ইহুদি ও মুশরিকের লড়াই-৫
---
চতুর্থ প্রমাণ
ইরাকের সাথ না হয় শত্রুতা ছিল, সাদ্দাম কমিউনিস্ট ছিল, এজন্য আমেরিকা-ইসরায়েলের সাথে জোটবদ্ধ হয়েছে। কিন্তু আফগানিস্তান কী দোষ করেছিল? ইরান কেন প্রথম তালেবান সরকার পতনে আমেরিকার পাশে ছিল? তালেবান তো শরিয়া আইন মোতাবেক দেশ শাসন করছিল, ইরান যদি এতই ইসলামী বিপ্লবী হয়, তালেবানের বিরুদ্ধে আমেরিকার পাশে দাঁড়ানোর কারণ কী? আফগানের হাজারা শিয়াদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সুন্নীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানোর কারণ কী?
ইরান ২০১০ সালের পর তালেবানের প্রতি মৃদু সমর্থন ব্যক্ত করতে শুরু করেছিল। সেটাও ঠেলায় পড়ে। আমেরিকার পক্ষ থেকে কঠিন নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর। তবে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পযন্ত ইরান শতভাগ তালেবান বিরোধী জোটে ছিল। ২০০১ থেকে ২০১০ পযন্ত আমেরিকার প্রতি মৌন সমর্থন জানিয়ে গেছে।
পঞ্চম প্রমাণ
২০০৬ সালে হাসান নাসরুল্লাহর নির্দেশে হিযবুল্লাহর সেনারা দুইজন ইসরায়েলি সেনা বন্দী করে, ৮ জনকে নিহত করে। প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ইসরায়েলে লেবাননের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। এখন গাযার ওপর যেভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, বৈরুতেও ইসরায়েল তেমন করেছিল। সেই হামলার ধরণ থেকেই ‘দাহিয়া ডকট্রিন’-এর জন্ম হয়েছিল। তখন পুরো আরব তো বটেই, মুসলিমবিশ্ব হাসান নাসরুল্লাহর পাশে দাঁড়িয়েছিল। ইখওয়ানুল মুসলিমুনের সপ্তম মুরশিদে আম ‘মাহদী আকেফ’ ঘোষণা দিয়েছিলেন, হিযবুল্লাহর সমর্থনে ও সাহায্যে মিসর থেকে ১০ হাজার ইখওয়ান সদস্য পাঠাবেন। কায়রো, দামেশক, বাগদাদসহ পুরো মুসলিম বিশ্বের রাজপথ হাসান নাসরুল্লাহর সমর্থন ও ছবিতে ভর্তি হয়ে গিয়েছিল।
হিযবুল্লাহর প্রতি এমন নিরংকুশ সমর্থন করার ব্যাপারে দূরদর্শী ব্যক্তিরা সতর্ক করেছিলেন। এর ভয়াবহ পরিণতির কথা ভেবে তারা শঙ্কিত হয়ে উঠছিলেন। শিয়া মিডিয়াগুলো হাসান নাসরুল্লাহকে অতিমানবের পযায়ে নিয়ে গিয়েছিল। সরলমনা সুন্নীরা শিয়া মিডিয়ার ফাঁদে পা দিয়ে বসেছিল। হাসান নাসরুল্লাহর বিরোধিতাকারীদেরকে আজকের মতো সেদিনও ‘বেকুব, নির্বোধ, রাজনীতি সম্পর্কে অজ্ঞ, ওহাবি, সালাফি ইত্যাদি বলে গাল দেয়া হয়েছিল। সবার একটাই কথা, এই মুহূর্তে হাসান নাসরুল্লাহর পাশে দাঁড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ। যেমনটা এখন বলা হচ্ছে। সবার সাহায্য-সমর্থন পেয়ে হাসান আমাদেরকে মসজিদে আকসায় নিয়ে যাবে।
বেশিদিন অপেক্ষা করতে হল না। মাত্র ৭ বছর পর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে একদিন সত্যি সত্যি হাসান নাসরুল্লাহ কুদসের পথে রওয়ানা দিল। সবাই অবাক, হাসান তার সেনাবাহিনী নিয়ে উত্তর দিকে যাচ্ছে।
-কী ব্যাপার, ছেঃইখ, কুদস তো দক্ষিণে, আপনি সসৈন্যে উত্তর দিকে যাচ্ছেন যে বড়?
-আমি কুদসজয়ের পথেই হাঁটছি। আমি সিরিয়ার সুন্নী অধ্যুষিত কালামুন, যাবদানী, হিমস, দারআ, হালাব, সুয়াইদা, হাসাকা, হামা শহর পেরিয়ে কুদসে পৌঁছব।
কদিন পর হাসানের মুরিদরা দেখল, হাসানের চেলাচামুণ্ডারা সিরিয়ায় সুন্নী অধ্যুষিত অঞ্চলের শহরের পর শহরে হত্যা, লুঠ, ধর্ষণের মচ্ছব শুরু করে দিয়েছিল। সুন্নীদের মসজিদ, মাদরাসা, খানকা, এমনকি কবরস্তান পযন্ত হিযবুশ শয়তান বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পায়নি। কুদস যাওয়ার পথে শয়তানবাহিনী দামেশক-তেহরান-মস্কোর সাহায্যে সুন্নীদের গ্রামে গ্রামে এমন নারকীয় কাণ্ড ঘটিয়েছিল, হালাকু খান, চেঙ্গিস খান মিলেও এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারত কি না সন্দেহ।
২০১৫ সাল। সিরিয়ায় আসাদবিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। দামেশকের পতন তখন সময়ের ব্যাপার। যে কোনো দিন বাশার পালাবে। তেহরানের খোমেনিরা ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠল। ২০১১ সাল থেকেই ইরান সক্রিয়ভাবে বাশারকে সাহায্য করে আসছিল। হিযবুল্লাহ, শিয়া মিলিশিয়া, কুদস ফোর্স মিলেও আসাদবিরোধী শক্তিকে দমাতে পারছিল না। তখন ইরানী কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সুলেমানি (১৯৫৭-২০২০) ২০১৫ সালের জুলাই মাসে মস্কোগামী বিমানে উঠে বসল। উদ্দেশ্য নব্য ক্রুশেডার পুতিনকে বাশারের সমর্থনে টেনে আনা। কাসেইম্মা মাত্র দুই ঘণ্টা মস্কো অবস্থান করেছিল। আল্লাহমালুম মাত্র দুই ঘণ্টায় পুতিনকে কী পানিপড়া খাইয়েছিল। এরপরই পুতিন সদলবলে এসে সিরিয়ায় আসাদবিরোধীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
নিশ্চয়ই ইরান এসব ইসলাম, মুসলমান ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্যই করেছিল?
--------
(c) উস্তায মাওলানা Atik Ullah
The Rafidologist: এসো শিয়া চিনি - revived
....
ইহুদি ও মুশরিকের লড়াই-৪
----
দ্বিতীয় প্রমাণ
খোমেনি অন্যতম স্বপ্ন ছিল ইরাক দখল করে নাজাফ-কারবালা শহরগুলো ইরানের অধীনে নিয়ে আসা। খোমেনি বিপ্লবের পরের বছরই (১৯৮০-৮৮) ইরাক-ইরান যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যারা খোমেনিকে কাছ থেকে দেখেছে, তারা জানে খোমেনি ও তার একান্ত সহচররা ইরাক ও ইরাকিদের প্রতি কী পরিমাণ ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করত। অথচ ইরাকি সরকার ও জনগণ খোমেনির ১৩ বছরের নির্বাসনকালে তার প্রতি সীমাহীন এহসান করেছিল। মুশরিকদের শিয়াদের বিশেষ করে খোমেনির জন্মগত স্বভাব। শিয়া মুশরিকরা এমনই, যে হাত তাদের দিকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে, প্রয়োজন ফুরোলে সে হাতেই তারা কামড় বসিয়ে দিতে দ্বিধা করে না।
খোমেনি ক্ষমতায় বসতে না বসতেই ইরাকসীমান্তে হানা দিতে শুরু করেছিল। ইরাকি সীমান্তরক্ষীদের নানাভাবে উত্যক্ত-নাজেহাল করে চলেছিল। বারবার সীমান্ত অতিক্রম করে ইরাকি এলাকায় খোমেনির বাহিনী অনুপ্রবেশ করছিল। খোমেনি নানাভাবে ইরাককে যুদ্ধে জড়ানোর জন্য উস্কানি দিয়ে যাচ্ছিল। সাদ্দাম তখন ক্ষমতা সুসংহত করার কাজে নিমগ্ন ছিল। বার্থপার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাকর্মীদের ওপর ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছিল। সাদ্দাম অভ্যন্তরীন যুদ্ধেই আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিল। দেশের বাইরে আরেকটা যুদ্ধফ্রন্ট খোলার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা সাদ্দামের ছিল না। খোমেনির উস্কানি সাদ্দামকে যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য করেছে।
আমাদেরকে বলা হয়েছে, সাদ্দামই ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে, ইরানে ইসলামী বিপ্লবকে সহ্য করতে না পেরে হামলা করেছে। আরব বিশ্বের লেখক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদও এই মতবাদে বিশ্বাসী। তাকিয়াবাজ খোমেনি এই মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে শতভাগ সফল হয়েছে। কী পরিমাণ ইরানি উস্কানির পর সাদ্দামের ধৈযের বাঁধ ভেঙেছিল, সেটা কেউ বলে না। খোমেনির কাছের লোকেরাই বলেছিল। আবদুল করিম মুসাভি, তালেব রিফাই, রশিদ খিউন প্রমুখ খোমেনি সম্পর্কে মুখ খুলেছে।
সাদ্দাম হোসাইনের লেজে পা দিয়ে কেউ পার পায়নি। খোমেনির কাঙ্খিত যুদ্ধ বেঁধে গেল। একটানা আটবছরের যুদ্ধে দুটি দেশই জ্বলেপুড়ে খাক হওয়ার কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। সাদ্দাম বারবার যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। খোমেনির কাছে ওলামায়ে কেরামের প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন। খোমেনি প্রত্যাখ্যান করেছে বারবার। পরে বাধ্য হয়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। খোমেনি এই সম্মতিকে ‘বিষ গেলা’ আখ্যায়িত করেছিল।
যুদ্ধবিরতির অল্প পরেই (১৯৮৯) খোমেনি জাহান্নামী হয়েছিল। খোমেনি সম্পর্কে চারদিকে রটানো হয়েছিল, সে প্রচণ্ড আমেরিকাবিরোধী। বড় শয়তান আমেরিকার বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রামকারী। আমাদেরকে বলা হয়, খোমেনি প্রচণ্ড ইসরায়েলবিরোধী। অথচ ঘটনা উল্টো। ইরাকের নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটিতে ইরানই আগে হামলা করেছিল ১৯৮০ সালে। তারপর ইরানিরা তাদের সংগৃহিত তথ্য ইসরায়েলের হাতে তুলে দিয়েছিল। ইসরায়েল ১৯৮১ সালের ইরাকি নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটির ওপর হামলা চালিয়ে সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিল। ইরাক-ইরান যুদ্ধে ইরানের সাথে ইসরায়েলের গলায়-গলায় খাতির ছিল। ইরান দিত তেল, ইসরায়েল দিত অস্ত্র। সেই অস্ত্র দিয়ে ইরান হত্যা করত ইরাকি আরব ও মুসলমানদের।
তৃতীয় প্রমাণ
সাদ্দাম জীবনের সবচেয়ে মারাত্মক ভুলটা করেছিল ১৯৯০ সালে কুয়েতে হামলা চালিয়ে। এই চরম বোকামির খেসারত সাদ্দামকে বাকি জীবন দিয়ে যেতে হয়েছে। তার মাথায় কোন ভূত চেপেছিল, আল্লাহমালুম। সাদ্দামের হাত থেকে কুয়েত রক্ষা করতে গোটা বিশ্বকে সাথে নিয়ে আমেরিকা এগিয়ে এসেছিল। তখন সুযোগ বুঝে ইরানও আমেরিকার সাথে যোগ দিয়েছিল। আমেরিকার হাতে হাত রেখে ইরাকবিরোধী লড়াইয়ে শরীক হয়েছিল। ইরাক দখলের খাহেশ তখনো ইরানের যায়নি। ২০০৩ সালের এপ্রিলে যখন মার্কিন বাহিনী বাগদাদে প্রবেশ করেছিল, তখন সাদ্দামের চূড়ান্ত পতন হয়েছিল। সাথে সাথে আমেরিকার হাত ধরে শুরু হয়েছিল বাগদাদে ইরানের উত্থান। ইরান গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাগদাদের যে শোচনীয় অবস্থা করেছে তার তুলনা বুয়াইহি, কারামতি, ফাতেমি, মোঙ্গল যুগে সংঘটিত সম্মিলিত বিপযয়কে হার মানাবে। অতীতে বুয়াইহি, কারামতি, ফাতেমি, মোঙ্গলরা বাগদাদ ও আহলে সুন্নাতের ওপর যে গণহত্যা, জুলূম নিযাতন চালিয়েছিল, ইরান গত ২০ বছরে একাই তার চেয়ে হাজারগুন বেশি জুলুম-হত্যা করেছে।
সিরিয়া-ইয়ামান বাদ দিয়ে, শুধু বাগদাদে ইরান কী করেছে, সেটা দেখার পর ন্যূনতম বোধবুদ্ধি থাকলেও কোনো ‘ইসলামিস্ট’ (!) ইরানের পক্ষে সাফাই গাইতে পারে না, ইরানের পক্ষাবলম্বন করতে পারে না। ন্যূনতম বিবেকবোধ থাকলেও কোনো ‘ইসলামিস্ট’ সাদ্দামের শাসনামলের বাগদাদ ও ইরানি আগ্রাসনপরবর্তী বাগদাদের তুলনা করতে পারে না। তারপর ইরানের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে ‘ইসলামিস্ট’ যুক্তি তুলে ধরে বলে, জাতশত্রু ইরাকের বিরুদ্ধে ইরান সুযোগ কাজে লাগাবে না?
-আচ্ছা, সুযোগ কাজে লাগানোর মানে ‘বড় শয়তান’ আমেরিকার সাথে যোগ দেয়া? একটা দেশকে ছারখার করে দেয়া? লাখো সুন্নী মুসলমানকে গুম-খুন-হত্যা-নির্বাসিত করা?
চতুর্থ প্রমাণ
চলবে…
--------
(c) উস্তায মাওলানা Atik Ullah
ইহুদি ও মুশরিকের লড়াই-৩
--
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর খোমেনির সাক্ষাতলাভে ধন্য হলেন সিরিয়ান ওলামায়ে কেরামের প্রতিনিধিদল। সাক্ষাতশেষে তারা বেজায় হতাশ। খোমেনি মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিয়েছে। অত্যন্ত শীতল আচরণ করেছে। শুধু তাই নয়, কথাবার্তার জন্য একজন দোভাষী রেখেছে। ভাবটা এমন যেন, খোমেনি আরবী জানে না। অথচ খোমেনি তেরো (১৯৬৫-১৯৭৮) বছর ইরাকের নাজাফ শহরে নির্বাসিত ছিল। খোমেনি আরবী বলা, পড়া ও লেখায় পারদর্শী ছিল।
সিরিয়ান প্রতিনিধি দল আবেদন করেছিল, খোমেনি যেন সিরিয়ান প্রেসিডেন্ট হাফেজ আসাদকে অনুরোধ করে, সিরিয়ান মুসলমানদের ওপর চলমান নিযাতন-নিপীড়ন বন্ধ করার কাযকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রতিনিধিদল সরলমনে বিশ্বাস করছিল, খোমেনি সত্যি সত্যিই ইসলামি বিপ্লব সাধন করেছে। যেমনটা এখনো অনেক ‘নির্বোধ’ মনে থাকেন। প্রতিনিধিদলের আবেদনের জবাবে খোমেনি আশ্বাস দিয়েছিল, সে হাফেজ আসাদকে বলে জুলুম-নিযাতন বন্ধ করবে। আশ্বাস পেয়ে গদগদচিত্তে প্রতিনিধিদল সিরিয়ায় ফিরে এল।
শায়খ সাঈদের মনে খচখচ করতে লাগল। তিনি স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। তার শুধু মনে হচ্ছিল, কোথাও বড় ধরণের গড়বড় হচ্ছে। প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মতো তিনি ভ্রান্তভ্রমে পড়ে থাকলেন না। খোমেনির আচরণ তাকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। তার বিশুদ্ধ আকীদার ‘ছাঁকনি’ খোমেনিকে সাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করতে বাধা দিচ্ছিল। অনেক চিন্তাভাবনা, খোঁজখবর করার শায়খ সাঈদ ছোট্ট এক পুস্তিকা লিখলেন। তার দল ইখওয়ানের খোমেনিপ্রীতি তাকে বড্ড পীড়া দিচ্ছিল। সাধারণ মুসলমান ও ইখওয়ানকে সতর্ক করে শায়খ সাঈদ ছোট্ট একটি পুস্তিকা রচনা করলেন। তাতে খোমেনির ভ্রান্ত আকীদা তুলে ধরলেন। পুস্তিকার নাম দিলেন (الخمينية شذوذ في العقائد شذوذ في المواقف) খোমেনী মতবাদের ভ্রান্তি।
বইটা মিসরে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন। পরে নিজেই মিসরে গেলেন। ইখওয়ান নেতৃবৃন্দকে অনাগত বিপযয় সম্পর্কে সতর্ক করতে। বলাবাহুল্য ইখওয়ান তার চিরাচরিত পথেই হেঁটেছে। শায়খের নসিহত গ্রহণ করেনি। বেশিরভাগ ইসলামী দলও তাই। নিজেদের গঠনতন্ত্রকে কুরআনের চেয়েও বেশি অকাট্য মনে করে। নিজেদের ভ্রান্তি সম্পর্কে বাইরের কারো পরামর্শ গ্রহণ করতে চায় না। সর্বকালে, সর্বদেশে এটাই ছিল ইখওয়ানের মূলবৈশিষ্ট্য, দলীয় মেনিফেস্টোর বাইরে পরামর্শ গ্রহণ করে না। অথচ শায়খ সাঈদ ইখওয়ানের কর্ণধার পযয়ের মানুষ ছিলেন। তার নসিহতও ইখওয়ানের মুখে রোচে নি।
এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক।
ইরানি শিয়াদের বিজয় মানে কি ইসলাম ও মুসলমানের বিজয়?
প্রথম উত্তর
খোমেনির ইরান কি মুসলমানদের স্বার্থে কাজ করেছে?
উত্তরটা পেতে আমরা ১৯৮২ সালের সিরিয়াতে যাবো। হাফেজ আসাদ ১৯৭০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল। দমনপীড়নের মাধ্যমে পুরো সিরিয়াতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সিরিয়ার হামা শহর ছিল ইখওয়ানুল মুসলিমুনের শক্ত ঘাঁটি। হামার ইখওয়ানিরা হাফেজের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদ করল। হাফেজ আসাদ হামা দমনের জন্য ছোট ভাই রিফআত আসাদকে দায়িত্ব দিয়েছিল। রিফআত সেনাবাহিনী নিয়ে পুরো হামা শহর ঘিরে ফেলল। ৮২ সালের পুরো ফেব্রুয়ারি জুড়ে হামা শহরে গণহত্যা চালাল। ৪০ হাজার মানুষ শহীদ হয়েছিলেন এই ক্র্যাকডাউনে।
এমন সঙ্গীন মুহূর্তে সিরিয়ান ইখওয়ানিরা অবাক হয়ে দেখল, ইরান থেকে এক ‘আয়াতুল্লাহ’এসেছে দামেশকে। আয়াতুল্লাহ সাদেক খালখালি (১৯২৬-২০০৩)। তাকে ইরানি বিপ্লবের কসাই বলা হয়। খোমেনি তাকে বিপ্লবী আদালতের প্রধান বিচারক বানিয়েছিল। বিপ্লববিরোধী, শাহের সমর্থক, ভিন্নমতের লোকদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কাযকর করতে এই সাদেক। কথিত আছে, তার হাতে মোট ৮ হাজার মানুষ মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিল। শেষজীবনে তার মধ্যে অতীতকর্মের জন্য অনুশোচনা দেখা দিয়েছিল। তালেবান বামিয়ানে বৌদ্ধমূর্তি ভাঙলে, সাদেক খালখালি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তার চমৎকার একটি আত্মজীবনী আছে।
সাদেক খালখালির আগমনে কোনো কোনো ইখওয়ানি বেশ আশাবাদি হয়ে উঠল। তাদের দুর্দিন বুঝি ফুরিয়ে এল। দুই বছর আগে খোমেনির কাছে আবেদন করা বুঝি এতদিনে স্বার্থক হল। ইখওয়ানিরা (তাদের অনুসারী অন্য ইসলামী দলও) সবসময় ঘোরের মধ্যে বাস করে। তাদের খোমেনি ঘোর কাটতে দেরি হল না। তারা অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করল, সাদেক খালখালি দামেশকে ঘোষণা দিল বেলায়েতে ফকীহ খোমেনির ইরান সবসময় সিরিয়ার সাথে থাকবে। ইখওয়ানুশ শায়াতিনের বিরুদ্ধে হাফেজ আসাদকে সমর্থন জুগিয়ে যাবে। হাঁ, সাদেক খালখালি ইখওয়ানুল মুসলিমুনকে সত্যি সত্যি ইখওয়ানুশ শায়াতীন বলেছিল। এটা ছিল স্যাম্পল। এরপর থেকে খোমেনির পুরো মিডিয়াশক্তি ইখওয়ানের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। হামা গণহত্যায় খোমেনি আগাগোড়া হাফেজ আসাদকে নিরংকুশ সমর্থন দিয়ে গেছে।
