26/06/2026
👉যে দেশে গুণীর কদর হয়না, সেদেশে গুণী জন্মায় না। (ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্)✍️
✅স্যার সার্টিফিকেটে আপনার সম্মান কেরে নিলেও বাস্তবে আপনার সম্মান আরও বহুগুণ বেড়েছে। আপনি বাংলাদেশের সম্পদ। স্যার আপনি মানুষের মনের মধ্যে ছিলেন, আছেন, থাকবেন🤲❤️🤲
👉বলছি বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রের এক জীবন্ত কিংবদন্তি ও নক্ষত্রের নাম অধ্যাপক ডাঃ এ বি এম আবদুল্লাহ স্যারের কথা.....✍️
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ
একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য সচেতনতার অঙ্গনে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। দেশের অন্যতম খ্যাতিমান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক, লেখক এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা আন্দোলনের অগ্রদূত হিসেবে তিনি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জাতির সেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।
তিনি ১৯৫৪ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার (বর্তমান জামালপুর জেলা) ইসলামপুর উপজেলার হাড়িয়াবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর শৈশব কেটেছে গ্রামের স্নিগ্ধ পরিবেশে। হারিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়। ১৯৬৯ সালে ইসলামপুর নেকজাহান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৭৮ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবনের শুরুতে তিনি নিজ গ্রামে কিছুদিন সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। উচ্চতর প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে তিনি সৌদি আরবে পাঁচ বছর চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
১৯৯২ সালে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ( বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং মেডিসিন অনুষদের তিনবার নির্বাচিত ডিন হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সচিব পদমর্যাদা লাভ করেন এবং ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে ইমেরিটাস অধ্যাপক উপাধিতে ভূষিত করে।
বিশেষ করে এই দেশে ডেঙ্গু জ্বর যখন এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়, তখন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা, গণমাধ্যমে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং অসংখ্য রোগীর সফল চিকিৎসা তাঁকে জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত করে।
তিনি একজন প্রথিতযশা লেখকও। চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ক ছয়টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে— Short Cases in Clinical Medicine, Long Cases in Clinical Medicine, ECG of Medical Practice, Radiology of Medical Practice এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক নির্বাচিত কলাম। তাঁর রচিত বইগুলো বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্যসহ আরব বিশ্বের বিভিন্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য হিসেবে সমাদৃত।
পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্যবিষয়ক কলাম লিখে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বহু সম্মাননা অর্জন করেছেন। ২০১৫ সালে Short Cases in Clinical Medicine গ্রন্থের জন্য ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড (২০১৩) লাভ করেন। ২০১৬ সালে গবেষণায় অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক লাভ করেন। ২০১৭ সালে বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ অর্জন করেন। ২০১৯ সালে ইউজিসি অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ কেবল একজন চিকিৎসক নন; তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক, দক্ষ গবেষক, প্রজ্ঞাবান লেখক এবং মানবিক চিকিৎসাসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সততা ও মানবসেবার আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে✍️✅
25/06/2026
25/06/2026
25/06/2026
24/06/2026
23/06/2026
22/06/2026
22/06/2026
22/06/2026
22/06/2026