22/05/2023
রে ধীরে মেধা ‘শূন্য’ হয়ে পড়ছে ফরেনসিক বিভাগ। স্পর্শকাতর বিভাগ হওয়ার পরও দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে লোকবল সংকট রয়েছে। অভাব রয়েছে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির। আবার কোনো কোনো মেডিকেল কলেজে ফরেনসিক শিক্ষকের পদ শূন্য। এ কারণে বিভাগটি চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় যারা এমবিবিএস পাস করছেন তাদের শেখার সুযোগ কম বলে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে না। মেডিকেলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে এ পেশায় আসতে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই বিভাগে লোকই পাওয়া যাবে না।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের উন্নতিতে এই শাখার আবির্ভাব হয়। অপরাধ ও অপরাধ নমুনার শ্রেণিবিভাগ করে ক্রিমিনালিস্টিক নামে এই শাখা। বর্তমানে অপরাধের চরিত্রগত বদল হচ্ছে। ফলে গোটা ঘটনার তদন্ত ও অপরাধ নমুনার বিশ্লেষণে যথেষ্ট পারদর্শিতার প্রয়োজন। অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফরেনসিক বিজ্ঞানের শাখা প্রশাখা ক্রমশ বিকশিত হচ্ছে। সাইবার ফরেনসিক, ডিজিটাল ফরেনসিক, ফরেনসিক অডিটিং, ফরেনসিক সাইকোলজি, ফরেনসিক নার্সিংয়ের মতো বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। কোনো বিপর্যয় ঘটে গেলে তার তদন্তে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে ফরেনসিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে চলমান ৩৩টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ফরেনসিক বিভাগে শিক্ষকের পদ রয়েছে কম করে হলেও ২০৪টি। প্রতিটি মেডিকেল কলেজে কম করে হলেও ১ জন অধ্যাপক ২ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ৩ জন সহকারী অধ্যাপক প্রয়োজন। এর বিপরীতে সারাদেশে শিক্ষক আছেন ৩০ জন তাছাড়া ফরেনসিক বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ৪০ জন। দেশে ৩৭ মেডিকেলে মাত্র ২ জন অধ্যাপক, ৩ জন সহযাগী অধ্যাপক এবং ১০ জন সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন। ২০টিরও বেশি মেডিকেল কলেজে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ কিংবা ডিগ্রিধারী কেউ নেই। এভাবে চলতে থাকলে একসময় এমবিবিএস, স্নাতকোত্তর ও ডিপ্লোমা কোর্সের প্রশ্নপত্র তৈরি, ক্লাস নেয়া, পরীক্ষা নেয়া এবং খাতা দেখাসহ সার্বিক বিষয়ে দক্ষ লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।
সারাদেশে ৩৭টি মেডিকেল কলেজের মাঝে ঢাকা বিভাগে মোট ১৩ জেলার ৭টি জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো—ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, মুগদা মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ, গাজীপুর, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ কিশোরগঞ্জ, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ টাঙ্গাইল ও শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ গোপালগঞ্জ। খুলনা বিভাগে ১০ জেলার মধ্যে ৫ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো— খুলনা মেডিকেল কলেজ, যশোর মেডিকেল কলেজ, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও মাগুরা মেডিকেল কলেজ। চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলার ৬ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো— নোয়াখালীতে আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও চকরিয়া মেডিকেল কলেজ।
বরিশাল বিভাগে ৬ জেলার ২ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ২টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো—পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ।
ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ জেলার ৩ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৩টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো— ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, জামালপুর ও নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ।
রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৩ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৩টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো— দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ, রংপুর মেডিকেল কলেজ ও নীলফামারী মেডিকেল কলেজ।
রাজশাহী বিভাগে ৮ জেলার ৫ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৫টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো— পাবনা মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ, সিরাজগঞ্জ, শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও নওগাঁ মেডিকেল কলেজ।
