21/07/2022
|| এক সাঁওতাল মায়ের 'গল্প' ||
জন্ম ওড়িশার ময়ূর্ভঞ্জ জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র সাঁওতাল পরিবারে। সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত গ্রামের স্কুলেই পড়াশোনা। ওই বয়সেই সবসময় মাথায় ঘুরত, এগোতে হবে, অনেকদূর এগোতে হবে। পড়াশোনা করে বড় হয়ে চাকরি করে সংসারের হাল ধরতে হবে।
একদিন ওই অঞ্চলে এক মিটিং এ রাজ্যের এক মন্ত্রী এলেন। সদ্য সপ্তম শ্রেণীতে ওঠা মেয়েটি সেসময়ের ম্যাট্রিক পাশ ঠাকুমার অনুপ্রেরণায় এবং বাবার পরামর্শে নিজের সমস্ত সার্টিফিকেট নিয়ে ছুটে গেল মন্ত্রীর কাছে। মিটিং এর মাঝেই দৌড়ে হলে প্রবেশ করে মন্ত্রীর হাতে সার্টিফিকেটগুলো জমা করে কাতর স্বরে বলল, আমি আরও পড়তে চাই। শহরের ভাল স্কুলে পড়াশোনা করতে চাই। মন্ত্রীর উদ্যোগে মেয়েটি প্রথমবার দেখল শহর, ভর্তি হল শহরের স্কুলে। কলেজের গণ্ডিও পার করলেন। পড়াশোনা শেষ করে 'সাঁওতাল পরিবারের মেয়ে চাকরি করবে' সুলভ অজস্র কটুবাক্য নীরবে মাথায় নিয়ে যোগ দিলেন চাকরিতে।
ইতিমধ্যে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আধিকারিক শ্যামচরণ মূর্মুর সাথে। প্রত্যাশিতভাবেই, বাড়ির বউ চাকরি করবে, এতে শ্বশুরবাড়ির ছিল ঘোর আপত্তি। ছেড়ে দিলেন চাকরি। ঠিক এসময় কোল আলো করে আসে পরপর দু'টি পুত্র এবং একটি কন্যাসন্তান। ছেলেমেয়েরা একটু বড় হতে আর পাঁচজন ভারতীয় মহিলার মতোই পরিবারের সাথে একটু 'মানিয়ে গুছিয়ে' নিয়ে আবার যোগ দিলেন একটি স্কুলের চাকরিতে, তবে এবার বিনা বেতনে। অনারারি সার্ভিস। পড়ানোর দক্ষতা এবং সবার সাথে মিশে যাওয়ার অপরিসীম ক্ষমতার সৌজন্যে স্বল্প সময়েই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকদের মধ্যে। করতে থাকেন সমাজসেবামূলক কাজ।
এসময় সেই মন্ত্রীর এক বন্ধু রাজনীতিকের নজরে পড়ে দ্রৌপদীর কাজকর্ম। তিনি ক্রমাগত দ্রৌপদীকে অনুরোধ করতে থাকেন রাজনীতিতে যোগ দিতে যাতে তাঁর জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে ভোট বৈতরণী পার হওয়া যায়। দ্রৌপদী নাছোড়বান্দা। রাজনীতির বাইরে থেকেই সমাজের জন্য কাজ করতে চান। ক্রমাগত অনুরোধ উপোরধ শেষে আর নাকচ করতে না পেরে স্বামীর পরামর্শে ১৯৯৭ সালে ময়ূর্ভঞ্জের নোটিফায়েড এরিয়া কাউন্সিলের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেন ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। প্রথমবার কাউন্সিলর হয়েই ওই বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনীত হন।
কাউন্সিলর পদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই