ইলমে লাদুনী العلم اللدّني

ইলমে  লাদুনী  العلم اللدّني

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ইলমে লাদুনী العلم اللدّني, Educational Research Center, Dhaka.

আমাদের অফিসিয়াল What's App চ্যানেল লিংক ⬇️
https://whatsapp.com/channel/0029VbBfRqR6mYPNzTGMt940
আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল লিংক ⬇️
https://youtube.com/@elmeladuni786?si=oo87jxAAoYMDi3dU

22/07/2026
22/07/2026

‘মান কুনতু মাওলা?’
নবীজি ﷺ ও আলী রা.’র সহজ সরল কথা
-----

✍️ ইলমে লাদুনী العلم اللدّني

নূরনবী ﷺ তখন হেরাগুহায় আল্লাহর মুরাকাবায় নিমজ্জিত। দিন কাটে রাত কাটে জাবালে নূরে। তাঁর সেই অতুলনীয় সময়টায় এক ছোট্ট শিশু জন্ম নেন। তিনি জন্মগ্রহণ করেন খোদ কা’বা ঘরের ভিতর। এই জন্মের ঘটনাটা মুতাওয়াতির হাদিস।

জন্মের খবর পেয়ে ছুটে যান প্রিয়নবী ﷺ । এই শিশু যে জন্মের আগে থেকেই তাঁর বড় আদরের! বড় আপন! কারণ, এই শিশুর জন্মদায়িনী মা যে নবীজির মায়ের মতন। এই শিশুর জন্মদাতা পিতা যে নবীজির পিতার মতন।
কা’বা ঘরে জন্ম নিয়ে শিশু চোখ খোলেননি। চোখ খুললেন নবীজির কোলে।

নাম রাখা হলো, আলী! সুউচ্চ! সর্বোচ্চ!
শিশু আলীর বয়স তখন আড়াই বছর। নূরনবী ﷺ আলীকে দত্তক নিলেন। নিজের কাছে রাখবেন। মহামানব করে গড়ে তুলবেন নিজের কোলে।
নূরনবী ﷺ বলেন, যেভাবে মা উটের পেছনে উটের ছানা যায়, সেভাবে আলী যেতেন আমার সাথে হেরা গুহায়।

ওয়াহি আসছিল ধ্যানমগ্নতা আকারে। ওয়াহি আসছিল স্বপ্ন আকারে। অবশেষে, আক্ষরিক বাণী আকারে ওয়াহি চলে এলো। পড়ুন!
নূরনবী ﷺ সবার আগে কথাটা জানালেন মা খাদিজাকে। নবীর দত্তক আলীও তো জেনে ফেললেন। আলীর তখন বয়স আর কত? আট? দশ?
মা খাদিজা রা. বললেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। আলী রা.-ও বললেন।

ওয়াহির পরদিন। নূরনবী ﷺ রবের জন্য সালাত পড়বেন আজকে। মা খাদিজাও চললেন। আলীও চললেন। দুনিয়ায় কেউ জানে না, এইযে তিনজন সালাত পড়ছেন প্রকাশ্য কা’বার সামনে, তাঁরা মক্কার প্রচলিত ধর্মের নন। তাঁরা মুসলিম।
এরপর, সাত বছর আর মুসলিমদের সালাত পড়া হয়নি। মাওলা আলী রা. বললেন, পৃথিবীর সবার সাত বছর আগে ফেরেশতারা আমার ও নবীজি ﷺ’র উপর সালাত পড়েছিল। অর্থাৎ, তাঁদের সালাত দেখে সবিনয়ে দরুদ পড়েছিল।

একদিন নূরনবী ﷺ সিদ্ধান্ত নিলেন, নিজের পরিবারকে জানাবেন। দাদা আব্দুল মুত্তালিবের সব সন্তানকে একত্র করলেন। খাবারে বরকতের মু’জিজা প্রকাশ পেলো। চাচাদের ও চাচাতো ভাইদের বললেন, আপনাদের মধ্যে কে হবেন আমার উত্তরাধিকারী, স্থলাভিষিক্ত ও একমাত্র ভাই?

কেউ কথা কয় না।
ছোট্ট আলী পরপর দু’বার উঠে দাঁড়ান। কিন্তু বড় কেউ কথা কয় না। তৃতীয়বার নবীজি ﷺ বলেন, তবে তাই হোক। আপনিই আমার উত্তরাধিকারী, স্থলাভিষিক্ত ও একমাত্র ভাই। তখনো মানুষ ইসলামের কথা জানেই না, কিন্তু, আলী রা. ঘোষিত হয়ে গেছেন নবী ﷺ’র একমাত্র ভাই, উত্তরাধিকারী ও স্থলাভিষিক্ত।

নূরনবী ﷺ একদিন কা’বার দিকে বেরোলেন। আলীকে জানিয়েছেন, আল্লাহর ঘরের ছাদে মূর্তি, কষ্ট হয়! আলী রা. নূরনবী ﷺ’র কাঁধে চড়লেন। কা’বার ছাত থেকে মূর্তি ভেঙে বিচ্ছিন্ন করলেন। ছুঁড়ে ফেলে গুঁড়ো করলেন। তারপর, দিলেন ছুট নূর নবীজির সাথে সাথে।
তখনো মানুষ ইসলামের কথা জানেই না। হাতে গোণা ক’জন জানেন শুধু।

লোকমুখে আবু যার শুনলেন, গোপনে এক নবী এসেছেন মক্কায়। তিনি শিরক করেন না। আবু যারও তো শিরক ঘৃণা করেন। আবু যার রা. কা’বার পাশে পড়ে থাকেন! কিন্তু, খোঁজ পান না, কে সেই নবী। ছোট্ট আলী রা. আবু যার রা.-কে গোপনে মুসলিমদের সভায় নিয়ে যান। তখন দু চারজন মুসলিম হচ্ছেন। মক্কার বাইরের আবু যার রা. প্রথম মুসলিম হলেন।

তারপর কত্ত কিছু যে হয়ে গেল!
বদর দিবসে অপর সাহাবিদের চেয়ে ৩০০ গুণ বেশি শত্রুবধ করলেন আলী রা.। খাইবারে এক হাতে তুললেন দুর্গদুয়ার। প্রায় প্রতিটি যুদ্ধে তিনিই সেনাপতি।

কত কিছু যে হয়ে গেল!
নবী ﷺ বললেন, ফাতিমাগো, আপনাকে তো আমার আহলুল বাইতের শ্রেষ্ঠজনের সাথে বিয়ে দিয়েছি। দুনিয়ার সাইয়িদের সাথে বিয়ে দিয়েছি। আখিরাতের সাইয়িদের সাথে বিয়ে দিয়েছি।
সব যুদ্ধ, সব কাজ- সবকিছুতে নবী আর আলী। আলী আর নবী।
নবী ﷺ বলেন, আলী! আপনার জন্য সেসবই চেয়েছি, আমার জন্য যা চেয়েছি। আপনি নবী হওয়া ছাড়া সবই পেয়েছেন।
চাদরে আবৃত করে বলেন, এঁরাই আমার আহলুল বাইত। মুবাহালায় শুধু আলী রা. ও তাঁর পরিবারকেই নিয়ে যান।
বহু বছর পর আবারো বলেন, আপনি আমার কাছে তেমন, মূসার কাছে হারুন যেমন। আপনি আমার স্থলাভিষিক্ত।

ওইযে হেরা গুহা থেকে শুরু, তা কিন্তু চলছেই। প্রতি রাতে আলী যান নূরনবীর ঘরে। ইসলাম এসেছে আজ বিশ বছরেরও বেশি। এখনো, যখন দুনিয়া ঘুমিয়ে থাকে, যখন লাখো সাহাবায়ে কিরাম ঘুমে বা ইবাদাতে থাকেন- তখন সৃষ্টিকূলে এক আলী ঢোকেন নূরনবীর ঘরে। প্রতি রাতে। নূরনবী ﷺ সালাতে থাকলেও আলীকে ফেরান না। সেই গহিন শেষরাতে আলী রা.-কে সালাতরত অবস্থায়ও নূরনবী ﷺ আওয়াজের ইঙ্গিত দিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেন।

মক্কা বিজয় হলো।
বিদায় হজের সাধারণ ঘোষণা করা হলো। রাসূল দ. হজ করতে যাবেন। এই সাধারণ ঘোষণা বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়ল। মহান সাহাবাগণ উঠেপড়ে লাগলেন প্রিয়তম নবীর সাথে হজযাত্রায়। সারা আরব থেকে বিভিন্ন গোত্রের জনগণ মদিনার অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন এই হজে শামিল হবার জন্য। প্রিয়তম’র হজসঙ্গী হবেন তাঁরা।
সকল সম্মানিতা স্ত্রী ও সম্পূর্ণ পরিবার নিয়ে রওনা হলেন নবীজি ﷺ । শুধু কুরবানির উট নিলেন ১০০ টি।

মদিনা ও আশপাশ থেকে নবীজির সহযাত্রীর সংখ্যা চল্লিশ হাজার, সত্তর হাজার, নব্বই হাজার, একলক্ষ চৌদ্দ হাজার, একলক্ষ বিশ হাজার, একলক্ষ চব্বিশ হাজার পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন ঐতিহাসিকরা। তাঁরা এও বলেছেন যে, শুধু মদিনা ও আশপাশের হজযাত্রির সঠিক সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, তা নির্ণয় করা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কারো সাধ্য ছিল না।
এই হজে ইয়েমেন থেকে বিশাল লোকবল ও ৩৭ টি কুরবানির প্রাণী নিয়ে অংশগ্রহণ করলেন মাওলা আলী রা.।

হজ শেষ। সাহাবারা আপন আপন দিকে ফিরে যাবেন। বেশিরভাগই যাবেন নবীজির সাথে। মদিনায় গিয়ে সেখান থেকে নিজের জায়গায় ফিরবেন। নূরনবী ﷺ’র যত কাছে যত বেশি সময় থাকা যায়!
ফিরে যাবার পথে গাদিরে খুম জলাশয়ের পাশে থামলেন নবীজি। গাদিরে খুম হলো সাহাবায়ে কিরামের পরস্পর বিদায় নিয়ে নিজ নিজ স্থানে রওনা দেয়ার জায়গা।
যারা আগে চলে গেছে, তাদের ডেকে আনালেন। যারা পিছিয়ে আছে, তাদের জন্য অপেক্ষা করলেন। উটের হাওদা দিয়ে একটা মঞ্চ বানানো হলো।

জড়ো হলেন মদিনামুখী ৪০-১২৪ হাজার সাহাবি। এর বাইরে মিশর, ইরাক ও অন্যান্য সকল স্থানের অধিবাসীরা বিদায় নেবেন। ছিলেন হযরত আলী রা.’র সাথে যুক্ত হওয়া ইয়েমেনের নওমুসলিমরাও।
এদিকে মক্কা বিজয়ের পর মক্কা ও তার আশপাশের প্রায় সম্পূর্ণ জনগণ ইসলাম গ্রহণ করেন। এই সংখ্যাটা ছিল বিপুল। তাঁদের মধ্যে অনেকেই নবীজির কাফেলায় শামিল হয়েছিলেন। মদিনা অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন। অনেক হাদিস প্রমাণ করে, তাঁদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করে মক্কা থেকে মদিনায় নবীজি ﷺ’র সাহচর্য পাবার পূণ্যে চলে এসেছিলেন। কারণ ২২ বছরে ইসলাম আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে গেছে।

এঁরা সবাই সাহাবায়ে কিরাম।
গবেষক আলিমগণ একমত, গাদিরে খুমে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল লাখের আশপাশে। বেশি বা কম।
গাদিরে খুমে উপস্থিত লাখো সাহাবির সামনে নবীজি ﷺ যখন আলী রা.-কে নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন, তখন হাদিস বর্ণনাকারীরা বলেন, নবীজিকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। হযরত আলীকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নবীজি বলেননি, ‘আলী’। আলী নামে আরো সাহাবা থাকতেই পারতেন। বরং তিনি বলেছেন, ‘এই আলী’। ফাহাযা আলী। অর্থাৎ, তখন প্রচুর নওমুসলিম ছিলেন। এই নতুন সাহাবায়ে কিরামের সবাই মদিনাবাসী নন। সবাই মক্কাবাসী নন। সবাই ইয়েমেনবাসী নন।
মক্কা, মদিনা ও ইয়েমেনের অধিবাসীরা আলী রা.-কে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। কারণ, মক্কা আলী রা.’র জন্মস্থান, মদিনা তাঁর বাসস্থান এবং ইয়েমেন তাঁর শিক্ষাদান ও প্রশিক্ষণদানের স্থান।

এর বাইরে আছে পুরো আরব এবং পুরো আরবের চারধারের অনারব অঞ্চল। এই অঞ্চলের বহু সাহাবি ওখানে ছিলেন, যাঁরা এই প্রথম নবীজিকে বিদায় হজেই দেখলেন। বহু সাহাবি ছিলেন, যাঁরা আলী রা.-কে কখনো দেখেননি। চেহারায় চেনেন না। ‘এই আলী’ বলার সময় নবীজি ﷺ আলী রা. কে পাশে দাঁড় করালেন, তাই চিনতে কোন সমস্যা হলো না। ‘এই আলী’ বলার সময় নবীজি ﷺ আলী রা.’র হাত তুলে ধরলেন, তাই বুঝতে কোন সমস্যা হলো না।

মহান রাসূল ﷺ তিনবার বললেন,
মান কুনতু মাওলা, ফাহাযা আলীউন মাওলা।
যে আমাকে মাওলা জানে, এই আলী তার মাওলা।
যে আমাকে মাওলা জানে, এই আলী তার মাওলা।
যে আমাকে মাওলা জানে, এই আলী তার মাওলা।

নবীজি ﷺ বলেন, আমি এ পৃথিবীতে থাকবো না। তোমাদের কাছে কুরআন ও আহলুল বাইত রেখে যাচ্ছি। তোমরা দেখো, কীভাবে তারা আমার পেছনে আছে। কিয়ামাত তক কুরআন ও আহলুল বাইত পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। তোমরা কুরআন ও আহলুল বাইত আঁকড়ে ধরলে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। আমার আহলুল বাইতের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে স্মরণ করো।

নূরনবী ﷺ বলেছিলেন, আমি মু’মিনদের উপর তাদের নিজেদের চেয়েও প্রাধান্য রাখি। একথা বলার পর বলেছিলেন, সুতরাং এই আলীও মু’মিনের মাওলা। এই ‘সুতরাং’ বলার মাধ্যমে এটাও স্পষ্ট হয়, আলী রা. প্রত্যেক মুমিনের জানের চেয়ে প্রিয় এবং সবকিছুর চেয়ে আপন।

নবীজি ﷺ আলী রা. কে মাওলা বলার পর, মাওলার প্রাধান্য সংজ্ঞায়িত করলেন। সাথে সাথে। তখনি। সবার সামনে। লাখো সাহাবি রা.’র সামনে।
মাওলার প্রাধান্য কী? সেটাও স্পষ্ট। খোদ নবীজি দ. ‘এই আলী মাওলা’ বলার পর কী বললেন, সেই বাণীর দ্বারা স্পষ্ট।

মাওলার প্রাধান্য হলো:
* হে আল্লাহ! তাকে আপনি ভালবাসুন যে আলীকে ভালবাসে;
* আর আপনি তার প্রতি শত্রুতা পোষণ করুন, যে আলীর প্রতি শত্রুতা পোষণ করে;
* আপনি সহযোগিতা করুন তাকে, যে আলীকে সহযোগিতা করে;
* আপনি তাকে ত্যাগ করুন, যে আলীকে ত্যাগ করে;
* সত্যকে সর্বদা আলীর সাথে রাখুন। তিনি (আলী) যে দিকেই থাকুন না কেন, সত্যকে তাঁর দিকে রাখুন।
* কুরআন ও আহলুল বাইত কিয়ামাত তক, হাউযে কাউসার তক বিচ্ছিন্ন হবে না।
* আমার পর কুরআন ও আহলুল বাইত আঁকড়ে ধরো, তবে পথভ্রষ্ট হবে না।
* আমার আহলুল বাইতের বিষয়ে আল্লাহকে স্মরণ করো!

নবীজি ﷺ পূর্ণ বক্তব্য ও আলোচনা শেষে তাঁবুতে প্রবেশ করেন। সেখানে আলী রা.-কে নিয়ে যান। তখন সেই তাঁবুর ভিতরে খলিফায়ে রাশিদুন, উম্মাহাতুল মু’মিনিনগণ সহ আহলুল বাইত, আশারায়ে মুবাশশারা, সাবিকুনাল আউয়ালুন, পুরনো সাহাবিগণ এবং নতুন সাহাবিগণ- প্রবেশ করেন।

প্রবেশ করে আলী রা. কে অভিনন্দন জানান।
এ মহান ঘোষণার কারণে কবিতা রচনা হয়। হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব রা. তো বক্তব্যস্থলেই কবিতাপাঠ করেছিলেন। আর হযরত হাসসান বিন সাবিত রা. কবিতাপাঠ করেন তাঁবুর ভিতর।

