ORSOB Bangladesh
ORSOB stands for Operations Research Society of Bangladesh, a newly formed Educational Research Organ
গণিত বিভাগ, সরকারি বি এল কলেজ খুলনা এর আয়োজনে একটি সেমিনার ১৬.০৬.২২ তারিখ ( সম্ভাব্য) এ অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।
ORSOB এর সদস্যদের মধ্যে কে কে যেতে চান এবং কে কে প্রেজেন্টেশন দিতে চান - দুই দিনের মধ্যে জানানোর অনুরোধ করছি।
উল্লেখ্য সেমিনার টি গণিত বিভাগ, বি এল কলেজ, খুলনা ও ORSOB এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে।
03/08/2021
Press release
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা Operations Research Society of Bangladesh ( ORSOB) এর উদ্যোগে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সহকারী অধ্যাপক জনাব মুহাম্মদ মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় ০১-৮-২০২১ তারিখ বাংলাদেশ সময় রাত ৮ টায় Education in Pendamic শীর্ষক একটি অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১২ টি দেশের প্রতিনিধি অংশ গ্রহণ করেন। তথ্যপ্রযুক্তিবিদ জনাব আনিসুর রহমান অস্ট্রেলিয়া থেকে আলোচনা সভায় অংশ গ্রহণ করেন। তিনি সে দেশে করোনা অতিমারী পরিস্থিতির পূর্ব ও পরের শিক্ষা ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন ডেল্টা ভেরিয়েন্ট শনাক্তের পূর্ব পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাম্পাস ভিত্তিক অফলাইনে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু থাকলেও করোনার এই ধরণ শনাক্তের পর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অনলাইনে পাঠদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়। তিনি বলেন অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা প্রি-প্রাইমারী, প্রাইমারী এবং বিশ্ববিদ্যালয় তিন স্তরে বিভক্ত তাছাড়া ভোকেশনাল পদ্ধতিও সেখানে চালু আছে। ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাইমারী শিক্ষা বাধ্যতামূলক। করোনা কালে প্রি-প্রাইমারী পর্যায়ে পাঠদান করা হয় ‘‘Seashore’’ software এর মাধ্যমে যা শিশুদের জন্য খুবই উপযোগী। তাছাড়াও স্কুল এবং উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে অন্যান্য অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে পাঠদান করা হচ্ছে। সরকার ও শিক্ষা প্রতিশঠানের বহুবিধ পদক্ষেপ নেয়ার পরও ড্রপ-আউট রেট ২০%, কাজেই অনলাইন পাঠদান পদ্ধতি প্রচলিত পদ্ধিত বিকল্প হতে পারে না, তবে আপদকালীন সময়ে এর মাধ্যমে পাঠদান চলমান রাখা যেতে পারে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ থেকে আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক মাসুমে রাব্বানী খান বলেন, এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বহুবিধ সমস্য বিদ্যমান যেমন ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত কাংখিত নয়, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের অপ্রতুলতা (বর্তমান বিনিয়োগ ২.২৫% যেখানে নূন্যতম প্রয়োজন ৭.৫% ), শিক্ষা উপকরণের স্বল্পতা, ড্রপ-আউট রেট বেশি ( প্রাথমিক ১২%, মাধ্যমিক ৩০%), কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সমস্যা ইত্যাদি এর সাথে যুক্ত হয়েছে করোনা অতিমারি। করোনা কালে সরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের পাশাপাশি এনসিটিবি এর সহযোগিতায় এসাইন্মেন্ট এর মাধ্যমে পাঠদানের ব্যবস্থা করা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ অনলাইনে পাঠদানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা গ্রহণ করলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ প্রায় নিস্ক্রিয়তা পালন করে যাচ্ছে। তিনি সরকারি উদ্যোগে একটি জরিপ পরচালনা করে করোনাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের শারিরীক ও মানষিক ক্ষতি নিরুপণের দাবী করেন। তাছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনলাইন-অফ-লাইন পদ্ধতিতে পাঠদানের উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
কানাডা থেকে পিএইচডি গবেষক মোঃ সামিউল ইসলাম অংশ নিয়ে জনান যে, কানাডার শিক্ষা ব্যবস্থা প্রি-প্রাইমারি(গ্রেড-৫ পর্যন্ত), প্রাইমার( গ্রেড-৬ থেকে ১০), প্রো-ইউনিভার্সিটি(গ্রেড ৯-১০) ও উচ্চ শিক্ষায় বিভক্ত। করোনা শুরুর দিকে অনলাইনে তাদের অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বিশেষত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে, তবে সরকারি বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন Learning Management System (ব্ল্যাকবোর্ড, স্কুলজি, ব্রাইটস্পেস, ক্যানভাস, গুগল ক্লাসরুম)ব্যবহার করে তারা দ্রুত সমস্যার করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কানাডার মোট জনগোষ্ঠির ৯০% টিকা নিয়েছেন, কানাডার সরকার আশা করেছেন সেপ্টেম্বর’২০২১ এর মধ্যে শতভাগ জনগণকে টিকাদান কর্মসূচির অন্তভূক্ত করে অফলাইনে পাঠদান শুরু করতে পারবে।
চায়না থেকে অংশ নেয়া পিএউচডি গবেষক শিরিন আক্তার জানান চীনে প্রায় ২৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকদের স্ক্লারশীপ দিয়ে থাকে। কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে ২-৩ মাসের মধ্যেই চীন করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। করোনার কালে চীনারা তাদের নিজেদের উদ্ভাবিত অনলাইন প্লাটফর্ম উইচেট ব্যবহার করে পাঠদান প্রক্রিয়া চালু রেখেছিল যা ব্যবহারকারীকে ১০০০মিনিট পর্যন্ত এক সেশনে কাজ করার সুযোগ দিয়ে থাকে এর মাধ্যমে অনলাইন-অফলাইন সুবিধা পাওয়া সম্ভব। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে চীনারা তারা কিছুটা কৌশলগত পরিবর্তন এনেছেন যেমন- করোনার পূর্বে লিখিত পরীক্ষায় ৬৫%, এসাইনমেন্টে ২০% এবং উপস্থিতিতে ১৫% নম্বর নির্ধারিত থাকলেও করোনা কালে তা যথাক্রমে ৩৫%, ৩৫% এবং ৩০% পুনঃনির্ধারণ করেছেন। প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং ছাত্র-শিক্ষক সুসম্পর্কের কারণে তারা বেশ ভালো ভাবেই মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছেন।
মার্স্টার্স পর্যায়ে অধ্যয়নরত মি. হাও উ ফিনল্যান্ড থেকে আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, করোনার সময়ে অনলাইনে শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা সমস্যার সমস্যায় পড়েছে, স্বল্প সংখ্যক মানুষকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসায় সেখানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে অনলাইনে পাঠদান চালু করা হয়। তার মতে ফিনল্যান্ডে দ্রুত ক্যাম্পাস ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন।
ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষাবিদ ইয়াম সারোহ উক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে জানান শিক্ষাক্ষেত্রে তার দেশে বিশ্বের ৭৬ দেশের মধ্যে ৬৯ তম অবস্থানে। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে ইন্দোনেশিয়ায় অবকাঠামোর অভাব রয়েছে । তার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এলিমেন্টারি, জুনিয়র, হাইস্কুল এবং উচ্চশিক্ষায় বিভক্ত। বড় শহরে নেট কানেকশন ভালো থাকায় সেখানের ছাত্র-ছাত্রীরা স্বাচ্ছন্দে অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলেও ছোট শহর ও গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা বঞ্চিত। করোনার পূর্বে অবিভাবকগণ শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আস্থাশীল থাকলেও করোনাকালে তাদের অভিযোগের অন্ত নেই।
দক্ষিণ কুরিয়া থেকে আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষাবিদ ড. এ.কে আজাদ বলেন, বহুদিন থেকেই কুরিয়াতে অনলাইন-আফলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সেখানে প্রথমিক শিক্ষা স্তর ১ম-১২শ শ্রেণি পর্যন্ত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকার অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করে করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইন- আফলাইন পদ্ধতিতে চালু রেখেছে। তার মতে উচ্চ শিক্ষায় লিখিত মূল্যায়নের তুলনায় এসাইনমেন্ট ভিত্তিক অনলাইন মূল্যায়ন বেশি উপযোগী, তাই আমাদের উচিত বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা।
