فصلت - ফুসসিলাত

فصلت - ফুসসিলাত

Share

ইয়া রব্, আমাদেরকে সরল ও সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং তাতে অবিচল রাখুন।

23/05/2025

আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে দোয়া বা কিছু চাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ মুহূর্তকে বেছে নেয়া উত্তম। দোয়ার বিশেষ মুহূর্ত আছে অনেকগুলো। আমরা অধিকাংশই এই সময়গুলোর ব্যাপারে জানি না। না জানার কারণে এই সময়গুলোতে দোয়ার ব্যাপারে আমরা গুরুত্বও দিইনা। এটি আমাদের জন্য আসলে এক প্রকার লোকসানের ব্যাপার।

দোয়া কবুলে বিশেষ মুহূর্তগুলো একসাথে উল্লেখ করছি। হতে পারে এটি আমাদের কারো কারো উপকারে আসতে পারে।

দুআ কবুলের দিনসমূহঃ ১. আরাফার দিন ২. আশুরা তথা মুহাররমের ১০ তারিখ ৩. শাবানের পনেরো তারিখ ৪. রমজানের ১৭ রোজার দিন ৫. উভয় ঈদের দিন ৬. রজবের সাতাশ তারিখ ৭. জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন এবং আইয়ামে তাশরিকের দিনসমূহ ৮. জুমুআর দিন।

দুআ কবুলের রাতসমূহঃ ১. রমজানের পুরো মাস, বিশেষত শেষের দশের বিজোড় রাত ২. ইফতারির সময় ৩. জুমুআর রাত ৪. রজবের প্রথম রাত ৫. রজবের পনেরোতম রাত ৬. রজবের সাতাইশতম রাত ৭. মুহাররমের প্রথম রাত ৮. মুহাররমের দশম রাত ৯. শাবানের পনেরোতম রাত ১০. জিলহজের নবব রাত ১১. দুই ঈদের রাত ১২. জিলহজের চৌদ্দ ও পনেরোতম রাত।

বিভিন্ন মকবুল সময়ঃ ১. ওজুর মাঝামাঝি ও ওজুর শেষের সময় ২. আজান শোনার মুহূর্ত, আজানের মধ্যবর্তী ও পরের মুহূর্ত ৩. আজান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময় ৪. হাইয়ালাতাইনের পরবর্তী সময় ৫. ইকামাত শুরু হওয়ার মুহূর্ত ৬. নামাজে সুরা ফাতেহা শেষ হওয়ার পর ৭. ফরজ নামাজসমূহের পর ৮. সিজদার সময় ৯. কুরআন তিলাওয়াতের পর ১০. তিলাওয়তে কুরআন খতম হওয়ার পর

১১. মুসলিমদের জমায়েতের স্থান ও সময় ১২. জিকিরের মজলিসের সময় ১৩. উলামায়ে রব্বানি ও আহলুল্লাহদের প্রতি দৃষ্টিপাতের সময় ১৪. বৃষ্টি বর্ষণের সময় ১৫. অসুস্থতার সময় ১৬. রোগীর সেবা শশ্রুষাকারীর দুআ ১৭. অপারগতা, অস্বচ্ছলতা এবং অসহায়ত্বের সময় ১৮. সফরের সময় ১৯. সূর্য উদয়, অস্ত ও হেলার সময়, বিশেষত জুমার দিন ২০. শেষ রাতে মোরগা আজান দেওয়ার সময়

২১. সুবহে সাদিকের সময় ২২. রাতের বেলা, বিশেষত অর্ধরাত্রির পর ২৩. রাতের প্রথম এক তৃতীয়াংশের সময় ২৪. রাতের শেষ এক তৃতীয়াংশের সময় ২৫. রাতের শেষ এক ষষ্ঠাংশের সময় ২৬. মাজলুমের দুআ ২৭. জিহাদের কাতারে অবস্থানের সময় ২৮. কাফেরদের সাথে প্রচণ্ড লড়াইয়ের সময় ইসলামী সেনাবাহিনীর দুআ ২৯. যখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত ব্যক্তির শেষ সময় হয় এবং তার রুহ চলে যেতে থাকে আর মানুষ তার চোখ ও মুখ বন্ধ করে দিতে থাকে, তখনকার সময় ৩০. বাইতুল্লাহকে প্রথমবার দেখার সময় ৩১. যমযমের পানি পান করার সময়।

(বারাকাতে দুআ, ৪২৯-৪৩১ পৃষ্ঠা)

17/05/2025

আরসার প্রধানকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারটিকে বাংলাদেশের মানুষ সাধারণ কিংবা উচিত ঘটনা হিসেবে নিয়েছে। কিন্তু এটা ছিল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির একটি আক্রমণ।

আরাকানে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ছিল আরসা। আরসাকে দমন ও দূর্বল করা পশ্চিমা পলিসি। উপদেষ্টা সরকার এটাই বাস্তবায়ন করেছে। বিপরীতে আরাকান আর্মিকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং শক্তিশালী করা আমেরিকান প্রজেক্ট। অথচ আরাকান আর্মি মুসলিম বিদ্বেষী।

তারা এখনো আরাকানের মুসলিমদের উপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে। তাদের অত্যাচারে এখনো আরাকানি মুসলিমরা বাংলাদেশে হিজরত করছে। তারা সেখানে মুসলিমদের উপর বলতে গেলে বর্বর দাসপ্রথার প্রচলন করেছে।

আরাকান আর্মি কেবল মুসলিম বিদ্বেষীই নয়, তারা বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। বাংলাদেশে এসে তারা ডাকাতি করে। উপজাতিদের সাথে তাদের গভীর যোগাযোগ, যেই উপজাতিরা আবার পার্বত্য চট্টগ্রামে আলাদা স্বায়ত্তশাসন বা জুমল্যান্ড নামে আলাদা রাষ্ট্র চায়।

আপনি পরিপূর্ণ ছকটা একটু খেয়াল করুন। আরসাকে দমন ও আরাকান আর্মিকে প্রতিষ্ঠা। তাদের জন্য মানবিক করিডোরের পরিকল্পনা। অন্যদিকে পশ্চিমা ও খ্রিস্টান মিশনারীদের জুমল্যান্ড গঠনের তৎপরতা। পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর রেন্ডিয়া থেকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সাপ্লাই। সরকারের কাছে পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইউপিডিএপের স্বায়ত্বশাসনের প্রস্তাবনা। এরপর আছে চট্টগ্রামের বন্দরকে মার্কিনপন্থী ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে তুলে দেয়া।

ডিপি ওয়ার্ল্ড বিভিন্ন দেশে বন্দর পরিচালনা করে। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা স্বাভাবিক না। কারণ চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ঝুকিপূর্ণ এলাকা। একে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা চলমান। যেখানে রেন্ডিয়া ও পশ্চিমা শক্তি উভয়েই ইনভলভ। এছাড়া মার্কিন এম্বাসি যখন বন্দর পরিদর্শন করে এসে বিদেশী এই কোম্পানির কাছে বন্দর তুলে দেয়ার ব্যাপারে আনন্দ প্রকাশ করে, তখন সন্দেহ আরো তীব্র হয়।

করিডোর দিবেন, বন্দর দিবেন। এসব দিয়ে দেশে কি ঢুকবে, কাদেরকে পশ্চিমা বিশ্ব শক্তিশালী করবে- এসব খুবই গুরুত্বপূর্ণ কনসার্ন। আরাকান আর্মির সাথে যেমন পশ্চিমাদের সম্পর্ক আছে, তেমনি আছে পাহাড়ের সন্ত্রাসী ও মিশনারীদের সাথে। এই দুই শক্তিকে ব্যবহার করে পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থির করে তোলা পশ্চিমাদের জন্য খুবই সহজ। আর অস্থিরতায় জাতিসংঘ আর পশ্চিমা বিশ্ব কি করে সেটা আমরা জানি। তারা ঘাঁটি স্থাপনের ন্যায্যতা পাবে এবং মাতব্বরি করে পূর্ব তিমুর কিংবা দক্ষিণ সুদানের মত আলাদে রাষ্ট্রের ফায়সালা দিবে।

উন্নতি, অর্থনীতি এসব দরকার। দরকার আওয়ামী আমলের দূর্নীতিবাজ প্রতিষ্ঠান থেকে মুক্তি, শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক। কিন্তু দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা আরো বেশি জরুরী। যেখানে কেবল ব্যবসার মাধ্যমেই উপমহাদেশে উপনিবেশ কায়েমের ইতিহাস আছে, সেখানে পূর্ব থেকেই এতো এতো তৎপরতা আর কনসার্নের মাঝে ব্যবসাকে কেবল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এই এলাকার নিরাপত্তা ও হুমকিকে বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিদেশীদের সকল তৎপরতাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে হবে।

সবশেষে বলব, আমরা আসলে দূরদেশ নিয়ে যতটুকু আবেগাপ্লুত। পাশের আরাকানের মুসলিমদের জন্য তেমন না। তাদের উপর এখনো প্রতিনিয়ত নির্যাতন হচ্ছে, দেশ ছেড়ে চলে আসতে হচ্ছে। আরো নির্মম পরিহাস হল, জাতিসংঘ সহ এই সরকার আরাকানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পূনর্বাসনের জন্য পছন্দ করেছে আরাকান আর্মিকে। অথচ তারা মুসলিমদের হত্যাকারী। মুসলিমদের দাস ছাড়া কিছুই মনে করে না। জাতিসংঘের পুনর্বাসন খেলায় আনন্দে গদ গদ হওয়ার কিছু নেই। এটা তাদের পরাশক্তির লড়াই, আন্তরিক সমাধান নয়।

-Iftekhar Sifat

09/10/2024

ভুল ধারণা : ৩

শরীয়াহ, আর শরীয়াহর প্রয়োগে ভুল বা বিচ্যুতির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে না পারা।

মুসলিম শাসকদের ভুল বা বিচ্যুতির অনেক উদাহরণ ইতিহাসে পাওয়া যায়। সমস্যা হলো আমরা অনেকেই ধরে নিই, এই ভুলগুলোর উৎস বা কারণ হলো শরীয়াহ। অথবা আমরা ধরে নিই, এই ভুল বা বিচ্যুতিগুলো ঠেকানোর কোনো ব্যবস্থা শরীয়াহতে নেই।

যেমন আমরা ধরে নিই, শরীয়াহ শাসনের ক্ষেত্রে শাসক যুলুম করতে পারে। ইতিহাসে এমন আমরা এমন অনেক শাসক দেখেছি, যারা মোটাদাগে, সামগ্রিকভাবে শরীয়াহ দিয়ে শাসন করেছেন। মুসলিমদের স্বার্থ এবং সম্মান রক্ষা করেছেন, মুসলিমদের শত্রুদের তটস্থ করেছেন এবং জি হা দের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের ভূমি বিস্তৃত করেছেন। কিন্তু তাদের এসব অবদান সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুলুমের অভিযোগ আছে।

সমস্যা হলো, আমরা ধরে নিচ্ছি এই যুলুম শরীয়াহ শাসনের ফলাফল। কিন্তু আসলে এগুলো হলো শরীয়াহ থেকে তাদের বিচ্যুতির ফল।

এ ধরনের শাসকদের ব্যাপারে আমাদের আচরণ কেমন হবে? শরীয়াহ আমাদের ভারসাম্য রক্ষা করতে বলে।

একদিকে মুসলিমদের ঐক্য বজায় রক্ষা, শত্রুদের মোকাবিলায় শক্তি মজবুত রাখা জরুরি। অন্যদিকে শাসকের যুলুমের সমর্থন না করা, একে অনুমোদন না দেয়া, তাদের আগ্রাসনের নিন্দা করা এবং আগ্রাসন ও যুলুম থেকে তাদের বিরত রাখার চেষ্টা করাও জরুরি।

শরীয়াহ আমাদের এ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য করার শিক্ষা দেয়।

#শরীয়াহ
#আয়নাঘর

09/10/2024

ভুল ধারণা : ২

শরীয়াহকে আজকের যুগের জন্য অপ্রতুল, অপর্যাপ্ত কিংবা অপরিপূর্ণ মনে করা। এমন মনে করা যে শরীয়াহর অন্য কিছুর প্রয়োজন আছে।

আজ অনেকেই মনে করেন শরীয়াহ শাসন দিয়ে বর্তমান সময়ের চাহিদা মেটানো যাবে না। অনেকে বিশ্বাস করেন পরিপূর্ণভাবে শরীয়াহ অনুসরণ করা আজ সম্ভব না। আধুনিক সময়ে রাষ্ট্র শরীয়াহ দিয়ে চলবে, এ চিন্তাটাই অনেকের কাছে অবাস্তব। তারা মনে করে শরীয়াহ যুগের চাহিদা মেটাতে অক্ষম। কেউ কেউ এটা সরাসরি বলে ফেলে। আর কেউ কেউ এ চিন্তাগুলো প্রকাশ করে নানান প্রশ্নের মোড়কে।

