Umme Islamic Media

Umme Islamic Media

Share

I have a youtube channel on my page and youtube channel invitation. Please stay by my side to spread the light of Islam.

May Allah Subhanahu wa Ta'ala accept us all in the path of faith.

08/04/2023

"নামায কেনো পড়তেই হবে?"
"ওযুর জন্য পানি নেই, তায়াম্মুম করেন, তায়াম্মুমের ব্যবস্থা নেই, তায়াম্মুম ছাড়াই নামায পড়ুন।
কিবলামুখী হয়ে নামায পড়তে হয়, কিবলামুখী বুঝতে পারছেন না, যেকোনো দিক হয়েই নামায পড়ুন।
দাঁড়িয়ে নামায পড়তে পারছেন না? বসে পড়েন। বসে না পড়তে পারলে শুয়ে পড়েন।
পরিষ্কার কাপড় পড়ে নামায পড়তে হয়। পরিষ্কার কাপড় না থাকলে প্রসাব, পায়খানা লাগা কাপড় পড়েই নামায পড়েন, কোনো কাপড় না থাকলে উলংগ হয়ে নামায পড়েন।
ট্রেনের প্রচন্ড ভিরে ঝুলে আছেন, আযান দিচ্ছে সেই অবস্থাতেই নামায পড়ুন ।
নামায কি জিনিস, কি করে বুঝাই, এক আশ্চর্য ইবাদত যে ইবাদত কোনো অসুবিধা মানেনা।
আপনি অসুস্থ টাকা দিলেন সেই টাকায় হজ্জ করলো অন্যজন। আপনার সাওয়াব হবে।
আপনি অসুস্থ, ফকির কে খাওয়ালেন আপনি রোযার সাওয়াব পাবেন....
হজ্জের বিকল্প আছে, রোযার বিকল্প আছে। নামায এমন এক ইবাদত যার কোনো বিকল্প নেই।
নামায কি জিনিস কি করে বুঝাই?????"
আমার ভাই বোনেরা," নামায পড়ুন"
আপনার জীবনে যাই আসুক, "নামায পড়ুন।"
আপনার জীবনে যতোই খারাপ কাজ করেন না কেন, পরিমাণে যতই বেশি হোক না কেন, "নামায পড়ুন"।
কোন ছাড় নেই।
বোন বলছেন, "আপনি হিজাব পরেন না",
আমি আপনাকে বলছি "নামায পড়ুন"
বোন বলছেন, আমার কাপড় নামাযের উপযোগী নয়।আমি আপনাকে বলছি,"নামায পড়ুন"
ভাই বলছেন, "আমি মদ পান করি"
নামায পড়ুন
"আমি ড্রাগ বিক্রি করি"
নামায পড়ুন
"আমি ড্রাগ সেবন করি"
"নামায পড়ুন"
"আমার একটি মেয়ে বন্ধু আছে এবং আমি তার সাথে রাত্রি যাপন করি। "
"নামায পড়ুন"।
আপনার জীবনে যাই আসুক না কেনো নামায পড়ুন
"ভাই আমি কিভাবে পাপ কাজ করার পাশাপাশি নামায পড়বো? এটি নামাযের প্রতি অসম্মান জনক ও আমার ভন্ডতা প্রকাশ পায়"
আমি বলছিনা এজন্যই আমরা নামায পড়ি কারণ আমরা ভালো না, আমি পাপী, আমরা ভুল করছি।
আপনি তবুও নামায পড়ুন।
আল্লাহ বলেছেন, "নামায অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।"
"নামায পড়ুন"
কিছু মানুষ বলে আমাকে ভালোপথে আসতে দাও। ইন শা আল্লাহ আমি নামায পড়া শুরু করে দিবো।
বন্ধুরা নামায ব্যতীত আপনি ভালো পথে আসতে পারবেন না। এজন্যই আমরা নামায পড়ি যাতে ভালোপথে আসতে পারি।
আপনার জীবনে যাই আসুক না কেন, আপনি যেখানেই থাকেন না কেন, নামাজ পড়ুন।
* সংগৃহিত
----------------------------
*** নামাজ : কোনো বিকল্প নেই

08/03/2023

তাওবা ছাড়া যে পাপ করে মারা গেলে,
আখেরাত ধ্বংস ।

(১) শিরক করা
(২) কবরে বা মাযারে সিজদা করা
(৩) বিদ‘আত করা
(৪) গণক ও জ্যোতিষীর কথা বিশ্বাস করা
(৫) আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ ও মানত করা
(৬) পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া
(৭) তাক্বদীরকে অবিশ্বাস করা
(৮) অলসতাবশতঃ ছালাত ও যাকাত পরিত্যাগ করা
(৯) অকারণে রামাযানে ছিয়াম পালন না করা
(১০) সামর্থ্যবান ব্যক্তির হজ্জ না করা
(১১) যুলুম করা (১২) হত্যা করা
(১৩) আত্মহত্যা করা
(১৪) চুরি করা
(১৫) ডাকাতি করা
(১৬) জাদু করা
(১৭) ইয়াতীমের মাল আত্মসাৎ করা
(১৮) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া
(১৯) ওযনে কম দেওয়া
(২০) হারাম খাওয়া
(২১) খিয়ানত করা
(২২) হালালা করা
(২৩) বেপর্দা চলা
(২৪) যেনা করা (
২৫) যেনার অপবাদ দেয়া
(২৬) সমকামিতা করা
(২৭) স্ত্রীর পশ্চাতদেশে সঙ্গম করা
(২৮) মাসিক অবস্থায় সহবাস করা
(২৯) মহিলা পুরুষের বেশ ধারণ করা ও পুরুষ মহিলার বেশ ধারণ করা (৩০) পুরুষের রেশমী কাপড় ও স্বর্ণালংকার পরা
(৩১) মদ্য পান করা
(৩২) জুয়া খেলা
(৩৩) সূদ গ্রহণ, প্রদান এবং তা লেখা ও তার জন্য সাক্ষী হওয়া
(৩৪) ঘুষ গ্রহণ ও প্রদান করা
(৩৫) মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা কসম খাওয়া
(৩৬) অঙ্গীকার ভঙ্গ করা
(৩৭) অহংকার করা
(৩৮) পুরুষের কাপড় পায়ের গিটের নিচে ঝুলিয়ে পরিধান করা
(৩৯) আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা
(৪০) যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা
(৪১) রিয়া বা লোক দেখানো আমল করা
(৪২) গীবত করা
(৪৩) তোহমত বা অপবাদ দেওয়া
(৪৪) অভিশাপ দেয়া
(৪৫) দুনিয়ার উদ্দেশ্যে দ্বীন শিক্ষা করা
(৪৬) দুনিয়ার লোভে দ্বীন বিক্রি করা
(৪৭) বিপদাপদে বা কারো মৃত্যুতে মাথায় ও বুকে আঘাত করা ও চিৎকার করে কান্নাকাটি করা
(৪৮) পেশাব থেকে পরিচ্ছন্ন না থাকা

10/02/2023

ক্ষণিকের জন্য ধরেই নিলাম শ্বেতাঙ্গ অর্থাৎ সাদা মানেই সুন্দর৷ তবে আমার একটি প্রশ্ন সাদা মানেই যদি সুন্দর হয় তবে কা'বা কেনো "কালো" গিলাফে আবৃত?

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা সূরা আত-ত্বীনে চার নং আয়াতে বলেই দিয়েছেন "আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম আকৃতিতে" অর্থাৎ "মানুষ"৷ আমি আবার বলছি আল্লাহ এখানে বলেছেন মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দর তম আকৃতিতে৷ একবারও বলেননি কালো মানুষ নাকি সাদা৷ আল্লাহ কী চাইলে বলতে পারতেন না " আমি সাদা মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম আকৃতিতে" অতএব মানুষ মানেই সুন্দর, রবের কাছে সুন্দর৷ আপনি কালো হোন অথবা সাদা হোন আপনি মানুষ আপনি সুন্দর৷

সূরা ফুরক্বানের চুয়াত্তর নং আয়াতে আল্লাহ বলেন "আর যারা বলে, হে আমার রব আমাদের চক্ষুশীতলকারী স্ত্রী দান করুন...." আল্লাহ কী চাইলে বলতে পারতে না "আর যারা বলে, হে আমার রব আমাদের "সাদা" স্ত্রী দান করুন৷ আল্লাহ বলেছেন "চক্ষুশীতলকারী" অর্থাৎ চক্ষুশীতলকারী যে কেউ হতে পারে চাই সে সাদা হউক কিবা কালো৷ মানুষ যেমন স্ত্রী চায় তেমন স্ত্রীকেই চক্ষুশীতলকারী বলে৷ মুসলিমদের জন্য "দীনদার, পরহেজগার, বাধ্যগত"

অনেকেই নিজেকে ব্লেইম দেয়, কিন্তু নিজে নিজেকে ব্লেইম দেয়ার অধীকার কি নিজের আছে? এ শরীর কি আপনার? এটাতো স্রষ্টার পক্ষ থেকে আপনার কাছে আমানত সরূপ৷ নিজেকে ব্লেইম দেয়ার মনোভাব তৈরি হয় তখনই যখন মানুষ আখিরাত বিমুখ হিয়ে দুনিয়ামূখি হয়ে যায়৷ রবের ভালোবাসা না চেয়ে অমুক,তমুকের ভালোবাসা চায়৷ এই অমুক,তমুকের মানসিকতার মতোই সে নিজেকে সাজাতে চায়, অথচ রবের ভালোবাসা পেতে চায়না৷

সাদা মানেই যদি সুন্দর হতো তবে আল্লাহ কালো আঁধারে প্রথম আসমানে নামতেন না, নামতেন শুভ্র সাদা সকালে৷ তার মানে আমি প্রমাণ করতে চাচ্ছি না যে কালো মানেই সুন্দর আর সাদা মানে অসুন্দর, আমি বোঝাতে চাচ্ছি, "কালোর ওপর সাদা, সাদার ওপর কালোর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই" [বিদায় হজ্জের ভাষণ]

05/02/2023

যে ১০ টি আমল যে কোন বালা মুসিবত ও বিপদ থেকে অবশ্যই মুক্তি দিবেঃ

তাওবাহঃ

কুরআনে আছে , যে কোন বিপদ গুনাহের কারণে হয়ে থাকে।
"মানুষের কৃতকর্মের কারণে জলে স্থলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে যাতে তিনি তাদেরকে তাদের কোন কোন কাজের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা (অসৎ পথ হতে) ফিরে আসে।" - [ সূরা রুম - ৪১ ]
গুনাহ থেকে তাওবাহ মানুষ কে বিপদ থেকে মুক্তি দান করে।

তাকওয়াঃ

‘যে কেউ আল্লাহতায়ালার ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বন করবে, আল্লাহ তার জন্য সঙ্কট থেকে উত্তোরণের কোনো পথ তৈরি করে দেবেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিজিক দেবেন যা তার ধারণারও বাইরে।’ –সূরা তালাক: ২

তাওয়াক্কুলঃ

‘‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তিনিই তার জন্যে যথেষ্ট।’’ [সূরা আত-তালাক, আয়াত: ৩]

সবর ও সলাতঃ

আল্লাহ্‌ তা'আলা ই কুরআনে বলেছেন, সবর ও সলাতের মাধ্যমে সাহায্য চাইতে।
'হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সহিত আছেন। ' (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৩)।

দুয়াঃ

যে কোন বিপদাপদ কাটিয়ে আল্লাহর কাছে দুয়া করা অত্যন্ত কার্যকর। হাদিসে আছে,
সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু'আ ব্যতীত অন্য কোন কিছুই ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে না এবং সৎকাজ ব্যতীত অন্য কোন কিছুই হায়াত বাড়াতে পারে না।
তিরমিযী ২১৩৯, হাদীস সম্ভার ৩৬৪৪ সহীহুল জামে’ ৭৬৮৭) সহিহাহ ১৫৪ ইবনে মাজাহ ৯০-৪০২২ আহমাদ ২১৮৮১, ২১৯০৭, ২১৯৩২

ইস্তিগফারঃ

‘যে ব্যক্তি নিজের জন্য ‘ইস্তিগফার’ (ক্ষমা প্রার্থনা) আবশ্যক করে নেবে, আল্লাহ তাকে সব দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবেন, সব সংকীর্ণতা থেকে উদ্ধার করবেন এবং তাকে এমনভাবে জীবিকার ব্যবস্থা করবেন যা তার চিন্তার বাইরে। ’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৩৮১৯)