মরিশাস থেকে অলোচনার অংশ নিয়ে শিক্ষাবিদ মেরিলিন ফিমিন লান বলেন, অবকাঠামো এবং জনবল স্বল্পতা সত্ত্বেও তারা যথা সময়ে সকল পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন যদিও প্রচুর উৎকণ্ঠা নিয়ে তারা সে সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তাদের ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ৪২ঃ১ হলেও করোনার সময়ে ২১ঃ১ অনুপাতে তারা শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
পাকিস্তান থেকে আলোচনার অংশ নেন শিক্ষাবিদ আফসান হোমা, তিনি বলেন করোনার কারণে সে দেশে ড্রপ-আউট রেট ১৫%। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান(৪৮%) করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইনে কার্যক্রম চালু রাখলেও এ সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান (৫২%) মূলত নিষ্কৃয়। দুর্বল নেটওয়ার্ক এর কারণে ৩৫% ছাত্র-ছাত্রী কখনো অনলাইনে যুক্ত হতে সক্ষম হয়নি।
পোল্যান্ড থেকে আলোচনায় অংশ নিয়ে পিএইচডি গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাক জনাব হোসেইন আলম বলেন, করোনাকালে সেখানে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রেখে অনলাইনে পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করেছে। করোনার প্রাথমিক পর্যায়ে টেকনিক্যাল ইনইস্টিটিউট ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় সমূহের ছাত্র-শিক্ষকদের সহযোগিতায় দেশের সকল স্কুল কলেজের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুত তারা অনলাইনে কেন্দ্রীয় সফটওয়ারের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন। ইতোমধ্যে সে দেশে ১০ বছর ঊর্দ্ধের সকলকে টিকা দেয়া সম্পন্ন হয়েছে তাই এবছর অক্টোবর থেকে অন-ক্যাম্পাস শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে।
ভারতের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন গণিতবিদ এ. কৃষ্ণমুর্থি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেন ভারতের ইন্টারনেট কানেশন দুর্বলতার কারণে অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী অনলাইন কার্যক্রমে আংশ নিতে পারছেনা, তাই অনলাইন কার্যক্রম অফলাইনের বিকল্প হতে পারেনা, এটা একটি অস্থায়ী পদ্ধিত হতে পারে। তাই তিনি দ্রুত ক্যাম্পাস ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু প্রয়োজন বলে মনে করেন। তাছাড় উপরিউক্কত অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন Ali Ahmed Majumdar(USA), Tekalign Arficho Haeso(Ethiopia), Soraya Martinez(Guatemala), Mahzabin Binte Hossain(Malaysia), Duru Chichem Ijeoma(Nigeria), A. K. Rakib (Portugal), Kalpana Ambepitiya(Sri Lanka), Mohammed Haroon Yagoub Abaker(Sudan), Higombeye Gwalema(Tanzania), Deborah SN Kayiso(Uganda) এবং সার্বিক সহযোগিতা করেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সহযোগি অধ্যাপক জনাব জিয়া আরেফিন আজাদ, সহযোগি অধ্যাপক জনাব মোহাম্মদ তাজিব উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক জনাব জিল্লুর রহমান এবং সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতাউল্যাহ। সমাপণী বক্তব্য রাখেন সভার সভাপতি নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ একরামুল ইসলাম।
Operation Research Society of Bangladesh(ORSOB)
ORSOB Bangladesh ORSOB stands for Operations Research Society of Bangladesh, a newly formed Educational Research Organ
Press release
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা Operation Society of Bangladesh এর উদ্যোগে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সহকারী অধ্যাপক জনাব মুহাম্মদ মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় ০১-৮-২০২১ তারিখ বাংলাদেশ সময় রাত ৮ টায় Education in Pendamic শীর্ষক একটি অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১৯ টি দেশের প্রতিনিধি অংশ গ্রহণ করেন। তথ্যপ্রযুক্তিবিদ জনাব আনিসুর রহমান অস্ট্রেলিয়া থেকে আলোচনা সভায় অংশ গ্রহণ করেন। তিনি সে দেশে করোনা অতিমারী পরিস্থিতির পূর্ব ও পরের শিক্ষা ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন ডেল্টা ভেরিয়েন্ট শনাক্তের পূর্ব পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাম্পাস ভিত্তিক অফলাইনে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু থাকলেও করোনার এই ধরণ শনাক্তের পর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অনলাইনে পাঠদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়। তিনি বলেন অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা প্রি-প্রাইমারী, প্রাইমারী এবং বিশ্ববিদ্যালয় তিন স্তরে বিভক্ত তাছাড়া ভোকেশনাল পদ্ধতিও সেখানে চালু আছে। ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাইমারী শিক্ষা বাধ্যতামূলক। করোনা কালে প্রি-প্রাইমারী পর্যায়ে পাঠদান করা হয় ‘‘Seashore’’ software এর মাধ্যমে যা শিশুদের জন্য খুবই উপযোগী। তাছাড়াও স্কুল এবং উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে অন্যান্য অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে পাঠদান করা হচ্ছে। সরকার ও শিক্ষা প্রতিশঠানের বহুবিধ পদক্ষেপ নেয়ার পরও ড্রপ-আউট রেট ২০%, কাজেই অনলাইন পাঠদান পদ্ধতি প্রচলিত পদ্ধিত বিকল্প হতে পারে না, তবে আপদকালীন সময়ে এর মাধ্যমে পাঠদান চলমান রাখা যেতে পারে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ থেকে আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক মাসুমে রাব্বানী খান বলেন, এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বহুবিধ সমস্য বিদ্যমান যেমন ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত কাংখিত নয়, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের অপ্রতুলতা (বর্তমান বিনিয়োগ ২.২৫% যেখানে নূন্যতম প্রয়োজন ৭.৫% ), শিক্ষা উপকরণের স্বল্পতা, ড্রপ-আউট রেট বেশি ( প্রাথমিক ১২%, মাধ্যমিক ৩০%), কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সমস্যা ইত্যাদি এর সাথে যুক্ত হয়েছে করোনা অতিমারি। করোনা কালে সরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের পাশাপাশি এনসিটিবি এর সহযোগিতায় এসাইন্মেন্ট এর মাধ্যমে পাঠদানের ব্যবস্থা করা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ অনলাইনে পাঠদানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা গ্রহণ করলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ প্রায় নিস্ক্রিয়তা পালন করে যাচ্ছে। তিনি সরকারি উদ্যোগে একটি জরিপ পরচালনা করে করোনাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের শারিরীক ও মানষিক ক্ষতি নিরুপণের দাবী করেন। তাছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনলাইন-অফ-লাইন পদ্ধতিতে পাঠদানের উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
কানাডা থেকে পিএইচডি গবেষক মোঃ সামিউল ইসলাম অংশ নিয়ে জনান যে, কানাডার শিক্ষা ব্যবস্থা প্রি-প্রাইমারি(গ্রেড-৫ পর্যন্ত), প্রাইমার( গ্রেড-৬ থেকে ১০), প্রো-ইউনিভার্সিটি(গ্রেড ৯-১০) ও উচ্চ শিক্ষায় বিভক্ত। করোনা শুরুর দিকে অনলাইনে তাদের অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বিশেষত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে, তবে সরকারি বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন Learning Management System (ব্ল্যাকবোর্ড, স্কুলজি, ব্রাইটস্পেস, ক্যানভাস, গুগল ক্লাসরুম)ব্যবহার করে তারা দ্রুত সমস্যার করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কানাডার মোট জনগোষ্ঠির ৯০% টিকা নিয়েছেন, কানাডার সরকার আশা করেছেন সেপ্টেম্বর’২০২১ এর মধ্যে শতভাগ জনগণকে টিকাদান কর্মসূচির অন্তভূক্ত করে অফলাইনে পাঠদান শুরু করতে পারবে।
