After School Online Maktab - ASOM

After School Online Maktab - ASOM

Share

আপনার কলিজার টুকরা সন্তানকে স্কুলে প?

26/09/2021
04/04/2021

রমজান মাস কোরআন নাযিলের মাস।
আর হ্যাঁ, এই রমজানে মাত্র ২০ দিনে অনলাইনে ঘরে বসেই, তাজবীদ সহকারে, সহিহ শুদ্ধভাবে শিখে ফেলুন কোরআন শরীফ পড়া।

আপনি যদি শুধু বাংলা পড়তে পারেন এবং আপনার যদি স্মার্টফোন অথবা ল্যাপটপ থাকে তবে আপনি মাত্র ২০ দিনে ঘরে বসেই অনলাইন লাইভ ক্লাশের মাধ্যমে শিখতে পারবেন কোরআন। একেবারে আলিফ, বা, থেকে শুরু করে কয়েকটি ক্লাসেই ইন শা আল্লাহ কোরআন হাতে নিতে পারবেন।
মূল ক্লাসের পাশাপাশি সমস্ত ভাই-বোনদের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা মশকের ব্যবস্থা।
**আলহামদুলিল্লাহ, সম্পূর্ণ ভিন্ন সিস্টেমে আমাদের এখানে পড়ানোর কারণে বিগত ৮ টা ব্যাচের শ'খানেক স্টুডেন্টের কোরআন পড়া শুদ্ধ হয়ে গিয়েছে।
সেই অভিজ্ঞতার আলোকে, আপনি যদি সবগুলো মূল ক্লাস ও মস্ক ক্লাসগুলো করেন তবে ইনশাআল্লাহ আপনার পড়া শুদ্ধ হতে বাধ্য।

তবে আর দেরি কেন? রেজিস্ট্রেশন করে আজই নিশ্চিত করুন আপনার আসনটি।

কোর্স ফি: ২০৪০ টাকা মাত্র। তবে রমজান উপলক্ষে ২৫% ছাড়ে ১৫৩০ টাকা রাখা হচ্ছে।

১। রেজিস্ট্রেশনের জন্য ১৫৩০ টাকা বিকাশ/নগদ-এর মাধ্যমে 01772-362909 নম্বরে সেন্ড করে ফর্ম পূরণ করুন।

**পেমেন্ট ও ফর্ম পূরণ উভয়টি সম্পন্ন করতে https://www.facebook.com/OnlineMadrasa20/ এই লিংকে ক্লিক করে অনলাইন ইউনিক মাদরাসার পেজে অথবা https://www.facebook.com/naffan1 এই লিংকে ক্লিক করে কোর্স পরিচালককে ম্যাসেজ দিন। অথবা পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

রেজিস্ট্রেশন এর লাস্ট ডেট: ১২ এপ্রিল,২০২১।

সময়: ১লা রমজান হতে শুরু
ক্লাস প্রতিদিন হবে, সময় ১ ঘন্টা।
সময়: দুপুুর ২ টা থেকে ৩.০০ টা ।
অথবা বিকাল ৫টা থেকে ৬টা
***সবগুলো ক্লাস এ অংশগ্রহণ এবং পরীক্ষায় সন্তোষজনক নম্বর প্রাপ্ত স্টুডেন্টদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় গিফট এর ব্যবস্থা।

আরো বিস্তারিত জানার জন্য হটলাইন:
01854902086

পোস্টটি শেয়ার কিংবা ট্যাগ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। আপনার একটা শেয়ারের মাধ্যমে একজন স্টুডেন্টও যদি দ্বীন শিক্ষা লাভ করতে পারে তবে আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে এ নেকির একটা অংশ দিয়ে দিবেন।

02/10/2020

#নতুন_ছাত্র_ভর্তি_বন্ধ_ঘোষণা_করা_হল
আলহামদুলিল্লাহ।
“অনলাইন ইউনিক মাদরাসা” অনলাইনে কোরআন শিক্ষাজগতে অল্প সময়ে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। আমাদের ১০৪ নং ব্যাচে নির্দিষ্ট আসনের থেকে অনেক বেশি স্টুডেন্ট হয়ে যাওয়ায় এই মুহূর্তে নতুন কাউকে নেওয়া সম্ভব হবে না। আমাদের পরবর্তী নতুন কোন কোর্সে কেউ অংশগ্রহণ করতে চাইলে আমাদের গ্রুপে যুক্ত হয়ে থাকতে পারেন। ধন্যবাদ।

14/09/2020

আলহামদুলিল্লাহ!
কোরআন শিক্ষার ৩টি ব্যাচ সফল হওয়ার পর ৪র্থ ব্যাচ আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু করার ইচ্ছা আছে। আগ্রহী ভাইয়েরা ইনবক্সে নক করবেন। পাঠদান পদ্ধতি খুবই সহজ ও চমৎকার।

08/09/2020

শত কষ্টের মধ্যেও একটু হাসি। হালাল বিনোদন। অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করি।
© মুচকি হাসি

04/08/2020

সাধারণ মানুষের অধ্যয়নযোগ্য #কিতাবের_তালিকা

ණ মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক দাঃবাঃ
আমীনুত তালীম, মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা

সমস্যা:
হুযুর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। আমি ইসলামী জীবন যাপন করতে খুবই আগ্রহী ও ইসলামী শরীয়ত মেনে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু ওলামায়ে কেরামের সাথে আমাদের সম্পর্ক না থাকার দরুণ আমরা ইসলাম সম্পর্কে পূর্ণরূপে জেনে মানতে পারি না। কিন্তু আমার জানা মতে অন্য দেশের ছাত্ররা ওলামায়ে কেরামের সাথে সম্পর্ক রাখা ও তাদের কিতাবাদি অধ্যয়নে রাখার কারণে অনেক ধর্মপরায়ণ। আর আমাদের বাংলাদেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যা কিছু অধ্যয়ন করে তা অধিকাংশই ভ্রান্ত লেখকদের বই। তাই হুযুরের কাছে আমার সনির্বন্ধ আবেদন বাংলা ভাষায় ‘ইসলামী জীবন ব্যবস্থার’ উপর হক্কানী ওলামায়ে কেরামের লিখিত একটি বিস্তারিত তালিকা দিয়ে দ্বীনী ইলম অন্বেষণের পথে আমাদের সহায়তা করবেন বলে আশা রাখি।
- মুহাম্মাদ মাজহারুল ইসলাম . জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

পরামর্শ:
দ্বীনের সঠিক বোধ ও জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং দ্বীনের উপর অটল-অবিচল থাকার জন্য জরুরি হল, আহলে হক আলেমদের এবং আল্লাহ ওয়ালাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা এবং তাঁদের পরামর্শ অনুসারে চলা। এর পাশাপাশি তাদের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে দ্বীনী গ্রন্থ ও বই-পুস্তক অধ্যয়ন করাও জরুরি। গ্রন্থ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে কেবল ব্যক্তিগত অধ্যয়ন যথেষ্ট নয়। বরং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী শিখতে হবে, এবং নিজস্ব ধারণার উপর তাদের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আপনি দ্বীনী বই-পুস্তকের একটি বিস্তারিত তালিকা পেশ করতে বলেছেন। তো এই মুহূর্তে বিস্তারিত তালিকা পেশ করা কঠিন। এটি সময় সাপেক্ষ বিষয়। এছাড়া অধ্যয়নযোগ্য বিষয়াবলী তো অনেক। এরপর প্রতিটি বিষয়ে রয়েছে একাধিক কিতাব। আহলে হক ও বিশেষজ্ঞ আলিমদের রচিত নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ বিভিন্ন ধরনের রয়েছে। প্রতি শ্রেণীর সকল পর্যায়ের পাঠক সকল গ্রন্থ আত্মস্থ করতে পারবে- এমনটি অপরিহার্য নয়। সর্বপরি অধ্যয়নকারীর যোগ্যতা, বয়স ও অবস্থার ভিন্নতা ইত্যাদি প্রতিটি বিষয়ই এমন, যে কারণে অধ্যয়নের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অবস্থা অনুযায়ী কোনো বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শে গ্রন্থ নির্বাচন করা প্রয়োজন। তো এখন এখানে আপাতত সংক্ষেপে বিষয়ভিত্তিক কিছু গ্রন্থ ও পুস্তিকার তালিকা পেশ করছি।

🔹️তরজমা ও তাফসীর
===============
১. এমদাদিয়া লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত বঙ্গানুবাদ কুরআন শরীফ, যা মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ সাহেব,মাওলানা আব্দুল মজীদ প্রমূখ কর্তৃক সম্পাদিত।

২. তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন, মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী, অনুবাদ : মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম।

৩. মাআরিফুল কুরআন, মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ. অনুবাদ : মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রাহ. (আট খণ্ডে)

৪. তাফসীরে উছমানী, মাওলানা শাব্বির আহমদ উসমানী। (৪ খণ্ডে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত)

৫. সংক্ষিপ্ত তাফসীরে উছমানী, অনুবাদ : প্রফেসর মাওলানা গিয়াসুদ্দীন, থানবী লাইব্রেরী।

🔹️হাদীস
=====
১. মাআরিফুল হাদীস, মাওলানা মুহাম্মাদ মনযুর নোমানী, অনুবাদ : ইসলামিক ফাউন্ডেশন অথবা এমদাদিয়া লাইব্রেরী।

২. আল আদাবুল মুফরাদ, ইমাম বুখারী, অনুবাদ : মাওলানা আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী।

🔸️ফিকহ-মাসায়েল
=============
১. বেহেশতী জেওর, অনুবাদ : মাওলানা আহমদ মায়মূন, উস্তায, জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ।

২. ফাতাওয়া ও মাসাইল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ৩. হাদীস ও মাসায়েলে আহনাফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ৪. নবীজীর নামাজ, অনুবাদ : মাওলানা যাকারিয়া আবদুল্লাহ। ৫. দলীলসহ নামাযের মাসায়েল, মাওলানা আবদুল মতীন।

🔹️আকাঈদ
=======
১. ফুরুউল ঈমান, হাকীমুল উম্মত থানবী রাহ., অনুবাদ : মাওলানা মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন, মাকতাবাতুল আশরাফ থেকে প্রকাশিত। ২. ঈমান ও আকীদা, হাকীমুল উম্মত থানভী রাহ.। ৩. ঈমান সবার আগে,মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক।

🔹️সীরাত -শামায়েল
==============
১. সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া, মুফতী শফী রাহ.।
২. নবীয়ে রহমত, আবুল হাসান আলী নদবী রাহ.।
৩. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সভ্য পৃথিবীর ঋণ স্বীকার, আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.।
৪. সীরাতে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ইদরীস কান্ধলভী রাহ.। ৫. আসাহহুস সিয়ার, মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম অনুদিত, এমদাদিয়া থেকে প্রকাশিত। ৬. উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম, ড. আবদুল হাই আরেফী।

🔹️বিবিধ
=====
১. তাযকিরাতুল আখেরাহ, প্রফেসর মুহাম্মাদ হামীদুর রহমান।
২. তাসাওউফ : তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ, মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক।
৩. কুরআনের ডাক ও আমাদের জীবন, প্রফেসর মুহাম্মাদ হামীদুর রহমান।
৪. ইসলামকে জানতে হলে, মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ।
৫. ইসলামের ডাক, প্রফেসর মুহাম্মাদ হামীদুর রহমান।
৬. প্রচলিত ভুল, মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
৭. প্রচলিত জাল হাদীস,মারকাযুদ দাওয়াহ থেকে প্রকাশিত।
৮. উম্মাহর ঐক্য : পথ ও পন্থা, মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক।
৯. মাযহাব কী ও কেন? মুফতী তাকী উসমানী, অনুবাদক : মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ।
১০. খেলাফত ও রাজনীতি : ইসলামী দৃষ্টিকোণ, মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ।

এছাড়া দ্বীনী বিভিন্ন বিষয়ের উপর আকাবিরে উলামায়ে কেরামের রচনাবলী অধ্যয়ন করা বেশ উপকারী। যেমন হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রাহ., মাওলানা মুহাম্মাদ মনযুর নোমানী রাহ., আবুল হাসান আলী নদবী রাহ. এবং মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম প্রমূখের লিখিত বই-পুস্তক,মাওয়ায়েজ এবং বয়ানসমগ্র। এখানে নমুনাস্বরূপ কয়েকটি উল্লেখ করা হলো :

আশরাফ আলী থানবী রাহ.-এর

১. ইসলাহী নেসাব, (দশটি কিতাবের সংকলন)।
২. মাওয়ায়েজে আশরাফিয়া, অনুবাদ : এমদাদিয়া লাইব্রেরী, চকবাজার।
৩. মাজালিসে হাকীমুল উম্মত, মুফতী শফী রাহ. (সংকলিত)
৪. মুনাজাতে মাকবুল,মাওলানা যাকারিয়া আবদুল্লাহ অনুদিত।
৫. বাসায়েরে হাকীমুল উম্মত।

মাওলানা মুহাম্মাদ মনযুর নোমানী রাহ.-এর

১. ইসলাম কী ও কেন?
২. দ্বীন ও
শরীয়ত।
৩. নামাজের হাকীকত।
৪. কুরআন আপনাকে কী বলে?

মাওলানা আবুল হাসান আলী নদবী রাহ.-এর

১. আরকানে আরবাআহ, অনুবাদ : মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ।
২. ইসলামী জীবন বিধান, অনুবাদ : মাওলানা ফরীদুদ্দীন মাসউদ।

তাকী উসমানী দা. বা.-এর

১. ইসলাহী মাজালিস।
২. ইসলাম ও আমাদের জীবন, (নির্বাচিত রচনা ও বয়ান সমগ্র, ১৪ খণ্ডে)।
৩. যিক্র ও ফিকর।
৪. কুরআন সুন্নাহর আলোকে পরিবার ব্যবস্থা।

[ মাসিক আলকাউসার » শিক্ষার্থীদের পাতা » যিলকদ ১৪৩৭ . আগস্ট ২০১৬ ]

■ প্রত্যেককেই শেয়ার করুন ।

03/08/2020

দ্রুত সময়ে সহজে শুদ্ধভাবে কোরআন শিখতে ইনবক্সে নক করুন অথবা কল করুন।

30/07/2020

কুরবানী আদায়ে যে সব ভুলত্রুটি হতে দেখা যায়

ණ মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া

ইবাদত সহীহ ও কবুল হওয়ার জন্য দু’টি শর্ত রয়েছে। একটি হল, সহীহশুদ্ধভাবে ইখলাসের সাথে নিয়ত করা এবং দ্বিতীয়টি হল, শরীয়তে নির্ধারিত নিয়মনীতি অনুযায়ী করা। কুরবানীর ক্ষেত্রেও দু'টি শর্ত সমানভাবে প্রযােজ্য। সুতরাং কেউ যদি নিয়ত সহীহ ভাবে করল কিন্তু শরয়ী তরীকা ও বিধান অনুযায়ী কাজটি সম্পাদন করল না তাহলে সেটি ইবাদত বলে গণ্য হবে না। যেমনি ভাবে নিয়ত উল্টো হলেও তা ইবাদত গণ্য হয় না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ কএরেন, “এগুলাের গােস্ত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌছে না। তাঁর কাছে পৌঁছায় তােমাদের মনের তাকওয়া" -সূরা হজ ৩৭

এখানে প্রথম শর্তের বর্ণনা এসেছে। আর দ্বিতীয় শর্তটির বর্ণনা রয়েছে হাদীস গ্রন্থহের কুরবানী অধ্যায়ে এবং কুরআন সুন্নাহর আলােকে আলােকে রচিত ফিকহের গ্রন্থাদিতে।

শর্তদু'টির প্রথমটি যেহেতু অন্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাই সেটির ভুলত্রুটি আমাদের দৃষ্টিগােচর হয় না। দ্বিতীয় শর্তটি কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় প্রয়ােগের ক্ষেত্রে এর অনিয়ম ও ভুলত্রুটিগুলাে সহজেই ধরা পড়ে।

আমাদের সমাজে সাধারণত কুরবানী আদায়ে যে সব ভুলত্রুটি বেশি বেশি ঘটে থাকে নিম্নে সেগুলাের উপর কিছু আলােকপাত করতে চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। যেন আসন্ন কুরবানীসহ পরবর্তীতে ওইসকল ভুলের শিকার আমরা না হই। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ইবাদতটি পালন করে আমরা সকলেই যেন এর ফযীলত ও উত্তম প্রতিদান পেয়ে ধন্য হই। আমীন।

কুরবানী ওয়াজিব হওয়া না - হওয়া বিষয়ক ভ্রান্তি
==================================

কুরবানীর নেসাব
------------------------
অনেকে মনে করেন, যাকাত ফরয হওয়ার জন্য যে ধরনের সম্পদ জরুরি যেমন, টাকা-পয়সা , সােনা-রুপা, ব্যবসায়িক সম্পদ, তেমনি কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্যও একই শর্ত। ফলে কোন কোন স্বচ্ছল পরিবারের লােকজনকেও কুরবানী দিতে দেখা যায় না। এটি ভুল ধারণা। সঠিক মাসআলা হল, যে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির নিকট কুরবানীর দিনগুলােতে সাড়ে ৫২ তােলা রূপার মূল্য পরিমাণ প্রয়ােজনের অতিরিক্ত যেকোন ধরনের সম্পদ থাকবে তার উপরই কুরবানী ওয়াজিব। প্রয়ােজনের অতিরিক্ত জমি, সৌখিন বা অপ্রয়ােজনীয় আসবাবপত্র, তা ব্যবহৃত হােক বা না হােক, এসব কিছুও কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য। কিন্তু যাকাতের বেলায় এগুলাে ধর্তব্য হয় না। তাই টাকা-পয়সা, সােনা-চাঁদি ও ব্যবসায়িক সম্পদ না থাকলেও প্রয়ােজনের অতিরিক্ত ধনসম্পদ, আসবাবপত্রের মূল্য নেসাব পরিমাণ হলেই কুরবানী ওয়াজিব হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২; আলমগীরী ৫/২৯২

কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার সময় ---------------------------------------
শুধু যিলহজ্বের ১০ তারিখে কুরবানীর নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকলে কুরবানী ওয়াজিব হবে না বলে ধারণা করা হয়। ফলে যিলহজ্বের ১১ বা ১২ তারিখে কারাে কারাে কাছে হঠাৎ কোনভাবে নেসাব পরিমাণ সম্পদ আসলে সে আর কুরবানী করে না। যেমন, যে অবিবাহিত মেয়ের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় কুরবানীর পরদিন তথা যিলহজ্বের ১১ তারিখে তার বিয়ে হল, সেদিন স্বামী তাকে স্বর্ণ, টাক-পয়সা ইত্যাদি দিল যা সাড়ে ৫২ তােলা রুযার পরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি। তখন সে এই ভেবে কুরবানী করে না যে, কুরবানীর দিন তাে অতিবাহিত হয়ে গেছে। এ ধারণা ভুল । মাসআলা হল, যিলহজ্বের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক থেকে ১২ তারিখ সুর্যাস্ত পর্যন্ত মােট তিন দিন কুরবানী করা যায়। এ তিন দিনের যেকোন সময় কেউ নেসার পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাকেই কুরবানী দিতে হবে। -নসবুররায়া ৪/২১২-২১৩; বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৮; রদ্দুল মুখতার ২/৩১৮; আলমগীরী ৫/২৯৫

নিজের ওয়াজিব কুরবানী না দিয়ে মা-বাবার কুরবানী দেওয়া
-----------------------------------------------------------------------
ছেলে প্রতিষ্ঠিত হলে যখন মা-বাবা বার্ধক্যে পৌছে যায় এবং তাদের উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়, তখন ছেলে কেবল তাদের পক্ষ থেকে কুরবানী দেয়। অথচ তার নিজের উপরও কুরবানী ওয়াজিব। সে নিজের ওয়াজিব কুরবানী আদায় না করে মা-বাবার কুরবানী দেয় এবং মনে করে, এর দ্বারা তার দায়িত্ব আদায় হয়ে গেছে। এটি ভুল। ছেলের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়ে থাকলে নিজের কুরবানী অবশ্যই দিতে হবে। এরপর যদি সামর্থ্যে কুলায় তাহলে ইচ্ছ হলে মা-বাবার পক্ষ থেকেও ভিন্ন কুরবানী দিতে পারবে। অবশ্য কেউ নিজের ওয়াজিব কুরবানী আদায়ের ক্ষেত্রে মা-বাবাকে সওয়াব পৌছানাের নিয়ত করলে তার ওয়াজিব কুরবানী আদায় হয়ে যাবে এবং মা-বাবাও সওয়াব পেয়ে যাবেন।

যৌথ পরিবারে শুধু কর্তার কুরবানী
------------------------------------------------
যৌথ পরিবারে অনেক একাধিক উপার্জনকারী ব্যক্তি থাকে। যাদের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন মালিকানাধীন সম্পদ রয়েছে। কিন্তু যৌথ পরিবার বিধায় শুধু পরিবারের কর্তার কুরবানীই দেওয়া হয়। প্রত্যেক উপার্জনকারীর কুরবানী দেওয়া হয় না। এটা ভুল। যৌথ পরিবার হােক বা ভিন্ন পরিবার তােক প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই তার উপর কুরবানী ওয়াজিব ওয়াজিব। যৌথ পরিবারের কর্তার করবানী দিলে তা পরিবারস্থ সকলের জন্য যথেষ্ট হবে না।

কুরবানীর পশু ক্রয় ও শরিক নিয়ে বিভ্রান্তি
=============================
অধিক মূল্যের বা সবচেয়ে বড় পশু ক্রয়ের প্রতিযােগিতা
------------------------------------------------------------------------
আজকাল বিত্তবান লােকদের মধ্যে কে কত বেশি মূল্যের পশু কিনতে পারে কিংবা কার কুরবানীর পশু কত বড় এ নিয়ে প্রতিযােগিতা হয়। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে উট কেনার প্রতিযােগিতা এবং পত্রপত্রিকায় ফলাও করে নাম ছাপা হতেও দেখা যায়। কোন কোন সময় এধরনের নজরকাড়া পশু এলাকায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে প্রদর্শন করা হয়। এসব হল চরম মূখর্তা। কুরবানী কোন আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইবাদতের জন্য প্রথম শর্ত হল ইখলাস তথা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য করা। নিজের বড়ত্ব প্রকাশ, লােকের বাহবা পাওয়া, লােকদেখানাে মনােভাব ইত্যাদি থাকলে ওই ইবাদত কবুল হবে না।

অবশ্য একথা কারাে অজানা নয় যে, কুরবানীর পশু যত বড় হবে এবং যত ভাল হবে তত বেশি নেকী হবে, যদি তা হয় কেবল আল্লাহ তাআলাকে রাজিখুশি করার নিয়তে।

কুরবানী দেওয়ার নিয়তে পশু কিনে পরে শরিক নেওয়া -----------------------------------------------------------------------
যদি শরীকে কুরবানী করতে হয়, তাহলে পশু ক্রয় করার আগেই শরিক নির্ধারণ করে নেওয়া উত্তম। যদি এটা সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত ক্রয়েরয় অন্য শরীক অন্তর্ভুক্তির নিয়ত করে নিবে। পরে কোন শরিক পাওয়া গেলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করে নিতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু অনেক সময় এমন হয় যে, ক্রয়ের সময় একা কুরবানী করার জন্য পশু ক্রয় করে, অতপর কোন কারণে অন্যকে শরিক করতে হয় এ অবস্থায় মসআলা কী হবে তা অনেকেরই জানা নেই। তাই মাসআলাটি বিস্তারিত লেখা হল।

ক. পশু ক্রয়কারী ব্যক্তি যদি এমন হয় যার উপর কুরবানী ওয়াজিব, তাে যদিও তার জন্য পরবর্তীতে কাউকে শরিক করার সুযােগ আছে, কিন্তু এমনটি না করাই উত্তম। করলে অন্যান্য শরিকদের অংশ পরিমাণ মূল্য সদকা করে দেওয়া উত্তম।

খ. যদি একা কুরবানী করার উদ্দেশ্যে পশু ক্রয়কারী ব্যক্তি এমন হয়, যার উপর কুরবানী ওয়াজিব ছিল না তাে তার জন্য অন্য কাউকে ওই পশুর মধ্যে শরিক করা জায়েয নেই। কেননা যার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয় সে যদি কুরবানীর পশু ক্রয় করে এবং ক্রয়ের সময় অন্য কাউকে শরিক করার নিয়ত না থাকে, তাহলে তার পুরাে পশুটিই কুরবানী করা জরুরি। যদি মাসআলা না জানার কারণে বা অন্য কোন করণে দ্বিতীয় কাউকে শরিক করে নেয়, তাহলে সে পরিমাণ মূল্য সদকা করে দেওয়া জরুরি। -কাযিখান ৩/৩৫০-৩৫১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০; রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৭; তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬২

শরিক নির্বাচনে অসর্তকতা
-------------------------------------
শরিকে কুরবানী দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেককেই যাচাই বাছাই ছাড়া শরিক নিতে দেখা যায়। অধিকাংশ উপার্জন হারাম এধরনের ব্যক্তিকেও শরিক নিয়ে নেওয়া হয়। অথচ এমন ব্যক্তিকে শরিক নিলে শরিকদের কারাে কুরবানীই সহীহ হবে না। সুতরাং এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

সাতের কম সংখ্যক শরিক
------------------------------------
অনেকে মনে করেন সাতজনের কমে শরিক নেওয়া যায় না। মনে করা হয়, হয় একা কুরবানী করতে হবে নতুবা শরিক নিতে হলে অবশ্যই সাতজন পূর্ণ করতে হবে। এ ধারণা ভুল। এমনিভাবে কেউ কেউ শরিক সংখ্যা বেজোড় হওয়া জরুরি মনে করে। এটি ও ভুল। সাত বা সাতের কমে যেকোন সংখ্যক শরিক নেওয়া যেতে পারে।

ত্রুটিযুক্ত কুরবানীর পশু
=================
পশুর শিং ভাঙ্গা থাকা বা একেবারেই না থাকা
--------------------------------------------------------------
অনেকে মনে করেন, পশুর শিং অল্পস্বল্প ভাঙ্গা থাকলেই ওই পশু দ্বারা কুরবানী হবে না। এ ধারণা ঠিক নয়। সহীহ মাসআলা হল, যে পশুর শিং একেবারেই গােড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে মস্তিস্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কুরবানী জায়েজ নেই। পক্ষান্তরে যে পশুর শিং আংশিক ভেঙ্গে গেছে বা শিং একেবারেই উঠেনি সে পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েজ। -জামে তিরমিযী ১/২৭৬ ; সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮; বাদায়েউস সানায়ে। ৪/২১৬ ; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪; আলমগীরী ৫/২৯৭

অন্তঃসত্ত্বা পশু কুরবানী
--------------------------------
অনেকে অন্তঃসত্ত্বা পশুর কুরবানী না জায়েয মনে করে থাকে। অথচ এ ধারণা সহিহ নয়। এ ধরনের পশুর কুরবানী জায়েজ। তবে বাচ্চা দেওয়ার সময় আসন্ন হলে সেটা কুরবানী করা মাকরূহ। -কাযি খান ৩/৩৫০; আলমগীরী ৫/৩০২

কুরবানীর পশু জবাই সম্পর্কীয় ভ্রান্তিসমূহ
=============================
হুজুরকে দিয়ে জবাই করানাে জরুরি মনে করা
---------------------------------------------------------------
অনেকেই কুরবানীর পশু মসজিদের ইমাম বা হুজুরকে দিয়ে জবাই করানাে জরুরি মনে করে। অথচ এটি ভুল ধারণা। কুরবানীদাতা জবাই করতে জানলে নিজেই জবাই করা উত্তম। -মুসনাদে আহমাদ হাদীস ২২৬৫৭; আলমগীরী ৫/৩০০; ইলাউস সুনান ১৭ /২৭১-২৭৪; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২২

কুরবানীর আগে শরিকদের নাম পড়া
---------------------------------------------------
সাধারণত কুরবানীর আগে সকল শরিকের নাম পিতার নামসহ পড়াকে জরুরি মনে করা হয়। ফলে অধিকাংশ জায়গায় পশুকে শুইয়ে বেধে জবাইয়ের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত করার পরও জবাইকারীকে ওই নামের তালিকা পড়তে দেখা যায়। একাজটি নিতান্তই ভুল। শরিকদের নাম পড়া জরুরি নয়। এমনকি জবাইকারী শরিকদের কথা না জেনে জবাই করলেও সকল শরিকের কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। কেননা কাদের কুরবানী করা হচ্ছে তাতাে নির্দিষ্টই আছে। এখন জবাইয়ের মুহূর্তে নামের তালিকা উচ্চারণ করার কোন প্রয়ােজন নেই। জবাইয়ের আগে এভাবে নাম উচ্চারণ করাটা সালাফ থেকে প্রমাণিত নয়। আর এমন অপ্রয়ােজনীয় একটি কাজের জন্য পশুকে জবাইয়ের পুর্বে কতইনা কষ্ট দেওয়া হয়।

জবাইয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তির সহযােগিতা
-------------------------------------------------
অনেক ক্ষেত্রে জবাইকারী জবাই করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে কসাই বা অন্য কেউ এসে ছুরি ধরে এবং বাকি জবাই পূর্ণ করে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ব্যক্তিকে বিসমিল্লাহ বলতে শােনা যায় না। যদি প্রথম ব্যক্তির জবাই সম্পন্ন না হয় (অর্থাৎ দুই শাহরগ, শ্বাস নালী ও খাদ্যনালী-এ চারটির কমপক্ষে তিনটি কাটা না হয় ) তাহলে দ্বিতীয় জনকে অবশ্যই বিসমিল্লাহ বলতে হবে। অন্যথায় জবাই অশুদ্ধ হয়ে যাবে। ওই পশুর গােস্ত খাওয়া হালাল হবে না। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩৩৪

ওজর ছাড়া ১১ বা ১২ তারিখে কুরবানী করা
-------------------------------------------------------------
সাধারণত যাদের একাধিক কুরবানী থাকে তাদেরকে ১০ তারিখে একটি এবং ১১ বা ১২ তারিখে অন্যটি কুরবানী করতে দেখা যায়। বিনাওজরে এমন করা ঠিক নয়। বিনাওজরে প্রথমদিন কুরবানী না করে পরে কুরবানী দেওয়া অনুত্তম। -মুআত্তা মালেক ১৮৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৮; আলমগীরী ৫/২৯৫

পশু নিথর হওয়ার আগে চামড়া ছিলা
--------------------------------------------------
অনেকেই পশু ঠাণ্ডা হওয়ার আগে পায়ের রগ কাটা এবং চামড়া ছিলা শুরু করে। এতে পশু কষ্ট পায়। এটি মাকরূহ। পশুকে প্রয়ােজনের অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়াই গুনাহ। -জামে তিরমিযি ১/২৬০, সুনানু আবি দাউদ ২/৩৩; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩; আলমগীরী ৫/২৮৭

গােম্ভ বণ্টন ও দান
=============
গােস্ত ওজন না করা
---------------------------

অনেকে শরিকে কুরবানী দিলেও গােস্ত অনুমান করে বণ্টন করে থাকে। অথচ শুধু অনুমান করে গােস্ত বণ্টন করা নাজায়েয। -কাযি খান ৩/৩৫১; আদ-দুররুল মুখতার ৬/৩১৭

গােম্ভ ওজন করাকে সংকীর্ণতা ভাবা
--------------------------------------------------
অনেকে ওজন করে বণ্টন করাকে খুব অপছন্দ করে। এটাকে সংকীর্ণতা, বাড়াবাড়ি ইত্যাদি বলে কটাক্ষ করে। অথচ এটি শরীয়তের হুকুম। না জেনে এমন মন্তব্য করা ঠিক নয়।

তিনভাগ করা জরুরি ভাবা
-------------------------------------
অনেকে কুরবানীর গােস্ত তিনভাগ করে একভাগ নিজে রেখে, একভাগ আত্নীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও একভাগ ফকীর মিসকীনকে দেওয়া জরুরি মনে করেন। অথচ এভাবে বণ্টন করা জরুরি নয়, তবে উত্তম। কেউ এতে ত্রুটি করলে কোন গুনাহ হবে না এবং কুরবানীরও কোন ক্ষতি হবে না। কেউ কেউ পুরাে পশুকেই ফ্রীজে ঢুকিয়ে রাখে, কিছুই দান করে না। এটাও ঠিক নয়, অনুত্তম। -সূরা হজ : ৩৬; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪; আলমগীরী ৫/৩০০

কুরবানীর গােস্ত বিধর্মীদের দেওয়া
-----------------------------------------------
অনেকে মনে করে , কুরবানীর গােস্ত হিন্দু বা বিধর্মীদেরকে দেওয়া জায়েয নেই। এ ধারণা ভুল। বিধর্মীদেরকেও কুরবানীর গােস্ত দান করা জায়েয। ইলাউস সুনান ১৭/২৮৩; আলমগীরী ৫/৩০০

ভৃত্য ও কাজের লােকদেরকে কুরবানীর গােস্ত দেওয়া
-----------------------------------------------------------------------
অনেকে কর্মচারী কাজের লােকদেরকে কুরবানীর গােস্ত দেওয়া ও খাওয়ানােকে নাজায়েয মনে করে। অথচ তাদেরকে পারিশ্রমিক হিসাবে না দিয়ে হাদিয়া দিলে কোন অসুবিধা নেই এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের মত এদেরকেও কুরবানীর গােস্ত দেওয়া উচিত। তবে তার নির্ধারিত পারিশ্রমিক থেকে ভিন্নভাবে দিতে হবে।

চর্বি বিক্রি
-------------
কুরবানীর পর, ঢাকাসহ পুরাে দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুরবানীর পশুর চর্বি কেনাবেচা হয়। অথচ কুরবানীর গােস্ত, চর্বি ইত্যাদি বিক্রি নাজায়েয। কেউ বিক্রি করলে পুরাে টাকা মিসকীনদেরকে সদকা করে দেওয়া জরুরি। --ইলাউস সুনান ১৭/২৫৯; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫; কাযি খান ৩/৩৫৪; আলমগীরী ৫/৩০১

কুরবানী নিয়ে আরাে কিছু ভ্রান্তি
======================

কুরবানীর দিনগুলােতে অন্য পশু জবাই করা
-------------------------------------------------------------
কুরবানীর তিন দিন কুরবানীর পশু ছাড়া অন্য কোন পশু জবাই করা যাবে না। এমনকি হাঁস-মুরগী বা গরু-ছাগলও নয়। এটি ভুল ধারণা। তবে কুরবানীর নিয়তে হাস, মুরগী ইত্যাদি (যেগুলাে দ্বারা কুরবানী সহীহ নয়) জবাই করা ধনী-গরিব সকলের জন্যই নাজায়েয। গােস্তের প্রয়ােজনে জবাই করতে কোন সমস্যা নেই। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৪; বাযযাযিয়া ৬/২৯০; আদ-দুররুল মুখতার ৬/৩১৩; আলমগীরী ৫/৩০০

আকিকা না দিয়ে কুরবানী
------------------------------------
অনেকের ধারণা, আকীকা না দিলে কুরবানী দেওয়া যায় না। তাই অনেকে কুরবানীই করে না। আবার অনেকের উপর কুরবানী ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও কুরবানী না দিয়ে আকীকা দেয়। অথচ এটি একেবারেই অমূলক। একটির সঙ্গে অপরটি শর্তযুক্ত নয়। তাই কোন কারণে আকীকা দেওয়া না হলেও ওয়াজিব কুরবানী অবশ্যই দিতে হবে।