এ ধরনের মানুষদের অনেকেই মনে করেন শরীয়াহতে অসম্পূর্ণতা আর কমতি আছে। আর এগুলো মেটানোর জন্য গণতন্ত্রের মতো আদর্শগুলো থেকে কিছু কিছু জিনিস ধার করা দরকার।

নিঃসন্দেহে এটা একটা মারাত্মক ভুল ধারণা।

এই ভুল ধারণার পেছনে বড় একটা কারণ হলো আমাদের আজকের বাস্তবতা। আজ আমরা এমন একটা সিস্টেমের অধীনে থাকি, যা ইসলামের দৃষ্টিতে পুরোপুরি অবৈধ। অবৈধ এ সিস্টেমের প্রভাব আমাদের জীবনে পড়ে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ঢুকে পড়ে বিভিন্ন ক্ষতিকর, হারাম বিষয়। হারামের সাথে সহাবস্থানে আমরা অভ্যস্ত হয়ে যাই।

ইসলাম নিয়ে আমাদের আলোচনার বিশাল একটা অংশ বরাদ্দ থাকে আমাদের জীবনে জোর ঢুকে পড়া এই হারাম বিষয়গুলো নিয়ে।

'অমুক জিনিস কি হারাম?

'কেন হারাম?'

আচ্ছা এই হারামের বিকল্প কীভাবে তৈরি করা যায়?'

'আচ্ছা অল্প কিছুটা হারাম কি মেনে নেয়া যায় না?'

আমাদের চিন্তা আটকে থাকে এমন নানান প্রশ্নের গোলকধাঁধায়।

অথচ শরীয়াহর ব্যাপ্তি কিন্তু শুধু হারাম-হালাল নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না; বরং শরীয়াহর উদ্দেশ্য হলো এমন এক বাস্তবতা তৈরি করা, যেখানে এই হারামগুলো এবং সেগুলোর প্রয়োজনই থাকবে না। কিন্তু শরীয়াহর পরিপূর্ণ ছবিটা আজ আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। সেটা নিয়ে আলোচনা করার, বোঝার, ভাবার ফুরসত হয় না আমাদের। কালেভদ্রে আমরা এ নিয়ে কথা বলি।

তাই আজ অনেকেই শরীয়াহ বলতে বোঝেন নিছক কিছু বাধানিষেধ, আর শাস্তিকে। বিয়ে, তালাক, উত্তরাধিকার, ইত্যাদির মতো অল্প কিছু ক্ষেত্রে আমাদের শরীয়াহর কথা মনে পড়ে।

অথচ শরীয়াহ একটি পূর্ণাঙ্গ, পরিপূর্ণ ব্যবস্থা। কুরআন, সুন্নাহ, খালিফাহগণের আমল, ইসলামী শাসনের হাজার বছরের ইতিহাস এবং আলিমগণের ইস্তিমবাতে যে গভীর ও বিস্তৃত আলোচনা পাওয়া যায়, তার দিকে তাকালে যে কেউ বিস্মিত হয়ে যাবে। (চলবে ইনশাআল্লাহ)

#আয়নাঘর

09/10/2024

শরীয়াহ নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক ভুল ধারণা কাজ করে। এ ধারণাগুলো দীর্ঘদিনের প্রপাগ্যান্ডা, অপব্যাখ্যা, অজ্ঞতা এবং আংশিক জ্ঞানের ফসল। লম্বা সময় ধরে এসব ভুল ধারণার প্রচার ও প্রসারের জন্য কাজ করেছে ওরিয়েন্টালিস্টরা আর ধর্মনিরপেক্ষতা ও প্রগতির নামে মুসলিমবিশ্বে ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানো সুশীলরা।

ভুল ধারণা : ১

শরীয়াহকে ঐচ্ছিক বিষয় মনে করা।

কেউ কেউ মনে করেন শরীয়াহ গ্রহণ না করেও মুসলিম থাকা সম্ভব। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা; বরং শরীয়াহকে গ্রহণ করা এবং আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন শরীয়াহ অনুযায়ী পরিচালনা করা ঈমানের দাবি। এটি দ্বীনের একটি মৌলিক নীতি। শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা করতেই হবে এবং শরীয়াহ ছাড়া অন্য সব ব্যবস্থা বাতিল। যে এ কথা বিশ্বাস করে না তার পক্ষে মুসলিম থাকাই সম্ভব না।

দেখুন সূরা নিসা ৬৫, সূরা নূর ৫১, সূরা মাঈদা ৫০ ও সূরা জাসিয়া ১৮ নং আয়াত।

ইসলামী শরীয়াহ ব্যতীত অন্য কোনো শাসনব্যবস্থা, কোনো তন্ত্রমন্ত্র গ্রহণ করার সুযোগ নেই। শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যিক। এ কথা প্রত্যেক মুসলিমকে বিশ্বাস করতে হবে। এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস না করলে, আল্লাহ যমীনে আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের আকাঙ্ক্ষা না থাকলে ঈমানদারই হওয়া যাবে না।

এটা হলো মৌলিক শর্ত। চিন্তা শুরু করতে হবে এই ধাপ থেকে।

এই ধাপে আসার পর বিভিন্ন ইজতিহাদি বিষয়ে ভিন্নমতের সুযোগ আছে। কিন্তু সেই ভিন্নমতের ভিত্তি হতে হবে শরীয়াহ। অর্থাৎ আমরা সবাই শরীয়াহ অনুসরণ করে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে চাই। আমরা সবাই এই সন্তুষ্টি অর্জনের সর্বোত্তম পথটা খুঁজছি, যাতে করে তাঁর ইচ্ছে ও নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে পারি–এই অবস্থানে আসার পর পথ ও পদ্ধতি নিয়ে ভিন্নমত হতে পারে।

এমন অনেক দল ও আন্দোলন আছে, যারা শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার দাবিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। তারা শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার স্লোগান তোলে কিন্তু তাতে আন্তরিকতা থাকে না। এ ধরনের কোনো দলের বিরোধিতা করা আর শরীয়াহর বিরোধিতা করা, দুটো ভিন্ন বিষয়।

শরীয়াহর ব্যাপারে ভুল ইজতিহাদ ত্যাগ করা এক বিষয়, আর আর শরীয়াহর কর্তৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করা আরেক বিষয়। কিন্তু আজ এ নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তিতে ভোগেন। প্রথমটি করা সঠিক। কিন্তু দ্বিতীয়টি, অর্থাৎ শরীয়াহর কর্তৃত্বকে অস্বীকার করা হলো কুফর।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো মানুষ এ দুটি বিষয়কে আজ হরহামেশাই মিলিয়ে ফেলে। যার ফলে তৈরি হয় অনেক বিভ্রান্তি। (চলবে)

