Sanatan Gurukul, GOLN

Sanatan Gurukul, GOLN Welcome to Sanatan Gurukul, GOLN – a platform dedicated to exploring, preserving, and celebrating the profound wisdom of Sanatan Dharma.

This initiative of the Gurukul Online Learning Network (GOLN) can be accessed at https://sanatangoln.com and serves as a digital repository for Sanatan stories, beliefs, literature, and much more. Whether you are a lifelong devotee, a scholar, or simply someone interested in learning about Sanatan values and spirituality, Sanatan Gurukul aims to provide a wealth of resources to deepen your underst

anding of this ancient spiritual tradition. Why Sanatan Gurukul?
===================
The term "Sanatan" translates to "eternal" or "timeless," and it captures the enduring nature of these sacred teachings. Sanatan Dharma, commonly referred to as Hinduism, is one of the oldest spiritual traditions in the world, encompassing a vast collection of philosophies, practices, and texts that offer insights into the meaning of life, the nature of the soul, and the purpose of existence. Sanatan Gurukul, GOLN was established to serve as a comprehensive, accessible platform for anyone interested in the teachings, stories, and practices of Sanatan Dharma. We believe in the power of these ancient teachings to provide guidance, peace, and clarity in today’s world. By providing a dedicated online resource, Sanatan Gurukul hopes to promote a deeper appreciation for the wisdom and values that have guided humanity for millennia. What You’ll Discover at Sanatan Gurukul
===========================
Our website offers a rich array of resources that delve into various aspects of Sanatan Dharma. Here’s a look at what you can explore:

1. Sanatan Stories:
Discover mythological tales, historical narratives, and parables that have been passed down through generations. These stories include narratives from the epics like the Mahabharata and Ramayana, as well as tales of the gods, goddesses, sages, and devotees who embody Sanatan principles.

2. Sanatan Beliefs and Philosophies:
Explore the fundamental beliefs of Sanatan Dharma, including karma (the law of cause and effect), dharma (righteous duty), moksha (liberation), and more. Through articles, videos, and discussions, we delve into the spiritual philosophies that form the foundation of Sanatan Dharma and offer guidance on applying these timeless principles in daily life.

3. Sanatan Literature and Texts:
Gain access to summaries, explanations, and interpretations of sacred texts, including the Vedas, Upanishads, Bhagavad Gita, Puranas, and more. These texts contain profound teachings on spirituality, ethics, meditation, and the divine nature of existence. Our goal is to make these texts accessible and relevant to modern readers.

4. Practice and Rituals:
Understand the various practices and rituals that are an integral part of Sanatan culture. This includes information on meditation, prayer, yoga, festivals, and puja rituals, as well as guidance on performing these practices with reverence and understanding.

5. Sanatan Values and Principles:
Learn about the core values upheld in Sanatan Dharma, such as compassion, non-violence, truthfulness, and respect for all forms of life. These values are universal and provide a moral and ethical compass that guides adherents in living a harmonious and righteous life.

6. Sanatan Wisdom for Modern Life:
Sanatan teachings are not limited to ancient times; they offer insights and practices that are highly relevant to the challenges of modern life. We provide articles and discussions on applying Sanatan wisdom in areas such as mental wellness, relationships, career, and self-development.

7. Community Discussions and Engagement:
Sanatan Gurukul is not just a repository of information; it’s a community. Through our forums and discussion boards, users can ask questions, share their experiences, and engage in meaningful conversations with others who share a love and respect for Sanatan Dharma.

8. Events and Workshops:
Stay informed about upcoming events, online workshops, and lectures related to Sanatan teachings. These events offer opportunities to deepen your knowledge, connect with like-minded individuals, and experience the essence of Sanatan Dharma in a communal setting. Our Mission: To Preserve and Share Eternal Wisdom
==================================
At Sanatan Gurukul, GOLN, our mission is to preserve and share the teachings of Sanatan Dharma in a way that is accessible, respectful, and relevant to all. We believe that these teachings contain universal truths that can benefit individuals from all walks of life, regardless of their background or beliefs. Through this platform, we strive to foster understanding, appreciation, and a sense of connection to the timeless values that Sanatan Dharma represents. Join Us on This Journey
=================
We invite you to explore the treasures of Sanatan Dharma with us. Whether you’re looking to deepen your spiritual practice, learn about the philosophy and values of Sanatan Dharma, or connect with a community of like-minded individuals, Sanatan Gurukul, GOLN is here to support you. Thank you for being a part of this journey. Visit us at https://sanatangoln.com, and together, let’s celebrate and preserve the eternal wisdom of Sanatan Dharma.

ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ - পৃথ্বীরাজ সেন(বিস্তারিত কমেন্টে)
07/03/2026

ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ - পৃথ্বীরাজ সেন
(বিস্তারিত কমেন্টে)

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ - পৃথ্বীরাজ সেন(বিস্তারিত কমেন্টে)
07/03/2026

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ - পৃথ্বীরাজ সেন
(বিস্তারিত কমেন্টে)

প্রভু জগদ্বন্ধু(বিস্তারিত কমেন্টে)
07/03/2026

প্রভু জগদ্বন্ধু
(বিস্তারিত কমেন্টে)

মা আনন্দময়ী(বিস্তারিত কমেন্টে)
07/03/2026

মা আনন্দময়ী
(বিস্তারিত কমেন্টে)

বাঙালি সনাতনী রীতি ও আচার-অনুষ্ঠান: ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও জীবনদর্শন(বিস্তারিত কমেন্টে)
06/03/2026

বাঙালি সনাতনী রীতি ও আচার-অনুষ্ঠান: ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও জীবনদর্শন
(বিস্তারিত কমেন্টে)

যুগপুরুষোত্তম শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র: জীবন ও শাশ্বত দর্শন(বিস্তারিত কমেন্টে)
06/03/2026

যুগপুরুষোত্তম শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র: জীবন ও শাশ্বত দর্শন
(বিস্তারিত কমেন্টে)

শ্রীশ্রীচণ্ডী গ্রন্থ পরিচিতি(বিস্তারিত কমেন্টে)
06/03/2026

শ্রীশ্রীচণ্ডী গ্রন্থ পরিচিতি
(বিস্তারিত কমেন্টে)

স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও উক্তির সংকলন(বিস্তারিত কমেন্টে)
06/03/2026

স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও উক্তির সংকলন
(বিস্তারিত কমেন্টে)

13/10/2025

कर्मण्येवाधिकारस्ते मा फलेषु कदाचन।
मा कर्मफलहेतुर्भूर्मा ते सङ्गोऽस्त्वकर्मणि॥ २-४७

Karmanye vadhikaraste Ma Phaleshu Kadachana,
Ma Karmaphalaheturbhurma Te Sangostvakarmani

You have the right to work only but never to its fruits.
Let not the fruits of action be your motive, nor let your attachment be to inaction.

তোমার অধিকার কেবল কর্ম করার মধ্যে, কিন্তু কখনও তার ফলে নয়।
তোমার কর্মফলের প্রতি যেন আকাঙ্ক্ষা না থাকে, এবং কর্মবিমুখতার প্রতিও যেন আসক্তি না জন্মায়।

#ফলচিন্তা_বিহীন_কর্ম #কর্মযোগ #আত্মউন্নয়ন #ধ্যান_এবং_কর্ম

সনাতন ধর্মে যোগসাধনার দুইটি দিক রয়েছে- একটি তার আনুষ্ঠানিক দিক এবং অপরটি তার আধ্যাত্মিক দিক। পূজা-পার্বণ তার আনুষ্ঠানিকত...
17/09/2025

সনাতন ধর্মে যোগসাধনার দুইটি দিক রয়েছে- একটি তার আনুষ্ঠানিক দিক এবং অপরটি তার আধ্যাত্মিক দিক। পূজা-পার্বণ তার আনুষ্ঠানিকতা আর যোগসাধনা তার আধ্যাত্মিকতা। আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়েই যোগসাধনায় অগ্রসর হতে হয়। যোগসাধনার এক আধ্যাত্মিক বার্তা রয়েছে মহালয়া তত্ত্বে। মহালয়া একটি যোগতাত্ত্বিক দার্শনিক তত্ত্ব। মহালয়া তত্ত্বটিকে উপলব্ধি করে হৃদয়ে ধারণ করতে পারলে অতি সহজে আধ্যাত্মিকতা লাভ করা যায়। কারণ, যোগসাধনা সাধকের আধ্যাত্মিকতা লাভের প্রকৃষ্ট পন্থা।