দরুদঃ

একজন সাহাবি রাসূলকে বলেছিলেন, তিনি তাঁর উপর সর্বদা দরুদ পাঠ করবেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন, ‘‘যদি তুমি তাই করো, তবে তোমার সকল চিন্তা ও উৎকণ্ঠা দূর করা হবে (প্রয়োজন পূরণ হবে) এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে।’’
[তিরমিযি: ২৪৫৭, হাকিম: ২/৪৫৭, হাদিসটি সহিহ]

দুয়া ইউনুসঃ

সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নবী যুন-নূন ইউনুস (আঃ) মাছের পেটে থাকাকালে যে দু’আ করেছিলেন তা হলঃ “ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ- (সূরা আম্বিয়া ৮৭)।
যে কোন মুসলিম লোক কোন বিষয়ে কখনো এ দু’আ করলে অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তার দু’আ কবুল করেন। [ তিরমিজি ৩৫০৫ ]

সদাকাহঃ

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সদাকাহ আল্লাহ তা'আলার অসন্তুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং অপমানজনক মৃত্যু রোধ করে।
(তিরমিজি ৬৬৪)

05/02/2023

আপনার চাকুরি দরকার? ব্যবসার মূলধন নেই?
রিযিকের ব্যাপারে পেরেশানিতে ভুগছেন? বিপদ-আপদ,দুঃখ-দুঃচিন্তা থেকে মুক্তি চাচ্ছেন?বিয়ে হচ্ছেনা?সন্তান দরকার? পার্থিব জীবনে সমৃদ্ধি দরকার? ফসল-ফলাদির ভালো ফলন দরকার?

আপনার সব কিছুর সমাধান একটা আমলের মধ্যে রয়েছে,তা হচ্ছে- ইস্তিগফারের আমল। ইস্তিগফারকে নিজের জীবনে আবশ্যক করে নেন। চলতে,বসতে,ঘুরতে সব সময় ঠোঁটে ইস্তিগফারের আমল জারি রাখুন।

হাদিসে এসেছে যার মূল বক্তব্য মোটামুটি এই রকম," যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের জন্য আবশ্যক বানিয়ে নিবে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য প্রতিটি সংকীর্ণ অবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ খুলে দিবেন,তার প্রতিটি উদ্বেগ-অস্থিরতা দূর করে দিবেন। এবং তাকে কল্পনাতীত উৎস থেকে রিযিক প্রদান করবেন।"

হাসান আল বসরি রাহিমাহুল্লার বিখ্যাত সেই ঘটনা আমরা অনেকেই জানিঃ

"একবার হাসান বসরী রাহ. এর কাছে এক ব্যক্তি জানালো “ আমার ফসলে খরা লেগেছে। আমাকে আমল দিন” হাসান বসরী তাকে বললেন এস্তেগফার করো। কিছুক্ষণ পর আরেক ব্যক্তি এসে অভিযোগ পেশ করল “আমি গরীব। আমাকে রিজক এর আমল দিন” হাসান রহ. তাকেও বলেলন এস্তেগফার করো। এমনিভাবে অপর এক ব্যক্তি এসে সন্তান হও্য়ার আমল চাইলে তিনি বললেন, এস্তেগফার করো।” উপস্থিত ছাত্ররা জিজ্ঞেস করল, “সবাইকে এক পরামর্শই দিলেন যে?” বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী রহ. বললেন “আমি নিজের পক্ষ থেকে কিছুই বলি নি। এটা বরং আল্লাহ তায়ালা তার কুরআনে শিখিয়েছেন । তারপর তিনি সুরা নুহ এর আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন। (তাফসীরে কুরতুবী ১৮/৩০৩)


فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا. يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا. وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا
নুহ আ. বললেন “তোমরা তোমাদের রবের কাছে এস্তেগফার করো। ( ক্ষমা চাও) নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বারিধারা বর্ষণ করবেন। তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির মাধ্যমে তোমাদের সাহায্য করবেন। তোমাদের জন্যে উদ্যান তৈরি করবেন, তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।” (সুরা নূহ- ১০-১২)"

হাদিসে ইস্তিগফারের বেশ কিছু দু'আ এসেছে আমরা সেখান থেকে ইস্তিগফারের দু'আ উল্লেখ করছিঃ

ইস্তিগফার মানে ক্ষমা চাওয়া, আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া। পাপের জন্য লজ্জিত,অনুতপ্ত হওয়া।

দোয়া-১:
======
মূল আরবীঃ ﺃَﺳﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪَ
উচ্চারণঃ আস্তাগফিরুল্লা-হ।

অনুবাদঃ আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
প্রতি ওয়াক্তের ফরয সালাতে সালাম ফিরানোর পর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এই দোয়া ৩ বার পড়তেন। [মিশকাত-৯৬১]

দোয়া-২:
======
মূল আরবীঃ ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﺃَﺗُﻮْﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ
উচ্চারণঃ আস্তাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতূবু ইলাইহি।
অনুবাদঃ আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাঁর দিকে ফিরে আসছি।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবা ও ইসতিগফার করতেন। [বুখারী-৬৩০৭]

দোয়া-৩:
======
মূল আরবীঃ ﺭَﺏِّ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲْ ﻭَﺗُﺐْ ﻋَﻠَﻲَّ ﺇِﻧَّﻚَ ‏( ﺃﻧْﺖَ ‏) ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺏُ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴْﻢُ ‏( ﺍﻟﻐَﻔُﻮْﺭُ )
উচ্চারণঃ রাব্বিগ্ ফিরলী, ওয়া তুব ‘আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতাত তাওয়া-বুর রাহীম। দ্বিতীয় বর্ণনয় “রাহীম”-এর বদলে: ‘গাফূর’।
অনুবাদঃ হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়। দ্বিতীয় বর্ণনায়: তাওবা কবুলকারী ও ক্ষমাকারী।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন। [আবূ দাঊদ-১৫১৬, ইবনু মাজাহ-৩৮১৪, তিরমিযী-৩৪৩৪, মিশকাত-২৩৫২]

দোয়া-৪:
======
মূল আরবীঃ ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻰُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮﻡُ ﻭَﺃَﺗُﻮﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ

উচ্চারণঃ আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি।

অনুবাদঃ আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছে তাওবাহ্ করি।

এই দোয়া পড়লে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন-যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র হতে পলায়নকারী হয়। [আবু দাউদ-১৫১৭, তিরমিযী-৩৫৭৭, মিশকাত-২৩৫৩]

দোয়া-৫:
ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দু'আঃসাইয়্যিদুল ইস্তিগফার:

======

মূল আরবীঃ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻲ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻲ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ ﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻲَّ ﻭَﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻲ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আহ্দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত’তু আ’উযুবিকা মিন শার্রি মা ছা’নাতু আবূউলাকা বিনি’মাতিকা আ’লাইয়্যা ওয়া আবূউলাকা বিযানবী ফাগ্ফির্লী ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয্যুনূবা ইল্লা আনতা

অনুবাদঃ হে আল্লাহ তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।

যে বুক্তি সকাল, সন্ধ্যায় সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার অর্থ বুঝে দৃঢ় বিশ্বাস সহকারে পড়বে, সে ঐ দিন কিংবা রাতে মারা গেলে অনবশ্যই জান্নাতে যাবে। [বুখারীঃ৬৩০৬]


05/02/2023

একদম সংক্ষেপে বললে সম্পদে বরকতের জন্য কয়েকটি করণীয় বিষয় মনে রাখতে পারেন-

১। আয়রোজগারের কাজ একদম সকাল-সকাল (ফজরের নামাজ যিকর শেষে) শুরু করা।
২। যা-ই আয় হোক, তার নির্দিষ্ট একটা অংশ নিয়মিত দান করা। (এটা তিনভাগের একভাগ হতে পারে, এমনকি একশভাগের ১% ও হতে পারে।)
৩। অশ্লীল গুনাহ থেকে বাঁচা।
৪। বেশি বেশি ইস্তেগফার করা।
৫৷ তাহাজ্জুদ পড়ে রিজিকে বরকতের দোয়া করা।
৬। রাতের বেলায় সুরা ওয়াকিয়া পড়া। (মাগরিব পর থেকে ঘুমের আগে, এরমধ্যে পড়লেই হবে।)
৭। প্রয়োজনে নিজে বদনজর বা অন্যান্য সমস্যার জন্য রুকইয়া করা। কর্মস্থলে / ব্যবসার যায়গায় রুকইয়ার পানি ছিটানো। (কমেন্টে বদনজরের রুকইয়ার লিংকে এর নিয়মকানুন পাবেন)

ইত্যাদি ইত্যাদি।

এছাড়া কাজের শক্তি-সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য রাতে ঘুমের জন্য বিছানায় গিয়ে তাসবিহে ফাতেমি (সুবহানাল্লাহ ৩৩বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩বার, আল্লাহু-আকবার ৩৪বার) পড়ার অভ্যাস করতে পারেন।

ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে কখনো এব্যাপারে বিস্তারিত লেখা হবে।

02/02/2023

আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পিতা আব্দুল্লাহ একদিন মক্কার বাজারে গিয়েছিলেন কিছু কেনাকাটা করার জন্য। এক জায়গায় তিনি দেখলেন একজন লোক কিছু দাসদাসী নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিক্রি করছে। আব্দুল্লাহ দেখলেন সেখানে দাঁড়িয়ে আছে একটা ছোট নয় বছরের কালো আফ্রিকান আবিসিনিয়ার মেয়ে। মেয়েটাকে দেখে আব্দুল্লাহর অনেক মায়া হলো, একটু রুগ্ন হালকা-পাতলা কিন্তু কেমন মায়াবী ও অসহায় দৃষ্টি দিয়ে তাঁকিয়ে আছে। তিনি ভাবলেন ঘরে আমেনা একা থাকেন, মেয়েটা পাশে থাকলে তার একজন সঙ্গী হবে, এই ভেবে তিনি মেয়েটাকে কিনে নিলেন।

মেয়েটিকে আব্দুল্লাহ ও আমেনা অনেক ভালোবাসতেন, স্নেহ করতেন এবং তাঁরা লক্ষ্য করলেন যে, তাঁদের সংসারে আগের চেয়েও বেশি রহমত ও বরকত চলে এসেছে। এই কারণে আব্দুল্লাহ ও আমেনা মেয়েটিকে আদর করে নাম দিলেন 'বারাকাহ'।

এই গল্প বারাকার গল্প।
একদিন আব্দুল্লাহ ব্যবসার কারণে সিরিয়া রওয়ানা দিলেন। আমেনার সাথে সেটাই ছিল উনার শেষ বিদায়।
উনার যাত্রার দু'এক দিন পর আমেনা একরাতে স্বপ্নে দেখলেন আকাশের একটা তারা যেন খুব আলো করে তাঁর কোলে এসে পড়লো। পরদিন ভোরে তিনি বারাকাকে এই স্বপ্নের কথা বললেন। উত্তরে বারাকা মৃদু হেসে বললেন, "আমার মন বলছে আপনার একটা সুন্দর সন্তানের জন্ম হবে"।

আমেনা তখনও জানতেন না তিনি গর্ভধারণ করেছেন কিন্তু কিছুদিন পর তিনি বুঝতে পারলেন বারাকার ধারণাই সত্য।

আব্দুল্লাহ আর ফিরে আসেননি, সিরিয়ার পথেই মৃত্যুবরণ করেছেন! আমেনার সেই বিরহ ও কষ্টের সময়ে বারাকা ছিলেন একমাত্র সবচেয়ে কাছের সঙ্গী।
একসময় আমেনার অপেক্ষার শেষ হয় এবং তিনি জন্ম দিলেন আমাদের প্রিয় নবীকে।

শেখ ওমর সুলাইমানের বর্ণনা অনুযায়ী, সর্বপ্রথম আমাদের নবীকে দেখার ও স্পর্শ করার সৌভাগ্য হয়েছিল যে মানুষটির সে হলো এই আফ্রিকান ক্রিতদাসী ছোট কালো মেয়েটি। আমাদের নবীকে নিজ হাতে আমেনার কোলে তুলে দিয়েছিলেন, আনন্দে ও খুশিতে বলেছিলেন, "আমি কল্পনায় ভেবেছিলাম সে হবে চাঁদের মত কিন্তু এখন দেখছি, সে যে চাঁদের চেয়েও সুন্দর"।

