20/11/2021
একজন অভিভাবকের কি দেখে তার সন্তানের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাছাই করা উচিত?
যে কোনো অভিভাবকের জন্য বছরের এই সময়টা হয় অনেক বিষয় নিয়ে ভাবার। হয়ত কারো সন্তানকে নতুন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো অথবা আগের চেয়ে ভালো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা। ‘ভালো’ এর সংজ্ঞা এক এক জনের কাছে এক এক রকম। সব ভালো হয়ত পাওয়া যায় না অথবা অনেক ভালোর ভিড়ে আসল বা দরকারি ভালোটাই হয়ত হারিয়ে যায়।
এই করোনা পরবর্তী এই সময়টা একই সাথে যেমন অনেকটা ভালো যে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরতে পারছে তেমনই এই সময়টা শিক্ষা নিয়ে অনেককে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। আসলেই পুঁথিগত বিদ্যাই যে সব কিছুই নয় তা হয়ত এখন শতকরা ৯০% অভিভাবকই বুঝতে পেরেছেন। যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এত সময় ধরে বন্ধ না থাকলে হয়ত আরও অনেক বছর লেগে যেত বুঝতে। বাকি ১০% অভিভাবকের জন্য শুধু অল্প কথায় বলতে গেলে একটা প্রশ্নই করা লাগবে তা হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতীত শিক্ষা মাধ্যম (অনলাইন মাধ্যম) শিক্ষা হয়ত দিতে পেরেছে কিন্তু প্রকৃত জ্ঞান কতটুকু অর্জন হল শিক্ষার্থীর ? আশা করি এই প্রশ্নের উত্তরেই অনেক কিছু বের হয়ে আসবে।
একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনিতেই গড়ে উঠে না অনেক অবকাঠামোগত বিষয় ও অনেক মানুষের নিরলস পরিশ্রমে তা একটা যায়গায় পৌছায়। আমার নিজস্ব মত ও অভিজ্ঞতার আলোকে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কিছু বিষয় থাকা খুবই জরুরি-
- আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা যার মূল উদ্দেশ্য হবে জ্ঞান অর্জন; মুখস্থবিদ্যা নয়।
- যথাযথ পরিবেশ যেখানে প্রকৃতিগত ও প্রযুক্তিগত সুবিধা যা হবে শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক।
- ক্রমাগত নিজেদের আধুনিকতায় উদ্ভাসিত ,আন্তরিক ও জ্ঞানপিপাসু শিক্ষক
- সবাইকে যথাযথভাবে পরিচালনা করার মত যোগ্য, অভিজ্ঞ ও সহযোগিতা মানসিকতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধান।
অনেকেই মনে করতে পারেন যে প্রধান বিষয়গুলোতে ‘শিক্ষার্থী’-এর পয়েন্ট কেন বলা হল না। এটা নিয়ে পরে হয়ত বিশদ আকারে বলা যাবে। আজ শুধু এতুকুই বলবো যে যখন উপরের বিষয়গুলো একত্রিত করা করা হবে তখন এই সবকিছু যাদের উদ্দেশ্য করে করা হচ্ছে সেই শিক্ষার্থীর জ্ঞানের রাস্তাটা খুলে যাবে। কারন শিক্ষার্থী ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন কল্পনা করা যায় না তেমনি প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে জ্ঞান অর্জন ক্ষমতা একরকম নয়। প্রতিটি শিক্ষকের এই জিনিসটা অন্তত বিশ্বাস করা উচিত যে জ্ঞান অর্জন ক্ষমতা সব শিক্ষার্থীর মধ্যেই আছে তবে সেটার জন্য তাকে দিতে হবে যথাযথ পরিবেশ এবং জ্ঞানার্জনের যথাযথ সুযোগ।
সকল অভিভাবক কেও একটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে তাদের সন্তানের মধ্যে জ্ঞান অর্জন করার ক্ষমতাটা ভালোভাবেই আছে, হয়তো সেটা প্রকাশ হচ্ছে না কিন্তু প্রকাশ করার পথ কতটুকু আমরা তৈরি করে দিতে পারছি সেটা একটা বড় প্রশ্ন কারণ দিন শেষে দেখা যায় যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা আমাদের সন্তানদের শিখাতে চাচ্ছি সেই উদ্দেশ্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সফলতার মুখ খুব কমই দেখে।
তাই আমাদের নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে এবং বোঝার সময় হয়েছে যে প্রকৃত জ্ঞান প্রদান করার জন্য কি কি বিষয় জরুরী এবং প্রতিটি অভিভাবকেরই উচিত সেই জিনিস গুলো বা সেই বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের দেয়ার ব্যবস্থা করা সেটা যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হোক না কেন- উদ্দেশ্য যদি ঠিক থাকে তাহলে সফলতা আসার সময় এর ব্যাপার মাত্র।
-আহমেদ শরীফ শুভ
প্রভাষক, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজ
প্রাক্তন প্রভাষক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ ও মেট্রোপলিটন ক্রিয়েটিভ স্কুল ও কলেজ
#অভিভাবক #নতুনভর্তি #ভর্তিযুদ্ধ #শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেভর্তি