৪: O তে Of নাকি Order
-------------------------------------------------------------------

সত্যি হলো Of বলে কোনো অপারেশন গণিতের কোনো তত্ত্বে নেই। এই উপমহাদেশীয় গণিতের বইগুলোতে ‘এর’ বলে একটা কথা আছে, যেটা আদতে ‘গুণ’ অপারেশন। যেমন (১২ এর ১/ ৩)=১২ x ১/৩ = ৪। এই ‘এর’ এর ইংরেজি ‘of’ ।

‘10 এর ½’ এটা মানে যে 10 × ½, এমন করে বাচ্চাদের শেখানোর চিন্তাটা আসলে খারাপ না। এর দিয়ে গুণ বোঝানো হয় এটা তারা জানল। একইভাবে ‘10 আর 6’ মানে হলো 10+6, ‘10 থেকে বাদ 6’ এটার মানে হলো 10-6 । তাহলে ‘এর’, ‘আর’, ‘থেকে বাদ’ এগুলো হচ্ছে কথা বলার বা লেখার ভাষা, যেটাকে গণিতে আমরা গুণ, যোগ, বা বিয়োগ অপারেশনগুলো দিয়ে ভাবছি।

আলাদা করে একটা ‘এর’ অপারেশন রাখা অর্থহীন। অনেকে যুক্তি দিতে পারেন ‘এর’ একটা গুণ যেটা সাধারণ গুণের থেকে বেশি ক্ষমতার অধিকারী (অগ্রাধিকার বেশি, আগে হিসেব করতে হবে)। সেটাও ধোপে টিকবে না কারণ আপনি 10 এর ½ না লিখে একটা ব্র্যাকেটসমেত (10× ½ ) লিখলেই সেটা হয়।

আমাদের উপমহাদেশে O তে ‘Of’ যদিও প্রচলিত, বিশ্বের আর সব জায়গায় কিন্তু এমন না। অস্ট্রেলিয়া এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতেও BODMAS প্রচলিত। সেখানে তারা O মানে জানে Order বা সূচক। ইংল্যান্ডে এটাকে বলে BIDMAS, সেখানে দ্বিতীয় অক্ষরটা অর্থাৎ ‘I’ এর মানে হলো Indices বা সূচক। কানাডা, নিউজিল্যান্ডে প্রচলিত হলো BEDMAS, যেখানে E এর মানে Exponent বা সূচক, যুক্ররাষ্ট্রে প্রচলিত হলো PEMDAS , সেখানেও E মানে Exponent বা সূচক। অর্থাৎ বাকি সবাই জানে ব্র্যাকেটের পর সূচকের কাজ, অর্থহীন ‘এর’কে কেউই রাখেনি।

আমরা of জানায় সমস্যা যা হয়েছে- O দিয়ে Order-ও বোঝায় সেই ব্যাপারটা অনেকের জানা হয়নি। BODMAS এর এই Order বলছে যে গুণ/ভাগ কিংবা যোগ/বিয়োগের আগে সূচকের কাজ করতে হবে।

যেমন:
2³÷4+3
= 8÷4+3
= 2+3
= 5

-------------------------------------------------------------------
বাম থেকে ডানের ব্যতিক্রম
-------------------------------------------------------------------

উপরে যেহেতু সূচকের ব্যপারটা এসেছে , তাই সে সংক্রান্ত একটা কথা বলে রাখি। আগে বলেছি যে যোগ-বিয়োগ বা গুণ-ভাগের বেলায় একই অগ্রাধিকার-ওয়ালা অপারেশনের ক্ষেত্রে ‘বাম থেকে ডান’ যেতে হবে। এই ব্যাপারটার একটা ছোট্ট ব্যতিক্রম আছে সূচকের ক্ষেত্রে।

যখন পাওয়ারের উপর পাওয়ার থাকে তখন সবার উপরের পাওয়ারটা আগে হিসাব করতে হয়। আমরা যেহেতু পাওয়ারগুলোকে কোনো সংখ্যার উপরে ডানদিকে লিখি তাই এক্ষেত্রে ডান থেকে বাম আসতে হয়। যেমন 2^1^3^2 এটাকে ভাবুন ২ এর মাথায় পাওয়ার ১, সেই ১ এর মাথায় ৩, সেই ৩ এর মাথায় ২। এবারে আগে হিসেব করা হয় 3^2 কে। পুরো হিসেবটা হবে এমন: 2^1^3^2 = 2^1^9 = 2^1 = 2, এখানে বাম থেকে ডানে গেলে চৌষট্টি পেয়ে যাবেন, যেটা ঠিক না।