আমরা সবাই জানি যে, প্রতি মাসে দুইটি পক্ষ থাকে। একটি শুক্লপক্ষ, অন্যটি কৃষ্ণপক্ষ। শুক্লপক্ষের শেষ তিথিকে বলা হয় পূর্ণিমা, আর কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথিকে বলা হয় অমাবস্যা। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার কারণে জোয়ার ভাটা হয়। ইহা আমরা প্রত্যক্ষভাবে দেখতে পাই। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, পূর্ণিমা ও অমাবস্যার যতেষ্ট প্রভাব রয়েছে প্রকৃতির উপর। উহারা শুধু প্রকৃতির উপরই প্রভাববিস্তার করে না, উহারা আমাদের দেহ ও মনের উপরও যথেষ্ট প্রভাববিস্তার করে। উহারা আমাদের দেহ ও মনের উপর প্রভাববিস্তার করে বিধায় আমাদের যোগসাধনায়ও উহাদের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এইজন্যই বলা হয় মহালয়া একটি যোগতাত্ত্বিক দার্শনিক তত্ত্ব। মহালয় থেকেই মহালয়া পদটি এসেছে। মহালয়া পদটি হলো মহালয় শব্দের স্ত্রীলিঙ্গান্ত। সাধারণত মহালয় শব্দের অর্থ হলো- মহতের যে আলয়। ‘মহ’ মানে- মহৎ, আর ‘আলয়’ মানে বাসস্থান। তত্ত্বগত দিক থেকে মহালয়ার বিভিন্ন তাৎপর্য রয়েছে। প্রথমত মহা+আলয়=মহালয়। অর্থাৎ- মহতের শ্রেষ্ঠ আশ্রয় বা বাসস্থান যেখানে মহতেরা বাস করেন। মহতেরা বলতে অপর পক্ষকে বোঝানো হয়েছে। পিতৃপুরুষদেরকেই অপর পক্ষ বলা হয়। এইজন্যই পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে মহালয়া তিথিতে তর্পণাদি করা হয়। দ্বিতীয়ত মহতের আলয় অর্থাৎ- যোগীদের পরম আবাসস্থল। তৃতীয়ত ‘মহা’ ও ‘লয়’ অর্থাৎ- মহতে যা লয় হয়। মহতে লয় মানে- পরমাত্মায় বা পরব্রহ্মে লীন হওয়া। মহতাদি বলতে বোঝায় সাংখদর্শনে কথিত মহৎ, অহংকার ও পঞ্চতন্মাত্র- এদের লয় হয় যেখানে। এসব কিছুরই লয় হয় যে পরমাত্মায় সেই পরমাত্মা বা পরব্রহ্মই মহালয়। চতুর্থত আমাদের শাস্ত্র বলা হয়েছে- ‘সৗরাশ্বিনীয়ঃ কৃষ্ণপক্ষো মহালয়া’। অর্থাৎ- সৌর আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের নাম মহালয়া। পুর্বপুরুষদের অক্ষয় লাভের দ্বারাই পরমশান্তি হয়। এইজন্য উত্তরপুরুষেরা পূর্বপুরুষদের জন্য প্রার্থনা করে জলাঞ্জলি নিবেদন করেন। পঞ্চমত ‘মহ্যন্তে পূজ্যন্তে দেবাদয়ো ’ স্নিন্নিতি’ অর্থাৎ- দেবতাদের পূজার জন্য এই সময়টি অতি প্রশস্ত। এই মহালয়া তিথি থেকে মহাপূজা আরম্ভ হয়। এই অর্থেও মহালয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ-এ পাওয়া যায়- ‘শারদেন ঋতুনা দেবাঃ’। অর্থাৎ- শরৎকালে দেবতাদের অর্চনার প্রশস্ত সময়। দুর্গার এক নাম শারদা, অপর নাম অম্বিকা। তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ-এও দেখা যায়- ‘শারদা তস্যাম্বিকা স্বসা’। অর্থাৎ- অম্বিকাকে শারদা নামে অভিহিত করা হয়েছে। শারদা শব্দের অর্থÑ শরৎকালবিষয়িণী, আবার দুর্গা। তাই শরৎকালকে দুর্গাপূজার প্রশস্ত সময় বলা হয়েছে। এইসবই মহালয়ার তাত্ত্বিক দর্শন।

মহালয়া পিতৃপক্ষ আর দেবীপক্ষেরই মহাসন্ধিক্ষণ। মহালয়া অমাবস্যা তিথিতেই হয়ে থাকে। পরলোকগত পিতৃপুরুষের আত্মার শান্তির জন্য দেবীপক্ষের আরম্ভের পূর্বে অর্থাৎ- ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদ তিথি থেকে একপক্ষকাল প্রতিদিন তিলতর্পণ করতে হয় এবং মহালয়া তিথিতে পার্বণ শ্রাদ্ধের মাধ্যমে তার সমাপ্তি হয়। এই ক্ষেত্রে ‘মহ’ অর্থ হলো- পূজা, অর্থাৎ- পিতৃপুরুষদের পূজা। পিতৃপক্ষের পূজা পিতৃপুরুষের শান্তির জন্য করা হয়। আবার বলা হয়েছে- ‘মহ্যন্তে দেবাদয়ো ’স্নিন্নিতি’ অর্থাৎ- দেবতাদের পূজার জন্য এই সময়টি অতি প্রশস্ত। ইহা আমরা দেবীপক্ষে মা দুর্গার পূজা করে থাকি। পিতৃপূজা ও দেবীপূজা উভয়টিই সাধনার বিষয়। এই উভয়টির জন্যই যোগসাধনা করতে হয়। এই উভয়টিই আমাদের জন্য মহৎ কর্ম। এইজন্যই বলা হয়- মহাযোগীদের সাধনার প্রকৃষ্ট সময় হলো মহালয়া। মহান ব্যক্তিদের পূজা এবং শক্তিপূজার প্রকৃষ্ট সময় এই মহালয়া তিথি। এখন প্রশ্ন দেখা দিতে পারে- তাহলে কি অন্য কোনো সময় পূজা ও যোগসাধনার সময় হতে পারে না? হ্যাঁ, হতে পারে। কিন্তু সময়েরও একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। সময়ের গুরুত্ব পূর্ণিমা ও অমাবস্যার দিকে দৃষ্টিপাত করলে সহজেই উপলব্ধি করা যায়। এই সময়ের কারণেই অর্থাৎ- অমাবস্যা ও পূর্ণিমার কারণেই চন্দ্রের ক্ষয় হয় আবার চন্দ্রের বৃদ্ধি হয়। চন্দ্রের আস্তে আস্তে ক্ষয় হওয়া এবং আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাওয়া সময়ের গুরুত্বই প্রমাণ করে। চন্দ্রের হ্রাস ও বৃদ্ধি সময়ের কারণেই হয়ে থাকে। তা না হলে কৃষ্ণপক্ষে অন্ধকার এবং শুক্লপক্ষে চাঁদের আলো দেখা যায় কেন? চন্দ্রকলার ক্ষয় হতে হতে যেমন অমাবস্যা হয়, ঠিক তেমনিভাবে চন্দ্রকলার বৃদ্ধি হতে হতে পূর্ণিমা হয়। সেইভাবেও যোগসাধনার দ্বারাও আমাদের মনের চঞ্চলতাকে ক্ষয় করে করে যোগসাধনার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। চন্দ্রের যেমন হ্রাস-বৃদ্ধি হয় তেমনিভাবে আমাদের মনের চঞ্চলতারও হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। যোগসাধনার দ্বারা মনের চঞ্চলতা ক্ষীণ হতে হতে সর্বশেষে মনের ক্রীয়াহীনতাই যোগীর জন্য যোগসাধনার সহায়ক হয়ে ওঠে। চন্দ্রের ক্ষয় হতে হতে শেষে আর আলোক থাকে না। যখন আর কোনো আলোক থাকে না তখন ‘অমা’ অর্থাৎ- অন্ধকার হয়ে যায়। ‘অমা’ শব্দটির দুইটি অর্থ রয়েছে। একটি ‘অমা’ মানে অন্ধকার, আর অপর ‘অমা’টির মানে হলো- যা আর পরিমাপ করা যায় না। যোগসাধনা করেই মানুষ অন্ধকার হতে আলোর জগতে যেতে পারে অর্থাৎ- মোক্ষ লাভ করতে পারে। মোক্ষ লাভ করাই মানবজীবনের উদ্দেশ্য। চন্দ্রের মতো সর্বশেষ অবস্থায় অর্থাৎ- পরিমাপ করা যায় না সেই অবস্থায় পৌঁছাতে পারলেই যোগীর পক্ষে মোক্ষ লাভ করা সম্ভব হয়। যোগসাধনায় যোগীর পূর্ণতা লাভ হলেই যোগীর নিজের মধ্যে যেসমস্ত সুপ্তশক্তি রয়েছে সেগুলি নিজে অর্জন করতে পারেন। এই শক্তি অর্জন করেই সাধক তাঁর অধ্যাত্মজীবন লাভ করে থাকেন। তখন সাধক সাধনা করতে করতে কুটস্থে ব্রহ্মজ্যোতি দর্শন করেন। যোগারূঢ় সাধকই কুটস্থে অবস্থান করে যোগারূঢ় হয়ে থাকেন। যোগারূঢ় সাধকের কথা বলতে গিয়ে গীতার ষষ্ঠ অধ্যায়ের ৮ সংখ্যক শ্লোকে ভগবান বলেছেন-

জ্ঞানবিজ্ঞানতৃপ্তাত্মা কূটস্থো বিজিতেন্দ্রিয়ঃ।
যুক্ত ইতুচ্যতে যোগী সমলোষ্টাশ্মকাঞ্চনঃ ॥ গীতা- ৬/৮

অর্থাৎ- যাঁর অন্তকরণ জ্ঞান-বিজ্ঞান দ্বারা পরিতৃপ্ত, যিনি কূটের (কামারের বেদীর) ন্যায় নির্বিকার, জিতেন্দ্রিয় এবং মৃৎখ-, পাথর এবং সুবর্ণে বুদ্ধি সম্পন্ন, এইরূপ যোগীকে যুক্ত (যোগারূঢ়) বলা হয়।

এখানে কূটস্থ ও যোগারূঢ়-এর কথা বলা হয়েছে। কূট শব্দের অর্থ- লৌহদণ্ড। যার উপরে হাতুড়ির ঘা মাড়া হয়, কিন্তু তাতেও তা অবিচলিত থাকে। যার উপর লোহা, সোনা, রূপা ইত্যাদি নানারূপে তৈরি করা হয়। কিন্তু কূট একই অবস্থায় সবসময় নির্বিকার থাকে। এরদ্বারা এই বোঝানো হয়েছে যে, যিনি কূটস্থ হয়েছেন তিনি সস্পূর্ণভাবে নির্লিপ্ত ও নির্বিকার। যে সাধক সর্বদা অবিচলভাবে পরমাত্মার স্বরূপে স্থিত থাকেন তাঁকেই কুটস্থ বলা হয়। কূটস্থ প্রাকৃত সত্তার সকল পরিবর্তনের উর্দ্ধে অবস্থান করেন। আর ইহার সাথে যোগীকে তখনই বলা যায় যে, তিনি ইহার মতো কূটস্থ হন। যখন তিনি সকল বাহ্যদৃশ্য ও পরিবর্তনের উর্দ্ধে উঠেন তখন তিনি আত্মজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত হন। ভগবান দুইটি নিগুঢ় ভাব ও তত্ত্বে নিজেকে জগতে ব্যক্ত করেছেন। তাঁর একটি ভাবে তিনি এই পরিবর্তনশীল জগতের সবকিছুই হয়েছেন। যাকে ক্ষর বলা হয়। আর একটি ভাবে তিনি এই সবকিছুর উর্দ্ধে শাশ্বত। এই অক্ষর ভাবটিই বোঝাতেই কূটস্থ বিশেষণটি ব্যবহার করেছেন। ক্ষর ও অক্ষর কী? ক্ষর বিনাশীল এবং অক্ষর অবিনাশী। এই সংসারে ক্ষর ও অক্ষর এই দুইটি পুরুষ প্রসিদ্ধ রয়েছেন। জীবদেহস্থ আত্মা প্রকৃতির বশে এসে আমি কর্তা, আমি ভোক্তা প্রভৃতি অনুভূতির আধার হয়। এই প্রকৃতিস্থ আত্মাকেই ক্ষর পুরুষ বলা হয়। প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে সাথে ইহারও অনুভূতির পরিবর্তন হয়। এই জন্যই ইহা ক্ষর পুরুষ। এই সমস্ত ক্ষর পুরুষের অধারতারূপে এক অপরিণামী অব্যয় প্রকৃতি হতে সতন্ত্র সনাতন আত্মা আছেন। ইনি প্রকৃতির অধীনতা হতে মুক্ত, স্বাধীন ও সতন্ত্র। প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে ইহার কোনও পরিবর্তন হয় না। ইনি সর্বজীবে সমভাবে অবস্থান করেন। ইনিই এক স্বাধীন সত্তা। ইহাই কুটস্থ অক্ষর পুরুষ। এই কুটস্থ অক্ষর পুরুষকেই লাভ করার জন্য সকল সাধকের সাধনা। এই অক্ষর পুরুষকে লাভ করতে হলে জ্ঞান লাভের দ্বারা রাগ-দ্বেষ হতে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়ে পূর্ণ সমতায় প্রতিষ্ঠিত হলেই প্রকৃত ইন্দ্রিয়জয়ী হওয়া যায়। অর্থাৎÑ যোগারূঢ় হওয়া যায়। জ্ঞানী ব্যক্তি কিরূপ কূটস্থ ও ইন্দ্রিয়জয়ী তা সুন্দর করে শ্রীরামকৃষ্ণ আমাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

শ্রীরামকৃষ্ণ- ‘দুটি জ্ঞানের লক্ষণ। প্রথম কূটস্থ বুদ্ধি। হাজার দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-বিঘ্ন হোক- নির্বিকার, যেমন কামারশালের লোহা, যার উপর হাতুড়ি দিয়ে পেটে। আর, দ্বিতীয় পুরুষকার- খুব রোখ। কাম-ক্রোধে আমার অনিষ্ট কচ্ছে তো একেবারে ত্যাগ! কচ্চপ যদি হাত-পা ভিতরে সাঁদ করে, চারখানা করে কাটলেও আর বার করে না।’ (সূত্র- শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃতÑ ৪০৮ পৃষ্ঠা।) এখানে বলা হয়েছে যে, যে যোগী সর্বদা অবিচলভাবে পরমাত্মার স্বরূপে স্থিত থাকেন তাঁকেই কূটস্থ বলা হয়। আর যে সাধক ভোগে ও কর্মে আসক্ত না হয়ে সব সময় সঙ্কল্পত্যাগী হয়ে থাকেন তাঁকেই যোগারূঢ় সাধক বলা হয়। তাই কোনো সাধককে এই অবস্থা লাভ করতে হলে তাঁকে কূটস্থ হয়েই যোগারূঢ় হতে হবে। এই যোগারূঢ় অবস্থা লাভ করতে হলে তার জন্য চাই কঠোর সাধনা। কঠোর সাধনা করেই গুণাতীতের অবস্থা লাভ হয়। গুণাতীতের অবস্থাই কূটস্থের অবস্থা। কূটস্থের অবস্থা লাভ করেই সাধক পরমাত্মার সাথে যুক্ত হয়ে থাকেন। তাই যোগসাধনাই মোক্ষ লাভের পথ। আর এই মহালয়া তিথিতে সাধন করলে সাধক সহজে আধ্যত্মিকতা লাভ করত পারেন। তাই মহালয়ার সময়কাল যোগসাধনার জন্য অতি উত্তম।

সাধনার জন্য চাই শক্তি। যেমন শারীরিক শক্তি তেমনিভাবে মানসিক শক্তি। যোগসাধনার জন্য মানসিক শক্তিই বেশি প্রয়োজন। সাধনা করতে হলে শক্তিকেও লাভ করতে হয়। শক্তিকে লাভ করতে না পারলে কিছুই লাভ করা যায় না। তাই হৃদয়ের শক্তিকে জাগ্রত করতে হবে। সাধক যখন মূলাধার থেকে কুলকু-লিনী শক্তিকে জাগ্রত করে ক্রমে ক্রমে মহাশক্তির কূটস্থে প্রবেশ করেন তখন সেই কুলকু-লিনী মহাশক্তিতে রূপান্তিত হন। এই মহাশক্তিকে অর্জন না করে কেউ-ই গুণাতীতের অবস্থা লাভ করতে পারেন না। অর্থাৎ- কুটস্থে পৌঁছাতে পারেন না। যোগের বিষয় নিয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ ভক্তদের সাথে কথা বলতেছেন। তিনি বলছেন- শিবসংহিতায় সেই সকল কথা আছে।

শ্রীরামকৃষ্ণ- ইড়া, পিঙ্গলা, সুষুম্নার ভিতর সব পদ্ম আছে- চিন্ময়। যেমন মোমের গাছে, ডলপালা, ফল- সব মোমের। মূলাধার পদ্মে কুলকু-লিনী শক্তি আছেন। চর্তুদল পদ্ম। যিনি আদ্যাশক্তি তিনিই সকলের দেহে কুকু-লিনীরূপে আছেন। যেন ঘুমন্ত সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে রয়েছে! (সূত্র- শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত- ৩৫৬ পৃষ্ঠা।)

কুলকু-লিনীর কথা বলতে গিয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন- ‘কুলকুণ্ডলিনী জাগ্রতা হলে মূলাধার, স্বধিষ্ঠান, মণিপুরÑ এই সব পদ্ম ক্রমে পার হয়ে হৃদয়মধ্যে অনাহত পদ্ম- এইখানে এসে অবস্থান করে। তখন লিঙ্গ, গুহ্য, নাভি থেকে মন সরে গিয়ে চৈতন্য হয় জ্যোতিঃ দর্শন হয়। সাধক অবাক হয়ে জ্যোতিঃ দেখে আর বলে একি! একি! (সূত্র- শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত- ৫০৪ পৃষ্ঠা।)
এখন মনে একটি প্রশ্ন জাগে যে, দুর্গাপূজার সঙ্গে মহালয়ার কী সম্পর্ক রয়েছে? পিতৃপক্ষের অবসানে অন্ধকার অমাবস্যার সীমানা পেরিয়ে আমরা যখন আলোকময় দেবীপক্ষের আগমনকে প্রত্যক্ষ করি তখনই সেই মহালগ্নটি আমাদের জীবনে মহালয়ার আলোকের বার্তা নিয়ে আসে। সেই সময়েই আমরা আলোর পথে অগ্রসর হয়ে জীবনকে আলোকময় করতে পারি। দেবীপক্ষই মহা আলোকের আধার। এই দেবীই হচ্ছেন সেই মহাআলোকময়ী। সেই দেবীই আদ্যশক্তি, তিনিই করুণাময়ী। সাধক সাধনা করেন এই মহা আলোককে অর্থাৎ- মহাদেবীকে লাভ করার জন্য। দেবীই মহা আশ্রয় স্থল। তাই আমরা যোগ সাধনায় প্রবৃত্ত হই। সাধক যখন মূলাধার থেকে- কুলু-লিনীর শক্তিতে মহাশক্তিতে নিজেকে জাগ্রত করেন তখন সেই কুলকু-লিনী শক্তি মহাশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই মহাশক্তিই মা দুর্গার মহাশক্তি। এই মহাশক্তি অর্জন করেই আধ্যাত্মিকতা লাভ করতে হয়। সাধকগণ যোগসাধনা করেই এই মহাশক্তি অর্জন করে থাকেন। এই মহাদেবীর মহাশক্তির মহা আলোকে গমন করাই মহালয়ার সকল আনুষ্ঠানিকতার মূল লক্ষ্য। মহালয়ার সেই মহা আলোকে অভি¯œাত হউক আমাদের সকলের জীবন।


লেখক:
গোপেশচন্দ্র সূত্রধর
অবসর প্রাপ্ত ডেপুটি ম্যানেজার, বাংলাদেশ ব্যাংক, সিলেট।

सर्वधर्मान्परित्यज्य मामेकं शरणं व्रज । अहं त्वां सर्वपापेभ्यो मोक्षयिष्यामि मा शुचः ।। १८- ६६ ।।সকল প্রকার কর্তব্য বা আ...
26/11/2024

सर्वधर्मान्परित्यज्य मामेकं शरणं व्रज । अहं त्वां सर्वपापेभ्यो मोक्षयिष्यामि मा शुचः ।। १८- ६६ ।।

সকল প্রকার কর্তব্য বা আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করে শুধু আমার কাছে আত্মসমর্পণ কর। আমি তোমাকে সমস্ত পাপ প্রতিক্রিয়া থেকে উদ্ধার করব। ভয় কর না।

— ভগবদ্গীতা, ১৮.৬৬

https://youtu.be/tujcCI6MLD0?si=D-0w1v7OVO7iD_uw

Feel the calming quality of divine music in this rendering of Om Bhagwate Vasudevaya by Pandit Jasraj from the Bhakti Kiran collection of devotional music. ....

Address

A3, Navana Sattar Garden, 86/1 New Eskaton Road
Dhaka
1000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sanatan Gurukul, GOLN posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Sanatan Gurukul, GOLN:

Shortcuts

Share

Category