15/10/2024
আমি বর্তমানে আমেরিকার কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে MBA করছি, এবং প্রথম ম্যানেজমেন্ট ক্লাসে আমাদের প্রফেসর সবাইকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস রচিত "A World of Three Zeros" বইটি পড়ার পরামর্শ দেন। এটি আমার জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত ছিল। আমি বইটি পড়ে তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
“A World of Three Zeros” বইটিতে নোবেল বিজয়ী ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস আমাদের বর্তমান profit-maximizing অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে একটি নতুন মডেল প্রস্তাব করেন। তিনি এমন একটি বিশ্বের স্বপ্ন দেখেন যেখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জিত হবে:
1. Zero Poverty
2. Zero Unemployment
3. Zero Net Carbon Emissions
এই বইয়ে তিনি social business এর ধারণা তুলে ধরেন, যা মূলত লাভের চেয়ে সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধান করার লক্ষ্যে কাজ করে। ডক্টর ইউনুস বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে দেখান কীভাবে এই মডেলটি দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং পরিবেশগত ধ্বংসের মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারে।
১. Zero Poverty:
আমাদের প্রধান উপদেষ্টা, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস বিশ্বাস করেন যে দারিদ্র্য মানুষের স্বাভাবিক অবস্থা নয়, বরং এটি এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যা দরিদ্র মানুষদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে রাখে। এই বিশ্বাস থেকেই ১৯৭৬ সালে তিনি Grameen Bank প্রতিষ্ঠা করেন, যা ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দরিদ্র, বিশেষ করে নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সহায়তা করে। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ব্যাংকের মাধ্যমে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে, যার মধ্যে ৯৭% ঋণগ্রহীতা নারী এবং ঋণ পরিশোধের হার ৯৮% এর বেশি। এটি প্রমাণ করে যে দরিদ্র মানুষও সঠিক সুযোগ পেলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। পাশাপাশি, Grameen Danone Foods এর মতো সামাজিক ব্যবসার উদাহরণ দেখায় যে, কীভাবে স্থানীয় চাহিদা পূরণের মাধ্যমে দারিদ্র্যের টেকসই সমাধান প্রদান করা যায়। এই উদ্যোগটি পুষ্টিহীনতা দূর করতে, সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টিকর দই সরবরাহ করে, যা দরিদ্র পরিবারের জন্য সহজলভ্য। ডক্টর ইউনুসের এই social business মডেলটি দেখায় যে সামাজিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ব্যবসা কেবল দারিদ্র্য নয়, অন্যান্য সামাজিক সমস্যারও সমাধান করতে পারে।
২. Zero Unemployment:
ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন যে, এটি শুধুমাত্র বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চাকরি সৃষ্টি করার দিকে মনোযোগ দেয়, যা সম্পদের অসম বণ্টন তৈরি করে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে প্রতিটি মানুষের মধ্যেই উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এবং তাই চাকরি সৃষ্টির পরিবর্তে entrepreneur creation বা উদ্যোক্তা তৈরির দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত। তার Self-Employment Through Microfinance ধারণা অনুযায়ী, বড় কোম্পানির উপর নির্ভর না করে মানুষকে নিজস্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, Grameen Bank এর ঋণগ্রহীতারা ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে ছোট দোকান, সেলাই কাজ বা কৃষি ব্যবসা শুরু করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে। আরেকটি উদাহরণ হল Grameen Telecom, যা "টেলিফোন লেডিস" উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের মোবাইল ফোন কিনতে ঋণ দিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে, একই সঙ্গে যোগাযোগ প্রযুক্তি দূরবর্তী এলাকায় পৌঁছে দিয়েছে। ইউনুসের মতে, মানুষকে উদ্যোক্তা হওয়ার উপকরণ দিলে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব।
৩. Zero Net Carbon Emissions:
প্রধান উপদেষ্টা, মুহাম্মদ ইউনুস পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের জন্য sustainable ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যা carbon footprint হ্রাস করতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন যে social business শুধুমাত্র পরিবেশগত সমস্যার সমাধানই করতে পারে না, পাশাপাশি মানুষের জীবনমানও উন্নত করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ১৯৯০ এর দশকে ইউনুস Grameen Shakti প্রতিষ্ঠা করেন, যা গ্রামীণ বাংলাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যে সৌর শক্তি সরবরাহ করে। এই উদ্যোগটির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১৫ লাখেরও বেশি সৌর হোম সিস্টেম ইনস্টল করা হয়েছে, যা গ্রামীণ এলাকায় পরিষ্কার এবং টেকসই শক্তির উৎস প্রদান করছে। ডক্টর ইউনুস দেখান যে এই মডেলটি বিশ্বব্যাপী প্রসারিত করা যেতে পারে, যাতে renewable energy ব্যবহার করে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা যায় এবং স্থানীয় চাহিদা পূরণ করা যায়। আরেকটি সফল উদাহরণ হল Grameen Veolia Water, যা গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ করছে, যেখানে আর্সেনিক দূষণ একটি বড় সমস্যা। এই সামাজিক ব্যবসাটি শুধু public health crisis সমাধান করছে না, একই সঙ্গে টেকসই পানির ব্যবস্থাপনা প্রচার করছে। ইউনুসের এসব উদ্যোগ দেখায় যে পরিবেশ রক্ষা এবং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে social business কিভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
পুঁজিবাদ পুনর্বিবেচনা:
মুহাম্মদ ইউনুস প্রচলিত পুঁজিবাদী ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন, যেখানে মূলত লাভ বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া হয় এবং সামাজিক ও পরিবেশগত কল্যাণ উপেক্ষা করা হয়। তিনি এমন একটি নতুন মডেলের প্রস্তাব দেন যেখানে ব্যবসাগুলো শুধুমাত্র লাভ অর্জন করবে না, বরং সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে কাজ করবে। তার প্রস্তাবিত মডেল Social Business এবং Circular Economy ধারণার উপর ভিত্তি করে। ডক্টর ইউনুস মনে করেন, ব্যবসাগুলোকে এমনভাবে নকশা করা উচিত যাতে তা আয় সৃষ্টি করার পাশাপাশি সামাজিক সমস্যার সমাধান করে। তিনি Circular Economy এর ওপর গুরুত্ব দেন, যেখানে বর্জ্য কমিয়ে পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করা হয়, যাতে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যায়। তার মতে, social business এই দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের পথে সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে। এই মডেলটি পরিবেশ এবং সমাজ উভয়ের জন্যই উপকারী, যেখানে ব্যবসা কেবল লাভের জন্য নয়, সমাজের সার্বিক উন্নতির জন্য কাজ করে।
“A World of Three Zeros” বইটিতে মুহাম্মদ ইউনুস এমন একটি বিশ্বের স্বপ্ন দেখান যেখানে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কেবল ধনীদের জন্য নয়, বরং সবার জন্য কাজ করবে।
সবচেয়ে বড় কথা তিনি কেবল একটি ধারণা জন্ম দেননি, বরং সেই ধারণাকে প্র্যাকটিক্যালি কাজে রূপান্তর করে এ বিশ্বকে দেখিয়েছেন।
সেদিক থেকে দেখতে গেলে কাল মার্কস Marxism ধারণার প্রবর্তন করেছিলেন, আর সেই ধারণা বাস্তবে রূপান্তর করেছিলেন লেনিন। আর ডক্টর ইউনুস দুটি কাজই একা করেছেন!
Abir Mymuny
Colorado, USA
15/08/2024
কি? আজকে ১৫ আগষ্ট! জাতীয় শোক দিবস ছিল তাই না?
তবে কেন বাংলাদেশে আজকে জাতীয় শোক দিবস পালন না করে সবাই আনন্দে মেতে উঠেছে সেটাই শুনব....
৫২ তে অনেকে শহীদ হল, ৭১-এ কত শহীদ হল হিসাবের বাহিরে সেখানে জাতীয় শোক নেই?
