27/08/2021
#ভাববার_বিষয়
রাতের তারা গেলো কই?
______________________
রাতের আকাশ কল্পনা করলে এরকম একটা আকাশের কথা মনে ভাসে, যে আকাশটা থাকবে কালো, থাকবে কানায় কানায় পরিপূর্ণ মিটমিট তারা, একটা সাদা থালার মতো চাঁদ আর আমাদের ছায়াপথের রেখা।
বাস্তবে চাঁদ থাকলেও আকাশটা হয় তারাহীন। পরিস্কার আকাশেও হাতে গনা ১ থেকে ৩ টা তারা দেখাও মাঝে মাঝে মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। ছায়াপথের রেখা দেখা তো দূরের কথা...। তো এখন কথা হচ্ছে, এতো তারা গেলো কোথায়?
আমরা কি আরেকটা ব্যপার কখনো খেয়াল করেছি, বর্তমানে কিন্তু আমরা আগের মতো ঘুটঘুটে অন্ধকারাচ্ছন্ন কালো আকাশও দেখি না। বরং আকাশটা হালকা হালকা আলোকিত থাকে, আর মেঘ জমলে তো কথাই নেই। আকাশ আরো বেশি আলোকিত হয়ে যায়।
কিন্তু কেনো? রাতের বেলাতো আকাশে থাকে চাঁদ। সে চাঁদকে মেঘ ঢেকে দিলে তো ঘুটঘুটে অন্ধকারি হয়ে যাওয়ার কথা চারিদিক, কিন্তু তা না হয়ে উল্টা আরো বেশি আলোকিত হওয়ার রহস্য কি?
তাহলে, শুরু থেকে এ রহস্য উদঘাটন করা যাক।
আমরা তো জানি আকাশ মানেই মহাকাশ.. অর্থাৎ পৃথিবী থেকে আমরা যে আকাশ দেখি, সেটাই মহাকাশ। কিন্তু আমাদের পৃথিবী আর মহাকাশের মাঝে আমাদের বায়ূমন্ডলও কিন্তু আছে। আর পৃথিবীর বায়ূমন্ডলকেই আমরা পৃথিবীর আকাশ বলে জানি।
আর দিনের আকাশ আলোকিত হয় আমাদের বায়ুমন্ডলের কারণে। আমাদের বায়ুমন্ডল সূর্যের আলোর যে রং প্রতিফলন করে আমরা সে রংই (আমাদের পৃথিবীর) আকাশে দেখতে পাই। আকাশে সূর্যের আলো পড়ায় এবং বায়ূমন্ডল নীল হয়ে থাকায় সকল তারা এ আলোর মাঝে ঢাকা পড়ে যায়। যদি বায়ূমন্ডল না থাকতো তাহলে আকাশে সূর্য থাকার পর চারপাশ আলোকিত হলেও আকাশটা কালোই থাকতো।
তো রাতের বেলা তো আমরা সূর্যের বিপরীতে থাকি যেখানে সূর্যের আলো পড়ে না, তখন তো কোনো আলো না থাকায় আকাশটা ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকার কথা। আর আকাশ অন্ধকার থাকায় সমগ্র আকাশে তারার উপস্থিতি থাকার কথা। কিন্তু আকাশ কেনো কিছুটা আলোকিত থাকে?
অতীতে একটা সময় কিন্তু সত্যিই আকাশটা তারায় তারায় পরিপূর্ণ ছিলো। কিন্তু বর্তমানে রাস্তার আলো, স্পটলাইট এবং বিল্ডিং- এর আলো সহ বিভিন্ন কৃত্রিম আলোর সংমিশ্রণ আমাদের রাতের আকাশকে আলোকিত করতে একসাথে কাজ করে। এ কৃত্রিম আলো আমাদের বায়ূমন্ডল প্রতিফলন করে। যার জন্য আমরা রাতের আকাশ আলোকিত দেখি এবং এ আলোর জন্য তারার আলো আর দেখা যায় না।
আকাশে যখন মেঘ জমে, তখনও একই ব্যপার ঘটে। মেঘ তুলনামূলক সাদা আলো বেশি প্রতিফলন করে এবং মেঘ আমাদের ভূপৃষ্ঠের বেশ কাছাকাছি থাকে বলে আলোটা সে আটকে রেখে আকাশকে আলোকিত করে বলে রাতে আকাশে মেঘ জমলে আকাশ আরো বেশি আলোকিত মনে হয়।
এসব কারণে মিটমিট তারারা ঢাকা পড়ে। পরিস্কার আকাশেও তারা দেখতে না পারার জন্য দায়ী হচ্ছে আমাদের কৃত্রিম আলো। মাত্রাধিক আলো ব্যবহারকে আলো দূষণ বলে। যত বেশি আলো দূষণ হবে, রাত তত কম কালো হবে।
এ কৃত্রিম আলোর জন্য বন্যপ্রাণী, ঝোপঝাড়ের পোকামাকড়ের জীবনযাপনেও অনেক সমস্যা হচ্ছে। উদাহরণ সরূপ বলা যেতে পারে জোনাকি পোকা, যা আজ বিলুপ্তির পথে।
যদি আমরা শহরের এ আলো থেকে দূরে গিয়ে এমন কোনো গ্রামে যাই যে গ্রামে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার হয় না, বন-জঙ্গলে বা বড় নদী কিংবা সমুদ্রের তীর থেকে দূরে যাই তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা তারায় ভরা আকাশ দেখবো। কারণ শেখানে আলো দূষণ হয় না।
সব শেষে ভাববার জন্যে একটা প্রশ্ন রেখে যাই,
আলো মূলত আমরা কেনো ব্যবহার করি? মূলত যে কারণে ব্যবহার করি সেকারণ কি অন্যান্য প্রানের বিলুপ্তির জন্য দায়ী নাকি যে ব্যবহার করে তার ব্যবহারের মাত্রা দায়ী?
Resources :
The night sky is vanishing - Vox
আলো থেকেও হচ্ছে দূষণ - আনন্দবাজার পত্রিকা
Light pollution - Wikipedia
Effects of Light Pollution - Globe at Night
21/08/2021
পর্ব - ২ (মহাবিশ্বের জন্ম)
৫) বিগব্যাং এর পর কি হলো?
উত্তরঃ বিগব্যাং এর পর মহাবিশ্ব অনেক দ্রুত গতিতে প্রসারিত হয়েছে। ১ সেকেন্ডের বিলিয়ন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ভাগের ১ ভাগ সময়ে মহাবিশ্বের আকার সে ছোট বিন্দু থেকে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গুণ বড় হয়ে গেলো। এই অচিন্তনীয়, অবিশ্বাস্য অকল্পনীয় প্রসারণের পর কতো বিরাট আকার ধারণ করেছে মহাবিশ্বটা ভাবা যায়?
কিন্তু বাস্তবে এর আকার হলো ১ টা কমলালেবুর মতো! এর মানে বুঝাই যায়, শুরুতে এর আকার কতোটা ক্ষুদ্র থেকেও ক্ষুদ্র ছিলো যা কল্পনারও বাইরে।
১ বিলিয়ন = ১০০ কোটি
১ ট্রিলিয়ন = ১০০০ বিলিয়ন বা ১ লক্ষ কোটি
___________________
৬) বিগব্যাং এর পর মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি কেমন ছিলো?
উত্তরঃ আলোর গতির চাইতেও অনেক বেশি।
মহাবিশ্ব জন্ম হওয়ার পর আনুমানিক ১ সেকেন্ডের বিলিয়ন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ভাগের ১ ভাগ সময়ে একটা ব্যাপার ঘটে। হঠাৎই মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি অবিশ্বাস্য রকমের বেড়ে যায় যার গতি ছিলো আলোর গতির থেকেও বেশি।
এর নাম দেওয়া হয়েছে "ইনফ্ল্যাশন", যা কোনো বস্তু নয় বরং মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি। মানে মহাবিশ্ব প্রসারণের গতি আলোর গতির চাইতেও বেশি ছিলো।
এরপর আনুমানিক ১৩.৮ বিলিওন বছর কেটে গেলো আর এই ইনফ্ল্যাশানের প্রসারণের গতিও কমে স্বাভাবিক হয়ে এলো।
[ ইনফ্ল্যাশান নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ]
__________________
৭) মহাবিশ্ব প্রসারণের গতি কি দিন দিন কমছে নাকি বাড়ছে?
উত্তরঃ বিগব্যাং এর সময় যে ইনফ্ল্যাশানের গতি ছিলো, বা যে অকল্পনীয় দ্রুত গতি ছিলো তা কমে গেছে।
তবে এখনো মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে।
১৯৯৮ সালের আগ পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিলো মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি দিন দিন আরো কমে যাচ্ছে। কিন্তু ১৯৯৮ সালে তারা আবিষ্কার করেন, প্রসারণের গতি কমছে না, বরং বাড়ছে।
________________
৮) বিগব্যাং তত্ত্ব কি প্রমাণিত?
উত্তরঃ কোনো তত্ত্ব বা থিউরি আসলে প্রমাণিত হয় না। তবে পরীক্ষামূলক হয়। একটা তত্ত্ব নিয়ে অনেক গবেষণা, পরীক্ষা নিরীক্ষা চলে। সকল পরীক্ষার ফলাফল, পর্যালোচনার পর যদি সেটা বিশ্বাসযোগ্য হয় , তখন সে তত্ত্ব গ্রহনযোগ্যতা পায় । বিগব্যাং তত্ত্ব বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য থিউরি।
________________
৯) বিগব্যাং তত্ত্ব কেনো গ্রহনযোগ্য?
উত্তরঃ মূলত দুইটি বড় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের জন্য বিগব্যাং - তত্ত্বটি সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।
[১] ১৯২০ দশকের "হাবল - লেমিত্রি আইন" বা (Hubble - Lemaitre law) যা মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ মত।
[২] ১৯৬০ সালের "কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন" বা (CMBR) - যা মহাবিশ্বের শুরুর সময়কার অবস্থার একটা অবশিষ্ট অংশ।
________________
......
যে দুটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের জন্য বিগব্যাং তত্ত্বটি সর্বাধিক গ্রহনযোগ্য সে বিষয় দুটি ভবিষ্যতে বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ..
RESOURCES :
▪️ গুগল
▪️ বিগ ব্যাং থেকে হোমো সেপিয়েন্স (বই)
▪️ Think bangla (Youtube)
▪️ Naked Science - Birth of the Universe (Documentary )
20/08/2021
মহাবিশ্বের জন্ম
মহাবিশ্ব বা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কি? কিভাবে সৃষ্টি হলো সবকিছুর যা কিছু আমরা দেখি, কেনোইবা সব কিছু এরকমি যে রকম আমরা দেখি? সব কিছুর শুরুতে কি ছিলো এবং কোথায় গিয়ে ঠেকবে সবকিছু?
এ প্রশ্ন গুলোর উত্তর জানতে হলে তো জানা শুরু করতে হবে একদম প্রথম থেকে। পর্ব আকারে লিখা যায় এসব প্রশ্ন উত্তর।
আজকে পর্ব ১। এ পর্বে আমরা জানবো 'মহাবিশ্বের জন্ম এবং বিগব্যাং তত্ত্ব সম্পর্কে '
_______________________
১) মহাবিশ্ব বা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কি?
উত্তরঃ সবকিছু। আমরা আশে পাশে যা কিছু দেখি, দৃশ্যমান, অদৃশ্যমান, শক্ত, তরল, বাস্পীয়, আমি, আপনি সবকিছুই এ মহাবিশ্বের অংশ। এখন আপনি বলতে পারেন, এসব কিছু তো পৃথিবীর অংশ।
আসলে পৃথিবীও এ মহাবিশ্বেরই ক্ষুদ্র একটা অংশ। আপনার হাতের দিকে তাকান। কি দেখছেন? চামড়া? এ চামড়া যেসব পদার্থ দিয়ে তৈরি সে পদার্থ গুলোও সুবিশাল মহাকাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এমনকি সময়, যা আমরা ধরতে পারি না, যার ঘ্রাণ নিতে পারি না, যা আমরা দেখিও না। এ অদৃশ্যমান সময়ও এ মহাবিশ্বেরই অংশ। আর এসব কিছু নিয়েই মহাবিশ্বের অস্তিত্ব।
______________________
২) কিভাবে জন্ম হয়েছে আমাদের মহাবিশ্ব বা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের?
