31/12/2023
https://www.kalerkantho.com/print-edition/islamic-life/2023/12/31/1350497
Confidential partner in your Quran learning
মরিয়মের খুশি
ফ্রেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহের পরন্ত এক বিকেল। কিছুটা মেঘলা আকাশ। কংক্রীটের যান্ত্রিক শহর ঢাকায় এখন শীতের আমেজ দেখা না মিললেও আজকের আকাশটা একটু অন্য রকম। মনে হচ্ছে অজানা কারণে অভিমানী এক কিশোরির মতো মুখ কালো করে রেখেছে। যেকোনো সময় সামান্য চুতোয় ফিক করে হেসে উঠবে। আজকের আকাশটাও তাই। মাথার উপর ভেসে চলা এই মেঘটা যেকোনো সময় কেটে গেলেই আবারও ঝাঝালো রোদ ঝলমল করে উঠবো। আর আবারও সেই বিরক্তিকর ব্যাপসা গরম হানা দিবে। যাই হোক সাময়িক এক শীতল পরশের সুযোগ পেয়ে রুমরে জানালার গ্লাস খুলে বাহিরের দৃশ্য দেখছিলাম। আর অজানা চিন্তায় কত কিছু যে ভাবছিলাম তা নিজেও সব মনে করতে পারছি না। এরই মধ্যে হঠাত একটি সুরেলা কন্ঠ...
আসসালামু আলাইকুম, মেডাম! আসতে পারি?
সালামের জবাব দিতে দিতে ঘার ঘুরিয়ে দেখলাম মরিয়ম। মরিয়ম ১২ বছরের একটি মিস্টি মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ায় এতিম মেয়ে মরিয়মের মুখটা প্রায় সময়েই আজকের এই আকাশের মতো মেঘলা দেখা যায়। কিন্ত ওর সাথে মন খুলে কথা বললে,
একটু আদর দিয়ে কাছে টেনে গল্প করলে,
- বুঝা যায় সে কতোটা মিস্টি আর চপল স্বভাবের একটা মেয়ে।
- যেমন মিস্টি তার চেহাড়াটা; ঠিক তেমনি মিস্টি ওর হাসিটা।
- যদিও তার এ হাসিটা বাবার ইন্তেকালের পর খূব একা দেখা যায় না।
মরিয়ব পড়াশোনায়ও খুব ভালো। ওর নতুন কিছু জানার অদম্য আগ্রহটা রীতিমতো মুগ্ধ হওয়ার মতো।
আমি সালামের জবাব দিতে দিতে নিজ চেয়ারে বসে বললাম। ভেতরে এসো মরিয়ম। ভালো করে খেয়াল করে দেখলাম মরিয়ম আজ অন্য যে কোনো দিনের চেয়ে একটু বেশি খুশি। ওর চেহাড়ায় সব সময় লেগে থাকা সেই কালচে আভা নেই বললেই চলে। একদম যেনো ফুটন্ত গোলাপের মতো করে মিস্টি ঠোটগুলো আহলাদি ভাঁজ দিয়ে হাসছে। এক নির্মল হাসি। যাতে কোনো কৃত্রিমতা নেই।
ভেতরে আসার ডাক পেয়ে মরিয়ম আরও আহলাদি একটা হাসি দিয়ে দৌড়ে প্রায় কিছূটা হাপাতে হাপাতে আমার গা ঘেসে এসে দাড়ালো।
- বললাম, কী ব্যপার মরিয়ম এতো খুশি কেনো?
- আগে শান্ত হয়ে আমার সামনে বসো, তার পর তোমার খূশির কারণটি বলো।
মরিয়ম আন্দন উচ্ছাস আর প্রফুল্লতায় প্রায় কথা বলতে পারছিলো না। তার পরও তুতলাতে তুতলাতে বললো....
মেডাম! আমার মা বলেছে আমাকে আর কাজে দিয়ে দেয়ার কথা বলবে না। আমার পড়ার যতো টাকা লাগে মা ব্যবস্থা করে দিবে যে করেই হোক। আমি যেনো সব চিন্তা বাদ দিয়ে মন দিয়ে লেখা পড়া করি। আরও বলেছেন যে, আমাকে বেশি করে পড়াশোনা করে বড় হয়ে মানুষের সেবা করার জন্য এখন থেকে প্রস্তুত হতে হবে। তাই আমি সবার আগে আমার খুশির খবরটা আপনাকে দিতে আসলাম।
আমি সহজ সরল আর খুশিতে উড়তে থাকা এই বালিকার আনন্দের বন্যা দেখে নির্বাক হয়ে গেলাম।
- এ তো সেই মরিয়ম যে প্রতি মাসের শেষ দিকে বাসায় গিয়ে মাদরাসায় ফিরতে ২/৩ দিন দেরী করে ফিরে।
- মাদরাসায় এসে শিক্ষকের প্রশ্নের জবাবে শূধূই চোখের পানিতে গাল ভেজায়।
- শত ধমক আর শত জিজ্ঞাসাতেও কোনো জবাব বের হয় না।
- শুধূ রাতের শোয়ার আগে কাছে টেনে একটু আদর করে যখন আমি জিজ্ঞেস করতাম; বলো তো তোমার বাসায় কি সমস্যা? মাদরাসায় ফিরতে দেরী কেনো করেছো?
আদর পেয়ে কাছে ভিরে আরও এক দফা কান্না শেষে ফুফাতে ফুফাতে বলতো-
- মা আসতে দিতে চান না,
- বলেন, আর পড়ার দরকার নেই।
- এক বাসায় কথা বলেছি- তোকে কাজের জন্য দিয়ে দিবো।
- আমি আর পারছি না, তোর খরচ যোগান দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।
- তোর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তোদের খাবার যোগান দিবো; নাকি তোর পড়ার খরচ যোগান দিবো? এ নিয়ে টানাটানি করে আমি ক্লান্ত রে মা।
-তোর পড়তে হবে না। গরীবের কপালে পড়া লেখা নেই। কাজ করে খাও আর জীবন বাচাও।
মায়ের কথায় মেয়ে রাজি না হয়ে জেদ ধরে বাসায় না খেয়ে বসে থাকতো। অবশেষে অসহায় মা মেয়ের করুন চাহনির কাছে হার মেনে আবারও মাদরাসায় পাঠাতো। এই তো ছিল ওর জীবন।
আমি সব শুনে কস্টে বুকটা ভেঙ্গে গেলেও তেমন কিছূই করতে পারতাম না ওর জন্য। নিজের সাধ্যের সীমারেখায় ওর কাগজ কলম আর বই খাতার ব্যবস্থা করে দেয়ার চেষ্ঠা করতাম। হোস্টেল সুপারকে বলে ওর খরচের জন্য চাপ না দেয়ার অনুরোধ জানাতাম। ওর মাকে ফোন করে বুঝাতাম; সরব করুন। মেয়েটা পড়াশোনায় ভালো; একটু চেষ্ঠা করুন। একদিন হয়তো আল্লাহ সব ঠিক করে দিবেন। তখন আপনার এই কঠিন দিন থাকবে না। আশায় বুক বাধা মা আমার কথায় আরও একটু স্বপ্ন দেখতেন মেয়েকে নিয়ে। এই সামান্য চেষ্ঠা মাত্র....
মেডাম কিছু বলছেন না যে, আপনি খুশি হননি? মরিয়মের ডাকে আমি সম্বিত ফিরে পেলাম।
চোখের কোনায় অনিচ্ছায় দানা বাধা জলের ফোটা ওর অগোচরে মুছে নিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম, হুমম খুশি হয়েছি রে পাগলি! অনেক খুশি হয়েছি। তুই এখন থেকে কোনো বাধা বিঘ্নতা ছাড়া পড়তে পারবি এর চেয়ে খুশির আর কি হতে পারে।
আবার জিজ্ঞেস করলাম, তা তোমার মায়ের হঠাত এমন ঘোষনার কারণ কী। মরিয়ম আবারও চেহাড়ায় খুশির ফোয়ারা বইয়ে দিয়ে বলল, “ফ্রেন্ড ফাউন্ডেশন” ঢাকা এর আর্তমানবতার সেবা ও উন্নয়ন ফান্ড থেকে আমার মাকে শেলাই ট্রেনিং দিয়ে একটি ভালো মানের মেশিনও কিনে দিয়েছে। মায়ের এখন আর কোথাও চাকরী করতে হয় না। ঘরে বসেই কাজ করে অনেক টাকা ইনকাম করেন। কাজের জন্য প্রাথমিক কিছু সেলাই উপকরণ ও কাপড়ও “ফ্রেন্ড ফাউন্ডেশন” ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এখন আমার মায়ের টাকার কস্ট আর নেই।
-তাই মা আমাকে পড়াশোনা করিয়ে অন্যের সেবার জন্য প্রস্তুত করতে চান।
আমি মন থেকে আলহামদুলিল্লাহ বলে আবার ভাবনার অতল গহ্বরে হারিয়ে গেলাম। এক মরিয়মের তো ব্যবস্থা আল্লাহ করে দিয়েছেন। এমন কতো সহস্র মরিয়ম আমাদের সমাজে আছে যদি সবার জন্যই সুন্দর আর সম্মানের একটা ব্যবস্থা হয়ে যেতো কতই না ভালো হতো।
যদি আল্লাহ আমাকে সেই সক্ষমতা দান করতেন যেনো সকল মরিয়মদের জন্য কিছু করতে পারি।
সব শেষে একটাই কামনা আসুন!
আমরা সবাই আমাদের চার পাশের মরিয়মদের খোঁজ নেই।
ওদের পাশে দাড়াই।
আল্লাহ সকলকে তাওফীক দান করুন। আমীন।
“সালাফের নারীদের অভ্যাস ছিল, যখন বাড়ির পুরুষ কাজে বাইরে বের হতেন তখন তার স্ত্রী বা মেয়ে তাকে বলত, আপনি অবশ্যই হারাম উপার্জন থেকে বেঁচে থাকবেন, কেননা আমরা অনাহার ও দুরবস্থাতে তো সবর করতে পারব, কিন্তু জাহান্নামের আগুন সহ্য করতে পারব না।”
— ইমাম আবু হামিদ আল গাযালী [রাহ.]
[ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন: ২/৫৮, দারুল মা'রিফাহ, বৈরুত]
যে মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করে তার জন্য মৃত্যু কষ্টদায়ক নয়.!
হযরত আলী (রা:)
আসসালামু আলাইকুম
সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ ও প্রিয় শিক্ষার্থীরা! আমাদের পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী যাচাই মূলক ক্লাশটি আগামী ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যে ৭:৩০ থেকে ৮ঃ৩০ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। যারা উক্ত ক্লাসে অংশগ্রহণ করার জন্য ইতিমধ্যে আমাদেরকে নক করেছেন বা এখনো নক করেননি কিন্তু ক্লাশটিতে অংশ নিতে আগ্রহী। তারা নির্ধারিত সময়ের 30 মিনিট আগেই পেজে ক্লাসের লিংক পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।
“নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ নম্র, তিনি নম্রতা পছন্দ করেন। তিনি নম্র স্বভাবের লোককে যা দান করেন তা কঠিন স্বভাবের লোককে দান করেন না।”
-- আবু দাউদ:৪৮০৭
আল্লাহ বলেন-
فَوَیْلٌ لِّلْمُصَلِّیْنَ، الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُوْنَ ، الَّذِیْنَ هُمْ یُرَآءُوْنَ، وَیَمْنَعُوْنَ الْمَاعُوْنَ۠.
দুর্ভোগ সেই নামাযীদের, যারা তাদের নামায সম্পর্কে উদাসীন, যারা মানুষকে দেখায় এবং নিত্য ব্যবহার্য জিনিসও দেয় না। -সূরা মাঊন (১০৭) : ৪-৭
অধিকাংশ মানুষ পরিণতির কথা চিন্তা করে না। কতো ঝগড়াটে লোক আছে, যারা কারো ব্যাপারে গাল-মন্দ করেছে; বাজে কিছু বলেছে কিংবা স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বসেছে। কিন্তু যখন হুঁশ ফিরেছে, তখন লজ্জিত হতে হয়েছে।
(ইবনুল মুফলিহ রহ.; আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ : ০১/২২০)
নবী (সাঃ) বলেছেন
❝রাতের আহার ত্যাগ করো না যদিও তা এক মুটো খেজুরও হয়, কারণ রাতের আহার ত্যাগ মানুষকে বৃদ্ধ করে দেয়❞
[তিরমিজি : ১৮৫৬]
রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন : তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তির চরিত্র ও আচরণ সর্বোত্তম, সে-ই আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় এবং কিয়ামত দিবসেও আমার খুবই নিকটে থাকবে। [সুনান আত তিরমিজী : ২০১৮]
জান্নাত থেকে আসছে জমজম কূপের পানি!
২৪ জন ডুবুরি জম জম কূপের তলদেশে গিয়ে নিয়ে এলেন অজানা তথ্য!!
আল্লাহ পাকের কুদরত দেখে অবাক বিজ্ঞানীরা !
ষাটের দশকের কথা। তখন ছিল বাদশাহ্ খালেদের শাসনামল। ওই সময় আধুনিক যন্ত্রপাতির দিয়ে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল জম জম কূপটি।
জম জম কূপটি পরিষ্কারের কাজ তত্বাবধান করেন প্রকৌশলী "ইয়াইয়া কোশক"। তার প্রদত্ত বিবরণ থেকে বলা যায়, বড় ধরনের কয়েকটি পাথরের তলদেশ থেকে প্রবল বেগে পানি উৎসারিত হচ্ছে। সবচাইতে বড় পাথরের উপর স্পষ্ট আরবী হরফে “বিসমিল্লাহ্” কথাটি উৎকলিত রয়েছে।
রসুলুল্লাহর (সাঃ) এর দাদা আবদুল মুত্তালিব-এর সময় কূপের গভীরতা ছিল মাত্র ১৪ ফুট।
খলিফা মামুনুর রশীদের আমলে পুনরায় খনন করা হয় এই জম জম কূপ।
এ সময় পানির নিঃসরণ খুব বেড়ে গিয়েছিল। এমনকি কূপের বাইরে পানি উপচে পড়া শুরু করেছিল।
দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী পর সৌদি সরকার আধুনিক মেশিনের সাহায্যে কূপ পুনঃখনন করেন।
২৪ জন ডুবুরি কূপের তলদেশে গিয়েছিলেন তা পরীক্ষা- নিরীক্ষা করার জন্য। ডুবুরিরা দেখেন, সেখানে রং-বেরংয়ের মাটির স্তর জমাট বেঁধে আছে। আর অবিরাম নির্গত পানিকে পরিশোধন করছে। তারা আল্লাহর এ কুদরত দেখে বিস্মিত হয়ে যান!
বর্তমানে জম জম কূপের গভীরতা ৫১ ফুট।
এক নজরে জম জম কূপঃ
▪️আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতে ৪০০০ বছর পূর্বে সৃষ্টি হয়েছিল।
▪️ভারী পানি উত্তোলনের মোটরের সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০লিটার পানি উত্তোলন করার পরও পানি ঠিক সৃষ্টির সূচনাকালের ন্যায়।
▪️পানির স্বাদ পরিবর্তন হয়নি, জন্মায়নি কোন ছত্রাক বা শৈবাল।
▪️সারাদিন পানি উত্তোলন শেষে, মাত্র ১১ মিনিটেই আবার পূর্ণ হয়ে যায় কূপটি।
▪️এই কূপের পানি কখনও শুকায়নি, সৃষ্টির পর থেকে একই রকম আছে এর পানি প্রবাহ, এমনকি হজ্ব মৌসুমে ব্যবহার কয়েক গুন বেড়ে যাওয়া সত্বেও এই পানির স্তর কখনও নিচে নামে না।
▪️সৃষ্টির পর থেকে এর গুনাগুন, স্বাদ ও এর মধ্যে বিভিন্ন উপাদান একই পরিমানে আছে।
▪️এই কূপের পানির মধ্যে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সল্ট এর পরিমান অন্যান্য পানির থেকে বেশী। এজন্য এই পানি শুধু পিপাসা মেটায় তা না, এই পানি ক্ষুধাও নিবারণ করে।
▪️এই পানিতে ফ্লুরাইডের পরিমান বেশী থাকার কারণে এতে কোন জীবানু জন্মায় না ।
▪️এই পানি পান করলে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
সুবহানআল্লাহ্
মানুষ বলে যার বাড়ি-গাড়ি আছে সেই সফল
কুরআন বলে, যে নিজেকে শুধরে নিয়েছে সেই সফল।
——(আল-শামসঃ ৯)