Coastal & Maritime Business Research Center

Coastal & Maritime Business Research Center

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Coastal & Maritime Business Research Center, Educational Research Center, Dhaka.

31/10/2020

ন্যানোপ্রযুক্তি ও ক্রায়োসার্জারি
এস এম হাবিব উল্লাহ, মাস্টার ট্রেইনার ও প্রভাষক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, রাউজান সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম

ন্যানোপ্রযুক্তি ও ক্রায়োসার্জারি
অ- অ অ+

ন্যানোপ্রযুক্তি
যা শিখতে পারবে

১। ন্যানো প্রযুক্তির ধারণা।

২। ন্যানো প্রযুক্তির প্রয়োগক্ষেত্র।

৩। ন্যানো প্রযুক্তির সুবিধা ও অসুবিধা।



ন্যানোপ্রযুক্তি

পারমাণবিক বা আণবিক পর্যায়ে অতিক্ষুদ্র যন্ত্র তৈরি করার জন্য ধাতব বস্তুকে সুনিপুণভাবে কাজে লাগানোর বিজ্ঞানকে ন্যানো টেকনোলজি তথা ন্যানোপ্রযুক্তি বলে। ন্যানো শব্দটি গ্রিক nanos শব্দ থেকে এসেছে। এর আভিধানিক অর্থ dwarf। কিন্তু এটি একটি মাপের একক হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। রিচার্ড ফাইনম্যানকে ন্যানোপ্রযুক্তির জনক বলা হয়।

১ মিটারের ১০০ কোটি ভাগের এক ভাগকে বলা হয় ১ ন্যানোমিটার। অর্থাৎ 1 nm = 10-9 m। ন্যানোমিটার পর্যায়ের টেকনোলজিকেই বলে ন্যানো টেকনোলজি।



প্রয়োগ

১। কম্পিউটার হার্ডওয়্যার

২। ন্যানো রোবট

৩। ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি

৪। জ্বালানি

৫। প্যাকেজিং ও প্রলেপ

৬। ওষুধ

৭। খেলাধুলার সামগ্রী

৮। মহাকাশ অভিযান

৯। বস্ত্রশিল্প

১০। কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ



ন্যানো টেকনোলজির সুবিধা

১। এ প্রযুক্তিতে তৈরি যন্ত্রপাতি বেশি টেকসই হয়। আকারে ক্ষুদ্র ও ওজনে হালকা হয়।

২। ন্যানো টেকনোলজির প্রয়োগে উৎপাদিত ওষুধকে বলে ‘স্মার্ট ড্রাগ’। এগুলোর ব্যবহারে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা যায়।

৩। খাদ্যজাত দ্রব্য প্যাকেজিংয়ের সিলভার তৈরির কাজে লাগে।

৪। এ প্রযুক্তিতে তৈরি ন্যানো ট্রানজিস্টর, ডায়োড, প্লাজমা ডিসপ্লে ইত্যাদির ফলে ইলেকট্রনিক শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হচ্ছে।

৫। ন্যানো প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যাটারি, ফুয়েল সেল, সোলার সেল ইত্যাদির মাধ্যমে সৌরশক্তিকে অধিকতর কাজে লাগানো যায়।



ন্যানোপ্রযুক্তির অসুবিধা

১। ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যয়বহুল হওয়ায় এ প্রযুক্তিতে তৈরি পণ্যও ব্যয়বহুল।

২। ন্যানোপারটিকেল মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।



ক্রায়োসার্জারি
যা শিখতে পারবে

১। ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসা পদ্ধতির ধারণা।

২। ক্রায়োসার্জারির ব্যবহারের সুবিধা।

৩। মহাকাশ অভিযানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা।



ক্রায়োসার্জারি হলো এমন এক চিকিৎসা পদ্ধতি, যাতে তাপমাত্রা কমিয়ে শরীরের অস্বাভাবিক বা রোগাক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংস করা হয়। গ্রিক শব্দ ‘ক্রায়ো’ যার অর্থ বরফের মতো শীতল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘সার্জারি’ তথা ‘হাতের কাজ’। ক্রায়োসার্জারিকে ক্রায়োথেরাপিও বলা হয়।

নিম্ন তাপমাত্রায় ক্রায়োসার্জারি দেহকোষের ভেতরকার বরফ ক্রিস্টালগুলোর বিশেষ আকার বা বিন্যাসকে ছিন্ন করে দূরে সরিয়ে দেয়। এই পদ্ধতিতে তাপ কমাতে ব্যবহার করা হয়—

তরল নাইট্রোজেন

হিলিয়াম গ্যাস

আর্গন গ্যাস

ডাই মিথাইল ইথাইল প্রোপ্রেন ইত্যাদি।



ক্রায়োথেরাপি বা ক্রায়োসার্জারি যেভাবে কাজ করে

এ পদ্ধতিতে টিউমারের ভেতরের ক্যান্সার টিস্যুতে তাপমাত্রা মাইনাস ১২০ থেকে মাইনাস ১৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনতে ইমেজিং যন্ত্রের সাহায্যে তরল আর্গন গ্যাস প্রয়োগ করা হয়। তাপমাত্রা অত্যধিক হ্রাসের ফলে কোষের পানি জমাটবদ্ধ হয়ে ওই টিস্যুটি বরফপিণ্ডে পরিণত হয়। ফলে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধের কারণে টিস্যুটির ক্ষয় সাধিত হয়। আবার ইমেজিং যন্ত্রের সাহায্যে টিউমার টিস্যুটির ভেতরে হিলিয়াম গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে টিস্যুটির তাপমাত্রা 200C থেকে 400C-এ ওঠানো হয়। তখন জমাটবদ্ধ টিউমার টিস্যুটির বরফ গলে যায় এবং টিস্যুটি ধ্বংস হয়ে যায়।



ক্রায়োসার্জারির ব্যবহার

নিউরোসার্জারি এবং টিউমার বা ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় এবং বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ শারীরিক রোগ যেমন—যকৃতের ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদির চিকিৎসায় এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া ত্বকের ছোট টিউমার, তিল, আঁচিল, ত্বকের ক্যান্সার ইত্যাদিও ক্রায়োসার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।



ক্রায়োসার্জারির সুবিধা

১। প্রথম সুবিধা হচ্ছে আক্রান্ত টিস্যুতে শীতক যন্ত্রটি এমনভাবে লাগানো হয়, যাতে টিস্যুর সবধরনের ক্রিয়াকলাপকে সাময়িকভাবে অকার্যকর করে রাখা যায় এবং চিকিৎসা শেষে টিস্যুটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া যায়।

২। দ্বিতীয় সুবিধা হচ্ছে এ পদ্ধতিতে তাপমাত্রা যখন নিচে নামানো হয় তখন সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে রক্ত সরে যায় এবং রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়। ফলে রক্তপাত হয় না বললেই চলে। হলেও তা খুব কম।

৩। তৃতীয় সুবিধা হচ্ছে ক্যান্সার নিরাময়ে বহুল প্রচলিত চিকিৎসায় ব্যবহূত কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি এবং বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের মতো চিকিৎসায় এই পদ্ধতির কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

৪। বর্তমানে এই পদ্ধতি ধীরে ধীরে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি এবং অস্ত্রোপচারের জায়গাটা দখল করে নিচ্ছে। ক্যান্সার ও নিউরো রোগীদের কাছে দিন দিন এই পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ছে।

https://www.facebook.com/The-International-Institute-for-Nanotechnology-Bangladesh-109647287564280

24/09/2020

Old thinking old result, new thinking, new resources

18/09/2020

গ্রামের কাদামাটির সন্তান মনোয়ারুল ইসলাম রিবেল

পরিচয়ের প্রথমেই শুরু করেন আমি গ্রামের ছেলে, আমার বাড়ি রংপুরে। আর নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে কাজ করছেন গ্রামের মানুষের উন্নয়নে। শিক্ষা, আইটি ও কৃষি সেক্টরকে নিয়ে তিনি তরুণদের উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন নিরলস।
রংপুর জেলার মনুরছড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রিবেল মনোয়ার। কৃষিভিত্তিক ও বণিক পরিবারের সন্তান। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাবিজ্ঞানে অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিকটিমোলজি এন্ড রেস্টোরেটিভ জাস্টিস বিভাগে মাষ্টার্স, আনর্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগে পিজিডি ও আইবিএ থেকে এসিএমপি কোর্স করেন। ।

এরপর মার্কেটিংয়ে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেন রয়্যাল ইউনিভার্সিটে অব ঢাকা থেকে। এরপর সুইস ইউনিভার্সাল হায়ার এডুকেশনাল ইনস্টিটিউট , জুরিখ, সুইজারল্যান্ড থেকে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটিং এন্ড সাইবার সিকিউরিটি। ডিপ্লোমা ইন স্ট্রাটেজিক ম্যানেজমেন্ট শেষ করেন একই প্রতিষ্ঠান থেকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে এবং বিজনেস লিডারশিপে গবেষনা ও এমফিল সম্পন্ন করেন। ভারতের গুজরাটের পারুল ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি রিসার্চ ফেলো হিসেবে গবেষনা করছেন।

বর্তমানে একাধিক বিষয়ে দেশে ও বিদেশে পড়াশোনা করছেন সেইসাথে তৈরি করেছেন দেশের প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি কোম্পানী। এডিসন গ্রুপ ( সিমফোনী মোবাইল এর মাদার কোম্পানীর) আইটি ও এগ্রো সেক্টরের প্রতিষ্টাতা সিওও তিনি। ড্যাফোডিল গ্রুপের ডলফিন ডিজিটাল, ড্যাফোডিল সাইবার সিকিউরিটি সলিউশন, ড্যাফোডিল মাল্টিমিডিয়া, স্কিল জবস এ তিনি ছিলেন মার্কেটিং ডিরেক্টর। কর্পোরেট কালচার, ওয়ার্ক এথিকস্, ইনোভেটিভ অ্যাপ্রোচ, স্ট্রাটেজিক প্লানিং ও বিজনেস ডেভেলপমেন্টে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি মনোয়ারুল ইসলাম রিবেল। ব্যবসা-বাণিজ্যে তার হাতে খড়ি সেই কৈশোর বয়স থেকে যখন সে তার বাবার দোকানে সাহায্য করার জন্য সময় দিতেন।

কিন্তু প্রকৃত অর্থে, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসা এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ক্যারিয়ারে আছেন দীর্ঘ ১০ বছরেরও অধিক সময় ধরে। তিনি তার ক্যারিয়ারকে নিত্য নতুনভাবে এক্সপিরিমেন্ট করে বিজনেস ডেভেলপমেন্টকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গ্যাছে। যখন কোন কোম্পানি তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সংগ্রাম করে, অথবা আর্থিক সক্ষমতা শূন্যের কোঠায় চলে যায়, যখন এই ধরনের উদ্যোগের সাথে জড়িত সকলে জন্য একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তখন মনোয়ারুল ইসলাম রিবেল তার সৃজনশীল চিন্তাধারা, ব্যবসায়ীক জগতের সর্বশেষ জ্ঞান ও নিজস্ব ইনটিউশন এবং এক্সপিরিয়েন্সের সমন্বয়ে এই ধরনের মৃত প্রায় ব্যবসায়ীরক উদ্যোগকে নতুন জীবন দান করেন এবং লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ব্লু-প্রিন্ট বাতলে দেন।
তিনি সর্বদা কর্পোরেট সেক্টরে নানা ধরণের ইতিবাচক সংস্কার আনার কথা চিন্তা করেন এবং তার সুদূরপ্রসারী নানান উদ্ভাবণী ও কল্যাণমূখী পদক্ষেপ তাকে ভিশনারী লিডার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি মুক্ত চিন্তা করতে পছন্দ করতেন, এবং কোন ধরাবাধা সীমায় তিনি আবদ্ধ থাকতে চাননি।

সময়ের আবর্তে মনোয়ারুল ইসলাম রিবেল বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ও মার্কেটিং এর পাশাপাশি আইটি ও বিপিও এর উপর গভীর জ্ঞানে নিজেকে সমৃদ্ধ করে তোলেন এবং সমাজে একজন স্কলার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হন। তিনি জাদরো আইটি লিমিটেড, অরেঞ্জ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এবং বিপিও, এজিডি আইটি সল্যুউশন বিডি লিমিডেট এর সিওও হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি সিলেট উইমেন মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল এবং টেকনো আউট সোর্স ইউকে লিমিটেড এর ব্রান্ড এন্ড মিডিয়া কনসালট্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি সাংবাদিকতা করেন দৈনিক সমকাল ও বাংলানিউজ২৪.কম এর রিপোর্টার হিসেবে। পরে প্রতিষ্টা করেন বেঙ্গলিনিউজ , ক্যারিয়ার সংবাদ এক্সিকিউটিভ এডিটরের দায়িত্বও পালন করেন। উল্লেখ্য, তিনি বেস্ট ওয়ে গ্রুপ এর মতো সুপরিচিত ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর ও সিওও এর দায়িত্বও পালন করেছেন।

বর্তমানে তিনি তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি , আইওটির প্রয়োগ করে এ্যাগ্রো ইন্ডাষ্ট্রির সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের উপর বিশেষ ভূমিকা রাখছেন।

রিবেল মনোয়ার সমাজের বিকাশ ও উন্নয়নকল্পে বেশ কিছু প্রকল্প শুরু করেছেন যা সমাজে আর্থিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। ছাত্র জীবনে কাজ করেছেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ক্লাব। সেই থেকে শুরু। আইটি সেক্টর: - বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট - ব্লক চেইন টেকনোলজিস বাংলাদেশ - ডলফিন আইওটি সল্যুউশন - রকেট রোবোটিক্স - রংপুর সাইবার সেন্টার - এআই বাংলাদেশ - মিডিয়াটেক বাংলাদেশ রিসার্চ ইনস্টিটিউট: - বাংলাদেশ মার্কেটিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ( এমআরআই) - রংপুর রিসার্চ ইনস্টিটিউট - বাংলাদেশ সাসটেইননেবিলিটি রিসার্চ ইনস্টিটিউট - বাংলাদেশ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডেশন - ক্যাপিটাল মার্কেটিং প্রোফেশনাল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ - বাংলাদেশ নিউ মিডিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট - বাংলাদেশ ডিজিটাল মার্কেট ইনস্টিটিউট এডুকেশন: - এভারফি এডু-টেক বাংলাদেশ - বাংলাদেশ ডিজিটাল লার্নিং সোসাইটি - এডু-টেক বাংলাদেশ - ফ্লোরিস্ট প্রি-স্কুল ও ডে কেয়ার সেন্টার - বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ইনস্টিটিউট - ঢাকা বইয়ের দোকান
সোসাইটি কমিউনিটি: - বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স নেটওয়ার্ক - ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপো বাংলাদেশ - কানেক্টিং দ্যা ডট সোসাইটি - বাংলাদেশ স্ট্রাকচার অব ইন্টেলিজেন্স সোস্যাইটি - বাংলাদেশ ইনডেজিনাস ক্যারিয়ার ফোরাম - বাংলাদেশ বিজনেস রেসিলিয়েন্স ফোরাম - কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম সেন্টার অব বাংলাদেশ - বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন
সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট: - ইয়ুথ ক্যারিয়ার ইনস্টিটিউট - এগ্রিকালচার প্রোডাক্ট ব্রান্ড অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ - ইয়ুথ মার্কেটিং সোসাইটি।

এছাড়া তিনি কিছু সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথেও জড়িত রয়েছেন: - ইলোন মাস্ক স্টাডি গ্রুপ - জ্যাক মা স্টাডি গ্রুপ - ওয়ারেন বাফেট স্টাডি গ্রুপ তিনি লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ইনফিনিটির ক্লাব ডিরেক্টর। প্রতিষ্টাতা ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফাইন্যান্সিয়াল লিডারশিপ ক্লাব।

বাংলাদেশে প্রথম নিউরোমার্কেটিং সংগঠন নিউরো মার্কেটিং রিসার্চ সেন্টার তৈরি করেন। আধুনিক মার্কেটিং বিদ্যার জনক প্রফেসর ফিলিপ কটলারের প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং সামিটের ও কটলার ইমপ্যাক্ট ইনকরপোরেটেডের বাংলাদেশ পার্টের এডিশনাল ডিরেক্টর হিসেবে তিনি কাজ করছেন।

08/09/2020

আয়ুর্বেদ মতে আহার
|| মোখলেছুর রহমান ||

সূচনা:
আয়ুর্বেদ কেবলই একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা নয়, জীবনশৈলীও বটে। অর্থাৎ আয়ুর্বেদিক ব্যবস্থায় চিকিৎসা গৌণ। মূখ্য হলো আহার (খাবার) ও বিহার (জীবনযাত্রা)-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিচর্যা করা। কথাটা খুব সাদামাটা হলেও এর ভিতর রয়েছে অনেক বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা। বিষয়ের গভীরতা ও আঙ্গিক কলেবর চিন্তা করে এই পর্বে শুধু আহার নিয়ে আলোচনা করছি। বিহার নিয়ে আরেকটি প্রবন্ধ লিখবো।

আহার সম্বন্ধে ধারণা:
আহার হলো বেঁচে থাকার এক অপরিহার্য উপাদান। স্বাস্থ্য ও রোগাক্রমণ প্রধানত আহারের উপর নির্ভরশীল। যথার্থ আহার যথাসময়ে এবং যথানিয়মে গ্রহণ করলে স্বাস্থ্য রক্ষা ও রোগ নিরাময় উভয়ই সম্ভব বলে প্রাচীনকালে আয়ুর্বেদের পন্ডিতগণ পরিস্কারভাবে বলে গেছেন। তাদের এইসব বক্তব্য আজকের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ ও সমুজ্জ্বল। আহারকালে যে খাবার গ্রহণ করা হয় তাতে মিষ্টি (Sweet), টক (Sour), নোনা (Salty), কটু (Pungent), তিক্ত (Bitter) ও কষা (Astringent) এই ৬ (ছয়) ধরণের স্বাদ থাকে। তবে এর সবগুলি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। দেহের ধরণের উপর নির্ভর করে একেকজনের জন্য তার পরিমাণ নির্ধারণ করতে হয়। অর্থাৎ প্রযোজ্য স্বাদযুক্ত আহার নির্ধারণের পূর্বে দেহের ধরণ নির্ধারণ করা জরুরি। সব মিলিয়ে যথার্থ আহার নির্ধারণ এবং তা পরিমাণ ও সময়মতো গ্রহণ সুখায়ু ও হিতায়ু লাভ করা সম্ভব।

আয়ুর্বেদমতে দেহের গঠন:
আয়ুর্বেদে জীবনকে দেহ, অনুভূতি, মন এবং আত্মার সমন্বয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মানবদেহের প্রধান চালিকাশক্তি হলো বায়ু অর্থাৎ এনার্জি অব মুভমেন্ট, পিত্ত অর্থাৎ এনার্জি অব ট্রান্সফর্মেশন ও কফ অর্থাৎ এনার্জি অব স্ট্রাকচার এন্ড লুব্রিকেশন। একে পরিপূর্ণ দৈহিক রূপ দিয়েছে ৭টি প্রাথমিক ধাতু বা কলা (রস, রক্ত, মাংস, মেদ, অস্থি, মজ্জা ও শুক্র) এবং ৩টি মল (মল, মূত্র ও ঘাম)। দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয় পুরোটাই নির্ভর করে খাদ্যের উপর যা দোষ, ধাতু ও মল এ পরিবর্তিত হচ্ছে। হজম প্রক্রিয়া, শোষণ, পরিপাক প্রনালী ও খাদ্যের রাসায়নিক প্রক্রিয়ার উপর আমাদের স্বাস্থ্যরক্ষা ও ব্যাধির আক্রমণ নির্ভর করে। আবার আমাদের শারীরিক সুস্থতার উপর মানসিক অবস্থা ও অগ্নির প্রভাব আছে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আয়ুর্বেদ ৫,০০০ বছরের প্রাচীন চিকিৎসা ব্যবস্থা হলেও তা পুরোটাই বিজ্ঞানভিত্তিক।

বায়ু, পিত্ত এবং কফ - এই ৩টি অবস্থাকে আয়ুর্বেদে ‘দশা/দোষ/শক্তি’ বলে। দেহে এদের সমতা থাকলেই শরীর সুস্থ্য থাকে। কিন্তু অসমতা সৃষ্টি হলেই রোগের আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়। এই শক্তিগুলি একসাথে শরীরের ক্যাটাবোলিক ও এ্যানাবোলিক জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া অর্থাৎ মেটাবোলিজম ঘটায়। এদের প্রধান কাজ হলো শরীরের হজম হওয়া পুষ্টির উপজাত দ্রব্য শরীরের সমস্ত স্থানে পৌঁছে দিয়ে কোষ ও কলা তৈরিতে সাহায্য করা।

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় পথ্য ব্যবস্থা:
আয়ুর্বেদে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মানব দেহকে খাদ্যের ফলস্বরূপ ধরা হয়। মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং মন মেজাজ সবই খাদ্যমানের উপর নির্ভরশীল। মানব দেহে খাদ্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া দ্বারা রক্ত, পেশী, চর্বি, হাড়, হাড়ের মজ্জা, পুনর্জননের উপাদানে পরিণত হয়। কাজেই খাদ্য হল দেহের সমস্ত রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং জীবনী শক্তির মূল। খাদ্যে পুষ্টির অভাব বা অঠিক রূপান্তর অনেক রোগের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

আয়ুর্বেদে মোট ৬ ধরণের চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে ‘পথ্য ব্যবস্থা’ অন্যতম। অন্য ৫টি হলো শোধন (বিশুদ্ধিকরণ) চিকিৎসা, শমন (প্রশমন) চিকিৎসা, নিদান পরিবর্জন (অসুখের কারণ বর্জন), সত্ববজায় (মানসিক রোগের চিকিৎসা) ও রসায়ন চিকিৎসা (দৈহিক শক্তি ও প্রাণশক্তি সৃষ্টির চিকিৎসা)। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক ক্রিয়াাকর্ম, অভ্যাস ও আবেগজনিত অবস্থার উন্নতির জন্য পথ্য ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। থেরাপিউটিক কার্যকারিতা বাড়াতে এবং প্যাথোজেনিক প্রক্রিয়াকে বাধা প্রদান করতে এই ব্যবস্থা বিশেষ কার্যকর। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের উপর নিষেধাবলি জারি করে অগ্নিকে উদ্দীপিত করা এবং খাদ্যবস্তুর উত্তম আত্মীকরণের মাধ্যমে কলাসমূহের শক্তি লাভই এই চিকিৎসার মূল লক্ষ্য।

দেহের ধরণ ও মানুষের বৈশিষ্ট্য:
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, বায়ু, পিত্ত ও কফ দেহ পরিচালনার প্রধান শক্তি। তাই এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দেহকে ৭ ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এরা হলো বায়ু, পিত্ত, কফ, বায়ু-পিত্ত, পিত্ত-কফ, কফ-বায়ু ও বায়ু-পিত্ত-কফ। দেহের এই ৭টি ধরণকে নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. বায়ু প্রকৃতি: উৎসাহ, অনুপ্রেরণা, দৈহিক কার্য পরিচালনা, অঙ্গ ও ইন্দ্রিয়সমূহের কার্যকারিতা বজায় ও রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি হলো বায়ুর প্রধান কাজ। এই ধরণের মানুষের দেহের গড়ন হয় হালকা ও অবিরাম বিশ্রামহীন অবস্থায় কাজ করতে পারে এরা। এদের দেহ শুষ্ক হয়। তাই ময়েশ্চারাইজিংয়ের প্রয়োজন পড়ে। এরা গভীরভাবে দীর্ঘক্ষণ ধরে ঘুমায় না। ফলে ঘুম চট করে উঠে ফ্রেশ হতে সময় লাগে। হালকা চলনের এই মানুষদের কথা ও কন্ঠস্বর হয় নির্দেশমূলক, যা অনেকে পছন্দ করে না। এরা কথা একটু বেশি বলে। ভ্রমণপ্রিয় হয় বলে এরা বেশিক্ষণ একস্থানে থাকতে পছন্দ করে না। বসে থাকলেও এরা হাতের আঙুল নিয়ে খেলা করে এবং মনের অজান্তেই পা নাড়ায়। এরা যে কোন কাজ দ্রুত সম্পাদন করতে পছন্দ করে। প্রচুর এনার্জি থাকে বলে লাফ-ঝাফ এদের পছন্দ। এরা শীতল পানীয় বেশ পছন্দ করে। তাই ঘনঘন তা পান করে। বায়ু প্রকৃতির মানুষেরা অন্য কাউকে দ্রুত ভালোবাসেন এবং দ্রুত ত্যাগও করেন। এরা দ্রুত শিখতে পারে। তবে আবার দ্রুত ভুলেও যায়। এদের দেহে অধিক পরিমাণ ও মোটা মোটা লোম থাকে। এরা স্বল্প আহারী। নতুন সৃষ্টিতে এরা অত্যন্ত পটু, বিধায় সহজেই অন্য কাজের সাথে দ্রুত নিজেদেরকে যুক্ত করে ফেলে।

বায়ু প্রকৃতির মানুষের মধ্য থেকে ক্ষুরধার বক্তা, জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ও উচুঁমানের সঙ্গীতশিল্পী তৈরি হয়। বিক্রয়কর্মী ও ভ্রমণ বিষয়ক চাকুরির জন্য এরা উত্তম। অংকে ভালো হয় বলে এদের বিশ্লেষণ ক্ষমতা খুবই ভালো। তবে অধৈর্য হওয়ার জন্য এরা ব্যবসায়ে ভালো করে না। এরা দ্রুত নতুন ও সৃজনশীল উদ্ভাবনে পটু হলেও বাস্তবায়নে দূর্বল। এরা দ্রæত আয় করেন ও দ্রুত ব্যয় করতে পছন্দ করেন।

২. পিত্ত প্রকৃতি : হজমে সাহায্য করা, শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখা, দৃষ্টি, ক্ষুধা, তৃষ্ণা, বুদ্ধি ও সাহস বৃদ্ধি করা এবং দেহের কোমলতা প্রদান করা পিত্তের প্রধান কাজ। পিত্ত প্রকৃতির মানুষের দেহ কোমল ও মাংসল হয় এবং একটু মোটা হলে পেশী ঝুলে পড়ে। এইজন্য উত্তপ্ত পরিবেশ এদের অপছন্দ। এরা দ্রæত মোটা হয় এবং দ্রæত শুকিয়ে যায়। এদের হজম শক্তি বেশি এবং মাঝারি দীর্ঘ সময় ঘুমাতে পারে। ঘুম থেকে উঠে সহজেই ফ্রেশ হতে পারে। এদের চুল নরম ও পাতলা, নখ ও চামড়া নরম এবং চুলের বর্ণ সাধারণত ধুসর কালো হয়। এদের গায়ের চামড়া সুন্দর হয়। তবে মুখে ও দেহের বিভিন্ন স্থানে ব্রোন উঠে। এরা দ্রæত রেগে যায়, তবে তা বেশি সময় ধরে পুষে রাখতে পারে না। এরা অন্যকে গভীরভাবে ভালোবাসে তবে তা প্রকাশ করে না। এদের দেহে একধরণের কটু গন্ধ পাওয়া যায়। ক্ষুধা ও তৃষ্ণা তীব্র বলে এরা বেশ খেতে পছন্দ করে। এরা সহজে বুড়িয়ে যায়, চামড়া কুঁচকে যায় এবং মাথার চুল কমে যায়।

তীক্ষ বুদ্ধিসম্পন্ন ও গভীর গর্বিত মানুষেরা পিত্ত টাইপের। এরা পরিকল্পনা, আয়োজন, ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কাজে পটু। এদের নেতৃত্ব দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে সফলতা আনায় দক্ষ। পিত্ত টাইপের মানুষেরা ভালো শিক্ষক হয়। এরা বাণিজ্য, বিতর্ক, রাজনীতি ও অধিকার আদায়ে সক্ষম ও সফল চরিত্রের। এরা শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করে ও ভালো রান্না কিংবা খাবার উপভোগ করে।

৩. কফ প্রকৃতি: স্থিতিশীলতা, দেহের জয়েন্টগুলির কার্যকারিতা, সহনশীলতা, আবেগ এবং মানসিক চাপ ধরে রাখা কফের অন্যতম প্রধান কাজ। এদের দেহ সাধারণত চর্বিতে মোড়ানো থাকে বলে দৈহিক আকার বড় হয়। এদের চুল, চামড়া ও নখ ময়েশ্চারাইজড থাকে। এদের চুল সাধারণ সোজা ও গভীর কালো বর্ণের হয়। এদের গায়ের রং কালো থেকে ফরসা হয় এবং দেহ মসৃণ থাকে। এদের দেহ বেশ ভারী প্রকৃতির। তাই এরা একটু অলস হয়, তবে অত্যন্ত দৃঢ়। এদের দৈহিক ও মানসিক চলন ধীর প্রকৃতির। এরা সহজে অধিক ক্ষুধার্ত বা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ে না। রুটিনের মধ্যে যে কোন কাজ এরা খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারে। তবে হঠাৎ নতুন কোন কাজ দেখলে ঘাবড়ে যায়। এদের কন্ঠ নরম ও গভীর হয়, যা সুখময়তা নিয়ে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

গবেষক ও চিন্তাশীল ব্যক্তি হিসেবে কফ প্রকৃতির মানুষ অত্যন্ত কার্যকর। সহমর্মিতা ও আগাম বুঝার ক্ষমতা আছে এদের। তাই চিকিৎসক ও মনোবিদ হিসেবে এরা ভালো করে। নিয়োগদান ও জনবল ব্যবস্থাপনায় এরা খুব দক্ষ। দায়িত্ব গ্রহণে বেশ ভালো বলে এরা ব্যবসায়ে এরা সফল হয়। দীর্ঘমেয়াদি কাজের সহযাত্রী হিসেবে কফ প্রকৃতির মানুষ খুবই ভালো।

৪. বায়ু-পিত্ত: এরা বায়ু ও পিত্তের যৌথ ও গড় গুণাবলিসম্পন্ন হয়।

৫. পিত্ত-কফ: এরা পিত্ত ও কফের যৌথ ও গড় গুণাবলিসম্পন্ন হয়।

৬. কফ-বায়ু: এরা কফ ও বায়ুর যৌথ ও গড় গুণাবলিসম্পন্ন হয়।

৭. বায়ু-পিত্ত-কফ: এরা বায়ু, পিত্ত ও কফের যৌথ ও গড় গুণাবলিসম্পন্ন হয়।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বিশুদ্ধ বায়ু, পিত্ত, কফ ও বায়ু-পিত্ত-কফ এই ৪ ধরণের মানুষের সংখ্যা খুব কম। অধিকাংশ মানুষ যে কোন ২টি দশার মিশ্র রূপ।

আহার নির্ধারণ:
আয়ুর্বেদিক রান্নাঘরকে ফার্মেসি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ এখানে যে আহার প্রস্তুত করা হয় তা দিয়ে অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান ও ভবিষ্যৎ সমস্যা রোধ করা হয়। ৬টি স্বাদের সমন্বয়ে দেহের ধরণ বিবেচনা করে ত্রিদোষে সমতা আনার উদ্দেশ্যে এবং প্রকৃত স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য আয়ুর্বেদিক আহার প্রস্তুত করা হয়। তাই এরূপ আহার গ্রহণের মাধ্যমে দেহ ও মন মহাজাগতিক শক্তি অর্জন করে। আয়ুর্বেদিক আহার বিশুদ্ধ, তাজা, পরিপূর্ণ হয় যা ভালোবাসার স্পর্শে প্রস্তুত করা হয়। মানুষের দেহের ধরণের উপর ভিত্তি করে আহার নির্ধারণ হয়, যা নিচে উল্লেখ করা হলো:

বায়ু প্রকৃতি: কর্নাটকের মাইশুরুতে অবস্থিত ইন্দাজ ভ্যালি আয়ুর্বেদা সেন্টার বায়ু প্রকৃতির মানুষের জন্য সুষম আহারের কথা বলেছে। তাদের মত অনুযায়ী আহারের অর্ধেক অর্থাৎ ৫০% শর্করা (চাল, যব, গম ইত্যাদি), ৪০%-এর মধ্যে অর্ধেক থাকবে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন (মসুর, মুগ, সিম ইত্যাদি) ও অর্ধেক সব্জি এবং ১০% থাকবে মিষ্টি বা ফল। বায়ু প্রকৃতির মানুষদেরকে যথাসম্ভব শুকনো, মচমচে, শীতল ও কাঁচা আহার পরিহার করতে হবে।

পিত্ত প্রকৃতি: পিত্ত প্রকৃতির মানুষের আহারে অধিক সব্জি ও তিক্ত স্বাদযুক্ত খাদ্য থাকা বাঞ্ছনীয়। আহারে অধিক পরিমাণ লবন, মসলা ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং টকজাতীয় খাবার কম দিতে হবে। তবে দারুচিনি, হলুদ ও গোলমরিচ, চা ও কফি খেতে বাধা নাই পিত্ত প্রকৃতির মানুষের। এলকোহল পরিত্যাজ্য। এরা নানা ধরণের মিষ্টি ফল (দুপুরে খাবারের একঘন্টা আগে), দানাদার খাদ্য (চাল ও গম) ও মসুর ব্যতীত অন্যান্য ডাল, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত আহার, টাটকা মধু (সংগ্রহের ৬ মাসের মধ্যে) গ্রহণ করতে পারবে। সাথে ঘি ও ঠান্ডা পানি গ্রহণ করলে তা বাহক বা অনুপান হিসেবে উপকারী ভূমিকায় কাজ করবে।

কফ প্রকৃতি: কফ প্রকৃতির মানুষদেরকে যতটুকু ক্ষুধা, তারচেয়ে কম আহার গ্রহণ করতে হবে। মসলাযুক্ত খাবার, শুকনো ডুমুর, অল্প শর্করা, ডিম, মুরগি, মাসকলাই ছাড়া অন্য ডাল, মধু, ননীমুক্ত দুধ ইত্যাদি খাবার এদের জন্য উত্তম।

পরিহারযোগ্য আহার:
দেহের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রত্যেককে কিছু খাদ্য পরিহার করতে হয়, যা উপরে কিছুটা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিউ মেক্সিকোতে অবস্থিত দ্য আয়ুর্বেদিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও বিখ্যাত আয়ুর্বেদ পন্ডিত ড. বসন্ত লাড এক প্রকাশনায় নিচের খাদ্যগুলিকে যথাসম্ভব পরিহার করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। এই অনুযায়ী আমাদের দেশে সহজলভ্য কিছু পরিত্যাজ্য খাদ্যের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

বায়ু প্রকৃতি: কাঁচা আপেল, শুকনো খেজুর, পিয়ার, তরমুজ ইত্যাদি ফল। ব্রোকলি, কাঁচা ফুলকপি ও বাধাকপি, কচি ভূট্টা, বেগুন, মাশরুম, কাঁচা জলপাই, কাঁচা পেয়াজ, কাঁচা মরিচ, টমেটো সালাদ, সাদা আলু, কাঁচা মূলা ইত্যাদি সব্জি। কাজু বাদাম, গরু ও ছাগলের গুঁড়া দুধ, দই, ভেড়ার মাংস, চকোলেট, তিসির তেল, আপেল জুস, ব্ল্যাক টি, কফি, কার্বোনেটেড ড্রিংক, চকোলেট মিল্ক এবং দুগ্ধজাত শীতল খাবার।

পিত্ত প্রকৃতি: টক আপেল, কলা, কাঁচা আঙ্গুর, লেবু, কাঁচা আম, টক কমলা, টক আনারস ও তেঁতুল ইত্যাদি ফল। কটু স্বাদযুক্ত সব্জি, রসুন, কাঁচা মরিচ, কাঁচা পেয়াজ, কাঁচা মূলা, কাঁসুন্দি, টমেটো ইত্যাদি সব্জি। বাটার, বাটার মিল্ক ও পনির, গরু ও ভেড়ার মাংস, হাঁস, সামুদ্রিক মাছ, লেবু ও আমের আচার, মেয়োনেজ, সয়া সস, সূর্যমুখী ও তিলের তেল, আপেল সিডার ও কার্বোনেটেড ড্রিংক।

কফ প্রকৃতি: কলা, নারিকেল, খেজুর, ডুমুর, তরমুজ, কমলা, পেঁপে, আনারস, তেঁতুল ইত্যাদি ফল। শসা, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি সব্জি। শর্করার মধ্যে গম এবং সয়াবিন দিয়ে তৈরি খাদ্য। গরুর দুধ, দই, পনির ও আইস ক্রিম, গরু, মহিষ, ভেড়া ও হাঁসের মাংস এবং সামুদ্রিক মাছ। চকোলেট, আমের চাটনি ও আচার, লেবু ও লেবুর আচার, সয়া সস, ভিনেগার, সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী ও নারিকেল তেল এবং কার্বোনেটেড ড্রিংক।

আহারের সময়:
আয়ুর্বেদ মতে সকল আহার গ্রহণের সাথে আকাশে সূর্যের উপস্থিতির প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। দিনের বেলা দেহের অগ্নি অনেক বেশি কর্মক্ষম থাকে। ফলে খাদ্য থেকে দেহে অমা বা টক্সিন তৈরি হয় না। তাই ঘুম থেকে উঠেই প্রাতঃকালে ঊষাপান হিসেবে এক গ্লাস গরম পানি পান করে সূর্যোদয়ের কাছাকাছি সময়ে সকালের আহার গ্রহণ করা উচিত। তবে তা কোনভাবেই ৯.৩০ টা অতিক্রম না করার জন্য অভিজ্ঞরা মত দিয়েছেন। সূর্য যখন মধ্যগগনে থাকাকালে দুপুরের আহার গ্রহণ করা উত্তম। রাতের আহার সূর্যাস্ত থেকে শুরু করে রাত ৮.০০ টার মধ্যে গ্রহণ করার বিশেষ তাগিদ আছে। রাত ১০.০০ টার পর শর্করা জাতীয় আহার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা বাঞ্জনীয়।

আহারের পদ্ধতি:
দুপুর ও রাতের আহারে ৬ ধরণের স্বাদযুক্ত আহার গ্রহণ করা উচিত। তবে বায়ু, পিত্ত ও কফের প্রকৃতি মেনে পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। আহারের শুরুতে মিষ্টি জাতীয় ফল দিয়ে শুরু করে পরে নোনা ও টক জাতীয় খাবার গ্রহণ করা উত্তম। সবশেষে কটু, কষা ও তিক্ত খাবার দিয়ে আহারের পরিসমাপ্তি ঘটানো উচিত। অত্যন্ত মনযোগ সহকারে, ঠান্ডা হওয়ার পূর্বেই আহার গ্রহণ করতে হবে। তবে পরিপূর্ণ স্বাদ গ্রহণের জন্য রসনাকে সময় দিতে হবে এবং অধিক খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। খেতে হবে শুধু ক্ষুধা নিবারণের উদ্দেশ্যে। আগের বেলার খাবার হজম না হলে পরের বেলায় কম আহার গ্রহণ করা উচিত। অনেক আয়ুর্বেদের পন্ডিতদের মতে প্রাতঃরাশে মাঝারি এবং মধ্যাহ্নভোজনে অধিক আহার গ্রহণের উপর তাগিদ দিয়েছেন। তারা আরো বলেছেন যে, ক্ষুধা না লাগলে রাতের খাবার পরিহার করা উত্তম।

উপসংহার:
বায়ু, পিত্ত ও কফ এই ত্রিদোষ সূর্যালোক ও তাপ এবং দিবারাত্রি ও ঋতুর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রুটিন মেনেই নিজেকে মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে। অন্যথায় সুখায়ু অর্জন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

08/05/2020

"ভয়ের তাড়া খেলেই ধর্মের মূঢ়তার পিছনে মানুষ লুকাতে চেষ্টা করে ”-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । একটা ভাষা দাঁড়িয়ে আছে আপনার দেখানো পথে । #শুভ জন্মদিন

07/05/2020

চিরায়ত চিকিৎসা: স্বাস্থ্যপর্যটনের নতুন দিগন্ত
মোখলেছুর রহমান

ভূমিকা:
নাটোরের ৩টি ইউনিয়নে প্রায় ৫,০০০ কৃষক ২২ প্রজাতির ঔষধি উদ্ভিদ চাষ করেন। এই তথ্যটিকে পুঁজি করে ট্যুর অপারেটররা ঐ স্থানে হোমস্টে ও স্থানীয় গাইডিংয়ের ব্যবস্থা করলে “ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন ট্যুর” নামে স্বাস্থ্য পর্যটনের একটি প্যাকেজ সহজেই তৈরি করে ফেলতে পারবে। আবার এখন করোনাকালীন সংকটে যখন ঐ স্থানে ১৫০ হেক্টর জমির প্রায় ১৫ কোটি টাকার উদ্ভিদ ইতোমধ্যে নষ্ট হয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের প্রেক্ষিতে “রিয়েলিটি ট্যুরিজম” নামে আরেকটি প্যাকেজ তৈরি করে এসব ক্ষতি ও সর্বনাশ দেখিয়ে অর্থ ও সুনাম দুটোই অর্জন করতে পারবে। আর আবদুল গণি (১৯৮৮) লিখিত বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদ বইয়ের বরাত দিয়ে যদি প্রচার করা যায় যে, বাংলাদেশে ৪৪৯ প্রজাতির ঔষধি উদ্ভিদ আছে, তাহলে অন্য দেশ থেকে ঔষধি উদ্ভিদ নিয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণা করেন এমন অনেক মানুষ ছুটেও আসতে পারেন। তাতে কিছু বৈদেশিক মুদ্রা কামাই করে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু এই অর্থ উপার্জনের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এইসব জীবন রক্ষাকারী ঔষধি উদ্ভিদ সুরক্ষার জন্য শিঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা, না হলে করোনার মতো আরেকটি মানবিক পরাজয়ের জন্য আমাদেরকে প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থ্য প্রায় দেড় যুগ আগে এক গবেষণায় ভবিষ্যৎ বাণী করেছে যে, বিপন্নপ্রায় উদ্ভিদগুলিকে সুরক্ষা না করতে পারলে আগামী দিনে ঔষধ তৈরির কাঁচামালের অভাবে মানুষ মুত্যুবরণ করবে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রতিটি রাজ্যে একটি করে মেডিসিনাল প্ল্যান্ট বোর্ড আছে এবং দিল্লীতে আছে ন্যাশনাল প্ল্যান্ট বোর্ড। আমাদের দেশে বাংলাদেশ মেডিসিনাল প্ল্যান্ট বোর্ড করার চিন্তা করা হলো ২০১১ সালে, অথচ তা আলোর মুখ দেখলো না। নিশ্চয়ই এর দায় কোন আমলা কিংবা মন্ত্রী কেউই নিবেন না।

চিরায়ত চিকিৎসা কী?
দেশজ যে চিকিৎসা পদ্ধতি (Indigenous Medicine) স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় অর্থাৎ শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায়, রোগ নির্ণয়ে এবং চিকিৎসা পরিচালনায় ব্যবহৃত হয় তাকে চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতি বলে। লোকজ জনজীবন থেকে উঠে আসার জন্য একে লোকজ চিকিৎসাও বলা হয়। এই চিকিৎসাশাস্ত্র তত্ত¡, বিশ^াস ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সৃষ্টি ও অনুশীলন করা হয় বলে অনেকে একে বিকল্প চিকিৎসা বলেও অভিহিত করেন। অন্যদিকে আদিবাসি সম্প্রদায় তাদের নিজেদের উদ্ভাবিত ভিন্ন চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা করেন, একে Ethno-medicine বলে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) প্রত্যেকটি চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে অধ্যয়নের, সংরক্ষণের তাগিদ দিয়ে জনজীবনের এদের প্রয়োজনীয়তার কথা ব্যক্ত করেছে। সম্প্রতিকালে Ethno-medicine-এর অনুসন্ধান এবং যথাযথভবে নথিভূক্ত করার জন্য WHO অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। বাংলাদেশ ব্যতীত আমাদের সকল প্রতিবেশি দেশে এসব বিষয়ের উপর রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিটি দেশ বা অঞ্চলের মতো আমাদেরও রয়েছে হাজার হাজার বছরের প্রাচীন চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতি যা তৎকালীন জ্ঞানী, দার্শনিক ও চিকিৎসকগণ উদ্ভাবন করেছেন। একটি উদাহরণ দিলে পরিস্কার হবে। প্রাচীন ভারতে খ্রিস্টপূর্ব ২ শতক থেকে ১১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় ১,৩০০ বছর ধরে মানব চিকিৎসায় বিভিন্ন খনিজ পদার্থের ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য গবেষণা চলেছে, যাকে ভারতীয় আলকেমি বলে চিহ্নিত করা হয়। এইসব উদ্ভাবনী আজ আমাদের চিরায়ত চিকিৎসার ভিত্তি। প্রাচীন পন্ডিতগণ অভূতপূর্ব অবদান রেখে গেছেন অঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থায়। গবেষকগণ বলছেন যে, সারা পৃথিবীতে অঞ্চলভেদে ৬০-৮৫% মানুষ এখনো তাদের চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল। উল্লেখ্য, এখনো চীন, ভারত, জাপান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, কোরিয়ার কমপক্ষে ৪০% মানুষ তাদের চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগ নিরাময় করে। বাংলাদেশের অবস্থান জানা না গেলেও এটুকু জানা যায় যে, এখানে ২৩২টি আয়ুর্বেদিক ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে ঔষধ উৎপাদন করছে। অর্থাৎ এ থেকে চাহিদার একটি তথ্যচিত্র পাওয়া যায়।

আমাদের চিরায়ত চিকিৎসা কোনটি:
প্রাচীন ভারতে প্রায় ৫,০০০ বছর আগে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার গোড়াপত্তন ঘটে এবং ৫,০০০ বছর আগে উত্তর-ভারতের ইন্দাজ-সরস্বতী সভ্যতায় যোগ দর্শনের (Yoga Philosophy) সুচনা হয়, যা ১৯ শতকের শুরুতে আধুনিক যোগবিদ্যায় রূপলাভ করে। গ্রীস থেকে ইউনানী চিকিৎসা পদ্ধতির জন্ম হয়। Aesculapius এই চিকিৎসা পদ্ধতির জনক। চীনে জন্ম নেয় ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিনের। আর জার্মান থেকে জন্ম হয় হোমিওপ্যাথির। বাংলাদেশে এর সবগুলিই কমবেশি অনুশীলন হচ্ছে। অধিকন্তু চাকমা, মারমা, রাখাইন, টিপরা, গারো, খাসিয়া প্রভৃতি আদিবাসিদের রয়েছে নিজস্ব Ethno-medcine। ইউনেস্কো যে কোন চিরায়ত চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ঐ জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য বলে ঘোষণা করেছে। কেননা, চিরায়ত চিকিৎসা ব্যবস্থা একটি জাতিগোষ্ঠীকে কেবল সুস্থ্যই রাখে না, বরং তার সংস্কৃতির অংশ। তাই সময় এসেছে দেশে যত ধরণের চিকিৎসাই থাকুক, আমাদের চিরায়ত চিকিৎসাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দানের। এর ফলে আমাদের চিকিৎসা বিষয়ক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পৃথিবীর মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারবো। এর বিষদ অধ্যয়ন, গবেষণা, অনুশীলন এবং সংরক্ষণের একটি পরিপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। তা না হলে আমরা হারিয়ে ফেলবো জাতীয় জীবনের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে।

উদ্ভিদভিত্তিক চিরায়ত চিকিৎসা:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশে হাজার হাজার বছর আগে থেকে উদ্ভিদভিত্তিক চিরায়ত চিকিৎসার প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়ে আসছে। আমাদের প্রচীন পন্ডিতগণ দীর্ঘ বছরের গবেষণার মাধ্যমে চিকিৎসায় উদ্ভিদের সুনির্দিষ্ট ব্যবহার এবং প্রটোকল নিধারণ করেছেন। তরল, ক্বাথ, পাউডার ও গুটিকা - এই ৪ (চার) আকারে উদ্ভিদের ব্যবহারবিধি প্রবর্তন করেছেন তারা। অনুজীবঘটিত সংক্রামক রোগ, খাদ্যবাহিত রোগ, কানের রোগ, মুত্রতন্ত্রের সংক্রামন এবং যৌন রোগেও চিকিৎসাতেও এই অঞ্চলে উদ্ভিদের ব্যবহার অতি প্রাচীন। চর্মরোগ, সাইনুসাইটিসসহ কত রোগ নিরাময়ের জন্য উদ্ভিদ ব্যবহৃত হয়েছে তা বলাই বাহুল্য। বংশপরম্পরায় উদ্ভিদভিত্তিক চিরায়ত চিকিৎসা এখানে মূর্তমান। আজকাল রসায়নবিদগণ উদ্ভিদ থেকে একলালয়েড, গøাইকোসাইড, ফ্ল্যাভোনয়েড, টেনিন, তারপিন, রেজিন, গাম, মিউসিলেজ, এন্টি-অক্সিডেন্ট ইত্যাদির অনুসন্ধান করে উদ্ভিদকে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে যুক্ত করছেন। তাতে উদ্ভিদের ঔষধি ব্যবহার বেড়েছে বটে, কিন্তু সিনথেটিক ঔষধ প্রস্তুত করতে গিয়ে উদ্ভিদের এন্টিডট প্রপার্টি ফেলে শুধু ডট গ্রহণ করার জন্য ঔষধে পার্শপ্রতিক্রিয়া বেড়ে গেছে। উল্লেখ্য, ডট ও এন্টিডট উভয় বৈশিষ্ট্য একটি ঔষধি উদ্ভিদে থাকে এবং চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতিতে উদ্ভিদের এই সকল বৈশিষ্ট্য অবিকৃতভাবে ব্যবহার করা হয় বলে তাতে পার্শপ্রতিক্রিয়া প্রায় অনুপস্থিত থাকে।

চিরায়ত চিকিৎসায় বাংলাদেশ
আধুনিক অর্থনীতির মাপকাঠিতে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে স্থান পেয়েছে, যার প্রায় ৮০% মানুষ এখনো গ্রামে বাস করেন। শহরের তুলনায় বিশেষজ্ঞ এলোপ্যাথিক চিকিৎসকদের স্বল্পতা, হাসপাতালের অব্যস্থাপনা, চিকিৎসার উচ্চব্যয় এবং ব্যাধি নিরাময় ও জরা ব্যবস্থাপনায় এলোপ্যাথিক ডিসিপ্লিনে কোন চিকিৎসা না থাকায় গ্রামের মানুষ জনস্বাস্থ্য নিয়ে বেশ বিপাকে আছেন। ফলে তাদেরকে বাধ্য হয়ে অশিক্ষিত ও অনভিজ্ঞ স্থানীয় লোকজ চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হন। অথচ আমরা শিক্ষিত কবিরাজ (বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক) তৈরি করতে পারলে এই সংকট সৃষ্টি হতো না। তাই এখন সময় এসেছে ডিগ্রিধারী কবিরাজ তৈরি করার। আমাদের মেধাবী তরুণদেরকে এই চিরায়ত চিকিৎসার উপর ডিগ্রি প্রদান করে তাদেরকে বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে পদায়ন করতে পারলে দেশে জনস্বাস্থ্যের একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন হতো। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় এদেশে শত শত মেডিক্যাল কলেজ স্থাপিত হয়েছে। অথচ আয়ুর্বেদে ডিগ্রি দেওয়ার জন্য ঢাকায় একটি মাত্র সরকারি কলেজ ছাড়া কেন আর কোন কলেজ হলো না এর কোন উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটি আমাদের চরম দীনতা। তাই এই দীনতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নিচের কাজগুলি করতে হবে-

- বাংলাদেশে অন্তত একটি সরকারি আয়ুর্বেদিক বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে এবং এই বিশ^বিদ্যালয়ের অধীন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রচুর পরিমাণে আয়ুর্বেদিক ডিগ্রি কলেজ স্থাপন করতে হবে।
- ইয়োগা শিক্ষাকে দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দেশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইয়োগা ডিগ্রি কলেজ স্থাপন করতে হবে।
- মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের অনুরূপ আয়র্বেদিক ও ইয়োগা কাউন্সিল গঠন করতে হবে।
- চীনা মেডিক্যাল শিক্ষা ব্যবস্থা আদলে আমাদের এমবিবিএস পর্যায়ে চিরায়ত চিকিৎসার অন্তত এক-পঞ্চমাংশ কোর্স যুক্ত করতে হবে।
- অবিলম্বে বাংলাদেশ মেডিসিনাল প্ল্যান্ট বোর্ড স্থাপন করতে হবে যারা ঔষধি উদ্ভিদের গবেষণা, জরিপ, সংরক্ষণ, উৎপাদন, চাহিদা নিরূপণ এবং আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা তৈরি করবে।
- বাংলাদেশ মেডিসিনাল প্ল্যান্ট বোর্ডের অধীন একটি জার্মপ্লাজম সেন্টার / জিন ব্যাংক এবং একটি হারবেরিয়াম স্থাপন করতে হবে।
- এথনো-মেডিসিন জরিপসহ তাদের চিকিৎসা পদ্ধতি যথাযথভাবে নথিভূক্ত করতে হবে।
- সরকারি হর্টিকালচার কেন্দ্র এবং বন বিভাগের চারা উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকে কাঙ্খিত প্রজাতির ঔষধি উদ্ভিদের চারা উৎপাদনের নির্দেশ দিতে হবে।
- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে কৃষক পর্যায়ে ফসল চাষের পাশাপাশি ঔষধি উদ্ভিদ চাষের প্রযুক্তি সম্প্রসারণের দায়িত্ব দিতে হবে।
- বন অধিপ্তরকে বনজ ঔষধি উদ্ভিদ সংরক্ষণ, কমিউনিভিত্তিতে চাষ এবং তা বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংগ্রহের দায়িত্ব দিতে হবে।
- জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিকে সঙ্গে নিয়ে ঔষধি উদ্ভিদের ব্যবসায়ীদেরকে সংগঠিত করতে হবে।
- আয়ুর্বেুদিক ঔষধ উৎপানের কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
- প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, উপজেলা হসপিটাল, জেলা হসপিটাল এবং প্রত্যেকটি মেডিক্যাল কলেজ হসপিটালি আয়ুর্বেদ ও ইয়োগা ডিগ্রিধারী চিকিৎসক পদায়ন করতে হবে।
- মানুষের মধ্যে গণসচেতনতা সৃষ্ঠির জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।

চিরায়ত চিকিৎসার স্বাস্থ্যপর্যটন
চিরায়ত চিকিৎসায় চীন ও ভারত সবচেয়ে এগিয়ে আছে বলে চিরায়ত চিকিৎসা স্বাস্থ্যপর্যটনেও এরা প্রথম সারিতে। ভারত আয়ুর্বেদ, ইয়োগা, সিদ্ধা ও ন্যাচারোপ্যাথি প্রভৃতিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দিয়ে অণটঝঐ নামে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করেছে। আমরা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এই জাতীয় সিদ্ধান্ত করতে পারি কিনা, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। চিরায়ত চিকিৎসাভিত্তিক স্বাস্থ্যপর্যটনকে প্রতিষ্ঠা করতে হলে অন্তত নিচের ১০ (দশ)টি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

ক) ঔষধি গ্রাম (Medicinal Plants Village): নাটোরের ৩টি ইউনিয়নে অবস্থিত ঔষধি গ্রামগুলিতে পর্যটকরা ভ্রমণে গেলে ২২ প্রজাতির ঔষধি উদ্ভিদের উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, সংগ্রহ, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও বিক্রয় ক্ষেত্রগুলি স্বচক্ষে দেখতে পাবেন। হোমস্টেতে রাত্রিযাপনকালে প্রয়োজনীয় ওয়েলনেস ট্রিটমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন। নিজেদের পারিবারিক স্থাস্থ্য রক্ষায় কিছু টিপস্ এবং উদ্ভিদের পাতা, ফুল, কুঁড়ি, ছাল, ফল, মূল, বীজ, উদ্ভিদের কস, আঠা ইত্যাদি ব্যবহার করে গার্হস্থ্য চিকিৎসা কিছু কৌশল শিখতে পারবেন। জলচিকিৎসা, মধু দিয়ে কত রকমের চিকিৎসা হয় সে সব বিষয় সম্বন্ধে জানতে পারবেন।
খ) আয়ুর্বেদিক রিসোর্ট (Ayurvedic Resort): বাংলাদেশে অবস্থিত ৫ শতাধিক রিসোর্ট এবং শতাধিক থিম ও এমিউজমেন্ট পার্কে ভ্রমণকালীন সময়ে পর্যটকরা পঞ্চকর্ম চিকিৎসা, আয়ুর্বেদিক স্পাসহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন। আয়ুর্বেদ মতে তারা বডিটাইপ নির্ধারণ করিয়ে সে মতো ডায়েটের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারবেন। তারা আরও জেনে নিতে পারবেন আয়ুর্বেদিক রেসিপি ও রান্নার পদ্ধতি। এসব বিষয় পর্যটকদেরকে মুগ্ধ করবে।
গ) জার্মপ্লাজম সেন্টার (Germplasm Center): বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের সকল প্রজাতি সংগ্রহ করে একটি জার্মপ্লাজম সেন্টার স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। এই সেন্টার ঔষধি উদ্ভিদ চাষীদেরকে চারা সরবরাহ করতে সাহায্য করবে। পর্যটকরা এই সেন্টার পরিদর্শনকালে ঔষধি উদ্ভিদের পূর্ণ সংগ্রহশালা দেখে মুগ্ধ হবেন এবং জ্ঞান অর্জন করবেন। বিশেষত ছাত্র, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য এই সেন্টার বড় বিদ্যাপিঠ হিসেবে কাজ করবে।
ঘ) আয়ুর্বেদিক হসপিটাল (Ayurvedic Hospital): জেনারেল হসপিটালগুলির মতো আয়ুর্বেদিক হসপিটালেও হাজার হাজার দেশি-বিদেশি মানুষ চিকিৎসা গ্রহণের জন্য মেডিক্যাল ট্যুরে আসবেন। বিশেষত আর্থ্রাইটিস, চর্মরোগ, যৌনরোগ, শিশুরোগ এবং নারীদের নানাবিধ রোগের চিকিৎসার জন্য আয়ুর্বেদিক হসপিটাল হতে পারে চিকিৎসার নির্ভরযোগ্য স্থান।
ঙ) আয়ুর্বেদিক চক্ষু হসপিটাল (Ayurvedic Eye Hospital): কেরালায় তৈরি হয়েছে শ্রীধারীয়াম আয়ুর্বেদিক আই ক্লিনিক এন্ড পঞ্চকর্ম সেন্টার নামক ৩৫০ বেডের ISO সার্টিফাইড বিশাল হসপিটাল। আমরা বাংলাদেশেও অনুরূপ হসপিটাল স্থাপন করতে পারি। এই হসপিটালে অন্তত ২৪টি দূরারোগ্য চক্ষুরোগের চিকিৎসা প্রদান করা যাবে। তাই আশা করা যায় এই জাতীয় হসপিটালে দেশি ও বিদেশি প্রচুর সংখ্যক রোগী চিকিৎসার জন্য আসবেন যেমন আসেন শ্রীধারীয়ামে।
চ) আয়ুর্বেদিক জেরিয়াটিক ম্যানেজমেন্ট হসপিটাল (Ayurvedic Geriatic Management Hospital): বয়স্ক মানুষ জরাব্যাধিতে আক্রান্ত হবেন এটি স্বাভাবিক। কিন্তু অস্বাভাবিক বিষয় হলো এদের কোন বিশেষায়িত জেরিয়াটিক হসপিটাল নাই। বাংলাদেশে এই ধরণের আয়ুর্বেদিক জেরিয়াটিক ম্যানেজমেন্ট হসপিটাল স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। দেশি এমনকি প্রচুর বিদেশি সিনিয়র সিটিজেনরা ছুটে আসবেন এই হসপিটালে চিকিৎসা গ্রহণ করার জন্য।
ছ) আয়ুর্বেদিক ক্যান্সার হসপিটাল (Ayurvedic Cancer Hospital): ডি এস রিসার্চ সেন্টার নামক আয়ুর্বেদিক ক্যান্সার চিকিৎসা হসপিটালের ৬টি শাখা রয়েছে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন অংশে। এখানে গ্রেড ১ ও গ্রেড ২ ক্যান্সার রোগীরা সহজেই নিরাময় লাভ করেন। গ্রেড ৩-র অনেক রোগী ভালো হচ্ছেন। বিষয়টি অবিশ^াস্য হলেও সত্য। আয়ুর্বেদে এতো বিস্ময়কর ঔষধ রয়েছে ক্যান্সার চিকিৎসায়, যা না দেখলে বিশ^াস করতে কষ্টই হবে। আমাদের এখানে এইজাতীয় হসপিটাল স্থাপন করতে পারলে তা দেশি বিদেশি ক্যান্সার রোগীদেরকে টেনে আনবে।
জ) যোগ সেন্টার (Yoga Center): পতঞ্জলি মুনি ৮ম শতকে পৃথিবীর মানুষকে যোগ দর্শন দিয়ে এতটাই সমৃদ্ধ করে গেছেন যে, তা আজ সারা পৃথিবীতে সমাদৃত। যোগ বিষয়ক ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে ভারতের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সাধারণ মানুষ যোগ অনুশীলনে শারীরিক ও মানসিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। অর্থাৎ মনোদৈহিক রোগ নিরাময়ে যোগ আজ সর্বজনীনতা পেয়েছে। বাংলাদেশে যোগ বিষয়ত ডিপ্লোমা, ডিগ্রি, সার্টিফিকেট কোর্স এমনকি সাধারণ প্রশিক্ষণের আওতায় এনে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা যায়। বিশ^ব্যাপী জনপ্রিয় যোগকে আমাদের অন্যতম চিরায়ত চিকিৎসা হিসেবে স্বীকৃতি ও সম্মান দেখানো অত্যন্ত জরুরি।
ঝ) আয়ুর্বেদিক সেনিটারিয়াম (Ayurvedic Sanitarium): আমেরিকায় সেনিটারিয়াম শতবছর ধরে জনপ্রিয়। সেনিটারিয়াম হলো হোটেল ও হসপিটালের সমন্বিত পর্যটন আবাসন। পশ্চিমা সেনিটারিয়ামকে আয়ুর্বেদিক ধারায় পরিচালনা করতে পারলে এই ধরণের সেনিটারিয়াম বিত্তবান দেশীয় বয়জেষ্ঠ্য মানুষ এবং বিদেশিদের কাছে বেশ কদর পাবে।
ঞ) আয়ুর্বেদিক বিউটি পার্লার (Ayurvedic Beauty Parlour): বিভিন্ন উদ্ভিদের পেস্ট, রস, ক্বাথ, মধু এবং নানাবিধ খনিজ পদার্থ ব্যবহার করে গড়ে তোলা যায় আয়ুর্বেদিক বিউটি পার্লার যেখানে নারী এবং পুরুষ উভয়েই নিরাপদে নিজেদের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য ফেসিয়াল, চুলের ট্রিটমেন্ট, আয়ুর্বেদিক ডায়েট চার্ট ইত্যাদি সেবা পাবেন। এই জাতীয় বিউটি পার্লার প্রাকৃতিকভাবে রূপচর্চা ও সৌন্দর্য অনুশীলনে সব শ্রেণির মানুষকে আকৃষ্ট করবে।

সারকথা:
এটিই সত্য যে, কেবল ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকঘটিত সংক্রামক রোগ এবং অপারেশন ছাড়া অন্য কোন রোগের মুক্তি মিলবে না এলোপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থায়। ফলে শত শত ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভের জন্য অথবা সহনীয় পর্যায়ে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ও যোগ অনুশীলনের দিকে ফেরত যাওয়ার কোন বিকল্প নাই। এমতাবস্থায় দেশি ও বিদেশি পর্যটকদেরকে আমাদের চিরায়ত চিকিৎসার দিকে নিঃসন্দেহে আকর্ষণ করা সম্ভব। অধিকন্তু, আয়ুর্বেদের ছাত্র-শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষার্থী, দেশি-বিদেশি গবেষক, ঔষধ প্রস্তুতকারী ব্যক্তিবর্গ, চিকিৎসা গ্রহণকারী, ওয়েলনেস সেবাপ্রার্থী, ঔষধি উদ্ভিদের ক্রেতা, সাধারণ দর্শনার্থী এবং ভ্রমণকারীরা এই সেবা গ্রহণ করতে আসবেন। এতে করে পর্যটন বাংলাদেশে স্বাস্থ্য শৃঙ্খলা ফেরত আনবে, জিডিপিতে অতিরিক্ত কয়েক হাজার কোটি টাকার অবদান রাখবে, বহির্গামী স্বাস্থ্যপর্যটন রোধ করে আরো কয়েক হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাবে এবং পর্যটন রপ্তানির মাধ্যমে আরো কয়েক শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করবে। তাই সময় এসেছে পর্যটনের বহুমুখিতা ও সৃজনশীলতা নিয়ে কাজ করার।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Dhaka