ভুতের গল্প

ভুতের গল্প

Share

this is horror page

23/09/2019

বিরক্তিকর ঘটনা (বাস্তব) আজ ইশার নামাজের আগে প্রস্রাব করতে গিয়ে দেখি একজন লোক প্রস্রাব করে দাঁড়াচ্ছে ঐটা ধরে। আমরা দুইজন, জুতো একজোড়া থাকার কারনে একজন গেল, আমি দাড়িয়ে রইলাম। সে কাজ সেরে আসার পর আমি গেলাম, আমিও কাজ শেষ করে অজুও করেছি, তারপরও দেখি ঐ লোকটা ঐ টা ধরে দাড়িয়ে আছে। তাকে কে বুঝাবে।আল্লাহ হেদায়েত দান করুন।

27/06/2018

আসলে যা ঘটবে!

10/04/2018
05/04/2018

€ ফেয়ার ফ্যাক্স কি?
__গোয়েন্দা সংস্থা।

€ আন্তর্জাতিক জীববৈচত্রি দিবস কত তারিখ?
__২২মার্চ।

€ "আলোকিত মানুষ" তৈরির কর্মসূচি কোন সংগঠনের?
__বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।

€ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত দৈর্ঘ্য কত?
__৪১৫৬ কিমি.

€ ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে কোথায়?
__রাশিয়া।

€ চিরশান্তির শহর নামে পরিচিত কোনটি?
__রোম।

€ বিশ্বের কোন নগরী দুটি মহাদেশে বিস্তৃত?
__ইস্তাম্বুল।

€ কোন বাংলাদেশী নাইট উপাধি লাভ করে?
__ফজলে হাসান আবেদ।

€ ইস্ট এশিয়ান মিরাকল বলতে কয়টি দেশকে বোঝায়?
__৭টি।

€ ওয়ারী-বটেশ্বর কোথায় অবস্থিত?
__নরসিংদী।

19/03/2018

পেশা(Career)
সংজ্ঞা:
শব্দ কর্মজীবন অক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধান দ্বারা একটি ব্যক্তির "জীবন বা (জীবনের একটি স্বতন্ত্র অংশ) মাধ্যমে কোর্স বা অগ্রগতি" দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়। এই সংজ্ঞা কর্মজীবন একটি ব্যক্তি জীবনের জীবন, শেখার এবং কাজ একটি পরিসীমা সাথে সম্পর্কিত বোঝা যায়। একজন ব্যক্তির জীবিকার কাজের দিকগুলি বোঝার জন্য ক্যারিয়ারও প্রায়ই বোঝা যায়। কর্মজীবন নারী হিসাবে তৃতীয় পেশা যা একটি পেশা বা পেশা যা সাধারণত বিশেষ প্রশিক্ষণ বা আনুষ্ঠানিক শিক্ষা জড়িত বর্ণনা করার জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং একটি ব্যক্তির জীবনের কাজ বলে মনে করা হয়। এই ক্ষেত্রে "একটি কর্মজীবন" একটি একক শিল্প বা ক্ষেত্রের মধ্যে সাধারণত চালিত সম্পর্কিত কাজ একটি ক্রম হিসাবে দেখা হয়, যেমন- "শিক্ষার একটি কর্মজীবন" বা "বিল্ডিং ব্যবসার একটি কর্মজীবন"
পেশার ঐতিহাসিক পরিবর্তন:
বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে, বিভিন্ন বৈচিত্র (বিশেষ করে সম্ভাব্য পেশার পরিসীমা) এবং আরও ব্যাপক শিক্ষার মাধ্যমে এটি একটি কর্মজীবন পরিকল্পনা (বা ডিজাইন) করা সম্ভব হয়েছিল: এই বিষয়ে ক্যারিয়ার কাউন্সিলর এবং এর ক্যারিয়ারের কর্মজীবন উপদেষ্টা আপ উত্থিত হয়েছে। ২0 তম / প্রথম ২1 শতকের শেষের দিকে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দ্বৈত বা একাধিক ক্যারিয়ার থাকতে হবে, ক্রমানুসারে বা সমকক্ষভাবে। এইভাবে পেশাগত পরিচয়টি হাইফেনেট বা হাইব্রিড করা হয়েছে যাতে কাজের পরিবর্তনশীলতা প্রতিফলিত হয়। অর্থনীতিবিদ রিচার্ড ফ্লোরিডা সাধারণভাবে এই প্রবণতাটি এবং বিশেষ করে "সৃজনশীল শ্রেণী" এর মধ্যে নোট করে।
*কর্মজীবন ব্যবস্থাপনা:
কর্মজীবন পরিচালনা একজন ব্যক্তির দ্বারা কর্মজীবনের সক্রিয় এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ পরিচালনার বর্ণনা করে। "কর্মজীবন পরিচালনার দক্ষতা" কি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, স্কটল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড এবং ডিজিটাল ক্যারিয়ার লিটারেসি (বিশেষত ইন্টারনেট দক্ষতার সাথে সম্পর্কিত) এর সাত সি এর মধ্যে। মূল দক্ষতাগুলির মধ্যে একজনের বর্তমান কর্মজীবনকে প্রতিফলিত করার ক্ষমতা, শ্রম বাজার গবেষণা করে, শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা, খোলাখুলি খুঁজে পাওয়া এবং কর্মজীবনের পরিবর্তনগুলি করার ক্ষমতা রয়েছে।
*জীবিকা নির্বাচন:
বেহালিং এবং অন্যদের মতে, একজন দৃঢ়ভাবে যোগদানের একজন ব্যক্তির সিদ্ধান্তটি তিনটি কারণের উপর নির্ভর করতে পারে যেমনঃ উদ্দেশ্য ফ্যাক্টর, বিষয়গত ফ্যাক্টর এবং সমালোচনামূলক যোগাযোগ।
# অনির্দিষ্ট ফ্যাক্টর তত্ত্ব(Objective factor theory): অনুমান করে যে আবেদনকারীরা যুক্তিযুক্ত। চাকরির বাস্তব সুবিধাগুলির একটি বাস্তব মূল্যায়ন করার পরে, এই পছন্দটি ব্যবহার করা হয়। ফ্যাক্টরগুলিতে বেতন, অন্যান্য সুবিধা, অবস্থান, কর্মজীবন অগ্রগতির সুযোগ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
#বিষয়ভিত্তিক ফ্যাক্টর তত্ত্ব(Subjective factor theory):
প্রস্তাব দেয় যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সামাজিক এবং মানসিক কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। কাজের অবস্থা, সংস্থার খ্যাতি এবং অন্যান্য অনুরূপ কারণগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
#জটিল যোগাযোগ তত্ত্ব(Critical contact theory):
ধারণাটি অগ্রগতি জানায় যে সংগঠনের সাথে মিথস্ক্রিয়া করার সময় একটি প্রার্থীর পর্যবেক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, কিভাবে নিয়োগকর্তা প্রার্থীর সাথে যোগাযোগ রাখে, প্রতিক্রিয়া তাত্ক্ষণিক এবং অনুরূপ বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ। এই তত্ত্ব অভিজ্ঞ পেশাদার সঙ্গে আরো বৈধ।
এই তত্ত্বগুলি অনুমান করে যে প্রার্থীদের নিয়োগকর্তা এবং ক্যারিয়ারের একটি বিনামূল্যে পছন্দ আছে। বাস্তবতা হচ্ছে চাকরির অভাব এবং অপেক্ষাকৃত চাকরির জন্য দৃঢ় প্রতিযোগিতা কঠোরভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখে। বেশিরভাগ বাজারকর্মী কর্মচারীদের মধ্যে বিশেষ কর্মজীবনগুলি কাজ করে কারণ কেবলমাত্র তাদের কাছে যেকোনো ধরনের কাজ উপলব্ধি করতে বাধ্য করা হয়। উপরন্তু, অট-হল্যান্ড এবং সহকর্মীরা দেখিয়েছেন যে সংস্কৃতির ধরন সংস্কৃতির প্রকারের উপর নির্ভর করে পেশাগত পছন্দগুলির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
*ক্যারিয়ার (পেশা) পরিবর্তন:

পেশা পরিবর্তন এবং কর্মজীবন পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পেশা পরিবর্তন। একটি জীবনকাল ধরে, উভয় ব্যক্তি এবং শ্রম বাজার পরিবর্তন হবে; এটা আশা করা হয় যে অনেক মানুষ তাদের জীবনকালে পেশা পরিবর্তন করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বণিক শ্রম পরিসংখ্যান দ্বারা 1 9 7 9 সালে জাতীয় লংটিউডলাল সার্ভে অফ যুব দ্বারা সংগৃহীত তথ্য দেখিয়েছে যে 18 থেকে 38 বছর বয়সী ব্যক্তিরা 10 টির বেশি চাকরি পাবে।রাইট ম্যানেজমেন্ট দ্বারা পরিচালিত একটি জরিপ কর্মজীবন পরিবর্তনের জন্য নিম্নোক্ত কারণে প্রস্তাব দেয়
#একটি প্রতিষ্ঠানের ডাউনসাইজিং বা পুনর্গঠন (54%)।
#নতুন চ্যালেঞ্জ বা উদ্ভবের সুযোগ (30%)।
#দরিদ্র বা অকার্যকর নেতৃত্ব (25%)।

#একটি ম্যানেজার (গুলি) সঙ্গে একটি খারাপ সম্পর্ক থাকার (22%)।
#কাজের উন্নতি / জীবনের ভারসাম্য (21%)।
#অবদানসমূহ স্বীকৃত হচ্ছে না (21%)।
#ভাল ক্ষতিপূরণ এবং সুবিধা (18%) জন্য,

#ব্যক্তিগত এবং সাংগঠনিক মূল্যের সঙ্গে ভাল সংমিশ্রনের জন্য (17%)।
#ব্যক্তিগত শক্তি এবং ক্ষমতা একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি ভাল মাপসই হয় না (16%)।
#একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অস্থায়িত্ব (13%)।
#একটি সংস্থা স্থানান্তরিত (12%)।
টাইম ডটকমের একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, বর্তমানে নিযুক্তিত তিনজনের মধ্যে একজন (২008 সালের হিসাবে) প্রতি ঘন্টায় এক সেকেন্ডের ব্যবধানে অন্য অবস্থানে অনুসন্ধান করছেন।
*ক্যারিয়ারের সাফল্য:

বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা, পরামর্শদান এবং মানব সম্পদ পরিচালনার মধ্যযুগ রয়েছে যা ব্যক্তিদেরকে তাদের কেরিয়ার বিকাশ ও পরিচালনা করতে সহায়তা করতে পারে। কর্মক্ষেত্রে সহায়তা সাধারণত দেওয়া হয় যখন মানুষ শিক্ষায় থাকে, যখন তারা শ্রম বাজারে স্থানান্তরিত হয়, যখন তারা কর্মজীবন পরিবর্তন করে, বেকারত্বের সময়কালে, এবং অবসরকালীন সময়ে পরিবর্তনের সময় সমর্থন পেশা পেশাদার, অন্য পেশাদার বা অ পেশাদার দ্বারা যেমন পরিবার এবং বন্ধুদের দ্বারা দেওয়া হতে পারে পেশাদারী কর্মজীবন সমর্থন কখনও কখনও পেশাগত নির্দেশিকা OECD সংজ্ঞা হিসাবে "কর্মজীবন নির্দেশিকা" হিসাবে পরিচিত হয়:
কার্যকলাপগুলি একজন ব্যক্তি বা দলের ভিত্তিতে হতে পারে, এবং মুখোমুখি হতে পারে অথবা দূরত্বে (হেল্পলাইন এবং ওয়েব-ভিত্তিক পরিষেবাগুলি সহ) হতে পারে তারা কর্মজীবন তথ্য বিধান (প্রিন্ট, আইসিটি-ভিত্তিক এবং অন্যান্য ফর্ম), মূল্যায়ন এবং স্ব-মূল্যায়ন সরঞ্জাম, কাউন্সেলিং সাক্ষাত্কার, কর্মজীবন শিক্ষা প্রোগ্রাম (ব্যক্তিদের তাদের স্ব-সচেতনতা, সুযোগের সচেতনতা এবং কর্মজীবন পরিচালনার দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করার জন্য), টেস্টার প্রোগ্রাম (তাদের পছন্দ করার পূর্বে নমুনা বিকল্প), কাজ অনুসন্ধান প্রোগ্রাম, এবং ট্রানসিশন সেবা। "

19/03/2018

নারী স্বাধীনতা(تحرير المرأة)
নারীবাদ ও নারী স্বাধীনতা প্রসঙ্গে:
ইসলাম নারীকে বলে সভ্যতার সম্পদ। বলে এই অর্থে যে, আল্লাহপাকের সৃষ্ট শ্রেষ্ঠতম নেয়ামতগুলোর অন্যতম হলো নারী। স্বভাব-প্রকৃতি ও সৌন্দর্য-মমতা প্রীতি ও সহিষ্ণুতা, লজ্জা, সম্ভ্রম ও আত্মত্যাগ ইত্যাদি মিলিয়ে সমগ্র মানব বংশের জন্য নারী একটি অপরিমেয় আশীর্বাদ, একটি বেহেশতী সৌরভ। নারী অমূল্য। অবশ্য নারীবাদ ও নারী স্বাধীনতার ‘বিজ্ঞ' প্রবক্তারাও নারীকে মূল্যবান বিবেচনা করে, কিন্তু তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। নারী তাদের কাছে মূল্যবান এই কারণে যে, পণ্যরূপে নারীকেও ক্রয়-বিক্রয়ের বাজারে তোলা যায় এবং তোলা হচ্ছে। অর্থাৎ নারী শুধু নারী নয়, পর্যাপ্ত মূল্যে বিনিময়যোগ্য নারী একটি সওদাগরি পণ্যও বটে।
নারী এখন খুব কমই মাদাম কুরি বা মাদার তেরেসা, কি কি বেগম রোকেয়া হতে চায়। তারা চায় ডায়না হতে, লিউনস্কি হতে, ঐশ্বরিয়া কি সুস্মিতা বা কুলকার্ন হতে। সত্যই নারীর কী সমূহ অধঃপাত। যার হওয়ার কথা মমতাময়ী জননী, হওয়ার কথা স্বামী-সন্তান পরিবৃত গৃহের মহিমান্বিতা নারী, তার এখন এই ইহজীবনের অভীষ্ট হলো যে কোনো মূল্যে বহু পুরুষের হাতে হাতে ঘূর্ণায়মান গোপীযন্ত্র হওয়া। আর এই কারণেই ‘লাস্যময়ী', ‘যৌনাবেদনময়ী' বললে কোনো নারী যতটা আনন্দ পায়, ‘গুণী' বিদ্যুষী' ইত্যাদি বললে তার এক শতাংশও পায় না। এটা হয় এইজন্য যে, নারীবাদের প্ররোচণা ও প্রচারণায় নারীরা এখন খুবই বাজার সচেতন।
