16/04/2024
Gelton Walton Refrigerator এইতো ঘুরেফিরে একই শরীফ থেকে শরিফা আর রূপান্তর। কী ভেবেছো যা গিলাবে তাই গিলবো? এখনো পহেলা বৈশাখ পূজাকেই বাঙালি সংস্কৃতি হিসাবে স্বীকৃতি না দেয়া পাবলিক আবার বিকৃত মস্তিষ্কের ট্রান্স নীতি, LGBTQ মেনে নিব এত সহজেই?
একটি শতভাগ বাংলাদেশী কোম্পানি যাকে কিনা আমরা আমাদের পণ্য বলে গর্ব করতাম তা এখন গেরং বাটার মত ওয়ালটন থেকে গেলটন হয়ে গিয়েছে ওকে কোন সমস্যা নেই। সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন মানুষ আর ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা কখনোই তোমাদের মুভমেন্ট ভুলে যাবে না তোমাদেরও পতনের চুলকানি ওঠেছে। প্রস্তুত হও!!
Emon Hasan Al-Bosry
20/03/2024
সত্যকথন পেইজ হ্যাক হয়েছে। কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। যারা করেছে ঐ দূর্ভাগাদের মহান প্রতিপালক হিদায়াহ দান করুন। আর নাহয় চিরস্থায়ী অগ্নিস্ফুলিঙ্গের হোক তারা ইন্ধন।
https://www.facebook.com/shottokothon1?mibextid=kFxxJD
06/04/2021
রাসূল (সা.) বলেছেন: আমি জ্ঞানের নগরী, আলী সেই নগরীর প্রবেশদ্বার, যে কেউ জ্ঞানের সন্ধান করে সে যেন সেই দ্বার দিয়ে প্রবেশ করে । (সহীহ বুখারী, ৭ম খণ্ড, পৃঃ-৬৩১; সহীহ মুসলিম, ১ম খণ্ড, পৃঃ-২৩; আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, ইয়ানাবীউল মুয়াদ্দাত, তাফসীরে তাবারী, ৩য় খণ্ড, পৃঃ-১৭১। তাফসীরে দুররে মানসুর, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ-৩৭৯; আল্লামা ইবন হাজার আসকালানী তাঁর লিসান গ্রন্থে উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, ' এই হাদীসের বহুবিধ সুত্র রয়েছে, হাকেম তাঁর মুস্তাদারাক গ্রন্থে তা বর্ণনা করেছেন । তিনি এ ব্যাপারে তাঁর রায় পেশ করতে গিয়ে বলেন এ হাদীসটি বিশুদ্ধ ।' প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আব্দুল হোসাইন আহমদ আল আমিনী আন নাজাফী, তাঁর আল গাদীর গ্রন্থে উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারীদেরকে একটি তালিকা দিয়েছেন যাদের সংখ্যা হচ্ছে, ১৪৩ জন। আল গাদীর, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ-৬১-৭৭)।
.
&_theology
08/05/2020
ুহাম্মদ_সাল্লাল্লাহু_আলাইহি_ওয়াসাল্লামের_উপর_দেয়া_একটি_অপবাদ_ও_তার_কোরআনী_জবাব
যায়েদ ইবনে হারেসকে যায়েদ ইবনে মুহাম্মদ কেন বলা হয় না? কারণ জায়েদ তাঁর আসল পুত্র ছিলেন না। পালকপুত্র ছিলেন। এবং জায়েদ রাযিআল্লাহু আনহু এর আসল
পিতা হারেস ছিলেন। এখানে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর তালাকপ্রাপ্তা
স্ত্রীকে স্বেচ্ছায় বিবাহ করতেন তাহলে একটা কথা ছিল। কিন্তু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিবাহ করেছেন একমাত্র আল্লাহ পাকের আদেশে।
এখন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কি উচিত ছিল সামাজিকতা রক্ষা করা নাকি আল্লাহ পাকের আদেশ মান্য করা?! এ সম্পর্কে কোরআন আমাদেরকে স্পষ্টভাবে উত্তরগুলো বলে দেয় । এজন্য এ বিষয়ে আমাদের মুসলমানদের কোনো প্রশ্ন নেই।
**হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন আসামি হবেন? তিনি তো আল্লাহ পাকের আদেশ পালন করেছেন।
এবং আল্লাহ পাকের আদেশ পালনের মাধ্যমে তিনি একটি নারী অধিকার নিশ্চিত করেন।
وَاِذۡ تَقُوۡلُ لِلَّذِیۡۤ اَنۡعَمَ اللّٰہُ عَلَیۡہِ وَاَنۡعَمۡتَ عَلَیۡہِ
اَمۡسِکۡ عَلَیۡکَ زَوۡجَکَ وَاتَّقِ اللّٰہَ وَتُخۡفِیۡ فِیۡ نَفۡسِکَ مَا اللّٰہُ مُبۡدِیۡہِ وَتَخۡشَی النَّاسَ ۚ وَاللّٰہُ اَحَقُّ اَنۡ تَخۡشٰہُ ؕ فَلَمَّا قَضٰی زَیۡدٌ مِّنۡہَا وَطَرًا زَوَّجۡنٰکَہَا لِکَیۡ لَا یَکُوۡنَ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ حَرَجٌ فِیۡۤ اَزۡوَاجِ اَدۡعِیَآئِہِمۡ اِذَا قَضَوۡا مِنۡہُنَّ وَطَرًا ؕ وَکَانَ اَمۡرُ اللّٰہِ مَفۡعُوۡلًا
( আল আহ্যাব - 37 )
আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন; আপনিও যাকে অনুগ্রহ করেছেন; তাকে যখন আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর। আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর যায়েদ যখন যয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যে পরিণত হয়েই থাকে।
مَا کَانَ عَلَی النَّبِیِّ مِنۡ حَرَجٍ فِیۡمَا فَرَضَ اللّٰہُ لَہٗ ؕ سُنَّۃَ اللّٰہِ فِی الَّذِیۡنَ خَلَوۡا مِنۡ قَبۡلُ ؕ وَکَانَ اَمۡرُ اللّٰہِ قَدَرًا مَّقۡدُوۡرَۨا ۫ۙ
( আল আহ্যাব - 38 )
আল্লাহ নবীর জন্যে যা নির্ধারণ করেন, তাতে তাঁর কোন বাধা নেই পূর্ববর্তী নবীগণের ক্ষেত্রে এটাই ছিল আল্লাহর চিরাচরিত বিধান। আল্লাহর আদেশ নির্ধারিত, অবধারিত।
الَّذِیۡنَ یُبَلِّغُوۡنَ رِسٰلٰتِ اللّٰہِ وَیَخۡشَوۡنَہٗ وَلَا یَخۡشَوۡنَ اَحَدًا اِلَّا اللّٰہَ ؕ وَکَفٰی بِاللّٰہِ حَسِیۡبًا
( আল আহ্যাব - 39 )
সেই নবীগণ আল্লাহর পয়গাম প্রচার করতেন ও তাঁকে ভয় করতেন। তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকাউকে ভয় করতেন না। হিসাব গ্রহণের জন্যে আল্লাহ যথেষ্ঠ।
**হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা রাযিয়াল্লাহু আনহু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আপন পুত্র ছিলেন না। সুতরাং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত
কোন ব্যক্তির পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।
আল্লাহ পাক আমাদেরকে ইসলামের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।
03/05/2020
১৪৮১ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে রোজ বৃহস্পতিবার,
এমন একজন সুলতান ইন্তেকাল করেন, সারা পৃথিবী যার উপাধি দিয়েছিল আল-ফাতিহ তথা বিজয়ী। ত্রিশ বছরের অধিক সময় যিনি ইসলামের খেদমত করেন।যার ন্যায়-ইনসাফ,পরহেজগারী,
সহনশীলতা,বীরত্ব,দৃঢ়তা-অবিচলতা , চমৎকার মেধা ও শক্তিশালী সৈন্যদল ও বিরাট সাম্রাজ্যের অধিপতি হওয়া সত্বেও গর্ব না করা ও তাঁর ঈর্ষনীয় নেতৃত্ব ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রেখেছে। সে মহান সুলতানের মৃত্যু সংবাদ যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন পোপ ও খ্রিষ্টানরা উল্লাসে ফেটে পড়ে এবং তিন দিনব্যাপী আনন্দ উৎসব ও প্রার্থনা সভার আয়োজন করে। তিনি হলেন পৃথিবীর দীর্ঘতম সাম্রাজ্যের অন্যতম মহান ওসমানী সাম্রাজ্যের সপ্তম সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ রহিমাহুল্লাহু। মহামান্য সুলতানের উপর আল্লাহ পাক রহম করুন এবং ইতিহাসের পাতায় তাঁর
আলোচনা সমুন্নত থাকুক। আমীন।
02/05/2020
الإمام أبو حنيفة واسمه النعمان بن ثابت الكوفي ومولده سنة 80هـ، فقيه العراق، وأحد أئمة الإسلام، والسادة الأعلام، وأحد الأئمة الأربعة أصحاب المذاهب المتنوعة، وهو أقدمهم وفاةً؛ لأنه أدرك عصر الصحابة، ورأى أنس بن مالك، قيل: وغيره، وذكر بعضهم أنه روى عن سبعة من الصحابة.
وقد كان الإمام عابدًا زاهدًا ورعًا تقيًّا، وكان له مع القرآن حال، فقد روي عنه مع كثرة ما له من مهامَّ من فتوى وعلم وفقه أنه كان يختم القرآن في ركعة واحدة ويقوم به الليل كله، فقد قال عنه مسعر بن كدام:
"دخلت المسجد، فرأيت رجلًا يصلي فاستحليت قراءته، فوقفت حتى قرأ سبعًا، فقلت: يركع، ثم بلغ الثلث، فقلت: يركع، ثم بلغ النصف، فلم يزل على حاله حتى ختم القرآن في ركعة، فنظرت فإذا هو أبو حنيفة". وكان الإمام أبو حنيفة يقول: "ربما قرأت في ركعتَي الفجر حزبين من القرآن"، وقال خارجة بن مصعب: "ختم القرآن في ركعة أربعة من الأئمة: عثمان بن عفان، وتميم الداري، وسعيد بن جبير، وأبو حنيفة رضي الله عنهم". وقال أسد بن عمرو: "صلى أبو حنيفة فيما حفظ عليه صلاة الفجر بوضوء العشاء أربعين سنة، فكان عامة الليل يقرأ جميع القرآن في ركعة، وكان يُسمع بكاؤه بالليل حتى يرحمه جيرانه، وحُفظ عليه أنه ختم القرآن في الموضع الذي توفي فيه سبعة آلاف مرة". وقال حماد بن أبي حنيفة: لما غسَّل الحسن بن عمارة أبي، قال: "غفر الله لك! لم تفطر منذ ثلاثين سنة، ولم تتوسد يمينك بالليل منذ أربعين سنة، ولقد أتعبت من بعدك، وفضحت القراء"، وعن القاسم بن معن: "أن أبا حنيفة قام ليلةً يردد قوله تعالى: ﴿بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ﴾.. [القمر: 46]، ويبكي، ويتضرع إلى الفجر"، وعن مليح قال: حدثني أبو حنيفة رضي الله عنه قال: "ما في القرآن سورة إلا قد أوترت بها".
هذه الروايات تعكس لنا حال الإمام أبي حنيفة رضي الله عنه مع القرآن، ومن هو الإمام أبو حنيفة! هو من كان يقضي يومه في العلم والفتوى، ثم يأتـي في الليل ويخلو بربه ويقرأ القرآن في ركعة، وقد يأتي على آية فيظل يرددها حتى يطلع الفجر، حتى قال عنه أحد العلماء في عصره: رأيت أبا حنيفة يجلس للناس جميع النهار فقلت: متى يتفرغ هذا لعبادة ربه؟ فتعاهدته يصلي العشاء مع الناس ودخل داره، فلما تفرَّق الناس خرج إلى المسجد فصلى إلى قريب من الصبح، فتعاهدته ليالي وكان ذلك دأبه، فرحم الله الإمام أبا حنيفة، فقد كانت وفاته سنة 150هـ، وصُلي عليه ببغداد ست مرات لكثرة الزحام، وقبره هناك رحمه الله.
المصادر:
- سير أعلام النبلاء للذهبي.
– مناقب الإمام أبي حنيفة وصاحبيه للذهبي.
- البداية والنهاية لابن كثير.
– أخبار أبي حنيفة وأصحابه للصَّيمَري.
-موقع دار الإفتاء المصرية.
30/04/2020
সুলতান মাহমুদ গজনবী রহ: ; যিনি ছিলেন মুসলমানদের গর্ব। ন্যায়পরায়ন শাসক। যিনি ভারতবর্ষকে ইসলামের ছায়াতলে আনার জন্য ১৭ বার ভারত আক্রমন করেছিলেন।
পূর্ণ নাম : ইয়ামিনউদ্দৌলা আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে সবুক্তগিন (ফার্সি: یمینالدوله ابوالقاسم محمود بن سبکتگین)
পরিচিত নাম : মাহমুদ গজনভি(محمود غزنوی)
জন্ম: ২ নভেম্বর ৯৭১ ।
মৃত্যু: ৩০ এপ্রিল ১০৩০),
সুলতান মাহমুদ ও মাহমুদে জাবুলি (محمود زابلی) নামেও পরিচিত ছিলেন ।
গজনভি সাম্রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ শাসক। ৯৯৭ থেকে ১০৩০ সালে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি পূর্ব ইরানিয় ভূমি এবং ভারত উপমহাদেশের উত্তর পশ্চিম অংশ (বর্তমান আফগানিস্তান ও পাকিস্তান) জয় করেন। সুলতান মাহমুদ সাবেক প্রাদেশিক রাজধানী গজনিকে এক বৃহৎ সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধশালী রাজধানীতে পরিণত করেন। তাঁর সাম্রাজ্য বর্তমান আফগানিস্তান, পূর্ব ইরান ও পাকিস্তানের অধিকাংশ এলাকা জুড়ে ছিল। তিনি সুলতান উপাধিধারী প্রথম শাসক; যিনি আব্বাসীয় খিলাফতের আনুগত্য স্বীকার করে নিজের শাসন চালু রাখেন। নিজ শাসনামলে তিনি ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন।
আল্লাহ পাক তাঁর এই নেক বান্দার সমাধিতে রহমতের বারিধারা বর্ষণ করুন । আমীন।
26/04/2020
রোজা, শরীয়তে যার জন্য নির্ধারিত পরিভাষা হলো 'সাওম বা সিয়াম'।
সিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত; যা রামাযান মাসব্যাপী আদায় করা হয়। যার রয়েছে বিভিন্নমুখী কল্যাণ ও বরকত।
কোরআন মাজীদে আল্লাহ পাক বলেন:
يا ايها الذين امنوا كتب عليكم الصيام كما كتب على الذين من قبلكم لعلكم تتقون ( سوره البقره-١٨٣)
হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে যেমনভাবে তোমাদের পূর্ববতী উম্মাতের উপর ফরয ছিল ; যাতে তোমরা তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি) অর্জন করতে পারো।(সূরা বাকারা-১৮৩)
আমাদের উপর কেন রোজা ফরজ করা হয়েছে? এই আয়াতের শেষ অংশেই (لعلكم تتقون ) বলা হচ্ছে: যাতে রোজার মাধ্যমে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।
তাহলে বুঝা গেল, আমাদের উপর রোজা ফরজ করার মূল উদ্দেশ্যই হলো তাকওয়া হাসিল করা।
তাকওয়া অর্থ: আল্লাহ ভীতি ও অন্তরে আল্লাহর ভয় ইত্যাদি । অর্থাৎ যেকোনো কাজ করার সময় মনে এই খেয়াল রাখা যে, পৃথিবীর কেউ আমাকে না দেখলেও আমার আল্লাহ আমাকে দেখছেন । অন্তরে সর্বদা এই খেয়াল তৈরি হওয়ার নামই হচ্ছে তাকওয়া। তাকওয়া ও আল্লাহ ভীতি হচ্ছে দিন ও শরীয়তের পথে চলার জন্য অপরিহার্য ও আবশ্যকীয় গুন।
তাকওয়ার গুণ ছাড়া জীবনের সর্বক্ষেত্রে এবং বিভিন্ন অবস্থায় ও বিশেষ পরিস্থিতিতে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা শুধু কঠিন নয় ;বরং প্রায় অসম্ভব। আর সিয়ামই হচ্ছে আত্মসংযম ও আল্লাহ ভীতি অর্জনের প্রধান অবলম্বন। আল্লাহ পাক বিষয়গুলো বোঝার ও মানার তাওফিক দান করুন। আমীন।
14/04/2020
.
প্রফেসর জ্যাক গুডি তাঁর অমর গ্রন্থ "দি থেফট অব হিস্ট্রি"তে লিখেন:
'ইউরোপে রেনেসাঁর আগে যে ইউনিভার্সিটিগুলো গড়ে উঠেছিল ,তা মাদ্রাসা ও মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহন করেই । যদিও সেসব প্রতিষ্ঠানে ধর্ম প্রাধান্য লাভ করত। অন্য বহু শাস্ত্রও তাতে অন্তর্ভুক্ত থাকতো। এই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা হলো , এর মাধ্যমে ১১০০-১২০০সালে লেখাপড়ার পুনঃপ্রবর্তন হয়; যা একমাত্র মুসলিম সিসিলি ও আরব স্পেনের অবদান।
প্যারিস পশ্চিমা বিশ্বের ঐ প্রথম শহর; যাতে জেরুসালেম-ফেরত এক তীর্থযাত্রী প্রথম একটা কলেজ তৈরি করেন। অক্সফোর্ড বেলিওল কলেজও তেমনি। সেই সময় পূর্ব-পশ্চিমের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পদ্ধতি ও কারিকুলাম ছিল মাদ্রাসা থেকে ধার নেয়া।
ইউরোপের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হয় ১০৮৮ সালে 'বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয়'; যা প্রতিষ্ঠার বহু আগেই ইউরোপে ইসলামী শিক্ষাপদ্ধতি বিরাজ করছিল। পশ্চিমা বিশ্ব নানাভাবে আরব ও ইসলামের নিকট ঋণী। তা শুধু জ্ঞান-বিজ্ঞানে নয়; শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা পদ্ধতিতে। ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিগুলোতে অনেক ইসলামী শিক্ষা ও শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ইউরোপ ইসলামের বিরুদ্ধে থাকা স্বত্বেও তারা ইসলাম থেকে অনেক কিছু নিয়ে উপকৃত হয়।
এখন আধুনিক ইঊরোপের উচিত সেই ঋণ শোধ করা'।
(
'দ্য লিগেসি অব ইসলাম' নামক গ্রন্থে স্যার আলফ্রেড গিয়োম লেখেন: 'মধ্যযুগের পণ্ডিতদের সাক্ষ্য থেকে সুনিশ্চিতভাবে এই বিষয়টি প্রমাণিত যে , উচ্চশিক্ষার মাদ্রাসাগুলো পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পড়াশোনার জন্য অনেক উপাদান প্রদান করত।মুসলমানরা নবম ও দশম শতকে যেসব বিষয়ে পড়াশোনা করত , খ্রিষ্টানরা
পরবর্তী সময়ে একাদশ ও দ্বাদশ শতকে সেসব বিষয়ে পড়াশোনা করত, অথচ পড়াশোনাগুলো ছিল প্রায় একই। প্রাচ্য হোক আর পাশ্চাত্য, বাগদাদ কিংবা অক্সফোর্ড ,পাঠক্রমের প্রকৃতি এক, ফি অনুদানের বিষয় এক, নিয়ম-শৃঙ্খলাও ছিল অভিন্ন, ডিগ্রী প্রদান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো নানা কার্যক্রম। যেমন উদাহরণস্বরূপ দেখা যেতে পারে- মুসলিম অধ্যাপক কর্তৃক ইজাযত (اجازة) প্রদানের বিষয়টি। পাশ্চাত্যে এটি ডিগ্রী প্রদান রুপে ব্যবহৃত হয়।
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে (baccalaureate ) শব্দটি পাশ্চাত্যে ব্যাচেলর (Bachelor) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত আরবি (বিহাক্ আর রিওয়াইয়াহ ,بحق الرواية) থেকে নকল করা হয়েছে। অর্থ হলো অন্যের দেওয়া সনদের পাঠ প্রদানের আইনত অধিকার । বি. এ. সহ আরো ইত্যাদি ডিগ্রী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকেই প্রচলন এসেছে।
(ইনশাআল্লাহ সামনে এ বিষয়ে [ baccalaureate-bachelor] স্বতন্ত্র প্রবন্ধ উপস্থাপন করার ইচ্ছা আছে)
*'দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্টলেক্চুয়াল ডেভেলোপমেন্ট অব ইউরোপ' নামক গ্রন্থে জন উইলিয়াম ড্রেপার বলেন : 'মুসলিমগণ তাদের প্রতিবেশীকে যত তাড়াতাড়ি জয় করেছে ,ততো তাড়াতাড়ি জয় করেছে বিজ্ঞানজগৎকে'।
এইতো আমাদের হারানো সোনালী অতীত!
