20/03/2023
বিশ্বের অনেক দেশেই অটিজম সহ অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা থাকা স্বত্বেও অনেক শিশুই পরবর্তীতে তাদের ক্যারিয়ারে সফল হতে দেখা যায়। অনেকেই বিজ্ঞানী,চিত্রকর, গায়ক,অভিনেতা, শিক্ষক ইত্যাদি পেশায় আছে বলে জানা যায়।কিন্তু আমাদের দেশে এ ধরনের কোন খবর পাওয়া যায় না,এর সম্ভবত দুইটা কারণ থাকতে পারে।
১/ওদের সাফল্যের খবর প্রচারে তেমন আসে না।
২/শিক্ষার্থীরা সেই ভাবে সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারে না।
প্রথম কারণ নিয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই,কিন্তু ২য় কারণ যদি হয়ে থাকে তাহলে সেটা প্রতিবন্ধী ব্যাক্তির, পরিবারের, সমাজের এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি।
কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক এটা সত্যি যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নিজের কর্মদক্ষতা দিয়ে সমাজে ব্যাপক ভুমিকা রাখতে পারেন।কিন্তু সেটা এদেশে প্রায় সম্ভবই হয় না।সম্ভব হয় না মূলত দুইটি কারণে,
১/পরিবারের প্রতিবন্ধীতা বিষয়টি গ্রহণ করতে অসুবিধা/অসচেতনতা/অতিরিক্ত আবেগ
২/দেশে প্রফেশনালদের অপ্রতুলতা/আবেগ ব্যাবসা
প্রথমত অনেক পরিবার মানতেই চান না যে,তার সন্তানের প্রতিবন্ধীতা রয়েছে। যারা একবার মেনে নেন তারাও অতিরিক্ত ইমোশনাল হয়ে নানা জায়গায় ছুটে বেড়ান,২-১ দিনের মধ্যেই শিশুকে ঠিক করে নেওয়ার আশায়।
তারপরই আসে প্রফেশনাল দের অপ্রতুলতা,কম প্রফেশনাল তাই খরচ বেশি( খরচ বেশি হওয়ার অন্য অনেক কারণও রয়েছে)।এখন অবশ্য প্রফেশনাল দের তেমন কোন সম্মান মানুষ দেয় না,মানুষ এখন কথা কে সম্মান দেয়।যে মানুষকে এভাবে বলে যে,"আপনার বাচ্চাকে ৩ মাসের মধ্যেই সুস্থ করে দিবো"।তার কাছে মানুষ বেশি যায় কিন্তু যে বলে যে,"৩ মাসের মধ্যে বেসিক কিছু ডেভেলপমেন্ট হবে ইনশাআল্লাহ"।তার কাছে মানুষ যেতে চায় না।পার্থক্য টা বুঝতে পারছেন আশা করি।
এছাড়াও শিশুর বিকাশে থেরাপি এবং স্পেশাল এডুকেশনের পার্থক্য আমরা বুঝতে চাই না,স্পেশাল এডুকেশন সবার প্রয়োজন কিন্তু থেরাপি কিছু কিছু শিক্ষার্থীর প্রয়োজন। কার প্রয়োজন আছে কার নেই সেটা আমরা বোঝার চেষ্টাও অনেক সময় করি না।যার ফলে সবাই যে যার মতো ব্যাবসা করে যাচ্ছে। গুগল আছে,অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অভিভাবক গণ আছেন।যারা আপনাদের থেকে বেনিফিটেড না কিন্তু আপনাদের ভালোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তাদেরও জিজ্ঞেস করার মতো কষ্ট অনেকেই করতে চান না !
আরেকটা সমস্যা হলো,আমাদের দেশে যে কেউ স্পেশাল এডুকেটর হতে পারে। কোন বিষয়ে পড়েছে সেটা কোন বিষয় না।১০,১৫ হাজার টাকা দিয়েই স্পেশাল এডুকেটর পাওয়া যায়।অনেক সেন্টার এই সুযোগ টাই নেয়।খরচ কম লাভ বেশি।
মোট কথা বিশেষ শিশুর বিকাশে আমাদের গঠনমূলক কোন কার্যক্রম নেই। অটিজম আছে এমন এমন শিশু মা,বাবা এরকম ২-৪ টা শব্দ বললে কিংবা মাঝে মাঝে কিছু কমান্ড শুনলেই অভিভাবকগণ খুশি,অন্যরাও খুশি।
আসুন আমরা এমন কিছু করি যাতে আমাদের বিশেষ শিশুগুলোও কিছু একটা করতে পারে।আমাদের দৃষ্টি প্রসারিত করি।একটুখানি জানার চেষ্টা করি, জানানোর চেষ্টা করি।
সবাই মিলে, একসাথে।।
তানজিনুজ্জামান তিষান
ফ্যাকাল্টি মেম্বার, পাইজার-বিইউপি
পরিচালক স্নেহ স্পেশাল এডুকেশন কেয়ার