এই সেই বারাকা। নবীজির জন্মের সময় উনার বয়স ছিল তেরো বছর। ছোটবেলায় শিশু নবীকে আমেনার সাথে যত্ন নিয়েছেন, গোসল দিয়েছেন, খাওয়াতে সাহায্য করেছেন এবং আদর করে ঘুম পাড়িয়েছেন। মৃত্যুর সময় আমেনা বারাকার হাত ধরে অনুরোধ করেছিলেন তিনি যেন তাঁর সন্তানকে দেখে শুনে রাখেন। বারাকা তাই করেছিলেন। বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে ইয়াতিম নবী চলে আসলেন দাদা আবদুল মোত্তালিবের ঘরে। উত্তরাধিকার সূত্রে নবী হলেন বারাকার নতুন মনিব। কিন্তু তিনি একদিন বারাকাকে মুক্ত করে দিলেন, বললেন, "আপনি যেখানে ইচ্ছে চলে যেতে পারেন, আপনি স্বাধীন ও মুক্ত।" সেই শিশুকাল থেকেই নবী এই ক্রীতদাস প্রথাকে দূর করতে চেয়েছিলেন। বারাকা নবীকে ছেড়ে যেতে রাজি হলেন না, রয়ে গেলেন। মায়ের ছায়া হয়ে পাশে থেকে গেলেন। এমনকি নবীজির দাদা উনাকে বিয়ে দেয়ার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তিনি কিছুতেই রাজি হলেন না। উনার একই কথা, "আমি আমেনাকে কথা দিয়েছি, আমি কোথাও যাবো না।"

তারপর একদিন খাদিজা (রাঃ) এর সাথে নবীজির বিয়ে হলো। বিয়ের দিন রাসূল (সাঃ) খাদিজা (রাঃ) এর সাথে বারাকাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, "উনি হলেন আমার মায়ের পর আরেক মা।" বিয়ের পর রাসূল (সাঃ) একদিন বারাকাকে ডেকে বললেন, "উম্মি, আমাকে দেখাশোনা করার জন্য এখন খাদিজা আছেন, আপনাকে এখন বিয়ে করতেই হবে" (নবীজি উনাকে উম্মি ডাকতেন, নাম ধরে ডাকতেন না)। তারপর রাসূল (সাঃ) ও খাদিজা মিলে উনাকে উবাইদ ইবনে জায়েদের সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেন। কিছুদিন পর বারাকার নিজের একটা ছেলে হলো, নাম আইমান। এরপর থেকে বারাকার নতুন নাম হয়ে গেলো "উম্মে আইমান" একদিন বারাকার স্বামী উবাইদ মৃত্যু বরণ করেন, নবীজি গিয়ে আইমান ও বারাকাকে সাথে করে নিজের বাড়ি নিয়ে আসেন এবং সেখানেই থাকতে দিলেন।

কিছুদিন যাওয়ার পর নবীজি একদিন বেশ কয়েকজন সাহাবীকে ডেকে বললেন, "আমি একজন নারীকে জানি, যার কোন সম্পদ নেই, বয়স্ক এবং সাথে একটা ইয়াতিম সন্তান আছে কিন্তু তিনি জান্নাতি, তোমাদের মধ্যে কেউ কি একজন জান্নাতি নারীকে বিয়ে করতে চাও?" এইকথা শোনে জায়েদ ইবনে হারিসা (রাঃ) নবীজির কাছে এসে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। নবীজি উম্মে আইমানের সাথে কথা বলে বিয়ের আয়োজন করলেন।
বিয়ের দিন রাসূল (সাঃ) জায়েদকে বুকে জড়িয়ে আনন্দে ও ভালোবাসায়, ভেজা চোখে, কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন, "তুমি কাকে বিয়ে করেছো, জানো জায়েদ?"

-হ্যাঁ, উম্মে আইমানকে, জায়েদের উত্তর। নবীজি বললেন, "না, তুমি বিয়ে করেছো, আমার মা কে"।
সাহাবীরা বলতেন, রাসূল (সাঃ) কে খাওয়া নিয়ে কখনো জোর করা যেত না। উনি সেটা পছন্দ করতেন না। কিন্তু উম্মে আইমান একমাত্র নারী, যিনি রাসূল (সাঃ) কে খাবার দিয়ে "খাও".." খাও".. বলে তাড়া দিতেন, আর খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাশে বসে থাকতেন। নবীজি মৃদু হেসে, চুপ চাপ খেয়ে নিতেন।
রাসূল (সাঃ) উনার দুধ মাতা হালিমাকে দেখলে যেমন করে নিজের গায়ের চাদর খুলে বিছিয়ে তার উপর হালিমাকে বসতে দিতেন ঠিক তেমনি মদিনায় হিজরতের পর দীর্ঘ যাত্রা শেষে উম্মে আইমান যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন নবীজি উনার গায়ের চাদরের একটা অংশ পানিতে ভিজিয়ে, উম্মে আইমানের মুখের ঘাম ও ধুলোবালি নিজ হাতে মুছে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, "উম্মি, জান্নাতে আপনার এইরকম কোন কষ্ট হবে না"।

নবীজি মৃত্যুর আগে সাহাবীদের অনেক কিছুই বলে গিয়েছিলেন। সেইসব কথার মধ্যে একটা ছিল, উম্মে আইমানের কথা। বলেছেন, "তোমরা উম্মে আইমানের যত্ন নিবে, তিনি আমার মায়ের মতো। তিনিই একমাত্র নারী, যিনি আমাকে জন্ম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেছেন, আমার পরিবারের একমাত্র সদস্য, যিনি সারাজীবন আমার পাশে ছিলেন।"

সাহাবীরা সেই কথা রেখেছিলেন। গায়ের রং নয়, একসময়ের কোন ক্রিতদাসী নয়, তাঁর পরিচয় তিনি নবীর আরেক মা। মায়ের মতোই তাঁরা এই বৃদ্ধা নারীকে ভালোবেসে আগলে রেখেছিলেন।

সূত্র: ইবনে হিশাম ও শেখ ওমর সুলাইমান। "Woman who cared forever."
&সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া।
©

22/01/2023

বাচ্চাদের জন্য সহজ রুকইয়াহ ও নিরাপত্তার প্রেসক্রিপশন

১. আসরের পর থেকে নিয়ে মাগরিবের ২০-৩০ মিনিট পর্যন্ত বাচ্চাদের নিয়ে বের হবেন না।
২. বাচ্চাদের রুমে(পুরো বাসাতেই রাখা ঠিক না) কোন প্রকাশমাণ প্রাণীর ছবি ও পুতুল রাখবেন না।
৩. ফজর ও মাগরিবের পর আয়াতুল কুরসি-১ বার, ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩বার করে পড়ে ফুঁ দিবেন।
৪. রাতে ঘুমানোর সময় আয়াতুল কুরসি, ইখলাস, ফালাক ও নাস ১বার করে পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে শরীর মুছে দিবেন -৩বার।
৫. মাগরিবের ২০মিনিট পুর্বে দরজা ও জানালা বিসমিল্লাহ বলে বন্ধ করে দিবেন এবং মাগরিবের ১৫-২০ মিনিট পর খুলে দিতে পারবেন যদি প্রয়োজন হয়। খোলার সময় বিসমিল্লাহ বলে খুলবেন।
৬. মানুষ ও জ্বীনের বদনজর থেকে হিফাযত ও শিফার নিয়তে :- দুরুদে ইব্রাহিম (১বার), সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, ইখলাস, ফালাক ও নাস (প্রতিটি ৭বার করে পড়বেন), দুরুদে ইব্রাহিম (১বার) পড়ে ডান কানে হালকা করে ফুঁ দিয়ে দিবেন এবং সমস্ত শরীরে ফুঁ দিয়ে দিবেন।
৭. পানি(উপরে উল্লেখিত সুরা ও আয়াত পড়ে পানি তৈরি করবেন) অল্প করে পান করাবেন এবং অল্প পানি দিয়ে মাথা, আইভ্রু, হাত ও‌ পায়ের তালুতে মাসেহ করে দিবেন(দিনে কমপক্ষে ৩বার)
৮. এই দুআটি সকাল-সন্ধ্যা ১/৩/৫/৭ বা এর বেশি বেজোড় সংখ্যকবার পড়ে ফুঁ দিবেন:-

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর জন্য এই বলে (আল্লাহ্‌র) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন-

أُعِيْذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

আমি তোমাদের দু’জনকে আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের আশ্রয়ে নিচ্ছি যাবতীয় শয়তান ও বিষধর জন্তু থেকে এবং যাবতীয় ক্ষতিকর চক্ষু (বদনযর) থেকে।

উ‘ইযুকুমা বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিওঁয়া হা-ম্মাহ্‌, ওয়ামিন কুল্লি আইনিল্লা-ম্মাহ্‌(একজনের ক্ষেত্রে উ'ইযুকা পড়বেন)।

বুখারী ৪/১১৯, নং ৩৩৭১; ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীস থেকে।

voice of dawah

Copy post

17/01/2023

🔰 #সুন্নতি_পোশাক

🟦ইসলামী পোশাক নিয়ে মাঝে মধ্যে বিতর্ক ওঠে। সাধারণ একটি ধারণা রয়েছে যে, পুরুষদের ইসলামী পোশাক হলো জোব্বা। না, জোব্বা ইসলামী পোশাক নয়। কারণ, রাসূল সা:-এর সময় আরবের আবু জেহেল, আবু লাহাবদের পোশাক ছিল জোব্বা। তারাও জোব্বা পরিধান করতেন। আবার রাসূল সা: ও তাঁর সাহাবায়ে কেরামগণও জোব্বা পরতেন। জোব্বা আরবের আদত বা প্রথা। তৎকালীন আরবে জোব্বা ছিল সামাজিক লোকাচার। জানতে হবে, কোনটা আদত, আর কোনটা ইবাদত। জ্ঞান আর মুক্তচিন্তা অভাবের কারণে, কিছু হুজুর আদত ও ইবাদতকে একাকার করে ফেলেছেন। রাসূল সা: এবং সাহাবায়ে কেরামদের যুগে এমন একটিও দৃষ্টান্ত বা ঘটনা পাওয়া যাবে না যে, কোনো মুশরিক ইসলাম গ্রহণের পর তার পূর্বের পোশাক বদলিয়ে নতুন করে জোব্বা পরিধানের কথা বলতে বলা হয়েছে। কিংবা ইসলামী পোশাকের নামে তাকে একটি জোব্বা দেয়া হয়েছে।

🟩পরবর্তীকালে সাহাবায়ে কেরামরা ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের হাতে শত, শত, হাজার, হাজার অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কোনো একটি দেশেও এমন একটি ঘটনা পাওয়া যাবে না যে, সে দেশের অমুসলিম ইসলাম গ্রহণের পর, তাকে পূর্বের পোশাক পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। কিংবা, তথাকথিত, সুন্নতি পোশাকের নামে তাকে জোব্বা পরতে বলা হয়েছে।

✴️পুরুষদের যদি সুন্নতি পোশাক থাকে, তাহলে মহিলাদের সুন্নতি পোশাক কী❓ অর্থাৎ, পুরুষদের যদি সুন্নতি পোশাক থাকে, তাহলে মহিলাদের সুন্নতি পোশাক কি হতে পারে❓


🟦ইসলাম একটি সর্বজনীন জীবনবিধান। এই জীবনবিধান, সব দেশের, সব মানুষের, সব আবহাওয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য একটি জীবনবিধান। মানুষ তার দেশের আবহাওয়া ও লোকাচারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক পরিধান করবে এটাই স্বাভাবিক। এই স্বাভাবিকতাই ইসলামের একটি বিশেষ দিক।

🔰পোশাকের ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুম যা সরাসরি নারীদের জন্যঃ

🔷সূরা আন নূর (النّور), আয়াত: ৩১

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَٰتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَٰرِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ ءَابَآئِهِنَّ أَوْ ءَابَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَآئِهِنَّ أَوْ أَبْنَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَٰنِهِنَّ أَوْ بَنِىٓ إِخْوَٰنِهِنَّ أَوْ بَنِىٓ أَخَوَٰتِهِنَّ أَوْ نِسَآئِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَٰنُهُنَّ أَوِ ٱلتَّٰبِعِينَ غَيْرِ أُو۟لِى ٱلْإِرْبَةِ مِنَ ٱلرِّجَالِ أَوِ ٱلطِّفْلِ ٱلَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا۟ عَلَىٰ عَوْرَٰتِ ٱلنِّسَآءِ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

অর্থঃ ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

🔷সূরা আন নূর (النّور), আয়াত: ৩০

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا۟ مِنْ أَبْصَٰرِهِمْ وَيَحْفَظُوا۟ فُرُوجَهُمْ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرٌۢ بِمَا يَصْنَعُونَ

অর্থঃ মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।

🔷পোশাকের ব্যাপারে রাসূল সা: বলেন, আমর ইবনে শোয়াইব থেকে তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, রাসূল সা: বলেন, ‘তোমরা পানাহার করো, দান-খয়রাত করো, কিন্তু অপচয় ও অহঙ্কারী পোশাক পরিধান করো না।’ (নাসায়ি, খণ্ড ৫, পৃ : ৫৯, হাদিস ২৫৫৯)

🔰পোশাকের ব্যাপারে রাসূল সা:-এর নির্দেশনা :

1️⃣ #প্রথমত, পুরুষেরা নারীদের এবং নারীরা পুরুষদের পোশাক পরিধান করতে পারবে না। এ ব্যাপারে রাসূল সা: অভিশম্পাত দিয়ে বলেন, ‘অভিশম্পাত ওই পুরুষকে যে নারীদের মতো পোশাক পরিধান করে, অভিশম্পাত ওই নারীকেও যে পুরুষের মতো পোশাক পরিধান করে।’ (আবু দাউদ, হাদিস ৪০৯৮)

2️⃣ #দ্বিতীয়ত, রেশমি পোশাক ও খ্যাতির পোশাক পরা : ঈদ এলে আমরা দেখি, টিভি হিন্দি সিরিয়ালের নায়ক-নায়িকাদের নামে নানা রঙের বাহারি পোশাক বাজারজাত করা হয়। উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরাও তাদের প্রিয় নায়ক-নায়িকাদের পোশাক কিনতে মরিয়া হয়ে ওঠে। প্রিয় নায়িকার পোশাক কিনতে না পারার বেদনায় আত্মহত্যার খবর পত্রিকায় প্রকাশ হতে দেখা যায়। পোশাকের এ দিকটিতে ইঙ্গিত করে

🔷রাসূল সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে প্রসিদ্ধি লাভের আশায় পোশাক পরবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাকে লাঞ্ছনার পোশাক পরিয়ে দেবেন। এরপর তাকে অগ্নিদগ্ধ করবেন। (আবু দাউদ, হাদিস ৪০২৯)

3️⃣ #তৃতীয়ত, ভিন্ন ধর্মীয় পুরোহিতদের অনুকরণে পোশাক : যে পোশাক পরলে, ভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিত্ব বা ভিন্ন ধর্মের লোক মনে হয়, সে ধরনের পোশাক পরতে রাসূল সা: কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। যেমন : হিন্দু পুরোহিতদের, বৌদ্ধ পুরোহিতদের, খ্রিষ্টান পুরোহিতদের ইত্যাদি, ইত্যাদি।

🔷রাসূল সা: বলেন, যে ব্যক্তি ভিন্ন ধর্মের লোকদের পোশাক পরবে, সে আমার দলের অন্তর্ভুক্ত নয়। (তাবরানি, হাদিস ৩৯২১)

4️⃣ #চতুর্থত, গর্ব অহঙ্কার জাতীয় পোশাক : যে পোশাক পরলে অহঙ্কার প্রদর্শন করা হয়। কারণ, অহঙ্কার আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার চাদর। তাই, যে পোশাকে অন্তরে অহঙ্কারের ব্যাধি পয়দা হয় সে পোশাক পরা যাবে না।

🔷 রাসূল সা: বলেন, যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশত টাখনুর নিচে পরে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তাকে পবিত্র করবেন না এবং তার দিকে তাকাবেন না। (বুখারি, হাদিস ৫৭৯১)

5️⃣ #পঞ্চমত, যে টাইটফিট পোশাকে নারীদের শরীরের অবয়ব প্রকাশিত হয়, সে পোশাক নারীরা পরতে পারবে না। অনুরূপভাবে পুরুষরাও টাখনুর নিচে প্যান্ট বা পায়জামা পরতে পারবে না।

6️⃣ #ষষ্ঠত, পোশাক পরিধানে কৃপণতা না করা : অপচয়ের ন্যায় কৃপণতাও ইসলামে নিন্দনীয় একটি কাজ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিয়ামতের প্রকাশ পোশাকের মধ্যে থাকা উচিত। ব্যাপক আর্থিক সামর্থ্য থাকার পরও নিম্নমানের বা দরিদ্রের পোশাক পরা রাসূল সা: নিষেধ করেছেন।

🔷একবার, আবুল আহওয়াসের পিতা রাসূল সা:-এর কাছে এলেন। তখন তার পরনে ছিল নিম্নমানের পোশাক। রাসূল সা: বললেন, তোমার কি সম্পদ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূল সা: পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, কী সম্পদ আছে? তখন তিনি বললেন, উট, গরু, ছাগল, ঘোড়া, গোলাম, ইত্যাদি ইত্যাদি। সম্পদের এ বিবরণ শুনে রাসূল সা: বললেন, আল্লাহ যখন তোমাকে এত নিয়ামত দিয়েছে, সে নিয়ামতের ছাপ তোমার পোশাকে থাকা চাই। (নাসাঈ, হাদিস ৫২৯৪)

7️⃣ #সপ্তমত, পোশাকে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা : পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। নিজের পোশাককে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন রাখা ইসলামে একটি জরুরি বিষয়। এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কোনো এক সফর থেকে ফেরার পথে

🔷রাসূল সা: তাঁর প্রিয় সাহাবাদের লক্ষ করে বললেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইদের কাছে আগমন করছ। সুতরাং তোমাদের হাওদাগুলো গুছিয়ে নাও এবং তোমাদের পোশাক পরিপাটি করো, যাতে তোমাদের (সাক্ষাৎ করতে আসা) মানুষের ভিড়ে তিলকের মতো সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন মনে হয়। আল্লাহ তায়ালা স্বভাবগতভাবে নোংরামি বা ইচ্ছাকৃতভাবে নোংরা থাকা পছন্দ করেন না।’ (আবু দাউদ, হাদিস ৭০৮৩)

8️⃣ #অষ্টমত, পোশাকের মাধ্যমে সতর ঢাকা : আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, ‘হে আদম সন্তান! আমি তোমাদের জন্য অবতীর্ণ করেছি পোশাক। তোমাদের দেহের যে অংশ প্রকাশ করা দোষণীয় তা ঢাকার জন্য এবং তা সৌন্দর্যের উপকরণ। বস্তুত, তাকওয়ার যে পোশাক সেটাই সর্বোত্তম।’ সূরা আরাফ, আয়াত ২৬। পুরুষদের নাভী থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত এবং মহিলাদের পুরো শরীরই সতর। এই সতর ঢেকে রাখা ফরজ। পোশাকের উদ্দেশ্য হলো সতর ঢাকা। যে পোশাকে সতর ঢাকা হয় না, সে পোশাক, পোশাকই নয়।

❇️ #সর্বশেষ : রাসূল সা: নতুন পোশাকের ক্ষেত্রে সর্বদাই শোকরিয়া আদায় করতেন। কারণ, নতুন পোশাক পরিধান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিয়ামত। নতুন পোশাক পরিধানের সময় বলতেন, ‘হে আল্লাহ! তোমারই প্রশংসা। তুমিই আমাকে এই পোশাক পরিয়েছ। আমরা তোমার কাছে এ কাপড়ের কল্যাণ ও উপকারিতা প্রার্থনা করি এবং অকল্যাণ ও অপকারিতা থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজ, হাদিস ১৭৬৭)।

🟩উপরক্ত আলোচনা অনুসারে,
সুন্নতি পোশাকের যে ধারনা পাওয়া যায় নারীদের তা হলো,পোশাকের বৈশিষ্ট্য হবেঃ

➡️লজ্জাস্থান আবৃত
➡️ঢিলা,লম্বা
➡️পুরুষের পোশাক হওয়া যাবেনা
➡️শালীন হতে হবে
➡️প্রকাশ্যমান সৌন্দর্য নিয়ে অনেক জন শায়েখের মতবাদ অনুসারে,শুধু পোশাকের শালীনতা কে বোঝায়...
➡️পোশাক এ শরীর গঠন বুঝা যাওয়া উত্তম নয়
➡️পাতলা কাপড় হওয়া যাবেনা..

📜 #নোটঃ মাহরাম দের সামনে সাধারণ সৌন্দর্য প্রকাশ করা যাবে(চুল,হাতের কব্জি,গোলা থেকে মাথা অবধি),এর মানে এই নয় যে শ্বশুর,বাবা,ভাই প্রভৃতি ব্যক্তি যারা মাহরাম তাদের সামনে শাড়ি পড়ে আচল ফেলে দিয়ে রাখবেন বা আট শাট কাপড় পড়বেন...একমাত্র স্বামীর সামনে নিজের সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারবেন আর কারো সামনে নয়..

✅উপরোক্ত আলোচনা অনুসারে, নারীর জন্য উত্তম পোশাক হচ্ছে সালোয়ার, কামিজ/মেক্সি(যা ঢিলেঢালা, লম্বা হবে,শালীন হবে,লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে), ওড়না।এই পোশাক টি মূলত তাদের মাহরাম দের সম্মুক্ষে ধারণ এর জন্য, নন -মাহরাম এর সামনে সহীহ পর্দার বিধান ফরজ....

❤️ #আলাহু_সুবহানাহু_ওয়া_তায়ালা আমাদের সবাইকে সহিহ আকীদার অনুসারি হতে সহায়তা করুক...আমিন❤️

#তানিয়া

17/12/2022

___ঘটনাটি পড়ুন....✍️ ___হয়তো উপকার হবে...

°°মসজিদে হারামে মাগরিবের আযান হচ্ছিল। আমি তখন হারাম শরীফের ছাদে। কোনোমতে দৌড়ে গেলাম অজু করতে। যাতে ভিড় থেকে বাঁচতে পারি। আমি অজু করছি পাশে নূরানী চেহারার এক "আরব শায়েখ" আযানের জবাব দিচ্ছিলেন। আমার অজু শেষ। এদিকে আযানও শেষ। আমি চলে আসছিলাম। এমন সময় ঐ শায়েখ ডেকে বললেনঃ-
ইয়া ওয়ালাদা! তুমি আরবি বুঝো?
আমিঃ- হ্যাঁ....সূচক মাথা নাড়লাম।

এরপর বললেনঃ- তোমাকে তো দেখে মনে হচ্ছে ইলমওয়ালা। তা তুমি কি পারলে আযানের জবাব না দিয়ে অজু করতে?
তুমি কি জানো না নবীজি ﷺ বলেছেনঃ- ''তোমরা আযান শুনতে পেলে আযানের জবাব দিবে। অর্থাৎ মুয়াজ্জিন যেরূপ বলে তোমরাও তদ্রূপ বলবে। তারপর আমার উপর দরূদ পাঠ করবে। কেননা কেউ আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করলে আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন...সুবহানাল্লাহ❣️❣️।।
এবং ঐ ব্যক্তির জন্য কিয়ামতের আমার শাফায়াত অবধারিত!
[ সহিহ মুসলিম: ৩৮৪; তিরমিযি: ৩৬১৪]

তুমি এ হাদিস শুনোনি? আমি লজ্জিত স্বরে বললাম জী জনাব, এ হাদীস শুনেছি। কিন্তু....

শোনো ছেলে! তুমি চাইলে এখন অজু করতে পারতে। কিন্তু তুমি কি পারবে এখন আযানের জবাব দিতে? পারবে না। তার মানে তুমি নবীজি ﷺ এর শাফায়াত পাওয়ার একটা সম্ভাবনা হারিয়ে ফেললে! (এ কথাটা শুনে কলিজাটা মুচড় দিয়ে উঠেছিল)। আমাদের সব আমল রবের কাছে কবুল হয় না। কিছু কিছু হয়। হয়তো আজকের আযানের জবাবটা আল্লাহ কবুল করে নিতেন!
আমার কিছু বলার ভাষা ছিলো না। শুধু বললাম, শায়েখ! আমি আর কখনো এই আমল ছাড়ব না ইনশাআল্লাহ! আমার জন্য দু'আ করবেন।

এখন আযান শুনলেই ঐ ঘটনা মনে পড়ে....
আলহামদুলিল্লাহ্🤲

13/12/2022

❝অশ্লীল ভাষা ব্যবহারকারী ও উগ্র মেজাজি মানুষ জান্নাতে যাবে না❞
[আবু দাউদ- ৪১৬৮]

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


Dhaka