মাওলা অর্থ অভিভাবক। কিন্তু কেমন অভিভাবক? পৃষ্ঠপোষক ধরনের অভিভাবক। যে অভিভাবক নিজের ক্রীতদাসকে আযাদ করে দেন। আযাদ করার পরও সর্বক্ষেত্রে সর্ব প্রয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। মাওলা তিনিই, যার পরিচয়ে অধীন মুক্ত হয়েও পরিচিতি পায়। আশ্রয় পায়। ঠিকানা পায়।

নবীজি ﷺ যার মাওলা, আলী রা. তারই তো মাওলা।
সেইযে আলী রা. জন্মগ্রহণ করলেন, সেইযে তিনি আড়াই বছর বয়সে নবীজির পোষ্য হলেন, সেইযে পেছনে পেছনে হাঁটি হাঁটি পা পা করে হেরা গুহায় গেলেন, সেইযে প্রথম মুসলিম হলেন, প্রথম সালাত আদায় করলেন, শিশু হয়েও নিজের বাবা-চাচাদের সামনে পরপর তিনবার নিজেকে নবীজির একমাত্র উত্তরাধিকারী, স্থলাভিষিক্ত ও একমাত্র ভাইয়ের আরজি করলেন, সেইযে সেই আরজি পূরণ হলো, সেইযে তিনি নবীর গৃহে প্রতি রাতে বছরের পর বছর লাগাতার গেলেন- তিনিই তো মাওলা আলী!

এক গাদিরে খুমের ঘোষণা অনেক বড় বিষয় হতে পারে, কিন্তু মাওলা আলী তো গাদিরে খুমেরও বহু ঊর্ধে। মাওলা আলী তো কেবল গাদিরে খুমের নন! তিনি হেরা গুহার, তিনি কা’বার ভেতরের, তিনি কা’বার ছাদের, তিনি খাইবারের দরজার, তিনি চাদরের ভেতরের, তিনি মুবাহালার ভেতরের, তিনি প্রতি রাতে একা নূর নবীজির ঘরের! বছরের পর বছর! তিনি সাইয়িদ দুনিয়ার, তিনি সাইয়িদ আখিরাতের।
এটাই মান কুনতু মাওলা।

(এখানে উল্লিখিত প্রতিটি ঘটনা ও বিষয়ের মূল আরবি ইবারত সহ একাধিক উৎসের হাদিস আমাদের হাতে সংরক্ষিত আছে।)

21/07/2026

🟩 খারেজি ফেরকার ইতিহাস

✍️ ইলমে লাদুনী العلم اللدّني

খারেজি এক পথভ্রষ্ট ফেরকার নাম। যারা সিফফিন যুদ্ধের পর হযরত আলী رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ -কে সমর্থন ও সাহায্য করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তাঁর বিরোধিতায় বিদ্রোহ করে বসে। হযরত আলী رضى اللهُ عَنْهُ 'র জামাত থেকে বের হয়ে ভ্রান্ত আকীদা লালন করার কারণে তারা খারেজি নামে পরিচিতি লাভ করে। এরাই সেই ফেরকা, যারা হযরত আলী رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ সহ হাজার হাজার সাহাবায়ে কিরামকে কাফের ও মুশরিক বলে ঘোষণা করেছিল এবং তাঁদের ও অন্যান্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল।

বর্তমানে নজদি ফেরকার লোকেরা যেভাবে অধিক নামাযী, ধার্মিক, কুরআন-হাদিসের আলোচনা ও এর ওপর আমল করার দাবিদার, খারেজিরাও তেমনই ছিল। এমনকি ইমাম হাসান ضى اللهُ عَنْهُ,ইমাম হুসাইন ضَى اللَّهُ عَنْهُ এবং অন্যান্য সাহবায়ে কিরাম তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা বলেন, এরা তো সারারাত তাহাজ্জুদ পড়ে এবং সারাদিন কুরআন তিলাওয়াত করে আমরা কিভাবে এদের বিরুদ্ধে তলোয়ার উঠাবো?

এই মাসআলাটি আমরা সকলেই জানি যে, নারীদের জন্য ঋতুকালীন অবস্থায় নামায পড়া ও রোযা রাখা জায়েয নেই। তবে যখন পবিত্র হয়ে যাবে, তখন রোযাগুলো কাযা আদায় করবে। আর ছুটে যাওয়া নামাযগুলো মাফ হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের দলভুক্ত নারীদের অবস্থা এমন ছিল যে, ঋতুকালীন অবস্থায় তাদের ছুটে যাওয়া নামাযগুলোর তারা কাযা আদায় করতো।

এ ব্যাপারে সহীহ বুখারী শরীফে এসেছে:

أن امرأة قالت لعائشة : أتجزى إحدانا صلاتها إذا طهرت؟ فقالت : أحرورية أنت؟ كنا نحيض مع النبي صلى الله عليه وسلم فلا يأمرنا

"به، أو قالت : فلا نفعله

অর্থাৎ, জনৈক মহিলা হযরত আয়েশা رضى اللهُ عَنْهَا-কে জিজ্ঞেস করলো, আমাদের কেউ কি পবিত্র হওয়ার পর নামাযের কাযা আদায় করবে? জবাবে তিনি رضى اللهُ عَنْهَا বলেন, তুমি কি খারেজি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত? আমরা নবী করীম'র সাথে হায়েয অবস্থায় থাকতাম, কিন্তু তিনি আমাদের নামায কাযা আদায়ের ব্যাপারে কোনো আদেশ দিতেন না, অথবা তিনি رضى اللهُ عَنْهَا বলেছেন যে, আমরা পুনরায় আদায় করতাম না। ★

এতে বুঝা যায় যে, হযরত সায়্যিদাতুনা আয়েশা رَضِيَ اللهُ عَنْهَا জানতেন : এই খারেজি মহিলারা ঋতুকালীন অবস্থায় ছুটে যাওয়া নামাযগুলোর কাযা আদায় করে থাকে। তাই তিনি তাদের এই কাজকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং বলেছিলেন, নবী করীম আমাদের এই নামাযগুলো কাযা করার কোনো নির্দেশ দেননি।

যেদিন খারেজিরা হযরত আলী رَضى اللهُ عَنْهُ'র বিরুদ্ধে যুদ্ধে করতে যাচ্ছিলো, তার আগের রাত তারা ইবাদতে কাটিয়েছিল। এতে বোঝা যায়, খারেজিরা এ যুগের নজদিদের ন্যায় নিজেদের খুবই ধার্মিক ও পরহেযগার দেখাতো।

গ্রন্থসূত্রঃ
★(সহীহ বুখারী, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৭১, দারু তাওকিন নাজাত)
★ দ্যা মিথ অফ মাজারপূজা, পৃষ্ঠা- ১৭,১৮

20/07/2026

প্রেম হলো এলমে তাসাউফে প্রবেশের দ্বার আদব হলো সেই দ্বারের ভিত্তি।

-সাইয়্যেদ শাহ মুহাম্মদ খালিদ হোসেন (মা.আ)

05/07/2026

শামস উল আরেফিন হযরত শামস তাবরিজীর (রহ.) মতো মহান ওলী এই ধরাধামে না আসলে আমরা জগৎবিখ্যাত মাওলানা জালালউদ্দিন রুমিকে (রহ.) আবিষ্কার করতে পারতাম না।

05/07/2026

🟩 পীরের প্রতি মুরিদের আদব

✍️ ইলমে লাদুনী العلم اللدّني

যেমন একটি হাস্যোজ্জ্বল ডালিম
বাগানকে সতেজ করে,
অনুরূপভাবে আউলিয়াদের
সাহচর্য গ্রহণ করলে তোমাকে ওলি বানিয়ে দেবে

