Bangladesh Forensic & Victimology Research Institute

Bangladesh Forensic & Victimology Research Institute First Bangladeshi Forensic & Victimology Research Institute

রে ধীরে মেধা ‘শূন্য’ হয়ে পড়ছে ফরেনসিক বিভাগ। স্পর্শকাতর বিভাগ হওয়ার পরও দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে ল...
22/05/2023

রে ধীরে মেধা ‘শূন্য’ হয়ে পড়ছে ফরেনসিক বিভাগ। স্পর্শকাতর বিভাগ হওয়ার পরও দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে লোকবল সংকট রয়েছে। অভাব রয়েছে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির। আবার কোনো কোনো মেডিকেল কলেজে ফরেনসিক শিক্ষকের পদ শূন্য। এ কারণে বিভাগটি চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় যারা এমবিবিএস পাস করছেন তাদের শেখার সুযোগ কম বলে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে না। মেডিকেলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে এ পেশায় আসতে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই বিভাগে লোকই পাওয়া যাবে না।

ঊনবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের উন্নতিতে এই শাখার আবির্ভাব হয়। অপরাধ ও অপরাধ নমুনার শ্রেণিবিভাগ করে ক্রিমিনালিস্টিক নামে এই শাখা। বর্তমানে অপরাধের চরিত্রগত বদল হচ্ছে। ফলে গোটা ঘটনার তদন্ত ও অপরাধ নমুনার বিশ্লেষণে যথেষ্ট পারদর্শিতার প্রয়োজন। অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফরেনসিক বিজ্ঞানের শাখা প্রশাখা ক্রমশ বিকশিত হচ্ছে। সাইবার ফরেনসিক, ডিজিটাল ফরেনসিক, ফরেনসিক অডিটিং, ফরেনসিক সাইকোলজি, ফরেনসিক নার্সিংয়ের মতো বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। কোনো বিপর্যয় ঘটে গেলে তার তদন্তে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে ফরেনসিক ইঞ্জিনিয়ারিং।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে চলমান ৩৩টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ফরেনসিক বিভাগে শিক্ষকের পদ রয়েছে কম করে হলেও ২০৪টি। প্রতিটি মেডিকেল কলেজে কম করে হলেও ১ জন অধ্যাপক ২ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ৩ জন সহকারী অধ্যাপক প্রয়োজন। এর বিপরীতে সারাদেশে শিক্ষক আছেন ৩০ জন তাছাড়া ফরেনসিক বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ৪০ জন। দেশে ৩৭ মেডিকেলে মাত্র ২ জন অধ্যাপক, ৩ জন সহযাগী অধ্যাপক এবং ১০ জন সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন। ২০টিরও বেশি মেডিকেল কলেজে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ কিংবা ডিগ্রিধারী কেউ নেই। এভাবে চলতে থাকলে একসময় এমবিবিএস, স্নাতকোত্তর ও ডিপ্লোমা কোর্সের প্রশ্নপত্র তৈরি, ক্লাস নেয়া, পরীক্ষা নেয়া এবং খাতা দেখাসহ সার্বিক বিষয়ে দক্ষ লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।

সারাদেশে ৩৭টি মেডিকেল কলেজের মাঝে ঢাকা বিভাগে মোট ১৩ জেলার ৭টি জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো—ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, মুগদা মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ, গাজীপুর, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ কিশোরগঞ্জ, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ টাঙ্গাইল ও শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ গোপালগঞ্জ। খুলনা বিভাগে ১০ জেলার মধ্যে ৫ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো— খুলনা মেডিকেল কলেজ, যশোর মেডিকেল কলেজ, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও মাগুরা মেডিকেল কলেজ। চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলার ৬ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো— নোয়াখালীতে আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও চকরিয়া মেডিকেল কলেজ।

বরিশাল বিভাগে ৬ জেলার ২ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ২টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো—পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ।

ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ জেলার ৩ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৩টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো— ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, জামালপুর ও নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ।

রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৩ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৩টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো— দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ, রংপুর মেডিকেল কলেজ ও নীলফামারী মেডিকেল কলেজ।

রাজশাহী বিভাগে ৮ জেলার ৫ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৫টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো— পাবনা মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ, সিরাজগঞ্জ, শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও নওগাঁ মেডিকেল কলেজ।

সিলেট বিভাগে ৪ জেলার ৩ জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৩টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয় এগুলো হলো— সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ ও শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, হবিগঞ্জ।

৩৭টি মেডিকেল কলেজের ৩৩টি চালু রয়েছে অপর ৪টি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্ধেকের বেশি হাসপাতালে নেই কোন ফরেনসিক মেডিসিনের শিক্ষক। যে সব মেডিকেল কলেজে শিক্ষক নেই সেখান থেকে পাস করে বের হওয়া এমবিবিএস চিকিৎসকদের ফরেনসিক মেডিসিন সম্পর্কে বেসিক ধারণাও থাকবে না। থাকবে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা।

ঢাকার সাভার হেলথ কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার বলেন, বিজ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগের লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এই শাখার মূল উদ্দেশ্য হল বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ তদন্ত ও অপরাধ নির্ণয়ের মাধ্যমে পরোক্ষ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা। অন্য কথায়, সামাজিক স্থিতিশীলতায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও ফরেনসিক বিজ্ঞান তার অবদান রেখে চলেছে। বিচার ব্যবস্থার নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে দোষীর শাস্তিবিধানে ফরেনসিক বিজ্ঞানের গুরুত্ব অনেক বেশি।

বর্তমানে অপরাধের চরিত্রগত দিক বদল হচ্ছে। ফলে গোটা ঘটনার তদন্ত ও অপরাধ নমুনার বিশ্লেষণে যথেষ্ট পারদর্শিতার প্রয়োজন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা ও ফরেনসিক বিজ্ঞানের শাখাপ্রশাখা ক্রমশ বিকশিত হচ্ছে। মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় ফরেনসিক মেডিসিনের প্রতি আমার অনেক ঝোঁক ছিল। এই বিভাগে কাজ করারও ইচ্ছা ছিল। এ পেশার ডাক্তারদের সাধারণ লোকজন চিকিৎসক হিসাবে মেনে নেয় না। তাদের কোনো প্র্যাকটিস করার সুযোগও থাকে না। পরে বিভিন্ন সমস্যা, শিক্ষক সংকট পক্ষ-বিপক্ষের তদ্বির, হুমকি-ধমকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আর এদিকে এগোইনি।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রভাষক রুবিনা ইসলাম বলেন, ‘স্পর্শকাতর বিভাগ হওয়ার পরও দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে লোকবল সংকট রয়েছে। অভাব রয়েছে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির। আবার কোনো কোনো মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে শূন্য রয়েছে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের পদ। এ কারণে বিভাগটি চলছে অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ‘মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় ফরেনসিক মেডিসিনের প্রতি আমার অনেক ঝোঁক ছিল। এই বিভাগে কাজ করারও ইচ্ছা ছিল। সমস্যা হলো, জায়গাটা নিরাপদ নয়। এখানে যেহেতু অপমৃত্যু, ধর্ষণ, হত্যাসহ অনেক স্পর্শকাতর বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হয় তাই হুমকি-ধমকি আসে।’ মেয়ে হয়ে সার্বিক চিন্তা করে আর ফরেনসিক মেডিসিনের দিকে এগোইনি।’

শারমিন বেগম বলেন, বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের বদৌলতে ‘ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল’ শব্দটি কম-বেশি প্রায় প্রত্যেকেরই জানা। খুন, দুর্ঘটনা, বিপর্যয়, বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ড বিভিন্ন ঘটনায় এই বিশেষজ্ঞ দলের ডাক পড়ে। অপরাধের জট খুলতে পুলিশকর্তাদের যখন হিমশিম অবস্থা হয়, তখন ফরেনসিক রিপোর্ট তাদের তদন্তের নতুন দিশা দেখায়। বিভিন্ন গোয়েন্দা সিনেমা-সাহিত্যেও এই ফরেনসিক রিপোর্টের বিষয়টি নানা সময়ে স্থান পেয়েছে। রহস্য ভেদ করার ক্ষেত্রে তুখোড় গোয়েন্দাদেরও অনেক সময় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিতে হয়েছে। ছাত্রজীবনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যদি ডাক্তারিতে সুযোগ পাই তাহলে ফরেনসিক হবে আমার প্রথম পছন্দ। মেডিকেলে ভর্তি হয়ে জানতে পারি ‘একটা সময় ফরেনসিক মেডিসিনে ভালো ভালো অনেক শিক্ষক ছিল। কিন্তু এ বিভাগের প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি না থাকার কারণে মেডিকেল শিক্ষার্থীদেরও আগ্রহ কমে যায়। এসব কারণেই শিক্ষক তৈরি হচ্ছে না। বিদেশে এ বিষয়ে লেখাপড়া করে কেবল মেডিকেল কলেজগুলোতেই নয় পুলিশ কিংবা সেনাবাহিনীতে কাজ করা যায়। তবে আমাদের দেশে তেমন সুযোগও নেই বললেই চলে। কিন্তু মেডিকেলে ভর্তি হয়ে শিক্ষক সংকট, অবজ্ঞা অবহেলা, নিরাপত্তাহীনতা সব কিছু দেখার পর আমার সেই আশা আর পূরণ হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় যারা এমবিবিএস পাস করছেন তাদের শেখার সুযোগ কম। ফলে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই বিভাগে লোকই পাওয়া যাবে না। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আ ম সেলিম রেজা নয়া শতাব্দীকে বলেন, ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে ফরেনসিক বিজ্ঞানের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এর মূল লক্ষ্য এবং মূল উদ্দেশ্য হল বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ তদন্ত ও অপরাধ নির্ণয়ের মাধ্যমে পরোক্ষে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা। বিচার ব্যবস্থার নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে দোষীদের শাস্তিবিধানে ফরেনসিক বিজ্ঞানের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। দেশের ‘ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে জনবল একেবারেই অপ্রতুল। দেশের ২৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত হয়। কিন্তু এসব মেডিকেল কলেজে ভয়াবহ শিক্ষক সংকট রয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষক রয়েছে যেটা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।’ তিনি বলেন, ‘খুবই র্স্পশকাতর এই বিভাগে যারা কাজ করেন তাদের কোনোরকম ইনটেনসিভ না থাকা শিক্ষক সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। এ ধরনের মেডিকেল রিপোর্ট দিলে সেটা কারোর পক্ষে আবার কারোর বিপক্ষে যাবে। আবার নানা মামলাতে এ বিভাগের চিকিৎসকদের সাক্ষী দিতে যেতে হয়। সেখানেও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। এটাও জনবল স্বল্পতার কারণ। কেউ বাধ্য না হলে এ বিভাগে আসতে চায় না।’

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ নয়া শতাব্দীকে বলেন, ‘প্রয়োজনে অপরাধ স্থলের সরেজমিনে তদন্ত করে অপরাধের পুনর্গঠনের মাধ্যমে তার প্রকৃতি নির্ণয় ফরেনসিক বিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর মূল উদ্দেশ্য হল অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী সম্ভাব্য অপরাধ নমুনার অন্বেষণ ও তা সংগ্রহ করে অপরাধীকে শনাক্ত করতে সাহায্য করা। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত নমুনা ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবে পরীক্ষাপূর্বক বিশ্লেষণ করে তার ভিত্তিতে তৈরি হয় ফরেনসিক রিপোর্ট। কোনো অপরাধ বা ঘটনার তদন্তে এই ফরেনসিক রিপোর্টের গুরুত্ব অপরিসীম।;

ফরেনসিক ওষুধ, যা ফরেনসিক প্যাথলজি অন্তর্ভুক্ত করে, একটি সংকীর্ণ ক্ষেত্র যা আইনি ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য তৈরি করার জন্য মেডিকেল প্রমাণ (নমুনা) সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণকে অন্তর্ভুক্ত করে। জীবিত প্রাণীর সন্ধান, মৃতদেহ, বস্তু, কর্মস্থল ইত্যাদি। ফৌজদারি মামলা যেমন হত্যাকাণ্ড এবং আঘাত, তদন্ত, আদালতের তথ্য প্রদান, পিতা/মাতা/ শিশু বৈষম্য ইত্যাদি দ্বারা দ্বন্দ্বের সংশয় সংক্রান্ত মামলা সমাধান করাটাই ফরেনসিকের প্রধান কাজ।