10/09/2024

সংকটকালে মন্দির পাহারা দেয়া মুসলিমদের নিজেদের নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের জন্য জরুরী ছিল। কিন্তু এটাকে জোর করে একটা নিয়মতান্ত্রিক প্রাক্টিস/চর্চা বানানো কখনোই শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য হতে পারে না। এটা একইসাথে মাকাসিদে শরীয়াহ ও ইসলামের তাওহিদের দাওয়াহর স্প্রিরিট উভয়ের সাথেই সাংঘর্ষিক।

এক জায়গায় বিশাল আয়োজন ও গানবাজনার সাথে পৃথিবীর জঘন্যতম অপরাধ আল্লাহর সাথে শিরকে উৎযাপন করা হবে, আর মুসলিমদের সাধারণ সন্তানেরা সেই শিরকী মহাউৎসবে বসে পাহারা দিবে- এটা কখনো ঈমানী গায়রাত সহ্য করতে পারে না। তাছাড়া এসব অতি উৎসাহী কর্মকাণ্ড সমাজে ইন্টারফেইথেরই বার্তা ছড়াবে এবং শিরকের ব্যাপারে ইসলামের স্বভাবজাত ঘৃণা ও অসন্তুষ্টিকে স্বাভাবিকরণের দিকে নিয়ে যাবে।

রাষ্ট্রে সরকার গঠন হয়েছে। হিন্দুদের পূজা আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র তার নিরাপত্তাবাহিনীকে এর জন্য ব্যবহার করবে। আমরা আলেমরা দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে কেবল সাধারণ মুসলিমদের সতর্ক করতে পারি এবং কোন প্রকার সহিংসতা সৃষ্টিতে অনুৎসাহিত করতে পারি। দুষ্কৃতির আভাস পেলে সেটাকে প্রতিহতের চেষ্টাও করতে পারি। কিন্তু মন্দির পাহারাকে নিয়মিত প্রাক্টিস বানাতে পারি না। দেশের বুযুর্গ, সচেতন ও মুহাক্কিক উলামায়ে কেরাম আশা করি এই ব্যাপারে সতর্কতামূলক মন্তব্য পেশ করবেন।

-Iftekhar Sifat

29/08/2024

দেশে এখন একটা আলাপ দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে যে লিবারেল-সেক্যুলারিসম সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা, কারণ এটা নিরপেক্ষ এবং এটা জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় দ্বারা চালিত হয়। কাজেই এটা সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা। এতে সবার স্টেইক সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত থাকে।

আমি এখানে লিবারেল-সেক্যুলারিসম লিখলাম, তবে যারা এধরনের কথা বলেন তারা সাধারণত গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শব্দগুলো ব্যবহার করেন। তবে এর দ্বারা তারা মূলত লিবারেল-সেক্যুলারিসমকেই বোঝান।

তাদের এই বক্তব্য আসলে সঠিক না। লিবারেল-সেক্যুলার ব্যবস্থা নিরপেক্ষও না, এটা জনগণের অভিপ্রায় দ্বারা চালিতও হয় না। এখানে যেটা হয়, পশ্চিমে তৈরি হওয়া কিছু নির্দিষ্ট পলিটিকাল এবং এথিকাল কনসেপ্টকে 'জনগন' এর নামে চালিয়ে দেয়া হয়। সেগুলোকে দাবি করা হয় চিরন্তন এবং সর্বজনীন বলে।

আরও সহজ করে যদি বলি, এই লিবারেল-সেক্যুলারিসমের কিছু মৌলিক আকীদাহ ও অবস্থান আছে, যেগুলো নন-নেগোশিয়েবল। জনমত যদি এগুলোর বিরুদ্ধেও যায়, তবু তারা এগুলো বাদ দেবেন না, এবং ক্ষমতায় থাকলে এগুলো বাস্তবায়ন করবেনই।

লক্ষ্য করার বিষয় হল, এই ধারণাগুলো কিন্তু এসেছে পশ্চিমের ধর্ম, দর্শন, সমাজ ও রাজনীতির নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট ও বিবর্তন থেকে। কোন অর্থেই এগুলো সর্বজনীন না, চিরন্তন হবার প্রশ্নই আসে না।

প্রমান দেই। নারী অধিকারের ব্যাপারে লিবারেলিসমের কিছু নির্দিষ্ট অবস্থান আজকে আছে। এই অবস্থানগুলো বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই আসলে পুরোপুরি মেনে নেবে না। যদি গণভোট হয় তাহলে দেখা যাবে, লিবারেলদের অবস্থান বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এই ক্ষেত্রে লিবারেলরা কিন্তু তাদের আকীদাহ বাদ দিয়ে জনগণের মতো ফলো করবে না।

একইভাবে মানবাধিকারের ব্যাপারেও তাদের কিছু উসুল এবং কিছু নিয়ম আছে, যেগুলো জনমতের পাল্লায় ওঠালে বাংলাদেশে টিকবে না। এখানেও তারা জনগণের কথার ওপরে নিজেদের আগে থেকে ঠিক করা আকীদাহকেই আকড়ে রাখবে।

অর্থাৎ মৌলিক আকীদাহ এবং অবস্থানগুলো তারা জনগণ এবং জনমতের ওপর ছেড়ে দেয় না। বরং এখানে তাদের অবস্থান। ডগম্যাটিক।

কিন্তু যখন তারা ইসলামী শরীয়াহর সাথে তুলনা করে নিজেদের অবস্থানকে বেটার হিসেবে দেখাতে চায়, তখন তারা বারবার শুধু জনগণ আর জনমতের কথা বলে। আসলে জনগণ আর জনগণের ইচ্ছার কথা বলে নিজেদের পলিটিকাল থিওলজি তারা সবার ওপর চাপিয়ে দিতে চায়।

আমার ধারণা লিবারেল-সেক্যুলারিসমের পক্ষে সোচ্চার লোকদের অধিকাংশই নিজেদের চিন্তার মধ্যে থাকা এই ফাঁকফোকরগুলো ধরতে পারেন না। শুনতে শুনতে, বলতে বলতে, তারা কিছু বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। এগুলো আসলে কতোটা সঠিক, কতোটা কনসিস্টেন্ট সেটা যাচাই করা দরকার মনে করেননি।

তবে বুঝে করুন কিংবা না বুঝে করুন, তারা জনগণের অভিপ্রায়ের কথা বলে পশ্চিম থেকে চোরাচালান করে আনা নানা কনসেপ্ট চাপিয়ে দেয়ার যে কাজটা করেন, সেটা আসলে বুদ্ধিবৃত্তিক হাতসাফাই। এই হাতসাফাইয়ের ব্যাপারটা বাদ দেয়া উচিৎ।

আগেকার ক্রিশ্চিয়ান চার্চ গড-এর নামে চার্চ ফাদারদের বানানো নানা জিনিসপত্রকে সর্বজনীন বলে চালিয়ে দিতো। লিবারেল-সেক্যুলাররা জনগণের নামে পশ্চিমা দার্শনিকদের একাংশের কিছু চিন্তাভাবনাকে সর্বজনীন বলে চালিয়ে দেয়।

—আসিফ আদনান হাফিঃ

25/08/2024

প্রশ্নঃ
কিছুদিন আগে আমার জন্ডিস হয়। ডাক্তার প্রতিদিন একটা করে স্যালাইন দেন। একদিন আমি ওযু অবস্থায় ছিলাম। ডাক্তার স্যালাইন দিতে আসেন। স্যালাইনের সুঁই রগে প্রবেশ করানোর সঙ্গে সঙ্গে কয়েক ফোঁটা রক্ত স্যালাইনের নলে চলে আসে। ঔষধ ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করলে তা আবার ভেতরে চলে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর যোহরের সময় প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তাই আমি উঠে স্যালাইনসহই পূর্বের ওযু দিয়ে যোহরের নামায আদায় করে নিই। আমার উক্ত নামাযটি আদায় হয়েছে কি?

উত্তরঃ
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পুনরায় ওযু না করে পূর্বের ওযু দ্বারা আদায়কৃত ঐ নামাযটি আদায় হয়নি। কেননা স্যালাইন লাগানোর সময় শরীর থেকে রক্ত বের হওয়ার দ্বারাই আপনার ওযু ভেঙে গিয়েছিল। এরপর তা আবার শরীরে প্রবেশ করলেও এ কারণে পূর্বের ওযু ভঙ্গের হুকুম পরিবর্তন হবে না। সুতরাং এরপর পুনরায় ওযু না করে যে নামাযটি পড়া হয়েছে, তা ওযু ছাড়াই পড়া হয়েছে। সুতরাং তা পুনরায় পড়ে নিতে হবে।

[ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/৪৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৮; ফাতহুল কাদীর ১/৩৪; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ১৩৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ৪৮]

22/04/2024

সেদিন মধুখালীতে কী ঘটেছিল?
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
'প্রথম মার শুরু করেন চেয়ারম্যানই যোগ দেন শত শত মানুষ'

শরিফ রুবেল, মানবজমিন পত্রিকা, মধুখালী, ফরিদপুর থেকে
২২ এপ্রিল ২০২৪, সোমবার
----------------------------------------

২৮৫ ভোটারের গ্রাম কৃষ্ণনগর। ৬৫ পরিবারের বসবাস। তারা সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী। আশপাশের পাঁচ গ্রাম নিয়ে পঞ্চপল্লী। ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মুসলিম পরিবার নেই। ৫ গ্রামে একটি মাত্র স্কুল। পঞ্চপল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলের পাশেই বারোয়ারি কালী মন্দির। বিদ্যালয়ের কক্ষ থেকেই মন্দিরের সবকিছু দেখা যায়। সেখানে চারটি মূর্তি আছে।

কালী ও শিব মূর্তি একসঙ্গে। ২ ফুট দূরে দুই পাশে অন্য দুটি মূর্তি। এক মাস ধরে বিদ্যালয়ের শৌচাগারের নির্মাণকাজ চলছে। শ্রমিকদের সবাই মুসলমান। এখানে ১৮ই এপ্রিল ঘটে এক নজিরবিহীন ঘটনা। সন্ধ্যা ৭টায় হঠাৎ আগুন আগুন চিৎকার। লোকজন মন্দিরের সামনে এসে দেখেন কালী মূর্তি আগুনে জ্বলছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো তা কেউ নিশ্চিত জানে না। কিন্তু উত্তেজিত জনতা শৌচাগার নির্মাণ শ্রমিকদের সন্দেহ করে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন অন্যরা। ফরিদপুর মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের এই ঘটনা পুরো দেশ নাড়িয়ে দেয়। নানা সন্দেহের ডালপালা মেলতে থাকে। কীভাবে সূত্রপাত হলো এই ঘটনার? পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি গুজবের বলি হলেন দুই কিশোর? মানবজমিন-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নানা তথ্য। কোথা থেকে এই ঘটনার সৃষ্টি। কারা ছিল এর পেছনে? ঘটনাস্থল, প্রত্যক্ষদর্শী, এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার থেকে এসব প্রশ্নের কিছু জবাব মিলেছে।
ঠিকাদারি কাজ নিয়ে কি ঝামেলা ছিল: অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষ্ণনগর গ্রামে সার্বজনীন কালীমন্দিরের পাশে অবস্থিত ৬৯নং পঞ্চপল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগার নির্মাণ প্রকল্পটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। শৌচাগার নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পায় ফরিদপুরের মাহিদা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে সাব- কন্ট্রাক্টে ওই কাজ বাগিয়ে নেন নওয়াপাড়া ইউনিয়ের চোপেরঘাট গ্রামের সাব-ঠিকাদার মো. জালাল শেখ। স্থানীয় একটি সূত্র ও নিহতের পরিবার বলছে, শৌচাগার নির্মাণকাজ শুরু করার পর থেকেই স্থানীয় ইউপি সদস্য অজিৎ কুমার সরকার ওই কাজে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করেন।

গত ঈদের আগে অজিতের লোকজন নির্মাণকাজের স্থলে গিয়ে নগদ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে মারধরেরও হুমকি দেন। পরে নির্মাণকাজের রড নিয়ে যেতে গেলে এতে বাধা দেন শ্রমিক (ঘটনাস্থলে নিহত) আশরাফুল খান। পরে ওই যুবকরা উত্তেজিত হয়ে আশরাফুলসহ অন্যান্য শ্রমিকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে পুরো ঘটনাটি আশরাফুল মুঠোফোনে তার বাবা মো. শাহজাহান খানকে বিষয়টি জানান। ভয়ে শাহজাহান খান তার দুই ছেলেকে পঞ্চপল্লী থেকে বাড়ি ফিরিয়ে নেন। পঞ্চপল্লীতে কাজে যেতে বারণ করেন। তবে ঈদের পরে সাব-ঠিকাদার জলিল শেখের অনুরোধে আবার কাজে যোগ দেয় দুই সহোদর আশরাফুল ও আরশাদুল। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দিন ১৮ই এপ্রিল বিকালে ১নং ওয়ার্ড মেম্বার অজিত কুমার সরকারের নির্দেশে পার্শ্ববর্তী জাননগর গ্রামের বাসিন্দা বিনয় সাহা একদল যুবক নিয়ে স্কুলের ভেতর প্রবেশ করেন এবং নির্মাণকাজের এক বান্ডিল রড ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। তখন নির্মাণ শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি-ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে দুই পক্ষই নানা বাজে ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন।

এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মন্দিরে সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাতে যান স্থানীয় প্রভাষ কুমার মণ্ডলের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী তপতী রানী মণ্ডল। তিনি প্রতিদিনই মন্দিরে সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালান। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তপতী রানী মণ্ডল মানবজমিনকে বলেন, ‘আমি মন্দিরে সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাতে গিয়ে নির্মাণ শ্রমিকদের মন্দিরের সামনে বটগাছের নিচে দেখতে পাই। তারা বিভিন্ন অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করছিল। তবে তারা কাকে এবং কার সঙ্গে গালাগাল করেছে, তা আমি বুঝতে পারিনি’। তপতী রানী আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালানোর পরে আমি আবার গোবর-খড় আনতে মন্দিরের সামনে যাই। তখন সাতজন নির্মাণ শ্রমিক স্কুলের মধ্যেই ছিলেন।’

চাঁদা ও হুমকির বিষয়ে আরশাদুলের মা শারমিন বেগম মানবজমিনকে বলেন, ওদের কাছে ওই এলাকার কিছু ছেলে এসে চাঁদা চায়। টাকা না দিলে মারধরের হুমকি দেয়। কাজ করতে দিবে না বলে শাসিয়ে যান। আশরাফুল ওর বাবাকে এই ঘটনা জানায়। পরে ওদের বাড়ি নিয়ে আসি। ওরা আমার আব্বাদের জান নিয়ে নিবে জানলে আর পাঠাতাম না। আল্লাহ আমি খুনিদের বিচার চাই। আল্লাহ তুমি ওদের বিচার কইরো।

ঘটনার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহিদা এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মনজিল শেখ মানবজমিনকে জানান, সন্ধ্যার পর শ্রমিকরা আমাকে ফোন করে জানান, স্কুলের পাশে মন্দিরে কে বা কারা আগুন দিয়েছে। তারা মন্দিরে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করেন। এরপর উত্তেজিত গ্রামবাসী শ্রমিকদের স্কুল কক্ষে আটকে রেখেছে বলে জানানো হয়।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে মন্দিরের কালী মূর্তিতে আগুন লাগে। আগুন আগুন চিৎকার শুনে আশপাশের শত শত লোক আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। ততক্ষণে আগুনে কালী মূর্তির পরনের শাড়ি ও হাতে থাকা তীরশূল পুড়ে যায়। ওইদিন মন্দিরে সন্ধ্যা পূজায় যে প্রদীপ জ্বালানো হয় তা মূর্তির সামনে প্রায় দুই ফুট দূরত্বে ছিল। সরজমিন গিয়েও একই জায়গায় ওই দুটি প্রদীপ দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো তা এখনো তারা নিশ্চিত জানেন না। আগুন নেভানোর কাজে শ্রমিকরাও সহায়তা করেন। পরে কয়েকজন উত্তেজিত জনতা স্কুলের নির্মাণ শ্রমিকদের সন্দেহ করা শুরু করেন। ঘটনার পরে একে একে কৃষ্ণনগর, জান নগর, সীধলাজুড়ি ও তারাপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। রাত ৮টার দিকে সাব-ঠিকাদার নসিমন ভরে রড নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ততক্ষণে উত্তেজিত জনতা নির্মাণ শ্রমিক আশরাফুল, আরশাদুল, সিরাজ শেখ, আনোয়ার হোসেনকে মারধরের উদ্দেশ্যে ঘিরে ফেলে। পরে সাব-ঠিকাদার জলিল শেখ ও নসিমন চালক মো. লিটন খানসহ সব শ্রমিকদের ওই নসিমনের দড়ি দিয়েই বেঁধে ফেলা হয়।

স্থানীয় প্রভাষ কুমারের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অজিৎ কুমার সরকার। তিনি এসে শ্রমিকদের স্কুলের শিশু শ্রেণিকক্ষে ঢোকান। যেখানে নির্মাণ শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন। পরে ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার লিংকন বিশ্বাস ঘটনাস্থলে আসেন। তখন উত্তেজিত জনতা ‘ধর ধর’ বলে ইটপাটকেল, রড, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে রুমের দরজা জালানা ভাঙতে শুরু করে। পরে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে ইউপি সদস্য অজিৎ কুমার সরকার স্থানীয় ডুমাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আসাদুজ্জামান তপনকে ফোন করলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি আশরাফুলকে শাসিয়ে রড দিয়ে প্রথমে আঘাত করেন। পরে স্থানীয়রা মারধর শুরু করেন। ওই হামলায় আশরাফুল ও আরশাদুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাদের বাড়ি নওপাড়া ইউনিয়নের চোপেরঘাট গ্রামে। গুরুতর আহত হন আনোয়ার হোসন ও সিরাজ শেখ।

হামলা থেকে বেঁচে ফেরা নসিমন চালক মো. লিটন মোল্লা মানবজমিনকে বলেন, চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কারও কথা না শুনেই লোহার পাইপ দিয়ে আশরাফুলকে পেটাতে শুরু করেন। তিনি বলতে থাকেন তোর কতো বড় সাহস, তুই মন্দিরে আগুন দিস। দাঙ্গা সৃষ্টি করিস, এসব বলতে বলতে মেরে আশরাফুলকে মাটিতে ফেলে দেন। পরে শ্রমিক আনোয়ারকেও মারধর করেন। মেম্বার অজিৎ কুমারও আরশাদুলকে কাঠ দিয়ে পেটাতে থাকেন। তখন স্থানীয়রা আরও উত্তেজিত হয়ে উঠে এবং দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। কিছু লোক জানালা দিয়েই ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে ইট থেকে বাঁচতে চেয়ারম্যান ওই রুম থেকে বের হয়ে যান। পরে লাঠিসোটা নিয়ে শত শত লোকজন রুমে প্রবেশ করে বেধড়ক পেটাতে থাকে। রড ও ইট দিয়ে আরশাদুল, আশরাফুল ও আনোয়ারের হাত-পা ভেঙে দেয়। মাথা থেতলে দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আমি অন্ধকারে সিঁড়ির নিচে লুকিয়ে ছিলাম।

নিহত আশরাফুল ও আরশাদুলের বড় চাচা আব্দুর রাজ্জাক খান মানবজমিনকে বলেন, আমার ভাতিজাদের পিটিয়ে মাথা দুইভাগ করে ফেলা হয়। মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে দেয়া হয়। লাশ ধরলে মাঝ থেকে ভেঙে পড়ে। আমরা চেয়ারম্যান ও মেম্বারের শাস্তি চাই। হিন্দুরা প্রথমে মারধর করেনি। চেয়ারম্যান এসেই মার শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা হামলে পড়ে। দুটি নিরীহ প্রাণ কেড়ে নেয়।

হামলার শিকার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সাব-ঠিকাদার জালাল শেখ মানবজমিনকে বলেন, আমরা উপস্থিত হলে শ্রমিকদের হাতে বালতি, পানি ও জগ দেখতে পাই। তারা আগুন নেভানোর কাজ করেছে। তখন হিন্দুরা শ্রমিকদের সন্দেহ করে এবং গালাগাল করতে থাকে। তারা বলে, এতদিন আগুন ধরলো না আজ ধরলো কেন? ৪ শ্রমিককে রশি দিয়ে বেঁধে রুমে নিয়ে যায়। ঘটনার বিষয়ে সকাল থেকে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শাহ আসাদুজ্জামান তপনের মুঠোফোনে ফোন দিলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সরজমিন ঘুরে ওই গ্রামের একাধিক বাড়ি গেলেও কোনো পুরুষ পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ বাড়িতে তালা ঝুলছে। কয়েকটি বাড়িতে মহিলাদের দেখা মিললেও ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে কেউ পরিষ্কার করে কিছু বলতে পারেননি। সবাই বলেছেন, তারা কেউ কিছু জানেন না। কারা আগুন দিয়েছে তারা দেখেননি। কেউ কেউ বলেন, তারা ঘটনার সময় বাড়ি ছিলেন না। বাড়ি থাকলেও ঘটনাস্থলে যাননি। ডুমাইন ইউনিয়নের বাজার ঘাটসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘটনার রহস্য জানার চেষ্টা করা হয়। তবে কেউ কেউ বলেছেন, নির্মাণ কাজ নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়ে শ্রমিকদের ফাঁসানো হয়েছে। তাদের শায়েস্তা করতেই এই কাজ করা হয়েছে।

পঞ্চপল্লী স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা গীতা রানী বিশ্বাস মানবজমিনকে বলেন, কালী মা’র গায়ে কারা আগুন ধরিয়েছে জানি না। আমি অনেককে জিজ্ঞাসা করেছি কেউ বলতে পারে না। তারপরেও এমন ঘটনা ঘটেছে। আমি বুঝি কেউ অপরাধ করলেও তাকে মেরে ফেলা যায় না। অপরাধ প্রমাণ হলে আইন তাদের শাস্তি দিবে। তাই বলে মেরে ফেলতে হবে? ঘটনার দিন আমি মধুখালী ছিলাম। এসে শুনেছি।

স্কুলের সহকারী শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, কে আগুন দিয়েছে আমরা কেউ দেখিনি। কেউ বলতেও পারবো না। আর শ্রমিকরা প্রায় ১ মাস ধরে কাজ করছে। তাদের কোনো খারাপ ব্যবহার আমরা লক্ষ্য করিনি। যারা পাপ করেছে তারা শাস্তি পাবেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে যা দেখা গেল: মন্দিরের দরজা খোলা। ভেতরে দুটি প্রদীপ নিভে আছে। কালী মূর্তির শরীরে কাপড় নেই। আগুনে পোড়ার দাগ। চারপাশে সুনসান নীরবতা। আশপাশে কোনো মানুষ নেই। স্কুল বাউন্ডারির মধ্যে মাঠে কয়েকজন পুলিশ সদস্য বসে আছেন। একে অপরের সঙ্গে কথা বলছেন। চারপাশে ইটপাটকেল, রড, বাঁশের লাঠি, কাঠ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বিদ্যালয়ের একটি রুমের দরজা-জানালা ভাঙা। কক্ষের ভেতরে উঁকি মেরে দেখা গেল শ্রমিকদের লেপ, তোশক, কাঁথা, বালিশ, হাঁড়ি-পাতিল ও জামা-কাপড় পড়ে আছে। বেল্টসহ প্যান্ট পড়ে আছে। দেয়ালে ছোপ ছোপ রক্ত। মেঝের কার্পেটের উপরও রক্ত লেপ্টে আছে। পাশেই লোহার রডের স্তূপ। ইট দিয়ে রক্তাক্ত স্থান ঘিরে রাখা হয়েছে। ভাঙা দরজায়ই তালা ঝুলানো। পাশের একটি কক্ষ খোলা। সেখানে ৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে দেখা গেল। রুমে ঢুকে তাদের কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তারা কিছুই জানেন না বলে জানান। কিছুক্ষণ পরেই ওই সার্কেলের এএসপি ঘটনাস্থলে আসেন। এর একটু পরেই সিআইডির একটি টিম আসে। তারা এসে পুরো মন্দির ও ঘটনাস্থল ক্রাইম সিন ফিতা দিয়ে চিহ্নিত করেন।

মামলা ও গ্রেপ্তার: পঞ্চপল্লীতে হামলা ও হত্যার ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। মন্দিরে আগুন দেয়ার ঘটনায় তপতী রানী মণ্ডল বাদী হয়ে মামলা করেছেন। দুই শ্রমিক হত্যার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামি অজ্ঞাতনামা। এ ছাড়া পুলিশের কাজে বাধা এবং পুলিশ হত্যাচেষ্টায় মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক সংকর বালা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। এই মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাতেই গোবিন্দ সরকার ও অনয় ভাদুরী নামের দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

হামলায় অংশ নিয়েছিলেন যারা: কৃষ্ণনগর, জান নগর, সীধলাজুড়ি ও তারাপুর মিলে গঠিত পঞ্চপল্লী। এই পাঁচ গ্রামের সবাই সনাতন ধর্মের। হামলার দিন আশপাশের ৫ গ্রামের অন্তত ২ হাজার লোক অংশ নেয়। একটি মামলার এজাহারে হামলায় অংশ নেয়া ও পুলিশের উপর হামলায় ৩১ জনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন- গোবিন্দ সরকার, অনয় ভাদুরী, কাঙ্গাল মণ্ডল, কালিপদ মণ্ডল, রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল, কেশব মণ্ডল, সজিব মণ্ডল, মঙ্গল সরকার, প্রেম কুমার মণ্ডল, অনিল কুমার বালা, অসিম বিশ্বাস, কৃষ্ণ বিশ্বাস, হরিচন্দ্র অধিকারী, গোবিন্দ বালা, সজিব মণ্ডল, সুফল ওরফে মুক্ত, মানিক মণ্ডল, গোপাল সরকার, পলাশ সরকার, মনি কুমার বিশ্বাস, উজ্জ্বল দাস, কৌশিক জোয়ার্দ্দার, বিপ্লব মণ্ডল, গণেশ বসু, মিল্টন সরকার, হৃদয় বিশ্বাস, মনোজিৎ বালা, গৌতম মণ্ডল, মিহির সরকার, উজ্জ্বল মিত্র, রাজ কুমার সরকার।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ১নং ওয়ার্ড গ্রাম পুলিশ সদস্য অমৃত কুমার বসু মানবজমিনকে বলেন, বিনয় সাহা মূলহোতা। সে এখানে কেন আসলো। তাকে কে এখানে ফোন করে আনলো? সে সন্দেহজনক ব্যক্তি। তার চরিত্রই ভালো না। সে ধর্মীয় উস্কানিমূলক কাজকর্ম করে। সে ঘটনার সময় নেতৃত্ব দিয়েছে। মেম্বার চেয়ারম্যানের সঙ্গে সেও রুমের ভেতরে ছিল। তার ওখানে কাজ কি?

২নং ওয়ার্ড গ্রাম পুলিশ সদস্য সুজিত অধিকারী মানবজমিনকে বলেন, ঘটনার সময় অসিম বিশ্বাসের হাতে গোড়ালি ছিল। সে খুব উত্তেজিত ছিল। গোবিন্দা নামের ছেলেটি মধুখালী থানার ওসির সঙ্গে অনেক বাকবিতণ্ডা করেছে। গোবিন্দ এলাকায় তরুণদের মধ্যে নেতৃৃত্ব দেয়।

13/04/2024

দেশের অধিকাংশ মানুষের কোন আকীদাহ-মানহাজ নাই। তাদের কম্পাস হল বিনোদন, মজা, শান্তি।

যেখানে পিনিক, গানবাজনা আর মেয়েদের সাথে গা ঘষাঘষির সুযোগ আছে সেটাই ছেলেদের উৎসব।

যেই উপলক্ষে সাজার, ঘোরাঘুরি করার আর নিজের দিকে অ্যাটেনশান ড্র করার সুযোগ আছে, ওটাই মেয়েদের উৎসব।

এসবের সু্যোগসুবিধা রেখে যদি উর্দু নববর্ষ পালনের আয়োজন হয়, এইসব লোকজন দলে দলে সেখানে যাবে।

নওরোয উপলক্ষে যদি বেলি ড্যান্সের আয়োজন করে তাহলে মেয়েরা দেখবেন নাচতে নাচতে হাজির হবে, তাদের টানে পিলপিল করে ছেলেরা আসবে।

এইসব 'সাংস্কৃতিক' উৎসব করা জটিল কিছু না। খালি ফাহেশা আর হারামের ব্যাপারে উদার হলেই হয়। বাকিটা ইবলিস করে, করিয়ে নেয়।

তবে মুমিনের জন্য মাপকাঠি ইসলাম। যে মাপকাঠি বলে নওরোজ বা নববর্ষ উদযাপন মুশঋকদের ধর্ম থেকে আসা উৎসব। আর মুসলিমের সামষ্টিক উদযাপনের দিন দুটি। দুই ঈদ।

এটুকুতে যে মজবুত হতে পারে না। সে নানা ভাবে নানা দিকে পিছলে যাবে। লিখে রাখেন।

-আ.আ.

11/04/2024

ঈদ আনন্দের দিন, পাপাচারের দিন না। গান বাজনা, নাটক সিনেমা, নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা, বেপর্দা ঘোরাঘুরি, দেবর ভাবি, শালি দুলাইভায়ের মজা করার দিন না। ঈদ অবৈধ প্রেমে মত্ত হওয়ার দিন না, ফোনে অবৈধ চিট চ্যাট করার দিন না।

যারা এগুলো করে ঈদ করার পরিকল্পনা করেছেন দুখিত ঈদটা আপনার জন্য না। এটা একটা মুসলিম ধর্মীয় উৎসব। ইসলামের বাইরে গিয়ে অধর্ম দিয়ে একে উদযাপনের কোন সুযোগ নাই।

-S M Nahid Hasan

06/04/2024

সনাতনী ধর্মে গরুর গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ এবং গর্হিত কাজ। এটা বললে কিন্তু 'ধর্মের অপব্যাখ্যা' হয় না।

কিন্তু...

মুসলিম পূজায় যেতে পারে না।

মুসলিম মঙ্গল শোভাযাত্রা করতে পারে না।

মুসলিম বেদীতে ফুল দিতে পারে না।

মুসলিম হোলি খেলতে পারে না।

ধর্ম যার যার উৎসব সবার কথাটার সাথে কুফর এবং শিরক মিশে আছে -

এই কথাগুলো আপনি বলতে পারবেন না।

এগুলো বললে সেটা ধর্মের অপব্যাখ্যা হয়ে যাবে। উগ্রতা হবে। পারলে জ- নামের ট্যাগটাও লাগিয়ে দেবে।

সেক্যুলার প্রগতিশীলদের ডাবলস্ট্যান্ডার্ড নতুন কিছু না। এটা মুখ্য বিষয়ও না।

মুখ্য ব্যাপার হল বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং নাগরিক ডিসকোর্সের কাঠামো এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে অন্যরা তাদের ধর্মের কথা বলতে পারে। কিন্তু মুসলিম তাঁর ধর্মের কথা বললে সেটাকে রীতিমতো ক্রিমিনালাইয করা হয়।

অর্থাৎ প্রবলেমটা শুধু ডাবলস্ট্যান্ডার্ডের না, বরং স্ট্রাকচারাল ইমব্যালেন্স এবং বৈষম্যের।



বি. দ্র: মুশঋক দের গরু খাওয়ার দাওয়াত দেয়া অর্থহীন। তাদের দ্বীন তাদের কাছে, আমাদের দ্বীন আমাদের কাছে। দিলে তাদেরকে তাওহীদের দাওয়াহ দেয়া উচিত।

-লেখাঃ আ.আ.

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Dhaka
1200