26/08/2022
আমাদের এ মিছিল নিকট অতীত থেকে অনন্ত কালের দিকে।
আমরা বদর থেকে ওহুদ হয়ে এখানে,
শত সংঘাতের মধ্যে এ কাফেলায় এসে দাঁড়িয়েছি।
কে জিজ্ঞেস করে আমরা কোথায় যাব?
আমরা তো বলেছি—আমাদের যাত্রা অনন্ত কালের।
উদয় ও অস্তের ক্লান্তি আমাদের কোনোদিনই বিহ্বল করতে পারেনি।
আমাদের দেহ ক্ষতবিক্ষত;
আমাদের রক্তে সবুজ হয়ে উঠেছিল মোতার প্রান্তর।
পৃথিবীতে যত গোলাপ ফুল ফোটে, তার লাল বর্ণ আমাদের রক্ত।
তার সুগন্ধ আমাদের নিশ্বাস বায়ু।
আমাদের হাতে একটি মাত্র গ্রন্ত আল কোরআন
এই পবিত্র গ্রন্ত কোনো দিন, কোনো অবস্থায়, কোনো তৌহিদবাদিকে থামতে দেয়নি।
আমরা কী করে থামি?
আমাদের গন্তব্য তো এক সোনার তোরণের দিকে, যা এই ভুপৃষ্ঠে নেই।
আমরা আমাদের সঙ্গীদের চেহারার ভিন্নতাকে গ্রাহ্যের মধ্যে আনি না।
কারণ, আমাদের আত্মার গুঞ্জন হু হু করে বলে—
আমরা এক আত্মা, এক প্রান ।
শহীদের চেহারার কোনো ভিন্নতা নেই।
আমরা তো শাহাদাতের জন্যই মায়ের উদর থেকে পৃথিবিতে পা রেখেছি।
কেউ পাথরে, কেউ তাবুর ছায়ায়, কেউ মরুভূমির উষ্ণবালু কিংবা সবুজ কোনোঘাসের দেশে।
আমরা আজন্ম এই মিছিলেই আছি।
এর আদি বা অন্ত নেই।
পনেরো শত বছর ধরে সভ্যতাগুলোর উত্থান-পতনে আমাদের পদ-শব্দ একটুও থামেনি।
আমাদের কত সাথীকে আমরা এই ভূপৃষ্ঠের কন্দরে কন্দরে রেখে এসেছি।
তাদের কবরে ভবিষ্যতের গুঞ্জন একদিন মধুমক্ষিকার মত গুঞ্জন তুলবে।
আমরা জানি, আমাদের ভয় দেখিয়ে শয়তান নিজেই অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
আমদের মুখায়বে আগামি ঊষার উদয় কালের নরম আলোর ঝলকানি।
আমদের মিছিল ভয় ও ধ্বংসের মাঝে বিশ্রাম নেইনি, নেবে না।
আমাদের পতাকায় কালেমা তাইয়্যেবা,
আমাদের এই বানী কাউকে কোনোদিন থামতে দেয়নি,
আমরাও থামব না।
কবি আল মাহমুদ
20/08/2022
আমরা যারা একাডেমিয়াতে কাজ করি, সহজেই সোর্স প্রকাশ করতে চাই না। এটা কি নিজেদের চিন্তার দীনতা নাকি নিজের কারিকুরি প্রকাশ হয়ে যাবে সে ভয়ে তা জানি না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও নবীন গবেষক সঠিক সোর্স ও রেফারেন্সের অভাবে অবর্ণনীয় কষ্ট করেন। আজকে এমন অনেক গোমর ফাঁস করব যা শিক্ষার্থী ও নবীন গবেষকদের জন্য কিছুটা হলেও উপকারে আসবে।
১.
সাইহাব (Sci-hub): এটি একটি একাডেমিক নেভিগেশন সাইট। এই ওয়েবসাইটটি আলাদীনের ম্যাজিক ল্যাম্পের মতো। শুধু ঘষা দিলেই আর্টিকেল বের হয়! পেইড আর্টিকেল/জার্নালগুলোতে ফ্রি একসেস থাকে না। তবে গবেষণা কাজের জন্য আর্টিকেলগুলো জরুরি, এক গাদা টাকা খরচ করতে হবে যার সামর্থ অনেকেরই থাকে না। তাদের জন্য সাইহাব হতে পারে বিরাট এক আশীর্বাদ। শুধু DOI নাম্বার ও Url লিংক থাকলেই হবে। নির্ধারিত ফিল্ডে যেয়ে তথ্যগুলো দিয়ে খুব সহজেই আর্টিকেলগুলোতে একসেস নিতে পারবেন। সাইহাবের অনেকগুলো এক্সটেনশন আছে, কখন কোনটা কাজ করে তা ঠিকঠাক দেখে নিবেন।
২.
Z-Library (z-lib): এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও সমৃদ্ধ অনলাইন লাইব্রেরি। একাডেমিক, ননএকাডেমিক, গবেষণা সম্পর্কিত যে কোন বইয়ের সফট্ কপি খুব সহজেই ডাউনলোড করে নিতে পারেন এখান থেকে। ডাউনলোড করার সময় ফাইল ফরমেটিংটা দেখে নিতে হবে। আরেকটা বিষয় বলে রাখি, এখানে বাংলাদেশের কোন বই খুঁজতে যাবেন না। হতাশ হবেন। কারণ আমরা কারও সাথে জ্ঞান শেয়ার করতে চাই না। তাই কোন বইও অনলাইনে আপলোড করি না😎
[পুনশ্চঃ কোন বই লেখকের অনুমতি ছাড়া কপি, ডাউনলোড করা এথিকালি রং। তবে এটাও ঠিক, শত শত রেফারেন্স বইয়ের জন্য শত শত লেখকের অনুমতি নেওয়া অসম্ভব]
৩.
লাইব্রেরি জেনেসিস (Libgen): এটা জার্মানি ভিত্তিক সমৃদ্ধ একটা শ্যাডো অনলাইন লাইব্রেরি। কোথাও ডিজিটাইজড হয়নি বা পেওয়ালড দ্বারা রেস্ট্রিকটেড এমন ই-বুক, অডিওবুক, জার্নাল ও আর্টিকেলের বিশাল ভান্ডারে খুব সহজেই ফ্রিতে একসেস নিতে পারবেন এখানে।
৪.
Coursera: এটি একটি ওপেন কোর্স প্রোভাইডার ওয়েবসাইট। কোর্সএরায় ক্যামব্রিজ, অক্সফোর্ড, প্রিন্সটনের মতো পৃথিবীর বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফ্রিতে অনেক কোর্স, ওয়ার্কশপ, ট্রেইনিং দিয়ে থাকে। কোর্স শেষে সাটিফিকেটও প্রদান করে থাকে যা ঐসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইটে অথেনটিকেশন ভেরিফাইও করা যায়। এখান থেকে আপনার চাহিদা ও সময় অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ের উপর ফ্রি কোর্স, ট্রেইনিং করতে পারবেন একদম বিনামূল্য। এইসব কোর্স নিঃসন্দেহে আপনার সিভিকে ভারী করবে।
৫.
Shodhganga: এটি ইন্ডিয়ার থিসিস ও ডিজার্টেশন রিজার্ভার সাইট। কয়েক লাখ থিসিস ও ডিজার্টেশনে খুব সহজেই একসেস নিতে পারবেন এখানে।
৬.
পেপার পান্ডা (Paper Panda): এটি মূলত গুগল ক্রোমের একটি এক্সটেনশন। এর মাধ্যমেও ফ্রিতে মিলিয়ন মিলিয়ন পেপারসে ফ্রি একসেস নেওয়া যায়।
৭.
JSTOR: এটি একটি ডিজিটাল লাইব্রেরী। প্রায় দুই হাজার জার্নালের কয়েক হাজার ইস্যুর সেবা দিয়ে থাকে এটি। এটার একটা অসুবিধা হচ্ছে শুধুমাত্র অথরাইজড ইন্সটিটিউশন ও ইউজার পুরো সেবা নিতে পারে এখানে।
Abdullah Al Musay
29/08/2021
জীবনের Success কি??
এক মৃত ব্যক্তির পকেট থেকে পাওয়া অসাধারণ একটি চিঠি :
যখন জন্মালাম বাবা মা ভাবল এটা তাদের "Success"!
যখন হাঁটতে শিখলাম মনে হল এটাই success!
যখন কথা বলতে শিখলাম মনে হল এটাই success!
এরপর স্কুলে গেলাম, শিখলাম first হওয়াটা বা সবার চেয়ে বেশি নম্বর পাওয়াই success!
এরপর বুঝলাম, না, আসলে মাধ্যমিকে স্টার পাওয়াটাই success!
ভুল ভাঙল, বুঝলাম উচ্চমাধ্যমিকে এই রেজাল্টটা ধরে রাখাই success!
এখানেই শেষ নয়, এরপর বুঝলাম ভালো সাবজেক্ট নিয়ে ভালো কোনো জায়গায় চান্স পাওয়াটাই success, যেটা পড়লে একটা ভালো চাকরি পাওয়া যাবে।
আরো পরে বুঝলাম যে, পড়া শেষে ভালো চাকরী পাওয়া এবং অনেক রোজগার করাটাই success।
এরপর বুঝলাম, নিজের টাকায় একটি ছোট বাড়ি করাই success।
পরে বুঝলাম, সেটাও নয়, নিজের টাকায় এরপর গাড়ি কেনাটাই আসল success!
আবার ভুল ভাঙল, এরপর দেখলাম ভাল দেখে বিয়ে করে সুখে সংসার করাটাই আসল success।
বছর ঘুরলো, দেখলাম আসলে বিয়ে করে বংশধর এনে তাকে ভালো ভাবে বড় করাটাই success, ছেলে হলে তাকে প্রতিষ্ঠিত করাটাই success, মেয়ে হলে একটা ভালো ফ্যামেলীর ভালো চাকুরীর ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়াটাই success।
এরপর এলো আমার রিটায়ারমেন্ট, সারা জীবনের জমানো টাকার সঠিক investment করে utilization করতে পারাই success!
এরপর যখন সবাই মিলে একাকী কবরে রেখে মাটি চাপার প্রস্তুতি নিল, মরার একটু আগেই বুঝলাম, পৃথিবীতে success বলে কোন কিছুই স্থায়ী লক্ষ্য নেই!
পুরোটাই এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের তৈরী করা একটা competition। যার মূলে আছে আকাশ ছোঁয়া আকাঙ্খা, যা কখনো পূর্ণ হবার নয়।
তখন বুঝতে পারলাম এর থেকে জীবনের প্রতিদিন বা প্রতি মূহুর্ত আনন্দের সঙ্গে সুস্থ থাকা ও অন্যের জন্য কাজ করতে পারাই success এর মূল লক্ষ্য হলে অনেক ভালো হতো!
কিন্তু এটা বুঝতে অনেক দেরী করে ফেলেছি।
জীবন কে খুঁজুন, জীবন কে বুঝুন!
নিজেকে ভালবাসুন।
অন্যদের সম্মান দিন, ভালবাসুন। বিশেষ করে যাদের ভালবাসার খুবই প্রয়োজন।
শেষ অবধি ভালবাসাপূর্ণ, আনন্দঘন আর সুস্থ একটি জীবনযাত্রা সম্পন্ন করতে পারাই সফলতা!
(সংগৃহীত)