11/03/2024
লিংক কমেন্টে।
..' ‘মানবিক’- ‘ঐতিহাসিক’ দিক, ঘটনা, ও মাত্রাগুলি বর্জিত হয় না ‘কোরান’-এর সাথে মানুষের সম্পর্কগুলিও। নানাকিছু নানামাত্রায় যুক্ত-বিযুক্ত । শুধু গ্রন্থ, টেক্সট বা কিতাব বা ‘কোরান’ হিসেবে ‘কোরান’ নয়, ‘কোরান’ বিষয়ক, কোরান সম্পর্কিত সকল শাস্ত্র, তাফসীর শাস্ত্র যার মধ্যে পড়ে- সেসবও ওইসব মাত্রাযুক্ত/বিযুক্ত হবার পরিসরের মধ্যকার ব্যাপার।
যেমন সেকালের ‘আরব’ ও ঐসব অঞ্চলের, সন্নিহিত/সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রতিবেশগত, অর্থনৈতিক-ভৌগলিক-‘সাংস্কৃতিক’- ‘ধর্মীয়’- রাজনৈতিক-জ্ঞানতাত্ত্বিক ইতিহাস বিষয়ে আমাদের যা কিছু বোঝাপড়া, তা সব ভূমিকা রাখছে, রেখে যাচ্ছে ‘ধর্মীয়’, ‘আধ্যাত্মিক ’ , ‘রহস্যময়’, ‘বিজ্ঞানময়’, ‘ঐশী’, ‘খোদায়ী’ গ্রন্থ/কিতাব ‘কোরান’ -এর ‘মানবিক’ বোঝাপড়া নির্মাণে, এই কিতাব বা গ্রন্থের সাথে সম্পর্ক নির্মাণ, এই গ্রন্থ বা কিতাবের ভুমিকা নির্ধারণেও।
‘কোরান’/কিতাব’ ট্র্যাডিশন বিকাশ-রূপান্তর, কিতাব প্রক্রিয়া (সমাজে একটা টেক্সট কীভাবে হাজির হয়, হাজির ও ক্রিয়াশীল থাকে, ‘কিতাব’ মর্যাদা পায়, ‘অথোরিটি’ হিসেবে থাকে- ইত্যাদি), সামাজিক স্মৃতিপ্রক্রিয়া, ভাষাপ্রক্রিয়া, সমাজচৈতন্য, জ্ঞানকাঠামো, জগতের জ্ঞান-জ্ঞানের জগতের নিবিড় রূপান্তর প্রক্রিয়া, সমাজ-ইতিহাসের সামগ্রিক সম্পর্ক, নেগোশিয়েশন ও রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের জানাশোনা প্রতিনিয়ত ‘কোরান’ ও ‘তাফসীর’ শাস্ত্রকেও রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এসবের একটা প্রভাব/অভিঘাত/সম্পর্ক চলে ‘ধর্ম’, ‘আধ্যাত্মিকতা’ ‘দ্বীন’, ‘রিলিজিয়ন’ এবং ‘ইসলাম’, ‘মুসলিম’, ‘ইসলামিকেট’ সম্পর্কিত আমাদের বোঝাপড়া, চর্চা, জ্ঞান-প্রতিষ্ঠান, রীতি-নীতি ইত্যাদির নির্মাণ ও রূপান্তরের সাথেও .. . ।
অন্তত এই কয়েকটা দিক ইনসাফের সাথে খেয়াল রাখলে আমরা এই কালে, এই ঔপনিবেশিক-আধুনিকতা, বর্ণবাদ, জাতি-পরিচয়-পুজিবাদ, পুরুষতন্ত্রের কালে ‘কোরান’, ‘তাফসীর’ এবং এ দুই সংক্রান্ত শাস্ত্র ও চর্চা থেকে আমাদের সমাজ, দেশ, অঞ্চল ও দুনিয়ার জন্যে ইনসাফ, কল্যাণ ও মঙ্গলদায়ী প্রজ্ঞারসদ(?) সংগ্রহ ও প্রয়োগ করতে পারবো। শ্রদ্ধাপূর্ণ দ্বিমত চর্চাতেও সমাজের জন্যে রহমত থাকে, থাকতে পারে।'