চায়না থেকে অংশ নেয়া পিএউচডি গবেষক শিরিন আক্তার জানান চীনে প্রায় ২৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকদের স্ক্লারশীপ দিয়ে থাকে। কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে ২-৩ মাসের মধ্যেই চীন করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। করোনার কালে চীনারা তাদের নিজেদের উদ্ভাবিত অনলাইন প্লাটফর্ম উইচেট ব্যবহার করে পাঠদান প্রক্রিয়া চালু রেখেছিল যা ব্যবহারকারীকে ১০০০মিনিট পর্যন্ত এক সেশনে কাজ করার সুযোগ দিয়ে থাকে এর মাধ্যমে অনলাইন-অফলাইন সুবিধা পাওয়া সম্ভব। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে চীনারা তারা কিছুটা কৌশলগত পরিবর্তন এনেছেন যেমন- করোনার পূর্বে লিখিত পরীক্ষায় ৬৫%, এসাইনমেন্টে ২০% এবং উপস্থিতিতে ১৫% নম্বর নির্ধারিত থাকলেও করোনা কালে তা যথাক্রমে ৩৫%, ৩৫% এবং ৩০% পুনঃনির্ধারণ করেছেন। প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং ছাত্র-শিক্ষক সুসম্পর্কের কারণে তারা বেশ ভালো ভাবেই মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছেন।
মার্স্টার্স পর্যায়ে অধ্যয়নরত মি. হাও উ ফিনল্যান্ড থেকে আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, করোনার সময়ে অনলাইনে শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা সমস্যার সমস্যায় পড়েছে, স্বল্প সংখ্যক মানুষকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসায় সেখানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে অনলাইনে পাঠদান চালু করা হয়। তার মতে ফিনল্যান্ডে দ্রুত ক্যাম্পাস ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন।
ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষাবিদ ইয়াম সারোহ উক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে জানান শিক্ষাক্ষেত্রে তার দেশে বিশ্বের ৭৬ দেশের মধ্যে ৬৯ তম অবস্থানে। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে ইন্দোনেশিয়ায় অবকাঠামোর অভাব রয়েছে । তার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এলিমেন্টারি, জুনিয়র, হাইস্কুল এবং উচ্চশিক্ষায় বিভক্ত। বড় শহরে নেট কানেকশন ভালো থাকায় সেখানের ছাত্র-ছাত্রীরা স্বাচ্ছন্দে অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলেও ছোট শহর ও গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা বঞ্চিত। করোনার পূর্বে অবিভাবকগণ শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আস্থাশীল থাকলেও করোনাকালে তাদের অভিযোগের অন্ত নেই।
দক্ষিণ কুরিয়া থেকে আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষাবিদ ড. এ.কে আজাদ বলেন, বহুদিন থেকেই কুরিয়াতে অনলাইন-আফলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সেখানে প্রথমিক শিক্ষা স্তর ১ম-১২শ শ্রেণি পর্যন্ত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকার অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করে করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইন- আফলাইন পদ্ধতিতে চালু রেখেছে। তার মতে উচ্চ শিক্ষায় লিখিত মূল্যায়নের তুলনায় এসাইনমেন্ট ভিত্তিক অনলাইন মূল্যায়ন বেশি উপযোগী, তাই আমাদের উচিত বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা।
মরিশাস থেকে অলোচনার অংশ নিয়ে শিক্ষাবিদ মেরিলিন ফিমিন লান বলেন, অবকাঠামো এবং জনবল স্বল্পতা সত্ত্বেও তারা যথা সময়ে সকল পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন যদিও প্রচুর উৎকণ্ঠা নিয়ে তারা সে সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তাদের ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ৪২ঃ১ হলেও করোনার সময়ে ২১ঃ১ অনুপাতে তারা শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
পাকিস্তান থেকে আলোচনার অংশ নেন শিক্ষাবিদ আফসান হোমা, তিনি বলেন করোনার কারণে সে দেশে ড্রপ-আউট রেট ১৫%। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান(৪৮%) করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইনে কার্যক্রম চালু রাখলেও এ সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান (৫২%) মূলত নিষ্কৃয়। দুর্বল নেটওয়ার্ক এর কারণে ৩৫% ছাত্র-ছাত্রী কখনো অনলাইনে যুক্ত হতে সক্ষম হয়নি।
পোল্যান্ড থেকে আলোচনায় অংশ নিয়ে পিএইচডি গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাক জনাব হোসেইন আলম বলেন, করোনাকালে সেখানে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রেখে অনলাইনে পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করেছে। করোনার প্রাথমিক পর্যায়ে টেকনিক্যাল ইনইস্টিটিউট ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় সমূহের ছাত্র-শিক্ষকদের সহযোগিতায় দেশের সকল স্কুল কলেজের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুত তারা অনলাইনে কেন্দ্রীয় সফটওয়ারের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন। ইতোমধ্যে সে দেশে ১০ বছর ঊর্দ্ধের সকলকে টিকা দেয়া সম্পন্ন হয়েছে তাই এবছর অক্টোবর থেকে অন-ক্যাম্পাস শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে।
ভারতের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন গণিতবিদ এ. কৃষ্ণমুর্থি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেন ভারতের ইন্টারনেট কানেশন দুর্বলতার কারণে অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী অনলাইন কার্যক্রমে আংশ নিতে পারছেনা, তাই অনলাইন কার্যক্রম অফলাইনের বিকল্প হতে পারেনা, এটা একটি অস্থায়ী পদ্ধিত হতে পারে। তাই তিনি দ্রুত ক্যাম্পাস ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু প্রয়োজন বলে মনে করেন। তাছাড় উপরিউক্কত অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন Ali Ahmed Majumdar(USA), Tekalign Arficho Haeso(Ethiopia), Soraya Martinez(Guatemala), Mahzabin Binte Hossain(Malaysia), Duru Chichem Ijeoma(Nigeria), A. K. Rakib (Portugal), Kalpana Ambepitiya(Sri Lanka), Mohammed Haroon Yagoub Abaker(Sudan), Higombeye Gwalema(Tanzania), Deborah SN Kayiso(Uganda) এবং সার্বিক সহযোগিতা করেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সহযোগি অধ্যাপক জনাব জিয়া আরেফিন আজাদ, সহযোগি অধ্যাপক জনাব মোহাম্মদ তাজিব উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক জনাব জিল্লুর রহমান এবং সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতাউল্যাহ। সমাপণী বক্তব্য রাখেন সভার সভাপতি নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ একরামুল ইসলাম।
Operation Society of Bangladesh এর পক্ষে,
সম্মানিত সুধী,
এখানে আপনাকে Zoom Meeting Link এবং ID দেওয়া হলো। আপনি Link এ ক্লিক করে সরাসরি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন, অথবা ID ও Password ব্যবহার করেও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন।
Link :
https://bdren.zoom.us/j/63323395002?pwd=T1UvQmF1SUZ3QzI2UGhMVlRnVU1WUT09
ID: 63323395002
Password: 2021
আপনাকে নির্ধারিত সময়ের ( রাত ৮ঃ০০, আগষ্ট ১) কয়েক মিনিট পূর্বেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অনুরোধ করছি।
এবং যোগদান করার ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজের নাম লিখবেন এবং নামের পূর্বে দেশের নাম লিখবেন।
যেমনঃ
Finland_ Hao Wu.
দ্র.
অনুষ্ঠানে নিম্নের ধারাবাহিকতায় (দেশের নামের ক্রমানুসারে) আলোচনা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে
1. Australia- Anisur Rahman
2. Bangladesh – Professor Masume Rabbani Khan
3. Canada - Md Samiul Islam
4. China – Sharmin Aktar
5. Finland - Hao Wu
6. India - Anusha Radhakrishnan
7. Indonesia - Yam Saroh
8. Korea- Md Obyedul Kalam Azad
9. Mauritius - Maryline Feemin Lan
10. Pakistan -Dr. Afshan Huma
11. Peru – Karem Benique
12. Poland- Md Hussin Alam
13. Portugal – A. K. Rakib
14. Sri Lanka – Dr. Kalpana Ambepitiya
15. Sudan - Mohammed Haroon Yagoub Abaker
16. Tanzania - Higombeye Gwalema
17. Uganda - Scola Nagasha
18. United states of America- Ali Ahmed Majumdar
Operations Research Society of Bangladesh (ORSOB) এর পক্ষ হতে
মুহম্মদ মফিজুর রহমান
Join our Cloud HD Video Meeting
bdren.zoom.us
Join our Cloud HD Video Meeting Zoom is the leader in modern enterprise video communications, with an easy, reliable cloud platform for video and audio conferencing, chat, and webinars across mobile, desktop, and room systems. Zoom Rooms is the original software-based conference room solution used around the world in board, confer...
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Central Road
Dhaka