15/10/2025
‘হজরত খাদিজা (রা.) ব্যবসা করতেন’, তাই মেয়েদের চাকরি করা জায়েজ এটাই নাকি এখান থেকে বুঝা যাচ্ছে।
খুব কমন একটা যুক্তি। নিজের স্বার্থ বাস্তবায়নে এর থেকে সুন্দর যুক্তি হয় না।
এটুকু বলেই থেমে যায়। জানার চেষ্টা করেনা, উনার ব্যবসার ধরণ কেমন ছিল?
প্রথমত, হজরত খাদিজা (রাঃ) নিজে অর্থ সম্পদ ইনভেস্ট করে ব্যবসা করতেন, ব্যবসার কাজ গুলো এক্সিকিউট করার জন্য ফিল্ড পর্যায়ে ম্যানপাওয়ার নিয়োগ করতেন, ঘরে বসে ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনা করতেন, নিজে কখনও ব্যবসায়িক কাজে বের হন নি, সহকর্মীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাশাপাশি কাজ করেন নি। এমনই সম্ভ্রান্ত ছিলেন তিনি।
দ্বিতীয়ত, যখন হজরত খাদিজা (রাঃ) ব্যবসা করতেন তখন তিনি অমুসলিম ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে হজরত খাদিজা (রাঃ) কি করতেন বা করেন নি, আমাদের মা এর ইসলাম গ্রহণের পূর্বের প্রাক-ইসলামিক জীবন আমাদের মুসলিমা বোনদের জন্য অনুসরণীয় নয়।
তৃতীয়ত, হ্যাঁ, নবিজি (সাঃ) নবুয়ত পাওয়ার আগে আমাদের মা খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা ব্যবসা করতেন। এর পেছনের কারণ হচ্ছে তিনি বিধবা ছিলেন। কিন্তু যেদিন তিনি প্রিয়তম সত্যবাদী আল-আমিনকে পেয়ে গেলেন, সেদিন তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেলেন। এরপর থেকে সে কাজগুলো তার স্বামীই করতে লাগলেন। আর সেদিন থেকেই খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা পুরোদস্তুর গৃহকর্ত্রী হয়ে গেলেন।
চতুর্থত, পুরো ঘটনাই (ব্যবসা করার) পর্দার বিধান নাজিলের আগে।
কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পরে হজরত খাদিজা (রাঃ) যা যা করেছেন সেখান থেকে যদি শিক্ষা নিতে বলা হয়, এগুলোর উপর আমল করতে বলা হয়;
যেমনঃ
"তিনি ছিলেন বিবেক বুদ্ধি, সৌন্দর্য, বংশ মর্যাদায় সেকালের শ্রেষ্ঠ নারী।"
- এখন কোন ইসলামপন্থী ভাই যদি একই সাথে এক নারীর মধ্যে এসব গুণগুলো প্রত্যাশা করেন, তখন ইসলামের লেবাসে থাকা নারীবাদীদের থেকে অনেক রকম কথা শোনা লাগে।
"হজরত খাদিজা (রাঃ) এর মধ্যে গুণ ছিল সর্ববস্থায় মানে সর্ববস্থায়ই স্বামীর সেবা, আনুগত্য, বাধ্যতা।" চাকরি করা জায়েজ দাবি তোলা, আজকাল কয়জন এর উপর আমল করেন? কয়জন এই ব্যাপারে উনাকে অনুসরণ করেন?
"স্বামী ঘরে না ফেরা পর্যন্ত তিনি দুশ্চিন্তায় খেতেন না, ঘুমাতেন না।" কয়জন এমন করেন?
"শ্বাশুড়ি (রাসুল সাঃ এর দুধ মা) কে অনেক পরিমানে দান করতেন, নিয়মিত দেওয়া থুওয়া করতেন।" শ্বাশুড়িকে সহ্য হয় কয়জনের?
(যেমনঃ হালিমা সা'দিয়া (রাঃ) ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুধ মা। খাদিজা (রাঃ) এর সাথে বিয়ে হওয়ার পর একবার তিনি এলেন তাঁদের বাড়িতে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বাসায় ছিলেন না।
খাদিজা (রাঃ) উনাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি সেই হালিমা যিনি আমার স্বামীকে দুধ পান করিয়েছেন? তিনি সম্মতি জানালেন। সেই সময় খাদিজা (রাঃ) এর কাছে চল্লিশটি ভেড়া এবং একটি উট ছিল। তিনি সাথে সাথে এই চল্লিশটি ভেড়া এবং একটি উট হালিমা (রাঃ) কে উপহার হিসাবে দান করে দিলেন।)
বর্তমানে স্ত্রীরা নিজের আপন শ্বাশুড়িকে দেওয়া থুওয়া তো দূরে থাক, স্বামীকেও আপন মা কে দেওয়া থুওয়া থেকে বিরত রাখে।
"আম্মাজান হজরত খাদিজা (রাঃ) এঁর বয়স যখন ৫০ বছরের উপরে তখন থেকেই মুহাম্মদ (সাঃ) নির্জন এলাকায় ধ্যান-সাধনার মগ্ন এবং ঘর সংসারের প্রতি উদাস হয়ে পড়েন। সাধনার উদ্দেশ্যে কয়েক সপ্তাহের জন্য শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে জবল-ই-নুর পাহাড়ের হীরা নামক এক গুহায় নির্জন-বাস শুরু করেন। সেই সময়ে খাদিজা (রাঃ)ও তাঁর স্বামীর ধ্যান-তপস্যায় যেন কোনরূপ বিঘ্নতা না হয় সেদিকে সব সময় নজর রাখতেন। সেই বয়সে স্বামীর জন্য খাদ্য পানীয় এবং আনুষঙ্গিক ব্যবহার্য অন্যান্য উপকরণ নিজে বহন করে সেই উঁচু পাহাড়ের গুহায় নিয়ে যেতেন।"
আজকালকার অনেক স্ত্রীদের মত তিনি কখনও এই নিয়ে স্বামীর প্রতি অভিযোগ করে নাই, ‘কেমন মানুষ আপনি? সারাদিন পাহাড়ে বসে বসে হাওয়া খাচ্ছেন!
নারীবাদীদের বুলি, //বলি কী সংসারের দায়-দায়িত্ব বলতে কি স্বামীর জন্য কিছু নেই? আমি কি স্ত্রী হয়ে এসেছি সারাদিন বাচ্চাকাচ্চার ফাই-ফরমাশে দাসীর মত কাজ করে যাবার জন্য?//
না, তিনি কখনও এমন কথা বলেন নাই। বরং তিনি যেমন স্বামীর সেবা যত্ন করতেন তেমনি স্বামীর প্রতিটি কাজে-কর্মে একবাক্যে সমর্থন এবং সহযোগিতা করে যেতেন।
আর বর্তমানে এই পার্সেন্টেজ হাতে গোণা যে আশা করা যায় স্ত্রী স্বামীর সব কথা (অবশ্যই নায্য কথা) এক বাক্যে তর্ক ছাড়াই সমর্থন করবে।
"হজরত খাদিজা (রাঃ) ছিলেন রাসুল (সাঃ) এর মাথার ছায়ার মত, নির্ভরতার প্রতীক। রাসুল (সাঃ) কোন দুশ্চিন্তায় পড়লেই খাদিজা (রাঃ) এর কাছে চলে আসতেন।"
কতজন স্ত্রী বলতে পারবেন মন থেকে যে তারা তার স্বামীর জন্য আস্থা নির্ভরতার প্রতীক হতে পেরেছেন?
কতজন স্ত্রী মন আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি রাখতে পারবেন যে, তাদের স্বামী দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে স্ত্রীর কাছে এসে সুকুন পায়? হতাশা কমে?
বরং এমন অনেক স্ত্রীই আছেন যারা দুশ্চিন্তা দূরীকরণ দূরের কথা, নিজেই স্বামীর দুশ্চিন্তার, হতাশার কারণ!
লেখা : শাহ মুহাম্মদ তন্ময়
#সীরাহ