12/11/2021
Knowledge is power...!
আমাদের শরীরে যত কোষ আছে তার কয়েকগুন বেশী ব্যাকটেরিয়া আছে আমাদের দেহে। এদের অধিকাংশের বাস আমাদের বৃহদন্ত্রে। বৃহদন্ত্রে এদের অনেক গুরুত্বপূর্ন কাজ আছে। এরা আমাদের ইমিউন সিস্টেমের প্রধান ট্রেইনার, ৭০ ভাগ ট্রেইনিং এদের কাছ থেকে আসে। এরা প্রায় সব ধরণের বি ভিটামিন তৈরী করে, ভিটামিন কে১ এবং কিছুটা কে২ ভিটামিন তৈরী করে। বি ভিটামিনগুলো শরীরে শক্তি উতপাদন, নার্ভ সুরক্ষা, নতুন রক্ত নালী তৈরি, মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়, বি১২ এর ক্রনিক ঘাটতি থাকলে মানুষের সাময়িক থেকে স্থায়ী মানসিক সমস্যা হবেই, বি ভিটামিনগুলো খাদ্য থেকে পুষ্টি শোষনে সহায়তা করে। কে১ রক্ত জমাট বাধায়, আর কে২ মজবৃত হাঁড় গঠন করে, হৃদপিন্ড ও রক্তনালীতে ক্যালসিয়াম জমা হতে দেয় না, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়, আলঝাইমার প্রতিরোধ করে, সুন্দর ঝঁকঝকে দাঁত, গর্ভাবস্থায় শিশুদের আকর্ষনীয় মুখায়ব তৈরীতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।
এছাড়া ব্যাকটোরিয়াগুলো শর্ট চেইন ফ্যাটি এ্যাসিড তৈরী করে। মানুষ স্থুল না স্লীম হবে তার উপরও এদের একটা গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা আছে, সেই সাথে টাইপ টু ডায়াবেটিসসহ সব ধরণের ক্রনিক রোগের উপর।
এই ব্যাকটেরিয়া সমষ্টিকে একত্রে মাইক্রোবায়োম বলে। মাইক্রোবায়োমের মধ্যে কিছু প্রজাতির ফাংগাসও আছে। ব্যাকটেরিযা সমষ্টির সবই উপকারি ব্যাকটেরিয়া তা নয়, অনেক অপকারি ব্যাকটেরিয়া, ফাংগাসও আছে তবে সেগুলোকে ভালো ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখে যখন আমরা এদের বেঁচে থাকার জন্য সঠিক খাদ্য ও উপযুক্ত পরিবেশ প্রদান করি। তাছাড়া খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলোর সংখ্যা যখন কম থাকে তখন তারাও পরোক্ষভাবে উপকারি ব্যাকটেরিয়া হিসেবে কাজ করে।
মাইক্রোবায়োমের প্রধান খাবার হলো আঁশ যুক্ত খাবার এবং ভিটামিন ডি।
এই দুই ধরণের খাবারের অভাব ছাড়াও যেসব খাদ্যাভাস মাইক্রোবায়োম ধ্বংস করে তাদের মধ্যে চিনি ও প্রসেসড খাবার অন্যতম। ওকজন মানুষ ৪০ বতসর জীবনের মধ্যে প্রায় ৩০ টি এন্টিবায়োটিক কোর্স শেষ করে। নিঃসন্দেহে এন্টিবায়োটিক মাইক্রোবায়োমের প্রধান শত্রু। এরপরে আরো বহু ঔষধ আছে, আছে আগাছানাশক ব্যাবহৃত হয়েছে এমন যেকোন খাদ্য , বিশেষ করে জিএমও শস্য।
যে মানব জাতি একটা সময়ে দিনের উল্লেখযোগ্য সময় চাষাবাদ, শিকারে কাটাতে গিয়ে রোদ থেকে পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন ডি সিন্থেসিস করতো এখন তারা ইনডোর কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পাচ্ছে না। এর একটা সরাসরি প্রভাবে তার মাইক্রোবায়োম পর্যাপ্ত পুষ্টি ভিটামিন ডি পাচ্ছে না। ফলে মাইক্রোবায়োম পর্যাপ্ত বি ভিটামিনগুলো, কে ভিটামিনগুলো তৈরী করছে না, ভিটামিন বি এর অভাবে অনেক পুষ্টিই আমরা পর্যাপ্ত আত্তীকৃত করতে পারছি না, আমাদের ইমিউন সিস্টেম যথেষ্ঠ ট্রেইন্ড হচ্ছে না, বিভিন্ন রোগে ভুগছি, সংক্রামক রোগে ভুগছি যার জন্য চিকিতসা হিসবে যে এন্টিবায়োটিক খাচ্ছি সেটা আবার মাইক্রোবায়োমকে সমূলে ধ্বংস করছে। ভালো ও মন্দ ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য হারিয়ে আমাদেরকে স্থুলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে যা থেকে ইনসুলিন রেজিস্টেন্স এবং সেটা থেকে ডায়াবেটিস টাইপ ২, হৃদরোগ, স্ট্রোক, অটো ইমিউন ডিজিজ যেমন এ্যালার্জি, এ্যাজমা, সোরিয়াসিস, একজিমা, হাসিমোতো এমনকি টাইপ ১ ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যা, কিডনির সমস্যা, প্রচন্ড খুশকি, অকালে চুল ঝরা, সেক্সুয়াল ডিসফাংশন, রিউমেটিক আরথ্রাইটিস। প্রতিটি জন্ম নেয়া শিশুর মাইক্রোবায়োম আসে তার পিতামাতার কাছ থেকে, জন্মের সময় তার মায়ের বার্থ ক্যানেল থেকে। মাইক্রোবায়োম হচ্ছে আমাদের আদি পিতা ও মাতার কাছ থেকে বংশপরম্পরায় পাওয়া ও ইভলভড হওয়া হাজারো প্েজাতির ব্যাকটেরিয়া সমষ্টি যা গত শতাব্দী থেকে আমরা ধ্বংস করতে শুরু করেছি, ইতিমধ্যেই মাত্র কয়ক দশকে কিছু প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া বৈচিত্রও হারিয়ে ফেলেছি, খুব শীঘ্রই বেশীরভাগ বৈচিত্র হারিয়ে ফেলবো এন্টিবায়োটিক, ঔষধ, কেমিকেল, প্রসেস করা খাবারের দৌরাত্বে।
এখনই সতর্ক না হয়ে উপযুক্ত ব্যাবস্থা নিলে এই সমসার বংশানুগতিক ইনক্রিমেন্টাল প্রভাব কি?
উত্তরঃ এক সময় ফার্মের মুরগীর মত উজার হয়ে যাওয়া।