16/01/2026
"এক পা কবরে, অথচ শরীরে সেক্সের দাউ দাউ আগুন! একে কি বলবেন? 'বুড়ো বয়সের ভীমরতি' নাকি প্রকৃতির নিষ্ঠুর খেলা?
৫০ পেরোলেই নাকি মানুষের সব শেষ হয়ে যায়! দাড়ি পেকেছে, চামড়া কুঁচকেছে, ছেলের বউ ঘরে এসেছে—এখন আর কিসের সেক্স? এখন তো তসবিহ টিপে আর মসজিদে গিয়ে সময় কাটানোর বয়স। ছিঃ ছিঃ! এই বয়সেও শরীর গরম? লোকে শুনলে কী বলবে? সমাজ তো থুথু দেবে!
আজ আমি সেই 'থুথু' দেওয়া সমাজের মুখে আয়না ধরতে এসেছি।
ওহে সমাজপতিরা, ওহে তথাকথিত ভদ্রলোকেরা—আপনারা কি শরীরের ভাষা বোঝেন? আপনারা কি হরমোনের কান্না শুনতে পান? নাকি আপনারা মনে করেন ৫০ বছর বয়সে বার্থডে কেক কাটার সাথে সাথে মানুষের লিঙ্গ আর জরায়ু অকেজো হয়ে যায়?
আজকের এই লেখাটি পড়ার পর আপনার বিবেকের আদালতে আপনাকে দাঁড়াতেই হবে। কারণ, আমাদের সমাজের হাজার হাজার 'ভদ্র' পুরুষ আর 'সতীসাধ্বী' নারী প্রতিদিন রাতে বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদে—শুধুমাত্র এই 'বুড়ো বয়সের যৌনতা' নিয়ে কুসংস্কারের কারণে।
দৃশ্যপট-১: "তোমার কি মরণকালে ভীমরতি ধরলো?" (পুরুষের নীরব কান্না)
রহমান সাহেব (ছদ্মনাম), বয়স ৫২। সরকারি চাকরি থেকে আর কদিন পরেই রিটায়ার্ড করবেন। সমাজে তার প্রচুর সম্মান। দুই ছেলে ইঞ্জিনিয়ার, মেয়ে ডাক্তার। কিন্তু রহমান সাহেবের রাতের জীবন? এক ভয়াবহ নরক!
প্রতি রাতে তিনি যখন বিছানায় এপাশ ওপাশ করেন, শরীরের ভেতরের পুরুষটা যখন হুংকার দিয়ে ওঠে, তিনি তার স্ত্রীর দিকে হাত বাড়ান। আর ওপাশ থেকে ৪৫ বছর বয়সী স্ত্রী ঝাঁঝিয়ে ওঠেন—
"ছিঃ! তোমার কি লজ্জা শরম সব ধুয়ে মুছে গেছে? পাশের রুমে ছেলের বউ, ওই রুমে নাতনি ঘুমায়, আর তুমি বুড়ো বয়সে শরীর নিয়ে পড়ে আছো? তোমার এই চুলকানি কবে যাবে? মরণকালে কি ভীমরতি ধরলো?"
রহমান সাহেবের হাতটা অবশ হয়ে যায়। তিনি চুপসে যান।
তিনি একজন 'ভদ্র' পুরুষ। তিনি তো আর ১৮ বছরের বখাটে ছেলের মতো তর্ক করতে পারেন না। তিনি তো আর বস্তির লোকের মতো স্ত্রীকে পেটাতে পারেন না।
তার শরীরের আগুন তাকে পোড়ায়। কিন্তু তিনি নিরুপায়।
বাস্তবত হচ্ছে পুরুষের যৌন চাহিদা বা টেস্টোস্টেরন হরমোন ৫০ বছরে ফুরিয়ে যায় না। বিজ্ঞান বলে, একজন সুস্থ পুরুষের যৌন সক্ষমতা ৭০, ৮০ এমনকি ৯০ বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।
কিন্তু সমাজ তাকে শিখিয়েছে—৫০ পেরোলে সেক্স চাওয়া 'পাপ' বা 'লজ্জা'।
ফলাফল হচ্ছে এই রহমান সাহেবেরাই তখন ডিপ্রেশনে ভোগেন। কেউ কেউ লুকিয়ে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হন। কেউ কেউ, যারা একটু দুর্বল চিত্তের, তারা বাধ্য হয়ে বাইরের কম বয়সী মেয়েদের ফাঁদে পা দেন বা পতিতালয়ে যান।
আর সমাজ তখন বলে—"দেখেছো? বুড়ো বয়সে চরিত্র নষ্ট হয়েছে!"
আরে বোকার দল! তার চরিত্র নষ্ট হয়নি, তার ঘরের 'বৈধ' খাবার তাকে দেওয়া হয়নি বলেই সে ডাস্টবিনে মুখ দিয়েছে। তার শরীর তো মিথ্যা বলে না!
দৃশ্যপট-২: "স্বামী যখন জীবন্ত লাশ, আর স্ত্রী জীবন্ত আগ্নেয়গিরি" (নারীর নরক যন্ত্রণা)
এবার উল্টো পিঠটা দেখুন।
শেফালী বেগম (ছদ্মনাম), বয়স ৪২। শরীর স্বাস্থ্য বেশ ভালো। কিন্তু তার স্বামী? ৫৫ বছর বয়সী স্বামী আজ সারা জীবনের অনিয়ম, চেইন স্মোকিং আর মদ্যপানের ফলে বিছানায় এক প্রকার 'নপুংসক'।
শেফালী বেগমের শরীরে তখনো ভরা যৌবন। তার শরীর চায় একটু আদর, একটু পিষে ফেলা আলিঙ্গন। কিন্তু তার স্বামী?
বিছানায় আসার সাথে সাথে তিনি নাক ডাকতে শুরু করেন। কিংবা চেষ্টা করলেও তার অঙ্গ শিথিল হয়ে পড়ে থাকে। সিগারেটের ধোঁয়ায় ফুসফুস যেমন পুড়েছে, তেমনি তার ধমনীগুলো ব্লক হয়ে গেছে। রক্ত সঞ্চালন নেই, উত্তেজনা নেই।
শেফালী বেগম কী করবেন?
তিনি কি ডিভোর্স দেবেন? অসম্ভব! দুই মেয়ে বড় হয়েছে, তাদের বিয়ে দিতে হবে। এই বয়সে ডিভোর্স নিলে সমাজ তাকে 'নষ্টা' বলবে। মেয়েদের বিয়ে হবে না।
তিনি কি পরকীয়া করবেন? না, তার বিবেকে বাধে। তিনি সম্ভ্রান্ত পরিবারের বউ। তিনি কি হস্তমৈথুন করবেন? ছিঃ! এই বয়সে আঙুল ব্যবহার করতে তার নিজের কাছেই নিজেকে অপরাধী মনে হয়।
ফলাফল কি হয় জানেন ? শেফালী বেগমের কাছে তার সাজানো সংসারটা মনে হয় জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড। স্বামীর প্রতি তার ঘৃণা জন্মে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। সন্তানদের অকারণে বকাঝকা করেন। রাতে ঘুমাতে পারেন না।
তিনি এমন এক দোজখের বাসিন্দা, যেখানে আগুন আছে কিন্তু বের হওয়ার দরজা নেই। স্বামীর এই অক্ষমতা তাকে তিলে তিলে মেরে ফেলে। অথচ তিনি কাউকে বলতেও পারেন না, সইতেও পারেন না।
একবার ঠান্ডা মাথায় ভাবুন তো—
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটা ছেলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিয়ে করতে করতে ৩০-৩২ বছর পার করে দেয়।
বিয়ে হলো। এরপর বাচ্চা, ক্যারিয়ার, টেনশন।
৪০-৪৫ বছরে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই যদি সমাজ বলে—"তোমার সেক্সের বয়স শেষ"—তাহলে সে সুখ পেল কতদিন?
মাত্র ১০ থেকে ১৫ বছর?
একটা মানুষ বাঁচে গড়ে ৭০ বছর। তার যৌবন থাকে অন্তত ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত। অথচ সে বৈধভাবে সঙ্গম করবে মাত্র ১৫ বছর? আর বাকি ৩৫-৪০ বছর সে নপুংসকের মতো বা সন্ন্যাসীর মতো জীবন কাটাবে?
এটা কি প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ নয়? এটা কি অন্যায্য নয়?
যেখানে ইউরোপ-আম আমেরিকায় ৭০ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও নতুন করে প্রেমে পড়ে, বিছানায় ঝড় তোলে, সেখানে আমরা ৫০ হলেই কেন কবরের মাটি খুঁজি?
এখানেই প্রকৃতির এক অদ্ভুত রসিকতা আছে।
নারীদের সাধারণত ৪৫ থেকে ৫০ এর মধ্যে মেনোপজ (ঋতুস্রাব বন্ধ) হয়ে যায়। এর ফলে তাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়, যোনিপথ শুকিয়ে যায় এবং যৌন ইচ্ছাও কমে আসে। শারীরিক মিলনে তারা ব্যথা পান।
অন্যদিকে, পুরুষের ঠিক এই সময়েই দ্বিতীয় যৌবন বা 'Second Wind' আসে অনেকের। তাদের চাহিদা কমে না, বরং অভিজ্ঞতার কারণে আরও বাড়ে।
স্বামী চায় সপ্তাহে ৩ দিন, স্ত্রী চায় মাসে ১ দিনও না।
স্বামী এগিয়ে গেলে স্ত্রী বলে, "তোমার শুধু শরীর দরকার।"
স্ত্রী ফিরিয়ে দিলে স্বামী ভাবে, "আমাকে আর ভালোবাসে না।"
নারীদের বলছি
আপনার মেনোপজ হয়েছে মানেই আপনার নারীত্ব শেষ হয়ে যায়নি। হ্যাঁ, আপনার ইচ্ছে কমেছে, কিন্তু আপনার স্বামীর তো কমেনি! আপনি কি চান আপনার স্বামী অতৃপ্ত হয়ে অন্য কোথাও যাক?
সহবাস মানেই তো সব সময় পেনিস প্রবেশ করানো নয়।
আপনার যদি ব্যথা লাগে, লুব্রিকেন্ট (জেল) ব্যবহার করুন।
যদি একদমই ইচ্ছে না করে, তবুও স্বামীর পাশে শুয়ে তাকে আদর করুন। তাকে হাত দিয়ে তৃপ্ত করুন (Hand Stimulation)। তাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকুন।
বৃদ্ধ বয়সে সেক্সের চেয়ে 'ইন্টিমেসি' বা ঘনিষ্ঠতা বেশি জরুরি। আপনার স্বামী চায় আপনি তাকে স্পর্শ করুন। সে চায় তার পৌরুষের স্বীকৃতি। তাকে সেটা দিন। তাকে ফিরিয়ে দিয়ে "বুড়ো শয়তান" বলে গালি দেবেন না। ওই গালিটা তার হৃদয়ে তীরের মতো বিঁধে।
পুরুষদের বলছি
ভাই, আপনার শরীরে আগুন আছে বুঝলাম, কিন্তু স্ত্রীর শরীরের খবর রাখেন?
তার মেনোপজ চলছে। তার শরীর এখন মরুভূমির মতো শুষ্ক। সেখানে জোর করে লাঙল চালাতে গেলে রক্তক্ষরণ হবে।
তাকে আগে প্রস্তুত করুন। এই বয়সে ফোর-প্লে (Foreplay) ১০ গুণ বেশি দরকার। তাকে মানসিক সাপোর্ট দিন। তার যখন ভালো লাগবে না, তখন জোর করবেন না।
আর হ্যাঁ, যৌবনের শুরুতে যেসব বদমাইশি করেছেন—সিগারেট, মদ, তামাক—সেগুলোর ফল এখন ভোগ করছেন। আপনার উত্থান হচ্ছে না মানে আপনার হার্টের অবস্থা খারাপ। আজই সতর্ক হন।
মেডিসিনের মরণফাঁদ: সাবধান!
৪০-৫০ এর পর যখন পুরুষরা দেখে তাদের শক্তি কমছে, তারা পাগলের মতো ফার্মেসিতে ছোটে। ভায়াগ্রা বা ওয়ান-টাইম ট্যাবলেটের খোঁজ করে।
এই বয়সে আপনার উচ্চ রক্তচাপ (Pressure), ডায়াবেটিস বা হার্টের সমস্যা থাকতে পারে। এই অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একটা সেক্স পিল খাওয়া মানে আত্মহত্যার শামিল।
বিছানায় সুখ নিতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক করে লাশ হয়ে ফিরবেন না।
আপনার স্ত্রীর কাছে 'মৃত স্বামী'র চেয়ে 'দুর্বল স্বামী' অনেক ভালো।
সমাধান কী?
