13/07/2021
কোতোয়ালি থানা কী?
বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘কোতোয়াল’ শব্দের অর্থে বলা হয়েছে- নগর রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত আধিকারিক, কোটাল বা কমিশনার। বাংলা একাডেমির সমকালীন বাংলা অভিধানে আছে- মুঘল আমলে নগর প্রশাসক বা জেলা শহর কোতোয়ালের কর্মস্থল। সংসদ বাংলা অভিধানে এই শব্দের অর্থ বলা হয়েছে- কোটাল, নগর রক্ষক, থানাদার।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মুঘল আমলে নগর বা বন্দরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে যিনি প্রধান তাকে কোতোয়াল বলা হতো। ব্রিটিশ আমলে এই উপমহাদেশে জমিদারি, হাট-বাজারের ইজারা, কৃষি, বন্দর বা ঘাট ইজারা থেকে ডেপুটি কালেক্টর (ডিসি) খাজনা, রাজস্ব কিংবা ট্যাক্স উত্তোলন করতেন। এ সময় তার অধীনে রাজস্ব সংগ্রহের জন্য নিয়মিত পুলিশ বাহিনী ছাড়াও দাঙ্গা পুলিশের মতো কোতোয়াল বাহিনীও অনেক থানায় দায়িত্ব পালন করত। কোতোয়াল ছিলেন সেই বাহিনী বা সেই থানার প্রধান। তার অধীনে ছিল দারোগা, জমাদার, হাবিলদার, নায়েক, কনস্টেবল ইত্যাদি। কোতোয়াল বাহিনী যারা রাজস্ব তথা খাজনা দিতে পারত না তাদের ধরে এনে থানায় রাখত। পরবর্তী সময়ে এই থানাগুলোই ‘কোতোয়ালি থানা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। যে কারণে দেশের পুরনো শহর বা বিভাগীয় শহর কিংবা জেলাগুলোতে ‘কোতোয়ালি থানা’ দেখা যায়। অর্থাৎ সেই নামটি এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে।
ঢাকার মিন্টো রোডের পূর্ব পাশের শেষ মাথার সড়কদ্বীপে কোতোয়ালের ভাস্কর্য রয়েছে। ভাস্কর্যটি আমাদের ব্রিটিশ আমলের সেসব দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ভাস্কর্যে দেখা যায় কোতোয়াল ঘোড়ার উপর শক্ত চাবুক হাতে বসে আছেন। এটি সেই সময়ে কোতোয়ালের শাসন ও শক্তির সঙ্গে অত্যাচারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ‘কোতোয়াল’ নামে এই ভাস্কর্যের নির্মাতা মৃণাল হক।