অনাদায়ী কুরবানী
-------------------------
বিগত বছরের কুরবানী অনাদায়ী থাকলে অনেকেই পরবর্তী বছর কুরবানী দিয়ে থাকে। অথচ এভাবে বিগত বছরের কুরবানীর কাযা আদায় হয় না। এক্ষেত্রে নিয়ম হল প্রতি বছরের কুরবানীর জন্য অন্তত কুরবানীর উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া। ৪/৩১১; মাবসুতে সারাখসি ১২/১৪; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০২; আদ-দুররুল মুখতার ৬/৩২০-৩২৯ ; ফাতহুল কাদির ৮/৪৩২; মুলতাকাল আবহুর ৪/১৭০

হাজী সাহেবের নামে কুরবানী
----------------------------------------
অনেক হাজ্বী সাহেব দেশে তার কুরবানীর ব্যবস্থা করে যান। এটাকে তারা জরুরি মনে করেন। এক্ষেত্রে মাসআলা হল, যে হাজ্বী কুরবানীর দিনগুলােতে মুসাফির থাকবে তার উপর সাধারণ কুরবানী জরুরি নয়। হাঁ এরপরও যদি কেউ নফল হিসাবে কুরবানী দিতে চায় তবে সেটা ভাল। পক্ষান্তরে কোন হাজ্বী যদি মক্কায় হজ্বের আগে ১৫ দিন থাকার নিয়তে অবস্থান করে থাকে, তাহলে সে কুরবানীর দিনে যেহেতু মুকীম তাই কুরবানী দেওয়ার সামর্থ্য থাকলে তার উপর সাধারণ কুরবানী করাও ওয়াজিব হবে। এই সাধারণ কুরবানী সে দেশেও দিতে পারবে। উল্লেখ্য, সাধারণ কুরবানী বলতে উদ্দেশ্য যা সকল সামর্থবান মুসলমানই করে থাকেন, আর হজ্বের কুরবানীর মাসআলা তাে জানাই আছে যে, তামাত্তু ও কেরান হজ্বে কুরবানী (দমে শুকর) ওয়াজিব। আর ইফরাদ হজ্বে কুরবানী নফল। -কাযি খান ৩/৩৪৪; বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫; -আদ-দুররুল মুখতার ৬/৩১৫
জবাইয়ের আগে চামড়া বিক্রি
----------------------------------------
অনেক সময় চামড়াক্রেতাদের পীড়াপীড়িতে পশু জবাইয়ের আগেই চামড়া বিক্রি করে ফেলে। এমনকি মূল্যও নিয়ে নেয়। এমনটি করা নাজায়েয। চামড়া ছিলার আগে বিক্রি করা জায়েয নয়। তাই প্রয়ােজনে জবাইয়ের আগে বিক্রির ওয়াদা করা যেতে পারে, বিক্রি করা যাবে না। -আলমগীরী ৩/১২৮; আদ-দুররুল মুখতার ৫/৬৩

[ মাসিক আলকাউসার | জানুয়ারি ২০০৭ ]

#কুরবানী_মাসিক_আলকাউসার

29/07/2020

আরাফা দিবস তথা ৯ই যিলহজ্ব বাংলাদেশে আগামী শুক্রবার। এ দিনে বিশেষ দুটি আমলের ব্যপারে হাদিসে এসেছে :
১. রোজা রাখা
২. ফজর থেকে প্রতি নামাযের পর তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা।
------
দুটি আমলের ব্যপারে হাদিসে يوم عرفة শব্দই ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং তাকবীরে তাশরিক যে দিন শুরু করবো, সেদিনই আরাফার দিন। ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো তাকবিরে তাশরিক ৯ই যিলহজ্ব থেকে। অতএব, রোজাও ৯ই যিলহজ্ব রাখা চাই। ।
------
তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবারও রোজা রাখা যায়।
কারণ,
- রাসুল সঃ প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন।
- যিলহজ্বের ১ম ৯দিনও রোজা রাখতেন।
---------
▪️ عن أبى قتادة رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وآله وسلم قال: «صيام يوم عرفة أحتسب على الله أن يكفر السنة التى قبله والسنة التى بعده»
- رواه مسلم
▪️عن عُمرَ بنِ الخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عنه: (أنَّه كان يُكبِّر دُبرَ صلاةِ الغداةِ من يومِ عَرفةَ إلى صلاةِ العصرِ مِن آخِرِ أيَّامِ التَّشريقِ)
- رواه ابن المنذر في ((الأوسط)) (2200)، والبيهقي (3/314) (6496).

▪️عن عليٍّ رَضِيَ اللهُ عنه: (أنَّه كان يُكبِّرُ من صلاةِ الفجرِ يومَ عَرفةَ، إلى صَلاةِ العَصرِ مِن آخِرِ أيَّامِ التَّشريقِ)
-رواه ابن أبي شيبة في ((المصنف)) (2/165). صحَّحه الألباني في ((إرواء الغليل)) (3/125).
©Farid Uddin

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Dhaka
1216