19/06/2022
✅মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নিকট একজন অসহায় নারী সেকেন্ড টাইমারের খোলাচিঠি
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী,
আমি একজন ব্যর্থ শিক্ষার্থী যে ২০২০ সালে এইচ এস সিতে অটোপাশ প্রাপ্ত হয়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি। তাই সমাজ আমাকে ব্যর্থ বলে আখ্যা দিয়েছে। নিজের উপর থেকে এই ব্যার্থতার ট্যাগটা সরানোর জন্য আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ চেয়েছি। আমরা দীর্ঘ ছয় মাস চবিতে সেকেন্ড টাইমের জন্য দেশের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি না করে শান্তিপূর্নভাবে যত ধরনের চেষ্টা করা যায় তা করেছি। রমজান মাসে রোদে পুড়ে, বৃষ্টির দিনে বৃষ্টিতে ভিজে বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আমাদের সব দাবি নিয়ে হাজির হয়েছিলাম, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সাথে নোংরা পলিটিক্স খেললো এবং তারা উপরে উপরে আমাদের বুঝালো যে সেকেন্ড টাইম দিবে ,কিন্তু দিন শেষে তারা আমাদের সাথে প্রতারনা করে মিথ্যা আশা দেখিয়ে আমদের স্বপ্ন কে ভেঙে চুরমার করে দিল।
মমতাময়ী মা, আপনি বলতে পারেন যে অন্যান্য অনেক বিশবিদ্যালয়ে সেকেন্ড টাইম আছে ওখানে চেষ্টা করো,কিন্তু আমার মত হাজারো মেয়ে শিক্ষার্থীর মা-বাবারা তাদের মেয়েকে দূরে কোথাও যাওয়ার অনুমতি দেয়না,তাদের নিজ জেলায় থেকে লেখাপড়া করতে হয়।পাশাপাশি চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং এই অঞ্চলে একটি মাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যমান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ না দেয়াটা আমাদের মত স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে অনেক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাননীয় অভিভাবক, আপনি নিশ্চয় অবগত আছেন যে, আমাদের এইচএসসি ২০২০ ব্যাচটি করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে যাদের পরীক্ষা ছাড়া অটোপাশ দেয়া হয়েছে। যেই অটোপাশের বোঝা সারাজীবন আমাদের বয়ে বেড়াতে হবে।আমরা শুধুমাত্র উচ্চশিক্ষার সুযোগটা চেয়েছিলাম,কিন্তু আমাদের এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে সন্ত্রাসবাদ,মাদক এবং আত্মহত্যার মতো জঘন্য অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড টাইম না দেয়ার পক্ষে যে খোরাযুক্তি দেখানো হচ্ছে তা হলো, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন স্যার রা নাকি নতুন এবং অনভিজ্ঞ, তাই তারা সেকেন্ড টাইমারদের চাপ সামলাতে পারবেনা। আমরা বলতে চাই, এটা ওনাদের ব্যর্থতা, তাই বলে এতগুলো শিক্ষার্থীর জীবন এভাবে শেষ করে দেয়ার কোনো মানে হয় না। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এমন অনেক উদাহরণ আছে, যে ছাত্র প্রথমবার কোথাও চান্স পাই নি, সে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চান্স ও পেয়েছে এবং তাদের অনেকেই এখন ব্যারিস্টার,জর্জ,বিসিএস ক্যাডার বা আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে দেশের সেবায় নিয়োজিত আছেন।
ছোটকাল থেকে আমাদের শেখানো হয় যে একবার না পারিলে দেখ শতবার, রবার্ট ব্রুসের সেই মাকড়সার গল্প শোনানো হয়। তাই, আপনার কাছে আমাদের প্রশ্ন, এই ক্ষেত্রে একবার চেষ্টা করার পর পরেরবার চেষ্টা করার কোনো সুযোগ নেই কেনো?
মাননীয় মন্ত্রী, আপনি আমাদের মায়ের মত, সন্তান হিসেবে আপনাকে কথাগুলো বললাম, দয়া করে আপনি আমাদের পাশে এসে দাড়ান।আমরা আরেকটি বার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ চাই।
©️