উত্তরঃ আনুমানিক ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্বের সমস্ত শক্তি কোনো এক কারণে অকল্পনীয় একটা ছোট্ট বিন্দুতে গাদাগাদি করে আটকে ছিলো বা বলা যায় জ্যম হয়ে ছিলো। এরপর বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণেই জন্ম হয় আমাদের মহাবিশ্বের।
____________________
৩) সত্যিই কি বিগব্যাং এর সময় একটা মহা বিস্ফোরণ ঘটেছিলো?
উত্তরঃ নাহ!
যদিও এ ঘটনার নাম বিগব্যাং বা মহা বিস্ফোরণ , কিন্তু সত্যিকারের ঘটনায় কোনো বিস্ফোরণ ঘটে নি। বরং মহাবিশ্বের হঠাৎ প্রসারিত হওয়া থেকেই মহাবিশ্বের জন্ম।
তবে মহাবিস্ফোরণ কথাটা এজন্য ব্যবহার করা হয় কারণ, বিগব্যাং - এর সময় সবকিছু অনেক বেশি দ্রুত গতিতে প্রসারিত হয়েছিল, যা অনেকটা বিস্ফোরণের মতোই। এই প্রসারণের দ্রুত গতিটা বুঝাতেই মূলত মহাবিস্ফোরণ কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও বিস্ফোরণ দ্বারা ভিন্ন কিছু বুঝায়
_______________________
৪) কিভাবে বিগ ব্যাং - এর ধারণা এলো?
উত্তরঃ ১৯২৭ সালে জ্যোতির্বিদ
জর্জ লেমিত্রি (George Lemaitre) সর্বপ্রথম মহাবিশ্বের প্রসারণের ধারণা দেন।
১৯২৯ সালে আরেক জ্যোতির্বিদ এডউইন হাবল (Edwin Hubble) মহাকাশ পর্যবেক্ষন করে নিশ্চিত করেছেন যে সত্যিই আশপাশের গ্যালাক্সি গুলো ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। অর্থাৎ মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত সম্প্রসারণ হচ্ছে এবং প্রতিটি বস্তু একে অন্যের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও আরো দূরে সরে যাবে।
তার মানে যদি সময়কে পিছনের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো, তাহলে দেখতাম সকল কিছু একে অন্যের কাছে চলে আসছে। কাছে আসতে আসতে ঘণ হয়ে পুরা মহাবিশ্বটা একত্রিত হয়ে ছোট হতে হতে একটা ছোট্ট বিন্দুতে জমা হলো। ব্যস..!
এর আগে কি ছিলো, কিভাবে সেগুলোর সৃষ্টি হলো এবং কেনই বা বিগব্যাং হলো তা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।
......
আরো অনেককিছু জানার আছে বিগব্যাং নিয়েই। ইনশাআল্লাহ আগামীতে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
_____________________
RESOURCES :
▪️ গুগল
▪️ বিগ ব্যাং থেকে হোমো সেপিয়েন্স (বই)
▪️ Think bangla (Youtube)
▪️ Naked Science - Birth of the Universe (Documentary )
_______________________
19/08/2021
আচ্ছা, প্রথমে পরিচয়টা দেই..
আমি আয়শা আহমদ, আমি হলাম সে বান্দা যে আর্টসে পড়ে এখন সাইন্সের রহস্যে, সাইন্সের ভালোবাসায় ডুবে আছে..
অনেক কিছুই নতুন করে জানছি, বুঝছি.. যেহেতু আমি সাইন্সে পড়ি নি তো বিজ্ঞানের অনেক বিষয়েরই খুব গভীরে গিয়ে বুঝতে সমস্যা হয় ঠিকি, কিন্তু সে সমস্যা কাটিয়ে উঠার জন্য সে বিষয়টা শিখে ফেলাও হয়..
তো যা যা জানছি, চেষ্টা করবো সবটাই যত সহজ করে সম্ভব, এ পেজটাতে তুলে ধরতে ইনশাআল্লাহ..