Law Advice by Adv Mainuddin

Law Advice by Adv Mainuddin

Share

Education and Career is a page about any kinds of educational and career news about Bangladesh. Wher

06/07/2025

প্রতিবেশী বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা না দিলে প্রাথমিকভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, কোনো প্রতিবেশী বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা না দিলে প্রথমেই বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা উচিত। প্রতিবেশীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশি বৈঠক করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলার লিগ্যাল এইড অফিসাসের কাছে আপস মীমাংসার জন্য আবেদন করতে পারে।

প্রতিবেশী বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা না দিলে সুরক্ষা পেতে কোনো আইন আছে কি?

হ্যাঁ, এ বিষয়ে আইনগত সুরক্ষা বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশে Easement Act, ১৮৮২ অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি তার জমিতে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় পথ না পেলে তিনি 'Easement of Necessity' বা 'অত্যাবশ্যক পথাধিকার' দাবি করতে পারেন। এই আইনের ধারা ১৩ অনুযায়ী, যদি কোনো জমি বা বাড়ি এমনভাবে অবস্থিত হয় যে, তার মালিক বা বাসিন্দা অন্যের জমির ওপর দিয়ে না গেলে মূল রাস্তায় পৌঁছাতে পারেন না, তবে তিনি আইনত সেই প্রতিবেশীর জমির ওপর দিয়ে যাতায়াতের অধিকার পাবেন। এই ধরনের অধিকারকে বলা হয় 'চলাচলের স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় অধিকার' এবং এটি আদালতের মাধ্যমে বলবৎ করা সম্ভব।

এছাড়াও, যদি জমি কেনার সময় বা পূর্ববর্তী কোনো বন্দোবস্তে চলাচলের সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটিও 'Easement by Grant' হিসেবে গণ্য হতে পারে, যার আইনগত স্বীকৃতি রয়েছে। প্রয়োজনে ভূমি রেকর্ড, খতিয়ান, নকশা ও স্থানীয় সাক্ষ্য উপস্থাপন করে বিষয়টি প্রমাণ করা যেতে পারে।

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন
আরও
যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হলে কী আইনি ব্যবস্থা নেবেন
ভুক্তভোগী কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন কি?

অবশ্যই, ভুক্তভোগী ব্যক্তি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। প্রথমত, তিনি পারস্পরিক আলোচনা ও স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে পারেন। যদি তা ব্যর্থ হয়, তবে তার পরবর্তী পদক্ষেপ হবে সিভিল আদালতে মামলা দায়ের করা। তিনি সিভিল কোর্টে 'ডিক্লারেটরি স্যুট' দায়ের করে তার চলাচলের অধিকার ঘোষণা করার আবেদন করতে পারেন এবং সেইসঙ্গে 'পারমানেন্ট ইনজাংশন' চেয়ে প্রতিবেশীকে চলাচলে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ প্রার্থনা করতে পারেন।

আদালতে তিনি নিচের বিষয়গুলোর ভিত্তিতে মামলা করতে পারেন-

তার বাড়িতে যাতায়াতের কোনো বিকল্প রাস্তা নেই, প্রতিবেশীর জমি ছাড়া অন্য কোনো পথ ব্যবহার করা বাস্তবসম্মত নয়,

06/06/2025

এই ৭ ধরনের মানুষকে এড়িয়ে চলুন:

১. হুইলব্যারো মানুষ:
এই শ্রেণির মানুষরা হলো এনার্জি ও সময় শোষণকারী। সব কিছু আপনার থেকে পাওয়ার আশা করে, কিন্তু নিজেরা কিছু দেয় না। তারা শুধু চায় আপনি তাদের সমস্যা সমাধান করেন। হুইলব্যারোর মতো—তাদের বোঝাও আপনাকেই তুলতে হয়, আবার ঠেলতেও হয়।

২. মশা মানুষ:
তারা আপনার জীবন থেকে শুধু উপকার নিতে চায় এবং বদলে বিষ ঢালে। কখনোই কোনো গঠনমূলক অবদান রাখে না। মশারা যেমন গান গায় শুধু রক্ত চুষে নিতে, এরাও প্রশংসা করে শুধু উপকার পাওয়ার জন্য—পরে পিছনে কথা বলে।

৩. স্ক্যাফোল্ডিং মানুষ:
তারা আপনার জীবনে এক সময় সাহায্য করেছে বলে আজীবন আপনার ওপর কর্তৃত্ব করতে চায়। তারা চায় না আপনি স্বাধীন হন বা নিজে আলো ছড়ান। স্ক্যাফোল্ডিং যেমন সাময়িকভাবে দরকার, তেমনই সময়মতো সরিয়ে না ফেললে ঝুঁকিপূর্ণ।

৪. কুমির মানুষ:
তারা আসলে ছলনাময়। ঘনিষ্ঠ হয় শুধু গোপন তথ্য জানার জন্য এবং পরে সেটা আপনার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করে। তারা মিথ্যাবাদী, পিছনে কথা বলে, গুজব ছড়ায়। কুমির মানুষরা ভান করে সহানুভূতি দেখায়, তারপর আঘাত হানে।

৫. গিরগিটি মানুষ:
এরা হিংসুক, প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতায় ভরা। তারা আপনার পাশে থাকার অভিনয় করলেও, আপনার উন্নতি দেখে ঈর্ষান্বিত হয়। আপনার সাফল্যে খুশি না হয়ে, ব্যর্থতায় উৎসব করে। হিংসুক বন্ধু আপনার স্বপ্ন ধ্বংস করতে পিছপা হবে না।

৬. না-বলা (Naysayer) মানুষ:
তারা স্বপ্ন ধ্বংসকারী। আপনার কোন স্বপ্নই তাদের ভালো লাগে না। তারা শুধু ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলে, সমাধান নয়—সমস্যা সৃষ্টি করে। সব কিছুতে না-বলা মানুষ নিজেরাও স্বপ্ন দেখে না, তাই আপনার স্বপ্নও তারা মূল্যায়ন করতে জানে না।

৭. আবর্জনা ঠেলা মানুষ:
তারা সর্বনাশা। এদের জীবন ভরা নেতিবাচকতা দিয়ে। তাদের মুখে শুধু খারাপ খবর, হতাশার বার্তা। সবসময় দুঃখজনক ঘটনা ছড়ায়।

এই মানুষগুলো চিনে রাখুন। যেমন আপনার তালিকায় আছে, তেমনি সবার জীবনেই কেউ না কেউ এদের মতো থাকে।
আপনার জীবনের সঠিক দিক নির্ভর করে আপনি কার সঙ্গে চলছেন তার ওপর।
সঠিক সম্পর্ক গড়ে তুলুন ভুলগুলো থেকে বেরিয়ে আসুন।

নোট: ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করা ।

উদ্যোক্তা মাস্টারক্লাস - যা জানতেই হবে | পর্ব-০৩। Rokomari | মাহমুদুল হাসান সোহাগ | গ্রোথ হ্যাকিং 04/06/2025

উদ্যোক্তা মাস্টারক্লাস - যা জানতেই হবে | পর্ব-০৩। Rokomari | মাহমুদুল হাসান সোহাগ | গ্রোথ হ্যাকিং আমরা সোহাগ ভাইকে কমবেশি সবাই চিনি। তাঁর জীবনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর জানার প্রতি যেমন আমাদের আগ্রহ ....

04/06/2025

হারিয়ে যাওয়া অভিযোগকৃত চেকের মামলা ও আইনগত পরিণতি!

এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক:
পাওনা পরিশোধের জন্য চেক প্রদানের পর চেকদাতা কর্তৃক অনেক সময় অভিযোগ উত্থাপন করা হয় যে, চেকটি হারিয়ে গেছে। আবার চেক নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দেয়ার পর চেক দাতা ব্যাংকে লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে সেটা Stop Payment করতে বলে এবং কারন হিসাবে উল্লেখ করেন যে চেকটি হারিয়ে গেছে বা চুরি হয়েছে। অনেক সময় চেকদাতা এ্যাকাউন্ট ক্লোজ করে রাখে। আবার অনেক সময় থানায় চেক হারানো বিষয়ে থানায় জি.ডি করে রাখে। এসকল ক্ষেত্রে চেক প্রদানের প্রমাণের দায়িত্ব কিন্তু আসামীর উপর বর্তায়। ১৮৮১ সালের এনআই এ্যাক্টের ১১৮ ধারানুসারে অনুমান করতে হবে যে, চেকটি তার দাতা কর্তৃক তার নিজ স্বাক্ষরে প্রাপকের দেনা বা দায় পরিশোধের জন্য প্রদান করা হয়েছিল।

হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া চেকের বিষয়ে চেক দাতাকে তিনটি প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
(১) কেন তিনি একটি ফাঁকা স্বাক্ষরিত চেক রেখেছিলেন?
(২) চেকের প্রাপকের নিকট কোনো দায়-দেনা আছে কি-না?
(৩) চেকটি আসলে হারিয়ে গেছে বা চুরি হয়েছে কি-না?

মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় ওই বিষয়ে সাফাই সাক্ষী দিয়ে আসামীকে প্রমাণ করতে হবে যে, হারিয়ে যাওয়া চেক নিয়ে আসামী থানায় কোন মামলা দায়ের করেছিল বা কোন থানায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জি.ডি করেছিল বা তর্কিত চেকটি উদ্ধারের জন্য বাদীর বিরুদ্ধে কোন ফৌজাদারী বা দেওয়ানী আদালতে মামলা করেছে ইত্যাদি বিষয়ও প্রমাণ করতে হবে। নতুবা আসামী তেমন কোনো সুবিধা পাবেন না।

মনে রাখবেন নালিশী চেকটি হারিয়ে গেছে কি-না বা সেটা চুরি হয়েছে কি না এগুলো একটি ঘটনাগত বিষয় এবং তা কেবলমাত্র বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হয়।

একটি কেইস স্টাডি থেকে জানা যায়, একটি মামলার চার্জ শুনানীর সময় আসামীপক্ষ থেকে দাবী করা হয় যে, নালিশী চেকটি বাদী আসামীর ম্যানেজার হিসেবে চাকুরী করার সময় চুরি করেছে এবং পরবর্তীতে ওই চুরি হওয়া চেক দিয়ে মামলা করেছে। তাই মামলাটিতে আসামীর বিরুদ্ধে কোন চার্জ গঠন করার সুযোগ নেই। আদালত উভয় পক্ষকে শ্রবণের পর আসামীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। আসামী উক্ত আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হয়ে ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৬১ এ ধারার বিধান মোতাবেক মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ দরখাস্ত করে। গত ০৫/১১/২০১৭ তারিখে নিষ্পত্তিকৃত মামলায় (ক্রিমিনাল মিস কেস নং ৩২৯৭/২০১৬, আন রিপোর্টেড) মহামান্য হাইকোর্ট এ বিষয়ে মন্তব্য করেন যে, নালিশী চেকটি চুরি হয়েছে বা হারিয়ে গেছে এবং অনুরূপ চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া চেকের উপর ভিত্তি করে বিচারিক আদালত আসামীকে দন্ড প্রদান করলে সেটা বেআইনী বলে বিবেচিত হয় না। আসামী যদি ঐ চেক চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ব্যাংককে কোন কিছু না জানায় বা থানায় জিডি না করে তাহলে অনুরূপ প্লি (Plea) দ্বারা আসামী কোন সুবিধা পায় না।

বিষয়টি আলোচনা করতে গিয়ে MA Azam chowdhury V ABM Asaduzzaman [13 ADC (2016) 79 মামলায় আপীল বিভাগও একই মন্তব্য করেন। কাজেই চেক দেওয়ার পর চেকটি হারিয়ে গেছে কিংবা এ্যাকাউন্ট ক্লোজ করা হয়েছে কিংবা স্টপ পেমেন্ট করা হয়েছে, থানায় জিডি করা হয়েছে-ইত্যাদি বলে আইনগতভাবে আসামীর বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই।

লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, পিএইচ. ডি (ফেলো) ও আইনগ্রন্থ প্রণেতা। মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২৮, ইমেইলঃ[email protected]

23/05/2025

(১)
আসামি পক্ষ সাফাই সাক্ষী দেবে। বাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে বেঞ্চে বসে আছি—ডায়াসে দাঁড়ানো বাকি আইনজীবী আর বিচারকের মনোভাব নীরবে অবলোকন করছি।

একজন সভাপতি আইনজীবী (তিনি বর্তমান না সাবেক, কিংবা কোন রাজনৈতিক ঘরানার, তা উল্লেখ না থাকাই ভালো) পরপর তিনটি মামলার শুনানি করলেন—একটি সিআর মামলার জামিন শুনানি, আরেকটি ফাইলিং সংক্রান্ত, এবং অন্যটি জিআর মামলা। লক্ষ্য করলাম, তিনটি মামলার আদেশই তাঁর বিপক্ষে গেছে। আমি একটু সোজা হয়ে বসলাম। আইনজীবী সাহেবের মুখাবয়বে হালকা হতাশার রেখা স্পষ্ট।

আমি মৃদু হাসি নিয়ে বিচারকের দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি আপনমনে নিজের বিচারকার্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

(২)
পাশে একজন বললেন, “কি বুঝলেন?”
আমি হেসে জবাব দিলাম, “বোঝার থেকে ভাবি বেশি—তাও আবার আউট অব দ্য বক্স!”

তিনটি মামলার শুনানিতে এমন কোনো ব্যাখ্যা চোখে পড়েনি যা আমাকে মুগ্ধ করতে পারে। রুলিং বা রেফারেন্সের উপস্থিতিও ছিল না—যদিও সেগুলো খুব জরুরি নয়, যদি ব্যাখ্যার সৌন্দর্যে প্রসিকিউশনের বক্তব্যে যুক্তিসংগত সন্দেহ সৃষ্টি করা যায়।

তবে আমি যে ব্যাখ্যার অপেক্ষায় থাকি তা হলো—আইনের ধারার বিশ্লেষণ, ফ্যাক্টের নিখুঁত উপস্থাপন, সাবমিশন হিসেবে স্টোরিটেলিং এবং “বিহাইন্ড দ্য সিন” অর্থাৎ মামলার অন্তর্নিহিত বক্তব্য তুলে ধরার মুন্সিয়ানা।

(৩)
এমন সময় একজন দৌঁড়ে এসে বললেন, “বারের অমুক (নেতৃত্ব আইনজীবী) আসছেন, একটু পরে দেওয়া হোক!”

আমিও খানিকটা নড়ে বসলাম। দেখলাম, একজন প্রবেশ করলেন, সাবমিশন দিলেন এবং দ্রুতই চলে গেলেন—আদেশে তাঁরা সন্তুষ্ট।

একজন ফিসফিস করে বললেন, “নেতা আইনজীবী দেখে আদেশ নাকি?”

আমি হেসে বললাম, “এসব নিয়ে আমার কোনো ধারণা নেই এবং ধারণা রাখারও কোন আগ্রহবোধ নেই।”

(৪)
একদিন এক আত্মসমর্পণমূলক জামিন শুনানিতে উপস্থিত ছিলাম। আসামি পক্ষে নেতা আইনজীবীসহ অনেক আইনজীবী উপস্থিত, বাদী পক্ষে মাত্র দুইজন আইনজীবী। দীর্ঘ সময় শুনানি চললো। উপস্থিত সবাই ভাবছিলেন, বিচারকের আদেশ আসামি পক্ষে যাবে। কিন্তু জজ সাহেব অবাক করে দিয়ে শুধু একজনকে জামিন দিলেন, বাকিদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন!

পরদিন ছুটির সময়ে বিচারকের সঙ্গে দেখা হলে তিনি বললেন, “ওইদিন কী ভাবা হয়েছিল?”

আমি মৃদু হাসি দিয়ে উত্তর দিলাম, “শিরদাঁড়া অটুট থাকুক—মানুষে মানুষে পার্থক্যের জায়গা এটাই।”

(৫)
এত কিছু বলার একটাই প্রেক্ষাপট—আদেশ হোক মেরিটে, না যেকারো প্রভাব-প্রতিপত্তি বা পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। মেরিটে সিদ্ধান্ত হলে, এক বছর প্র্যাকটিস করা নবীন আইনজীবী থেকে শুরু করে ত্রিশ বছর ধরে প্র্যাকটিস করা অভিজ্ঞ আইনজীবী—সবাই আইনের গভীরে প্রবেশ করে যুক্তির আলোকে কাজ করবে। মামলার শুনানিতে নেতৃত্ব নয়, বরং আইনে প্রাজ্ঞ ও বিশ্লেষণক্ষম আইনজীবীর কদর বাড়বে।

এই চর্চা গড়ে উঠলে বার–বেঞ্চের মাঝে অকারণ টানাপোড়েন কিংবা পক্ষপাতমূলক পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না।

আমি একজন ক্ষুদ্র আইনজীবী, যে আইন শেখার, আইনের চর্চা করার, এবং আইনের শৈল্পিক প্রয়োগে বিশ্বাসী। এসবের বাইরে অন্য কোনো ‘পন্থা’ আমার জানা নেই, জানার আগ্রহও নেই।

আমি শুধু এটুকুই জানি—সম্মান দিলে সম্মান বাড়ে, শ্রদ্ধা দিলে শ্রদ্ধা ফিরে আসে। নিজের উপস্থিতি হোক সম্মানের প্রতীক, কোনো তামিল সিনেমার নায়কের মতো নয়।

আইন ও আদালত হলো বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পবিত্র ক্ষেত্র—এটা জোর-জবরদস্তির জায়গা নয়। চর হয়তো দখল করা যায়, কিন্তু মেধার ল্যাবরেটরি দখলযোগ্য নয়।

আদালত কোনো পলি জমে গড়ে ওঠা চর নয়, বরং এটি একটি বিশুদ্ধ ‘ইন্টেলেকচুয়াল ল্যাব’—যেখানে যুক্তি, জ্ঞান ও ন্যায়বিচারই একমাত্র প্রামাণ্য।

বাকিসবে কোন লিগ্যাসি সৃষ্টি হয় না বরং তিক্ততা বাড়ে, সম্পর্কে ফাটল ধরে, মাঝখানে আইন চর্চা করতে চাওয়া জুনিয়র আইনজীবীদের উপর দিয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়!

আবু সাঈদ রয়েল
আইনজীবী, চট্টগ্রাম
১৯ মে, ২০২৫

23/05/2025

🥰 সেভ করে রাখুন কাজে লাগবে 🥰
পুরাতন দলিলে ব্যবহৃত ১৩০টি শব্দের অর্থের তালিকা
খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

পুরাতন দলিলে ব্যবহৃত অনেক শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে। কিছু শব্দ খুব কম ব্যবহৃত হয়। যারা পুরাতন দলিলের শব্দের অর্থ বোঝেন না, তাদের জন্য বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো —

১) মৌজা: গ্রাম
২) জে.এল. নং: মৌজা নম্বর/গ্রামের নম্বর
৩) ফর্দ: দলিলের পাতা
৪) খং: খতিয়ান
৫) সাবেক: আগের/পূর্বের
৬) হাল: বর্তমান
৭) বং: বাহক (যিনি নিরক্ষর ব্যক্তির নাম লেখেন)
৮) নিং: নিরক্ষর
৯) গং: অন্যান্য অংশীদার
১০) সাং: সাকিন/গ্রাম
১১) তঞ্চকতা: প্রতারণা
১২) সনাক্তকারী: বিক্রেতাকে চিনেন এমন ব্যক্তি
১৩) এজমালি: যৌথ
১৪) মুসাবিদা: দলিল লেখক
১৫) পর্চা: প্রাথমিক খতিয়ানের নকল
১৬) বাস্তু: বসতভিটা
১৭) বাটোয়ারা: সম্পত্তির বণ্টন
১৮) বায়া: বিক্রেতা
১৯) মং: মোট
২০) মবলক: মোট পরিমাণ
২১) এওয়াজ: সমমূল্যের বিনিময়
২২) হিস্যা: অংশ
২৩) একুনে: যোগফল
২৪) জরিপ: ভূমি পরিমাপ
২৫) চৌহদ্দি: সীমানা
২৬) সিট: মানচিত্রের অংশ
২৭) দাখিলা: খাজনার রশিদ
২৮) নক্সা: মানচিত্র
২৯) পিং: পিতা
৩০) জং: স্বামী
৩১) দাগ নং: জমির নম্বর
৩২) স্বজ্ঞানে: নিজের জ্ঞানের ভিত্তিতে
৩৩) সমুদয়: সব কিছু
৩৪) ইয়াদিকৃত: পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু
৩৫) পত্র মিদং: পত্রের মাধ্যমে
৩৬) বিং: বিস্তারিত
৩৭) দং: দখলকারী
৩৮) পত্তন: সাময়িক বন্দোবস্ত
৩৯) বদলসূত্র: জমি বিনিময়
৪০) মৌকুফ: মাফকৃত
৪১) দিশারী রেখা: দিকনির্দেশক রেখা
৪২) হেবা বিল এওয়াজ: বিনিময়সূত্রে জমি দান
৪৩) বাটা দাগ: বিভক্ত দাগ
৪৪) অধুনা: বর্তমান
৪৫) রোক: নগদ অর্থ
৪৬) ভায়া: বিক্রেতার পূর্বের দলিল
৪৭) দানসূত্র: দানকৃত সম্পত্তি
৪৮) দাখিল-খারিজ: মালিকানা পরিবর্তন
৪৯) তফসিল: সম্পত্তির বিবরণ
৫০) খারিজ: পৃথক খাজনা অনুমোদন
৫১) খতিয়ান: ভূমির রেকর্ড
৫২) এওয়াজসূত্র: বিনিময় সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি
৫৩) অছিয়তনামা: উইল/মৃত্যুকালীন নির্দেশ
৫৪) নামজারি: মালিকানা হস্তান্তরের রেকর্ড
৫৫) অধীনস্থ স্বত্ব: নিম্নস্তরের মালিকানা
৫৬) আলামত: মানচিত্রে চিহ্ন
৫৭) আমলনামা: দখলের দলিল
৫৮) আসলি: মূল ভূমি
৫৯) আধি: ফসলের অর্ধেক ভাগ
৬০) ইজারা: নির্দিষ্ট খাজনায় সাময়িক বন্দোবস্ত
৬১) ইন্তেহার: ঘোষণাপত্র
৬২) এস্টেট: জমিদারি সম্পত্তি
৬৩) ওয়াকফ: ধর্মীয় কাজে উৎসর্গকৃত সম্পত্তি
৬৪) কিত্তা: ভূমিখণ্ড
৬৫) কিস্তোয়ার জরিপ: কিত্তা ধরে ভূমি পরিমাপ
৬৬) কায়েম স্বত্ব: চিরস্থায়ী মালিকানা
৬৭) কবুলিয়ত: স্বীকারোক্তি দলিল
৬৮) কান্দা: উচ্চভূমি
৬৯) কিসমত: ভূমির অংশ
৭০) খামার: নিজস্ব দখলীয় ভূমি
৭১) খিরাজ: খাজনা
৭২) খসড়া: প্রাথমিক রেকর্ড
৭৩) গর বন্দোবস্তি: বন্দোবস্তবিহীন জমি
৭৪) গির্ব: বন্ধক
৭৫) জবরদখল: জোরপূর্বক দখল
৭৬) জোত: প্রজাস্বত্ব
৭৭) টেক: নদীর পলি জমে সৃষ্টি ভূমি
৭৮) ঢোল সহরত: ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা
৭৯) তহশিল: রাজস্ব এলাকা
৮০) তামাদি: নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত
৮১) তফসিল: সম্পত্তির বিবরণ
৮২) নামজারি: মালিকানা হস্তান্তর
৮৩) নথি: রেকর্ড
৮৪) দেবোত্তর: দেবতার নামে উৎসর্গকৃত
৮৫) দখলী স্বত্ব: দখলের ভিত্তিতে মালিকানা
৮৬) দশসালা বন্দোবস্ত: দশ বছরের বন্দোবস্ত
৮৭) দাগ নম্বর: জমির ক্রমিক নম্বর
৮৮) দরবস্ত: সব কিছু
৮৯) দিঘলি: নির্দিষ্ট খাজনা প্রদানকারী
৯০) নক্সা ভাওড়ন: পূর্ব জরিপের মানচিত্র
৯১) নাম খারিজ: পৃথককরণ
৯২) তুদাবন্দি: সীমানা নির্ধারণ
৯৩) তরমিম: সংশোধন
৯৪) তৌজি: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত রেকর্ড
৯৫) দিয়ারা: নদীর পলিতে গঠিত চর
৯৬) ট্রাভার্স: জরিপের রেখা পরিমাপ
৯৭) খাইখন্দক: জলাশয় বা গর্তযুক্ত ভূমি
৯৮) চর: নদীর পলি জমে গঠিত ভূমি
৯৯) চৌহদ্দি: সম্পত্তির সীমানা
১০০) খাস: সরকারি মালিকানাধীন জমি

শেষ কথা:
এই শব্দগুলো পুরাতন দলিল পড়ার সময় আপনাকে দারুণ সহায়তা করবে। সেভ করে রেখে দিন — প্রয়োজনে অমূল্য হয়ে উঠবে।
©

খতিয়ান ও ম্যাপ সেবা 18/05/2025

ছেলে-মেয়েকে দলিল পড়া শেখান"

– কারণ দলিল বোঝা মানেই নিজের সম্পদ রক্ষা করা।
১. দলিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ও শব্দের ব্যাখ্যা:

শব্দ / টার্ম অর্থ

∆বিক্রেতা (Vender): যে ব্যক্তি জমি বিক্রি করছেন
∆ক্রেতা (Purchaser): যে ব্যক্তি জমি কিনছেন
∆দলিল নম্বর /ইউনিক নম্বর – রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দেওয়া হয়
∆জেলা/উপজেলা/মৌজা: জমি যে এলাকায় আছে তার প্রশাসনিক পরিচয়
∆খতিয়ান নম্বর (Khatian No.) জমির মালিকানা সম্পর্কিত রেকর্ড নম্বর
∆দাগ নম্বর (Dag No.) নির্দিষ্ট জমির প্লট নম্বর
∆জমির পরিমাণ কাঠা/শতক/বিঘা/বর্গফুট ইত্যাদিতে জমির পরিমাণ
∆জমির শ্রেণি বসতভিটা/নাল/ডাঙ্গা/চাষযোগ্য ভূমি ইত্যাদি
∆মূল্য (Consideration Money): জমি বিক্রির চুক্তিকৃত মূল্য
∆ভোগদখল হস্তান্তর জমি দখল হস্তান্তরের ঘোষণা
সীমানা চারদিকের প্রতিবেশী কারা এবং তাদের জমি

---

২. জমির মাপজোক ও একক রূপান্তর:

একক সমান

১ একর ১০০ শতক = ৬০ কাঠা (ঢাকা)
১ বিঘা ২০ কাঠা
১ কাঠা ১৬ আনা = ১.65 শতক (ঢাকা)
১ শতক ৪৩৫.৬ বর্গফুট
১ কাঠা (ঢাকা) ৭২০ বর্গফুট

মনে রাখবেন:
বিভিন্ন জেলায় ১ কাঠার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে যাচাই করতে হবে।

---

৩. দলিল পড়া শেখার সহজ পদ্ধতি:

Step 1: প্রাথমিক তথ্য যাচাই করুন

দলিল নম্বর, তারিখ, রেজিস্ট্রি অফিস

বিক্রেতা ও ক্রেতার নাম, পিতা/স্বামীর নাম

জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ঠিকানা

Step 2: জমির বিবরণ মিলিয়ে নিন

মৌজা, খতিয়ান, দাগ নম্বর

জমির পরিমাণ ও সীমানা

জমির শ্রেণি ও অবস্থান (উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিমে কে আছেন?)

Step 3: আইনগত বিবরণ বোঝার চেষ্টা করুন

দলিলে লেখা থাকে, জমির দখল হস্তান্তর করা হলো কি না

বিক্রেতার মালিকানার উৎস: উত্তরাধিকার/ক্রয়/বণ্টন

কোনো মামলা বা দায় আছে কি না তা উল্লেখ থাকে

---

৪. সন্তানকে শেখান দলিল কেন গুরুত্বপূর্ণ:

জমির মালিকানা প্রমাণ করার একমাত্র আইনগত দলিল

ভবিষ্যতে জমি নিয়ে প্রতারণা ঠেকাতে দলিল বোঝা জরুরি

নারী সন্তানদের এই শিক্ষা দিলে তারাও জমির ব্যাপারে সচেতন হবে

---

৫. দলিল যাচাই করার আধুনিক পদ্ধতি:

www.eporcha.gov.bd বা www.land.gov.bd থেকে অনলাইনে খতিয়ান যাচাই

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিলের সত্যতা পরীক্ষা

স্থানীয় ভূমি অফিসে গিয়ে খাজনা ও মিউটেশন রেকর্ড চেক

---

৬. চলুন দলিল পড়া শিখি

উক্ত – অর্থ: উল্লেখিত।
দলিলে বারবার "উক্ত জমি", "উক্ত দলিল" ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার হয়, যার মানে হলো আগেই যেটা বলা হয়েছে তা।

হস্তান্তর – অর্থ: মালিকানা বা ভোগদখল দেওয়া।
যখন লেখা থাকে “জমি হস্তান্তর করিলাম”, তখন বোঝায় জমি আইনগতভাবে অন্যের নামে দেওয়া হয়েছে।

দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে – অর্থ: জমির দখল হাতে হাতে দেওয়া হয়েছে।
এর মানে দলিলের পর জমি ব্যবহার করার অধিকারও ক্রেতার হাতে দেওয়া হয়েছে।

খালি ও নির্বন্ধ জমি – অর্থ: জমিটির উপর কোনো মামলা, দাবি, বা ঋণ নেই।
এই শব্দগুলো দেখিয়ে বিক্রেতা নিশ্চিত করেন যে জমিটি ঝামেলামুক্ত।

সীমানা – অর্থ: জমির চারপাশে কে আছে, কোন দিকে কার জমি, তা বর্ণনা করা হয়।
যেমন: “উত্তরে অমুক, দক্ষিণে তমুক…”

সর্বমোট পরিমাণ জমি – অর্থ: দলিলে বিক্রি হওয়া জমির মোট পরিমাণ।
শতক, কাঠা বা বর্গফুট এককে দেওয়া হয়।

উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত – অর্থ: জমিটি পিতা-মাতা বা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া।

স্বত্বাধিকার – অর্থ: মালিকানা অধিকার।
যে ব্যক্তি আইনগতভাবে জমির মালিক, তিনি স্বত্বাধিকারী।

দখল স্বত্ব – অর্থ: জমিটি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার।

মোট মূল্যে বিক্রি করিলাম – অর্থ: নির্ধারিত দামে জমিটি বিক্রি করা হয়েছে।

অছত্র – অর্থ: কোনো অভিযোগ বা দাবির বাইরে।
অছত্র দলিল মানে এতে কোনো মালিকানা বিরোধ নেই।

নিরুপায় হইয়া – অর্থ: বাধ্য হয়ে।
অর্থনৈতিক বা পারিবারিক কারণে জমি বিক্রি করার পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

পরবর্তী উত্তরাধিকারগণ – অর্থ: ভবিষ্যতের উত্তরাধিকারী, যেমন সন্তান বা নিকট আত্মীয়।

পরিসমাপ্ত – অর্থ: কোনো কাজ বা মালিকানা শেষ হওয়া।
যেমন: "আমার মালিকানা এখানেই পরিসমাপ্ত হইল।"

আইনগত জ্ঞাতি – অর্থ: বৈধ আত্মীয় যাদের জমির উত্তরাধিকার পাওয়ার অধিকার আছে।

অবিচ্ছিন্ন দখল – অর্থ: কোনো বাধা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

অর্পিত – অর্থ: হস্তান্তর করা বা উৎসর্গ করা।
যেমন: "জমিটি মসজিদের নামে অর্পিত করিলাম।"

মূল দলিল – অর্থ: যেই দলিল দ্বারা প্রথম মালিকানা সৃষ্টি হয়, তাকে মূল দলিল বলা হয়।

পুনঃবিবেচনা – অর্থ: ভবিষ্যতে কোনো কারণে দলিলটি সংশোধন বা পর্যালোচনা করা হতে পারে।

রেজিস্ট্রি / নিবন্ধন
– দলিলকে সরকারি ভাবে নথিভুক্ত করা। জমি কেনা-বেচা তখনই বৈধ হয়, যখন তা রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্টার করা হয়।

মিউটেশন
– নামজারি। জমি ক্রয়ের পর নতুন মালিকের নামে খতিয়ানভুক্ত করার সরকারি প্রক্রিয়া।

খাজনা / ভূমি রাজস্ব
– সরকারকে দেওয়া বার্ষিক কর, যা জমির মালিক হিসেবে পরিশোধ করতে হয়।

বণ্টননামা
– একাধিক উত্তরাধিকারীর মধ্যে জমি ভাগ করে দেওয়ার দলিল।

অসিয়তনামা
– জীবিত অবস্থায় কেউ মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি কে পাবে তা লিখে গেলে সেটি হয় অসিয়তনামা।

প্রত্যয়নপত্র
– সাধারণত ওয়ারিশ বা অভিভাবকত্ব প্রমাণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

প্রদত্ত দলিল
– যেটি কারও নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য দেওয়া হয়েছে (যেমন দানপত্র/হেবা দলিল)।

হেবা
– ইসলামী বিধান অনুযায়ী দান। হেবা দলিলে লেখা থাকে বিনিময়মূল্য ছাড়া জমি দেওয়া হলো।

দানপত্র
– সম্পত্তি কাউকে উপহার দেওয়ার লিখিত ঘোষণা।

দায়-দেনা মুক্ত
– যার অর্থ হলো জমিটির ওপর কোনো ঋণ, মামলা বা গচ্ছিত বাধ্যবাধকতা নেই।

গচ্ছিত দলিল
– যে দলিল ব্যাংক বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে বন্ধক রাখা হয়েছে।

মৌজা
– ভূমি জরিপে ব্যবহৃত একক এলাকা, সাধারণত একটি গ্রামের মতো প্রশাসনিক ইউনিট।

উত্তরাধিকার সনদ
– ওয়ারিশ হিসেবে কেউ জমির মালিক কিনা, তা প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ।

নালিশী জমি
– যেই জমির ওপর মামলা বা বিরোধ চলছে।

নামজারি খতিয়ান
– দলিলের ভিত্তিতে নাম পরিবর্তন করে মালিকানা সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা।

জমা, খারিজ, চলন
– জমা = রাজস্ব পরিশোধ, খারিজ = পুরাতন মালিকের নাম কাটা, চলন = বর্তমান মালিকের নাম চালু।

ব্যবসায়িক স্বার্থে হস্তান্তর
– জমি যেহেতু ব্যক্তিগত না বরং ব্যবসা সংক্রান্ত কারণে বিক্রি করা হয়েছে।

বিকল্প মালিকানা
– কোনো ব্যক্তি মূল মালিক না হলেও, আইনত বা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক হওয়ার অধিকার রাখে।

অর্পিত সম্পত্তি
– পরিত্যক্ত/দখলকৃত জমি, যা পরে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসে।

পুনরায় বিক্রয় নিষিদ্ধ
– দলিলে বলা হয় জমিটি বিক্রির পরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আর বিক্রি করা যাবে না। সাধারণত হেবা বা সরকারি জমি হস্তান্তরে ব্যবহৃত হয়।

আংশিক দলিল
– একাধিক ব্যক্তি মিলে জমি কিনলে, তাদের অংশ নির্দিষ্ট করে আলাদা দলিল করা হয়।

অর্পণযোগ্য নয়
– যার অর্থ, জমিটি কাউকে দান বা হস্তান্তর করা যাবে না। সাধারণত ওয়াকফ সম্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

তফসিল
– জমির বিস্তারিত বিবরণ: মৌজা, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, পরিমাণ, সীমানা ইত্যাদি।

মৌখিক হেবা
– ইসলামী আইন অনুযায়ী, মৌখিকভাবে জমি কাউকে দান করা। এটা লিখিত দলিল ছাড়া হলেও দখল হস্তান্তর প্রমাণ জরুরি।

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধিত
– খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর সময়মতো দেওয়া হয়েছে – দলিলে এই লাইনটি থাকলে তা একটি ভালো চিহ্ন।

স্বতন্ত্র খতিয়ান
– নিজ নামে তৈরি একক খতিয়ান, যেখানে কোনো অংশীদার নেই।

বিষফল দলিল
– কোনো আইনগত ভুল বা জালিয়াতির কারণে দলিল বাতিলযোগ্য হয়ে যায় – একে বিষফল বলা হয়।

সংযুক্ত খতিয়ান
– একই খতিয়ানে একাধিক দাগ বা জমির অংশ থাকলে তা সংযুক্ত খতিয়ান হয়।

প্রত্যর্পণ দলিল
– পূর্বে দেওয়া দান বা হেবা যদি ফেরত নেওয়া হয়, তাহলে সে দলিল হয় প্রত্যর্পণ দলিল।

ধারাবাহিক মালিকানা
– জমির মালিকানা ক্রমে কীভাবে হস্তান্তর হয়েছে তার ধারাবাহিকতা। দলিলে সাধারণত লেখা থাকে: “উক্ত জমি পূর্বে অমুকের ছিল, তিনি অমুককে বিক্রি করেন...”

ভু-উন্নয়ন কর রসিদ সংযুক্ত
– দলিলের সাথে জমির খাজনার রসিদ বা কাগজ সংযুক্ত করা হয়েছে।

নির্ধারিত মূল্য ছাড়াই হস্তান্তর
– বিনা মূল্যে জমি দেওয়া হয়েছে। সাধারণত দান বা হেবা দলিলে লেখা থাকে।

দাবি ত্যাগ
– পূর্ব মালিক বা অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের লিখিতভাবে জমির মালিকানা দাবি ত্যাগ করার ঘোষণা।

জরিপ ও রেকর্ডের মিল
– দলিল, খতিয়ান এবং জরিপ মানচিত্রে জমির দাগ, পরিমাণ এবং মালিকানা একই কিনা তা মিলিয়ে দেখা।

আরও গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও জমি-সংশ্লিষ্ট শব্দ ও ব্যাখ্যা

সংশ্লিষ্ট রেকর্ড হতে প্রাপ্ত দাগ নম্বর
– দলিলে উল্লেখ থাকে, দাগ নম্বরটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে (সিএস/এসএ/আরএস/বিএস জরিপ)। ভুল দাগ মানে ভুল জমি!

সার্ভেয়ার কর্তৃক নির্ধারিত সীমানা
– অর্থাৎ একজন অনুমোদিত জরিপকারীর দ্বারা চিহ্নিত জমির সীমানা। এটি থাকলে দলিলের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।

স্মারক নম্বর
– সরকারি বা আইনগত চিঠিপত্রে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট নম্বর। দলিলে কোনো অফিসিয়াল কাগজ সংযুক্ত থাকলে স্মারক নম্বর উল্লেখ থাকে।

জারিকৃত আদেশ
– ভূমি অফিস বা কোর্ট থেকে কোনো নির্দেশনা এসেছে কি না, সেটি দলিলে লেখা থাকে।

বহাল দলিল
– পূর্ববর্তী দলিল যদি আদালত বা ভূমি অফিস দ্বারা বৈধ ও কার্যকর বলে গণ্য হয়, তাকে বহাল দলিল বলে।

দখল ও ভোগদখলের উল্লেখযোগ্য প্রমাণাদি সংযুক্ত
– দলিলের সাথে যদি পুরাতন ট্যাক্স রসিদ, খাজনা রশিদ, বিদ্যুৎ সংযোগ ইত্যাদি থাকে, তা ভোগদখলের প্রমাণ।

পরিশোধযোগ্য অর্থ ব্যতীত হস্তান্তরিত
– হেবা বা দান দলিলে এই লাইন থাকে, অর্থাৎ কোনো বিনিময়মূল্য ছাড়াই জমি দেওয়া হয়েছে।

অস্থায়ী খারিজ বা অস্থায়ী নামজারি
– মালিকানা চূড়ান্ত না হলেও সাময়িকভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—সতর্ক থাকতে হবে।

সংশ্লিষ্ট জমির প্রতি তৃতীয় পক্ষের কোনো দাবি নাই
– অর্থাৎ বিক্রেতা ছাড়া অন্য কেউ জমির উপর মালিকানা দাবি করতে পারবে না, এমন ঘোষণা।

অস্থাবর সম্পত্তি
– দলিলে যদি ঘর, দালান বা কোনো নির্মাণকাজের কথা থাকে, সেগুলোকে অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয় (স্থাবর=জমি, অস্থাবর=নড়ানো যায় এমন সম্পত্তি)।

বিতর্কিত দলিল
– একাধিক ব্যক্তি এক জমি নিয়ে দলিল করেছে—যা পরবর্তীতে সমস্যা সৃষ্টি করে। যাচাই না করে এমন দলিল কিনবেন না।

স্বতঃপ্রণোদিত দলিল বাতিল
– কোনো পক্ষ নিজের ইচ্ছায় দলিল বাতিল করেছে।

রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল বাতিল রেকর্ড আছে কিনা তা যাচাই
– অনেক সময় কেউ দলিল রেজিস্ট্রি করে আবার পরে বাতিল করে—ক্রয়ের আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

বহির্ভূত দলিল
– দলিলে যে জমির কথা বলা আছে, সেটি যদি ওই মালিকের নামে না থাকে, তাহলে তা বহির্ভূত দলিল।

ওয়াকফ দলিল
– ধর্মীয় উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে দানকৃত সম্পত্তি। এটা বিক্রি, হস্তান্তর বা উত্তরাধিকারসূত্রে দেওয়া যায় না।

ক্যান্সেল রেজিস্ট্রি (Cancel Registry)
– দলিল বাতিল সংক্রান্ত দলিল। এর অস্তিত্ব থাকলে সংশ্লিষ্ট মূল দলিল অকার্যকর।

শেষ কথা:

ছেলে-মেয়েদের স্কুলের বই পড়ান ভালো কথা,
কিন্তু দলিল পড়াও শেখান—কারণ শিক্ষা শুধু পাস নম্বর নয়,
জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার সাথেও জড়িত।
©

খতিয়ান ও ম্যাপ সেবা

10/05/2025

🥰 সেভ করে রাখুন কাজে লাগবে🥰
জমির দলিল বৈধ কি না কিভাবে বুঝবেন?
জমি কেনা বা বিক্রি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। এর সাথে জড়িত আইনি প্রক্রিয়াগুলি সঠিকভাবে বোঝা ও অনুসরণ করা জরুরি। জমির দলিল হলো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি যা মালিকানার অধিকার প্রমাণ করে। তাই জমি কেনার আগে দলিলটি বৈধ এবং নির্ভরযোগ্য কিনা তা যাচাই করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

দলিল যাচাই করার গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ:
১. দলিলের মূল কপি পরীক্ষা করুন:
দলিলটি সাব-রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর ও সিলসহ থাকতে হবে।
দলিলের সাথে সংযুক্ত ছবি এবং মালিকের বর্তমান ছবি মিলিয়ে দেখুন।
প্রতিটি পাতায় সরকার নির্ধারিত স্ট্যাম্প সঠিকভাবে লাগানো আছে কিনা নিশ্চিত করুন।

২. দলিলের তথ্য যাচাই করুন:
দলিলে মালিকের নাম, ঠিকানা, জমির পরিমাণ, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর ইত্যাদি তথ্য সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
সাক্ষীদের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর স্পষ্ট এবং যথাযথ কিনা যাচাই করুন।
৩. আইনি পরামর্শ গ্রহণ করুন:
একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী দলিল পরীক্ষা করে বৈধতা নিশ্চিত করতে পারেন।
আইনি জটিলতা থাকলে তিনি সঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন।
৪. অনলাইন যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করুন:
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (e-porcha.gov.bd বা land.gov.bd) থেকে দলিল ও খতিয়ান যাচাই করতে পারেন।
কিছু বেসরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও এই সুবিধা দেয়।

৫. সতর্কতা অবলম্বন করুন:
দলিলে সন্দেহজনক কিছু থাকলে লেনদেন থেকে বিরত থাকুন।
প্রতারণা থেকে বাঁচতে সব তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করুন।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর:
১) দলিলে কি সব তথ্য আছে?
মালিকের নাম, ঠিকানা, জমির পরিমাণ, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, মৌজা, উপজেলা, জেলা ঠিকমতো আছে কিনা যাচাই করুন।

২) দলিলের স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশন:
সরকার নির্ধারিত স্ট্যাম্প ব্যবহার হয়েছে কিনা এবং রেজিস্ট্রার কর্তৃক রেজিস্ট্রি হয়েছে কিনা নিশ্চিত করুন।

৩) মালিকানার ধরণ:

দলিলে মালিকানা অর্জনের মাধ্যম (উত্তরাধিকার, ক্রয়, দান ইত্যাদি) উল্লেখ আছে কিনা দেখুন।

৪) জমির বাস্তব অবস্থা:

জমি বাস্তবে আছে কিনা, দখলে আছে কিনা, ঋণ বা মামলা জর্জরিত কিনা খতিয়ে দেখুন।

৫) দলিলের বয়স:

১৯৭৬ সালের পূর্বের দলিল ‘পুরাতন’ হিসেবে ধরা হয়। অতিরিক্ত যাচাই দরকার হতে পারে।

৬) দলিলের ধরন:

সাধারণত ৪ ধরনের খতিয়ান রয়েছে: সিএস, এসএ, আরএস এবং বিএস।

৭) একাধিক মালিক:

দলিলে একাধিক মালিক থাকলে, সবার সম্মতি ও স্বাক্ষর ছাড়া বিক্রয় করা যাবে না।

৮) মিউটেশন (নামজারি):

নতুন মালিক হিসেবে খতিয়ানে নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মিউটেশন আবশ্যক।

৯) জাল দলিলের লক্ষণ:

ভুল বানান, অস্পষ্ট তথ্য, ভুয়া স্বাক্ষর, ও অস্বাভাবিক অসঙ্গতি থাকলে সতর্ক হোন।

১০) কোথায় যাচাই করবেন?

সাব-রেজিস্ট্রার অফিস: মূল দলিল যাচাইয়ের জন্য।

ভূমি অফিস/অনলাইন পোর্টাল: খতিয়ান ও অন্যান্য রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য।

আইনজীবীর সহায়তা: সার্বিক আইনি যাচাইয়ের জন্য সর্বোত্তম।

নোট: উপরোক্ত তথ্যগুলো শুধুমাত্র প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার জন্য। জমির দলিল যাচাই করার সময় অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া সবসময়ই উত্তম।

e-porcha.gov

09/05/2025

বণ্টননামা দলিল করতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন:

১। মৃত্যুর সনদপত্র (Death Certificate):
মৃত ব্যক্তির সরকারি বা পৌরসভার/ইউনিয়ন পরিষদের প্রদত্ত মৃত্যু নিবন্ধন সনদ লাগবে, যা তার মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২। ওয়ারিশ সনদপত্র (Succession Certificate):
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রাপ্ত ওয়ারিশ সনদ, যাতে স্পষ্টভাবে মৃত ব্যক্তির সকল বৈধ উত্তরাধিকারীদের নাম, পিতা, ঠিকানা ও ওয়ারিশ হিসেবে সম্পর্ক উল্লেখ থাকে।

৩। সম্পত্তির মালিকানা প্রমাণপত্র:

দলিল (Registry Deed): মৃত ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করা যেসব সম্পত্তি রয়েছে, তার মূল দলিল বা সত্যায়িত কপি।

খতিয়ান (CS, SA, RS, BS ইত্যাদি): মালিকানা যাচাইয়ের জন্য জমির হাল ও পুরাতন খতিয়ান।

নামজারি কাগজপত্র (যদি থাকে): কোনো জমির নামজারি হয়ে থাকলে তা প্রদান করা যেতে পারে।

৪। সকল ওয়ারিশদের সম্মতিপত্র:
সকল ওয়ারিশদের স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত সম্মতিপত্র (সম্মতিমূলক ঘোষণা), যেখানে তাঁরা স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে বণ্টনের পক্ষে মত দেন।

---

অতিরিক্তভাবে সহায়ক হতে পারে:

৫। জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি:
বণ্টনকারি ও সকল ওয়ারিশের NID কার্ডের ফটোকপি।

৬। পাসপোর্ট সাইজ ছবি:
প্রত্যেক ওয়ারিশের সাম্প্রতিক ছবি (প্রয়োজনে দলিলে সংযুক্ত করার জন্য)।

৭। দলিল রেজিস্ট্রেশনের খসড়া:
যদি বণ্টননামাটি রেজিস্ট্রি করতে চান, তবে নির্ধারিত স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রি অফিসের ফরম অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হবে।

৮। আদালতের অনুমোদন (প্রয়োজনে):
কোনো ওয়ারিশ minor (অপ্রাপ্তবয়স্ক) হলে, তার অংশ বণ্টনের আগে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।

আরো উপকারী তথ্য পেতে চাইলে পেইজটি ফলো করুন ❤️

09/05/2025

Code of Civil Procedure, 1908 এর সংশোধনীসমূহ (অধ্যাদেশ নং-১৮, ২০২৫) তাং- ৮/০৫/২০২৫ ইং বিস্তারিত আলোচনা।

নিম্নে কোড অফ সিভিল প্রসিডিওর, ১৯০৮ এর অধ্যাদেশ নং-১৮, ২০২৫ অনুযায়ী আনীত প্রধান প্রধান সংশোধনীগুলো পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো:

১. মামলার আরজি হলফনামা দ্বারা প্রমাণ ( ধারা ২৬ এর সংশোধন): এখন থেকে প্রতিটি মামলার আরজিতে উল্লেখিত তথ্য হলফনামা (affidavit) দ্বারা প্রমাণ করতে হবে।
ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধি (ধারা ৩৫ক এর সংশোধন): মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা বা দাবির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বিশ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে পঞ্চাশ হাজার টাকা করা হয়েছে।

২. আদেশ বা ডিক্রি জারিতে নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ (ধারা ৯৪ক এর সংযোজন): আদালত কোনো ডিক্রি বা আদেশ জারির উদ্দেশ্যে নির্বাহী কর্তৃপক্ষ, যেমন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, কে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সহায়তা করার এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে।

৩. সমন জারির পদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার (আদেশ ৫, বিধি ৯ এর সংশোধন): সমন জারির শর্ট মেসেজ সার্ভিস (SMS), ভয়েস কল এবং ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং সার্ভিসের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। তবে এর প্রমাণ অবশ্যই নথিতে রাখতে হবে।

৪. বাদী ও বিবাদীর বিবরণে অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন (আদেশ ৭, বিধি ১ এর সংশোধন): মামলার আরজিতে বাদী এবং বিবাদীর নামের বিবরণ ও বাসস্থানের ঠিকানার পাশাপাশি তাদের ফোন বা মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (NID) এবং ইমেইল ঠিকানা (যদি থাকে) উল্লেখ করতে হবে।

৫. একতরফা ডিক্রি রদের সীমাবদ্ধতা (আদেশ ৯, বিধি ১৩ এর সংশোধন): একই বিবাদীর আবেদনে কোনো ডিক্রি এই নিয়মের অধীনে একাধিকবার রদ করা যাবে না।

৬. মামলা মূলতবির সংখ্যা হ্রাস (আদেশ ১৭, বিধি ১ এর সংশোধন): একটি মামলা সর্বোচ্চ ছয়বারের পরিবর্তে এখন চারবার মূলতবি করা যাবে।

৭. হলফনামার মাধ্যমে জবানবন্দি গ্রহণ (আদেশ ১৮, বিধি ৪ক এর সংযোজন): আরজি বা লিখিত জবাবে থাকা তথ্য বাদী বা বিবাদীকে মৌখিকভাবে পুনরায় বলতে বা অস্বীকার করতে হবে না। সকল ক্ষেত্রে বাদী বা বিবাদীর জবানবন্দি হলফনামার মাধ্যমে হবে এবং এরপর তাদের জেরা ও প্রয়োজনবোধে পুনরায় জেরা করা যাবে। এই হলফনামার একটি অনুলিপি আদালতে জমা দেওয়ার আগে অন্য পক্ষকে সরবরাহ করতে হবে। হলফনামার সাথে দাখিলকৃত দলিলের প্রমাণ ও গ্রহণযোগ্যতা আদালতের আদেশ সাপেক্ষে হবে।

৮. বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচ বৃদ্ধি (আদেশ ১৮, বিধি ২০ এর সংশোধন): সাক্ষীর খরচ এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রদেয় টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেমন, "পাঁচ" এর পরিবর্তে "দশ", "দুই" এর পরিবর্তে "চার", "একশত" এর পরিবর্তে "দুইশত" এবং "সত্তর" এর পরিবর্তে "একশত চল্লিশ" শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

৯. টাকা পরিশোধের ডিক্রি জারিতে বিশেষ বিধান (আদেশ ২১, বিধি ৩০ক এর সংযোজন):
আদালত ডিক্রি হোল্ডারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিক্রির টাকা অপরিশোধিত থাকা সাপেক্ষে দেনাদারকে অনধিক ছয় মাস দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখতে পারবে অথবা টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত আটকাদেশ বহাল থাকবে, যেটি আগে ঘটবে।
দেওয়ানি কারাগারে আটক দেনাদারের ভরণপোষণের খরচ সরকার বহন করবে।
নাবালক, অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া ঘোষিত অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে মূল দেনাদারের স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিকে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে না।
দেনাদার কারাগারে থাকা অবস্থায় ডিক্রির টাকার কমপক্ষে ২৫% জমা দিয়ে বাকি টাকা ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধের বন্ড দিলে আদালত তাকে মুক্তি দেবে। বন্ডের শর্ত অনুযায়ী বাকি টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে অনধিক ছয় মাস দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে।
কোনো দেনাদারকে সম্পূর্ণ মেয়াদে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হলে, একই ডিক্রি জারি মামলায় বা একই ডিক্রি থেকে উদ্ভূত অন্য কোনো জারি মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার বা আটক করা যাবে না।

১০. দেনাদারকে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হলেও তিনি ডিক্রির অপরিশোধিত টাকা পরিশোধের দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন না।

১১. আর্থিক ডিক্রি জারিতে ভরণপোষণের বিধান বিলুপ্তি (আদেশ ২১, বিধি ৩৯ এর বিলুপ্তি): এই নিয়মটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

১২.সরাসরি ডিক্রি জারি (আদেশ ২১, বিধি ১০৪ এর সংযোজন):
তামাদি আইন সাপেক্ষে, যে মামলায় ডিক্রি দেওয়া হয়েছে সেই মামলার নথিতেই ডিক্রি জারির জন্য আবেদন গ্রহণ করতে পারবে এবং আদালত অবিলম্বে ডিক্রি জারির আদেশ দিতে পারবে। আপিল বা রিভিশন আদালত কর্তৃক নথি তলব করা হলে, এই উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত একটি পার্ট-ফাইলে আবেদন গ্রহণ করা যাবে।
ডিক্রি হোল্ডার বা ডিক্রি জারিতে বিক্রিত সম্পত্তির ক্রেতা যদি সম্পত্তি দখলে বাধাগ্রস্ত হন এবং আদালত এ বিষয়ে সন্তুষ্ট হন, তাহলে ডিক্রি হোল্ডার বা ক্রেতার আবেদনে আদালত কোনো ব্যক্তিকে বা প্রয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে।

১৩. আপিল পুনঃশুনানির সীমাবদ্ধতা (আদেশ ৪১, বিধি ২১ এর সংশোধন): এই নিয়মের অধীনে কোনো আপিল একাধিকবার পুনঃশুনানি করা যাবে না।
আপিলের নিষ্পত্তিতে "shall" শব্দের প্রতিস্থাপন (আদেশ ৪১, বিধি ২৪ এর সংশোধন): এই নিয়মে এবং এর উপান্তে উল্লিখিত "may" শব্দটির পরিবর্তে "shall" শব্দটি প্রতিস্থাপিত হবে, যা আদালতের বাধ্যবাধকতা নির্দেশ করে।

১৪. পক্ষগণের অনুপস্থিতিতে আপিলের রায় (আদেশ ৪১, বিধি ৩০ এর সংশোধন): আপিল শুনানির জন্য ডাকা হলে যদি কোনো পক্ষ বা তাদের আইনজীবী কেউই উপস্থিত না থাকেন, এবং আপিল আদালত যদি মনে করেন যে নথিতে থাকা তথ্যাদি আপিলের গুণাগুণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য যথেষ্ট, তাহলে লিখিত কারণ উল্লেখপূর্বক অবিলম্বে বা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে খোলা আদালতে রায় ঘোষণা করতে পারবে।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Address


Motijheel
Dhaka
1000