-------------------------------------------------------------------
6÷2(1+2) = ?
-------------------------------------------------------------------

শেষ করা যাক অনলাইন কাঁপানো একটা বিখ্যাত সমস্যা দিয়ে। 6÷2(1+2) = ?
BODMAS এর নিয়ম জানলে এটা করা খুবই সহজ।
6÷2(1+2)
= 6÷2×(1+2)
= 6÷2×3 [আগে ব্র্যাকেটের কাজ]
= 3 × 3 [গুণ-ভাগ একই অগ্রাধিকার, তাই বাম থেকে ডানে]
= 9

আমি প্রায়ই ইনবক্সে প্রশ্ন পাই- কেন Casio-র দুই মডেলের Scientific Calculator এ 6/2(1+2) এর মান দুই রকম দেখায়।

প্রথমে বলে নিই, 2(1+2) এই 2 আর (1+2) এর মাঝে যে গুণটা আছে, সেটা যদি আমরা স্পষ্ট করে বসিয়ে দিই, তাহলে সব ক্যালকুলেটর একই মান দেয়। 6/2×(1+2) এটা লিখলে সবাই উত্তর দেবে 9। কারও তখন কোনো দ্বিধা থাকে না।

যখন 2 আর (1+2) এর ভিতরে গুণ চিহ্নটা স্পষ্ট করে দেয়া থাকে না, তখন Algorithm এ ঝামেলাটা হয়। এটাকে তখন বলে Implicit multiplication। এটার অগ্রাধিকার সাধারণ গুণ-ভাগ থেকে বেশি হবে, এমন একটা ধারণা প্রচলিত আছে। যেমন 1/2a লিখলে অধিকাংশ মানুষই বোঝে 2 আর a একসাথে আছে, এটা 1/ (2a)। এই প্রচলিত চিন্তাটা কিন্তু BODMAS এর নিয়ম মানে না। BODMAS মতে, 1/2a= (1/2) × a = ½ a ।

Implicit multiplication কে অগ্রাধিকার দিলে উপরের অঙ্কের হিসেবটা দাঁড়ায় এমন: 6÷2(1+2)= 6÷2(3) = 6÷6 = 1। কিন্তু এমন Implicit multiplication এর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার আগে হবে, এমন কোনো নিয়ম কোথাও আসলে নেই। ফলে এটাকে সাধারণ গুণ হিসেবে বিবেচনা করে হিসেব করাই সঙ্গত। তাতে পাবেন, 6÷2(1+2)= 6÷2×3= 3×3=9।

Google, WolframAlpha, Desmos ইত্যাদি নির্ভরযোগ্য সাইটগুলোতে 6/2(1+2) এভাবে লিখে খোঁজ করুন, উত্তর সবসময় 9-ই পাবেন। আর যদি 6/2*(1+2) এমন গুণ-চিহ্ন সমেত লিখে খোঁজ করেন, তাহলে তো কথাই নেই। সব সাইট, সব ক্যালকুলেটর, MATLAB, Python সব Programming Language উত্তর দেবে 9।

তাই 6/2(1+2) এর সঠিক উত্তর 9 , এটাই জেনে রাখুন।

শুভ হোক গণিতযাত্রা। :)

চমক হাসান
২৭ জুন, ২০২০
সান্তা ক্লারিটা

(collected)

23/04/2020

করোনার আপডেট ২৩-৪-২০২০
নতুন আক্রান্ত=৪১৪
নতুন মৃত্যু=৭
মোট আক্রান্ত=৪১৮৫
মোট মৃত্যু=১২৭

22/04/2020

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু এসএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে অনিশ্চয়তাঃ-

