01/05/2023
জনাব লুৎফর রহমান। তাঁর বয়স পঞ্চান্ন। আজ থেকে পঁয়ত্রিশ বছর আগে সদ্য তরুণ তিনি ঢাকায় এসেছিলেন জীবিকার সন্ধানে। ঢাকায় এসে টুকটাক কাজ শেষে শ্রমিক হিসেবে যোগদান করেন তৈরি পোশাক কারখানায়। দীর্ঘ ত্রিশ বছর এই সেক্টরেই কাজ করেছেন। তিনি প্রায়ই তাঁর শ্রমিক জীবনের শুরুর দিকের গল্প শোনান। নব্বই দশকের ফ্যাক্টরিগুলো শ্রমিকদের জন্য ছিল নরকের মত!
ছিল না কোন পে-স্কেল, কোন নীতিমালা। ফ্যাক্টরি মালিকের যেমন ইচ্ছে তেমন মজুরী দেয়া হত। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে হত শ্রমিকদের। একটু পরিণত বয়সে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা প্রায়ই আওয়াজ তুলতেন। তখন জুটত লাঠির বাড়ি। কখনো কখনো হারিয়েছেন চাকরিও। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে তাঁরা সবাই আন্দোলন করেছেন। ন্যায্য মজুরি, ন্যূনতম কর্মঘন্টা ও উন্নত কর্মপরিবেশ- এটুকু চাওয়াই ছিল তাঁদের। পুলিশের লাঠির বাড়ি, মালিকের রক্তচক্ষু সব উপেক্ষা করে এক মে দিবসে তাঁরা বেরিয়েছিলেন পথে; হাতে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। একসময় দৃশ্যপটে আসতে থাকে পরিবর্তন।
শুধু গার্মেন্ট শ্রমিক নয়, সভ্যতার কারিগর প্রতিটি শ্রমিকের অধিকার আদায়ের লড়াইতে সাহস যোগায় মে দিবস।
তাঁদের সাহসিকতাকে ধন্যবাদ। যদিও এখনো শ্রমিকের সঠিক মূল্য খুব কম জায়গায়ই দেয়া হয় কিন্তু তবু সেইসব সাহসী মানুষেরা আওয়াজ তুলেছিলেন বলে আমরা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখি।
চলুন দিনটি উদযাপন করি নাম না জানা অসংখ্য শ্রমিকদের স্মরণে যাদের শ্রমে ও ঘামে দাঁড়িয়ে আছে আজকের সভ্যতা। সেইসাথে সম্মান করি তাঁদের যারা আমাদের পূর্বে শ্রমিকদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা।
02/09/2020