সিলেট বিভাগে ৪ জেলার ৩ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৩টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো— সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ ও শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, হবিগঞ্জ।
৩৭টি মেডিকেল কলেজের ৩৩টি চালু রয়েছে অপর ৪টি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্ধেকের বেশি হাসপাতালে নেই কোন ফরেনসিক মেডিসিনের শিক্ষক। যে সব মেডিকেল কলেজে শিক্ষক নেই সেখান থেকে পাস করে বের হওয়া এমবিবিএস চিকিৎসকদের ফরেনসিক মেডিসিন সম্পর্কে বেসিক ধারণাও থাকবে না। থাকবে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা।
ঢাকার সাভার হেলথ কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার বলেন, বিজ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগের লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এই শাখার মূল উদ্দেশ্য হল বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ তদন্ত ও অপরাধ নির্ণয়ের মাধ্যমে পরোক্ষ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা। অন্য কথায়, সামাজিক স্থিতিশীলতায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও ফরেনসিক বিজ্ঞান তার অবদান রেখে চলেছে। বিচার ব্যবস্থার নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে দোষীর শাস্তিবিধানে ফরেনসিক বিজ্ঞানের গুরুত্ব অনেক বেশি।
বর্তমানে অপরাধের চরিত্রগত দিক বদল হচ্ছে। ফলে গোটা ঘটনার তদন্ত ও অপরাধ নমুনার বিশ্লেষণে যথেষ্ট পারদর্শিতার প্রয়োজন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা ও ফরেনসিক বিজ্ঞানের শাখাপ্রশাখা ক্রমশ বিকশিত হচ্ছে। মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় ফরেনসিক মেডিসিনের প্রতি আমার অনেক ঝোঁক ছিল। এই বিভাগে কাজ করারও ইচ্ছা ছিল। এ পেশার ডাক্তারদের সাধারণ লোকজন চিকিৎসক হিসাবে মেনে নেয় না। তাদের কোনো প্র্যাকটিস করার সুযোগও থাকে না। পরে বিভিন্ন সমস্যা, শিক্ষক সংকট পক্ষ-বিপক্ষের তদ্বির, হুমকি-ধমকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আর এদিকে এগোইনি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রভাষক রুবিনা ইসলাম বলেন, ‘স্পর্শকাতর বিভাগ হওয়ার পরও দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে লোকবল সংকট রয়েছে। অভাব রয়েছে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির। আবার কোনো কোনো মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে শূন্য রয়েছে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের পদ। এ কারণে বিভাগটি চলছে অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ‘মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় ফরেনসিক মেডিসিনের প্রতি আমার অনেক ঝোঁক ছিল। এই বিভাগে কাজ করারও ইচ্ছা ছিল। সমস্যা হলো, জায়গাটা নিরাপদ নয়। এখানে যেহেতু অপমৃত্যু, ধর্ষণ, হত্যাসহ অনেক স্পর্শকাতর বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হয় তাই হুমকি-ধমকি আসে।’ মেয়ে হয়ে সার্বিক চিন্তা করে আর ফরেনসিক মেডিসিনের দিকে এগোইনি।’
শারমিন বেগম বলেন, বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের বদৌলতে ‘ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল’ শব্দটি কম-বেশি প্রায় প্রত্যেকেরই জানা। খুন, দুর্ঘটনা, বিপর্যয়, বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ড বিভিন্ন ঘটনায় এই বিশেষজ্ঞ দলের ডাক পড়ে। অপরাধের জট খুলতে পুলিশকর্তাদের যখন হিমশিম অবস্থা হয়, তখন ফরেনসিক রিপোর্ট তাদের তদন্তের নতুন দিশা দেখায়। বিভিন্ন গোয়েন্দা সিনেমা-সাহিত্যেও এই ফরেনসিক রিপোর্টের বিষয়টি নানা সময়ে স্থান পেয়েছে। রহস্য ভেদ করার ক্ষেত্রে তুখোড় গোয়েন্দাদেরও অনেক সময় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিতে হয়েছে। ছাত্রজীবনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যদি ডাক্তারিতে সুযোগ পাই তাহলে ফরেনসিক হবে আমার প্রথম পছন্দ। মেডিকেলে ভর্তি হয়ে জানতে পারি ‘একটা সময় ফরেনসিক মেডিসিনে ভালো ভালো অনেক শিক্ষক ছিল। কিন্তু এ বিভাগের প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি না থাকার কারণে মেডিকেল শিক্ষার্থীদেরও আগ্রহ কমে যায়। এসব কারণেই শিক্ষক তৈরি হচ্ছে না। বিদেশে এ বিষয়ে লেখাপড়া করে কেবল মেডিকেল কলেজগুলোতেই নয় পুলিশ কিংবা সেনাবাহিনীতে কাজ করা যায়। তবে আমাদের দেশে তেমন সুযোগও নেই বললেই চলে। কিন্তু মেডিকেলে ভর্তি হয়ে শিক্ষক সংকট, অবজ্ঞা অবহেলা, নিরাপত্তাহীনতা সব কিছু দেখার পর আমার সেই আশা আর পূরণ হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় যারা এমবিবিএস পাস করছেন তাদের শেখার সুযোগ কম। ফলে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই বিভাগে লোকই পাওয়া যাবে না। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আ ম সেলিম রেজা নয়া শতাব্দীকে বলেন, ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে ফরেনসিক বিজ্ঞানের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এর মূল লক্ষ্য এবং মূল উদ্দেশ্য হল বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ তদন্ত ও অপরাধ নির্ণয়ের মাধ্যমে পরোক্ষে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা। বিচার ব্যবস্থার নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে দোষীদের শাস্তিবিধানে ফরেনসিক বিজ্ঞানের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। দেশের ‘ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে জনবল একেবারেই অপ্রতুল। দেশের ২৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত হয়। কিন্তু এসব মেডিকেল কলেজে ভয়াবহ শিক্ষক সংকট রয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষক রয়েছে যেটা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।’ তিনি বলেন, ‘খুবই র্স্পশকাতর এই বিভাগে যারা কাজ করেন তাদের কোনোরকম ইনটেনসিভ না থাকা শিক্ষক সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। এ ধরনের মেডিকেল রিপোর্ট দিলে সেটা কারোর পক্ষে আবার কারোর বিপক্ষে যাবে। আবার নানা মামলাতে এ বিভাগের চিকিৎসকদের সাক্ষী দিতে যেতে হয়। সেখানেও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। এটাও জনবল স্বল্পতার কারণ। কেউ বাধ্য না হলে এ বিভাগে আসতে চায় না।’
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ নয়া শতাব্দীকে বলেন, ‘প্রয়োজনে অপরাধ স্থলের সরেজমিনে তদন্ত করে অপরাধের পুনর্গঠনের মাধ্যমে তার প্রকৃতি নির্ণয় ফরেনসিক বিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর মূল উদ্দেশ্য হল অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী সম্ভাব্য অপরাধ নমুনার অন্বেষণ ও তা সংগ্রহ করে অপরাধীকে শনাক্ত করতে সাহায্য করা। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত নমুনা ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবে পরীক্ষাপূর্বক বিশ্লেষণ করে তার ভিত্তিতে তৈরি হয় ফরেনসিক রিপোর্ট। কোনো অপরাধ বা ঘটনার তদন্তে এই ফরেনসিক রিপোর্টের গুরুত্ব অপরিসীম।;
ফরেনসিক ওষুধ, যা ফরেনসিক প্যাথলজি অন্তর্ভুক্ত করে, একটি সংকীর্ণ ক্ষেত্র যা আইনি ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য তৈরি করার জন্য মেডিকেল প্রমাণ (নমুনা) সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণকে অন্তর্ভুক্ত করে। জীবিত প্রাণীর সন্ধান, মৃতদেহ, বস্তু, কর্মস্থল ইত্যাদি। ফৌজদারি মামলা যেমন হত্যাকাণ্ড এবং আঘাত, তদন্ত, আদালতের তথ্য প্রদান, পিতা/মাতা/ শিশু বৈষম্য ইত্যাদি দ্বারা দ্বন্দ্বের সংশয় সংক্রান্ত মামলা সমাধান করাটাই ফরেনসিকের প্রধান কাজ।
তিনি বলেন, এ বিভাগে কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন কারো বিপক্ষে গেলে সেটা আমার জন্য হুমকি হতে পারে। তারপরও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ‘মানুষের একটা ধারণা হয়েছে যে, যারা ময়নাতদন্ত করে তারা মরা মানুষের ডাক্তার। তাদের কাছে অন্য কোনো রোগের চিকিৎসার জন্য যাওয়া যাবে না। ফরেনসিক মেডিসিনে কাজ করায় আমাদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ নেই। তাই আর্থিকভাবেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। যার কারণে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আসে না। যেটা অন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে হচ্ছে না। ডা. সোহেল বলেন, ‘ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের আগ্রহী করতে সরকারের উচিত আমাদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা রাখা। ছাত্রছাত্রীদের জন্যে শিক্ষার ভাল পরিবেশ গড়ে তোলা। তাহলে কেউ না কেউ অনুপ্রাণিত হবে। একইসঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা। এ বিষয়গুলোতে সরকার একটু দৃষ্টি দিলে হয়তো কিছুটা জনবল সংকট কাটবে।
22/05/2023
03/09/2022
12/12/2021
17/11/2021
18/04/2021
18/04/2021
12/04/2021
25/11/2020