করোনাভাইরাসের কারণে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করা এবং এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ১ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। এখন এই পরীক্ষা কবে শুরু হবে, তা সুনির্দিষ্ট হয়নি। আগামী মাসের শুরুতে এসএসসির ফল প্রকাশও হবে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, গতকাল মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেনের সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই দুই পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, সীমিত আকারে যানবাহন চলা শুরু হলে তার ১৫ দিন পর এসএসসির ফল প্রকাশ করা হবে। সেটি মে মাসে যদি সম্ভব হয়, তা করা হবে। তবে সীমিত আকারে যান চলাচলের বিষয়ে সরকার কবে সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। আর এইচএসসি পরীক্ষা আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে শুরু হচ্ছে না।

এবারের এইচএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী ১৩ লাখের বেশি। শুরুর আগমুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এসব পরীক্ষার্থী। আর গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় সাড়ে ২০ লাখ।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ নম্বরপত্র শিক্ষা বোর্ডে এসে পৌঁছায়নি। আলোচনা হয়েছে সীমিত আকারে যান চলাচল শুরু হলে তার ১৫ দিন পর এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। আর ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেখে ঈদের পর এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর জন্য নতুন সম্ভাব্য রুটিন দেওয়া হবে।

শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই দুই পরীক্ষার কারণে পুরো শিক্ষাপঞ্জিতেই প্রভাব পড়বে। কারণ, এসএসসির পরপর কলেজে ভর্তি পরীক্ষা থাকে। আবার এইচএসসির ফল প্রকাশের পর উচ্চশিক্ষায় ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়। এখন সবই পিছিয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় সেশনজট দেখা দেবে।

শুধু এই দুই পাবলিক পরীক্ষাই নয়, দেশের পুরো শিক্ষা কার্যক্রমই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হওয়ায় শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী কোনো কার্যক্রমই করা যাচ্ছে না। এর ফলে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শিক্ষায় এ বছরের কিছু ছুটি (যেমন ঈদুল আজহা ও দুর্গাপূজা ইত্যাদি) কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে এ রকম পরিস্থিতির মধ্যেও কোনো কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিউশন ফি দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েছে। রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ ৩০ এপ্রিলের মধ্যে টিউশন ফি জরিমানা ছাড়া বিকাশের মাধ্যমে দিতে অভিভাবকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েছে। আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান টিউশন ফি চেয়ে খুদে বার্তা দিয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে গত ১৮ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হলেও কার্যত মার্চের শুরু থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যায়। এরপর ২৬ মার্চে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকে স্বাভাবিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ছুটি হয়ে যায়। সরকারি ছুটির মেয়াদ এখন পর্যন্ত ২৫ এপ্রিল থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ঈদের ছুটি পর্যন্ত হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি ছুটিও আরও কয়েক দিন বাড়তে পারে। তবে পূর্বঘোষিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, রমজান, ঈদুল ফিতরসহ আরও কয়েকটি ছুটি মিলিয়ে ২৫ এপ্রিল থেকে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত স্কুল-কলেজ ছুটি থাকবে। ফলে দীর্ঘদিন ঘরবন্দী জীবন কাটাতে হবে শিক্ষার্থীদের।

বন্ধের মধ্যে সংসদ টিভির মাধ্যমে রেকর্ডিং করা ক্লাস প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু এটি পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেছেন, যেসব সমস্যা ছিল, সেগুলো সমাধান করে ক্লাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া কলেজগুলোকে অনলাইনে ক্লাস শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে ঢাকা কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অনেক কলেজ অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করেছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফওজিয়া প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইতিমধ্যে ১৬০টি ক্লাস এবং কলেজে ১০-১২টি ক্লাস অনলাইনে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ছাত্রীরা তা দেখতে পারছে।

18/04/2020

করোনা আপডেটঃ (১৮/০৪/২০)
-----------------------
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত শনাক্ত : ৩০৬
মোট আক্রান্তঃ ২১৪৪
নতুন মৃত্যুঃ ০৯
মোট মৃত্যুঃ ৮৪
সুস্থঃ ৮
মোট সুস্থ : ৬৬
নমুনা পরীক্ষাঃ ২১১৪
সূত্রঃ আইইডিসিআর

25/03/2020

বাইরে যাবেন না। নাকে মুখে চোখে হাত দেবেন না। বার বার হাত ধোবেন। ৬ ফুট দূরে থাকবেন।

এগুলো ছাড়াও রোগ প্রতিরোধক শক্তি বাড়ান।

১. ভয় পাবেন না। ভয় পেলে রোগ প্রতিরোধক শক্তি কমে যাবে। হাসুন। বিশ্বাস করুন যে (সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পর) আমার কিছু হবে না।
হাসুন।
২. ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করুন। আপনাকে প্রচুর প্রোটিন খেতে হবে। পরিমিত কার্ব। ভিটামিন। রঙিন ফল ও সব্জি (ধুয়ে খাবেন। ভাইরাস সমেত খাবেন না)। কমলা, গাজর, পেঁপে, কলা ইত্যাদি। টক দই। মাংস। ডিম (পুরো ভেজে বা সেদ্ধ করে। হাফ বয়েল না। অর্ধপোচ না)। ভিটামিন সি, জিংক, মিনারেলস, মাল্টি ভিটামিন। ন্যাচারাল হলে ভালো। খিচুড়ি খুব ভালো খাবার।
৩. প্রচুর ঘুমাবেন।
৪. রোজ এক্সারসাইজ করবেন।
৫. গরম পানি খাবেন। আদা চা, লেবু চা, হলুদ চা, লবঙ্গ চা। রসুন খেতে পারেন।

25/03/2020

সামাজিক দূরত্ব কী? কী করব, কী করব না!
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ করার জন্য সোশ্যাল ডিসট্যান্স বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব ব্যাপারটা কী?
এটা হলো নিজের বাসায় থাকা, ভিড়ে না যাওয়া, একজন আরেকজনকে স্পর্শ না করা। ৬ ফুট দূরে থাকুন।
১. আমি কি বাজার করতে যেতে পারব?
হ্যাঁ। নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে যেতে পারেন। কম যাবেন। যাবেন তখন, যখন কম লোক থাকে বাজারে। সেখানে যাবেন, যেখানে কম ভিড় থাকে। মোটকথা ভিড় এড়িয়ে চলুন।
বাজার থেকে বের হয়েই হাতে স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন। এসেই ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেবেন। তরকারি ফল ধুয়ে নেবেন। বক্স নাড়ার পরই হাত ধোবেন।
খাবার কিনে মজুত করবেন না। খাদ্যশস্য কম পড়ার কোনো কারণ ঘটেনি।
২. আমি কি খাবার অর্ডার দিয়ে বাসায় এনে খেতে পারব?
হ্যাঁ। খাদ্য থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর কথা শোনা যায়নি। তবে যে প্যাকেটে খাবার আনা হবে, সেটা ধরার পর হাত ধুয়ে নিতে হবে। আর কাঁচা সালাদ ফল বাইরে থেকে নিশ্চয়ই আনাবেন না। আর যিনি খাবার নিয়ে আসবেন, তাঁকে বলবেন খাবার দরজার বাইরে রেখে দিতে। দাম ও টিপস দেবেন অনলাইনে। (আমাদের দেশে এটা কীভাবে হবে, আমি জানি না।)
৩. আমি কি গণপরিবহন বাস, ট্রেন ব্যবহার করব?
যদি পারেন, গণপরিবহন এড়িয়ে চলুন। তা না হলে সঙ্গে করে স্যানিটাইজার নিয়ে যান। হাতল ধরার পরেই হাত পরিষ্কার করুন। নামার সঙ্গে সঙ্গে হাত পরিষ্কার করুন।
৪. অফিস তো ছুটি দিচ্ছে না। কী করব?
যতটা সম্ভব সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং করুন। দরকার হলে, মাস্ক ব্যবহার করুন।
৫. আমি কি সব জায়গায় যেতে পারব?
আপনি যতটা পারেন, বাসায় থাকুন। হাসপাতালে, বাজারসদাই করতে যেতে হতেই পারে। সিনেমা, থিয়েটার, প্রার্থনাগৃহ, জাদুঘর—সব বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এসব জায়গায় ভবিষ্যতে যাওয়া যাবে। এখন না।
৬. আমি কি ভ্রমণ করতে পারব?
না। আপনার এখন ভ্রমণ, দেশের ভেতরে বা বাইরে, করা নিষেধ। বাস, ট্রেন, প্লেন, জাহাজ, লঞ্চ লোকে ভরা থাকে। তবে যাঁদের কাজই ভ্রমণসংক্রান্ত, যেমন এয়ারলাইনসের ক্রু, ট্রেনের চালক, তাঁদের কথা আলাদা।
৭. আমি কি মাস্ক পরে থাকব?
সম্ভবত নয়। মাস্ক রোগীদের হাঁচি–কাশির ছিটা বাইরে যেতে দেয় না। কিন্তু বাইরের ভাইরাস আপনার নাকেমুখে প্রবেশ ঠেকাতে পারে না। আপনার নিজের হাঁচি–কাশি থাকলে দয়া করে বাইরে বের হবেন না।
৮. আমি কি ব্যায়াম করব?
হ্যাঁ। ঘরে। ঘরের বাইরে ফাঁকা জায়গায়। কিন্তু জিমে নয়।
৯. আমি কি চিকিৎসকের কাছে যেতে পারব?
খুব বেশি দরকার না হলে নয়। করোনাভাইরাস সন্দেহ হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রথমে ফোনে যোগাযোগ করবেন।
১০. অন্য রোগী, অন্য কোনো রোগের রোগীকে সৌজন্যমূলকভাবে দেখতে যাব?
না।
১১. আমি কি প্রবীণ স্বজন-পরিজনদের দেখতে যাব?
না। ফোনে খোঁজ নিন। বাজারসদাই লাগলে সাহায্য করুন।
১২. আমার বন্ধুরা কি আমার কাছে আসতে পারবে?
না। ফোনে কথা বলুন। ভিডিও চ্যাট করুন।
১৩. বাচ্চারা কি খেলতে পারবে?
বাইরে একা একা? হ্যাঁ। বাইরে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে? না। বাইরের বাচ্চাদের সঙ্গে নয়। কারণ, তারা পরস্পরকে ধরে ফেলবে। হাত ধোয়ার নিয়ম ভুলে যেতে পারে। স্লাইড ইত্যাদি কারও সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না। কাজেই পার্কেও নিয়ে যাওয়া যাবে না।
১৪. আমি কি আমার সন্তানের কাছে যেতে পারব?
হ্যাঁ। সাধারণভাবে হ্যাঁ। তবে যদি আপনি মনে করেন দুজনের একজন এরই মধ্যে সংক্রমিত হয়ে আছে, তাহলে দূরত্ব বজায় রাখুন।
১৫. আমার রুমমেট হাসপাতালে চাকরি করেন। আমি কি তাঁর থেকে দূরে থাকব?
হ্যাঁ।
১৬. কত দিন এই রকম সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং করতে হবে?
সম্ভবত কমপক্ষে পাঁচ মাস। পরে আবারও করতে হতে পারে। এটা একেবারে সেরে যাবে না সহসা। ঢেউয়ের মতো আসতে থাকবে।

বাসায় থাকুন। ৬ ফুট দূরে দূরে থাকুন। সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। বাইরের জিনিস ধরার পর হাত ধুয়ে নিন।মনে রাখবেন, নো ট্রাভেল। বাস, ট্রেন, লঞ্চ, প্লেন না।

লিখেছেন লেখক Anisul Hoque , সিএনএন হেলথ অবলম্বনে।

24/03/2020

২০ লিটার পানিতে ১ চামচ ব্লিসিং পাউডার ভালো করে মিশিয়ে স্প্রে করুন, সমস্ত বাসায় বিছানার জামা কাপড়সহ সকল জায়গায়, পুরো ঘর, বাহির হতে কেউ এলে তাকে স্প্রে করুন জুতাসহ সমস্ত শরীরে, পানির বোতলে স্প্রে মুখ লাগিয়ে নিন,স্প্রে বাজারের যেকোন দোকান থেকে কিনে নিন|

দাম ৩০/ ৪০ টাকা নিবে|

আর ড্রেনে ১০ লিটার পানিতে ৫ চামচ পাউডার মিশিয়ে স্প্রে করুন,দয়া করে সবাই এই পদ্ধতি ব্যবহার করুন, এতে করে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারবে না,নিজে ভালো থাকুন অন্যকে ভালো রাখুন।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Dhaka
1236