আমাদের সোনালী যুগ তো এমনিতেই আসেনি ।
বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল একমাত্র আমাদেরই; যা দীর্ঘ সময় ধরে সারা বিশ্বকে উপকৃত করেছে।কাল পরিক্রমায় আমরা হয়ে উঠি উদাসীন, ফলে আমাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি হারিয়ে যায় ,আর আমরা পরিণত হই সবচেয়ে দুর্বল ও পর নির্ভরশীল জাতিতে।
হায় আফসোস! এখনো পর্যন্ত আমাদের মুসলমানদের কোরআন-হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত রেখে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমন্বয়ে কোন নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা নেই। আমাদের মুসলমানদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে বিপদজনক এক স্থবিরতা; তা না কাটিয়ে তুললে পুনরায় বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে ফিরে যাওয়া কস্মিনকালেও সম্ভব না।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আবুল হাসান আলী নদভীর ভাষায়:
যদি আমরা নতুন করে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে ফিরে যেতে চাই ,তাহলে আমাদের অবশ্য কর্তব্য হলো জ্ঞান-বিজ্ঞান শিল্প-বাণিজ্য ও যুদ্ধবিদ্যায় পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
এবং জীবনের যাবতীয় উপকরন ও প্রয়োজনের ক্ষেত্রে পাশ্চাত্য নির্ভরতা পরিহার করা।আমরা ইসলামী বিশ্ব যদি নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চাই এবং অন্যের দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে চাই, সর্বোপরি যদি বিশ্ব নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখতে চাই ,তাহলে অবশ্য কর্তব্য হবে এমন নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা; যা কোরআন-সুন্নাহ এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে।
আমাদের মুসলিম বিশ্বকে অবশ্যই ইসলামের প্রাণ প্রেরণার উপর ভিত্তি করে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানকে নতুন করে বিন্যস্ত করতে হবে।মোটকথা ইসলামী বিশ্বকে প্রথমে এবং সবকিছুর আগে পাশ্চাত্য শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে -যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের উপর আধিপত্য বিস্তার করে আছে- তা থেকে আমরা আমাদের নিজেদেরকে এবং আমাদের সন্তানদেরকে উদ্ধার করতে হবে।
আল্লাহপাক আমাদেরকে গাফলতের ঘুম থেকে জেগে উঠার তৌফিক দান করুন।আমীন।
::তথ্যসূত্রের লিংক: দ্য থেফট অব হিস্ট্রি by জ্যাক গুডি)
https://www.google.com/url?sa=t&source=web&rct=j&url=https://archive.org/details/ost-history-jack_goody_theft_of_historybookfiorg&ved=2ahUKEwiF-YXoz-foAhUUeisKHaDgA_EQFjAEegQIBhAB&usg=AOvVaw2RxFaI_sY6omnHM-Y0h94g
::দ্য লিগেসি অব ইসলাম by স্যার টমাস আর্ণল্ড, আলফ্রেড গিয়োম।
https://archive.org/details/legacyofislam032426mbp