The Bookshelf- read & learn

The Bookshelf- read & learn Live as if you have to die tomorrow, learn as if you have live forever

উসমান ইবন মাযউন (রাঃ) ছিলেন একজন মুহাজির। প্রথম হিজরতের পর তিনি আবিসিনিয়া থেকে মক্কায় ফিরে আসতে চান। যেহেতু তিনি মক্কা ছ...
27/07/2025

উসমান ইবন মাযউন (রাঃ) ছিলেন একজন মুহাজির। প্রথম হিজরতের পর তিনি আবিসিনিয়া থেকে মক্কায় ফিরে আসতে চান। যেহেতু তিনি মক্কা ছেড়ে হিজরত করেছিলেন, তাই কারো পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস ব্যতীত মক্কায় নিরাপদে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। ওয়ালীদ ইবন মুগীরা তাঁকে নিরাপত্তা দান করলো। সে ছিল মক্কার বয়স্ক ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের একজন।

ওয়ালিদ ইবন মুগিরার নিরাপত্তায় উসমান ইবন মাযউন মক্কায় প্রবেশ করেন। মক্কায় ফিরে এসে আবিষ্কার করেন যে, তিনি ছাড়া অন্য সব মুসলিমরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে! নিজের নিরাপদ জীবন তাঁকে এতটুকু খুশি করলো না, মজলুম মুসলিমরা তাঁকে ঈর্ষান্বিত করে তুললো! তাঁর কাছে মনে হলো তিনি বাদে অন্য সবার গুনাহ মাফ হয়ে যাচ্ছে আর তিনি কিছুই করতে পারছেন না। তাই তিনি ওয়ালিদের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন যে তাঁর নিরাপত্তার কোনো দরকার নাই, তিনি সেটা ফিরিয়ে দিতে এসেছেন।

ওয়ালিদ বললেন,
- তুমি কেন এটা করছো?'
- আমি শুধু আল্লাহর নিরাপত্তা চাই, তোমার নিরাপত্তা চাই না।
- ঠিক আছে, যেহেতু আমি প্রকাশ্যে তোমাকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছি, সেহেতু এই নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণাও প্রকাশ্যেই দিতে হবে।

তারা কাবাঘরে গেলেন। আল-ওয়ালিদ ইবন মুগীরা বললো, 'উসমান ইবন মাযউন আমার নিরাপত্তা আর চায় না, সে ফিরিয়ে দিয়েছে।' উসমান ইবন মাযউন বললেন,
হ্যাঁ, আমি ওয়ালিদ ইবন মুগীরাকে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও সৎ লোক হিসেবে পেয়েছি, কিন্তু আমি একমাত্র আল্লাহর নিরাপত্তার মধ্যে আসতে চাই।'

কিছুক্ষণ পর দেখা গেলো উসমান ইবন মাযউন (রাঃ)একটা জনসমাবেশে এসেছেন। সেখানে তখন আরবের বিখ্যাত কবি লাবীদ তার একটা কবিতা আবৃত্তি করছিল, 'আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই অসারা" উসমান তাল মেলালেন, বললেন, 'ঠিক! ঠিক।' ওই সমাবেশে অনেক লোক জমা হয়েছিল। কবি বলে চললো, 'আর সব সুখ তো ম্লান হয়ে কারো উসমান তার কবিতার মাঝপথে বাধা দিয়ে বললেন, 'না না, তুমি ভুল বলেছো, জান্নাতের সুখ কখনই ম্লান হবে না।'

কবি লাবীদ একটা ধাক্কা খেল। সে তার নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না যে, তার শ্রোতাদের মধ্যে কেউ এভাবে তার ভুল ধরিয়ে দেবে! কুরাইশদের উদ্দেশ্যে বললো, 'কে এই লোক? তোমাদেরকে এভাবে হেয় করার সাহস সে কোথা থেকে পেল?' শ্রোতাদের মধ্যে কেউ একজন বললো, 'বাদ দিন, সে হচ্ছে এক মাথামোটা, মুহাম্মাদের ধর্ম অনুসরণ করে। এর কথায় আপনি কিছু মনে করবেন না।' উসমান ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। তিনি এই কথার জবাব দিয়ে বসলেন। ব্যস, শুরু হয়ে গেলো তাদের মধ্যে হাতাহাতি-মারামারি। এক পর্যায়ে কুরাইশরা উসমানের চোখে ঘুষি মেরে বসে।

আল-ওয়ালিদ ইবন মুগীরা এই ঘটনা দেখলো। উসমানের কাছে এসে বললো,
- 'কী দরকার ছিল তোমার চোখের বারোটা বাজানোর? তুমি তো আমার নিরাপত্তার মধ্যেই ছিলে, কেন সেটা ফিরিয়ে দিতে গেলে?'
- ঈমানে বলীয়ান উসমান ইবন মাযউন (রাঃ) তেজদীপ্ত গলায় বললেন,
- না, বিষয়টা তেমন না। আল্লাহর শপথ, আমি তো চাই আমার ভালো চোখটিও যদি আঘাত পাওয়া চোখের মতো হতো। সত্যি বলতে কী, আমি এমন একজনের নিরাপত্তায় আছি যিনি তোমার চেয়ে শক্তিশালী এবং ক্ষমতাবান।
- তুমি কি আমার নিরাপত্তার মধ্যে ফিরে আসতে চাও?
- নাহ, আমার প্রয়োজন নেই।

একজন কাফের বা মুশরিক কিছু হারালে সেটা ক্ষতির খাতায় ফেলে দেয়, কষ্ট-ব্যথা-বেদনাকে ক্ষতি বাদে অন্য কোনো নজরে দেখার ক্ষমতা তাদের নেই। কিন্তু একই ঘটনা একজন মুসলিমের জন্য সুসংবাদ। মার খেয়ে, ফোলা চোখ নিয়েও উসমান ইবন মাযউন ভাবছেন, ব্যথার বিনিময়ে কিছু গুনাহ মাফ হলো। এটাই মুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গী, ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গী।

Collected from Abu twaha's page

একটা সত্যি কথা কি জানেন?আমাদের মধ্যে না আছে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, না আছে ভয়।এমন একজনের কথা একটু আগে বাসায় বলছিলাম, যে ...
27/07/2025

একটা সত্যি কথা কি জানেন?
আমাদের মধ্যে না আছে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, না আছে ভয়।

এমন একজনের কথা একটু আগে বাসায় বলছিলাম, যে কিনা আমাদের সময়েরই একটা ছেলে।

এই ছেলে ইশার পরপরই ঘুমায়ে যায়, কারণ এটা রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নাহ। আর রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নাহই তার কাছে গাইডেন্স। আর গাইডেন্স ফলো করলেই সে সফল। নইলে তো সে মিসগাইডেড, ব্যর্থ!

এই ছেলে প্রতি রাতে ঘুম থেকে সাড়ে বারোটায় উঠে যায়। ভোর পাঁচটা পর্যন্ত সে চুপিচুপি টানা সলাত করে। কিয়াম করে।
কেন?

কারণ, সে আল্লাহর প্রতি সত্যিই কৃতজ্ঞ।
সে নিজের ভুল আর জাহান্নাম নিয়ে সত্যিই ভীত।
এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে আর আশ্রয় চাইতে চাইতে সে দুই পা ফুলায়ে ফেলে।
প্রতিদিন।

একটা ট্যুরে ত্রিশদিনের একদিনও তার এই রুটিন মিস হয় নাই। তীব্র মশার প্রকোপেও আল্লাহর প্রতি ভালবাসা তাকে সুন্নাহর অনুসরণ থেকে থামাইতে পারে নাই। কোন পরিস্থিতি আর অজুহাতই তাকে আল্লাহর সাথে কথোপকথনের মিষ্টতা মিস করার দুঃসাহস দেয় নাই।

মনিব নিজে নেমে আসবেন, কথা শুনতে চাইবেন, মাফ করতে চাইবেন, আর এই কথার উপরে ঈমান থাকলে দাস হয়ে সে ঘুমাবে, তা কী হয়?
হয় না।

এই ছেলেটা তাওহীদ "বুঝেছে"।
আল্লাহকে চিনেছে।
সফলতা দেখেছে।

আর আমরা?
আমরা বয়ান দিয়ে, বয়ান শুনেই বিন্দাস!
ঠিক না?

আল্লাহর জন্য বাঁচা!
এতো সস্তা?

~মোহাম্মদ তোয়াহা আকবর

29/12/2024

বেড়ে গেছে সড়ক দূর্ঘটনা! নিরাপত্তার জন্য সকল দুনিয়াবি মাধ্যম গ্রহণের পাশাপাশি এই সুন্নাহ আমলটি করতে পারেন।

নিজে শিখুন। সন্তান, ছাত্রছাত্রী সহ সবাইকে শিখান।
দরজায় স্টিকার কিংবা কাগজে লিখেও রাখতে পারেন।

একটি দুয়া আছে এমন, যিনি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পড়বেন, ওই ব্যক্তিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়:

তোমার আর কোনো চিন্তা নেই, তোমার সকল দায়িত্ব গ্রহণ করা হলো, (তোমাকে সঠিক পথ দেখানো হলো) এবং তোমাকে হেফাযত করা হলো। আর শয়তান তার থেকে দূরে চলে যায়।

দুয়াটি হলো :
بِسْمِ اللّٰهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللّٰهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ
বিসমিল্লাহি, তাওয়াককালতু আলাল্লা-হি, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ

অর্থ: আল্লাহ্‌র নামে (বের হচ্ছি)। আল্লাহর উপর ভরসা করলাম। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই।

(সুনান তিরমিযী: ৩৪২৬)

মাওলানা আবদুল্লাহ আল মনসুর

23/10/2024

দুপুরে এক অভাবী ব্যক্তি এসে বললেন, হযরত! হাজার দুইয়েক টাকা হবে? খুব সমস্যায় আছি। মাসের বেতন পেলেই দিয়ে দিব। আমি বললাম, ভাই! হাতে টাকা নাই। যা ছিল শেষ। তারপরও দেখি আসরের সময় আইসেন। আল্লাহ হয়তো কোনো ব্যবস্থা করবেন। লোকটা 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে চলে গেলেন।

বিকেলে আমি বাসায় কম্পিউটারে কাজ করছিলাম। হঠাৎ ঢাকা থেকে ফোন। মসজিদের জয়েন্ট সেক্রেটারি উনি৷ বললেন- আমি হাজার দুইয়েক টাকা পাঠালে আজকের মধ্যে কাউকে দান করতে পারবেন? অভাবী ব্যক্তি দেখে? আমি নীরব হয়ে গেলাম। ভাবছিলাম দুপুরের অভাবী লোকটার সাথে আল্লাহর কি গভীর সম্পর্ক। বিকেলে তার রব তার জন্য সত্যি সত্যি দুই হাজার টাকার ব্যবস্থা করলেন। এরপর বিকাশে দুই হাজার নয়, তিন হাজার টাকা আসল।

মাগরিবের পর অফিস রুমে আমি ও আমার মু'আজ্জিন বসা। লোকটাকে ডাকলাম। বললাম, দুপুরে আমার কাছে টাকা চাইলেন। কী করবেন টাকা দিয়ে? লোকটা বললেন- গত রাতে গ্যাস সিলিন্ডার শেষ হয়েছে৷ এদিকে আপন বোন হাসপাতালে ভর্তি। টাকার অভাবে দেখতে যেতেও পারছি না! খুব আদরের বোন হুজুর! এ বলে লোকটার চোখ ছলছল করে উঠে। জিজ্ঞেস করলাম, আমি দিতে না পারায় আপনি কী করেছেন পরে? লোকটা বললেন- হযরত! আপনার কাছে না পেয়ে মনটা ভেঙে যায়। মালিকরে ডাকলাম৷ বললাম, মালিক! চার চারটা সন্তান নিয়ে কিভাবে চলব? আমার কিছু হলে আমার পরিবারটার কী হবে? হুজুর! বুক ফেটে কান্না আসছিল তখন।

মুচকি হেসে বললাম আপনার মালিক আপনার ডাকে সাড়া দিয়েছেন। উনি আপনার জন্য ঢাকা থেকে একজনকে ঠিক করেছেন। ঐ লোককে আপনি চিনেন না। তিনিও আপনাকে চিনেন না। আপনার দুই হাজার দরকার। তিনিও দুই হাজার দিবেন। আপনার মালিকই এই যোগসূত্র তৈরি করেছেন। তবে আপনার মালিক আপনাকে একটু বেশিই দিয়েছেন। চেয়েছেন দুই হাজার। মালিক আপনাকে তিন হাজার দিয়েছেন। বিকাশ নাম্বারটা দিন। লোকটা হাটুতে মাথা গুজে মালিক! মালিক! বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পাশে বসা মু'আজ্জিনের চোখেও পানি। আমি হাসার মাধ্যমে সুখের কান্না আটকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছিলাম।

লোকটা উঠে চলে গেল মসজিদে। সেজদায় পড়ে মালিকের কৃতজ্ঞতা আদায় করল।

এশার পর ফোন দিলাম ঢাকার সেই দাতাকে। পুরো ঘটনা বলার পর জিজ্ঞেস করলাম,আচ্ছা আল্লাহ আপনাকেই কেন পছন্দ করলেন তাঁর এক প্রিয় বান্দার চাহিদা পূরণের জন্য? উনি নীরব হয়ে গেলেন। বুঝতে পারছিলাম উনিও আবেগাপ্লুত।

আসলে দুই হাজার টাকা কিছুই না এ সমাজে৷ কিন্তু দেখুন এই সামান্য টাকার মধ্যেই আমার রবের কি কুদরেতরই না প্রকাশ ঘটেছে।

লিখেছেন Masud Alimi

28/04/2024
06/10/2023

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Bookshelf- read & learn posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category