হামা গণহত্যার ৩০ বছর পরও ইরানের অবস্থানে সামান্যতম পরিবর্তন এসেছে? বাশার আসাদবিরোধী আন্দোলনে ইরানের অবস্থান কেমন ছিল? সিরিয়ার ইখওয়ান কি তাদের পীর-মুর্শিদ ইরানের কাছ থেকে কোনো সাহায্য পেয়েছিল? সিরিয়ান সাধারণ মুসলিম জনগণ ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সুবিধা পেয়েছিল? হাঁ, পেয়েছিল। ইরান তার সর্বশক্তি দিয়ে বাশারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল।
ইখওয়ানের বর্তমান নেতৃবৃন্দকে হত্যা, দেশছাড়া করেছিল। গোটা সিরিয়াজুড়ে ইরানি মিলিশিয়ারা অকল্পনীয় গণহত্যা চালিয়েছিল।
দ্বিতীয় উত্তর
চলবে…
--------
(c) উস্তায মাওলানা Atik Ullah
ইহুদি ও মুশরিকের লড়াই-২
--
হাজার হাজার ইরানি জনগণ তেহরান বিমানবন্দরে বাইরে জড়ো হয়েছে।
তথাকথিত মাহদি (المهدي المزعوم)-কে স্বাগত জানানোর জন্য।
আজ ফ্রান্স থেকে খোমেনি আসবে। বহুল প্রতীক্ষিত ১২-তম ইমাম।
শিয়াদের বিশ্বাস, তাদের বারোতম ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হাসান ৮৭৪ খ্রিস্টাব্দ
থেকে আত্মগোপনে আছেন। তিনি একদিন আত্মপ্রকাশ করবেন। আজ সেই কাঙ্খিত দিন। ইমাম সাহেব তার আত্মগোপন অবস্থা কাটিয়ে ধরায় ফিরছেন। শীয়াদের বিশ্বাস, বারোতম ইমাম কোনো গর্তে লুকিয়ে আছেন। আজকের ইমামও গর্ত ফ্রান্সের (Neauphle-le-Château) থেকে মাথা বের করেছেন। ফরাসি বিমান সসম্মানে ইমামকে নিয়ে আসছে। ফরাসি গোয়েন্দাদের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয় ‘মাহদি’ সাহেবকে ঘিরে রেখেছে।
টিভি দেখা শেষ।
এবার পত্র-পত্রিকার দিকে নজর বোলানো যাক। আরব ও মুসলিম বিশ্বের পত্র-পত্রিকাগুলোতে শুধু খোমেনি আর খোমেনি। পত্রিকাগুলো টপ টু বটম খোমেনি জোয়ারে সয়লাব। শুধু কি তাই? আরব ও মুসলিম বিশ্বের মসজিদ-মিম্বরও খোমেনি তুফান চলছে। ইরানে ইসলামি (?) বিপ্লব সাধিত হয়েছে। এমন অভূতপূর্ব বিজয় ইসলামের ইতিহাসে আর ঘটেছে বলে মনে পড়ে না। আরবের দিকে দিকে, মিম্বরে মিম্বরে ধ্বনিত হচ্ছে: হে আল্লাহ, খোমেনি ও তার সহযোগীদেরকে সাহায্য করুন। সদ্য প্রতিষ্ঠিত ‘ইসলামী রাষ্ট্র’-টিকে আবাদুল আবাদ স্থায়ী করুন। আমীন।
স্বপ্ন-কল্পনা শেষ।
এবার সম্বিত ফিরে দেখা যাক। আল্লাহপ্রদত্ত আকল কাজে লাগানো যাক। খতিয়ান বের দেখা যাক, গর্ত থেকে বেরিয়েআসা ‘ইমাম’, পরবর্তী দশ বছর ধরে মুসলমানদের সাথে কেমন আচরণ করেছে? ইমামের অনুসারীরা পরবর্তী ৪০ বছর ধরে কী করে আসছে?
সবাই ইরান, খোমেনি, ইসলামী বিপ্লব নিয়ে চরম উচ্ছ্বসিত। স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার কাটা ভীষণ বিপদ। জনরোষের মুখে পড়ে প্রাণ খোয়াতে হয়। তারপরও অল্পকিছু মানুষ আল্লাহর দেয়া ‘আকল’ কাজে না লাগিয়ে থাকতে পারেন না। অন্যদের মতো গা ভাসিয়ে দিতে পরেন না। বিবেক তাদেরকে কুটকুট করে কামড়ায়। তাদের বিশুদ্ধ আকীদা, পরিচ্ছন্ন চিন্তা, সত্যান্বেষী দূরদৃষ্টি, তাদেরকে মুদ্রার
অপর পিঠের দিকে তাকাতে বলে, পর্দার অন্তরালে কিছু ঘটছে কি না, খতিয়ে দেখতে বলে।
এমন একজন মানুষ হলেন শায়খ সাঈদ হাওয়া (১৯৩৫-১৯৮৯।
মাযহাবে হানাফী। আকীদায় আশআরী। তাসাউফে নকশেবন্দী। রাজনীতিতে ‘ইখওয়ানী’। ‘আল-আসাস ফিত-তাফসীর নামে তার ভিন্নধর্মী অসাধারণ এক তাফসীর আছে। তিনি ছিলেন সিরিয়ান ইখওয়ানুল মুসলিমুনের নেতা। তার প্রাণের দল ইখওয়ানও খোমেনিতে আকণ্ঠ বুুঁদ হয়ে আছে। ইখওয়ান এখনো খোমেনিয় ভ্রান্তি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেনি। এই ভ্রান্তির খেসারত গত চল্লিশ বছর ধরে ইখওয়ান দিয়ে আসছে। খোমেনীয় ভ্রান্তির সর্বশেষ শিকার মরহুম মুহাম্মাদ মুরসি। তিনি নির্বাচিত হয়েই তথাকথিত ইসলামী বিপ্লবের সূতিকাগার তেহরানে গিয়েছিলেন, তাওয়াফে যেয়ারত সারতে। প্রথমে মক্কায় না গিয়ে, কুমে যাওয়ার পরিণতিতে মুরসি মরহুমকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছে। মুরসিরই কী দোষ, পৃথিবীর খুব কম ইসলামি দলই খোমেনির হিপনোটিজম থেকে বাইরে থাকতে পেরেছে। তাই বলে এতদিন পরও ঘোর কাটবে না? সুবহানাল্লাহ।
শায়খ সাঈদের বিশুদ্ধ তাওহিদী ফিরাসতে খোমেনির ভাবগতিক সুবিধার ঠেকল না।
ইসলামের নামে যারা রাজনীতি করে, তাদের বেশিরভাগই দলীয় বয়ানের বাইরে যেতে পারে না। অধিকাংশই ইসলামের গোলামী করার জন্যই শুরুতে ইসলামী দলে যোগ দেয়। একসময় ইসলাম বাদ দিয়ে দলের গোলামে পরিণত হয়। শায়খ সাঈদ ছিলেন ব্যতিক্রম।
তেহরানে তখন রমরমা অবস্থা। বাজার গরম। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে একের পর প্রতিনিধি দল আসছে। খোমেনিকে পূজা দিয়ে যাচ্ছে। আরব, অনারব, মুসলিম, অমুসলিম কেউ বাকি নেই। মরক্কো থেকে সুমাত্রা পযন্ত খোমেনি আর খোমেনি। সেটা ছিল শীয়াগৌরবের চরম শিখর। বোধ করি ইতিহাসে আর কখনো শীয়াদের এমন উত্তুঙ্গ সাফল্য আসেনি। শিয়া ইতিহাসে শুধু দুজন ব্যক্তিই খোমেনির সাথে তুলনীয় হতে পারে,
১. বুয়াইহি রাজবংশের শাসক মুইজ্জুদ-দৌলা (৯১২-৯৬৭)। ৯৪৫ সালে এই খবিস শিয়া
আব্বাসী খলিফার দুর্বলতার সুযোগ বাগদাদের ওপর চেপে বসেছিল। তার হাত ধরেই বাগদাদে প্রথমবারে মতো তাজিয়া মিছিল, শিয়া আচার-অনুষ্ঠান পালন শুরু হয়েছিল। এই ব্যাটা খোমেনির মতো ইসনা আশারিয়া শিয়া ছিল।
২. কায়রো শহরের প্রতিষ্ঠাতা (!) আল-মুইজ (৯৩২-৯৭৫)। এই খবিস ইসমাঈলি শিয়া ছিল।নিজেকে ফাতেমার বংশধর হওয়ার ভুয়া দাবি করত। তথাকথিত ফাতেমি খিলাফাহর চতুর্থ খলীফা
ছিল এই লোক। তার আমলেই জামে আযহার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই শয়তানেরা আব্বাসী খিলাফাহর বিপরীতে ভ্রান্ত শিয়া খিলাফাহব্যবস্থা দাঁড় করিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা
সালাহুদ্দীন আইয়ুবি রহ.-এর মাধ্যমে এই ভূয়া খিলাফাহর পতন ঘটিয়েছিলেন।
আমরা শায়খ সাঈদ হাউয়ার কাছে ফিরে আসি। মুসলিম বিশ্ব তখন খোমেনি জোয়ারে হাবুডুবু খাচ্ছে। আমাদের বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম ছিল না। শায়খ সাঈদ সিরিয়ান ইসলামি স্কলারদের একটি দলের সাথে ভাসতে ভাসতে তেহরানে গিয়ে ভিড়লেন। উদ্দেশ্য? সদ্য গর্তনির্গত এমাম খোমেনির আশীর্বাদ লাভ। এমামের কাছে সংবাদ পাঠানো হল। সিরিয়া থেকেএকদল আলিম এসেছেন। এমামের সাক্ষাতপ্রার্থী। একদিন যায়, দুদিন যায়, এমামের পক্ষ থেকে সাড়া আসে না। একবার বলা হয় এমাম ভীষণ ব্যস্ত, ফারেগ হলেই দর্শন দিবেন। আবার বলা হয়, এমাম জরুরি মিটিংয়ে আছেন।
শায়খ সাঈদ ও তার দল অপেক্ষা করছেন-
একদিন ছুটি হবে, এমামের সময় হবে
(চলবে)
--------
(c) উস্তায মাওলানা Atik Ullah
বিসমিল্লাহ
ইহুদি ও মুশরিকের (والذين أشركوا) লড়াই - ১
---
১: আকল-বুদ্ধিবৃত্তি আল্লাহর নেয়ামত। আকলের সদ্ব্যবহার করতে পারা জীবনের অন্যতম সৌন্দর্য, শ্রেষ্ঠতম অর্জন, অনন্য যোগ্যতা।
২. আল্লাহ তার বান্দার মধ্যে নেয়ামতের প্রকাশ দেখতে ভালোবাসেন। আমি যদি আলকবুদ্ধিকে কাজে না লাগিয়ে অকেজো করে রাখি, তাহলে আমি ঐ ব্যক্তির মতো হয়ে গেলাম, যার কথা কুরআনে বলা হয়েছে,
قُلۡ مَنۡ حَرَّمَ زِینَةَ ٱللَّهِ ٱلَّتِیۤ أَخۡرَجَ لِعِبَادِهِۦ وَٱلطَّیِّبَـٰتِ مِنَ ٱلرِّزۡقِۚ
আল্লাহ নিজ বান্দাদের জন্য যে শোভার উপকরণ সৃষ্টি করেছেন, কে তা হারাম করেছে? এবং এমনিভাবে উৎকৃষ্ট জীবিকার বস্তুসমূহ? (আরাফ: ৩২)।
ইবরত: আল্লাহর কসম, নিঃসন্দেহে এটা এক মহা অপরাধ। আল্লাহর হকের প্রতি চরম অবহেলা, নিজের প্রতিও চরম অবমাননা। হক্কুল্লাহ ও হক্কুল ইবাদ উভয়ের লঙ্ঘন।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দুটি রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে।
ক. ১৯৪৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইহুদিরাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে।
খ. ১৯৭৯ সালে ইরানে শিয়ারাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে ।
আরো নিখুঁত করে বলতে গেলে প্রথমে ফ্রান্সের ‘নিয়াওফল লে শাটিউ (Neauphle-le-Château)-তে, তারপর রাষ্ট্রটিকে বিমান উড়িয়ে তেহরানে এনে প্রতিস্থাপন করেছে। যুগের দাজ্জাল লানাতুল্লাহ খোমেনির মাধ্যমে। ফরাসি বিমান খোমেনিকে তেহরানে নামিয়ে দিয়ে গিয়েছিল। খোমেনির সাথে পরামর্শক হিসেবে ছিল একদল ফরাসি গোয়েন্দা। খোমেনিকে যখন রেজাশাহ ইরান থেকে বহিষ্কার করেছিল, ইরাকে আশ্রয় নিয়েছিল। ইরাক থেকে বের হয়ে ফ্রান্সের উপরোক্ত শহরে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেছিল।
খেয়াল করলে দেখব, ই/হুদি ও ‘আল্লাজিনা আশরাকু’ উভয় রাষ্ট্রই এতদাঞ্চলের মাটি ও মানুষের সাথে খাপ খায় না। ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি কোনো দিক দিয়েই রাষ্ট্রদুটি স্থানীয় আবহাওয়ার সাথে ঠিকঠাক মিশ খায় না। সুন্দর শরীরে বিষফোঁড়া যেমন, অনেকটা তাই। চারপাশে আরব বসতি, পাশেই ‘ইহুদি ও আল্লাজীনা আশরাকু’, বেমানান লাগে না? এমনকি এই দুটি রাষ্ট্রের ভেতরেও, আরব অধ্যুষিত অঞ্চল (আহওয়াজ-গাযা) আর ‘ইহুদি-আশরাকু’ অধ্যুষিত অঞ্চলের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। দুটি রাষ্ট্রই জন্ম থেকে আরবদের গলার কাঁটা হয়ে আছে। আরবদের স্বাধীন গতিবিধিতে প্রতিবন্ধক হয়ে আছে।
ক. পূর্ব আরবের সাথে স্থলপথে পশ্চিম আরবের ভাইদের যোগাযোগের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে আছে ইহুদিরাষ্ট্র।
খ. শিয়ারাষ্ট্র স্থলপথে বাধা হয়ে আছে, আরব উপদ্বীপ, ইরাক, শামে থাকা মুসলিম ভাই ও মধ্য এশিয়ার মুসলিম ভাইদের মাঝে।
একদল নামধারী ‘ইসলামপন্থী, তথাকথিত ইসলামী ‘চিন্তাবিদ’ আমাদের বুঝ দিতে চায়, ইরানের পরাজয় মানে, ইসলাম ও মুসলমানদের পরাজয়। ইরানের বিপযয় মানে, মুসলিম উম্মাহর বিপযয়। ইরানের মার খাওয়া মানে তাওহিদের মার খাওয়া।
আল্লাহ তাআলা বিবেকবুদ্ধি দিয়েছেন। সেটা কাজে লাগানো আমাদের অবশ্যকর্তব্য। আচ্ছা, ইহুদি-ইরান প্রতিষ্ঠার পর থেকে এমন কোনো প্রকৃত যুদ্ধের নাম কি বলা যাবে, যেটা অনারব ও অমুসলিমের বিরুদ্ধে লড়েছে? একটাও নয়। দুটি রাষ্ট্রই জন্মামধি যত যুদ্ধে জড়িয়েছে, সবই আরব ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে। এবারই প্রথমবারের মতো দুটি রাষ্ট্র একে অপরের বিরুদ্ধে (হয়তো) প্রকৃত যুদ্ধে জড়িয়েছে। এই প্রথম তারা অনারব-অমুসলিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে।
দুটি রাষ্ট্র দীর্ঘদিন (৪০ বছর) ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে বাক্যবাণ ছুঁড়েছে, মাঝেমধ্যে মিসাইল-মিসাইল খেলেছে। মিডিয়াবাজি করেছে। ফুটেজ খেয়েছে। ইতিহাস বলে, আরব ও মুসলিমবিরোধী লড়াইয়ে দুটি রাষ্ট্র একে-অপরকে অস্ত্র ও অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করেছে। গত জুমাবার (১৩ জুন) থেকে প্রথমবারের মতো একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। তাহলে যে রাষ্ট্র কখনো আরব ও মুসলমান ছাড়া অন্য কারো বিরুদ্ধে লড়েনি, তার বিজয় বা পরাজয়ে আখেরে ইসলাম ও মুসলমানের কী লাভ? এই প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো উত্তর তাদের কাছে নেই। তারা হল ইহুদি ‘আহবার’-দের মতো, যারা,
تَجۡعَلُونَهُۥ قَرَاطِیسَ تُبۡدُونَهَا وَتُخۡفُونَ كَثِیرࣰاۖ
যে কিতাবকে তোমরা বিভিন্ন পৃষ্ঠা আকারে রেখে দিয়েছিলে, যার মধ্য হতে কিছু তোমরা প্রকাশ কর এবং যার অনেকাংশ তোমরা গোপন কর (আনআম: ৯১)।
ঠিক আছে, উত্তরটা না হয় আমরাই বের করার চেষ্টা করি। এই যুদ্ধে ইরান জয়ী হলে কী হবে?
কল্পনার টাইমমেশিনকে একটু পেছনে নিয়ে যেতে পারব?
১৯৭৯ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি। বাসায় টিভি আছে? টিভিটা খুলি। কী দেখা যাচ্ছে?
(চলবে)
--------
(c) উস্তায মাওলানা Atik Ullah
প্রতিদিন মনে করি থাক, শিয়াদের বিরুদ্ধে এখন কিছু না বলি। কিন্তু অনলাইনে, বিশেষ করে টুইটারে ঢুকি, শিয়াদের মন্তব্য দেখে মেজাজ এত খারাপ হয়। একদিকে তারা বলে ইরান অফিশিয়ালি সাহাবাদের গালাগালি করা নিষিদ্ধ করেছে, আরেকদিকে তারা বিভিন্ন নামে বেনামে, অকারণে শুধুমাত্র আহলুস সুন্নাহকে কষ্ট দেয়ার জন্য সাহাবাদের গালি দেয়।
ভাই ড্যানিয়েলের মত এখন হল অস্বিত্ব সংকট। এই মূহূর্তে শিয়ারা কবে কি করেছে, এটা নিয়ে আলোচনাটা ঠিক না। ওয়াহাবীরা এসব করে পরিস্থিতি নষ্ট করছে, এবং যায়োদের পারপাস সার্ভ করছে। তাহলে বট দিয়ে গালাগালি করে, সুন্নীদের উসকে দেয়ার কাজটা কারা করছে? যদি ধরেও নেই যে, যায়োরা এসব করাচ্ছে, তাহলে তারা অন্তত এগুলো কেনো বলছে না, যে এসব যায়োদের কাজ? তারা শিয়া সেজে বিভেদের জন্য এসব করছে। কারণ এটা বললেই গেইম ওভার। তখন শিয়াদের কোর বিষয়গুলোকেই ইয়াহুদীদের ষড়যন্ত্র বলে মেনে নেয়া হবে, এবং ওই ট্যাগিং এর পথ উন্মুক্ত হয়ে যাবে। তাই তারা ওই বিষয় আলোচনাই টেবিলে আনবে না।
ওয়েট এ্যা মিনিট! এখন শিয়ারা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে, নট ওভারঅল মুসলিম। মুসলিমরা ওভারঅল, বিশের করে আহলুস সুন্নাহ অনেক আগে থেকেই এই সংকটে আছে। হিপোক্রেসির জায়গাটা হল যে, আমরা সেই সময়গুলোতে এতটা ওভার রিএ্যাক্ট করি না, এক্সেপ্ট ফালিস্তিন!
ইয়েমেনের উদাহরণ দেয় যায়। আমরিকা কতদিন ধরে ইয়েমেনে এ্যাটাক করতেসে বলেন তো? প্রায় ২৫ বছর ধরে। আপনারা হয়ত জানেনও না। সময়ে সময়ে তারা স্ট্রাইক করে। অনেক সময় সাধারণ মানুষের বসতিতে, এমনকি বিয়ের যাত্রীদের উপরও তারা স্ট্রাইক করেছে। সৌদী-হুথি যুদ্ধ তো পরে শুরু হয়েছে, যখন হুথিরা ইরান থেকে ক্ষেপনাস্ত্রগুলো পেলো, যা দিয়ে সহজেই সৌদি, আমিরাতের টার্গেটগুলোতে আঘাত হানা যায়। তারাও বোকার মত মাথা খারাপ করে হুথি দমন করতে গিয়ে নির্বিচারে বমবিং করেছে, অথচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আহলুস সুন্নাহ এবং যায়িদীদের সাধারণ মানুষ।
এই যে দেখেন আমরা স্বীকার করতেসি যে, সৌদী-আমিরাত তাদের প্রতি হুমকি দমন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষদের রক্ত ঝরিয়েছে। কিংবা দাঈশের কথাই ধরেন, দাঈশের অপরাধ এবং সমস্যাটা আমরাই ইন ডিটেইলস টু দা পয়েন্ট তুলে ধরেছি যে, তারা ক্ষমতার জন্য অন্যায়ভাবে মানুষদের ম্যাস কিলিং করে। একিউ-তালিবদের হাতেও বিভিন্ন সময় ভুল হয়েছে, তারা বেশীরভাগ সময়ই শুধরে নিয়েছে, স্টিক থাকে নি ওইসব কাজে - যা শরীয়াহ এ্যালাউ করে না। এছাড়াও আহলুস সুন্নাহ অধ্যুষিত দেশগুলোর আর্মি এবং প্রশাসনের পশ্চিমা তাবেদারী, জুলুম-নিপীড়নে, দুর্নীতির ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহই বেশী সোচ্চার। অথচ আপনি শিয়া কিংবা শিয়া সিম্প্যাথাইসার কাউকে কখনো সিরিয়াতে আসাদ পরিবার এবং হিজবুল্লা, এবং ইরাকে শিয়া-মিলিশিয়া এবং পুরো অঞ্চল জুড়ে ইরানী শিয়া সুপ্রীমিস্টদের অপরাধগুলো কখনোই বলা তো দূরের কথা, স্বীকারও করতে দেখবেন না। তাদের কোন ইথিকস আমি দেখি না।
বরং আমরা দেখি আহলুস সুন্নাহর বিপদের সময়ে কারা শত্রুদেরকে আরো বেশী সাহায্য করেছে। কারা তাদের দোষ খুঁজেছে, গুটি কয়েক জালিম, কিংবা নির্বোধের ইস্যুকে কেন্দ্র করে পুরো দেশের জনগণের উপর নিপীড়ন চালানোর জন্য নিয়মিত কনসেন্ট জেনারেট করেছে। আমি এইসব কথা বলতাম না, কিন্তু বারবার বলবো এখন থেকে এই জন্য যে এরকম মূহুর্তেও, তারা তাদের শয়তানি থামায় নি। বরং তারা বর্তমানে যুদ্ধের ইভেন্টটাকে ক্যাশ অন করে, আরো বেশী আহলুস সুন্নাহর উপর দোষারোপ করতে চাচ্ছে, এবং নিজেদের নির্দোষ, নির্ভুল - তাইফাতুল মানসুরা প্রমাণ করতে চাচ্ছে। তাও মানা যেত, কিন্তু এগুলোর পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন বট আইডি এসে সাহাবাদের সাথে গোস্তাখি করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
শাইখ কারযাভীর কথা দিয়ে শেষ করছি। উনি এতই শিথীলতা অবলম্বন করেছেন, আমাদের অনেকেই তাকে পছন্দ করেন না। যাই হোক, তিনি পর্যন্ত বলেছেন যে, তিনি শিয়াদের সাথে কাজ করার ইচ্ছা করেছিলেন, যেন একটা বন্ডিং হয়, দূরত্ব কমে আসে, আমাদের শক্তিটা একটু বাড়ে। কিন্তু তিনি একটা পর্যায়ে বুঝলেন যে, তারাই আসলে ঐক্য চায় না। তারা ভান করে যে, তারা ঐক্য চায়, কিন্তু সেটা একটা তাকিয়া। তারা হিজবুল্লা না, হিজবুশ শয়তান।
আমি আপনাদের আরেকটা ইতিহাস নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে বলবো, সেটা হল যে, কিভাবে সুন্নী ইরান শিয়া হয়ে গেলো। কোন দাওয়াহ টেকনিক অবলম্বন করলে কিছু প্রজন্ম পরে পুরো জনগোষ্ঠি আহলুস সুন্নাহ ছেড়ে নিজেদের শিয়া হিসেবে পরিচয় দেয়।
কেনো আমাদেরকে এখনও এসব বলতে হচ্ছে? কারণ হচ্ছে তাদের শয়তানি। তাদের নেতা, বিজ্ঞানীরা মরছে, এই মূহূর্তেও তাদের আহলুস সুন্নাহর প্রতি বিদ্বেষ থামে নি, এখনে তারা অনলাইনে উম্মুল মু'মিনীদের শানে বেয়াদবী করছে, খলিফাদের শানে বেয়াদবী করেই যাচ্ছে। আপনারা হয়ত ফেসবুকে বাঙ্গালী কমিউনিটির মাঝে এসব কম দেখেন, কিন্তু বাহিরে এগুলো ঠিকই চলছে।
হা_মাসকে সাহায্য করা নিয়ে তাদের খুব অহংকার না? আপনারা হয়ত জানেন না, এই অযুহাতে গাযযাতে তারা শিয়া দাওয়াহ সেন্টার টাইপের কিছু বানাতে চেয়েছিল। হা_মাস অনেক কৌশল করে কোন রকমের রাফিযী ইনফ্লুয়েন্স বন্ধ করে। এটা নিয়ে কিছু ক্ল্যাশও হয়। এমনকি হা_মাসের চেয়ে ইসলামিক জি_হাদ রাফিযীদের ব্যাপারে বেশী নরম। এই দুই দলের মধ্যেও এসব নিয়ে ডিসপিউট আছে। সিরিয়া ইস্যুতে ইসলামিক জি_হাদ কিন্তু বাশশারের পক্ষ নিয়েছিল, হা_মাস নেয় নি।
শিয়ারা যদি সুন্নীদের প্রতি তাদের লীডরাদের প্রতি এরকম হিংসাত্নক মানোভাব এবং কাজ না করতো, তাহলে আমাদেরও তাদের প্রতি এত বিদ্বেষ থাকতো না। কিন্তু এখনও তাদের সমর্থকদের কোনো রকম অহংকার কমে নাই। যুদ্ধ আসছে, যাচ্ছে, শেষ হবে, আবার শুরু হবে। হাইপ বাজরা হঠাৎ হাইপড হবে, যত দ্রুত হাইপড হয়েছে, তত দ্রুতই আবার মিইয়ে যাবে। কিন্তু লং গেইমে যারা আগ্রাহী, তাদের এই বিষয়গুলোতে ক্লিয়ারিটি থাকা প্রয়োজন।
-----
Bearded Bangali
উসমান রা. এর পিতা আফফান কোরাইশদের মধ্যে উমাইয়া শাখার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ব্যাক্তিত্ব ছিলেন। পিতার মৃত্যুকালে একেবারেই তরুণ ছিলেন উসমান রা.। পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরেন তিনি।
আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত করেন। এমনকি আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মত করে লোকেদের উপর বিপুল বিনিয়োগ করেন তিনি। অল্পকালেই হয়ে উঠেন মক্কার বিজনেস আইকন। বিশাল সোনার মজুদ গড়ে তোলেন।
গবাদিপশু, কাপড় ইত্যাদি ছাড়াও আমদানি-রফতানি নির্ভর নানাবিধ ব্যবসা ছিল তার। সেকালেও তার স্বর্ণ-রৌপ্য মুদ্রার মালিকানা মিলিয়নে হিসাবযোগ্য ছিল।
উসমান রা ছিলেন সেইসব মানুষদের একজন, যারা জাহিলিয়াতের যুগেও ছিলেন পবিত্র। তিনি সে সময়েও কখনো মদ পান করেন নি, কোনও জ্বিনায় লিপ্ত হন নি, এমনকি তার নিজের ভাষায়, 'তার ডান হাত কখনো দেহের কোনও গোপন অংশ ছোঁয় নি।'
কখনো গানের (সে সময়কার প্রচলিত) মজসিলে যান নি। অন্যদের মত তিনি বিনোদনের জন্য জুয়াও খেলতেন না। তিনি সিরীয় ও আবিসিনিয় সভ্যতা স্বচক্ষে দেখেছেন, যে অভিজ্ঞতা আরবে ছিল তখন বিরল। তিনি আরবি কবিতায় পারদর্শী ছিলেন।
সেইকালেও তিনি ছিলেন প্রখ্যাত ইতিহাস বর্ণনাকারী, বংশধারা বিশেষজ্ঞ, প্রবচনবিদ, সুবক্তা। এত সব গুণাবলী ও সমৃদ্ধি থাকা স্বত্ত্বেও তিনি কখনো লোকেদের নিচু চোখে দেখেন নি। কারও প্রতি তুচ্ছ সম্বোধন করেন নি। বিবাদে লিপ্ত হন নি।
যাবতীয় মানবিক গুণে এত উত্তম রূপে গুণান্বিত ছিলেন যে, তিনি ছিলেন লোকেদের মধ্যে প্রবাদ-প্রতিম ভালোবাসার প্রতীক। আরবের নারীরা তাদের সন্তানদের আবৃত্তি করে শোনাত, "আমি তোকে ততটাই ভালোবাসি, যতটা বাসে কুরাইশরা উসমানকে।"
অথচ ইসলামকে আলিঙ্গন করা মাত্রই তার উপর লোকেরা অত্যাচার শুরু করলো। দুই হাত, দুই পা বেঁধে, স্যাঁতস্যাঁতে বদ্ধ, অন্ধকার কুটুরিতে তাঁকে আবদ্ধ করে রাখত। অত্যাচার চরমে পৌঁছুলে ইথোপিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
যে মানুষটা ইসলামের ছোঁয়ার পূর্বেই এত উত্তম ছিলেন, সে মানুষটা ইসলামের স্পর্শে এসে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে। আবু-বকর আর উমার ছাড়া কেউই আর তাঁকে অতিক্রম করতে পারে নি। তিনি ইসলামের জন্য অকাতর দান করেছেন।
প্রত্যেক জুমায় তিনি দাসদের ক্রয় করে মুক্ত করতেন। কেবল তাবুক যুদ্ধে তিনি যে স্বর্ণ ও স্বর্ণমুদ্রা দান করেছিলেন তার ওজন ছিল ১০ কেজি পরিমাণ। এছাড়াও তিনি এতে যুদ্ধ সাজে সুসজ্জিত ৯ শত উট দান করেছিলেন।
তার গৃহ ছিল পাথরের সর্বোচ্চ সজ্জায় সজ্জিত। দরজা ছিল স্যান্ডাল উডের। যা থেকে বেরুত সুগন্ধি। অথচ এই মানুষটাই ৭ নভেম্বর ৬৪৪ সালে যখন দায়িত্ব নিলেন খেলাফতের। ১২ টা বছর শাসন করলেন। একটি টাকাও রাজকোষ থেকে নেন নি।
জনগণের সেবায় নিজেকে ধুলির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিলেন। লোকেদের দ্বারে দ্বারে উপস্থিত হয়ে তাদের খোঁজ নিতেন। তিনি আরাবিয়ান পেনিনসুলার প্রান্ত থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত মুসলিম ভূমির বিস্তৃতি রচনা করেন।
এই মানুষটাও চক্ষুশূল হয়েছিলেন কারো কারো। মুসলমানদের এক উগ্র অংশের হাতে শহীদ হন তিনি। মুসলিম সমাজে বেশি বোঝা এই অংশটা আজীবন উম্মাহর ক্ষতির কারণ হয়েছে। কেবল নিজেদের মত, চিন্তা আর বুঝকে ঠিক মনে করা!
----
©️ আরজু আহমেদ ভাই
14/06/2024
১২-ইমাম মানা ফরজ- তত্বের রচয়িতা আবদুল্লাহ ইবনে সাবা তো শুরুর দিক পর্যন্ত ভিত গড়ে দিয়েছিল ইহুদিজাত শিয়া ধর্মের। কিন্তু এরপরে অনেকটা সময় ধরে এতিমের মত আগে বাড়তে থাকে শিয়া ধর্ম। মাঝে মাঝে ইমাম-দাবি নিয়ে ভেজাল চলতে থাকে, কিছু ভাগ বাটোয়ারাও হয়।
সর্বশেষে আহলে বাইতের মধ্যে থেকে তাদের দাবিকৃত ১১তম ইমাম আসকারীর কোন সন্তান না হলে ১২তম ইমামের নামে কিচ্ছা রটিয়ে দেয়া হয় যে সে জন্মিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে ভেগে গেছে।
এভাবে কেটে যায় ১২০০ বছরের বেশি। পারস্যের মাজুস সংস্কৃতির প্রভাবদুষ্ট শিয়া ধর্মে বলা হয়ে আসছে শেষ সময়ে ১২ নাম্বার ইমাম পলাতক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবে,আরবদের মা**বে,সাহাবীদের কবর থেকে তুলে শাস্তি দিবে, ইহুদিদের সাথে শ্ত্রুতার অবসান করবে ইত্যাদি। মূলত এটাকে দাজ্জাল বরণের প্রস্তুতিই বলা চলে।
শিয়া মাল #ঊনদের আরেক উপকথা হল, ইরাকের সামারা গুহা কিংবা ইরানের যামকারানের কূপে ইমাম এর সংযোগ রয়েছে। যেকারণে এসব কাফির-মুশরিকরা যামকারাণ কূপে ভোটবাক্সের ন্যায় চিঠি ফেলে ইমামের কাছে প্রার্থনা করে।
acid test!
শিয়াদের নিয়ে যদি আপনার মনে কোন খটকা থাকে, তাহলে একজন
১২- ইমামি শিয়া ব্যক্তিকে খুঁজে বের করুন।
প্রথমেই দেখবেন, নিজের ১২-ইমামি পরিচয়কে "জাফরি" চাদর দিয়ে ঢাকতে চাইবে।
এরপরে তাকে শুধু ২ টি প্রশ্ন করুন-
১. প্রথম ৩ খলিফা সহ সাহাবাদের মেজরিটি কি ঈমানদার ও জান্নাতি?
২. আবু বকর/উমর/উসমান(রা) এর খিলাফত আলী(রা) এর আগে - এটা মানলে কি জান্নাতে যাওয়া যাবে ?
দেখবেন এত স্ট্রেইটফরওয়ার্ড প্রশ্নেও কত প্যাচানো শুরু করে এবং সরাসরি জবাব না দিয়ে রাফেদী কিচ্ছা-কাহিনী আওড়ানো শুরু করে!
এরপরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফাঁকা গুলি ছোড়া গোষ্ঠীর ব্যাপারে কোন প্রকার সহমর্মিতা দেখানোর আগে নিজের আকিদার অবস্থা নিয়ে ভাবুন।
20/05/2024
ছবির স্থানটা অনেক সুন্দর আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে না আপনাদের কাছে?
ইরানি শিয়াদের মতে সে একজন জাতীয় হিরো। তার কবর গুরুত্বের সাথে সংরক্ষণ করা হয় এবং সাফাভিদের সময় থেকে ঘটা করে তার মাজারে পুজা দেয়া হয়।
--
আপনি কি জানেন এটা কার মাজার?
পারসিক গোলাম অগ্নিউপাসক আবু লুলু ফিরোজ এর। যে ওমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুকে খুন করেছিল।
জ্বি, ইরানিরা তার মাজার বানিয়েই পুজা করছে।
----
© Abdullah Almahmud
ইমাম আল হাফিজ আল ফাকীহ ইব্রাহীম ইবনু মাইসারাহ রহ. বলেন,
আমি হজরত ওমর ইবনু আব্দিল আযীয রহ. কে কখনই কোন মানুষকে পেটাতে দেখিনি তবে যারা মুয়াবিয়া রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর সমালোচনা করে তারা ব্যতীত। কেননা তিনি তাদের বেত্রাঘাত করতেন।
أنا جعفر بن عبد الله بن يعقوب قال : أنا محمد بن هارون الروياني قال : نا أبو كريب قال : نا ابن المبارك ، عن محمد بن مسلم ، عن إبراهيم بن ميسرة قال :ما رأيت عمر بن عبد العزيز ضرب إنسانا قط ، إلا إنسانا شتم معاوية ، فضربه أسواطا .
[শারহু উসূলি ইতিক্বাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, লালকাঈ ৭/১৩৪১ ক্রম:২৩৮৫; তারীখু দিমাশক্ব, ইবনু আসাকির ৫৯/২১১- এই বর্ণনার সনদসূত্র হাসান পর্যায়ের। এছাড়াও এর মাঝে মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম আত ত্বায়েফী নামক রাবী সদূক হলেও সামান্য ভুল-ত্রুটি রয়েছে। (তাকরীবুত তাহযীব:৬২৯৩)]
হজরত আবু বকর ইবনু সিনদী রহ. বলেন, আমি ছিলাম, উপস্থিত ছিলাম অথবা শুনেছি যে, আবু আব্দিল্লাহ (ইমাম আহমাদ রহ.) কে কেউ প্রশ্ন করলঃ আমার একজন মামা আছে যিনি মুয়াবিয়া রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর সমালোচনা করে, মাঝেমধ্যে আমি তার সাথে খাওয়া-দাওয়া করি। এই কথা শুনে ইমাম আবু আব্দিল্লাহ দ্রুত বললেনঃ তার সাথে তুমি আর খেওনা।
وقال أبو بكر بن سندي: كنت، أو حضرت، أو سمعت أبا عبد الله وسأله رجل: يا أبا عبد الله، لي خال ذكر أنه ينتقص معاوية، وربما أكلت معه، فقال أبو عبد الله مبادرا: لا تأكل معه.
[আস সুন্নাহ, খল্লাল: ৬৯৩ - সনদ সহীহ।]
ইমাম ইবনু কাসীর রহ. বলেন,
কতিপয় ওলামায়ে কেরাম হজরত মুয়াবিয়া ও হজরত ওমর ইবনু আব্দিল আযিযের আলোচনায় বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জি/হা/দে/র ময়দানে মুয়াবিয়া রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর একদিন উপস্থিত থাকার মর্যাদা ওমর ইবনু আব্দিল আযীয রহ. ও তাঁর অন্যান্য দিন সমূহ এবং তাঁর পরিবার পরিজন থেকেও অনেক উত্তম।
وقال بعضهم، في معاوية وعمر بن عبد العزيز: ليوم شهده معاوية مع رسول الله صلى الله عليه وسلم خير من عمر بن عبد العزيز وأهل بيته.
و في البداية و النهاية: ........... وأيامه وأهل بيته.
[আল বায়িসুল হাসীস ইলা ইখতিসারি উলূমিল হাদীস পৃ.১৮১; আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৯/২২৫]
---- ----
Abdullah Al Mamun
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka