14/06/2026
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে বাণিজ্যিক আদালতের বিচারক এর ৭৫টি, (বিচারক - জেলা ও দায়রা জজ), যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজের ১৪৬টি পদ (চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার, ডিস্ট্রিক্ট/মেট্রোপলিটন জুডিসিয়াল এডমিনিস্ট্রেটর ও লিগ্যাল এইড অফিসার, সুপ্রিম কোর্ট, রেজিস্ট্রার( সিভিল জজ), বাণিজ্যিক আদালতের ৭৫টি পদ সৃজন
09/06/2026
mcq প্রিলি পরীক্ষা ২০২৬ এর সিট প্ল্যান। সবার জন্য দোয়া ও শুভকামনা ❤️
09/06/2026
Law Officer Circular at Jamuna Bank PLC
31/05/2026
“চার মিনিটের নীরবতা”
ব্রিটিশ আমলের ব্যারিস্টারদের এক অসাধারণ যৌক্তিক লড়াই
১৯২৮ সালের কলকাতা।
Calcutta High Court-এর একটি বড় এজলাসে ভিড় উপচে পড়েছে।
কারণ মামলাটি ছিল অদ্ভুত।
এক ধনী জুয়েলারি ব্যবসায়ী— গিরীশচন্দ্র দে— নিজের বাড়ির ভেতর খুন হন।
ঘর ভিতর থেকে বন্ধ ছিল।
টাকা-পয়সা, গয়না কিছুই খোয়া যায়নি।
পুলিশ খুব দ্রুত একজনকে গ্রেপ্তার করল— ব্যবসায়ীর ভাগ্নে নির্মল।
কারণ:
- হত্যার আগের দিন মামা-ভাগ্নের ঝগড়া হয়েছিল;
- নির্মলের জামায় সামান্য রক্ত পাওয়া গিয়েছিল;
- এবং এক চাকর দাবি করেছিল, সে রাতে নির্মলকে ঘরের কাছাকাছি দেখেছে।
সবাই ভাবল— মামলাটি খুব সহজ।
দুই ব্যারিস্টার
সরকারপক্ষের হয়ে ছিলেন বিখ্যাত ইংরেজ ব্যারিস্টার চার্লস উইনস্টন।
আর আসামির পক্ষে দাঁড়ালেন বাঙালি ব্যারিস্টার অনিরুদ্ধ সেন।
অনিরুদ্ধ সেনের খ্যাতি ছিল একটাই—
“তিনি সাক্ষীর কথা নয়, ঘটনার ভেতরের যুক্তি দেখতেন।”
সরকারের শক্ত মামলা
চার্লস উইনস্টন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন—
“মানবিক সম্পর্ক, আর্থিক বিরোধ এবং রক্তের প্রমাণ— সবকিছু একই ব্যক্তির দিকে নির্দেশ করছে।”
তিনি একে একে সাক্ষী আনলেন।
চাকর বলল—
“রাত ঠিক দশটার দিকে আমি নির্মলবাবুকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখেছি।”
ডাক্তার বললেন—
“মৃত্যু রাত দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে হয়েছে।”
পুলিশ বলল—
“ঘরে জোর করে ঢোকার কোনো চিহ্ন ছিল না।”
সব মিলিয়ে আসামির অবস্থা খারাপ।
অনিরুদ্ধ সেনের অদ্ভুত প্রশ্ন
অনিরুদ্ধ খুব কম প্রশ্ন করছিলেন।
হঠাৎ তিনি চাকরকে জিজ্ঞেস করলেন—
“তুমি বলছ রাত ঠিক দশটায় নির্মলকে দেখেছ?”
— “জি।”
“তুমি সময় দেখেছিলে?”
— “জি, দেয়াল ঘড়িতে।”
“ঘড়িটি কোথায় ছিল?”
— “ড্রইংরুমে।”
“তুমি কত দূর থেকে ঘড়ি দেখেছিলে?”
— “এই… বিশ-পঁচিশ হাত দূর থেকে।”
অনিরুদ্ধ মাথা নেড়ে চুপ করে গেলেন।
আসল খেলা
পরদিন তিনি আদালতে একটি বড় কাগজ আনলেন।
সেটি ছিল বাড়ির নকশা।
তিনি বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন—
“মাই লর্ড, চাকর যেখান থেকে দাঁড়িয়ে ছিল বলে দাবি করছে, সেখান থেকে ড্রইংরুমের ঘড়ি দেখা অসম্ভব।”
তারপর তিনি ব্যাখ্যা করলেন:
- মাঝখানে একটি কাঠের পার্টিশন ছিল;
- আলো খুব কম ছিল;
- এবং ঘড়িটি ছোট ছিল।
বিচারক আগ্রহী হলেন।
কিন্তু আসল আঘাত তখনও বাকি
অনিরুদ্ধ এবার ডাক্তারকে দাঁড় করালেন।
“আপনি বলেছেন মৃত্যু দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে?”
— “জি।”
“আপনি কি মৃতদেহের পাকস্থলী পরীক্ষা করেছিলেন?”
— “হ্যাঁ।”
“খাবার কতটা হজম হয়েছিল?”
ডাক্তার কিছু নোট দেখে বললেন—
“প্রায় সম্পূর্ণ।”
অনিরুদ্ধ শান্তভাবে বললেন—
“মৃত ব্যক্তি রাত সাড়ে নয়টায় খাবার খেয়েছিলেন— এটা কি ঠিক?”
— “জি।”
“তাহলে মাত্র ত্রিশ মিনিটে সম্পূর্ণ হজম হওয়া কি স্বাভাবিক?”
ডাক্তার থেমে গেলেন।
আদালতে ফিসফাস শুরু হলো।
ডাক্তার ধীরে বললেন—
“না… সাধারণত অন্তত দুই ঘণ্টা লাগে।”
চার মিনিটের নীরবতা
আদালত হঠাৎ নিস্তব্ধ।
চার্লস উইনস্টন কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেলেন।
কারণ যদি খাবার সম্পূর্ণ হজম হয়ে থাকে, তাহলে মৃত্যু সাড়ে দশটায় হয়নি।
অর্থাৎ নির্মলের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো পুরো সময়রেখাই ভুল।
শেষ প্রশ্ন
অনিরুদ্ধ শেষবার চাকরকে জিজ্ঞেস করলেন—
“তুমি কি পুলিশের কথা অনুযায়ী সময় বলেছিলে?”
লোকটি ঘেমে উঠল।
কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল—
“ওরা বলছিল দশটার দিকেই হবে…”
রায়
বিচারক নির্মলকে বেকসুর খালাস দিলেন।
রায়ে তিনি লিখলেন—
“সন্দেহ প্রমাণ নয়। আর একটি ভুল সময় পুরো মামলার ভিত্তি ধ্বংস করে দিতে পারে।”
সেদিন আদালতের বাইরে এক বৃদ্ধ ব্যারিস্টার বলেছিলেন—
“ভালো আইনজীবী উত্তর শোনে। মহান আইনজীবী সময়ের অসঙ্গতি শোনে।”
আর অনিরুদ্ধ সেনের সেই মামলাটি বহু বছর ধরে কলকাতার আইন শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত ছিল—
“চার মিনিটের নীরবতা” নামে।
Hassan Azim
Advocate, Supreme Court of Bangladesh.
20/05/2026
হাইকোর্ট পারমিশন ২০২৬ রেজাল্ট।
অভিনন্দন
14/05/2026
আইনের শিক্ষার্থী এবং আইনজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয়
শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিন
#আইনি_সেবা
14/05/2026
আগ্রহী আইনের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন।