কুরআনের সৌন্দর্যে প্রতিটি হৃদয় হোক সজ্জিত ৷ কুরআনের আলোতে প্রতিটি হৃদয় হোক আলোকিত ৷
কুরআন শিক্ষাই হোক শিক্ষার সূচনা
কুরআনুল কারীম আল্লাহর কালাম। বান্দার জন্য আল্লাহর পয়গাম। কুরআনকে ইবাদতগ্রন্থ বলা হয়নি; বলা হয়েছে পথপ্রদর্শক। এই কুরআনকে শুধু জায়নামাযে দাঁড়িয়ে পড়ার জন্য নাযিল করা হয়নি বরং জন্মের পর থেকে জান্নাতে প্রবেশ পর্যন্ত মানুষকে তার প্রতিটি কদমে দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্যই নাযিল হয়েছে। এক কথায় মানবতার ক্যাটালগ বা হেদায়াতগ্রন্থ।
কুরআনের মাহাত্ম্য অতুলনীয়। কুরআন নিজে দামি ও সম্ম
ানিত। কুরআনের সঙ্গ যে পায় সেও দামি ও সম্মানিত হয়। যেমন কুরআনের গিলাফ, রেহাল ইত্যাদি। যে বান্দা কুরআন পড়ে, কুরআন নিয়ে স্বপ্ন দেখে, কুরআনের খেদমত করে, কুরআন ও সুন্নাহর মতে জীবনযাপন করে সেও এই ধরায় যত বান্দা আছে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত।
এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থাৎ কুরআন তেলাওয়াত শেখার জন্য সর্বোত্তম সময় হচ্ছে শৈশবকাল এবং এর জন্য উপযুক্ত জায়গা হলো সকাল বেলার মক্তব। প্রতিটি শিশুর/মানুষের কুরআন শেখার এবং ইসলাম সম্পর্কে প্রাথমিক ও মৌলিক জ্ঞানার্জনের উত্তম শিক্ষাকেন্দ্র হলো এ কুরআনি মক্তব। এখান থেকেই শিশুরা কুরআন তেলাওয়াত শেখার পাশাপাশি নামায-রোজার নিয়ম-কানুন, জরুরি মাস্আলা-মাসায়েল, দু‘আ- কালাম ইত্যাদি শিখতে পারে। তাই সকাল বেলার মক্তবের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
বিখ্যাত দার্শনিক কবি আল্লামা ইকবাল রহ. অনেক আফসোস করে যা বলেছেন তার সারমর্ম হলো, যদি এ মক্তব মাদরাসাগুলো না থাকতো, মুসলমানের সন্তানরা পশ্চিমা ইহুদি খ্রিস্টানদের অন্ধ অনুকরণে নিজেদের মুসলমান পরিচয়ও হারিয়ে ফেলত। মুছে যেত মুসলমানদের আদর্শ,স্বকীয়তা, আত্মগৌরব।
অত্যন্ত কষ্টের কথা হলো, এমন দরকারি মক্তবগুলো আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে মক্তবের উপযুক্ত সময় (ভোর/সকাল) দখল করে নিয়েছে আধুনিক শিক্ষার নামে নানা প্রতিষ্ঠান। যে সময়টাতে ছোট সোনামণিরা কায়দা-কুরআন বুকে ধারণ করে যাওয়ার কথা মক্তব-মাদরাসায়, তখন এক গাদা বইয়ে ঠাসা ভারী ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছে ভিন্ন কোনো শিক্ষালয়ে। কোথাও কোথাও মক্তবগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এমনিতেই বন্ধ হয়ে গেছে। আবার কোথাও কোথাও যাও চালু আছে, সেগুলোতেও আগের মতো জৌলুস নেই। শিশুদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। নামে মাত্র চলছে সেগুলো। এভাবে চলতে থাকলে ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষার এ অবারিত ও ঐতিহ্যগত প্রতিষ্ঠান চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। পরিণত হতে পারে অতীত ইতিহাসে।
আমাদের দেশের বুজুর্গ মনীষী হযরত মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ. এ জন্যই বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রামে ৬৮ হাজার কুরআনি মক্তব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় দেশে বহু মক্তব-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ‘নূরানী’, ‘নাদিয়া’, ‘নূরিয়া’ সহ মক্তবের খেদমতে নিয়োজিত বহু প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা এ ধারার উজ্জল দৃষ্টান্ত। মক্তব প্রতিষ্ঠার চেতনা আমরা লাভ করেছি তাঁরই খলিফা ও জামাতা এবং শাইখুল হাদীস আল্লামা আব্দুল হাই পাহাড়পুরী রহ. থেকে।
মক্তবের গুরুত্ব ও প্রয়োজন :
**********************
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে কুরআন শিক্ষার মক্তব। আগের মত এখন আর কঁচিকাঁচা শিশুদের কুরআন শিক্ষার জন্য মক্তবে যেতে দেখা যায় না। কালিমা আর আলিফ, বা, তা এর শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেনা জনপদ। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ছিল কুরআন শুদ্ধ করে পড়তে জানে এমন একটি মেয়েই হবে ঘরনী, যাতে বাড়িঘর কুরআনের শব্দে বরকতময় হয়ে উঠে। এখন সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে মুসলিম এই রাষ্ট্র থেকে।
শিশুদের কোরআন শিক্ষার এবং ইসলাম সম্পর্কে প্রাথমিক মৌল জ্ঞানার্জনের উত্তম শিক্ষা কেন্দ্র হলো এ কোরআনি মক্তব। এখান থেকে শিশুরা বিশুদ্ধ কোরআনের তেলাওয়াত শেখার পাশাপাশি নামাজ রোজার নিয়ম কানুন, জরুরি মাসআলা-মাসায়েল, দোয়া-কালাম ইত্যাদি শিখতে পারে। কিন্তু এমন পাঠশালা থেকে এখন আর অবধারিত রোজ সকালে কঁচিকাঁচা শিশুদের কন্ঠে শোনা যায় না কোরআনের আওয়াজ। শিশুদের অভিবাবকদের অবহেলার কারণে মসজিদের ইমাম সাহেবরা এখন মক্তবে কোরআন পড়ানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। যার কারণে এলাকায় শিশু কিশোররা কোরআন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মধ্যযুগে মুসলিম বিশে^ প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোকে মক্তব বলা হত। এগুলোর সময়কাল ১০ শতক। উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত মাদরাসার মত মক্তব গুলোও মসজিদের সাথে সংযুক্ত থাকত। মক্তবের ব্যয় নির্বাহের জন্য উপমহাদেশে সুলতানি ও মুঘল শাসনামলে লাখো রাজ সম্পদের ব্যবস্থা করা হত। এই ব্যবস্থা মদদ-ই-মাশ নামে পরিচিত ছিল।
১১ শতকে বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ও শিক্ষক ইবনে সিনা তার একটি বইয়ে মক্তবে কর্মরত শিক্ষকদের দিক নির্দেশনার জন্য একটি অধ্যায় রচনা করেন যার নাম ছিল “শিশুদের প্রশিক্ষণ ও বেড়ে তোলায় শিক্ষকের ভুমিকা”। তিনি লিখেছেন যে একজন শিশু ব্যক্তিগতভাবে গৃহশিক্ষকের চেয়ে শ্রেণীকক্ষে অধিক উত্তমভাবে শিক্ষালাভ করতে পারে। এর কারণ হিসেবে তিনি ছাত্রদের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা এবং দলগত আলোচনা ও বিতর্কের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।
পিসব স্বল্প পরিসরে শিক্ষা, সেবা, স্বাবলম্বী ও পূণর্বাসন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অসহায় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অংশগ্রহণকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
তার পাশাপাশি ইসলামি চিন্তা-চেতনা ও মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে ২০১৬ সাল থেকে প্রান্তিক সুবিধাবঞ্চিত এলাকার ইমাম ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, দৈনিক পাঠ পরিকল্পনা (শিক্ষক গাইড) সংকলন ও বিতরণ কার্যক্রম এবং কর্মব্যস্ত ও বয়স্কদের জন্য মাসব্যাপী বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে।
তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ৮৭ হাজার গ্রামে ৮৭ হাজার মক্তব বা স্কুল প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য পিসব গ্রহণ করেছে ‘আলোকিত মক্তব’ প্রকল্প।
আসুন, আমরা আমাদের নিজ নিজ গ্রামে বা এলাকায় আলেম সমাজের সাহায্য নিয়ে দ্বীনি শিক্ষার প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে প্রভাতি বা সকালের মক্তব চালু করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করি। চালু করি বন্ধ হয়ে যাওয়া মক্তবগুলো। প্রত্যেক মহল্লায় বা পাড়ায় গড়ে তুলি নতুন নতুন আলোকিত মক্তব। আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলি বিশুদ্ধ কুরআন তেলাওয়াতকারী হিসেবে।
আমাদের প্রচেষ্টায় ,,,, (২০১৬—২০২২)
আলোকিত মক্তবে বর্তমানে অর্ধশত মসজিদে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৭০০ জন (ভর্তি ফরম অনুযায়ি)।
বিনামূল্যে বয়স্ক কুরআন শিক্ষা কোর্সে অংশগ্রহণকারী (ভর্তি ফরম অনুযায়ি) ১৫টি জেলায় ১১,৩৯৪ জন শিক্ষার্থী (২০১৬—২০২২)।
বর্তমানে বয়স্ক কুরআন শিক্ষা কোর্সে ২৫ টি মসজিদে ৮০০ জন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে শিক্ষা অর্জন করছে এবং
ফরজে আইন দ্বীন শিক্ষা কোর্সে ১৬টি মসজিদে ৭৫০ জন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে শিক্ষা অর্জন করছে।
ইমাম ও শিক্ষক প্রশিক্ষণে ৩/৭/১০/২০ দিনের কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন ১২৮০ জন।
আলোকিত মক্তবের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ
**********************
আলোকিত মক্তবের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল-
○ শিক্ষার্থীদেরকে বিশুদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক, নৈতিক এবং মানবিক গুনাবলির উৎকর্ষ সাধন করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।
○ শিক্ষার্থীদেরকে ইসলামের আলোকে আলোকিত মানুষ হিসেবে দ্বীনের খেদমত করার উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা।
○ ঐতিহ্যের মক্তবের উন্নয়ন, সংস্কার ও বিস্তারে ব্যাপক এবং সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
আলোকিত মক্তবের কার্যাবলিঃ
**********************
○ বিশুদ্ধ উচ্চারণে কুরআন শিক্ষা দেয়া ।
○ শিশুদের অনুশীলন ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা।
○ দৈনন্দিনের মাসনুন দু‘আ ও মাস্আলা শিক্ষা দেয়া।
○ শিশুদের উপযোগী ভাষায় আকায়েদ, আদব ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া।
○ শিশুদের উপযোগী ভাষায় সিরাত ও ছোট ছোট হাদিস শিক্ষা দেয়া।
○ ইসলামের ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করা।
আলোকিত মক্তবে প্রাথমিক পাঠদানের বিষয়ঃ
**********************
○ কায়দা ও আমপারা
○ কুরআন শরীফ নাযেরানা ও তাজবীদ
○ মাসনুন দু‘আ ও মাস্আলা মাসায়েল
○ শিশু আকায়েদ ও আদব/শিষ্টাচার
○ শিশু সীরাত ও হাদীস
আলোকিত মক্তব এর শিক্ষাদান পদ্ধতিঃ
**********************
○ সেমিস্টার পদ্ধতিতে দৈনিক দুই ঘন্টা ক্লাস হবে।
○ পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষক নির্দেশিকা অনুসরণ করা হবে।
○ কুরআন ও তাজবীদ ক্লাস/শিক্ষাদান আল্লামা আব্দুল হাই পাহাড়পুরী রহ. প্রবর্তিত নূরিয়া পদ্ধতিতে আলোকিত মক্তব’র নির্ধারিত সিলেবাস/দৈনিক পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন প্রথম এক ঘন্টা ক্লাস হবে।
○ ২য় এক ঘন্টা আকায়েদ, আদব ও শিষ্টাচার, সীরাত, হাদিস, মাসায়েল ও মাস্নূন দু‘আ ২০ মিনিট করে আলোকিত মক্তব’র নির্ধারিত সিলেবাস ‘আলোকিত পাঠ’ (তিন খন্ডে) বইয়ের আলোকে ক্লাস হবে।
○ ‘আলোকিত পাঠ’ তিন খন্ডে মোট ৬২ টি পাঠ রয়েছে। একেক পাঠ চার দিন করে ক্লাস হবে। তিনদিন পাঠদান করা হবে এবং চতুর্থ দিন পাঠের মূল্যায়ন ক্লাস হবে।
○ আলোকিত মক্তব পরিচালনার জন্য প্রতি বছর স্বতন্ত্র একাডেমিক ক্যালেন্ডার করা হবে, যার আলোকে ক্লাস/দৈনিক পাঠদান, মাসিক পরীক্ষা, সেমিস্টার পরীক্ষা, মাসিক দিনব্যাপী ও সেমিস্টার শুরুতে তিনদিন ব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং যাবতীয় ছুটি প্রদান করা হবে।
○ মাসিক ও পার্বিক পাঠ মূল্যায়ন পরীক্ষার ফলাফল হাজিরা খাতায় সংরক্ষণ করা হবে।
○ দৈনিক শিক্ষার্থী উপস্থিতির হাজিরা নেওয়া হবে। এবং খাতায় ভর্তি রেজিঃ, মাসিক ও সেমিস্টার পরীক্ষার ফলাফল যুক্ত করা হবে।
○ প্রতিমাসে অন্তত দুইবার মক্তবগুলো পরিদর্শন করা হবে। পরিদর্শনের স্বতন্ত্র রেজিস্টার থাকবে।
আলোকিত মক্তবের পরিচালনা/তদারকির পদ্ধতিঃ
**********************
○ স্থানীয় মনিটরিং কমিটি। আলোকিত মক্তব মসজিদের কমিটি, অভিভাবকদের সমন্বয়ে গঠন করা হবে। মনিটরিং কমিটি প্রতিদিন নিয়মিত তদারকি করার মাধ্যমে আলোকিত মক্তবের সমস্ত নিয়ম কানুন শতভাগ পালনে সহযোগীতা করবেন।
○ কেন্দ্র প্রতিনিধি/শিক্ষক প্রতিনিধি ঃ ৬/৭ টি আলোকিত মক্তব থেকে একজন শিক্ষককে কেন্দ্র প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করা হবে। যাতে প্রতিনিধির মাধ্যমে সহজেই তদারকি করা বা কোন সংবাদ সহজে পৌছানো যায়। এবং তিনি শতভাগ সিলেবাস অনুযায়ী ক্লাস হচ্ছে কি না খোঁজ খবর রাখবেন।
○ পরিদর্শক ও প্রশিক্ষক : ১০ থেকে ১৫টি মক্তবের জন্য একজন পরিদর্শক ও প্রশিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। যিনি সকালে মক্তব গুলো ও রাতে বয়স্ক কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র গুলো পরিদর্শন করবেন।
○ সমস্ত কেন্দ্র পরিচালনার জন্য আঞ্চলিক অফিস থাকবে এবং আলোকিত মক্তব পরিচালনার জন্য সতন্ত্র একজন পরিচালক থাকবেন।
আলোকিত মক্তবে শিশুরা যা অর্জন করবেঃ
**********************
○ কার্যক্রম শুরুর পরবর্তী এক বছরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ্ শিক্ষার্থীগণ পবিত্র কুরআন বিশুদ্ধভাবে পড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ মাস্আলা-মাসায়েল, সূরা, দু‘আসমূহ এবং ৬২ টি হাদীস অর্থসহ মুখস্থ বলতে পারবে।
○ ইসলামের মৌলিক আকিদা এবং আদব ও শিষ্টাচার সম্পর্কে ধারনা পাবে।
○ রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কিছু সাহাবায়ে কেরামের সীরাত সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করবে।
○ শিশুদের আচরন উচ্চারনে আদর্শ নাগরিক সুলভ ইসলামী ভাবধারা পরিলক্ষিত হবে।
আলোকিত মক্তব প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াঃ
**********************
○ কেন্দ্র নির্বাচন : দরিদ্র, অবহেলিত, সুশিক্ষা ও সুবিধাবঞ্চিত পিছিয়ে থাকা এলাকায় আলোকিত মক্তব প্রতিষ্ঠা হবে। এলাকাবাসির আবেদনের প্রেক্ষিতে ‘আলোকিত মক্তব’ কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন ও যাচাই এর মাধ্যমে কেন্দ্র নির্বাচিত হবে।
○ শিক্ষক নির্বাচন :‘আলোকিত মক্তব’র শিক্ষকের জন্য আবশ্যক হচ্ছে, বিশুদ্ধ কুরআন তেলাওয়াতকারী হতে হবে এবং শিক্ষক বাছাই পর্বে উত্তীর্ন হওয়ার পর আলোকিত মক্তবের শিক্ষক প্রশিক্ষণে মানোত্তীর্ণ হতে হবে। কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ‘আলোকিত মক্তব’ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্বাচিত হতে হবে।
আলোকিত মক্তব পরিচালনার আর্থিক ব্যবস্থাপনা :
আল্লাহ তাআলার প্রিয় বান্দাদের মাধ্যমে সকলের সহযোগিতা গুলো সমন্বয় করেই আলোকিত মক্তব পরিচালিত হবে ইনশাআল্লাহ। আলোকিত মক্তবের জন্য গর্বিত মোতাওয়াল্লী বা আজীবন দাতা সদস্য আপনিও হতে পারেন।
দুই ধরণের দানের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করা যাবে :
১. সাধারণ দান :
সাধারণ দানের ক্ষেত্রে কোন পরিমান নিধার্রন করা নেই। সম্মানিত দাতার নিয়ত অনুযায়ি যে কোন পরিমাণ অর্থ প্রতিমাসে ধারাবাহিক দান করতে হবে। তবে সাধারণ দানের ফান্ড হতে প্রতি মক্তবের জন্য মাসে ৬,০০০/— (ম্যানেজমেন্ট সহ) নির্ধারন করা হয়েছে । সম্মানিত দাতা একটি মক্তবের ব্যায় নির্বাহের দায়িত্ব গ্রহন করে উক্ত মক্তবের মুতাওয়াল্লী হতে পারবেন এবং সেমিস্টার শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামুল্যে প্রয়োজনীয় বই, খাতা বিতরণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য আলাদাভাবে ১০,০০০/— সহযোগিতা করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। আলোকিত মক্তব পরিচলানা পরিষদের অনুরোধ হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামুল্যে প্রয়োজনীয় বই, খাতা বিতরণ করার জন্য আলাদাভাবে সহযোগিতা করা।
২. যাকাতের অর্থ :
যাকাতের অর্থ ব্যবহারে ‘পিসব’ বাংলাদেশের শীর্ষ মুফতি দের সাথে পরামর্শ নিয়ে ভর্তি ফরমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর উকিল বা অভিভাবকত্ব গ্রহণ করে থাকে। যাকাতের ক্ষেত্রে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রতি ৩০০/— এবং কর্মব্যস্ত ও বয়স্ক শিক্ষার্থীদের বই বাবদ জনপ্রতি ১০০/— ব্যয় ধার্য করা হয়েছে, মোট ৪০০/—। বাৎসরিক জনপ্রতি ব্যয় ৪,৮০০/—। এরমধ্যে শিক্ষার্থীর কল্যানে যাবতীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে ইনশাআল্লাহ। যেমন, শিক্ষক হাদিয়া, ম্যানেজমেন্ট হাদিয়া, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ইত্যাদি কাযক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশেষ আবেদন
সম্মানিত প্রিয় দ্বীনি ভাইরা! আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ
আমাদের প্রিয় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত ‘মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সব আমলের ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের ধারাবাহিকতা জারি থাকে। এক. সদকায়ে জারিয়া। দুই. কোনো এলম/শিক্ষার মাধ্যম রেখে যাওয়া, যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হবে। তিন. নেক সন্তান রেখে যাওয়া, যে তার জন্য দুআ করবে।’ (মুসলিম ১৬১৩)
অতএব, আলোকিত মক্তব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বা দান করায় উক্ত হাদিসের তিনটি বিষয়ের আমলই ধারাবাহিক জারি হবে ইনশাআল্লাহ।
১. কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করা সদকায়ে জারিয়া। ২. আলোকিত মক্তবের মাধ্যমে কুরআনের এলেম/শিক্ষা মানুষ থেকে মানুষ উপকৃত হওয়ার মাধ্যমে এলেম চর্চা চলমান থাকবে। ৩. প্রতিটি আলোকিত মক্তবে ৪০—৫০ জন শিশু সন্তান কুরআন ও হাদিসের জ্ঞান শিখে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
উপরে উপস্থাপিত বিষয়ের গুরুত্ব বিবেচনা করে আসুন না আমরা আমাদের সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে তথাকথিত আধুনিক সংস্কৃতির মরণ ছোবল থেকে নৈতিক অবক্ষয়ে ডুবন্ত এই মুসলিম জাতিকে আবারো কুরআনের আলোয় আলোকিত করে মদিনার ন্যায় একটি শান্তিময় সমাজ বিনির্মানে ভূমিকা রাখি। যার যতটুকু সামর্থ্য আছে তা নিয়ে মৃত্যু পরবর্তি স্থায়ী জীবনের ফায়দার জন্য সদকায়ে জারিয়ার এই বিশাল ক্যানভাসে অংশগ্রহণ করার উদাত্ত আহবান জানাই এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের তাওফিক কামনা করি।
সহযোগিতা পাঠানোর মাধ্যম
অ্যাকাউন্ট নাম : ALOKITO MAKTAB
সাধারণ দান : A/C NO : 211 110 00 28607
যাকাত : A/C NO : 211 120 00 02534
Routing No : 090263581
Branch : Pallabi, Dutch Bangla Bank Limited.
০১৬৮১—২৫৯ ১৬৩ বিকাশ, নগদ ও রকেট
০১৩০৩—৮১২ ৩৫০ বিকাশ, নগদ ও রকেট
রেফারেন্স : maktob
ওয়াস্সালাম
হাফেজ মাওলানা ইমরান হুসাইন হাবিবী
পরিচালক ও স্বপ্নদ্রষ্টা — আলোকিত মক্তব
+৮৮০ ১৯২৮ ০২৮ ৪৩৮
একটি মক্তব বাঁচলে একটি প্রজন্ম বাঁচবে
মুসলিম সমাজের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে *মক্তব*।
এখান থেকেই একটি শিশুর কুরআন শিক্ষা, ইসলামী আকীদা, সীরাত ও ইসলামী সংস্কৃতির সাথে পরিচয় শুরু হয়।
আজ আমাদের দেশের কোটি কোটি শিশু স্কুল-কলেজে পড়ছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই ইসলামের মৌলিক শিক্ষা গ্রহণ করে এই ছোট্ট মক্তব থেকেই।
কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো— এই ঐতিহ্যবাহী মক্তবগুলো আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ও অসহায়।
যদি শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সঠিক দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া যায়, তাহলে তারা ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আলেম বা বড় কর্মকর্তা হলেও ইনশাআল্লাহ তারা নাস্তিক বা পথভ্রষ্ট হবে না।
বরং তারা হবে কুরআনের সৈনিক, ইসলামী মূল্যবোধে গড়া সৎ ও দায়িত্বশীল নাগরিক।
পিসব পরিচালনায় আলোকিত মক্তবের উদ্যোগ
আলোকিত মক্তব প্রতিটি কেন্দ্রে
• শিশুদের জন্য প্রতিদিন কুরআন ও ইসলামী শিক্ষা
• বয়স্কদের জন্য দ্বীনি পাঠদান
• আকায়েদ, সীরাত, হাদিস, মাসআলা ও মাসনূন দোয়ার শিক্ষা
• এলাকায় দাওয়াতি কার্যক্রম
আপনিও এই খেদমতে অংশ নিতে পারেন
আপনি চাইলে
একটি মক্তব কেন্দ্রের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে পারেন অথবা আংশিক জিম্মাদার হতে পারেন অথবা এককালিন সহযোগিতা করতে পারেন।
এটি হবে আপনার জন্য সদকায়ে জারিয়া
—যার সওয়াব ইনশাআল্লাহ মৃত্যুর পরেও কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে।
**সহযোগিতার ধরন**
১️⃣ সাধারণ দান ২️⃣ যাকাত
🏦 **সাধারণ দান
Alokito Maktab
A/C: 211 110 00 28607
Routing: **090263581
Dutch-Bangla Bank, Pallabi Branch
বিকাশ / নগদ / রকেট 01681-259163
**যাকাত
Alokito Maktab
A/C: 211 120 000 2534
Routing: 090263581
Dutch-Bangla Bank, Pallabi Branch
বিকাশ / নগদ / রকেট +880 1303-812350
📞 যোগাযোগ মাওলানা ইমরান হুসাইন হাবিবী 01928-028438
হে আল্লাহ! আমাদেরকে আপনার কুরআন, আপনার রাসূল ﷺ এর পরিচয় এবং দ্বীনের আলো মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার খেদমতে কবুল করুন। আমিন।
04/05/2026
একটিভ শিক্ষকের গুণাবলী ও অমনোযোগী ছাত্রদের মনোযোগী করার কৌশল ক্লাস নিচ্ছেন ক্যারিয়ার বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান মাওলানা আফজাল হুসাইন হাফি.
