16/09/2025
শরীরে যদি কোন একটি হরমোনের ইমব্যালেন্স হয় তাহলে শরীরের যে যে সমস্যা গুলো দেখা দিতে পারে---
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from PHC & Health Tips, Education, Dhaka.
16/09/2025
শরীরে যদি কোন একটি হরমোনের ইমব্যালেন্স হয় তাহলে শরীরের যে যে সমস্যা গুলো দেখা দিতে পারে---
13/09/2025
💫টনসিল অপারেশন (টনসিলেক্টমি) একটি খুবই সাধারণ অস্ত্রোপচার, যা মূলত বারবার টনসিলের প্রদাহ হলে করা হয়..!! তবে ঠিক কখন এটি করা উচিত, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে..!! নিচে কখন টনসিল অপারেশন জরুরি এবং কখন জরুরি নয়, তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব..!!
আসুন প্রথমে জেনে নেই টনসিল কি জিনিস, সেটা আমাদের কি ধরনের উপকার করে..!! কেন সেটার অপারেশন প্রয়োজন হয়!
★★টনসিল হলো গলার পেছনের অংশে অবস্থিত দুটি লিম্ফয়েড টিস্যু, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে টনসিল নিজেই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এবং তখন অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে..!!
যেসব ক্ষেত্রে টনসিল অপারেশন জরুরি:
**এক দিকের টনসিল বড় হওয়া: যদি শুধুমাত্র একটি টনসিল অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়, তাহলে এটি ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ক্যান্সার সন্দেহ করে সাধারণত অপারেশন করা হয়..!!
**বারবার টনসিলের প্রদাহ (টনসিলাইটিস): যদি এক বছরে ৭ বার বা তার বেশি, অথবা টানা ২ বছর ধরে প্রতি বছর ৫ বার বা তার বেশি টনসিলাইটিস হয়..!!
**শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা: টনসিল এতটাই বড় হয়ে গেলে যে ঘুমের মধ্যে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় (অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া)। এটি খুবই গুরুতর একটি সমস্যা..!!
**খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া: টনসিলের ফোলা বা বড় হওয়ার কারণে খাবার গিলতে বা তরল পান করতে গুরুতর অসুবিধা হলে..!!
**গলায় পুঁজের জমাট বাঁধা (Peritonsillar Abscess): টনসিলের পাশে যদি পুঁজের ফোলা সৃষ্টি হয় যা বারবার হয়।
**অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স: টনসিলের প্রদাহ যদি অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েও ঠিক না হয়..!!
★★যেসব ক্ষেত্রে সাধারণত অপারেশন জরুরি নয়:
--প্রথমবার টনসিলাইটিস: শুধুমাত্র একবার টনসিলাইটিস হলে সাধারণত অপারেশনের প্রয়োজন হয় না..!! এটি সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সেরে যায়..!!
--টনসিলের আকার বড়, কিন্তু কোনো উপসর্গ নেই: যদি টনসিল বড় হয়, কিন্তু এতে শ্বাস-প্রশ্বাস বা খাবার গেলার মতো কোনো সমস্যা না হয়, তবে অপারেশন করার দরকার নেই..!!
--সামান্য গলা ব্যথা বা অস্বস্তি: সাধারণ গলা ব্যথার জন্য টনসিল অপারেশন করার প্রয়োজন নেই..!!
যদি আপনি বা আপনার পরিবারের কারো উপরোক্ত সমস্যাগুলো লক্ষ্য করেন, তাহলে অবশ্যই একজন নাক, কান ও গলা (ENT) বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন..!! তিনিই আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারবেন..!!
12/09/2025
💊স্টেরয়েড জিজ্ঞাসা---
কর্টিকোস্টেরয়েড জীবন রক্ষাকারী ওষুধ । স্টেরয়েড এর অযৌক্তিক ব্যবহার কীংবা মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার জীবন রক্ষার পরিবর্তে ডেকে আনতে পারে বিপর্যয় । তাই স্টেরয়েড প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে মনের মধ্যে যে কনফিউশন তৈরী হয় তার আলোকে সাজিয়েছি স্টেরয়েড জিজ্ঞাসা । চলুন দেখা যাক ।
১) স্টেরয়েড কি জ্বরের মধ্যে ব্যবহার করা যায় ?
------------------------------------------------------
উত্তর - না । কারণ ইনফেকশন যদি ভাইরাসজনিত হয় স্টেরয়েড প্রাথমিকভাবে জ্বর কমিয়ে আনলেও ইম্উনোসাপ্রেশনের মাধ্যমে সংক্রমনে র হার আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে । ফলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে । ব্যকটেরিয়াল ডিজিজ এর ক্ষেত্রে এন্টবিায়োটিক ব্যবহার করে হয়তো সংক্রমন কমানো যাবে । স্টেরয়েড স্বাভাবিক তাপমাত্রাতে ব্যবহার করা হয় । তবে হ্যা তাপমাত্রা বৃদ্ধি যদি অটোইমিউন ডিজিজ এর কারণে হয় সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োগ করা যায় ।
২) হাইপোথার্মিয়া হলেই কি স্টেরয়েড ব্যবহার করতে হয় ?
-------------------------------------------------------------
উত্তর - না । প্রথম শর্ত হচ্ছে দেহে তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তাপমাত্রা বৃদ্ধির চেষ্টা করা । Hypovolumic Shock/Hypoglycemic Shock মনে হলে আইভি ডেক্সট্রোজ প্রয়োগ করা । স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসলে অন্যান্য নিউট্রিশনাল সাপোর্টের সাথে স্টেরয়েড ব্যবহার করা যেতে পারে । কোন অবস্থাতেই প্রারম্ভিকভাবে নয় ।
৩. এন্টি-হিস্টামিন এবং স্টেরয়েড কি একসাথে ব্যবহার করা যায় ?
------------------------------------------------------------------
উত্তর - ক্ষেত্র বিশেষ একসাথে ব্যবহার করা যায় । স্টেরয়েডের যেহেতু এন্টিএলার্জিক ইফেক্ট আছে সেক্ষেত্রে এন্টিহিস্টামিন না হলেও চলে। Steroid এন্টিহিস্টামিন রিসিপ্টরকে ব্লক করতে পারে না কিন্তু পরোক্ষভাবে মাস্ট সেল (Mast Cell) থেকে হিস্টামিন রিলিজ কমাতে পারে । অপরপক্ষে এন্টিহিস্টামিন হিস্টামিন রিসিপ্টরকে ব্লক করে দেয় ।
৪) স্টেরয়েড আর NSAID কি একসাথে ব্যবহার করা যায় ?
=======================================
উত্তর । না । যৌথ ব্যবহার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি করে । একান্ত প্রয়োজন হলে সময় বিরতি দিয়ে প্রয়োগ করা যাবে সেক্ষেত্রে মনিটরিং এর প্রয়োজন হবে ।
৫) Anti-Inflammatory Drug হিসাবে কোনটি শক্তিশালী স্টেরয়েড না নন-স্টেরয়েড ?
=======================================
উত্তর _ স্টেরয়েড NSAID এর চেয়ে বেশী শক্তিশালী ।
৬) Acute Pain এ কি স্টেরয়েড ব্যবহার যাবে ?
==============================
উত্তর : না । কারণ স্টেরয়েড Mode of Action অনুযায়ী পরোক্ষভাবে ব্যথা কমায় এবং বোনাস হিসাবে ইমিউনোসাপ্রেশন (Immunosuppression) উপহার দেয় । অপর দিকে NSAID প্রত্যক্ষভাবে ইনফ্ল্যামেটরি মেডিয়েডটর তৈরীতে বাধা দেয় । কোন প্রকার ইমিউনোসাপ্রেশন নেই ।
৭) প্রায়োগিক দিক থেকে ডেক্সামিথাসন এবং প্রেডনিসলন এর মধ্যে পার্থক্য কি ?
উত্তর - ডেক্সামিথাসোন প্রেডনিসোলনের তুলনায় ৫-৬ গুন শক্তিশালী । রক্তে ইহার প্রভাব ৪৮-৬০ ঘন্টা থাকে । তাই ২ দিন পর পর ব্যবহার করলেই চলে । অপরপক্ষে প্রেডনিসলন এর প্রভাব রক্তে থাকে ১২-২৪ ঘন্টা । তাই প্রতিদিন ব্যবহারের প্রয়োজন হলে প্রেডনিসলন ব্যবহার করা যায়..!!
09/08/2025
শিশুটি জন্ডিস নিয়ে ভর্তি হয়েছিল লাস্ট এডমিশনে। গত ৩ দিনে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে আজ রিস্ক ভন্ড দিয়ে বাসায় চলে গেল। আমরা কোন ভাবেই বুঝিয়ে রাখতে পারলাম না। বাচ্চার বাবা( হুজুর) আমাকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে বললেন তাদের গ্রামে বড় কবিরাজ গতরাতে আকাশ থেকে পরীকে নামিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল বাচ্চার জন্ডিসের বেপারে। পরী বলছে ওসমানী মেডিকেলের চিকিৎসা ঠিক আছে কিন্তু সেই চিকিৎসা ভাল হবেনা। আগে জ্বীনের কাছে শিশুটির বিয়াদবীর জন্য মাপ চাইতে হবে , তারপর ওসমানীর চিকিৎসা করলে ভাল হবে। হুজুর সাহেব যাওয়ার আগে আমাকে দোয়া করে গেলেন। জ্বীনের চিকিৎসা শেষ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। আমি, আমার ইন্টার্নসহ হুজুর সাহেব কে আবার বুঝালাম কিন্তু রাখতে পারলাম না। কল্পনা করা যায় আমরা এখন ২০২৫ সালে আছি??? শিশুটি লিভার ফেইলুর নিয়ে আসছিল, জানিনা তার ভাগ্যে কি আছে.......!!
collected
22/07/2025
চলুন,, বড় দুর্ঘটনায় Burn Management নিয়ে জানি!
গতকাল উত্তরা মাইলস্টোনের ভয়াবহ প্লেন ক্র্যাশ আমাদের মনে করিয়ে দিল, বড় অগ্নিকাণ্ডে শরীর পুড়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান কতটা জরুরি।
বিশেষ করে, দগ্ধ রোগীর শরীরে কত শতাংশ পুড়েছে – এটা জানা চিকিৎসকের জন্য জীবন বাঁচানোর প্রথম ধাপ।
তাই আজ একটু stable হয়ে মেডিকেল স্টুডেন্ট হয়ে বিষয়টা নিয়ে বিস্তারিত লিখা।।
শরীরের পুড়ার হিসাব করার সবচেয়ে দ্রুত ও সহজ পদ্ধতি হলো - Rule of 9
শরীরকে ভাগ ভাগ করে ধরা হয়ঃ
• মাথা ও ঘাড় ➡️ ৯% (বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১৮% )
• একেকটা হাত ➡️ ৯%
• বুকের সামনের দিক (chest+abdomen) ➡️ ১৮%
• পিঠের দিক (Back of the trunk) ➡️ ১৮%
• একেকটা পা ➡️ ১৮% (বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১৩.৫% করে)
• গোপনাঙ্গ (Perineum) ➡️ ১%
👉 ধরুন, যদি দুই হাত, বুকের সামনের দিক আর মুখ পুড়ে যায়, তাহলে = ৯% + ৯% + ১৮% + ৯% = ৪৫% দগ্ধ। ( শিশু হলে ৫৪% দগ্ধ)
এই হিসাবের উপর নির্ভর করে রোগী ICU দরকার কি না, fluid কত দিতে হবে ইত্যাদি সিদ্ধান্ত হয়।
Hospital Admit (বা ICU ) মূল শর্ত -
☑️ Partial thickness বার্ণ (2nd degree burn) যদি ১৫% এর উপর হয় (Adult ) অথবা ১০% এর উপর ( Children )
☑️ Full thickness (3rd degree burn) বার্ন হলে ৫% এর উপর হইলেই হাসপাতালে এডমিট করতে হয়।
এছাড়াও শর্ত আছে , যা প্রাসঙ্গিক আজকের জন্য শুধু সেগুলো বললাম।
গতকালকের ভিডিও তে দেখা প্রায় বেশিরভাগেরই ছিল 2nd degree & 3rd degree burn. 🙂🙂🙂
✅ এখন আসি, কীভাবে স্যালাইন দেওয়া হয় দগ্ধ রোগীকে?
পুড়ে যাওয়ার পর দেহ প্রচুর পানি হারায়। বাঁচাতে হলে সেই পানি দ্রুত দিতে হয়।
এই জন্য বিশ্বব্যাপী চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ঃ
👉 Parkland Formula:
Fluid (ml) = 4 ml × Body weight (kg) × % Burn area
কীভাবে দেবেন?
⏳ প্রথম ৮ ঘণ্টায় অর্ধেক
⏳ পরের ১৬ ঘণ্টায় বাকি অর্ধেক
⚠️ উদাহরণঃ
৬০ কেজি রোগী, ৪৫% পুড়েছে।
= 4 × 60 × 45 = 10,800 ml স্যালাইন
প্রথম ৮ ঘণ্টায় ৫,৪০০ ml
পরের ১৬ ঘণ্টায় ৫,৪০০ ml
🔍 শেষ কিছু জরুরী কথা:
✅Burn Injury মানেই শুধু চামড়া পুড়েনি, পুরো শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ছে।
✅সঠিক হিসাব আর দ্রুত স্যালাইনই জীবন বাঁচায়।এই স্যালাইন সময়মত পাচ্ছে কিনা এটার উপরও রোগীর জীবনমরণ নির্ভর করতেসে (prognosis). হাসপাতালে নিতে অনেক বেশি দেরি হয়ে গেলেও কিন্তু এই পানিশুন্যতা থেকে রোগী hypovolemic shock এ চলে যায় , যেটা সময়মত রিভার্স করা না গেলে আস্তে আস্তে একটার পর একটা Organ fail করতে শুরু করে , ফলশ্রুতিতে মৃত্যু অনেকটা অবধারিত।
✅এছাড়াও রোগীর আশেপাশে বেশি মানুষ এসময় এলাউ করা মোটেও medically রাইট না, sepsis ডেভেলাপ করে Septic shock এ চলে যেতে পারে , যেটাও অর্গান ফেইল করে মৃত্যুর দিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যায়।
✅একটা burn patient এর prognosis (ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ) আরও অনেক ফ্যাক্টরের উপর ডিপেন্ড করলেও লাস্ট আরেকটি জিনিস জানিয়ে আজকের পোস্ট শেষ করব যেটা হলো আগুনের বদ্ধ রুমে Inhalation burn(শ্বাসনালিতে পোড়া) হলে সেক্ষেত্রে শুধু ৩০% বার্ণ নিয়েও রোগীর অবস্থা ভালো থাকেনা , বাঁচানো কঠিন হয়ে যায় । তাই সব সময় বার্নের পার্সেন্টেজ দেখেই রোগী মারা গেলে ডাক্তারকে গালি দিতে আসবেন না না বুঝে । এরকম ভাবে Electric burn , Chemical burn এও আপাত ভাবে বার্ন বাইরে কম বুঝা গেলেও রোগীর ভিতরে কন্ডিশন থাকে যায় যায় অবস্থা।
03/07/2025
দীর্ঘ ২৩ ঘন্টার হার্ট সার্জারির পর হার্ট সার্জন বসে তার রোগীর ভাইটাল সাইনস দেখছেন এবং কোণায় তার সহকারী ঘুমাচ্ছেন! এই বিখ্যাত ছবিটি ১৯৮৭ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক কর্তৃক বছরের সেরা ছবি হিসেবে নির্বাচিত হয়!
ছবির চিকিৎসকের নাম জেবিগনিউ রেলিগা৷ তাকে পোল্যান্ডের হার্টসার্জারির পথিকৃৎ বলা হয়৷ তিনি যেই সময়ের এই সার্জারিটি করেছিলেন সেই সময়ে এমন কাজকে অসম্ভব বলেই ধরে নেওয়া হত। কিন্তু তিনি ঝুঁকি নেন এবং সফলও হন৷ সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে ডা. রেলিগা ২০০৯ সালে মারা গেলেও তার রোগী তার থেকে বেশি বছর জীবিত ছিলেন এবং ২০১৭ সালে অপারেশনের ৩০ বছর পর রোগী মারা যান!
এই বিখ্যাত ছবিটি তুলেছিলেন ফটোগ্রাফার জেমস স্ট্যানফিল্ড৷
゚viralfbreelsfypシ゚viral
25/06/2025
প্রথম পিরিয়ডেই হারিয়ে গেল একটি জীবন — কে নেবে এই দায়?
কুমারী একটি মেয়ে, বয়স মাত্র তেরো কিংবা চৌদ্দ। জীবনের প্রথম পিরিয়ড শুরু হয়েছিল কিছুদিন আগে। শুরু থেকেই তার শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছিল ধীরে ধীরে। জ্বর, পেটে ব্যথা, অবিরাম রক্তপাত—সব মিলিয়ে সে প্রায় দশ দিন ধরে বিছানায় পড়ে ছিল। পরিবারের লোকজন প্রথমে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। ভাবছিল, "মেয়েদের এমন তো হয়ই!"
কিন্তু অবস্থার অবনতি ঘটতেই শুরু হয় দুশ্চিন্তা। একসময় এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছায়, যখন আর কিছু করার থাকে না। বাধ্য হয়ে মেয়েটিকে বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক জানালেন—মেয়েটি মারাত্মক রক্তশূন্যতায় ভুগছে। জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দরকার, তার ব্লাড গ্রুপ AB+।
রক্ত জোগাড় করে রাত ১টার দিকে তাকে রক্ত দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। তার শরীর সেই রক্ত নিতে পারেনি। কারণ, সেই ছোট্ট মেয়েটি এরই মধ্যে নিঃশব্দে প্রাণ হারিয়েছে—রক্তশূন্যতার কারণে।
ঘটনাটি সুন্দরবনের একেবারে কোলঘেঁষা, প্রত্যন্ত একটি গ্রামের। মেয়েটির বাড়ি থেকে জঙ্গল মাত্র ২০ গজ দূরে, মাঝখানে শুধু একটি নদী। পল্লিবিদ্যুৎ এসেছে মাত্র চার বছর আগে। এখনো নেই পাকা রাস্তা, নেই কোনো আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা।
এই অঞ্চলে ‘মাসিক’ শব্দটি এখনো উচ্চারণযোগ্য নয়। এটি যেন এক অপবিত্র, লজ্জাজনক, নিষিদ্ধ কোনো ঘটনা। এখানকার মেয়েরা এখনো পিরিয়ডকালীন সময়ে স্যানিটারি প্যাডের পরিবর্তে ব্যবহার করে নোংরা, বারবার ব্যবহৃত ন্যাকড়া। স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এতটাই, যে একজন কিশোরী পিরিয়ডের সময় অবিরাম রক্তপাতেও সাহায্য চাইতে পারেনি।
হয়তো অনেকে বলবেন, পরিবারের দোষ। তারা কেন বুঝল না? কেন গুরুত্ব দিল না? তাদেরও যদি জিজ্ঞেস করা হয়, উত্তর আসবে—তারা জানেই না এসব ব্যাপার। এই অঞ্চলে শিক্ষার হার বলতে গেলে ২ শতাংশেরও কম। এখানকার মহিলারা আধুনিকতা বা শহরের সুযোগ-সুবিধা দেখেছে কেবল টেলিভিশন বা মোবাইল ফোনের পর্দায়।
আমরা আজ ২০২৫ সালে বাস করছি—যেখানে চাঁদের বুকে ঘর বানানোর স্বপ্ন বাস্তব হতে চলেছে, নারীরা মহাকাশে যাচ্ছে, প্রযুক্তি পৌঁছে গেছে আঙুলের ডগায়। অথচ এমন এক সময়ে, এমন উন্নত বিশ্বের পাশে—একটি কিশোরী মারা যায় শুধুমাত্র পিরিয়ডের সময় যথাযথ যত্ন না পাওয়ার কারণে।
পিরিয়ড কোনো অভিশাপ নয়। এটি একটি মেয়ের জীবনের এক গৌরবময় সূচনা—নারীত্বের পথে প্রথম পদক্ষেপ। কিন্তু আমাদের সমাজের বহু জায়গায় এখনো এটি লজ্জা, সংকোচ ও অজ্ঞতার কারণে ধামাচাপা পড়ে থাকে।
মেয়েটির মৃত্যু হয়তো ভাগ্য বলে এড়িয়ে যাওয়া যায়, কিন্তু বাস্তবে এটি আমাদের সমাজ, শিক্ষাব্যবস্থা এবং সচেতনতার মারাত্মক ব্যর্থতা।
যদি আমরা এখনই সচেতন না হই, যদি মা-বাবারা সন্তানদের প্রাথমিক শারীরিক ও প্রজনন শিক্ষা না দেন, যদি স্কুলগুলোতে যৌন ও স্বাস্থ্য শিক্ষাকে গুরুত্ব না দেওয়া হয়—তবে এমন মৃত্যু আরও ঘটবে।
এ মৃত্যু কেবল একটি মেয়ের নয়, এটি আমাদের সবার—সমাজের, অবহেলার, অজ্ঞতার।
আজই সময় এসেছে ‘পিরিয়ড’ শব্দটিকে সম্মানিত করার। মেয়েরা প্রতিনিয়ত যন্ত্রণা সহ্য করে, রক্ত দিয়ে, কষ্টে থেকেও জীবন এগিয়ে নিয়ে যায়। তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে—এই মৃত্যু যেন আর কোনো মেয়ের জীবনের শেষ অধ্যায় না হয়।
সংগৃহীত
চারটি ভয়াবহ সত্য --
💫অলসতা--সফলতাকে মেরে ফেলে--