17/08/2026
প্রহসনের পরীক্ষার নামে অবৈধ চাকরিচ্যুতি, আর এখন দলীয় লোকদের বৈধতা দেওয়ার আয়োজন!
প্রহসনের সার্কুলারের অধীনে দক্ষতা মূল্যায়নের নামে একটি বিতর্কিত পরীক্ষা নেওয়া হলো। অথচ ওই সার্কুলারে দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কোনো সুযোগের কথা উল্লেখ ছিল না। সেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করায় প্রায় ৫,০০০ জনকে অন্যায় ও অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা ২৪৮ জন কর্মকর্তাকে পরবর্তীতে ‘এপোলজি’র মতো একটি নতুন শব্দের আড়ালে রেখে, ওএসডি অবস্থায় বহাল রাখা হলো। অভিযোগ রয়েছে, এদের একটি বড় অংশ জামাতের দলীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক সুপারিশের মাধ্যমে ব্যাংকে টিকে আছে।
এখন আবার সেই ২৪৮ জনকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসিয়ে তাদের চাকরিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে!
প্রশ্ন হলো—একই সার্কুলারে যখন দ্বিতীয়বার পরীক্ষার কোনো বিধানই ছিল না, তখন কোন ক্ষমতাবলে তাদের জন্য নতুন করে পরীক্ষার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে?
ব্যাংক কোনো ব্যক্তির ইচ্ছা, দলীয় পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক সুপারিশে পরিচালিত হওয়ার কথা নয়। আইন, নীতিমালা ও নিয়োগের মানদণ্ড সবার জন্য সমান—এটাই স্বাভাবিক ও ন্যায়সংগত নিয়ম।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—
২৪৮ জনের এই বিশেষ পরীক্ষা কার ইশারায়? কেন তাদের জন্য আলাদা সুযোগ?
একই সার্কুলারের অধীনে সবার জন্য একই নিয়ম, একই মানদণ্ড এবং একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। দলীয় পরিচয়, রাজনৈতিক সুপারিশ কিংবা বিশেষ কোনো বিবেচনায় কাউকে বাড়তি সুবিধা দিয়ে চাকরিতে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
একই সঙ্গে যাদের অন্যায় ও অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের বিষয়টিও একই ন্যায়সংগত মানদণ্ডে পুনর্বিবেচনা করে সকলকে চাকরিতে পুনর্বহালের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রহসনের পরীক্ষা বন্ধ হোক।
বৈষম্যের অবসান হোক।
অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।