তিনি বলেন, এ বিভাগে কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন কারো বিপক্ষে গেলে সেটা আমার জন্য হুমকি হতে পারে। তারপরও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ‘মানুষের একটা ধারণা হয়েছে যে, যারা ময়নাতদন্ত করে তারা মরা মানুষের ডাক্তার। তাদের কাছে অন্য কোনো রোগের চিকিৎসার জন্য যাওয়া যাবে না। ফরেনসিক মেডিসিনে কাজ করায় আমাদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ নেই। তাই আর্থিকভাবেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। যার কারণে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আসে না। যেটা অন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে হচ্ছে না। ডা. সোহেল বলেন, ‘ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের আগ্রহী করতে সরকারের উচিত আমাদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা রাখা। ছাত্রছাত্রীদের জন্যে শিক্ষার ভাল পরিবেশ গড়ে তোলা। তাহলে কেউ না কেউ অনুপ্রাণিত হবে। একইসঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা। এ বিষয়গুলোতে সরকার একটু দৃষ্টি দিলে হয়তো কিছুটা জনবল সংকট কাটবে।

https://www.banglanews24.com/national/news/bd/769280.details
22/05/2023

https://www.banglanews24.com/national/news/bd/769280.details

তিনি বলেন, আলামত পরীক্ষাগারে নানা প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হয়। যার ফলাফল সফটওয়্যারের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। তাই আলামত ...

চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে আধুনিক হয়নি ফরেনসিকতৈরি হচ্ছে না পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞবান্দরবান নার্সিং কলেজের ফটকের মুখেই জেলা হাসপ...
03/09/2022

চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে আধুনিক হয়নি ফরেনসিক
তৈরি হচ্ছে না পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ

বান্দরবান নার্সিং কলেজের ফটকের মুখেই জেলা হাসপাতালের মর্গ। জরাজীর্ণ একতলা ভবনের একটি কক্ষে সেই পুরনো ধাঁচে ছুরি-কাঁচি দিয়েই কাটা হয় অপঘাতে মৃতদের দেহ। মৃত্যুর কারণ জানতে কোনো আধুনিক যন্ত্র ছাড়াই হয় ময়নাতদন্ত। এমনকি মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য নেই কোনো ফ্রিজিং ব্যবস্থাও। নমুনা সংরক্ষণেরও কোনো আধুনিক সুবিধা নেই। একই অবস্থা নোয়াখালীর, জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ থাকলেও নেই নিজস্ব হাসপাতাল কিংবা মর্গ। আড়াইশ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের মর্গেই চলে কলেজ শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পাঠ। সেখানেও আবার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই চলছে মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদের কাজ। তাই মানা যাচ্ছে না বৈজ্ঞানিক নির্দেশিকা।

কেবল বান্দরবান ও নোয়াখালীই নয়, এ যেন পুরো দেশেরই মর্গ ব্যবস্থার চিত্র। আবার যেসব সরকারি মেডিকেল কলেজে মর্গ রয়েছে, সেগুলোয়ও পরিপূর্ণ বৈজ্ঞানিকভাবে ময়নাতদন্ত হয় না আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে। তাই পর্যাপ্ত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তৈরি হচ্ছে না। একই সঙ্গে ডোমদের জন্যও নেই কোনো প্রশিক্ষণ, দেশে কাজটি চলছে বংশপরম্পরায়। আবার জেলা পর্যায়ে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ছাড়া ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণও থেকে যাচ্ছে অজানা। রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে গতানুগতিক।

যুক্তরাজ্যের দ্য রয়েল কলেজ অব প্যাথলজিস্টস বলছে, কয়েক ধরনের ময়নাতদন্ত রয়েছে। তবে মূল ময়নাতদন্ত দুই প্রকার—ফরেনসিক ও ক্লিনিক্যাল। এর মধ্যে ফরেনসিক ময়নাতদন্ত মূলত সন্দেহজনক, হিংসাত্মক বা মৃত্যুর অজানা কারণের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বা আরো ভালোভাবে কারণ বোঝার জন্য মৃতের নিকটাত্মীয়দের সম্মতির ভিত্তিতে করা হয় ক্লিনিক্যাল ময়নাতদন্ত। গবেষণার জন্য ক্লিনিক্যাল ময়নাতদন্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে দেশে শুধু ফরেনসিক ময়নাতদন্তই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেডিকো লিগ্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সূত্রে জানা যায়, যেসব স্থানের সরকারি মেডিকেল কলেজের মর্গ রয়েছে, সেসব জেলা হাসপাতালে মর্গ নেই। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানোর জন্য এসব মর্গ মূলত কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধীনে থাকে। যদিও দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে মর্গ রয়েছে মাত্র ১৮টিতে। এগুলো হলো ঢাকা মেডিকেল, চট্টগ্রাম মেডিকেল, রাজশাহী মেডিকেল, ময়মনসিংহ মেডিকেল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল, শেরেবাংলা মেডিকেল, রংপুর মেডিকেল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল, কুমিল্লা মেডিকেল, খুলনা মেডিকেল, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল, এম আব্দুর রহিম মেডিকেল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল, যশোর মেডিকেল, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল, জামালপুরে শেখ হাসিনা মেডিকেল, পাবনা মেডিকেল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ।

বৈশ্বিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল প্যাথলজি অ্যাক্রিডিটেশন অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের ময়নাতদন্ত ও মর্গবিষয়ক গাইডলাইন গ্রহণযোগ্য। ‘রিকোয়ারমেন্ট ফর দ্য ফ্যাসিলিটিস অ্যান্ড অপারেশন অব মরচুয়ারি’ শিরোনামের নির্দেশিকায় সংস্থাটি ময়নাতদন্তের জন্য চারটি বিষয় উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে প্রথম স্তরে দেহ ব্যবচ্ছেদ ছাড়া বাহ্যিক পরীক্ষা; দ্বিতীয় পর্যায়ে উচ্চঝুঁকি বা বিশেষায়িত ময়নাতদন্তের জন্য অবকাঠামো ও কর্মীদের দক্ষতাসহ ব্যবস্থা; তৃতীয় স্তরে ময়নাতদন্তের জন্য নির্ধারিত পরিকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রাংশ ও দক্ষ কর্মী; সর্বশেষ বা চতুর্থ স্তরকে তারা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ময়নাতদন্ত বলছে।

মর্গ বলতে এক বা একাধিক কক্ষের ভবন, যেখানে মৃতদেহ সংরক্ষণ, রেফ্রিজারেটেড বডি স্টোরেজ সুবিধা, স্বজনদের মৃতদেহ দেখার জন্য আলাদা ব্যবস্থা, ময়নাতদন্তের জন্য ও শেষে দেহকে প্রস্তুত করার ঘর ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিকে উল্লেখ করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া বৈজ্ঞানিক শর্ত অনুযায়ী মর্গের মেঝে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দেহ ব্যবচ্ছেদের কক্ষ, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত, মৃতদেহের স্বজনদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা, ময়নাতদন্তের পর দেহকে সত্কারের পদ্ধতি বুঝিয়ে দেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

তবে দেশের অন্তত পাঁচটি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতাল ঘুরে কোথাও এমন ব্যবস্থার দেখা মেলেনি। প্রায় বেশির ভাগ মর্গে নেই পানি, ভেন্টিলেশন, পর্যাপ্ত আলো ও ব্যবহূত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। মর্গে ভিসেরা (দেহের অন্ত্রের ভেতরের অংশ) সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। নমুনা রাখার কনটেইনার, প্রিজারভেটিভ ও রাসায়নিকেরও পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। মর্গগুলোতে নমুনা সংরক্ষণ করা হয় নিম্নমানের রাসায়নিক দিয়ে। আর অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা তো সেখানকার নিত্য ব্যাপার।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, মর্গের ভবন আধুনিক না হওয়ার কারণেই দেশে ময়নাতদন্তের এ দুরবস্থা। ফরেনসিক মেডিসিনে সুযোগ-সুবিধা না থাকলে চিকিৎসকরাও এখন আর এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে আগ্রহী হচ্ছেন না। শুধু সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অবহেলিত থাকছে। তাই ফরেনসিক মেডিসিন চিকিৎসকদের এ বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানান, অল্প সময়ের জন্য মৃতদেহ সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে তা ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের জন্য হলে দেহকে সংরক্ষণ করতে হয় মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। তবে দেশের বেশির ভাগ মর্গেই মৃতদেহ সংরক্ষণের এমন ব্যবস্থা নেই। এর মধ্যে আবার বিকাল ৫টার পর দেশের কোথাও ময়নাতদন্ত করার বিধান নেই। মূলত দিনের আলোতেই কাজটি করতে এমন বিধান করা হয়েছে। ফলে বিকালের পর মর্গে আসা মৃতদেহকে সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজার জরুরি হলেও দেশের অনেক জেলায়ই সে ব্যবস্থা নেই। ময়নাতদন্তের জন্য মাইক্রোবায়োলজি ও প্যাথলজির ল্যাবরেটরি প্রয়োজন হয়। আর রাসায়নিক বিশ্লেষণেরও প্রয়োজন পড়ে কখনো কখনো। তখন সিআইডি পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবে নমুনা পাঠানো হয়, যেটি দেশের একমাত্র রাসায়নিক বিশ্লেষণের ল্যাবরেটরি।

বান্দরবান জেলা সিভিল সার্জন ও জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. নীহার রঞ্জন নন্দী বণিক বার্তাকে বলেন, দিনের শেষে কোনো মৃতদেহ এলে তা মর্গে রেখে দেয়া হয়। পরদিন শুরুতেই সেই লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। ফ্রিজার, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।

এদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও ময়নাতদন্ত আধুনিক রূপ পেয়েছে। তবে বাংলাদেশে এখনো এ বিষয়ে কোনো আইন বা বিধিমালা করা হয়নি। ফলে গুরুত্ব পাচ্ছে না ন্যায়বিচারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ ময়নাতদন্ত। তাছাড়া সাধারণত দুদিনের মধ্যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেয়াকে গ্রহণযোগ্য ধরা হলেও দেশে তার ব্যত্যয় ঘটছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের বিধিমালা ও গাইডলাইন করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

ময়নাতদন্তের জন্য মাইক্রোবায়োলজি ও প্যাথলজির ল্যাবরেটরি প্রয়োজন হয়। আর রাসায়নিক বিশ্লেষণেরও প্রয়োজন পড়ে কখনো কখনো। তখন সিআইডি পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবে নমুনা পাঠানো হয়, যেটি দেশের একমাত্র রাসায়নিক বিশ্লেষণের ল্যাবরেটরি। এছাড়া মৃতদেহ কাটাকাটির জন্য অন্তত ২৪ ধরনের যন্ত্র প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে জটিল ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এক্স-রে ও এমআরআই মেশিনের সাহায্য লাগে। অথচ দেশে কেবল পাঁচ-সাত ধরনের যন্ত্র দিয়ে ময়নাতদন্ত করা হয়। আবার যন্ত্র দিলেও তা ব্যবহারে পারদর্শী লোকবলের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মোহাম্মদ সোয়েব নাহিয়ান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, আধুনিক যন্ত্র চালানোর লোকবল দেশে নেই। যেসব ডোম মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করেন তাদেরও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেই। তারা মূলত দেখতে দেখতে এসব শিখেছেন। তিরি আরো বলেন, ময়নাতদন্তে আমরা অন্যান্য দেশের মতো আধুনিক হতে পারিনি। তবে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের বাইরেও যেসব ডোম ময়নাতদন্তে সহায়তা করেন তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে পারলে কাজ আরো সুন্দর হতো।

ময়নাতদন্তে চিকিৎসকের সহায়তাকারী ডোম বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বংশপরম্পরায় এ পেশায় আসছেন। এদের কারোরই নেই আধুনিক প্রশিক্ষণ। বান্দরবান জেলার ডোম মো. ওসমান প্রায় ৪০ বছর ধরে এ পেশায়। আগামী দেড়-দুই বছরের মধ্যে অবসরে যাবেন তিনি। পরবর্তী সময়ে এ পেশায় উপযুক্ত করে তুলতে তার নাতিকে সঙ্গে রেখে কাজ শিখিয়েছেন।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজে ফরেনসিক মেডিসিনে ১৯ জন অধ্যাপকের বিপরীতে রয়েছেন তিনজন, আট সহযোগী অধ্যাপক রয়েছেন ১৯ জনের বিপরীতে ও ২৭ জন সহকারী অধ্যাপকের বিপরীতে রয়েছেন কেবল ১১ জন। এ বিভাগে যারা প্রভাষক রয়েছেন তাদেরও বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রেষণে নিয়ে আসা। ফলে তাদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে ধরা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা। সরকারি মেডিকেল কলেজে বেসিক সায়েন্সের এ বিভাগে ১৬৯টি পদের মধ্যে ৮৮টিই খালি রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ময়নাতদন্তের পরবর্তী সময়ে আদালতে সাক্ষী দেয়ার জন্য হাজিরা ও প্রতিবেদন তৈরিতে চাপ থাকে। আবার আইনি কারণে অনেক অবসরপ্রাপ্ত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞেরও নিয়মিতভাবে কর্মস্থল ও আদালতে হাজিরা দিতে হয়। তাই ফরেনসিক মেডিসিনে চিকিৎসকদের আগ্রহ কম। আর সে কারণে জেলা হাসপাতালগুলোতে ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ না থাকায় মেডিকেল অফিসারদের ময়নাতদন্ত করতে হয়। এতে ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ সঠিক না হওয়ার শঙ্কাও থেকে যায়। নির্ভুল ময়নাতদন্ত না হওয়ায় ছাড় পেয়ে যায় অনেক অপরাধী। একই সঙ্গে ক্লিনিক্যাল ময়নাতদন্ত না হওয়ায় পিছিয়ে থাকছে গবেষণার বিষয়ও।

মেডিকো লিগ্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. সেলিম রেজা বণিক বার্তাকে এ বিষয়ে বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হয় না। একই সঙ্গে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও উপেক্ষিত। আর ময়নতদন্তের প্রতিবেদন নিয়ে ঝুঁকির বিষয়টি তো রয়েছেই। নিয়মিতভাবে আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষী দেয়াসহ নানা কারণে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসকরা আসতে চান না। আক্ষেপ নিয়ে এ বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, বিজ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগের লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। সেখানে ফরেনসিকের গবেষণায় বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।

https://www.youtube.com/watch?v=Nt20iPE0tl0
12/12/2021

https://www.youtube.com/watch?v=Nt20iPE0tl0

Forensic Malayalam Full Length Movie ON Malayalam Cinema. Starring Tovino Thomas, Mamta Mohandas, Saiju Kurup, Renji Panicker, Dhanesh Anand, Reba Monica Jo...

জীবজন্তুর প্রতি নিষ্ঠুরতা আইন, ১৯২০-এর ৪(খ) ধারায় জীবজন্তুর প্রতি নিষ্ঠুরতাসহ হত্যার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। এখানে জীব...
17/11/2021

জীবজন্তুর প্রতি নিষ্ঠুরতা আইন, ১৯২০-এর ৪(খ) ধারায় জীবজন্তুর প্রতি নিষ্ঠুরতাসহ হত্যার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। এখানে জীবজন্তু বলতে গৃহপালিত বা আটককৃত প্রাণীকে বোঝানো হয়েছে। এই আইনে বলা আছে, ‘কোনো লোক যদি কোনো প্রাণীকে এমনভাবে বাঁধিয়া রাখে, যাহাতে প্রাণীটি কষ্ট পায় বা যন্ত্রণা ভোগ করে। এই অপরাধের জন্য এক শত টাকা জরিমানা কিংবা অনূর্ধ্ব তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হইবে।"
এই আইনের প্রয়োগের ফলে কিছুটা কমতে পারে।

নিরপরাধ ব্যক্তির কারাভোগ যুগান্তর প্রতিবেদন অপরাধী তার কৃতকর্মের জন্য জেল খাটবে, সাজা ভোগ করবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যখ...
18/04/2021

নিরপরাধ ব্যক্তির কারাভোগ

যুগান্তর প্রতিবেদন

অপরাধী তার কৃতকর্মের জন্য জেল খাটবে, সাজা ভোগ করবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন নিরপরাধ ব্যক্তি কারাভোগ করেন, তখন সেটাকে কী বলা যায়? তেমনটাই ঘটে চলেছে দেশে। আসামির নামের সঙ্গে মিল থাকায় অথবা ভুয়া পরোয়ানায় নিরপরাধ ব্যক্তির কারাভোগের ঘটনা হরহামেশাই ঘটে চলেছে।

বিনা দোষে দীর্ঘ সময় কারান্তরালে থাকার পর এক পর্যায়ে তা কর্তৃপক্ষের নজরে এলে আদালত এসব নিরপরাধ ব্যক্তির তাৎক্ষণিক মুক্তির ব্যবস্থা করে থাকেন। তবে শেষ পর্যন্ত নিরপরাধ ব্যক্তিটি মুক্তি পেলেও যাদের কারণে তার কারাভোগের ঘটনা ঘটেছে, তাদের অর্থাৎ পুলিশ সদস্যদের এ বিষয়ে কোনো জবাবদিহিতা থাকছে না। এই অপরাধের জন্য তাদের কেউ শাস্তি পেয়েছেন, এমন নজির নেই।

বস্তুত পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা বা জবাবদিহিতার অভাবে দুষ্টচক্র তাদের প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে এসব কাণ্ড ঘটিয়ে থাকে। এই দুষ্টচক্রে রয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, পুলিশের সদস্য ও আদালতের কর্মচারীরা। দুষ্টচক্রের এই অপকর্ম কীভাবে বন্ধ করা যায় তা এক প্রশ্ন বটে। সবচেয়ে বড় কথা, আইনের শাসন রয়েছে যেসব দেশে, সেসব দেশে এ ধরনের ভুক্তভোগীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিরাট অঙ্কের ক্ষতিপূরণের মামলা করে থাকলেও আমাদের দেশে তেমনটা দেখা যায় না। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মহল ও আইনজীবীদের মধ্যে সচেতনতা নেই বললেই চলে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেছেন, যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেন কিংবা গ্রেফতারি পরোয়ানা নকলের বিষয়টি জেনেও তা তামিল করেন, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

একইসঙ্গে ভুক্তভোগীরাও প্রচলিত আইনে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তার এ কথার প্রতিফলন দেখা যায় না। এমনকি গত বছরের ১৪ অক্টোবর হয়রানি কমাতে ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা রোধে হাইকোর্ট সাত দফা নির্দেশনা জারি করলেও তা উপেক্ষিত হচ্ছে। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রস্তুতকারী ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৭৫-এর বিধানমতে নির্ধারিত ফরমে সঠিক ও সুস্পষ্টভাবে তথ্য পূরণ করতে হবে। হাইকোর্টের এই নির্দেশনা মানা হলে নিরপরাধ ব্যক্তির কারাভোগের ঘটনা কমে আসবে সন্দেহ নেই। আমরা চাইব, শুধু এই নির্দেশনাটিই নয়, হাইকোর্টের সাত নির্দেশনার প্রতিটিই যথাযথভাবে প্রতিপালিত হবে। তবেই নিরপরাধ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে।

বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের দায় কার? নানাভাবে পুলিশের কর্তৃত্ব বাড়ানো হচ্ছে কেন ?চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপে...
18/04/2021

বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের দায় কার? নানাভাবে পুলিশের কর্তৃত্ব বাড়ানো হচ্ছে কেন ?

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত এক শ্রমিককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। সংঘর্ষের এ ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচ শ্রমিক নিহত হন।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা কেন ঘটল, কেন শ্রমিকরা উত্তেজিত হলো, কেন পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিককে হত্যা করল- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া দরকার। কোনো কোনো মহল থেকে বলা হচ্ছে, এই ঘটনায় বাইরের উস্কানি ছিল। শ্রমিক নিয়োগের ঠিকাদারি না পাওয়া স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ঘোঁট পাকানোর কথাও শোনা যাচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে যাই থাক, তাই বলে প্রতিবাদী শ্রমিকদের গুলি করে মেরে ফেলা হবে? তাদেরকে রক্তাক্ত করা হবে?

গণমাধ্যমের খবর মতে, ওই কারখানাটিতে কয়েকদিন ধরেই শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। শ্রমিকরা মালিক পক্ষের কাছে ১০ দফা দাবিও উত্থাপন করে। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে ছিল মাসের শুরুতে অর্থাৎ ৫–১০ তারিখের মধ্যে বেতন, রোজার মাসে বিকেল ৫টার মধ্যে ছুটি এবং ইফতারের জন্য বরাদ্দ, যখন তখন ছাঁটাই বন্ধ, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করা ইত্যাদি। এসব দাবির কোনোটাই অন্যায্য কিংবা বাস্তবায়ন না করার মতো নয়। তবু কেন মালিকপক্ষ দাবি বাস্তবায়নে গরিমসি করছিল? মালিকপক্ষের উদাসীনতা, লাভ ও লোভের কাছে শ্রমিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে, তারা যৌক্তিক দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুললে তাদের গুলি করে হত্যা করা হবে, এ কোন তন্ত্র? শ্রমিকের জীবনের কি তবে কোনও মূল্য নেই?

যে কারখানায় পাঁচ হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করে সেখানে অসন্তোষ থাকবে, ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকবে, উস্কানি থাকবে, দলাদলি থাকবে, নাশকতার চেষ্টা হবে- এর কোনও কিছুই অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এসব ঝুঁকি ম্যানেজ করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ যেকোনো কারখানা ব্যবস্থাপনার একেবারে প্রাথমিক শর্ত। সেখানে কেন এমন রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটল? ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ক্ষোভ প্রশমনে কর্তৃপক্ষ কী উদ্যোগ নিয়েছে? এ হত্যাকাণ্ডের দায় তাই কারখানা কর্তৃপক্ষকেও নিতে হবে। টাকার জোরে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মজুরের রক্ত ঝরানোর খেলা তাদের অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্রে বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে শ্রমিকরা দাবি জানিয়ে আসলেও মালিকপক্ষ বরাবর এড়িয়ে গেছে এবং তাদের উপর নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। শনিবার ন্যায্য বেতন–বোনাসের দাবিতে আন্দোলনের এক পর্যায়ে মালিকপক্ষ তাদের উপর চড়াও হয়। পরে মালিকের নির্দেশে পুলিশ এসে শ্রমিকদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়।

প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের এ আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়ে। পুলিশ কেন এমন মারমুখী ভূমিকা পালন করল? এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের প্রথমে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করার কথা। তাতে কাজ না হলে রাবার বুলেট ছোঁড়ার কথা। সব ব্যর্থ হলে, নিজেদের প্রাণ নিয়ে সংশয় দেখা দিলে তাহলেই কেবল গুলি চালানোর কথা। সেটাও টার্গেট করে নয়, ফাঁকা গুলি যাকে বলে। নিতান্তই অনিবার্য হয়ে উঠলে তাহলে তারা পায়ে গুলি চালাতে পারেন। কিন্তু বুক কিংবা কপাল বরাবর গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতি আদৌ হয়েছিল কি? যদি তেমনটা না হয়ে থাকে তাহলে কেন টার্গেট করে গুলি চালানো হলো?

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে এলাকার জনমত শুরু থেকেই বিভক্ত হয়ে পড়ায় আগেও কয়েকবার সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কারখানা স্থাপনকারী এস আলম গ্রুপ কিংবা সরকার, কোনও পক্ষ থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলে ওই এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, এ অভিযোগে ২০১৬ সালেও গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা এলাকায় এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ৪ জন নিহত ও বহুসংখ্যক গ্রামবাসী আহত হয়, যার গ্রহণযোগ্য কোন নির্মোহ তদন্ত ও বিচার এখন পর্যন্ত হয়নি। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের ন্যস্ত দায়িত্ব পালন না করে উল্টা পুলিশ বাহিনী কর্তৃক এমন নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও মানুষ হত্যার ঘটনা একটি সভ্য দেশে অচিন্তনীয়। কিন্তু আমাদের দেশে সেটাই বার বার ঘটছে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতেও সেখানে মতবিনিময়সভা চলাকালে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতেই কেন বার বার সংঘর্ষ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে? এ ব্যাপারে কেন যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না? বার বার নিরস্ত্র শ্রমিকের রক্তে মাটি ভিজে যাবে, আর সেই মাটির উপর দিয়ে সদর্পে রক্ষীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হেঁটে যাবে মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষায়, তা হতে পারে না। অসন্তোষ ও বিক্ষোভ দমনের নামে পুলিশি সন্ত্রাসের অবসান হওয়া উচিত। পুলিশের ভূমিকা পরিবর্তন হওয়া উচিত। আত্মরক্ষার নামে তারা যখন খুশি, যাকে খুশি গুলি করে হত্যা করতে পারে না।

আমাদের দেশের পুলিশকে অনেক ক্ষেত্রে এত বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে, তারা প্রায়ই এ ক্ষমতার অপব্যবহার করে। ধরে আনতে বললে বেঁধে তো আনেই, সঙ্গে চলে লাঠিপেটা। অথচ এসবের কোনো কিছুই আইনসিদ্ধ নয়। পুলিশের কাজ অপরাধ দমন করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। কাজটি মোটেও ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা কিংবা গুলি করে খুলি উড়িয়ে কবরে পাঠিয়ে দেয়া নয়। এ জন্য প্রয়োজন কঠোর ধৈর্য ও সংযম। কোনো অবস্থাতেই পুলিশ দস্যুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে না।

মনে রাখতে হবে আইনবিরুদ্ধ উপায়ে আইন–শৃঙ্খলা ফিরতে পারে না। উপায়টা যদি আইন মোতাবেকও হয়, কিন্তু এমন আইন যা সাধারণ ন্যায়বিচারের বিপ্রতীপ, তবেও নয়। আমাদের দেশে এখনও অনেক ক্ষেত্রে মানুষ অপরাধীদের চেয়ে পুলিশকে বেশি ভয় পায়। এর কারণ জবাবদিহি না থাকা আর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা। এটা মানবধর্ম: কারও হাতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা তুলে দিলে কর্তব্যের আতিশয্যেই হোক আর হাতের সুখ মেটাতেই হোক, বাড়াবাড়ি সে করবেই— পাইকারী স্বৈরাচারের অস্ত্র হবে খুচরো স্বৈরাচার। এখানে হচ্ছেও তাই।

আমাদের দেশে নানাভাবে পুলিশের কর্তৃত্ব বাড়ানো হচ্ছে। নতুন আইন বা হুকুমনামা জারি করে, পাশাপাশি সাবেক আইনে নতুন শান দিয়ে। রাজনৈতিক নজরদারির পাশাপাশি অজস্র সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিষয় আইনের আওতায় চলে এসেছে। আইনগুলোকে শিখণ্ডী করে দানা বাঁধছে অজস্র বেআইনি অনাচার উৎপীড়ন। আর এসবকে কেন্দ্র করে পুলিশের সামরিক মহড়া বাড়ছে। তাদের খবরদারি দেখে নিজেদের নাবালকত্বে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাচ্ছে আমাদের। ফণিমনসার মত গজিয়ে উঠেছে তারা শাসক বনাম নাগরিকের মাঝখানে। হ্যাঁ, তারা মানুষ মারতে পারে, মেরে পার পেয়ে যায়, কারণ গুলি তো নাকি সর্বদাই চলে ‘আত্মরক্ষার্থে’!

প্রশ্ন হলো, এভাবে আর কতদিন চলবে?

চিররঞ্জন সরকার
১৮ এপ্রিল, ২০২১

মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করতে হবে পিএইচপির তৃতীয় প্রজন্মকেসম্ভাবনার নতুন দুয়ার খোলার প্রত্যয় নিয়ে দেশসেরা শিল্প গ্রুপ পি...
12/04/2021

মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করতে হবে পিএইচপির তৃতীয় প্রজন্মকে

সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খোলার প্রত্যয় নিয়ে দেশসেরা শিল্প গ্রুপ পিএইচপি ফ্যামেলিতে যুক্ত হয়েছেন পিএইচপি ফ্যামেলির থার্ড জেনারেশন (তৃতীয় প্রজন্ম)। পিএইচপি ফ্যামেলির প্রতিষ্ঠাতা সুফি মিজানুর রহমানের বড় ছেলে পিএইচপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিনের বড় ছেলে মহসিন ভিক্টরের হাত ধরে পিএইচপি ফ্যামেলিতে যাত্রা শুরু হয়েছে এ প্রজন্মের।
৭ এপ্রিল বুধবার, সকালে পিএইচপিতে মহসিন ভিক্টরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সুফি মিজানের (৬ষ্ঠ) ছেলে পিএইচপির পরিচালক জহিরুল ইসলাম রিংকু।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পিএইচপি ফ্যামেলির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন এই প্রতিবেদককে বলেন, আপাতত সেক্রেটারিয়াল পদে ভিক্টর পিএইচপিতে যোগদান করেছেন। পিএইপিতে কর্মরত একজন সেক্রেটারি যে বেতন পায় সেও তা পাবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে মাঠ পযার্য় থেকে শুরু করে পিএইচপির প্রত্যেকটা বিভাগে কাজ করবে এবং কাজ শিখবে। তিনি বলেন, তৃতীয় প্রজন্মের প্রত্যেক সদস্য পারিবারিকভাবে পিএইচপির পরিচালক হলেও দায়িত্ব গ্রহণের আগে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।
মাঠ পযার্য় থেকে কাজ করার এমন সিদ্ধান্ত কেন জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, সুফি মিজানুর রহমান অনেক কষ্ট করে পিএইচপি গড়ে তুলেছেন। আমরা ভাইয়েরা কেউ চায় না কোনো ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বাবার গড়া পিএইচপির ভিত ভেঙ্গে পড়ুক। তাই এই সাবধানতা। যোগ করেন মোহাম্মদ মহসিন।
সুফি মিজানের ৭ ছেলের ২৩জন উত্তরসূরি রয়েছেন পিএইচপি ফ্যামেলির। ভবিষ্যতে এরাই হাল ধরবেন। যুক্ত হবে পিএইচপির সাথে। কিন্তু পড়ালেখা শেষে পিএইচপির সাথে যুক্ত হওয়ার আগে রুট লেভেলে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে সবাইকে। এমন সিদ্ধান্ত সুফি মিজানের সাত ছেলের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পড়ালেখা শেষ হওয়ার পর মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করতে হবে পিএইচপির তৃতীয় প্রজন্মকে। এর পর ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন, মার্কেটিং, ফাইন্যান্সসহ সাধারণ একজন কর্মচারীর কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে এ প্রজন্মের প্রত্যেক সদস্যকে।
পিএইচপি সূত্রে জানা যায়, মহসিন ভিক্টরের জন্ম ১৯৯৮ সালের ৩ মার্চ। ২০১৪ সালে তার্কিস হোপ স্কুল থেকে ও লেভেল সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল (সিজিএস) থেকে এ লেভেল সম্পন্ন করেন। পরে লন্ডনের ডেভিড গেম কলেজ থেকে ২০১৭ সালে ফাউন্ডেশন কোর্স শেষ করে ২০২০ সালে গোল্ড স্মিথস ইউনিভার্সিটি থেকে মার্কেটিংয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। চলতি বছর ১ এপ্রিল দেশে ফিরে ৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সেক্রেটারি পদে পিএইচপিতে যোগ দেন সুফি মিজানের বড় নাতি।
এই বিষয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে মহসিন ভিক্টর বলেন, দাদু (সুফি মিজান) আমাদের বলতেন, তোমরা কাঁদামাটিতে লুকানো হিরা। সেই হিরাকে ঘষে-মেজে সাফ ও তৈরি করতে হবে। নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করার জন্য পিএইচপিতে মাঠ পর্যায়ে যোগ দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, তৃতীয় প্রজন্মের কোনো ভুলের কারণে পিএইচপির কোনো ক্ষতি হোক আমরা চাই না। আমরা চাই আমাদের হাত ধরেই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলবে পিএইচপিতে।

জালালউদ্দিন সাগর | ctgnews

Think Environmental Victimology জলবায়ু আইন ও পরিবেশ ভিকটিম বাংলাদেশ বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘে তথ্...
25/11/2020

Think Environmental Victimology
জলবায়ু আইন ও পরিবেশ ভিকটিম বাংলাদেশ
বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘে তথ্যচিত্র
বিশেষ প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের উপকূলবর্তী যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি হুমকির সম্মুখীন, বাংলাদেশ তার একটি। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা যে হারে বাড়ছে তা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী ১০০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হবে এবং প্রায় তিন কোটি মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
ব্রিটিশ চলচ্চিত্রকার ও পরিবেশবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল প্রাইস পরিচালিত তথ্যচিত্র থার্টি মিলিয়ন-এর মূল বিষয় বাংলাদেশের ওপর জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থানুকূল্যে প্রস্তুত ৩৫ মিনিটের এই তথ্যচিত্রটি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রদর্শিত হলো সোমবার। এই উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্রকার প্রাইস ছাড়াও জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
ড্যানিয়েল প্রাইস এই তথ্যচিত্র নির্মাণকে একটি দীর্ঘ পথপরিক্রমার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ছাত্রাবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে অধ্যয়নের সময় তিনি বাংলাদেশ ও অন্য উপকূলীয় দেশগুলোর সমস্যার সঙ্গে পরিচিত হন। কিন্তু বাংলাদেশে যাওয়ার আগে পর্যন্ত এই সংকটের মানবিক দিকটি তিনি সম্যক বুঝে উঠতে পারেননি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রায় তিন কোটি মানুষ তাদের আবাসন হারাতে পারে, হারাতে পারে তাদের আজন্মের পরিচিত গ্রাম ও অসংখ্য স্মৃতি। অথচ এই দরিদ্র ও নিরীহ মানুষগুলো নিজেরা কোনোভাবেই জলবায়ু-সংকট সৃষ্টির জন্য দায়ী নয়।
তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের আগে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে, তার মোকাবিলায় বাংলাদেশ কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন। তিনি বলেন, একা বাংলাদেশের পক্ষে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। তিনি আশা প্রকাশ করেন থার্টি মিলিয়ন তথ্যচিত্রটির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন কী সংকটের সৃষ্টি করতে পারে, সে বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সচেতনতা বাড়বে।
তথ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হওয়ার পর আলোচনায় যাঁরা অংশ নেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইউএনডিপির সহকারী মহাসচিব হাওলিয়াংখু, বাংলাদেশি আইনজীবী মণিকা জাহান বোস ও জাতিসংঘের অন্যতম পরিবেশ বিশেষজ্ঞ রলেস্টোন মোর।
প্রদর্শনী শেষে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপচারিতায় চলচ্চিত্রকার প্রাইস এই তথ্যচিত্র নির্মাণে বাংলাদেশে তাঁর তিন সপ্তাহ কাটানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ তিনি ভ্রমণ করেছেন। সাইকেলে চড়ে উত্তর মেরু থেকে প্যারিস পর্যন্ত গেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলায় যে সাহস তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন, অন্য কোথাও তা তাঁর চোখে পড়েনি। তিনি নিজের চোখে নদীর ভাঙন প্রত্যক্ষ করেছেন, সে ভাঙন সত্ত্বেও মানুষ কী বিপুল আশায় নতুন করে বসত গড়ে, তাও দেখেছেন। তিনি জলবায়ু-সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর উদ্যোগের প্রশংসা করেন। ধনী যেসব দেশ বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য মূলত দায়ী, তিনি আশা করেন সেসব দেশ বাংলাদেশ ও অন্যান্য উপকূলীয় দেশের পাশে এসে দাঁড়াবে।
থার্টি মিলিয়ন তথ্যচিত্রটি এখন ইন্টারনেটে www. thirtymillionfilm. org এই ঠিকানায় দেখা যাচ্ছে।

Address

Daffodil Tower, Sobhanbag, Dhanmondi
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangladesh Forensic & Victimology Research Institute posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share