মেডিসিন নয়, খাবারে নজর দিন।
চিনি ও লবণ কমান: এগুলো আপনার লিঙ্গ শিথিল হওয়ার প্রধান কারণ।
প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা: প্রতিদিন সকালে ২ কোয়া রসুন, ১ চামচ খাঁটি মধু এবং কালোজিরা খান।
তরমুজ ও ডালিম: এগুলো রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।
ব্যায়াম: পেটের চর্বি কমান। ভুড়ি বাড়লে সেক্স কমে—এটা ধ্রুব সত্য।
দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, জীবন বদলাবে
আমাদের সমাজ শেখায়—বাবা-মা মানেই ফেরেশতা, তাদের কোনো যৌন জীবন থাকতে নেই।
আজ আপনি সন্তান হিসেবে ভাবুন তো—আপনার বাবা কি শুধু আপনার বাবা? নাকি সে একজন পুরুষ? আপনার মা কি শুধুই মা? নাকি সে একজন রক্তমাংসের নারী?
তাদেরও ইচ্ছে করে। তাদেরও একান্তে সময় কাটানোর অধিকার আছে।
৪০ বা ৫০ এর পর সেক্স শেষ নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের শুরু।
তখন আর বাচ্চার ভয় থাকে না, প্রেগন্যান্সির টেনশন থাকে না। তখন অফুরন্ত সময়।
স্বামী-স্ত্রীরা, আপনারা এই সময়টাকে উপভোগ করুন।
লোকে কী বলল—তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। লোকের কথায় আপনার শরীর চলে না।
বিছানায় আপনারা একে অপরের। সেখানে কোনো বয়স নেই, কোনো লজ্জা নেই।
যদি শরীরে কুলায়, তবে ৮০ বছর বয়সেও মিলন করুন।
যদি শরীরে না কুলায়, তবে একে অপরের হাত ধরে শুয়ে থাকুন, গল্প করুন, আদর করুন।
কিন্তু দোহাই আপনাদের, "বুড়ো বয়সের ভীমরতি" বলে এই পবিত্র সম্পর্কটাকে অপমান করবেন না।
একজন অতৃপ্ত আত্মার চেয়ে একজন তৃপ্ত বৃদ্ধ অনেক বেশি সুন্দর।
সমাজ বদলাবে না, আপনাকে বদলাতে হবে। নিজের সুখের চাবি নিজের হাতে রাখুন।
লেখাটি পড়তে পড়তে হয়তো আপনার চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে, কিংবা অজান্তেই চোখের কোণে জল এসেছে। হয়তো আপনি সেই ভুক্তভোগী স্বামী, কিংবা সেই অবহেলিত স্ত্রী।
আপনার মনে কি কোনো প্রশ্ন জাগছে?
— আপনার বয়স বাড়ছে কিন্তু মিলনে সমস্যা হচ্ছে?
— মেনোপজের পর কীভাবে সম্পর্ক ঠিক রাখবেন?
— স্বামী বা স্ত্রীর অমিল কীভাবে দূর করবেন?
প্রিয় পাঠক, আমরা বিশ্বাস করি একটি সুস্থ সম্পর্ক ও সুখী দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলতে সঠিক জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। আমি চেষ্টা করছি আপনাদের জীবনের না বলা সমস্যাগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে।
আগামীতে আপনারা ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আর্টিকেল পড়তে চান?
— বাচ্চা নেওয়ার পরের দাম্পত্য জীবন?
— পর্নোগ্রাফির আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়?
— প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে কীভাবে শক্তি বাড়াবেন?
— নাকি অন্য কোনো গোপন সমস্যা?
লজ্জা ভেঙে কমেন্টে করে আপনাদের পছন্দের টপিকগুলো জানান। আপনাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই আমার পরবর্তী লেখাগুলো তৈরি হবে। কারণ আপনার সমস্যার সমাধানই আমার মূল লক্ষ্য।
13/01/2026
24/12/2025
07/11/2025
06/11/2025
28/08/2025