এত তারল্য কোথা থেকে এলো!!!
১৩+ লক্ষ কোটি টাকা 😱😱😱
Banking Talk
Find Your Best Version
How to open a Bank account?
21/05/2020
২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এআইআইবি :
করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি চাঙা করতে ২৫ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক। বর্তমান বাজার দরে টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। আজ বৃহষ্পতিবার এআইআইবি বোর্ড এই অর্থ ঋণ দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছে। এআইআইবির বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বাজেট সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয় না। সরকার এই টাকা বাজেটের যেকােনাে খাতে খরচ করতে পারে।
এআইআইবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাজেট সহায়তার এই টাকা করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কল্যাণে খরচ করা হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। এসব বেকার মানুষকে সহায়তা দেওয়া হবে। রপ্তানি খাতে কাজ করা নারী শ্রমিকেরাও সহায়তা পাবেন।
এআইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডি জে পানডিয়ান বলেন, কোভিড সংকটে এআইআইবি এর ক্ষতিগ্রস্ত সদস্য দেশগুলোকে সহায়তা করছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র : প্রথমআলো
17/05/2020
মন্দা মোকাবিলায় ‘অন্ধকারে ঢিল ছোড়া’ নীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক :
ঝামেলাটা তৈরি করেছেন রিসি সানক। দায়িত্ব পালন করছেন ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী হিসেবে। গত ১২ মে তিনি বলেন, মন্দা মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ব্রিটিশ সরকারের অধিক পরিমাণ ঋণ গ্রহণ স্বাভাবিক বিষয়। এখন তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার সময় নয়।
ব্রিটিশ সরকার এখন ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক) থেকে ধার করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতিটি বেছে নিয়েছে। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় মনিটরি ফাইন্যান্সিং। কোনো দেশ যখন অর্থনৈতিক মন্দায় পতিত হয়, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ করার জন্য সরকারের অন্যতম সহজ পদ্ধতি এটি।
সাধারণত কোনো দেশের সরকার ট্রেজারি বিল বা বন্ড ইস্যু করার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ধার করে। এ ধরনের কাগজের মাধ্যমে আমাদের সরকারও একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেয়। কিন্তু, মন্দার সময় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও টাকার সঙ্কটে থাকে। ফলে তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দেয়। মন্দার সময় সরকারের আয়ের উৎসও বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, সঙ্কটকালীন মুহূর্তে মানুষের কর দেওয়ার সামর্থ্য কমে যায়।
কিন্তু মনিটরি ফাইন্যান্সিং এসব বিল-বন্ডকে পাত্তা দেয় না। সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে সরবরাহ করে সরকারের কাছে। এই পদ্ধতি অবলম্বন করে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ২০০ বিলিয়ন পাউন্ড সরকারকে সরবরাহ করবে।
টাকা ছাপিয়ে সরকারকে অর্থ সরবরাহ করার জন্য বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন নানা রকম পদ্ধতির আশ্রয় নিচ্ছে। বিখ্যাত অর্থনীতিবিদরা ভবিষ্যতে এর ফলাফল কি হবে তা নিয়ে উৎকণ্ঠাও প্রকাশ করছেন। এসব ছাপানো টাকা দিয়ে বড় বড় কোম্পানিকে সরকারগুলো একদিকে যেমন বেইল আউট করছে, তেমনি সাধারণ মানুষকে ত্রাণ হিসেবে নগদ অর্থ দিচ্ছে।
বড় ব্যবসায়িক কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ কি হবে তা নিয়েও উৎকণ্ঠায় আছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব কোম্পানি ব্যাপকহারে এখন ঋণ করছে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে। ফলে আগামীতে তাদের আর্থিক অবস্থা আরও সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোমি পাওয়েল তো গত সপ্তাহে ঘোষণা দিয়েই বলেছেন, ওই দেশটি তিন ট্রিলিয়ন ডলারের যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, সেটা হয়তো পর্যাপ্ত হবে না। আরও প্রণোদনা লাগতে পারে। ফলে ঋণের বোঝা আরও বাড়বে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের।
রিসি সানকের প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। তার ‘দুশ্চিন্তা না করার মন্তব্য’ আমাদের উদ্বেগও কিছুটা কমিয়েছিল। কিন্তু তার মন্তব্যের জের ধরে একটি প্রশ্ন সামনে আসলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আমাদের সরকার এই দুর্দিনে কেমন ঋণ করছে?
বাংলাদেশ ব্যাংকে তথ্য সংগ্রহের উৎস থেকে জানা গেল, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের পর থেকে সরকার কি পরিমাণ ঋণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়েছে, তার পরিপূর্ণ কোনো হিসাব তাদের কাছে নেই। অথচ স্বাভাবিক সময়ে (মার্চের ২৬ তারিখের আগে যখন লকডাউন ছিল না) প্রতি সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে হালনাগাদ প্রতিবেদন তৈরি করতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ধারণা করা হলো, সরকার বোধহয় কোনো ধার নেয়নি এই দিনগুলোতে। কিন্তু সাংবাদিকের অনুসন্ধিৎসু মন। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্ভাব্য সব বিভাগে যোগাযোগ করা হলো। ফলাফল হলো, কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হওয়ার মতো। কারণ, সরকারের ব্যাংক ঋণ এই কদিনে ব্যাপকহারে বেড়েছে। কিন্তু, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১২ মে পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো হিসাব নেই। চলতি বছরে সরকার ৭৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ঋণ ইতোমধ্যে নিয়ে ফেলেছে, যা স্বাধীনতার পর থেকে এক বছরের হিসাবে সর্বোচ্চ। ঋণের এই অবয়ব সরকারের বাৎসরিক সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাকেও অতিক্রান্ত করেছে। ওই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা।
যে বিভাগ থেকে এই তথ্য নেওয়া হলো, তারা কিন্তু সরকারের ব্যাংক ঋণের প্রতিবেদন তৈরি করার দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়। ফলে যে তথ্য পাওয়া গেলো তা চূড়ান্ত কিছু নয়। এটা খসড়া তথ্য।
জানা গেল, চলমান লকডাউনের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রতিবেদন তৈরি করা বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর নিয়মিত মাসিক বা ত্রৈমাসিক যেসব প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তৈরি করে তার খোঁজ নেওয়া শুরু হলো। এখানে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর। কারণ, জানুয়ারির পর থেকে দেশে কতো আমদানি হয়েছে এর কোনো হিসাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নেই। বেসরকারিখাতে ঋণপ্রবাহ কেমন তা জানার চেষ্টা করা হলো। সেখানেও একই অবস্থা। এরপর দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও লেনদেন ভারসাম্য কেমন, তার খোঁজ নেওয়া হলো। পরিস্থিতি একই।
আমরা গত এপ্রিলে দেখেছি, দেশের রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমেছে। ফলে, এর সঙ্গে আমদানির কি অবস্থা তা বের করা খুবই দরকার। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে, বৈদেশিক বাণিজ্যে আগামীতে সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে কিনা দেশ।
এসবের মানে দাঁড়ায়, বাংলাদেশ এখন জানে না তার আমদানি ও বাণিজ্য ঘাটতি কতো। আমাদের বেসরকারিখাত এই মন্দার সময় আদৌ কোনো ঋণ নিচ্ছে কিনা। এই দেশ এখন জানে না, প্রান্তিক কৃষক বা ছোট-মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো (এসএমই) কেমন ঋণ নিচ্ছে।
এর চেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, বাজারে এখন কি পরিমাণ টাকা আছে এরও কোনো হিসাব নেই। অথচ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাজ হচ্ছে বাজারে টাকা সরবরাহ করা এবং প্রয়োজন মতো এর নিয়ন্ত্রণ করা। যাতে মূল্যস্ফীতি কোনো সঙ্কট তৈরি করতে না পারে। খবর নিয়ে জানা গেলো, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাজারে টাকা সরবরাহের একটা হিসাব আছে, কিন্তু তা চূড়ান্ত তথ্য নয়।
এখন সরকারকে ঋণ দিতে গিয়ে এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করার জন্য ব্যাপকহারে রিজার্ভ মানি (আরএম) বা হাই-পাওয়ার্ড মানি বাজারে সরবরাহ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই আরএম হচ্ছে ছাপানো টাকা। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক থাকে, তখন এই টাকা প্রায় পাঁচগুণ নতুন অর্থ তৈরি করতে পারে আমাদের বাজারে। এটাকে অর্থনীতির ভাষায় বলা হয় মানি মাল্টিপ্লায়ার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানে না তার মুদ্রার হালচাল এখন কেমন। ফলে মন্দাকালীন পরিস্থিতিতে কীভাবে তার মুদ্রানীতি কাজ করছে তাও জানে না প্রতিষ্ঠানটি। স্বাভাবিক সময়ে এসব বিষয়ের হালনাগাদ তথ্য পাঁচ-দশদিন দেরি হলে খুব একটা সমস্যা হয় না।
এসব প্রতিবেদন তৈরি করতে না পারার পেছনে যুক্তি হচ্ছে দেশে লকডাউন চলছে। কারণ, এসব তথ্যের সিংহভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের পাঁচজন ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফোন দেওয়া হলো। তারা জানালেন, এসব তথ্য তাদের কাছে প্রস্তুত করা আছে। ব্যবসায়িক স্বার্থে সবসময় হাতের কাছে তাদের রাখতে হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যুক্তির কারণে তাদের কথার উপর আস্থা রাখা গেল না। খবর নেওয়া হলো, গ্রাম পর্যায়ে ব্যাংকের ব্রাঞ্চগুলোতে। ওইখানের কর্মকর্তারা জানালেন, তাদের স্ব স্ব ব্যাংকের চালু থাকা ব্রাঞ্চের সব তথ্য প্রস্তুত করা আছে এবং তা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
দুনিয়ার সব মন্দায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোই মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন তা-ই করছে। কেননা, মন্দার সময় প্রচুর নতুন অর্থ বাজারে সরবরাহ করতে হয়।
দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কীভাবে মন্দা মোকাবিলা করবে তা নিয়ে একাধিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ইতোপূর্বে। এর মধ্যে একাধিক পরামর্শ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যেমন, কোয়ানটিটেটিভ ইজিং, ডিভিডেন্ড না দেওয়া, দীর্ঘ মেয়াদে রেপো ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি আরও বেশ কিছু। এর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আমরা ধন্যবাদ জানিয়েছি।
জরুরি একটি পরামর্শ ছিল, মন্দা মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের মেধাবী কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কার্যকর টিম গঠন করা। কিন্তু, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা করেনি। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) উদাহরণও দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের মতে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভারত সবচেয়ে কার্যকরভাবে মন্দা মোকাবিলা করছে।
আরবিআই-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের ১৫০ কর্মকর্তাকে প্রথমেই আলাদা করে ফেলা হয়েছে। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে একটা আবাসিক হোটেলে। তাদেরকে এমনভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হন। ওই হোটেলে বসেই তারা আরবিআই-এর কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এই ধরনের একটা টিম গঠন করতো তাহলে ভয়াবহ সমন্বয়হীনতার বর্তমান চিত্র তৈরি হতো না। এর মানে হচ্ছে, চলমান মন্দায় কাজ চালানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো বিজনেস কন্টিনিউটি প্ল্যান নেই। অথচ, এই প্রতিষ্ঠানটি গত ১৯ মার্চ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এই ধরনের প্ল্যান বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়।
প্রশ্ন হচ্ছে, মন্দার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব প্রতিবেদন কি গুরুত্ব বহন করে? প্রতিষ্ঠানটি ও সরকার এখন একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে মন্দা মোকাবিলা করার জন্য। এই উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে আদৌ বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তার চিত্র পাওয়া যাবে এসব অর্থনৈতিক ডেটায়। লকডাউন শুরু হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক শত শত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি কি জানে এর কার্যকারিতা কেমন? দুনিয়ার অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন দৈনিক ভিত্তিতে এসব বিষয়ের উপর কঠোর নজরদারি করছে। কিন্তু, বাংলাদেশ ব্যাংক? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছে।
ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ডের (আইএমএফ) কাছে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলাদেশ সরকার ৭০০ মিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য আবেদন করবে। এই তহবিল বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনের জন্য ব্যবহার হবে। এই ঋণের আবেদন বিবেচনা করার জন্য বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির কি অবস্থা তা নিশ্চিতভাবে খতিয়ে দেখবে আইএমএফ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত রিপোর্টটি প্রথমেই বের করবে সংস্থাটি। কিন্তু, সেখানে জানুয়ারির পর আর কোনো তথ্য হালনাগাদ করা হয়নি। এই প্রক্রিয়ায় আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পাওয়া দুরূহ।
আমাদের সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপির প্রবৃদ্ধি আট দশমিক পাঁচ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আশা প্রকাশ করছেন, অর্থনীতিতে ভি-শ্যাপড রিকোভারি হবে, অর্থাৎ দ্রুত পুনরুদ্ধার হবে। কিন্তু, এর জন্য রীতিমতো বিপ্লব দরকার।
দুনিয়ার নামকরা অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক গতি ফিরে পাওয়া অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ। অনেকে বলছেন, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ইউ-শ্যাপড-এর মতো হবে। এতে ১২ থেকে ২৪ মাস সময় লাগে। আবার কেউ বলছেন, ডব্লিউ-শ্যাপড হবে। কেননা, বিভিন্ন দেশ এখন লকডাউন শিথিল করছে। ফলে অর্থনীতি কিছুটা মাত্রায় পুনরুদ্ধার হবে। কিন্তু, ভাইরাস যদি আবার ছড়ায়, নতুন করে ব্যবসা-বাণিজ্যের পতন শুরু হবে। ওই পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া আরও জটিল হবে। আবার অর্থনীতিতে এল-শ্যাপড পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াও আছে। যেটা সবচেয়ে খারাপ। এতে অনেক বছর লাগে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে। ১৯২৯-এর মহামন্দায় এই সমস্যাটি তৈরি হয়েছিল।
রিসি সানকের কথায় ফিরে আসা যাক। মার্চে ব্রিটেনের অর্থনীতি পাঁচ দশমিক আট শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, যা মাসভিত্তিক হিসাবে ১৯৯৭ সালের পর সবচেয়ে বড় সংকোচন। মন্দা মোকাবিলায় দেশটি সব রকমের পদ্ধতি এখন ব্যবহার করছে। কিন্তু, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা কি আমরা জানি?
দুনিয়ার কেউ এখন নিশ্চিতভাবে বলতে পারবে না অর্থনীতির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া কোন শ্যাপড-এ হবে। কিন্তু, আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে প্রক্রিয়ায় কাজ করছে, তাতে আশান্বিত হওয়া শুধু কঠিন নয়, প্রায় অসম্ভব।
লেখক: সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, দ্য ডেইলি স্টার
16/05/2020
প্রায় ১২০০ কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পেল সামিট :
সামিট গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সামিট গাজীপুর-২ পাওয়ার লিমিটেড সিঙ্গাপুরের ক্লিফোর্ড ক্যাপিটাল এবং জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক সুমিতোমো মিতসুই ব্যাংকিং করপোরেশন (এসএমবিসি) থেকে ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন পেয়েছে। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকার সমমূল্যের। এটি বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। দেশের বেসরকারি খাতে সামিট প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এই রূপ বিনিয়োগ পেয়েছে। গতকাল সামিট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিলে এ অর্থায়ন সম্পন্ন হয়, যখন বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর উভয় দেশ ছিল লকডাউনের মধ্যে। অর্থায়ন প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে বেগবান করতে চলমান লকডাউনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন অনুমোদন প্রদানের মাধ্যমে বিশেষ সহায়তা করেছে।
এর আগে বিদ্যুৎ উন্নয়ন খাতে বিদেশী বিনিয়োগের পুরোটুকু বা অধিকাংশই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান যেমন ডিইজি, এফএমও, আইএফসি, এডিবি, আইএসডিবি, সিডিসি ইত্যাদি থেকে এসেছিল।
এ অর্থায়নের বিষয়ে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও বাণিজ্যিক ঋণদাতাদের কাছে থেকে এ স্বল্প মূল্যের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প অর্থায়ন আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর কাছে সামিট এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের মর্যাদা ও সুনামের প্রতিফলন। আমরা আমাদের গ্রাহক ও ঋণদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং নিশ্চিত করতে চাই যে আমরা উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।
ক্লিফোর্ড ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অদ্রা লোবলেন বলেন, ক্লিফোর্ড ক্যাপিটাল সিঙ্গাপুরভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবসা সম্প্রারণের সহযোগী হতে পেরে আনন্দিত। আমাদের অর্থায়নের জ্ঞান, সমন্বয় করার সক্ষমতা এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের অভিজ্ঞতা দিয়ে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানিকে তাদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিনিয়োগে সহায়তা করা আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরো বলেন, সিঙ্গাপুর অবকাঠামো অর্থায়নের জন্য একটি অনন্য গন্তব্য, যেখানে অর্থায়নের পৃষ্ঠপোষক, অর্থদাতা ও পরামর্শদাতাদের কেন্দ্র; এটি তারই একটি নিদর্শন।
সুমিতোমো মিতসুই ব্যাংকিং করপোরেশনের এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্ট্রাকচারড ফিন্যান্স বিভাগের হেড অব পাওয়ার রিনিউয়েবলস অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার জিন সো বলেন, এই লেনদেনের মাধ্যমে আমাদের মুখ্য গ্রাহক সামিট করপোরেশনকে সহযোগিতা করতে পেরে আমরা আনন্দিত এবং এ অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতেও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এ গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন সম্পন্ন করতে পারায় আমি পুরো দলকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আমরা এসএমবিসি এবং সামিট করপোরেশনের মধ্যে দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক প্রত্যাশা করছি।
প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশী ব্যাংক যেমন ব্যাংক এশিয়া, দ্য সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এর আগে সামিট গাজীপুর-২ পাওয়ার লিমিটেডের প্রকল্প নির্মাণে অর্থায়ন করেছিল এবং পরবর্তী সময়ে এই দীর্ঘমেয়াদি ঋণ থেকে তাদের অর্থায়ন পরিশোধ করা হয়। সামিট আশা করছে চলমান লকডাউন শেষ হওয়ার পর পরই অর্থায়নের সর্বশেষ কিস্তি পাবে।
সামিট গাজীপুর-২ পাওয়ার লিমিটেড সামিট করপোরেশন এবং সামিট পাওয়ার লিমিটেডের যৌথ মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বৃহত্তম জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোং লিমিটেডের (এসওএসসিএল) সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি করে এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে ১৫ বছরের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এই প্রকল্পটি মাত্র ৯ মাসের বাস্তবায়নের মধ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে ২০১৮ সালের ১০ মে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে এবং তখন থেকেই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় গ্রিডে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে।
উল্লেখ্য, সামিট বাংলাদেশের প্রথম এবং বৃহত্তম স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (আইপিপি), যার বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ৯৪১ মেগাওয়াট। বর্তমানে আরো একটি ৫৮৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন এবং ৩ হাজার মেগাওয়াট পরিকল্পনাধীন রয়েছে। এছাড়া সামিট একটি এলএনজি ভাসমান সংরক্ষণাগার এবং পুনঃগ্যাস রূপান্তরকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) পরিচালনা করছে, যা বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট রিগ্যাসিফাইড এলএনজি (এমএমসিএফডি) সরবরাহ করছে। সম্প্রতি জাপানের বৃহত্তম জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠান জেরা সামিটের ২২ শতাংশ মালিকানায় বিনিয়োগ করেছে। এর আগে সামিট মিতসুবিশি করপোরেশনের কাছে এফএসআরইউ প্রকল্প বিদ্যুৎ প্রকল্পের মালিকানায় ইকুইটি বিনিয়োগ পেয়েছে।
সূত্র : বণিকবার্তা
15/05/2020
৩৬০ দিনের জন্য টাকা ধার দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক :
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনৈতিক ক্ষত মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে এবার ৩৬০ দিন মেয়াদি বিশেষ রেপো (পুনঃক্রয় চুক্তি) চালু করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ব্যবস্থায় সংবিধিবদ্ধ জমা হারের (এসএলআর) অতিরিক্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকে জামানত রেখে ৩৬০ দিনের জন্য তহবিল নিতে পারবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এত দীর্ঘমেয়াদি তারল্য সুবিধা চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংককরোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনৈতিক ক্ষত মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে এবার ৩৬০ দিন মেয়াদি বিশেষ রেপো (পুনঃক্রয় চুক্তি) চালু করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ব্যবস্থায় সংবিধিবদ্ধ জমা হারের (এসএলআর) অতিরিক্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকে জামানত রেখে ৩৬০ দিনের জন্য তহবিল নিতে পারবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এত দীর্ঘমেয়াদি তারল্য সুবিধা চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক।
বর্তমানে সর্বোচ্চ ২৮ দিনের জন্য টাকা ধার নিতে পারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর ফলে প্রনোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলো যে তারল্য সংকটের আশঙ্কা করছিল, তার অনেকটা লাঘব হবে। তবে এ বিশেষ রেপোর মাধ্যমে অর্থ নিয়ে প্রনোদনা প্যাকেজছাড়া অন্য কোন খাতে ব্যবহার করতে পারবে না ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় দেশের অর্থনীতির উপর এর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কতৃক সম্প্রতি বিভিন্ন আর্থিক প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব প্রণোদনা প্যাকেসমূহ বাস্তবায়নে মুদ্রাবাজারে তারল্য বাবস্থাপনা সুষ্টুতর করার লক্ষে ৩৬০ দিন মেয়াদি বিশেষ রেপো (পুনঃক্রয় চুক্তি) প্রচলন করা হলো। বিদ্যমান রেপো হারকে ভিত্তি ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রনীতি ও মুদ্রা বাজারের তারল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বিশেষ রেপো (পুনঃক্রয় চুক্তি) সুদের হার নির্ধারন হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের অভিহিত মূল্যের উপর যথাক্রমে ১৫ শতাংশ এবং ৫ শতাংশ মার্জিন প্রয়োগ করে অভিহিত মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ রেপো হিসেবে প্রদান করা হবে। এ রেপোর বিপরীতে বন্ধকীকৃত সম্পূর্ণ সিকিউরিটিজ দায়মুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এই সিকিউরিটিজ অন্য কোন ক্ষেত্রের জন্য জামানত বা সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে না।
জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর কাছে বর্তমানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার বিল ও বন্ড রয়েছে। এসব সিকিউরিটিজ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ রোপোর মাধ্যমে তহবিল নিতে পারবে ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে যে টাকা ধার দেয় তা রোপো। আর বাজারে টাকা বেশি হলে তা রিভার্স রেপোর মাধ্যমে তুলে নেয়। আর এখন বিশেষ প্রয়োজনে টাকা ধার দিতে ৩৬০ দিন মেয়াদি বিশেষ রেপো ব্যবস্থা চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণে নতুন করে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ পাঁচটি প্যাকেজে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। এর বাইরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কৃষি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের জন্য আলাদা প্যাকেজ ঘোষনা করেছে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩৮ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলও গঠন করেছে। যা নতুন অর্থ হিসেবে বাজারে যাবে।
সূত্র : প্রথমআলো
15/05/2020
মহামারীতে অর্থনীতির ক্ষতি হবে ৮.৮ ট্রিলিয়ন ডলার এডিবি :
করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ৫ লাখ ৮০ হাজার কোটি থেকে ৮ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এমন একটি পূর্বাভাস দিয়েছে। গত মাসে তারা যে পূর্বাভাস দিয়েছিল এটি তার দ্বিগুণের বেশি। এবং এই ক্ষতির পরিমান মোট বৈশ্বিক উৎপাদনের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ।
নতুন পূর্বাভাসে ক্ষতির পরিমান বাড়িয়ে দেখানোর কারণ হিসেবে এডিবি বলছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তারের গতি কমিয়ে আনতে বিভিন্ন দেশ নানা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্বের অভিভাবক প্রতিষ্ঠানগুলোও মহামারীর প্রভাবে অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে - এমন চরম হতাশাজনক হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে।
এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়াসুয়ুকি সোয়াদা বলেন, এই নতুন বিশ্লেষণ বিশ্ব অর্থনীতিতে কভিড-১৯ মহামারীর খুবই সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আরো বিস্তারিত ধারণা দিয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নীতি কৌশলের গুরুত্বও এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এডিবি বলছে, অর্থনীতির সম্ভাব্য ক্ষতির সর্বোচ্চ যে অংক দেয়া হয়েছে সেটি মূলত মানুষের চলাচল এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছয় মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকবে- এটা ধরে নিয়ে। আর সর্বনিম্ন হিসাবটা এসেছে এসব বিধিনিষেধ তিন মাস থাকবে ধরে নিয়ে।
এদিকে অর্থনীতি রক্ষায় বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাপকভাবে সুদ হার কমাতে শুরু করেছে এবং বিপুল পরিমান প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছে। অর্থ বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতির মহামন্দার কথা বিবেচনা করে অর্থ জোগানের উৎসের কথা অতোটা বিবেচনায় না নিয়েও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে অনেক দেশে।
অবশ্য এরই মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আঘাত হানার চিত্র গতকাল প্রকাশ পেল। যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহে বেকার মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখে পৌঁছে গেছে। দেশটির প্রায় এক চুতর্থাংশ কর্মজীবী প্রণোদনা দাবি করছে।
সূত্র: বিবিসি
15/05/2020
৫ লাখ টাকা রেমিট্যান্স পাঠালে কাগজপত্র ছাড়াই ২% প্রণোদনা :
এখন থেকে যেসব প্রবাসীরা দেশে ৫ হাজার ডলার কিংবা ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাবেন- সেক্ষেত্রে তাদের কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হবে। সেই সঙ্গে কেউ পাঁচ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্স পাঠালে- তারও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জরি করা হয়েছে। দেশের সব ব্যাংকের ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর প্রতিবারে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ প্রেরণের জন্য কাগজপত্রাদি ব্যতিরেকে প্রণোদনা সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নগদ সহায়তার জন্য পাঁচ হাজার ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকার অধিক রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রাপক কর্তৃক ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করার বাধ্যবাধকতা শিথিল করে, কাগজপত্রাদি দাখিলের সময়সীমা দুই মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হল। এ সুবিধা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
তবে পাঁচ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা পাওয়ার জন্য রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংকের শাখায় পাসপোর্টের কপি এবং বিদেশি নিয়োগদাতার দেয়া নিয়োগপত্রের কপি জমা দিতে হয়। রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ব্যক্তি ব্যবসায় নিয়োজিত হলে ব্যবসার লাইসেন্স দিতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, আগে ১৫০০ মার্কিন ডলার বা দেড় লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠালে বিনা প্রশ্নে প্রণোদনার কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া প্রণোদনা পেতে রেমিট্যান্সের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলের বাধ্যবাধকতাও ছিল।
সূত্র : যুগান্তর
15/05/2020
বাংলাদেশকে এডিবির ১০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা :
করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), টাকার অঙ্কে এই ঋণের পরিমাণ ৮৫০ কোটি টাকা।
এডিবির এই অর্থ দিয়ে যন্ত্রপাতি, টেস্টিং সামগ্রী কেনার পাশাপাশি চিকিৎসা অবকাঠামো তৈরি করা হবে।
বুধবার (১৩ মে) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও এডিবির মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে চুক্তিতে সই করেন ইআরডি সচিব ফরিদা ইয়াসমিন ও এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ।
এ সময় কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের বিশস্ত উন্নয়ন সহযোগী। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ানো করোনা মহামারি ঠেকাতে আমরা ১০০ মিলিয়ন ডলার দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।
ইআরডি সচিব ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, করোনা মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক কেনাকাটায় বিশেষ করে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টেস্টিং সামগ্রী, চিকিৎসা অবকাঠামো তৈরি ও আধুনিকায়নে এই অর্থ খরচ করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ১৭টি মেডিকেল কলেজে আইসোলেশন ও বিশেষ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এছাড়া, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
গত ৩০ এপ্রিল ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অবস্থিত এডিবির বোর্ড সভায় এই ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়।
সূত্র : বার্তা২৪
15/05/2020
গ্রীন পিন নিয়ে এলো MTB:
গ্রিন ব্যাংকিং ও টেকসই উন্নয়ন বজায় রাখতে কার্ডের সব গ্রাহকের জন্য গ্রিন পিন সেবা চালু করল মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি)। গ্রিন পিন এমটিবি কার্ড হোল্ডারদের জন্য একটি কন্ট্যাক্ট সেন্টার আইভিআরভিত্তিক তাত্ক্ষণিক ও অভেদ্য পিন গঠনের ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় কাগজমুক্ত সেবায় এমটিবি কার্ড ব্যবহারকারীরা তাদের নিবন্ধন করা মোবাইল নম্বর থেকে এমটিবি ২৪/৭ কন্ট্যাক্ট সেন্টার ১৬২১৯-এ কল করে নতুন পিন, পরিবর্তিত পিন অথবা পুনর্নির্ধারিত পিন গঠন করতে পারবেন। এখন আর তাদের এ কারণে এমটিবি শাখায় আসা লাগবে না। আর নতুন পিন বা পরিবর্তিত পিনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না। পিন গঠন এখন একটি মাত্র কলের ব্যাপার। —বিজ্ঞপ্তি
সূত্র : বণিকবার্তা
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Motijheel C/A
Dhaka
1000