19/04/2021
প্রাণবিক পৃথিবীর স্বপ্নে-
গত বছর করোনা এসে পৃথিবীকে থমকে দিয়েছিল। গৃহবন্দী হয়ে আমরা নিজেদের ক্ষুদ্রতা ও অক্ষমতা উপলব্ধি করেছিলাম। প্রথম লক ডাউনের পর ঘর থেকে মুক্তি পেয়েই আমরা ভুলে গেলাম সেই দুঃসময়ের কথা। আগের মতই লোভ –লালসা, ব্যক্তি স্বার্থ, অন্যায়, নির্যাতন, দুর্নীতি আবার শুরু করলাম। অসহায় মানুষ তো বটেই প্রকৃতির অন্যান্য সন্তান যেমন কুকুর, বিড়াল, পাখি, শিয়াল, হাতি, বানর সহ নানান অসহায় প্রাণির উপর নির্যাতনও পুরোদমে বাড়িয়ে দিলাম। বেড়েছে খুন, ধর্ষণ, অবিচার। সমগ্র পৃথিবী নিয়ে কাজ করবার ক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদের এই মায়াবী বাংলাদেশটাই প্রাণবিক করার ব্রত নিয়ে পথে নেমেছি আমরা।
করোনা আমাদের শিখিয়েছে শুধু মানুষ নিয়ে চিন্তা করার দিন ফুরিয়েছে। তাই আমরা “মানবিক” শব্দটির ব্যাপ্তি ঘটিয়ে প্রাণবিক শব্দটি ব্যবহার করেছি। আমরা একটি প্রাণবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে সকল প্রাণের মুক্তির জন্য কথা হবে, সকল প্রাণের বেঁচে থাকার অধিকার নিয়ে কথা হবে। আমরা সবাইকে নিয়ে বাঁচতে শিখতে চাই।
এসেছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। মানুষকে আরেকবার শুধরানোর সুযোগ দিতেই হয়তো আবার এই ঢেউ এনেছেন সৃষ্টিকর্তা। মানুষকে আবার বলতে চান, তোমরা ক্ষ্যান্ত দাও। প্রকৃতির উপর অন্যায় অত্যাচার বন্ধ কর। পাশের মানুষটির দিকে আন্তরিকভাবে তাকাও। স্বার্থহীনভাবে অন্যের দিকে হাত বাড়াও। ইচ্ছা করলেই সৃষ্টিকর্তার কোন সৃষ্টিকে ধ্বংস করার ঘোষণা দিও না। হোক সে পথের কুকুর-বিড়াল অথবা ছায়াদানকারী কোন গাছ। নিজের দিকে তাকাও। কতটা ক্ষুদ্র তুমি। কতটা অক্ষম তুমি। সামান্য এক ভাইরাসকেই তুমি দেখতে পাও না, ধরতে পারো না, রুখতে পারো না- তবে কি এমন ক্ষমতা তোমার? সামান্য এক প্রাণি তুমি। তুমি সামান্য এক মানুষ! থামো!
সৃষ্টিকর্তা মানবজাতিকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন সেবক হিশেবে। শাসক হিশেবে নয়। শাসক তিনিই, যিনি সব গড়েছেন। সৃষ্টিকর্তার এই বাগানে মানুষ কেবল মালীর ভূমিকায় রয়েছে। স্রষ্টার সমস্ত সৃষ্টিকে পরিচর্যা করাই আমাদের দায়িত্ব। কাজেই মানুষকে বুঝতে হবে তার কাজ ধ্বংস করা নয়। বরং পৃথিবীর সবকিছুকে সেবা দেয়াই মানবজাতির প্রধানতম কাজ। সৃষ্টিকর্তার এই বাগানের প্রতিটি প্রাণির সেবা করার মাঝেই মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত। অর্থাৎ, স্রষ্টা মানুষকে শক্তিশালী একটি মস্তিষ্ক দিয়েছেন। দিয়েছেন অন্যের যন্ত্রণা উপলব্ধি করার মত হৃদয়। এই দুই শক্তি অর্থাৎ বিবেক এবং মমত্বের মিশ্রণ দিয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করতে হবে। তবেই করোনার মত মহামারীগুলো থেকে আমাদের পরিত্রাণ ঘটবে। নয়তো আমরা জানি না, স্রষ্টা কতগুলো ঢেউয়ের পর আমাদের ক্ষমা করবেন অথবা ধ্বংস করে দিবেন। কাজেই আসুন, কুকুর-বিড়াল থেকে শুরু করে কোন প্রাণিকেই যেন নিকৃষ্ট মনে না করি। প্রতিবেশির পাশে দাঁড়াই। পথে হাঁটতে-চলতে অপর যে কোন মানুষ বা প্রাণির প্রতি সহমর্মী আচরণ করি।
আসুন, আমরা এই মানবজাতির জন্য, বাঙালীর জন্য সুন্দর একটি ইতিহাস রেখে যাই। প্রাণবিক একটি বাংলাদেশ গড়ে যাই আগামী প্রজন্মের জন্য। প্রাণবিকতাই হোক মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন।
রাকিবুল হক এমিল
প্রতিষ্ঠাতা
পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন