09/02/2026
“বউ”— এক নীরব ঝুড়ির নাম!
---আবু সালেহ মুহাম্মাদুল্লাহ।০৮/০২/২৬
“বউ”
এক নীরব ঝুড়ির প্রতিচ্ছবি—
এই ঝুড়িটাতে আমরা জমা রাখি
আমাদের সব না-বলা চিন্তা,
সব অদেখা দায়িত্ব,
সব ফেলে রাখা টেনশন।
ঘরে বাজার আছে কি না,
বিদ্যুৎ–গ্যাসের কার্ড কখন শেষ হবে—
এই চিন্তাগুলো আমাদের মাথায় থাকে না,
থাকে ওই ঝুড়ির ভেতর।
ময়লা জামাগুলো
কখন, কীভাবে ধুয়ে
ইস্ত্রি হয়ে আলমারিতে উঠে যায়—এই বিস্ময়ের পেছনের রাতজাগা ঐ ঝুড়ির ভেতরেই জমে থাকে।
বাচ্চারা কী পড়ছে,
বাড়ির কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না,
লেখাপড়ায় উন্নতি না অবনতি—
এই নীরব নজরদারিও
ওই ঝুড়ির দায়িত্ব।
স্কুলের নোটিশ, পরীক্ষার তারিখ,
হারিয়ে যাওয়া কাগজগুলো—
সব গোছানো থাকে ঝুড়ির ভেতর,
বাচ্চার জুতা কখন ছোট হয়ে গেছে,
জামাটা কবে টাইট লাগছে—
ঝুড়িই আগে টের পায়,
আমরা পরে অবাক হই।
ঠিক সময়ে, ঠিক স্বাদে
খাবার টেবিলে চলে আসা—
এই পুরো প্রক্রিয়াটা
ঝুড়ির ভেতরেই তৈরি হয়।
কখন গ্যাস থাকে, কখন গ্যাস থাকে না এটাও ওই ঝুড়ির খুব ভালোভাবেই জানা থাকে
বাচ্চা অসুস্থ হলে
কোন ওষুধ, কত বেলায়,
কীভাবে খাওয়াতে হবে—
এই উদ্বেগে ঘুম হারানো রাতগুলো ঝুড়ির ভেতরেই কাটে।
কে চা পছন্দ করে,
কে কফি ছাড়া চলতে পারে না—
এই ছোট ছোট ভালোবাসার মানচিত্রও
ঝুড়ির মাথায় আঁকা।
ঘরের চাবি কোথায় রাখা—
এটা সবাই ভুলে যেতে পারে,
কিন্তু ঝুড়ি ভুলে না।
বিছানা কীভাবে পরিপাটি হবে,
মশারি টানানো থাকবে,
ঘুমের জন্য ঘরটা কীভাবে প্রস্তুত হবে—
এই নিখুঁত ব্যবস্থাপনাও
ঝুড়ির জানা।
বাচ্চাদের কে কোন খাবার পছন্দ করে,
কাকে কখন বকুনি,
আর কাকে কখন সান্ত্বনা—
এই সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো
ঝুড়ি নিখুঁতভাবে জানে।
ঝুড়িটি কাঁদলে শব্দ হয় না,
কিন্তু ঝুড়ি ভেঙে পড়লে
সবাই টের পায়।
তবু ঝুড়ি শক্ত থাকে—
কারণ কেউ তো থাকতে হবে,
যে সব সামলে রাখবে।
প্রিয় বন্ধুরা!
আমরা কোথাও দাওয়াতে খেলে,এক–দুই বেলা খাবার পেলে কত শুকরিয়া আদায় করি!
হোটেলের পরিবেশকের হাতে
নির্দ্বিধায় টাকা গুঁজে দেই।
অথচ—
যে মানুষটা প্রতিদিন,রুটিন মাফিক,ভালোবাসা মিশিয়ে আমাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করে,পরিবেশন করে—
তার প্রশংসা করতে আমরা ভুলে যাই।
একটা ছোট উপহার দিতে গিয়ে কী ভীষণ বখীল হয়ে পড়ি!
এই ঝুড়িটা
চায় না বিলাস,
চায় না বড় কথা—
শুধু চায়,
একটু কৃতজ্ঞতা,
একটু স্বীকৃতি,
আর মাঝে মাঝে
একটু আন্তরিকতা
আর অফুরন্ত ভালোবাসা ।।