ও আচ্ছা, নিজের পিতা এই দিনে বিদায় হল তাই জাতীয় শোক বানিয়ে দিলাম। উনার মৃত্যুতে পুরো জাতি শোকাহত হয়নি। যারা দেশের জন্য মারা গেছে তাদের মৃত্যুতে জাতীয় শোক পালন না করে নিজের পিতার মৃত্যুতে জাতীয় শোক পালন করা কতটুকু যুক্তিক সেটা এখন বাংলার মানুষ বুঝে।
পুরো জাতি যখন কোনো ব্যাপ্যারে হস্তক্ষেপে যায় তখন সেটাকে জাতীয় বলা যায়।
নেতাকে ততক্ষণ পর্যন্ত নেতা মানব, যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিস্বার্থময় জনগণের বন্ধু।
শেখ মুজিবের ১৯৭২-৭৫ এর ইতিহাস অনেকে জানে।
শেখ মুজিবুর রহমান সাড়ে তিন বছর বাংলাদেশ শাসন করেছেন। ১৯৭২ সালের ১২ই মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তার শাসনামলের সূচনা হয় এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবের শাসনামলের সমাপ্তি ঘটে।
_______________
তিনি “বাকশাল” প্রতিষ্ঠা করে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
দেশে একটি মাত্র রাজনৈতিক দল থাকবে, যার নাম হবে কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ।
ওই একদলীয় শাসনকে বঙ্গবন্ধু নামকরণ করেছিলেন ‘শোষিতের গণতন্ত্র’।
বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত ‘বাকশাল’ জন্মলগ্নে একটি কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নদল হিসেবেই যাত্রা শুরু করে এবং স্বপ্নজন্মের অল্পদিন পরেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নদলটিও মৃত্যুবরণ করে।
সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে শেখ মুজিব যখন একদলীয় শাসন কায়েম করেছিলো তখন তাজউদ্দিন এই মন্তব্য করেছিলেন..
“বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার হাতে এতই ক্ষমতা দেওয়া আছে যে, সেই ক্ষমতাবলে দেশে একদলীয় ব্যবস্থা বা আর কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। যে গণতন্ত্রের গুণগান করেছি আমরা সব সময়, আজকে আপনি একটা কলমের খোঁচায় সেই গণতন্ত্রকে শেষ করে দিয়ে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা করতে যাচ্ছেন। বাই টেকিং দিস স্টেপ ইউ আর ক্লোজিং অল দ্য ডোরস টু রিমুভ ইউ পিসফুলি ফ্রম ইউর পজিশন।
একটাই মাত্র পথ খোলা থাকবে আপনাকে (মুজিব) সরানোর, আর সেটা হচ্ছে বন্দুক।”
★ চলুন একজনের লেখা থেকে সংক্ষিপ্ত ভাবে জেনে নেই স্বৈরাচার মুজিবের শাসন আমল..
বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরাচার শেখ মুজিব সম্পর্কে যে ইতিহাস জানেনা নতুন প্রজন্ম!
শেখ মুজিবুর রহমান সাড়ে তিন বছর বাংলাদেশ শাসন করেছেন। ১৯৭২ সালের ১২ই মার্চ বাহ্যত স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তার শাসনামলের সূচনা হয় এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবের শাসনামলের সমাপ্তি ঘটে। এই সাড়ে তিন বছরের শাসনামল বাংলার ইতিহাসের এক বিভীষিকাময় কালো অধ্যায়। মুজিবের শাসনামলে বাংলাদেশ ছিল নৈরাজ্য, অভাব-অনটন, গুম-খুন, অধর্মচর্চা ও দুঃশাসনের নরকক্ষেত্র। কতিপয় ক্ষমতাসীন শাসকচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে সমস্ত জনগণ। তার শাসনকালে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ বিকল হয়ে পড়ে, কায়েম হয়েছিল চরম কর্তৃত্ববাদী এক দলীয় দুঃশাসন।
"রক্ষিবাহিনী নামক মাফিয়া বাহিনী গঠন"
শেখ মুজিবের দুরভিসন্ধির প্রকাশ ঘটে ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী রক্ষী বাহিনী নামক ঘাতক বাহিনী গঠনের মধ্য দিয়ে। রক্ষীবাহিনী নামে আধা সামরিক বাহিনী গঠনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী দুর্বৃত্তায়ন পরবর্তী ধাপে পদার্পণ করে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে নৈরাজ্য কায়েম করা মুজিব বাহিনী ও কাদেরিয়া বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এই আধাসামরিক বাহিনীটি গঠন করা হয়। এদের মূল কাজ ছিলো ভিন্নমত দমন। এই সন্ত্রাসী বাহিনী মুজিবের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের পাশাপাশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, গুম, অপহরণ, চোরাচালান এবং ধর্ষণের সাথে জড়িয়ে পড়ে। তারা বিভিন্ন গ্রামের উপর ঝটিকা আক্রমণ করে গণলুণ্ঠন চালাত। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে লুটপাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগও ছিল। মুজিব সরকারের অপকর্মের পথে কাউকে বাধা মনে করলেই তাকে হত্যা করত রক্ষীবাহিনী।
"বাকশাল প্রতিষ্ঠার নামে একনায়কতন্ত্র কায়েম"
উনিশশো পচাত্তর সালের ৭ই জুন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ তথা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন বিলুপ্ত করা হয়েছিল সব রাজনৈতিক দল। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চারটি পত্রিকা রেখে বাকি সব পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বাকশাল গঠনের পরে দেশের ওপর স্বৈরাচার মুজিবের ফ্যাসিস্ট জুলুম আরম্ভ হয়ে গিয়েছিল। সব দলকে বন্ধ করে দিয়ে, নিষিদ্ধ করে দিয়ে, সব খবরের কাগজ নিষিদ্ধ করে দিয়ে লোকজনকে ধরপাকড় করে ব্যাপকভাবে জুলুম করেছিল ফ্যাসিস্ট মুজিব।"
"১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ"
মুজিব সরকারের অব্যবস্থাপনা ও ব্যাপক দুর্নীতির ফলে ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। সরকারী হিসেব অনুসারে ২৭,০০০ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করে। বেসরকারি হিসেবে অনুমানিক ১,০০,০০০ থেকে ৪,৫০,০০০ জন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মৃত্যুবরণ করে। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়। যখন হাজার হাজার মানুষ না খেয়ে মরছিল ঠিক সেসময় বাকশালী মুজিবের দুই পুত্র শেখ কামাল এবং শেখ জামালের বিয়ে হয়েছিল সোনার মুকুট মাথায় দিয়ে অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণ ভাবে।
"বাংলাদেশে ক্রসফায়ারে হত্যাকাণ্ডের সূচনা করেছিল স্বৈরাচার মুজিব"
২ জানুয়ারি, ১৯৭৫। ওইদিন (বৃহস্পতিবার) রাতে ‘পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি’ প্রধান নেতা সিরাজ সিকদার তৎকালীন মুজিব সরকারের নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। এর আগের দিন অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে গ্রেফতার হন সিরাজ সিকদার। গ্রেফতারের পর ওইদিনই তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনা হয়। এ হত্যাকাণ্ড বিষয়ে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘কোথায় আজ সেই সিরাজ সিকদার’।
"ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী পাটোয়ারী হত্যাকাণ্ড"
শাহেদ আলী পাটোয়ারী পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও পরিষদের ডেপুটি স্পিকার ছিলেন। স্পিকারের চেয়ারে থাকাবস্থায় স্বৈরাচার মুজিবের নেতৃত্বে ততকালীন আ. লীগের সংসদ সদস্যদের হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। শেখ মুজিবুর রহমান -এর ছোড়া পেপার ওয়েট ও চেয়ারের আঘাতে মাথায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়ে শাহেদ আলী মারাত্মকভাবে আহত হন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় এবং ২৬ সেপ্টেম্বর (১৯৫৮) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
"পিতার প্রশ্রয়ে মুজিবপুত্র শেখ কামালের অপকর্ম"
শেখ মুজিবের বড় ছেলে শেখ কামাল ছিল অত্যন্ত বদ মেজাজী। বাবার মতো সেও বাংলাদেশকে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে মনে করতো। তার পরিবার বা দলের সমালোচনা বা বিরুদ্ধাচরণকে কামাল রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলে মনে করতো। শেখ কামালের চরিত্রহীন আচরণ, গভীর রাতে রহস্যজনকভাবে মতিঝিল ব্যাংক পাড়ায় সঙ্গীসহ পুলিশের গুলি খেয়ে আহত হওয়া, ডাকসুর ব্যালট বাক্স ছিনতাই, প্রখ্যাত ফুটবল রেফারি ননী বসাককে ঘুসি মেরে রক্তাক্ত করা, প্রখ্যাত লেখক আহমদ ছফা কে মারধরের হুমকি ইত্যাদি অপকর্ম দেখেও মুজিব তাকে কখনো নিবৃত্ত করেনি। বরঞ্চ উল্টো প্রায়সময় প্রশ্রয় দিয়েছে, বাহবা দিয়েছে।
_________________
_________________
উনি না "বঙ্গবন্ধু" (বাংলার মানুষের বন্ধু)? তবে কেন নিজের স্বার্থকে বেঁচে নিয়েছিলেন?
১৫ আগস্ট শোক দিবস নয়, এটি একটি জাতীর বিজয় দিবস (সুখ দিবস)
এই দিনে বাকশাল মুক্ত হওয়ার মাধমে স্বৈরাচার মুজিবের কবল থেকে বাংলাদেশ প্রাণ ফিরে পেয়েছিল।
"তাজা লাশের গন্ধ নাকের ডগায় রেখে, ৫০ বছর আগের শোক পালন করা ভন্ডামি ছাড়া আর কিছুই না।"
- ড. আসিফ নজরুল
____________
সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এর পরও কি উনি বাঙালির জাতির পিতা? উনি কখনোই বাঙালির জাতির পিতা ছিলেন না। তবে, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পিতা ছিলেন।
বিঃদ্রঃ পোস্টে সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরায়, অনেক কিছু শেয়ার করতে পারিনি। কমেন্ট বক্স আরো অনেক ইনফরমেশন পাবেন।
ধন্যবাদ!
The Network
17/07/2024
শহীদ আবু সাঈদসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনে নির্মমতার শিকার হয়ে প্রাণ হারানো সকল শহীদদের স্মরণে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাবির ভিসি চত্বরে।
____________
17-07-2024
17/07/2024
কোটা আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ। 🖤
____________
16-07-2024
16/07/2024
রাত ২টা!
রুমমেট আর আমি দরজা-জানালা বন্ধ করে আমার ভাইদের অত্যাচারের ছবি-ভিডিওগুলা দাঁতে দাঁত চেপে দেখতেসি। দুজনে ফুঁসতেসি কেন আমরা বের হইতে পারতেসি না। হুট করে হলের উপরতলা থেকে কেউ একজন চিৎকার দিলো - ক্যাম্পাসে বহিরাগত ঢুকছে রে! তোর বোনের গায়ে হাত দিসে!!
এরপর যা হইলো তা এখনো আমার কাছে ঘোরের মতো লাগে। থরথর করে কাঁপা রুমমেটকে বললাম আমি আর থাকতে পারবোনা। ততক্ষণে পুরা হলের বড়ভাইরা গগনবিদারী চিৎকার দিতে দিতে নিচতলায় চলে আসছে।
কোনো এক অদ্ভুত আকর্ষণে আমিও খালি হাতে চৌরঙ্গীর দিকে (যেখানে ক্ল্যাশ হচ্ছিলো) দৌড়াইতেসি। খেয়াল করলাম হলের এক বড়ভাই আমার হাতে লাঠি গুঁজে দিলেন।
: তুই বায়ান্ন না?
: আসসালামু আলাইকুম, ভাই। জ্বী ভাই।
: দেখলেই বুঝা যায়। তোদের গরম রক্ত, কোনো শালা যেন পার না পায়। ক্যাম্পাস তোদের।
: কিন্তু ভাই ওদের তো ভারী অস্ত্র আছে। টিকবো কিভাবে আমরা?
: পাগলা! ওদের বুলেট আছে, আমাদের বুকভরা সাহস আছে। বুলেট একসময় ফুরিয়ে যায়, সাহস কখনো ফুরায় না।
আমি জাস্ট তন্ময় হয়ে শুনতেসিলাম। এরপর কিভাবে কিভাবে যেন পুলিশ আর ছাত্রলীগের পোলাপানদের পার হয়ে ভিসির বাসভবনে ঢুকে ভাই-বোনদের উদ্ধার করসি! এটুকু বর্ণনা করার মতো শক্তি আমার নাই!
দেখসি কিভাবে বোনরে বাঁচাতে হাজার হাজার ভাইয়েরা লাঠি নিয়ে বের হয়৷ অপরিচিত এক জুনিয়ররে সিনিয়র ভাই গেঞ্জি ছিঁড়ে চোখ-মুখ বেঁধে দিচ্ছে তা দেখসি। দেখসি কিভাবে বুকে-জমা বারুদ মুখ দিয়ে গোলা হয়ে বের হয়। ধন্যবাদ জাহাঙ্গীরনগর, আমারে এই রাত দেখানোর জন্য। প্রাউডলি জাবিয়ান 🖤
©️ Zihadul Islam
16/07/2024
গতকালের ঘটনা স্টেপ বাই স্টেপ
---------------------------------
সন্ধ্যা ৭:০০- সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিছিল বের হয় ক্যাম্পাসে। ঠিক ৫ মিনিটের মধ্যেই ছাত্রলীগের পোলাপান এসে অতর্কিত হা★*ম**লা চালায় সাধারন শিক্ষার্থীদের উপর। মারা**★ত্নক আ**হ**ত হয় অনেকে।
এরপর চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, প্রতিরোধ।
এরপর আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনে যান তার সাথে কথা বলতে। একই সময়ে প্রস্তুতি নিতে থাকে ছাত্রলীগ। তাদের নেতৃত্বে মধ্যরাতে বাইরে থেকে চারটি ট্রাক ভর্তি টো★*কা**ইদের আসতে দেখা যায় ক্যাম্পাসে।
হঠাৎ করেই ছাত্রলীগ ও টো★**কা-*ইরা ভিসির বাসভবন ঘেরাও করে ফেলে। তাদের সবার কাছে দেশীয় অ★***-স্ত্র। ভিতরে আটকা পরে যায় প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী। সেখানে প্রক্টর, ভিসি সবাই ছিলেন, এবং তারা দায়িত্ব পালনে ১০০% ব্যার্থ। বাইরে থেকে ইট-পাটকেল নি*-ক্ষেপ, পে**ট্রো-*★ল বো***★মা নিক্ষেপ চলতে থাকে। প্রায় ২ ঘন্টা জিম্মি হয়ে থাকে ১৫০ জন শিক্ষার্থী।
প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ক্যাম্পাসে পুলিশের আগমন ঘটে। তারা নিরাপত্তা দেয়ার বদলে উলটো গেট খুলে দেয়। আর টো★**কাই রা এই সুযোগেই ঝাপিয়ে পরে ওই ১৫০ জনের উপর। বিভিন্ন ভিডিওতে আপনারা দেখেছেন, আমার ভাই-বোনরা কিভাবে কান্না করছিলো ভয়ে৷
ঠিক তখনই, হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষার্থী জড় হতে থাকে সব হল থেকে। নিজেদের মেরুদন্ডকে টান টান করে, সব ভয়কে পেছনে ফেলে আমাদের আটকে পরা ভাই-বোনদের উদ্ধারের জন্য সবাই দ্রুত ছুটে যায় ভিসির বাসভবনে।
পালিয়ে যায় হা★**য়ে****না বাহিনী। ওরা এরপর আর একবারের জন্যও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেনাই৷ পোলাপান যে দৌড়ানিটা দিসে এদের। একদম ১০০/১০০
এরপরের কাহিনী সবাই জানেন। পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর গু★**লি ছুড়েছে৷ তবুও মাথা নোয়ায়নি জাবি। তবুও কাপুরুষের মতো পালিয়ে যায়নি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। হার না মানা জাহাঙ্গীরনগর দেখিয়েছে তার রূপ। শিক্ষার্থীরা দেখিয়ে দিয়েছে মেরুদন্ড সোজা রাখতে কোনো রাজনৈতিক শক্তি লাগেনা। বন্ধুর পাশে বন্ধু দাঁড়ালেই মেরুদণ্ড সোজা হয়।
11/07/2024
**যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ!
যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ!!
**
কোটা প্রথা নিপাত যাক,
মেধাবীরা মুক্তি পাক।