কোন বুজুর্গ কোন সালেক ব্যক্তিকে বললেন, হযরত বায়েজিদ (রহমতুল্লাহে আলাইহি) এঁর ছোহবত (সাহচর্য) গ্রহণ কর। তিনি উরে দিলেন, আমি খোদার সাথে ছোহবত (সাহচর্য) রাখি। ঐ বুজুর্গ বাক্তি বললেন, বায়েজিদের সাথে ছোহবত খোদার ছোহবত থেকে উত্তম। অর্থাৎ তুমি নিজ উপলদ্ধির ক্ষমতার তুলনা অনুপাতে আল্লাহ তায়ালার ফয়জ ও বরকতের কিছু পরিমাণ পেয়ে থাক। আর হযরত বায়েজিদ (রহমতুল্লাহে আলাইহি) ছোহবতের দ্বারা তাঁর সুউচ্চ মরতবা আনুযায়ী তোমার কাছে ফয়েজ পৌঁছবে। খোদা অনুসন্ধানীর জন্য আবশ্যক যে, এমন স্থানে দাঁড়াবে না যে, নিজের শরীরের ছায়া পীরের ছায়ার উপর পতিত হবে। আর কখনো পীরের জায়নামাজে পা রাখবে না। তাঁর পবিত্রতা অর্জনের স্থানে অজু করবে না। তার বাসন সমূহের মধ্য থেকে কোন বাসন ব্যবহার করবে না। তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্রও নিজের কাজের মধ্যে লাগাবে না। তাঁর সামনে পানাহার করবে না। বরং তাঁর সামনে অন্য কারো সাথে কথাও বলবে না। পীরের অনুপস্থিতিতে যে দিকে পীর অবস্থান করেন সে দিকে পা রাখবে না। সে দিকে থুথু ফেলবে না। আর কোন প্রকার অমানানসই কাজ করবে না। তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে তাঁর থেকে আলাদা হবে না। তাঁকে ছেড়ে অন্য কারো দিকে মনোযোগী হওয়া মুরিদের জন্য নিষেধ। নিজের আওয়াজকে পীরের আওয়াজের উপর উঁচু করবে না। প্রত্যেক বিজয় ও ফয়জ যা অর্জিত হয়; তা নিজের পীরের পক্ষ থেকে জানবে। যদিও পৃথিবী আউলিয়া কেরাম দ্বারা পরিপূর্ণ কিন্তু স্বীয় পীরের চেয়ে বেশি কাউকে জানবে না। মজনুনের জন্য লায়লা থেকে বেশি সুন্দরী কেউ ছিল না।

03/07/2026

তথাকথিত সালাফি সম্প্রদায়ের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই ওরা শয়তানের চাইতেও নিকৃষ্ট।

সৈয়দ শাহ মুহাম্মদ খালিদ হোসেন মাদ্দাজিল্লাহুল আলী

03/07/2026

বর্তমানে অনেক দরবারে শুনি নামাজ নেই অথচ ব্যক্তি জীবনে আমার মুর্শিদ কেবলা হুজুরকে কখনো ১ ওয়াক্ত নামাজ ক্বাযা করতে দেখিনি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত নসিব করুক।

03/07/2026

হক্ক ইসলামের পথে আপনাকে দাওয়াত।

ইনশাআল্লাহ! হক্ব পথ আপনার জীবনে সুখ সমৃদ্ধি কল্যাণ সহ অসংখ্য নিয়ামত নিয়ে আসতে পারে এবং আখিরাতে কল্যাণের দিকে নিয়ে যাবে।

আজ সমাজের প্রতিটি স্তরে অস্থিরতা, অশান্তি কোথাও শান্তি নেই। কেন নেই এই উত্তর অজানা নয়। আসলে আমরা হক্ব ইসলামের পথ হতে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছি। তাই জীবনে আলেয়া আছে আলো নেই।

জীবনের সঠিক দিশা পেতে, হক্ব ইসলামের পথে চলতে নিরাশা, হতাশা দূর করতে আলোর পথে আসতে আপনাদের সকলকে আহ্বান করছি -

চার তরিকার মহান মুর্শিদ কেবলা
হযরত শাহ সুফি মুহাম্মদ খালিদ হোসেন (মা.আ)
রাহে সুলুক দরবার শরীফ
সুলতান-ই-সুফি মজলিশ

03/07/2026

সত্যের পথে আপনাকে দাওয়াত
কেন আজ চারিদিকে অশান্তির দাবানল?
কেন মানুষ গুলো দিকবিদিক হন্যে হয়ে ঘুরছে?
কেন মানুষের জীবনে আলেয়া আছো আলো নেই?
কেন আজ কোথাও শান্তি খুঁজে পাওয়া যায় না?
উত্তর পেতে চাইলে বা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে থাকলে চলে আসুন
ইনশাআল্লাহ আমার মুর্শিদ কেবলা অবশ্যই মহান দয়াময় আল্লাহ পাকের দয়ায় আপনাকে সদুত্তর ও সত্যের পথে পথ দেখাবেন।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Dhaka
1360