26/10/2025
কুরআন মুখস্থ করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা ও ফজিলত:
১. কুরআন মুখস্থ করা হলো নবীর ﷺ অনুসৃত সুন্নাহ।
তিনি নিজেই কুরআন মুখস্থ করেছিলেন এবং প্রতি বছর জিবরাইল (আঃ)-এর সাথে তা পুনরাবৃত্তি করতেন। (সহিহ মুসলিম)
২. হাফেজকে আল্লাহ আগুন থেকে রক্ষা করবেন।
রাসূল ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি কুরআনকে নিজের মধ্যে ধারণ করেছে, আল্লাহ তাকে আগুনে পুড়াবেন না।” (বায়হাকি, সহিহ করেছেন আলবানী)
৩. কুরআন কিয়ামতের দিন তার পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে। (সহিহ মুসলিম)
৪. কুরআন পাঠকারীকে জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা দেবে।
রাসূল ﷺ বলেছেন: “কিয়ামতের দিন হাফেজকে বলা হবে, ‘পড়ো এবং ওঠো, যেমন দুনিয়াতে পড়তে।’ তোমার স্থান হবে সেই আয়াত পর্যন্ত যা তুমি পড়বে।” (আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ)
৫. হাফেজকে সম্মান করা মানে আল্লাহকে সম্মান করা।
রাসূল ﷺ বলেছেন: “আল্লাহকে সম্মান করার অংশ হলো মুসলিম বৃদ্ধ, কুরআন বহনকারী (যিনি অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি বা অবহেলা করেন না), এবং ন্যায়পরায়ণ শাসককে সম্মান করা।” (আবু দাউদ, সহিহ আলবানী)
৬. হাফেজরা আল্লাহর বিশেষ বান্দা।
রাসূল ﷺ বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহর কিছু বিশেষ বান্দা আছে।” সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, “তারা কারা?” তিনি বললেন: “তারা হলো কুরআনের আহল — আল্লাহর আপনজন।” (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
৭. কুরআন হিফজ দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
রাসূল ﷺ বলেছেন: “আল্লাহ এই কিতাবের মাধ্যমে কিছু জাতিকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবেন এবং অন্যদের নিচে নামাবেন।” (সহিহ মুসলিম)
৮. ইমামতি করার অগ্রাধিকার হাফেজের।
রাসূল ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি কুরআনে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী, সে-ই ইমামতি করবে।” (সহিহ মুসলিম)
৯. কুরআন পাঠে দক্ষ ব্যক্তি ফেরেশতাদের সঙ্গী।
রাসূল ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি কুরআনে পারদর্শী, সে সম্মানিত ও সৎ ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবে।” (বুখারি ও মুসলিম)
১০. প্রকৃত গর্ব বা ঈর্ষার যোগ্যতা কেবল হাফেজের।
রাসূল ﷺ বলেছেন: “ঈর্ষা কেবল দুইজনের প্রতি — একজন যাকে আল্লাহ কুরআন দিয়েছেন, সে দিনরাত তা পাঠ করে; আরেকজন যাকে আল্লাহ ধন দিয়েছেন, সে তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে।” (বুখারি ও মুসলিম)
১১. কুরআন শেখা ও শেখানো দুনিয়ার সব কিছুর চেয়ে উত্তম।
রাসূল ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি সকালে মসজিদে গিয়ে কুরআনের দুইটি আয়াত শেখে, তা দুইটি উট পাওয়ার চেয়েও উত্তম; তিনটি আয়াত তিনটি উটের চেয়েও উত্তম; চারটি চারটি উটের চেয়েও উত্তম।” (সহিহ মুসলিম)
Noore hera
সংগৃহীত