04/05/2026
কেন্দ নং ২৬১০১
02/05/2026
আপনার কুরবানী—কারো জীবনের একমাত্র ঈদের আনন্দ হতে পারে…
ঈদুল আযহা কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি ত্যাগ, সহমর্মিতা এবং মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কিন্তু বাস্তবতা আমাদেরকে ভাবিয়ে তোলে।
দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত জনপদে হাজারো পরিবার আজও নীরবে দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
অনেক পরিবার আছে—
▪️ যাদের ঘরে সারা বছর গোশত রান্না হয় না
▪️ শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে
▪️ দরিদ্র ইমাম, মসজিদের খাদেম ও মক্তবের শিক্ষকগণ সম্মানের সাথে জীবনযাপন করলেও আর্থিকভাবে অত্যন্ত কষ্টে আছেন
এই মানুষগুলোর কাছে কুরবানীর গোশত মানে—
👉 বছরের একমাত্র পুষ্টিকর আহার
👉 একটি দিনের হাসি, যা তারা সারা বছর অপেক্ষা করে পায়
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
“সে মুমিন নয়, যে নিজে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।” (সহিহ হাদিস)
এই নির্দেশনা আমাদেরকে স্পষ্টভাবে শেখায়—
কুরবানীর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো সমাজের অসহায়, বঞ্চিত মানুষের মাঝে তা পৌঁছে দেওয়া।
আপনার অংশগ্রহণই পারে পরিবর্তন আনতে
আপনার একটি অংশ—
✔️ একটি অসহায় পরিবারের ঈদকে আনন্দময় করতে পারে
✔️ একটি শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে পারে
✔️ একজন ইমাম বা শিক্ষকের পরিবারের জন্য হতে পারে বছরের সেরা দিন
📌 কুরবানীর ব্যয় (সকল খরচসহ):
🔸 গরু (সম্পূর্ণ): ৯৮,০০০/- টাকা
🔸 গরুর প্রতি ভাগ: ১৪,০০০/- টাকা
🔸 গরু (সম্পূর্ণ): ৭০,০০০/- টাকা
🔸 গরুর প্রতি ভাগ: ১০,০০০/- টাকা
🔸 সম্পূর্ণ বড় ছাগল: ১৫,০০০/- টাকা
🔸 ছোট ছাগল: ১২,০০০/- টাকা
🇵🇸 বিশেষ প্রজেক্ট – গাজা:
নির্যাতিত মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য ঈদ সামগ্রী ও কুরবানীর গোশত বিতরণে
👉 আপনি যেকোনো পরিমাণ অর্থ দিয়ে অংশ নিতে পারেন।
আসুন, ত্যাগের এই মহিমায় শামিল হই।
আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী একটি অংশ দিয়েও হতে পারে—
একটি পরিবারের জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় ঈদ।
PISOB — মানবতার কল্যাণে, সবসময় মানবতার খেদমতে।
30/04/2026
শিশু শিক্ষায় কাজ করা মানে শুধু শিক্ষা নয়,
বরং একটি পুরো জাতির ভবিষ্যৎ গঠন করা।
30/04/2026
আলোকিত মক্তব শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আদর্শ শিক্ষক গড়ার লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী বিশেষ তারবিয়াতি প্রশিক্ষণ।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকগণের সান্নিধ্যে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার এক অনন্য সুযোগ!
কেন এই প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ?
আধুনিক ও মানসম্মত মক্তব পরিচালনা পদ্ধতি।
শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে শিক্ষকদের ভূমিকা।
দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে কার্যকরী কৌশল শিক্ষা।
অভিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের সরাসরি দিকনির্দেশনা।
শিক্ষকতাই কেবল পেশা নয়, এটি একটি আমানত। সেই আমানত সঠিকভাবে পালনের যোগ্যতা অর্জনে আমাদের এই আয়োজনে আপনাকে স্বাগতম। ইনশাআল্লাহ, এই দুই দিন আপনার শিক্ষা প্রদানের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
#বছিলা #মোহাম্মদপুর #তারবিয়াতি_প্রশিক্ষণ
29/04/2026
আলহামদুলিল্লাহ আলোকিত মক্তবের শিক্ষকদেরকে নিয়ে তরবিয়তি সফর।
কক্সবাজার+বান্দরবন +রোহিঙ্গা ক্যাম সহ আরো অনেক জায়গা।