ইবলিস ও তার অনুগত সহকারীদের একটা বড় কৃতিত্ব হলো, আল্লাহপাক যা মানুষের জন্য নেয়ামতরূপে দান করেছেন, ইবলিস সেই নেয়ামতকে অনেকটা পরিবর্তন করতে পারে। এবং দেখা যায়, এই রূপান্তরের মধ্যদিয়ে সংশ্লিষ্ট বস্তুর আর্থিক মূল্য প্রায় অক্লেশে বহুগুণ বেড়ে যায়। দৃষ্টান্তস্বরূপ, আঙ্গুর আল্লাহপাকের একটি নেয়ামত, যাকে শয়তান পরিণত করে বহুমূল্য মদির শরাবে। শয়তানের কারসাজিতেই ভাত পচিয়ে তৈরি করা হয় ‘ধেনো মদ', যা রসিকজনের কাছে একটি দামী বস্তু। বস্তুর ক্ষেত্রে যেমন, ব্যক্তির ক্ষেত্রেও বিষয়টি একইরকম। মানুষ যখন বিবেক ও দায়িত্ববোধ, প্রতি ও সহমর্মিতা ও ইনসাফ দ্বারা চালিত হয়, সে একজন ভাল মানুষের চেয়ে বেশি কিছু নয়। কিন্তু এই মানুষই যখন শয়তানের দাসত্ব মেনে নিয়ে হয়ে ওঠে উৎকোচ গ্রহীতা, অর্থ আত্মসাৎকারী, হয়ে ওঠে বিবেকহীন, খুনী ও সন্ত্রাসী, দস্যু, তস্কর ও মাস্তান, তার মূল্য ও মর্যাদা সহস্রগুণ বৃদ্ধি পায়। সে মানুষ ছিল নিতান্তই একজন সাধারণ মানুষ, শুধু শয়তানের সঙ্গে হাত মেলাবার কারণেই সে হয়ে ওঠে আকাশচুম্বি ক্ষমতা ও প্রতাপের অধিকারী, হয়ে ওঠে দেশ ও সমাজের নীতি-নির্ধারক একজন ‘নমস্য কৃতী পুরুষ'। সত্যই দুষ্ট সখ্য ও আশীর্বাদের কী অসাধারণ ‘মাজেজা'। আর এই ‘মাজেজার' কারণে ইবলিসের স্পর্শ ও আশীর্বাদ ধন্য নারীবাদ নামক নারী প্রগতির নিশানবরদার। এই আদর্শ নারীকে শুধু মুক্তির কথা শোনায় না, বাজারদরও বাড়িয়ে দেয়। এবং এই জন্যই বহু নারীর কাছে নারীবাদ আজ এত প্রিয়, এত অপরিহার্য। বেহায়াপনা, টগবগে শরীরের মদির হিল্লোল এইসব দিয়ে যে এতকিছু হয়, সর্বস্বান্ত হয়েও যে এতকিছু পাওয়া যায়। তথাকথিত নারীবাদ ছাড়া কে তার সন্ধান দিতো? আর এমন ‘মহার্ঘ সোনার কাঠির সন্ধান লাভের পর, আর কি দ্বিতীয় কোনো দিকে দৃষ্টিপাত করা সম্ভব না সমীচীন? এজন্যই ঘরভাঙ্গা নারী আর কখনো ঘরে ফেরে না, ঘরে ফেরার কোনো ইচ্ছাও আর জাগ্রত হয় না। নারীবাদীরা অবশ্য ইসলামকে খুবই অপ্রিয় জ্ঞান করেন এবং যথাসাধ্য পরিহার করতে চান। কিন্তু আমরা যেহেতু ইসলামকেই আমাদের একমাত্র হেদায়াত বলে বিশ্বাস করি। আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের (সা.) বিরুদ্ধাচরণের মধ্যে জাহান্নামের সুসংবাদ গুণতে পাই, নারী স্বাধীনতার প্রশ্নে ইসলামের কী বক্তব্য, আমাদের উচিত সেটা উত্তমরূপে অনুধাবন করা। আল্লাহ পাক নারী-পুরুষ দু'জনকেই দৃষ্টি অবনত রাখতে বলেন। অর্থাৎ নারী বা পুরুষ কারো জন্যই এই সুযোগ ও স্বাধীনতা নেই যে, সে পুরুষ, অথবা নারীর শারীরিক সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে দৃষ্টির এতটুকু খেয়ানত করতে পারে।
রাসূল (সা.) বলেন, কোনো নারী যখন বিনা ওজরে বাড়ির বাইরে যায়, তখন শয়তান তার ওপর চড়াও হয় এবং তাকে বলতে থাকে, পথে তুমি যার নিকট দিয়েই যাবে সে আনন্দ পাবে। বলাই বাহুল্য, নারীবাদীরা নারীকে দিয়ে এই আনন্দই অকৃপণভাবে বিতরণ করতে চায়। রাসূল (সা.) এই কথাও বলেন, যে নারী ঈমানসহ যথারীতি নামায-রোযা করেছে, সেই নারী যে কোনো দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। ইসলামে নারীর সম্মান ও সম্ভ্রমের সুরক্ষা এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে, কোনো নারী মাহরাম অর্থাৎ বিবাহ নিষিদ্ধ পুরুষ ছাড়া এমনকি হজ্জের সফরেও যেতে পারে না। এবং নারীর সর্বোৎকৃষ্ট নামায হলো, রাসূল (সা.) বলেন, আপন গৃহের সর্বাধিক নির্জন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষের নামায। অতএব এটা পরিষ্কার যে, নারীর শ্রেষ্ঠতম বৈভব ও ঐশ্বর্য হলো সম্ভ্রম এবং যথাসাধ্য গোপনতা হলো নারীর জন্য হেদায়াত। কেউ ইচ্ছা করলে এই হেদায়াত অস্বীকার করতে পারে, যেমন করেছে পাশ্চাত্য বিশ্ব। কিন্তু ফলাফল কী? সেখানে বাইরে তো কোনো মর্যাদা নেইই, এমনকি ঘরেও বহু নারী এখন আপন পিতা কর্তৃক অবাধে ধর্ষিত হচ্ছে, প্রতিদিন লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে পুরুষ সঙ্গী দ্বারা। এই হলো নারীমুক্তি ও নারীবাদের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি।
আল্লাহ পাক বলেন, স্বামী-স্ত্রী হলো পরস্পরের জন্য অবিচ্ছেদ্য আবরণ বা আচ্ছাদন। (সূরা বাকারা : ১৮৭) অর্থাৎ নারীর সর্বোচ্চ মর্যদা, সম্ভ্রমের সর্বাধিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তার একমাত্র জিম্মাদার স্বামী এবং স্বামীর জন্যও স্বস্তি ও কল্যাণের আশ্রয়স্থল হলো স্ত্রী। অর্থাৎ সকল শৈত্য ও উষ্ণতার মোকাবিলায় তারা একে অপরের সার্বক্ষণিক বিশ্বস্ত ভূষণ। নারীবাদীরা না আল্লাহকে মানে, না আল্লাহর নির্দেশকে মানে। তারা ইবলিসের প্ররোচণা এবং আপন প্রবৃত্তি দ্বারা চালিত। নারীকে যারা বাইরে আনতে চায় তারা হিতৈষী নয়, তারা নারী শিকারী

19/03/2018

ধর্ম নিরপেক্ষতা বাদ এর পরিচয় দাও। ইসলামে এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ কিভাবে পরিস্কার করো।
সেকুলারিজমের বাংলা প্রতিশব্দ হল ধর্মনিরপেক্ষতা। সেকুলার শব্দের অর্থ হচ্ছে ইহলৌকিক, ইহজাগতিক, পার্থিব, পরকালবিমুখ, আখিরাত বিমুখ ইত্যাদি। আভিধানিক দিক দিয়ে সেকুলারিজম হচ্ছে বৈষয়িকতাবাদ, ইহলৌকিকতাবাদ,ইহজাগতিকতাবাদ।এটি এমন একটি সামাজিক বা রাজনৈতিক দর্শন, যা ধর্মবিশ্বাসকে নাকচ করে দেয়। অন্য কথায় যারা কোন ধর্মের অন্তর্গত নয়, কোনও ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত নয়, কোন ধর্মে বিশ্বাসী নয় এবং পবিত্রতা ও আধ্যাত্বিকতার বিরোধী যারা সেকুলারিজম বা ইহজাগতিকতাকে বিশ্বাস ও লালন করে তারাই সেকু্লার বা ইহজাগতিক। কিন্তু এর পারিভাষিক অর্থ আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত। পারিভাষিক অর্থে সেকুলারিজম বা ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ হচ্ছে এমন একটি মতবাদ, চিন্তাধারা ও বিশ্বাস, যা পারলৌকিক ধ্যান ধারণা ও ধর্মের সাথে সম্পর্কহীনভাবে সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলে।ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ হলো একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক দর্শন যা সকল ধর্ম বিশ্বাসকে নাকচ করে দেয়। র্যানডম হাউস অব দ্যা ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ এ সেকুলার বা ধর্ম নিরপেক্ষ এর সংগায় বলা হয়েছে, যা ধর্ম বা আধ্যাত্বিকভাবে পবিত্র বলে বিবেচিত নয়যা ধর্মের সাথে সম্পর্কিত নয় যা কোন ধর্ম বিশ্বাসের অন্তর্গত নয় আর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, এটি হলো একটি রাজনৈতিক বা সামাজিক দর্শন যা সকল ধর্ম বিশ্বাসকে নাকচ করে দেয়এনসাইক্লোপেডিয়া অব ব্রিটানিকার সংজ্ঞাও অনুরুপ, অর্থাৎ যারা কোন ধর্মের অন্তর্গত নয়, কোন ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত নয় কোন ধর্মে বিশ্বাসী নয় এবং আধ্যাত্বিকতা, জবাবদিহীতা ও পবিত্রতার বিরোধী তাদেরকেই বলা হয় ধর্ম নিরপেক্ষ।
অক্সফোর্ড এডভান্সড লার্নারস ডিকশনারীর মতে, সমাজ, সংগঠন, শিক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে ধর্ম সংশ্লিষ্ট হতে পারে না এমন বিশ্বাসই হল ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ।
বাংলাভাষায় Secularism-এর অনুবাদ করা হয়ে থাকে ধর্মনিরপেক্ষতা। এর দ্বার বুঝানো হয়েছে যে, যার ধর্ম তার কাছে, পরধর্ম সহিষ্ঞুতা এর উদ্দেশ্য। আসলে ইসলাম বিদ্বেষীদের দ্বারা মুসলিমরা আজীবন প্রতারিত হয়েছে। এমনকি শুধু বিভিন্ন পরিভাষাকেই পরিবর্তন বা বিকৃত করে তাদেরকে ধোকা দেয়া হয়নি বরং অনেক পরিভাষায় অনুবাদের ক্ষেত্রেও মুসলিমদেরকে ষড়যন্ত্রে ঘূর্ণিপাকে নিক্ষেপ করে উদ্দেশ্য হাসিলের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। Secularism-এর অনুবাদ ধর্মনিরপেক্ষতা হওয়াটাও মূলত এ ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রামান্য দলিল। এখানে 'নির' প্রত্যয় যোগ করা হয়েছে যার অর্থ 'নেই'। অন্য কথায় অপেক্ষা নেই যার। এখানে 'অপেক্ষা' এর যে অর্থগুলো বাংলা একাডেমীর বাংলা অভিধানে স্থান পেয়েছে তন্মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় ভরসা বা নির্ভরতা। তাহলে ধর্মের উপরে নির্ভরতা না থাকার নামই হচ্ছে পক্ষপাতশূন্য বা উদাসীন। সুতরাং কোন ধর্মের প্রতি পক্ষপাত না করা ও কোন ধর্মের ব্যাপারে উদাসীনতা হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা যা মূলত ধর্মহীনতারই আর এক নাম। সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ যার ধর্ম তার কাছে একথা মোটেও ঠিক নয়। এর অর্থ ধর্মহীনতা বললে মুসলিমরা এটাকে গ্রহণ না করে বরং এর মুখে থুথু নিক্ষেপ করবে সেজন্য অত্যন্ত চালাকী করে চমকদার মোড়কে এমন একটি শব্দ এর জন্য চয়ন করা হয়েছে যাতে কিছুটা হলেও অর্থগত দিক থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। আর এটি এজন্য যে, যাতে মুসলিমদেরকে অন্ধকারে রেখে বিভ্রান্ত করে তাদের ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক এ ধর্মহীনতাকে গেলানো যায়, এটি তারই একটি সুনিপুণ ষড়যন্ত্র।
ধর্মনিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে?
ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়ে নাস্তিকতাপূর্ণ জীবনযাপনও নয়। তাহলে ধর্মনিরপেক্ষতা আসলে কি? ধর্মনিরপেক্ষতা হলো সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি, রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি অবলম্বন এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের মাঝে ন্যায়পূর্ণ সুশাসন কায়েম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষতা অবলম্বন। রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনায় সরকারকে ধর্ম বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নীতি অবলম্বন করতে হয়। ধর্ম বিষয়ে রাষ্ট্র পক্ষপাতিত্বতা না করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে। রাষ্ট্র ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের প্রতি সমান দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখে। ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। তাই প্রত্যেক নাগরিকরা যেন মুক্ত স্বাধীন পরিবেশে ধর্মকর্ম করতে পারে তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে। ‘প্রত্যেক নাগরিকের যে কোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে।ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হলো, রাষ্ট্র নিজ নাগরিকদের যে কোনো ধর্ম গ্রহণ-বর্জন বা লালন পালন- এসব বিষয়ে পূর্ণ নিরপেক্ষতা অবলম্বন করবে। রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে সবাই হবে এদেশের নাগরিক। আস্তিক-নাস্তিক, মুসলিম-অমুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ অথবা খ্রিস্টান সবার অধিকার এদেশে হবে সমান। পূর্ণ ও খাঁটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে বাংলাদেশের কাজ। একথা পবিত্র কুরআন শরিফে যেভাবে বলা আছে, বঙ্গবন্ধুও ঠিক সেভাবেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। ধর্মনিরপেক্ষতার বিপরীতে এখন অসাম্প্রদায়িকতা শব্দটি ব্যবহৃত হচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতার অনুপস্থিতিই অসাম্প্রদায়িকতা। সাম্প্রদায়িকতা বলতে বুঝানো হয়, এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আরেক সম্প্রদায়ের উসকানি প্রদান অথবা আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডকে। আবার একই ধর্মের ভেতরে নানা ধরনের দল-উপদল বিদ্যমান। এদের একদলের বিরুদ্ধে আরেক দলের আক্রমণাত্মক ভূমিকা হলো সাম্প্রদায়িকতা। আজ উগ্রবাদী চরমপন্থীদের চাপে আমরা দিব্যি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির কথা বলে নিজেদের মূলকে নিজেরাই কেটে ফেলেছি। বলা হচ্ছে, সব ধর্ম ও নানা মত-পথের লোকদের জন্য সমান নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার দিতে পারব কিনা জানি না, তবে কেউ যেন কারো ওপর ধর্মীয় কারণে আক্রমণ না করে সে বিষয়টি আমরা অবশ্যই দেখব। প্রশ্ন হলো, এটাই কি আমাদের স্বাধীনতার চেতনা? পাকিস্তান আমলে সরকারের লোকেরা কি ঠিক এ দাবি করত না? নীতিবাক্য আওড়ানোর ক্ষেত্রে বোধ করি তারা আমাদের চেয়ে একধাপ এগিয়েই ছিল। তাহলে কেন আমরা একাত্তরে নয় মাস মরণপণ লড়াই-সংগ্রাম করে বিজয় ছিনিয়ে আনলাম?
আমরা মুখে মুখ যতই আধুনিক ও প্রগতিশীল হওয়ার দাবি করি, তলে তলে আমরা কিন্তু উগ্র-ধর্মান্ধদের ক্রীড়নকে পরিণত হয়েই চলেছি। আমরা ধর্মের মূল উৎস থেকে জ্ঞান আহরণ না করেই উগ্রবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীর হুমকি-ধমকিতে নতি স্বীকার করে ফেলি। ধর্মনিরপেক্ষতার রাষ্ট্রীয় নীতির কথাই ধরা যাক। আজ দেশে ও সমাজের কজন কর্ণধার স্পষ্টভাবে পূর্ণ ও অবিচল আস্থার সঙ্গে এ নীতি বাস্তবায়নের কথা ঘোষণা করে থাকেন? হাতেগোনা কয়েকজন বুদ্ধিজীবী ছাড়া অন্যান্য সবাই এ শব্দটি বাদ দিয়ে এখন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলে বাহাদুরি করি। আমরা একটু চিন্তা করেও দেখি না কী কারণে এবং উদ্দেশ্যে স্বাধীনতার প্রাক্কালে আমাদের নেতারা, মুক্ত বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টারা বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষতা অবলম্বন করার দিকনির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন। ধর্ম বিষয়ে নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ইসলামের শিক্ষানুযায়ী দ্ব্যর্থহীনভাবে সাব্যস্ত। আল্লাহ বলেন, ওয়ালাও শা’ রাব্বুকালা আমানা মানফিল আরযি কুল্লুহুম জামিয়া আফাআনতা তুকরিহুন নাসাহাত্তা ইয়াকুনু মুমিনিন অর্থাৎ ‘আর তোমার প্রভু প্রতিপালক যদি চাইতেন তাহলে পৃথিবীতে যারা আছে তারা সবাই অবশ্যই এক সাথে ঈমান নিয়ে আসতো। তুমি কি তবে বল প্রয়োগে লোকদেরকে মুমিন হতে বাধ্য করতে পার?’ (সুরা ইউনুস ১০ঃ১০০)মহান আল্লাহতায়ালা ঘোষণা দিয়ে বলছেন। তিনি চাইলে সবাই ঈমান আনতে পারত কিন্তু এমনটি তিনি করেননি বরং সত্য গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে সবাইকে স্বাধীনতা প্রদান করেছেন। যে ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বয়ং এমন কাজ করেননি সেখানে তাঁর প্রতিনিধি বিশ^ নবী (সা.) কীভাবে মানুষকে ঈমানআনতে বাধ্য করতে পারেন। এই হচ্ছে ধর্ম বিষয়ে ইসলাম প্রদত্ত স্বাধীনতা।পবিত্র কুরআন ঘোষণা করেছেন, ওয়া কুলিল হাক্কুমির রাব্বিকুম ফামান শা’ ফাল ইউমিন ওয়ামান শা’ ফাল ইয়াকফুর অর্থাৎ- ‘আর তুমি বল এ সত্য তোমাদের প্রভু প্রতিপালকের পক্ষ থেকে (প্রেরিত)। সুতরাং যে চায় সে ঈমান আনুক এবং যে চায় সে অস্বীকার করুক।’ (সুরা কাহফ ১৮ঃ৩০)।ইসলাম ধর্মের মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্ব হলো, এটা প্রত্যেক মানুষকে ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করে। এই স্বাধীনতা কেবল ধর্ম বিলালন-পালন করার স্বাধীনতা নয় বরং ধর্ম না করার বা ধর্ম বর্জন করার স্বাধীনতাও এই ধর্মীয় স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। সত্য ও সুন্দর নিজ সত্তায় এত আকর্ষণীয় হয়ে থাকে যার কারণে মানুষ নিজে নিজেই এর দিকে আকৃষ্ট হয়। বল প্রয়োগ বা রাষ্ট্রশক্তি নিয়োগ করে সত্য আর সুন্দরকে সুন্দর ঘোষণা করানো অকৃতজ্ঞতার পরিচায়ক। ফার্সিতে বলা হয়, আফতাব আমাদ দালিলে আফতাব। অর্থাৎ সূর্যোদয়ই সূর্যের অস্তিত্বের প্রমাণ। এ নিয়ে গায়ের জোর খাটানোর বা বিতণ্ডারও কোনো অবকাশ নেই। সূর্যোদয় সত্ত্বেও কেউ যদি সূর্যের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে তাকে বোকা বলা যেতে পারে কিন্তু তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কিছুই নেই। ঠিক তেমনি কে খোদাতাআলাকে মানল বা মানল না, কে ধর্ম পালন করল বা করল না এটা নিয়ে এ জগতে বিচার বসানোর কোনো শিক্ষা ধর্মে নেই। বরং এর বিচার পরকালে আল্লাহ নিজে করবেন বলে তাঁর শেষ শরিয়ত গ্রন্থ কুরআন মজিদে বারবার জানিয়েছেন। এ স্বাধীনতা কাজে লাগিয়ে সমাজে আস্তিক থাকবে, নাস্তিকও থাকবে। মুসলমানও থাকবে, অন্যান্য মতাবলম্বীরাও থাকবে।যদি রাষ্ট্র কোনো ধর্ম পালন না করে থাকে তাহলে রাষ্ট্রধর্ম কেন? কার স্বার্থে? বস্তুত রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের পছন্দসই ধর্ম পালন করে থাকে। রাষ্ট্র যেহেতু কোনো ধর্ম পালন করে না। সেহেতু রাষ্ট্রধর্মের আদৌ কোনো প্রয়োজন থাকতে পারে না। আইনের শাসন কায়েম এবং ন্যায় বিচারের মানদণ্ডকে সমুন্নত করতে হলে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা অবলম্বন করেই রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করতে হয়। ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ ও চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দৃষ্টিকে সম্প্রসারিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যতœবান হতে হয়। কোনো ধর্মীয় মতাদর্শের লোকদের প্রাধান্য দেয়া হলে ধর্মীয় কারণে নাগরিকদের মাঝে বিভক্তি রেখা সৃষ্টি হতে পারে। একচোখা নীতি অবলম্বন করা হলে রাষ্ট্র নায়কদের নিরপেক্ষ চরিত্র আর বজায় তাকে না। ধর্মনিরপেক্ষতার দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে একাত্তরের অবিনাশী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সম্প্রীতির মেলবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে প্রগতির পথে চলা প্রয়োজন। যদি রাষ্ট্র র্মনিরপেক্ষতার দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ না করে সাম্প্রদায়িকতাকে লালন করে তাহলে রাষ্ট্রটি আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার এবং মুক্তিযুদ্ধ ও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে পরিচালিত হওয়ার কোনো দাবি করতে পারে না। সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দুঃশাসন থেকে মুক্তি লাভের জন্য বীর বাঙালি একাত্তরে অস্ত্র হাতে তুলে নেয় এবং নয় মাস মরণপণ লড়াই-সংগ্রাম করে দেশকে পাক হানাদার মুক্ত করে বিজয় ছিনিয়ে আনে। ত্রিশ লাখ শহীদ আর দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জন। অনেক চরম মূল্যে কেনা আমাদের এই স্বাধীনতা। তাই আর ভুলপথে পা বাড়ানোর চেষ্টা করা সঙ্গত হবে না। একাত্তরে সাম্প্রদায়িকতাকে কবর দেয়া হয় বাংলার পলি মাটিতে। এখন কবর খুঁড়ে সাম্প্রদায়িকতার পচা লাশ তুলে দুর্গন্ধ ছড়াবার চেষ্টা করা হলে বাংলার জনগণই তাদের রুখবে। আজ সময় এসেছে সাম্প্রদায়িক উগ্র ধর্মান্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীকে প্রতিহত করার।
১৯৭২ সালের সংবিধানে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার উল্লেখ রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে জাতিগত ঐক্য ও সংহতি বজায় রেখে বাঙালি পথ চললে পথ হারাবে না। বরং সঠিক পথের দিশা পাবে। ‘প্রথমে এবং সর্বাগ্রে আমরা হলাম বাঙালি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নিরীশ্বরবাদী সবাই বাঙালি। ধর্মের কারণে আমাদের মাঝে বিভক্তি আসতে দেওয়া যায় না।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই উক্তি যথার্থ ও সঠিক। বরং তা সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালের ধর্মনিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন এখানে বহাল থাকবে।’ধর্ম বিচ্যুত হয়ে বল্গাহীন অশে^র ন্যায় যে দিকে খুশি সেদিকে ছুটে চলার কথা রাষ্ট্র যেমন নাগরিকদের বলে না, তেমনি ধর্মও তার মান্যকারীদের বাঁধনহারা জীবনযাপন করতে বলে না। বরং ধর্ম তার অনুসারীদের ধর্মীয় অনুশাসন মেনে সুশৃঙ্খলভাবে চলতে উপদেশ দেয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মনে করেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা মানে যা ইচ্ছা তা করা নয়।’ধর্মনিরপেক্ষতা ইসলামেরই শিক্ষা। পবিত্র কুরআন মজিদের সুরা নাহলের ৯০ নম্বর আয়াতটি আমাদের অনেকেরই জানা আছে। প্রতি শুক্রবার পবিত্র জুমার দিন খুতবা শেষে খোতবায়ে সানিয়ায় এ আয়াতটি পাঠ করা হয়। এতে আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পূর্ণ ন্যায়প্রতিষ্ঠার, অনুগ্রহসুলভ আচরণ করার এবং স্বতঃপ্রণোদিত আত্মীয়সুলভ ব্যবহার করার আদেশ দিচ্ছেন আর বারণ করছেন অশ্লীলতা, কুকর্ম এবং সব ধরনের বিদ্রোহ ঔদ্ধত্য থেকে। তিনি তোমাদের তাগিদপূর্ণ নির্দেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করতে পার। এ আয়াতে সবচেয়ে মৌলিক এবং প্রাথমিক যে কাজটি নিশ্চিত করার আদেশ দেয়া হয়েছে তা হলো পূর্ণ ন্যায় প্রতিষ্ঠা। এরপর ধাপে ধাপে আরো উন্নত নৈতিক শিক্ষা অবলম্বন করার পথ খুলে যায়। বলা বাহুল্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দেশের নাগরিগদের মাঝে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে পূর্ণ ন্যায়প্রতিষ্ঠা করতে হলে ধর্মনিরপেক্ষতা অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসন তথা রাষ্ট্রধর্ম বিষয়ে নিরপেক্ষ হলেই কেবল ন্যায়প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। যারা ধর্মনিরপেক্ষতাকে ইসলামের শিক্ষা পরিপন্থী বলে মনে করেন তাদের কথা ঠিক নয়। ধর্মনিরপেক্ষতা ইসলামের শিক্ষা। মহানবী (সা.) মদিনায় এ নীতিই অবলম্বন করেছিলেন। গায়ের জোরে নয়, বুদ্ধি খাটিয়ে কথা বলুন। ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে ধর্মব্যবসায়ী ও উগ্রধর্মান্ধরা আমাদের দেশে উঠেপড়ে লেগেছে। অথচ সামান্য একটু চিন্তা-ভাবনা করলেই কিন্তু বিষয়টি একেবারে স্পষ্ট হয়ে যায়। চলুন বিষয়টি নিয়ে একটু ভেবে দেখি। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে মুসলমানদের ন্যায় প্রতিষ্ঠার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমরা মানুষের মাঝে শাসন কাজ পরিচালনাকালে পরিপূর্ণ ন্যায় বিচার করবে। এ বিষয়ে কোনো মৌলবি-হুজুর দ্বিমত করেন না, করতেও পারেন না। করলে, সাব্যস্ত হবে তারা সমাজে ও রাষ্ট্রে অন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চান। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে যদি একজন বিচারককে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হতে হয়, তাহলে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও মতাবলম্বীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি রাষ্ট্রকে তার সব নাগরিকদের মাঝে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কী নীতি অবলম্বন করতে হবে- নিরপেক্ষতা নাকি পক্ষপাতিত্ব? রাষ্ট্র যদি কোনো ধর্মের বা কোনো বিশেষ ধর্মাবলম্বীর পক্ষ অবলম্বন করে সেক্ষেত্রে সে রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা একটি অলীক কল্পনা মাত্র। তাই ইসলামের শিক্ষানুযায়ী ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য ধর্ম বিষয়ে রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হতে হবে। আর রাষ্ট্রের এ নীতিকেই ধর্মনিরপেক্ষতা বলে।

19/03/2018

পিতা মাতার উপর সন্তানের দশটি অধিকার রয়েছে।যা নিম্নরূপঃ
১. বংশগত ও জন্মগত পবিত্রতা ও সুস্থতার অধিকার :
প্রত্যেক মানব শিশু বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে জন্মগত পবিত্রতা ও সুস্থ শরীর নিয়ে জন্মগ্রহণের অধিকার রাখে। এ ক্ষেত্রে অবৈধ অথবা মাত্রাতিরিক্ত যৌন মিলনের অসুস্থতার সময়ে ও যৌন মিলনের ফলে শিশু অধিকার যেন ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
» تخيروا لنطفكم فإن العرق دساس أو نزاع
কোথায় তোমার বীর্য স্থাপন করবে তা চিন্তা ভাবনা করে স্থির করে নাও। বংশধারা যেন সঠিক হয়।
২. বেঁচে থাকার অধিকার:
দারিদ্রতার ভয়, পরিাবারিক সুনাম রক্ষার্থে অথবা অন্য যে কোন কারণে শিশু হত্যাকে ইসলাম কঠোরভাবে নিন্দা করেছে।
﴿وَلَا تَقۡتُلُوٓاْ أَوۡلَٰدَكُم مِّنۡ إِمۡلَٰقٖ نَّحۡنُ نَرۡزُقُكُمۡ وَإِيَّاهُمۡۖ﴾[الأنعام : 151 ]
দরিদ্রতার কারণে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না আমি তোমাদের এবং তাদের রিযিক দিয়ে থাকি।
৩. মাতৃদুগ্ধ পান আশ্রয়, প্রতিপালন ও স্বাস্থসেবার অধিকার :
﴿وَٱلۡوَٰلِدَٰتُ يُرۡضِعۡنَ أَوۡلَٰدَهُنَّ حَوۡلَيۡنِ كَامِلَيۡنِۖ لِمَنۡ أَرَادَ أَن يُتِمَّ ٱلرَّضَاعَةَۚ﴾ [البقرة : 233 ]
যে স্তন্য পানকাল পূর্ণ করতে চান, তাদের জন্য জননীগণ সন্তানগণকে পূর্ণ দু বছরের স্তন্যপান করাবেন।
৪. জন্মগত বৈধতা এবং ভাল নামের অধিকার: বৈধ পন্থায় পৃথিবীতে আসবারও সন্দেহ মুক্ত পিতৃত্বের পরিচয় প্রদানের অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে এবং শিশুর সুন্দর নাম রাখতে হবে। আল্লাহর নবী বলেছেন-الولد للفراشযে (পিতার) শয্যায় সন্তান জন্মগ্রহণ করে শিশু সেই শয্যারই তোমরা সুন্দর নাম রাখ।
৫. পৃথক শয্যায় নিদ্রা যাবার অধিকার: প্রত্যেক শিশুকেই পৃথক একক শয্যায় নিদ্রা যাবার অধিকার রয়েছে। রাসূল(স:) এরশাদ করেন-
«مروا أولادكم بالصلاة وهم أبناء سبعواضربوهم عليها وهم أبناء عشر وفرقوا بينهم في المضاجع «
৭ বছর বয়সে শিশুকে নামাজ পড়ার নির্দেশ দাও, ১০ বছর হয়ে গেলে তাদেরকে নামাজ না পড়লে শাস্তি দাও এবং তাদের জন্য পৃথক পৃথক শয্যার ব্যবস্থা কর।
৬. ধর্মীয় শিক্ষা ও আখলাক উন্নয়নের অধিকার : শিশুদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ সৃষ্টি করা পিতা মাতার নৈতিক দায়িত্ব। হযরত লোকমান (আঃ) যে ভাষায় স্বীয় পুত্রকে নির্দেশ দিয়েছেন তার উল্লেখ কোরানুল কারীমে রয়েছে।
﴿يَٰبُنَيَّ أَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ وَأۡمُرۡ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَٱنۡهَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَٱصۡبِرۡ عَلَىٰ مَآ أَصَابَكَۖ إِنَّ ذَٰلِكَ مِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ ١٧﴾[لقمان : 17 ]
হে আমার পুত্র সালাত কায়েম কর, সৎ কর্মের নির্দেশ দাও, অসৎ কর্মে নিষেধ কর এবং বিপদে আপদে ধৈর্য্য ধারন কর। ইহাই দৃঢ় সংকল্প পূর্ণ হৃদয়ের কাজ।
«لأن تذر ورثتك أغنياءخير من أن تذرهم عالة يتكففون الناس»
নিজের সন্তানকে অন্যের দয়া দাক্ষিণ্যের উপর ফেলে যাবার চেয়ে অভাবমুক্ত রেখে যাওয়া ভাল
৮. শিক্ষা প্রশিক্ষন, খেলাধুলা ও আত্মরক্ষার অধিকার: সন্তানকে লেখাপড়া, পারিবারিক, বৈষয়িক ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করতে হবে। হাদীস শরীফে এসেছে-
«عن أبى سلمان مؤ لى أبى رافع قال: قلت يا رسول لله : للولد علينا حق كحقنا عليهم ؟ قال نعم حق الولد على الوالد أن يعلمه الكتابة والسباحة وللرماية، لايرزقه إلا طيبا»
পিতামাতা নিকট সন্তানের অধিকার হলো তাঁর সন্তানকে লিখতে শিক্ষা দেবে, সাতাঁর শিক্ষা দেবে এবং তীরন্দাজ হতেশিক্ষা দেবে। তারা এমন কিছু শিক্ষা দেবেন না যা সন্তানকে ন্যায়নিষ্ঠ করে না।
৯. লিংগভেদে সমব্যবহারের অধিকার: আল্লাহর নবী বলেছেন
»اعدلوا بين أولادكم«
তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে ইনসাফ কায়েম করো ,
যেমন তোমরা তোমাদের সংগে আচরণেও ইনসাফ কামনা করে থাকো।
১০. বৈধ আয় থেকে প্রতিপালিত হবার অধিকার : সুতরাং পিতা-মাতাকে সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে বৈধ আয় খরচ করতে হবে।উপরে বর্ণিত অধিকার গুলো সন্তান যদি সুষ্ঠ ভাবে পায় তাহলে প্রতিটি মানুষ সম্পদে পরিণত হবে এবং তাঁর জীবন,দেশও জাতীর কল্যাণে আসবে। আল্লাহ্ রাববুল আলামীন এ বিশ্ব জগত এক সুন্দর পরিকল্পনা অনুযায়ী সৃষ্টি করেছেন। তাই ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের প্রত্যেক বিষয়েই পরিকল্পিত উপায়ে কাজ করা বাঞ্চনীয়। পরিকল্পনা বিহীন কাজ উত্তম ফলায়ক হতে পারে না। এমনকি পরিকল্পনা ব্যতীত কোন গঠন মুলক কাজ সম্ভবই নয়।আল্লাহ্র কর্মে পরিকল্পনা পরিলক্ষিত হয়।
﴿َمَا خَلَقۡنَا ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ وَمَا بَيۡنَهُمَا لَٰعِبِينَ ٣٨ مَا خَلَقۡنَٰهُمَآ إِلَّا بِٱلۡحَقِّ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ ٣٩﴾. [الدخان : 38-39 ]
আমি আকাশ মন্ডলী, পৃথিবী এবং উভয়ের মধ্যকার কোন কিছুই খেলাচছলে সৃষ্টি করনি। আমি তো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছি। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।
﴿إِنَّا كُلَّ شَيۡءٍ خَلَقۡنَٰهُ بِقَدَرٖ ٤٩﴾ [القمر : 49 ]
আমি সব কিছু এক সুনিদিষ্ট পরিমাপে সৃষ্টি করেছি।
সুতারং মানব সম্পদ উন্নয়নে পরিকল্পিত পরিবারের প্রয়োজনীয়তা অনীস্বীকার্য। বিশেষ করে বাংলাদেশের মত একটি জন বহুল দেশে। এ দেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং বৃদ্ধির হার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশী। এশিয়া ইউকের ২০০০ সালের মে মাসের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৩ কোটি লোক এবং বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২.২ শতাংশ। ১৯৯৯ সনে প্রতি হাজারে স্থুল জন্মহার প্রায় ২৩.৬ এবং স্থুল মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৮ জন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির এ হার অব্যাহত থাকলে ১৪৮.৩৯৩ ব;কি; আয়তন বিশিষ্ট এ দেশের জনসংখ্যা চলতি শতাব্দীর প্রথম ৫বছরে অনুমানিক ১৪ কোটি হতে পারে বলে বিশেষদের ধারনা।তবে এদেশের বৃহত জনগোষ্ঠীকে যদি সুস্থ,শিক্ষিত, দক্ষ, অভিজ্ঞ করে গড়ে তোলা যায় তাহলে এ জনসংখ্যা বিশাল মানব সম্পদে পরিনত হতে পারে।অন্যথা এদের দ্বারা অশান্তি বিশৃংখলা হত্যা সন্ত্রাস, ধর্ষণের, মত প্রভৃতি অপর্কম সংগঠিত হওয়াই স্বাভাবিক। আল্লাহ্ তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তান সন্ততি তোমাদের জন্য পরীক্ষাস্বরুপ আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন
﴿وَلۡيَخۡشَ ٱلَّذِينَ لَوۡ تَرَكُواْ مِنۡ خَلۡفِهِمۡ ذُرِّيَّةٗ ضِعَٰفًا خَافُواْ عَلَيۡهِمۡ فَلۡيَتَّقُواْ ٱللَّهَ وَلۡيَقُولُواْ قَوۡلٗا سَدِيدًا٩ ﴾ [النساء : 9 ]
وَلۡيَقُولُواْ قَوۡلٗا سَدِيدًا٩ ﴾ [النساء : 9 ]
তাদের ভয় করা উচিত তারা যদি অসহায় সন্তান রেখে দুনিয়া থেকে সচলে যায় তবে মৃত্যুর সময় সন্তানদের সম্পর্কে তাকে আশংকা ও উদ্বিগ্ন করবে। অতএব পরিবার পরিকল্পিত ভাবে গড়ে তুলতে হবে। কেননা পরিকল্পনা ও পরিণাম চিন্তা না করে বিবাহ, বাল্যবিবাহ ও বাহুবিবাহের কারনে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা অসহায় মহিলার সংখ্যা বাড়ছে তেমনি ঘন ঘন সন্তান
জন্ম দেবার কারনে সদ্য ভুমিষ্ট শিশু অপুষ্টি, রাতকানা, লেংড়া ও দুর্বল হিসেবে দুনিয়াতে আগমন করছে। যারা পরবর্তীতে সমাজে বেকারত্বের কষাঘাতে ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারনে সমাজে সংঘটিত নানাবিধি অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। যা ইসলাম,মেডিকেল সাইনন্স ও সুস্থ বিবেক কোন ভাবে সমর্থন করে না। সুতরাং বলা যায় মানুষ সম্পদ উন্নয়নে পরিকল্পিত পরিবার গঠনের প্রয়োজনীয় অনস্বীকার্য। অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপটা যখন সহ্যের বাইরে চলে যায় তখনই দেখা যায় ক্ষুধার জ্বালায় একজন স্নেহময়ী মাকে তার সন্তানকে গলা টিপে মারতে উদ্যত হতে। দেখা যায় কোলের সন্তানকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে নিজেকে ভারমুক্ত করে একজন গর্ভধারিনী মাকে পালিয়ে যেতে। এ নিমর্ম বাস্তবতা অতীত ও বর্তমান সব সময় পরিলক্ষিত হচেছ। অথচ পবিত্র কোরআন শরীফে পরিকল্পিত পরিবার গঠনের ব্যাপারে অনেক উদাহরন বিদ্যামান। যারা পরিকল্পনাহীন ভাবে ঘন ঘন সন্তান জন্ম দিচেছন তারা কি ভাবছেন না আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি শিশুকে দুই থেকে আড়াই বছর মাতৃদুগ্ধপানের অধিকার দিয়েছেন
﴿وَٱلۡوَٰلِدَٰتُ يُرۡضِعۡنَ أَوۡلَٰدَهُنَّ حَوۡلَيۡنِ كَامِلَيۡنِۖ ﴾ [البقرة : 233 ]
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র এরশাদ করেছেন
﴿وَفِصَٰلُهُۥ ثَلَٰثُونَ شَهۡرًاۚ﴾ [الأحقاف : 15 ]
তার দুধপান করানোর সময়কাল ত্রিশ মাস।আল্লাহর এ বানী দ্বারা শিশুর মাতৃদুগ্ধ পানের অধিকার ও দুধ পানের সময়সীমা বর্ননা করা হয়েছে। পরোক্ষভাবে এটাও বুঝানো উদ্দেশ্য যে মাতৃদুগ্ধ পানকালীন সময়ে সন্তান ধারণকারা উচিত হবে না। কারণ মাতৃগর্ভে সন্তান আসলে স্বাভাবিক নিয়মেই মায়ের দুধ বন্দ হয়ে যায়। ফলে শিশু দুধ পানের অধিকার হতে বঞ্চিত হয়। আল্লাহ্র এ নিদের্শনার দ্বারা আমরা পরিকল্পনার আভাস পাই।
তাছাড়া ইসলামী শরীয়ত মা ও শিশু স্বাস্থ রক্ষার্থে সাময়িক জন্ম নিয়ন্ত্র বৈধ বলেছে। মহান আল্লাহ্ বলেন
﴿وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا ٱلۡإِنسَٰنَ مِن سُلَٰلَةٖ مِّن طِينٖ ١٢ ثُمَّ جَعَلۡنَٰهُ نُطۡفَةٗ فِي قَرَارٖ مَّكِينٖ ١٣ ثُمَّ خَلَقۡنَا ٱلنُّطۡفَةَ عَلَقَةٗ فَخَلَقۡنَا ٱلۡعَلَقَةَ مُضۡغَةٗ فَخَلَقۡنَا ٱلۡمُضۡغَةَ عِظَٰمٗا فَكَسَوۡنَا ٱلۡعِظَٰمَ لَحۡمٗا ثُمَّ أَنشَأۡنَٰهُ خَلۡقًا ءَاخَرَۚ فَتَبَارَكَ ٱللَّهُ أَحۡسَنُ ٱلۡخَٰلِقِينَ ١٤﴾ [المؤمنون : 12-14 ]
আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি মৃত্তিকার উপাদান হতে অতঃপর আমি উহাকে শুক্রবিন্দু রূপে স্থাপন করি এক নিরাপদ আধারে, পরে শুক্র বিন্দুকে পরিনত করি আলাক এ অতঃপর আলাককে পরিনত করি পিন্ডে এবং পিন্ডকে পরিণত করি অস্থি পঞ্জরে অতঃপর অস্থি পঞ্জরকে ঢেকে দেয় গোসত দ্বারা অবশেষ উহাকে গড়ে তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে অতঃপর সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ্ কত মহান.এখানে আমরা মানুষ সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখতে পাই। এছাড়া পবিত্র কোরআন ও হাদীসে এর অসংখ্য প্রমান রয়েছে। তাই একথা দ্বীধাহীন চিত্তেবলা যায় পরিকল্পনা বৈধই নয় বরং প্রতিটি ব্যক্তির জন্য আবশ্যক। তবে এর দ্বারা শুধুমাত্র জন্ম নিয়ন্ত্রন বুঝলে ভুল হবে। এর সাথে এটাও প্রমানিত হলো যে মানব সম্পদ উন্নয়নে পরিকল্পিত পরিবার গঠণের ভূমিকা অত্যাধিক।
জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে শিশু বলতে ১৮ বছরের কম বয়সী প্রতিটি মানব সন্তান যদিও শিশুদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় আরো কম বয়সে সাবালকত্ব নির্ধারিত হয়ে থাকে।ইসলামী শরীয়াতে ছেলেদের স্বপ্নদোষ ও মেয়েদের হায়েজ বা ঋতুস্রাব হলে বালেগ হয়। তবে ১৫ বছর বয়স হলে স্বপ্নদোষ ও হায়েজ না হলেও বালেগ বলে গন্য করা হবে। তবে এ হিসেব চন্দ্র বৎসর অনুযায়ী হবে।
বর্তমান অন্যায় অত্যাচার চুরি ডাকাতি, সন্ত্রাস হত্যা ধর্ষন সহ নানা ধরনের অপরাধের সয়লাব চলছে। এ অবস্থা হতে মুক্তি পেতে হলে মানুষকে ধর্মীয় অনুশাসন পালনে অভ্যস্থ, নৈতিক শিক্ষার প্রসার ও নীতিবান করে গড়ে তুলতে হবে। আইন বা শাসনের দ্বারা পুরাপুরি এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। মানুষের মাঝে অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধির ফলে এর সাথ সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তি বর্গ সমাজের জন্য সম্পদ না হয়ে বোঝা হিসেবে পরিগনিত হচেছ সুতারং মানব সম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। তাঁরা হলেন মুবাল্লিগ, ওলামায়ে কেয়াম, ইমাম-মুয়াজ্জিন, ধর্মীয় অনুশাসন পালনে অভ্যস্ত ব্যক্তি। এ শ্রেনীর লোকদের এখনও মানুষের মাঝে গ্রহন যোগ্যতা রয়েছে তাছাড়া ধর্মের প্রতি মানুষের দুর্বলতাও রয়েছে।
তাই ধর্মীয় নেতাদের মানব সম্পদ উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত করলে অধিক ফলপ্রসু হবে। যদিও ধর্মীয় নেতাগণ ব্যক্তিগত উদ্দোগেও ইমানী দায়িত্বের কারণে মানুষদেরকে কল্যানের পথে সদাসর্বদা আহবান করছেন। খুশির সংবাদ এই বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে মানব সম্পদ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতাদেরসম্পৃক্ততা গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়েছে। আজ মানবতা বিধংসী এইডস রোগ থেকে বাঁচার জন্য ধর্মীয় অনুশাসন পালন করতে বলা হচেছ। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সরকার ধর্মমন্ত্রনালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউডেশন মানব সম্পদ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্তকরণ প্রকল্প গ্রহন করেছে। এবং মসজিদের ইমাম মুয়াজিন ও আলেমদের কে বৈষয়িক ও অতি জরুরী নানা বিষয়ের ট্রেনিং প্রদান করছেন যা মানব সম্পদ উন্নয়নে সমাজে সুদুর প্রসারী ভূমিকা রাখছে।
কারন ইমাম ও মুয়াযযিনদের রয়েছে সদা প্রস্ত্তত একটি গ্রহণযোগ্য মঞ্চ যেখান থেকে যে কোন গুরুত্ব বিষয় অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে মানুষের মাঝে পৌছিয়ে দেয়া সম্ভব। কেননা এদেশে রয়েছে প্রায় দুলক্ষ মসজিদ। এ মসজিদ সমূহে রয়েছে চার লক্ষ ইমাম ও মুয়াযযিন। এ মঞ্চ তথা মসজিদের মেহরাবথেকে প্রদত্ত বত্তৃতা অন্য যেকোন স্থানের বক্তৃতা হতে অধিক গ্রহন যোগ্যতা রাখে।
এছাড়া নানা প্রকার সামাজিক কর্মকান্ড বিবাহ তালাক, ওয়াজ, মিলাদ, কুরবানী আকিকা ইত্যাদি বিষয়ে জনগন তাদের অতি কাছাকাছি হবার সুযোগ পায় সুতরাং এ সমস্ত অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে তারা মানুষদের নৈতিক শিক্ষায় ও ধর্মীয় অনুশাসন পালনে অভ্যস্থ করে গড়ে তুলতে পারে। তখনই একটি মানুষরে উপযোগীতা ও গ্রহনযোগ্যতা বাড়বে এবং তার দ্বারা কল্যান কর কর্ম সম্পাদিত হবে। তখন তাকে সম্পদ হিসাবে পরিগনিত করা হবে।
আমাদের দেশে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রচুর যারা মানব সম্পদ উন্নয়নে বড় রকমের বাধা কেননা কর্মহীনতা শক্তিমান অভাবী ব্যক্তি অনেক ক্ষেত্রে অভাব পুরনের জন্য চুরি ডাকাতি সন্ত্রাস কালোবাজারি চাঁদাবাজী ইত্যাদির মত ঘৃনীত পথ বেচে নেয়। সুতরাং মানুষ সম্পদ উন্নয়ন করতে হলে এ সমস্ত বেকারের কর্ম সংস্থান করতে হবে। সেক্ষেত্রে বড় বড়শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়তে হবে এবং কারিগরি শিক্ষা প্রদান ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষন দিতে হবে। প্রচলিত আইনের বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদেরকে নিয়ন্ত্রন এবং ইসলামী শিক্ষা প্রদানকরে ধর্মীয় অনুসাশন পালনের আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। এদেশে কর্মসংস্থান না হলে বিদেশে পাঠিয়ে তাদের বেকারত্ব ঘুচাতে হবে। এবং সরকারী ঋনপ্রদান করে খাস ও পতিত জমি আবাদে নিয়োজিত করে উৎপাদনের অংশীদারীত্বের মাধ্যমে বেকারত্ব ঘোচাতে হবে।
এ সনদে জন্মের অব্যাহিত পরইে শিশুকে নিবন্ধিত করণ করতে এবং জন্ম থেকে তার নামকরণ, একটি জাতীয়তা অর্জনের, এবং যতটা দ্রুত সম্ভব পিতামাতার পরিচয় জানবার ও তাদের হাতে প্রতিপালিত হওয়ার অধিকার থাকবে।
শরীক রাষ্ট্রসমূহ শিশুদের অবৈধভাবে বিদেশে পাচার এবং দেশে ফিরতে না দেয়া প্রতিহত করতে ব্যবস্থা নেবে। শিশুর স্বাধীন ভাবে ভাব প্রকাশের অধিকার থাকবে। এই অধিকারের মধ্যে রয়েছে সীমান্ত নির্বিশেষে সব ধরনের তথ্য ও ধ্যান ধারনা জানতে চাওয়া, গ্রহন করা এবং অবহিত করার। স্বাধীনতা এটি মৌখিক ভাবে লিখিত মুদ্রিত কিংবা চারুশিল্পের আকারে অথবা শিশুর পছন্দেই অন্য কোন পন্থায় হতে পারে। শরীক রাষ্ট্রসমূহ শিশুর চিন্তা বিবেক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবে। শরীক রাষ্ট্রসমূহ শিশুদের সংঘবদ্ধ হবার এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে স্বীকার করে। শিশুর প্রতিপালন শিক্ষাদান ও বিকাশের ব্যাপারে পিতামাতা উভয়ের অভিন্ন দায়িত্ব রয়েছে এই নীতির স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে শরীক রাষ্ট্রসমুহ সর্বাত্বক প্রয়াসী হবে। শিশুকে লালন পালন, শিক্ষাদান ও গড়ে তোলার প্রাথমিক দায়িত্ব হচেছ পিতামাতা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইন সম্মত অভিভাবকের শিশুর সর্বোত্তম স্বর্থই সবে তাদের মূল চিন্তা। শরীক রাষ্ট্রসমূহ সর্বাত্বক প্রয়াসী হবে শিশুকে লালন পালন শিক্ষাদান ও গড়ে তোলার প্রাথমিক দায়িত্ব হচেছ পিতামাতা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইন সম্মত অভিভাবকের শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থই হবে তাদের মূল চিন্তা। শরীক রাষ্ট্র সমূহ পিতামাতা আইনানুগ অভিভাবক অথবা শিশু পরিচর্যায় নিয়োজিত অন্য কোন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে থাকা কালীন শিশুকে আঘাত অথবা অত্যাচার অবহেলা অমনোযোগী আচরন দুর্বাবহার অথবা শোষণ এবং যৌন অত্যাচারসহ সহ সকল ধরনের শরীরিক ও মানসিক হিংস্রতা থেকে সুরক্ষার জন্য যথোপযুক্ত আইনানুগ প্রশাসনিক, সামজিক এবং শিক্ষাগত সকল ব্যবস্থা নেবে। শরীক রাষ্ট্রসমূহ স্বীকার করেছে যে, মানসিক অথবা শরীরিকভাবে পঙ্গু শিশু এমন পরিবেশে পরিপূর্ণ ও সুন্দর জীবযাপন করবে সেখানে মর্যাদার নিশ্চয়তা থাকবে, আন্তনির্ভরতা বাড়বে এবং সমাজে শিশুর সক্রিয় অংশ গ্রহনের পথ সুগম হবে। শরীক রাষ্ট্রসমূহ প্রতিটি শিশুর শারিরিক, মানসিক, আত্মিক, নৈতিক, এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত জীবন মানের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। শরীক রাষ্ট্রসমুহ সকল প্রকারের যৌন অপব্যবহার ও যৌন উৎপীড়ন থেকে শিশুর সুরক্ষায় সচেষ্ট হবে। এ উদ্দেশ্যে বিশেষ করে নিম্নলিখিত বিষয় সমূহ রোধ করতে শরীক রাষ্ট্রগুলো জাতীয় দ্বিপক্ষীয় এবং বাহুপক্ষীয় সকল উপযোগী কার্য ব্যবস্থা নেবে।
(ক) কোন বে আইনী যৌন ক্রিয়াকর্মে লিপ্ত হতে শিশুকে প্ররোচিত কিংবা বাধ্য করা;
(খ) পতিতাবৃত্তি কিংবা অন্যান্য বেআইনী যৌন তৎপরতায় শিশুদের অপব্যহার করা। যৌন অশ্লীলতাপূর্ণ কোন ক্রিয়াকর্মে বা বিষয়বস্ত্ততে শিশুদের অপব্যবহার করা।
এছাড়া শিশু অধিকার সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় এ সনদে উল্লেখ রয়েছে।
‘‘মানব সম্পদ উন্নয়নঃ একটি পর্যালোচনা’’ শীর্ষক প্রবন্ধের পর্যালোচনায় একথা প্রমাণিত হল, যে মানুষকে সম্পদে পরিণত করতে হলে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন অনস্বীকার্য।

(১) মানুষের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা,
(২) নারী অধিকার বাস্তবায়ন
(৩) শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা ও যথার্থ পরিচর্যা
(৪) শিক্ষিত-অশিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান,
সর্বোপরি মানব সম্পদ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করণের মাধ্যমে মানুষকে নৈতিক ও আর্দশিক শিক্ষার দ্বারা ধর্মীয় অনুশাসন পালনে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে এবং সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষা বিস্তারের বাবস্থা করতে হবে। আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস মানবতার কল্যাণে সামান্যতম ভুমিকা রাখলে স্বার্থকতা খুঁজে পাব।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Dhaka
1204